Mobile Suit Gundam 00 [রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Mobile Suit Gundam 00
সিজন: ০২ (+১ মুভি)
পর্ব সংখ্যা: ৫০
জনরা: অ্যাকশন, ড্রামা, মেকা, মিলিটারি, সাই-ফাই, স্পেস
স্টুডিও: সানরাইজ
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৭ (১ম সিজন); ৮.২৪ (২য় সিজন)
আমার রেটিং: ৯/১০

Gundam 00 1

প্রথমে বলে নেই, ‘গান্ডাম ০০’ গান্ডাম ফ্র্যাঞ্চাইজের ‘Anno Domini’ উনিভারসের একমাত্র সিরিজ। সুতরাং কেউ গান্ডাম ০০ দেখতে চাইলে তার বাকি গান্ডাম দেখার কোন প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ একে ‘Standalone series’ হিসেবেই যেকেউ দেখতে পারবে। এখন আসল কথায় আসি।

গান্ডাম ০০ এর প্লট ২৩ শতকের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে রচিত। এইসময় পৃথিবীতে খনিজ জ্বালানীর প্রচুর চাহিদা ছিল। সেজন্য বিগত শতাব্দী ধরে মানুষ পৃথিবীর চারদিকে বৃহৎ সৌরচাকতি নির্মাণ করেছে। আর সৌরচাকতি থেকে প্রাপ্ত সৌরশক্তি ব্যাবহারের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি ‘সোলার পাওয়ার জেনারেটর’। এই সোলার পাওয়ার জেনারেটরগুলো ব্যাবহারের লক্ষে তৎকালীন পৃথিবীকে তিনটি মেজর সেক্টরে ভাগ করা হয়। এরা হল – The Union (formerly United States of America), The Human Reformist Alliance (Russia, China and India) এবং The AEU (Europe)। কিন্তুু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই লেগে থাকতো যুদ্ধ-বিগ্রহ। তখন পৃথিবী থেকে এইসকল যুদ্ধ-বিগ্রহের অবসান ঘটাতে আবির্ভাব হয় ‘Celestial Being’ নামের একটি নন-প্রফিট মিলিটারি অর্গানাইজেশন । এই প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে গান্ডাম নামের চারটি অতি শক্তিশালী রোবট। “সকল যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ‘United World’ গঠন করা” – Celestial Being তাদের এই স্বপ্নটি পৃথিবীবাসির উদ্দেশ্যে ঘোষণা করে এবং যারা তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই গান্ডাম ০০ এর যাত্রা সূচনা হয় এক দুর্দান্ত কাহিনীর মধ্যে দিয়ে।

Gundam 00 2

গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারই ইউনিক টাইপের। প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা চরিত্র। মেইন ক্যারেক্টার সেতসুনা কিছুতা চুপচাপ টাইপের কিন্তুু সে বেশ ম্যাচুরিটি সম্পন্ন। অনন্যা ক্যারেক্টারের মধ্যে রয়েছে লকঅন, টিয়েরিয়া, আলেলুঝা। এর মধ্যে সিরিজে মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে লকঅন ক্যারেক্টারটটি। টিয়েরিয়া কিছুটা আনসোশাল টাইপের। কিন্তুু কাহিনী আগানোর সাথে সাথে তার চরিত্রেরও বেশ পরিবর্তন ঘটতে থাকে। আর আলেলুঝা বলতে গেলে সবচেয়ে ইউনিক ক্যারেক্টার। কারণ সে ডাবল পার্সোনালেটির অধিকারী। এছাড়া আরও কিছু চমৎকার চমৎকার ক্যারেক্টার রয়েছে। যেমন – এস পাইলট গ্রাহাম, যুদ্ধ প্রিয় আলি আল সাজেদ, সুপার সোলজার সউমা প্রেরিস, প্রিনসেস মারিনা ইসমাইল, রিব্বন্স ওলমার্ক, সাজি ক্রসরোড, লউসেসহ আরও অনেকে। এরা প্রতেকেই সিরিজে গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো অসাধরন। যা নিঃসন্দেহে এই সিরিজের অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।

Gundam 00 3

গান্ডাম ০০ স্টুডিও সানরাইজের কাজ। তাই ২০০৭ সালের এনিমে হওয়া সত্ত্বেও গান্ডাম ০০ তে বেশ হাই কোয়ালিটির ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়েছে। মেকা ডিজাইনগুলো বেশ সুন্দর ছিল। এতে কোন প্রকারের CGI ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়নি। তাই মেকা ফাইটগুলো বেশ উপভোগ করেছি। আর যুদ্ধের সিনগুলো খুব ডিটেইলিং করে দেখানো হয়েছে। আমি মহাকাশের ভিজুয়াল ইফেক্ট দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বলতে গেলে আমার দেখা অন্যান্য মেকা এনিমে থেকে গান্ডাম ০০ এর ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর লেগেছে।

Gundam 00 4

গান্ডাম ০০ এর সাউন্ডইফেক্ট ও OST আসলেই অনেক সুন্দর। প্রত্যেক ওপেনিং ও এন্ডিং সং বার বার শুনতে ইচ্ছা করে। ওপেনিং সং এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ফেভরাইট UVERworld এর গাওয়া “Hakanaku mo Towa no Kanashi” গানটি [ লিঙ্ক- https://www.youtube.com/watch?v=eztenJFXqBw ] এবং এন্ডিং সং এর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের Stephanie এর গাওয়া “Friends” গানটি [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=HnyM12Y5CnI ]। আর OST এর মধ্যে Tommy heavenly6 এর “Unlimited sky’’ খুব ভালো লেগেছে [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=10n1ZJGx7A0 ]। গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলও বেশ ভালো। Miki Shinichiro, Kamiya Hiroshi, Irino Miyu, Nakamura Yuuichi, Miyano Mamoru, Yoshino Hiroyuki, Park Romi, Kugimiya Rie সহ আরও ভালো ভালো ভয়েস এক্টর-এক্ট্রেস গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিল।

Gundam 00 5

ওভারওল, গান্ডাম ০০ আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। কাহিনী থেকে শুরু করে ক্যারেক্টার, আর্টওয়ার্ক, সাউন্ড সবকিছুই ছিল অসাধরন। গান্ডাম ০০ দেখার সময় অনেকটা কোড গিয়াসের ভাইব পেয়েছিলাম। সুতরাং, আপনারা যারা কোড গিয়াসের ভক্ত তারা এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। অনেকেই আছে মেকা হজম করতে পরেনা তাদের উদ্দেশে বলছি, গান্ডাম ০০ তে শুধু মোবাইল সুটের মধ্যে ফাইটিং এর পাশাপাশি বেশ সুন্দর স্টোরিলাইন আছে। তাই, আশা করি গান্ডাম ০০ দেখে কখনোই উদাস হবেন না। এখন সময় নিয়ে দেখে ফেলুন গান্ডাম ০০।

[ এখান থেকে ডাউনলোড করুন Mobile Suit Gundam 00 (Complete) ব্লুরে –http://www.animechiby.com/mobile-suit-gundam-00-cs-bd/ ]

Gundam 00 6

এনিমে সায়েন্স ১ – স্পাইস এন্ড উলফ ট্রেনি কাহিনী ১

আজ ২৮/১০/২০১৫ইং তারিখ বুধবার থেকে আমি পাভেল আহমেদ সকল সম্মানিত এনিমখোরের জন্য এনিমে সায়েন্স নামে একটি অভূতপূর্ব নতুন সেগমেন্ট চালু করতে যাচ্ছি।

AS 1

সাধারনত আমি ANIME কে আনিমু, এনিমু, আনিমে বা এনিমের পরিবর্তে এনিম উচ্চারন করি।
কিন্তু এই সেগমেন্টের নাম তো এনিমে সাইন্স!
তবে তার মানে এই নয় যে আমি আমার উচ্চারনভঙ্গি পরিবর্তন করে ফেলছি।
বরং এর মানে এই যে আমি এনিমে সায়েন্স দিয়ে বোঝাচ্ছি এনিমের মধ্যে সায়েন্স! (সেগমেন্টের নামের মধ্যেও এমনকি ভাষাগত সায়েন্স দেখা যাচ্ছে!!)
এই সেগমেন্টে এনিমের ভিতরের পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, বাংলা, অংক, ইংলিশ সব ধরনের সায়েন্স নিয়ে আলোচনা করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেওয়া হবে!
এমনকি রীতিমতো এনিম লজিক অনুসারেও সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণসমূহ এই পোস্টে দেওয়া হবে!!

কয়েকদিন আগে NO VO চান একটি পোস্টে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, কেউ কি তাকে Spice and Wolf এর মধ্যযুগীয় অর্থনৈতিক ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে দিতে পারবে কি না?
সে জন্যই মূলত এই লেখাটির জন্ম হয়েছে। কিন্তু এত বিশাল এক্সপ্লেনেসন কমেন্ট হিসেবে দেওয়া সম্ভব ছিল না বলেই সরাসরি পোস্ট করছি।
বিঃদ্রঃ মিরাজ সব তোর দোষ! -_-

স্পাইস এন্ড উলফ এর মধ্যযুগীয় অর্থনীতি বুঝতে হলে চাহিদা, জোগান, বিনিময় এবং অবশ্যই অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ অর্থ বা টাকা বা মানি সম্পর্কে বেসিক ধারনা থাকতে অবে। আর বলাই বাহুল্য যে মানির মান আল্লায় রাখে!
এখানে বলে রাখা ভালো যে আমি কিন্তু অর্থনীতির ছাত্র না। স্কুলে থাকতে সমাজ বইতে যা পড়েছিলাম আর ভার্সিটিতে এক সেমিস্টারে যা পড়ানো হয়েছিল সেটাই আমার ভরসা!!
তো আমি যতটা সম্ভব সহজভাবে একদম বেসিক থেকে শুরু করছি তাই একটু ধৈর্য ধরুন এবং পড়তে থাকুন। বোরিং লাগলে আমি, আপনি, কোন অর্থনীতিবিদ, এনিমখোরের এডমিন প্যানেল, দুনিয়া অথবা পুরো ইউনিভার্সের কেউই কোনক্রমে দায়ী নয়!!!
তবে তার আগে…..
যারা যারা স্পাইস এন্ড উলফ দেখেনি তাদের জন্য স্পয়লার এলারট!
তবে স্পয়লার এখনই শুরু হবে না।
আসল স্পয়লার শুরুর আগে আরেকদফা এলারট দেওয়া হবে।

আমরা যখন পণ্যদ্রব্য কেনাকাটা করি তখন সেগুলো নির্দিষ্ট দামের বিনিময়ে কিনি। প্রাচীনকালে যখন টাকা ছিল না তখন বিনিময় প্রথা চালু ছিল। অর্থাৎ এক পণ্যের বিনিময়ে অন্য একটি পণ্য কিনতো তখন মানুষ। যেমনঃ একজন কৃষক হয়তো ১ জন জেলেকে ১০ কেজি চাল দিয়ে ১০ টি ইলিশ মাছ কিনতে পারতো।

কিন্তু এই সিস্টেমের প্রধান ২ টি সমস্যা ছিলঃ
১। আমি চালের বিনিময়ে মাছ কিনতে চাইলেও যার কাছে মাছ আছে তার চাল প্রয়োজন নাও হতে পারে। সুতরাং সে আমাকে চালের বিনিময়ে মাছ বিক্রি করতে চাইবে না। তার হয়তো গম প্রয়োজন কিন্তু আমার কাছে গম নেই। তার মানে আমরা উভয়েই এক্ষেত্রে অসফল।
২। দ্রব্য মূল্যের কোন স্ট্যান্ডার্ড বা আদর্শ মাপ কাঠি ছিল না। ফলে কোন জিনিসের মূল্য কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে কারও কোন ধারনাই ছিল না। যার কারনে বিনিময় করার সময়ে একেক জন একেক হিসাবে পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বেচাকেনা করতো।

দ্রব্য মূল্যের স্ট্যান্ডার্ড বলতে আমরা মূল্য পরিমাপ করার একককেই বোঝাচ্ছি। যেমনঃ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ মাপার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (SI) এককে মিটারকে আদর্শ মানা হয়। সময় মাপার জন্য সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয়।

তো এসকল সমস্যা সমাধান করার জন্য Intermediary বা মধ্যবর্তী কিছু একটার প্রয়োজন ছিল। এবং মধ্যযুগে সেই মধ্যবর্তী জিনিস হিসেবে ব্যাবহার করা হয় স্বর্ণ আর রূপা। আরও স্পেসিফিকালি বলতে গেলে স্বর্ণ আর রূপার মুদ্রা। ফলে দাম নির্ধারণে এবং কেনাকাটায় সকল সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো।

স্বর্ণ আর রূপা কেন ব্যাবহার করা হতো?

কারন ধাতুগুলো প্রাকৃতিকভাবেই চকচকে, স্বাভাবিকের থেকে ভিন্ন রং বিশিষ্ট এবং প্রকৃতিতে এর সুলভতা কম অর্থাৎ এগুলো খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক কঠিন ব্যাপার।
এছাড়াও স্বর্ণ আর রূপার আরেকটি সুবিধা হল পরিবনযোগ্যতা। ছোট ছোট স্বর্ণ এবং রূপার টুকরা বা কয়েন খুব সহজেই কোন ধরনের থলেতে করে পরিবহন করা যায়। ধাতু হবার কারনে স্বর্ণ ও রূপার নমনীয়তা বৈশিষ্ট্যের কল্যাণে একে গলিয়ে ইচ্ছামত আকৃতি দেওয়া যায়।
পরিবহনযোগ্যতা বৃদ্ধি করার জন্য টাকার আকৃতি ছোট রাখতে হয় এবং একই সাথে সহজে যেন ক্ষয় না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়। স্বর্ণ আর রূপার মুদ্রা একই সাথে ছোট আকৃতির হবার কারনে সহজে পরিবহনযোগ্য এবং সহজে ক্ষয় হয় না বলে মধ্যযুগে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক ছিল। ঠিক একই কারনে বর্তমানে কাগজের টাকা বা ধাতব কয়েনের পরিবর্তে ক্রেডিট কার্ড সিস্টেম এবং মোবাইল ব্যাংকিং এত জনপ্রিয় হয়েছে।

এখন স্বর্ণ দিয়ে যখন কয়েন বানানো হয় তখন ওই কয়েনের মূল্য নির্ভর করে কয়েনে থাকা খাঁটি স্বর্ণের পরিমানের উপর। সোজা ভাষায় যে কয়েনে স্বর্ণের পরিমান বেশি সে কয়েনের মূল্যও বেশি। একই কথা রূপার কয়েনের ক্ষেত্রেও খাটে। অবশ্যই স্বর্ণমুদ্রার দাম রৌপ্যমুদ্রার থেকে বেশি। এখানে আরেকটা কথা আছে। কয়েনের ফেস ভ্যালু বা ব্র্যান্ড ভ্যালুও কিন্তু একটা ফ্যাক্ট। একেক কয়েন একেক রাজ্যের লর্ড ইস্যু করেন। সত্যি কথা হল যে কয়েনের ব্র্যান্ড বা ফেস ভ্যালু এতে থাকা স্বর্ণ বা রূপার থেকেও বেশি। আমেরিকান ডলার আর বাংলাদেশি টাকার মূল্যের পার্থক্য দিয়ে ব্যাপারটা বুঝা যেতে পারে।

এখন এই ব্র্যান্ড ভ্যালু কিভাবে কয়েনের মূল্যকে প্রভাবিত করে?

একটা ব্যাপার বুঝতে হবে যে টাকার আসলে কিন্ত কোন মূল্য নেই। টাকার মূল্য দিয়ছি আমরা। টাকা মানুষের তৈরি একটা জিনিস যাকে মানুষ কোন কিছুর মূল্য নির্ধারণে ট্রাস্ট করছে। যদি কোন কয়েন বা কারেন্সির উপর থেকে মানুষের ট্রাস্ট হারিয়ে যায় তখন সেই কারেন্সি ভ্যালুলেস হয়ে যায়। তার মানে যে কারেন্সি বা কয়েনের অর্থাৎ কয়েনের যে ব্র্যান্ডের উপর মানুষ বেশি ট্রাস্ট করবে সে কয়েন বা কারেন্সির অর্থাৎ সেই ব্র্যান্ডের মূল্যও বেশি হবে। আর ট্রাস্ট কম করলে তার মূল্যও কম হবে। এটা যেমন কোন প্রোডাক্ট এর ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সত্য ঠিক তেমনি টাকার ফেস বা ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও সত্য।

উদাহরনঃ ইজি (EASY) বা প্লাস পয়েন্ট ব্র্যান্ডের একটি টি সার্ট এর মূল্য একটি নন ব্র্যান্ডের টি শার্ট এর থেকে বেশি হয় যেহেতু মানুষ এই দুটি ব্র্যান্ডকে ট্রাস্ট করে। আবার পোলো শার্টের মূল্য এই দুই ব্র্যান্ডের শার্ট এর থেকেও বেশি। একই কথা আমেরিকান ডলার এবং বাংলাদেশি টাকার ক্ষেত্রেও খাটে। এই ব্যাপারটা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য C MONEY OF SOUL AND POSSIBILITY CONTROL নামের মাত্র ১১ পর্বের এনিমটি দেখতে পারেন।

বর্তমান সময়ে চালু থাকা কাগজের/প্লাস্টিকের টাকা বা ধাতব কয়েনের মূল্যও কিন্তু আসলে একটি দেশের স্বর্ণের রিজার্ভ এর উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ আসলে আমরা এখনও সেই প্রাচীন আমলের মত স্বর্ণ দিয়েই কেনাকাটা করছি। পার্থক্য হল যে সরাসরি স্বর্ণ বা রূপা আদান প্রদান করার পরিবর্তে আমরা অন্য এমন কিছু ব্যাবহার করছি যা স্বর্ণের রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ টাকা, ডলার, পাউন্ড, রুপী, দিনার, রিয়াল, ইয়েন, পেসো এগুলো সবই আসলে কোন না কোন নির্দিষ্ট পরিমানের স্বর্ণকেই রিপ্রেজেন্ট করে।

এখান থেকেই স্পাইস এন্ড উলফের প্রথমদিকের কাহিনীর ঘোরপ্যাঁচ এর সাথে সম্পর্ক শুরু হয়েছে যেখানে আমিও বেশ কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম শুরুর দিকে।

স্পয়লার এলারট>>>>>
.
.
.
.
.
ক্রাফট লরেনসকে এক ছিঁচকা ব্যাবসায়ি তথ্য দেয় যে কোন একটি নির্দিষ্ট সিলভার কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মানে ওই কয়েনে সিলভারের পরিমান আরও বেশি হবে। লরেন্স ব্যাপারটা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও একে একটা সম্ভাবনা হিসেবে ধরে নিয়েছিল এজন্য যে, সাধারনত কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি করার ব্যাপারটি কমন একটা প্র্যাকটিস।
এখন প্রশ্ন হল যে পিউরিটি বৃদ্ধি করা হলে কার কি?
কয়েন তো একই থাকছে।
এর উত্তর একটাই।
আর সেটা হল একই কয়েনে সিলভারের পরিমান বাড়ছে। ফলে নতুন কয়েনগুলোর মূল্য পুরানো কয়েনগুলো থেকে বেশি হবে। তার মানে কয়েনও টেকনিক্যালি একই থাকছে না।
এখন এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হল নতুন কয়েন সার্কুলেশনের সময় পুরানোগুলো অন্য কোন দেশের কয়েনের সাথে এক্সচেঞ্জ করে ফেলা অর্থাৎ বিক্রি করে ফেলা।

ক্রাফট Holo কে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যে ওই ছিঁচকা মিথ্যা বলছিল। ক্রাফট এর কথা অনুসারে কয়েনের ভ্যালু নিয়ে জালিয়াতি নতুন কিছু নয়, কিন্তু সে এই মিথ্যার পিছনের কারণটি ধরতে পারছিলো না। কারন তথ্যটি যদি মিথ্যা হয় এবং ক্রাফটের যদি লস হয় অথবা লাভ-লস কিছুই না হয় তাহলে ওই ছিঁচকারও কোন লাভ হওয়ার কথা না।
ক্রাফট এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে এই তথ্যটি বিশ্বাস করার ভান করবে কিন্তু পিছনে সে তথ্যের যথার্থতা জাচাই করার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবে। যদি তথ্যটি সত্যি হয় তখন সে প্রফিট করতে পারবে। আর তথ্যটি মিথ্যা হবার মানে হল যে, কেউ একজন ষড়যন্ত্র করছে। তখন ক্রাফট এই তথ্যটি ব্যাবহার করে প্রফিট করতে পারবে। মানে যেদিকে তাকাই শুধু প্রফিট আর প্রফিট!

যাই হোক ক্রাফট আর ছিঁচকার মধ্যে ডিল হয় যে ছিঁচকা ক্রাফটের কাছ থেকে ১০ ট্রেনি/থরেনি সিলভার কয়েনের বিনিময়ে ইনফরমেশন দিবে যে কোন কয়েনের সিলভার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এছাড়াও ক্রাফট প্রফিট করার পর প্রফিটের ১০% ও তাকে দিতে হবে। পুরান এবং নতুন কয়েনের ভ্যালুর পার্থক্য থেকেই প্রফিট আসবে। অবশ্যই তাদের মাঝে অফিসিয়াল কাগজেই চুক্তিপত্র সই করে ডিল হয়। কারন মুখের কথায় তো আর চিড়া ভিজে না!

তো শেষ পর্যন্ত জানা গেলো যে ট্রেনি/থরেনি সিলভার কয়েনের সিলভার পিউরিটি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এখানে ক্রাফট হোলো এর কাছে কয়েনের মূল্য এক্সপ্লেইন করে ট্রেনি আর ফিলিং সিলভার কয়েনের তুলনা দিয়ে। ফিলিং সিলভার কয়েন বেশ জনপ্রিয় এবং এর সিলভার এর পরিমাণও বেশ রিচ। একারনে এটা ট্রেনি সিলভার কয়েনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাইভাল। যখন মার্কেটে বিদেশী নতুন কোন কয়েন নিয়ে আসা হয় তখন দেশি কয়েনের রাইভাল বৃদ্ধি পায়। ওই বিদেশী কয়েন প্রস্তুতকারক দেশ তখন মার্কেটে প্রভাব বিস্তার শুরু করে। এটা ঠেকানোর জন্য দেশি কয়েনগুলোর পিউরিটি বৃদ্ধি করার প্রয়োজন পড়ে যাতে দেশি কয়েনের ভ্যালু আরও বেশি হয়।

উদাহরণঃ কাপড়ের ব্যাবসায়িদের মধ্যে কাপড়ের কোয়ালিটি নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। যে যত কম মূল্যে যত ভালো কাপড় দিতে পারবে মানুষ তার কাপড়ের দিকেই বেশি আগ্রহী হবে। কয়েনের কম্পিটিশনের ব্যাপারটিও অনেকটা এরকমই।
এই লজিক থেকে ক্রাফট ধারনা করে যে হয়তো ওই ছিঁচকা সত্যি কথাই বলছিল।

তদন্ত করার জন্য ক্রাফট হোলোকে নিয়ে তার এক পরিচিত মানি এক্সচেঞ্জ ব্যাবসায়ির কাছে যায়। এই মানি এক্সচেঞ্জ এর সিস্টেম আজ অবধি একইভাবে চালু আছে। তারা এক ধরনের কারেন্সির বিনিময়ে আরেক ধরনের কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করে দেয় এবং কারেন্সি হ্যান্ডেলিং এর জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমান ফি রাখে।
সাধারনত মধ্যযুগে কয়েনের পিউরিটি বাড়ানো-কমানো কমন একটা ব্যাপার ছিল। আর মানি এক্সচেঞ্জারেরা এই ব্যাপারে বেশ সেন্সিটিভ ছিল। যখন কয়েনের পিউরিটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার আগে বেটা টেস্টিং এর উদ্দেশ্যে পিউরিটি সামান্য বৃদ্ধি করে মার্কেটে ছাড়া হয় মানুষের রিএকশন দেখার জন্য। এই রিএকশনের উপর নির্ভর করে যে পিউরিটি বাড়ানো হবে কিনা।

যা বলছিলাম, মানি এক্সচেঞ্জারের কাছে যখন তারা যায় তখন সেও বলতে পারে না যে আসলেই পিউরিটিতে কোন পরিবর্তন আছে কিনা। তাই হোলো দুটি ট্রেনি কয়েন হাতে নিয়ে কানের কাছে ঝাঁকিয়ে শব্দ থেকে রূপার ঘনত্ব বোঝার চেষ্টা করছিল। একটি ট্রেনি কয়েনকে পার্মানেন্টলি হাতে রেখে অন্য কতোগুলো ট্রেনি কয়েনকে একটা একটা করে বার বার এক্সচেঞ্জ করে সে এই কাজ করছিল। অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানি এক্সচেঞ্জারেরা নাকি এভাবে কয়েনের পিউরিটি পরীক্ষা করতে পারেন যদিও ব্যাপারটা লেজেন্ডে পরিনত হয়েছে!

তো এভাবেই হোলো এবং ক্রাফট বুঝতে পারে যে কয়েনের পিউরিটি নেমে গিয়েছে। অর্থাৎ ওই পুচকা ছিঁচকা আসলে একটা মিচকা!

কয়েনের ভ্যালু কমে যাওয়ার পরেও যদি ক্রাফট প্রফিট করতে পারে তাহলে প্রফিটের ১০% ওই ছিঁচকা পাবে। আর যদি ক্রাফট লস করে তাহলে ছিঁচকা শুধুমাত্র ক্রাফটের কাছ থেকে নেওয়া ১০ ট্রেনি সিলভার কয়েন ফেরত দিবে। অর্থাৎ কোনভাবেই ছিঁচকার লস হচ্ছে না। উল্টো এই ১০ ট্রেনি সিলভার কয়েনকে পুঁজি হিসেবে খাটিয়ে ইতিমধ্যে সে হয়তো প্রফিট করে নিতে পারবে কোথাও থেকে (হয়তো!)।

হোলো এরপর নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্রাফটের কাছে সম্ভাব্য পরিস্থিতি ধরিয়ে দেয়। হয়তো ছিঁচকা সরাসরি ক্রাফটের কাছ থেকে প্রফিট করবে না। হয়তো কোন থার্ড পার্টির কাছ থেকে সে প্রফিট নিবে। ক্রাফটের মস্তিষ্কের বেয়ারিংগুলো বন বন করে ঘুরতে থাকে এবং অবশেষে সে এই মিথ্যার পিছনের জালিয়াতি ধরতে পারে! সে বলে যে কয়েনের মূল্য কমে গেলে তার থেকে প্রফিট করার একটা ট্রিক তার জানা আছে।
সে গিয়ে তৎক্ষণাৎ মিলন (!) কোম্পানিকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ইনফর্ম করে তাদের সাথে এই বিষয়ে ডিল করার উদ্দেশ্যে। মিলন কোম্পানি সামান্য তদন্ত করে জানতে পারে যে ছিঁচকার পিছনের মিচকা হল মেডিও কোম্পানি। কিন্তু মেডিও কোম্পানিরও এমনকি এত বড় আকারের ষড়যন্ত্র করার মত ক্ষমতা নেই। তার মানে এদেরও পিছনের আসল মিচকা হল কোন এক অভিজাত ছিঁচকা।

এখন প্রশ্ন হল যে ট্রেনি সিলভার কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে এই গুজব ছড়িয়ে তাদের লাভটা কি?

গুজব ছড়িয়ে লাভটা কি সে প্রশ্নের উত্তর পরের পর্বে পাবেন। আপাতত যা পেয়েছেন তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন। একদিনে বেশি ডোজ নেওয়া ঠিক নয়!
আজকের মত এখানেই শেষ করছি।
ভালো থাকুন
সুস্থ থাকুন
সুখে থাকুন
শান্তিতে থাকুন এবং
এনিম দেখুন!

2 B Continued

Shigatsu wa Kimi no Uso রিভিউ — Iftekhar Rashed

ব্যক্তিগত রেটিং- ৯.৩/১০

“A Journey You Would Love. A Story you can’t Stop Listening. It’s Something You will Never Forget More Like you Can’t forget ( That is Something the Creator Wants too; Never to forget it).”

ক্লাসিকাল মিউজিক যা এনিমটার মুল খোড়াক এবং আকর্ষন, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক এনিমটার একটা মুহুর্তকেও অহেতুক ভাবার ক্ষ্মতা আমাকে দেয় নি। এক কথায় এতটাই Beautiful যা একমহুর্তের জন্যও চোখকে পলক ফেলতে দেয়নি। এতটাই Deep যা এক মুহূর্তের জন্য অমনোযোগী হয়ে অন্যকিছু চিন্তা করার সুজোগ দেয় নি, এবং বসন্তের বাতাসের মত এমন এক অনুভুতির সৃষ্টি করেছে যা মনের সমস্ত অনুভুতির স্তর গুলোতে আপন ক্ষিপ্রতার সাথে প্রতিটা মুহূর্তে আঘাত হানতে থাকে, ভুলার মত নয় যা। এটা একটা ব্রিজ যা প্রত্যেক মানুষের স্মৃতির কিছু না কিছু অংশের সাথে যোগাযোগ স্তাপন করতে সক্ষম হয়ে ভিতর থেকে আলতো করে নাড়া দেয়। আবার উঠে দাড়ানোর, স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার অন্যতম উদাহারন এই এনিমটি।

shiga 2

Arima Kousei সবচেয়ে কম বয়সে সাকি প্রতিযোগিতা জ়েতা একমাত্র পিয়ানিস্ট। যে তার ক্যারিয়ারের শুরুতে আকাশচুম্বি সাফল্য অর্জন করে। সুক্ষ ও নির্ভুল ভাবে বাজানো যা পার্ফেক্ট স্কোর এনে দেবে ছিল তার মুল বৈশিষ্ট। কিন্তু মা মারা যাওয়া এবং নিজের বাজানো পিয়ানোর আওয়াজ শুনতে না পাওয়ার কারনে সেই অল্প বয়সেই পিয়ানোকে চির বিদায় জানায়। আরিমার জীবন আর সবার মত চলতে থাকে। কিন্তু সবকিছুর মাঝে থেকেও অদৃশ্য। একটু সমাজ বিকেন্দ্রিক। তারপরও তার দুজন ক্লোজ ফ্রেন্ড আছে যারা ওয়াতারি এবং সোয়াবে। সোয়াবে শুধু ক্লাস ফ্রেন্ডই না একদম ছোট্ট বেলার প্রতিবেশি বন্ধু। একজন মেয় হওয়া সত্ত্বেও সোয়াবের ছেলে সুলভ আচরন একটু আলাদা মাত্রাই দিয়েছে এনিমটাতে এবং আরিমার জীবনেও। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই আরিমার প্রত্যেক্টা প্রতিযোগিতার দর্শক সে। মা মারা যাওয়া পর বলতে গেলে ওই আরিমার খারাপ ভাল সব সময় পাশে থেকে আসছে। এবং মনে প্রানে চাইতে থাকে আরিমার জীবনে যেন আবার রঙ্গিন মাত্রা যোগ হয়।
গল্পটা এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ করেই একটা নতুন মোড় নেয় যা আরিমার ধুসর জীবনকে রোলার কোস্টার রাইড বানিয়ে দেয়। সোয়াবে আরিমাকে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করানোর জন্য আমন্ত্রন জানায়, যে কিনা ওয়াতারিকে পছন্দ করে। সোয়াবে আরো যোগ করে মেয়েটাও একজন মিউজিশিয়ান তাই আরিমার মিউজিক নিয়ে কথা বলার সুজোগ থাকছে। আরিমার সময় মতই দেখা করার স্থানে চলে যেয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কাছ থেকেই ভেসে আসতে থাকা মন কাড়া মেলোডিকার শব্দ শুনে উৎপত্তি স্থানের দিকে ছুটে যায় আরিমা। এবং ঐ মুহুর্ত থেকেই আরিমার জীবনের বিশাল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে এটা হয়তো আরিমা নিজেও জানতো না। ওখানে যেয়ে দেখে একটি সোনালি কেশি মেয়ে কিছু বাচ্চাদের সাথে মেলডিকা বাজাচ্ছে। মেয়েটা মেলডিকার সুরে হাসিতে, ছেলে মানুষিতে আরিমা অদ্ভুত রঙ দেখতে পায়, এমন কিছু যা সবসময় আরিমা মনে মনে খুজতে থাকে। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্যটি আরিমা ক্যামেরা বন্দি করবে। এমন সময় দক্ষিনা তীর্ব বাতাসে মেলডিকা বাজানোর ব্যঘাত ঘটে গল্পের নাইকা কাওরি মিয়াজানোর এবং একটি অপ্রিতিকর অবস্থায় কাওরি আরিমাকে ছবি তুলতে দেখলে আরিমার ব্যাড টাইমিং এর সিকার হয়, এবং কাওরির রুদ্র মুর্তির সম্মুক্ষিন হয়। এর পরপরই দৃশ্যপটে আগমন ঘটে ওয়াতারি ও সোয়াবের।
কাওরি মিয়াজানো আসলে তোয়া হলে একটা ভায়লিন কম্পিটিশনে অংশ গ্রহন করেতে যাচ্ছিল এবং ওরা সবাই কাওরির পারফর্ম দেখতে আসছিলা। পারফর্মেন্স শুরু হলে পুরো হল নিস্তব্ধ হয়ে যায় কাওরির মনমুগ্ধকর ভায়লিনের সুরে, যেখানে সে তার একোম্পানিস্ট পিয়ানো বাজককে,গ্রামারকে গ্রায্য করে পুরো নোটটা নিজে্র করে নিয়ে বাজাতে থাকে। আরিমা মনে বিশেষ রঙ্গে আন্দলিতে হয়ে উঠে, তবে সে এও বুঝতে পারে এটা দর্শকদের নাড়া দিলেও কম্পিটিশনের ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করে না। পারফর্মেন্স শেষ হলে বেরুনোর সাথে সাথে কাওরিকে দুটো বাচ্চা ছুটে এসে ফুল দেয়। ফুল নিতে নিতে আরিমা ওয়াতারি আর সোয়াবেকে দেখে কাওরি। কিন্তু সে ছুটে সবার আগে আরিমার কাছে আসে জানার জন্য যে ওর কেমন লেগেছে।

কাওরির এই আবির্ভাব আরিমার মনে গেথে যায় প্রথম দিন থেকেই। এরপর একদুপুরে ওতারি না থাকায় কাওরি আরিমার সাথে বের হয়ে এক রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ওখানে ওদের মনোযোগ ভাঙ্গে দুটো বাচ্চার Twinkle Twinkle Little star এর পিয়ানো ভার্সন বাজাতে শুনে। কাওরি বাচ্চাদের কাছে গেলে বাচ্চারে ওদের শেখানোর জন্য বলে কিন্তু কাওরি আরিমাকে দেখিয়ে বলে ওর কাছ থেকে শিখতে, আরিমা প্রথমে না করলে কাওরির হুমকির মুখে অসহায় হয়ে শেখাতে রাজি হয়। বাজানো শুরু করলে সবার নজর আরিমার দিকে পড়ে। আরিমা হারিয়ে যেতে থাকে এবং হুঠ করেই আবার আরিমার সামনে থেকে নোট গুলো হারিয়ে যেতে থাকে আর সেই সাথে সে তার বাজানো সুর আর শুনতে না পেয়ে তৎক্ষনাত বাজানো বন্ধ করে দেয়। যা খুব ভাল মতই কাউরির চোখে ধরা পড়ে।
কাহিনি মুলত নুতুন মোড় নেয় যখন কাওরি তোয়া কম্পিটিশানে অডিয়েন্স ভোটে সেকেন্ড রাউন্ডে উঠে। সে হুঠ করেই আরিমাকে তার একম্পানিস্ট হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং একমত জোর পুর্বক আরিমাকে রাজি করায় তার সাথে পারফর্ম করার জন্য, এটা জানা সত্তেও যে আরিমা পিয়ানো বাজাতে সক্ষম নয়। আরিমাকে দিয়ে রাত দিন প্রাক্টিস করিয়ে নিতে থাকে পারফর্ম করার জন্য যার মধ্যে বেশ কিছু নজর কাড়া মুহূর্ত আছে।

কম্পিটিশনের দিন পারফর্মের সময় আরিমা আবার খেই হারিয়ে ফেলতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে বাজানো বন্ধ করে দেয় কিন্তু কাওরি তার ভায়োলিন বাজানো চালিয়ে যেতে থাকে, এক পর্যায়ে কাওরিও বাজানো বন্ধ করে দেয়। তারপর আরিমাকে সাহস জাগানোর জন্য ওকে কিছু কথা বলে। পেছন থেকে যতই ভায়লিন বাজানো রত কাওরিকে আরিমা দেখে ততটাই মুগ্ধ আর সাহস পেতে থাকে। কম্পিটিশনের নিয়ম অনুযায়ি মাঝ পথে বাজানো বন্ধ করলে ডিকোয়ালিফাইড। এবং তারা দুজনই এটা ভাল করে বুঝতে পারে। কিন্তু কাওরির উদ্দেশ্য আসলে অন্যকিছু ছিল এটা আরিমা কিছুটা আচ করতে পেরেছিল তাই আরিমা তার সব দিয়ে বাজানো আবার শুরু করে শুধু মাত্র কাওরির জন্য, এরপর দুজন একত্রে মিলে একটি মিরাকল পারফর্ম করে যা সবাইকে মুগ্ধ করে দেয় এবং একটি আনফরগেটেবল পারফর্মেন্স গিফট করে সবাইকে। তবে পারফর্মেন্স শেষে কাওরি মুখ থুবড়ে পড়ে যায় স্টেজের উপর।

আরিমার জীবনের নতুন অধ্যায় , কাওরির হস্পিটালের জীবন শুরু এখান থেকে এবং এর প্রভাব সোয়াবের উপরও পড়ে, কাহিনী আরো অনেক মোড় নিতে থাকে আমাদের দেয় অসম্ভব কিছু সুন্দর মুহুর্ত যা আমি চাইব সবাই নিজেরা দেখে অনুভুতিটা নেক, আমার মতই।

বিঃদ্রঃ এপ্রিলের বলা মিথ্যাটা কিন্তু পুরো এনিমটা দেখেই জেনে নিতে হবে। যদিও আমি মাঝ পথে আচ করতে পেরেছিলাম

Tsuritama অ্যানিমে রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tsuritama.full.1107613

জনরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ, স্পোর্টস, সাই-ফাই

“Even if the world ends tomorrow, I just want to fish!”

আচ্ছা, আপনারা কেউ কখনো বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন? কেমন লাগে ব্যাপারটা? কাঠির গায়ে সুতো বেঁধে পানিতে টোপ ফেলে চুপ করে বসে বোরিং সময় কাটানোর মাঝে কি এমন থাকতে পারে, যা নিয়ে হারু আর কোকো এত হাইপড? কিংবা বড়শিতে মাছ গাঁথার পর সেটাকে খেলিয়ে ডাঙায় তোলা কি এমন কঠিন কাজ, যার জন্যে নাতসুকিকে “প্রিন্স” উপাধি দেয়া হয়েছে?কি এমন রয়েছে এই মাছধরাতে, যে দুনিয়া উল্টে গেলেও কিছু যায় আসে না??

কিংবা মনে করুন, আপনি একজন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট। কিন্তু অনেক লোকজনের সামনে আপনি অত্যন্ত অকওয়ার্ড ফিল করেন। তাও কষ্টেসৃষ্টে ফার্স্ট ইমপ্রেশনটা ঠিক রাখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে গেলেন। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে শুনতে আপনি স্পীচ দেয়া শেষ করে কেবল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হল রাস্তায় দেখা হওয়া সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন ছেলেটি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরো ক্লাসের সামনে, হাত নেড়ে এনোশিমা ডান্স করা অবস্থায়!! গেল আপনার সাধের ফার্স্ট ইম্প্রেশন!

HorribleSubs_Tsuritama_-_10_720p.mkv_snapshot_04.04_2012.06.16_13.44.05
অথবা, সবসময় একটা হাঁস বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হারুর ব্যাপারে সে এত সতর্ক কেন? ইউকি আর নাতসুকিকে জোর করে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি ছাড়া তো আর তেমন কিছুই করেনা সে। কিংবা হারুই বা সমুদ্রে মাছ ধরতে এত আগ্রহী কেন? এনোশিমার প্রাচীন লোকগাঁথার সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে?

অ্যানিমেটার শুরুটা এমনই ওলট পালট মার্কা, কোথা থেকে কি হচ্ছে আমি কিছু ঠাহর করে উঠতে পারছিলাম না। মাথায় মাছের জার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন হারুর কাজকর্ম দেখে হাসি পাচ্ছিল, আবার ওর সরলতা দেখে মায়াও লাগছিল। কিন্তু যত এগোলাম, তত যেন কাহিনীটা আমাকে ভেতরে টানতে থাকল! ভেবেছিলাম কি, আর শেষে হলটা কি! সিম্পল একটা মনকে খুশি করে দেয়া হাসিখুশি স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে হঠাৎ হয়ে গেল একটি জমজমাট রূদ্ধশ্বাস সাইফাই অ্যানিমে! এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপারটি হল, এতকিছুর মধ্যেও অ্যানিমেটা আমার মুখ থেকে একবারের জন্যেও হাসিটা মুছতে দেয়নি!
tsuritama_by_squ_chan-d56d05l
অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত সুন্দর। উজ্জ্বল, ঝলমলে রঙ ব্যবহার করে এনোশিমা নামক সমুদ্র উপকূলের শহরটিকে খুব মনোমুগ্ধকর উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে; দেখে যে কারও মনে হতে বাধ্য, একবার যদি এনোশিমায় যেতে পারতাম! ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ উদ্ভট, আর এই উদ্ভট ডিজাইনের কারণেই যেন অ্যানিমেটা প্রাণ পেয়েছে। নাতসুকির মাছধরা বিষয়ক জ্ঞান, ইউকি ও হারুর এ বিষয়ে অজ্ঞানতা, শুধুমাত্র এই ফিশিং এর কারণে চারটা ছেলের জীবনে পরিবর্তন, তাদের মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে দেখলে নিজের অজান্তেই তাদেরকে আপন মনে হতে থাকবে!

অ্যানিমেটার ওএসটি খুবই চমৎকার, ওপেনিং এন্ডিং একটাও স্কিপ করার মত না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্রতিটা সিচুয়েশনে পার্ফেক্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাছধরা থেকে শুরু করে ক্লাইম্যাক্স, সবখানেই নিখুঁত আবহ তৈরি করেছে এর ওএসটি।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা আবার খুবই ভাল লেগেছে, ভিন্নধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ ও সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ দেখে আরও বেশি ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরেও তাপিওকার “ডাক” মনে করে আমি হাসব, নাতসুকি, ইউকি, হারু আর ইয়ামাদার বন্ধুত্বের কথা মনে করে আনন্দ পাব। আর ক্লাইম্যাক্সের সেই লোম খাড়া করা মূহুর্তগুলো তো কখনোই পুরনো হবার নয়!

tsuritama_wallpaper_by_chatlantic-d5974r8

Code Geass রিভিউ — Amor Asad

Code Geass: কেবলই কী অ্যানিমে? নাকি অননুভূত অভিজ্ঞতার রূপকও?
▬▬
Code Geass সম্পর্কে লেখার আগে একবার উইকি আর MAL’এ ঢুঁ মেরেছিলাম প্রোডাকশন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে। অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই জেনে নেয়া দরকার ছিল কোড গিয়াস অরিজিনাল সিরিজ নাকি মাঙ্গা অ্যাডাপশন। যেহেতু কোড গিয়াসের কোন মাঙ্গা ছিল না, তাই আলাদা কোন মানদণ্ড নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
—

CG1Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’র প্রশংসা করতে হবে। গোপন এক সংস্থা, নেপথ্যের ভিজিলান্টে নায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলির মাঝে মূল্যবোধের পার্থক্য – বলা চলে সাদামাটা প্লট নিয়ে আগাচ্ছিলেন দুজন। অথচ সেই সাদামাটা প্লটকেই ব্যপক রূপ দিয়ে সিরিজকে এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু তো দিয়েছেনই, সেই সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবনার উদয় হবার সুযোগও রেখেছেন। এই লেখায় আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু হাইপোথিসিস এবং কাউন্টার হাইপোথিসিস প্রস্তাব করব। এছাড়াও থাকবে ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দলাগার কিছু টুকরো কথা।
—
Code Geass এর ঘটনাবলী অল্টারনেট টাইমলাইনের, যেখানে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার গোটা পৃথিবীর উপর একছত্র, একনায়কতন্ত্র কায়েমের তালে আছে। এটা স্পষ্টত যে এই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার আমাদের পৃথিবীতে অ্যামেরিকা; মানচিত্রে খেয়াল করলে দেখা যায়, USA এবং Latin America দুটো মিলেই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। সুতরাং ব্যপারখানা দাঁড়াচ্ছে, অ্যামেরিকা ঔপনিবেশিকের ভূমিকায় আসীন এবং এক পর্যায়ে জাপান দখল করে নেয়।
—

CG2

 

এই দৃশ্যপটের পেছনে কিছু ব্যপার থাকতে পারে।
এক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়ানদের উজ্জ্বীবিত করতে এবং দলে টানতে সত্য-মিথ্যার মিশেলে কিছু অ্যর প্রোপাগান্ডা ছড়ায় জাপান। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, পুঁজিবাদ ছিল যার উপজীব্য বিষয় এবং ডিকটেটরশিপটুকু বাদ দিলে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার পুঁজিবাদী এবং ঐপনিবেশিক মনোভাবের কোন এক জাতির অর্জনের চুড়ান্তরূপ হিসেবে ধরা যায়। যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায় যদি পরাশক্তিরা পৃথিবী ভাগের তালে থাকত তবে হয়ত এরকমই হতো। এই থিওরীর পিছে আরেকটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল Nagasaki Arch, সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ এপিসোডে ক্ষণিকের জন্য দেখানো হয়, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের জাপান আক্রমণের সময়কালে। এটা সেই আর্ক যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নাগাসাকিতে ফেলা অ্যাটমিক তাণ্ডবের মাঝেও আস্ত ছিল। কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ডেও চারপাশে ধ্বংসলীলা নিয়ে সদর্পে টিকে আছে। সোজা কথায়, ডিফরেন্ট টাইমলাইন, অ্যামেরিকা ইনভেডার, জাপান নির্দোষ। (পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ আমি নিউক্লিয়ার অ্যাটাককে জাস্টিফাই করছি না, ক্রাইম অনুযায়ী জাপানকে খুব বেশিরকম আর নিষ্ঠুর মূল্য দিতে হয়েছে) তবে এই থিওরীতে যে ত্রুটি নেই সে দাবী করছি না, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান-জার্মান-ইতালি জোট হেরে গেলেও, জাপানের প্রোপাগান্ডা অনুযায়ী প্রস্তাবিত সিস্টেম (ব্রিটানিয়ান) বাস্তবে রূপ নেয়ার সুযোগ ছিল না। এটা ছিল স্রেফ দলভারী করার প্রয়াসমাত্র, নিদেনপক্ষে যুদ্ধচলাকালীন সময়ে। ওই সেন্টিমেন্ট এতদিন পর কেউ অ্যানিমেতে তুলে ধরবে বলে মনে হয়না। তাছাড়া সেসময় আরেক পরাশক্তি ছিল USSR, কোড গিয়াসের দুনিয়ায় রাশিয়ার অস্তিত্ব নেই।

দুই, একবিংশ শতাব্দীর কিছু আগে থেকে এবং তারও আগে কোল্ড অ্যর চলাকালীন সময়ে অ্যামেরিকা কাগজে কলমে সাধু সাজলেও নানা ছুতোয় বিভিন্ন দেশের অ্যাফেয়ার্সে বাগড়া দিয়েছে এবং দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেকাংশ বিভিন্ন সময়ে ইউএস সরকারের দখলে ছিল এবং এখনও আছে। সেই সাথে বন্ধু রাষ্ট্রের উপরও বড়ভাইয়ের মতো আচরণ অদৃশ্য এক কলোনিস্ট জায়ান্টের কথা মনে করিয়ে দেয়। হতে পারে Code Geass’এ এই জায়ান্টের ফিজিকাল এবং ভবিষ্যৎ এক্সট্রিম রূপ ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। ২০০৬ সালে নির্মিত কোড গিয়াসের প্লট সময়কাল ২০১৭ করাটা কেবলমাত্র সাইফাই রূপ দেয়নি, এই ভীতিটার খসড়া একটা রূপও প্রদান করেছে। আবারও, ডিকটেটরশীপটুকু বাদ দিয়ে। সরাসরি আঙ্গুল তোলা থেকে বিরত থাকতে এবং সাইফাই/ফ্যান্টাসি রূপদানে গিয়াস পাওয়ার আর একনায়কতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল।
অ্যানিমে সিরিজ কম দেখা হলেও অ্যানিমে মুভি দেখা হয়েছে বেশ, এবং আনুপাতিক হারে দেখলে এমন সুপ্ত কোন প্লট থাকার সম্ভাবনা খুব কম হলেও একেবারে বাদ দেয়া যায় না। এমনকি জিবলি স্টুডিও এর বাইরে নয়। গেলো বছর দুয়েক আগে, জাপানিজ এয়ারক্রাফট এঞ্জিনিয়ার জিরো হোরিকোশির বায়োপিক The Wind Rises এ আমরা দেখেছি তরুন এক ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন সফল করার আপ্রাণ প্রয়াস আর সেই সাথে নিখাদ দেশপ্রেম আর জাতিগত আত্মসম্মানবোধের মিশ্রণ। কিন্তু পর্দার আড়ালে এই সত্যটুকু চাপা পড়ে গেছে যে, জিরো হোরিকোশির ফাইটার প্লেনগুলো ঠিক শান্তি বজায় রাখতে যায়নি, বরং জার্মান অ্যালায়েন্সের অংশ হিসেবে জাপান আক্রমণকারীই ছিল। গ্রুপে Md Asiful Haque ভাইয়ের ব্যপক এক রিভিউ আছে এই অ্যানিমে নিয়ে।

তিন, আবারও সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড অ্যরের দারস্থ হতে হবে তবে ভিন্ন দৃষ্টিকোণে। হিটলার, তার নাৎসি সাম্রাজ্যের সাথে ব্রিটানিয়ান সম্রাট চার্লসের ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের সেন্টিমেন্ট প্রায় সদৃশ বলা চলে। হিটলারের আরিয়ানদের মতই ব্রিটানিয়ানরা অন্য জাতিকে অস্পৃশ্য এবং নীচু মনে করে। আরিয়ানিজমের (Aryanism) সূতিকাগার ছিল জার্মানি, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারও তাই। লেখক ও পরিচালক Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’কী তবে কোড গিয়াসে অ্যান্টি-নাজিজম সেন্টিমেন্ট রেখেছেন? এই সেন্টিমেন্টের জন্ম কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের পক্ষে যুদ্ধ করার অপরাধবোধ থেকে? কে জানে।
আমি স্রেফ পয়েন্টগুলো উল্লেখ করলাম, গ্রহণ বা বর্জন করতে বলা আমার উদ্দেশ্য না। এগুলো হাইপোথিসিস, আগেই বলেছি। আবার অনেকটা স্বগতোক্তির মত। বাকিটা পাঠকের উপর নির্ভর করবে।
—
►দর্শক প্রতিক্রিয়া◄
এই অংশ সম্পূর্ণই অ্যানিমের স্টোরি রিলেটেড। এবং কিছু মাইল্ড স্পয়লার থাকবে, যিনি এখনও কোড গিয়াস দেখেননি, সামনে না এগোতে অনুরোধ করছি।

–**স্পয়লার অ্যালার্ট**–

কোড গিয়াস দেখতে গিয়ে এক ধরণের নতুন অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছি। যখন দেখা শুরু করেছি, একের পর এক এপিসোড দেখে গিয়েছি বিরতিহীন। যখন বিরতি নিয়েছি, আবার দেখতে ইচ্ছে করেনি, একরকম অনীহা কাজ করেছে। আবার যখন দেখতে বসেছি, বিরতিহীন ভাবে দেখেছি। ইন এ সেন্স, কোড গিয়াস মাদকের মত ছিল।
সবচেয়ে যে ব্যপারটা দোলা দিয়েছে, তা হল গল্পের আনপ্রেডিক্ট্যাবিলিটি। কিছু কিছু ইভেন্ট আন্দাজ করতে পারলেও বেশীরভাগেই চমকে গিয়েছি। সুপার থ্রিলিং আর টুইস্ট ভর্তি শো’ হিসেবে কোড গিয়াস সবার শীর্ষে থাকবে কোন সন্দেহ নেই। সেই সাথে ক্যারেক্টার গুলোর তারিফ করতে হবে, এক্কেবারে নিখুঁত চিত্রায়ন। যেমন, Suzaku’কে হটাৎ করে পিষে ফেলতে চাওয়ার মত পাওয়ারফুল ইমোশন এমনি এমনি তৈরী হয়না। অথচ আইডিওলজিকালি সুজাকুর স্ট্যান্ড কোনভাবেই ফেলনা ছিল না। রক্তারক্তি থামানোই মূল ইচ্ছে ছিল সুজাকুর, তাতে সার্ভোভৌমত্ব যায় যাক। কাপুরুষত্ব? হতে পারে; কিন্তু ভুল নয়।
আচ্ছা, ভিন্ন একটা কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ড বিবেচনা করা যাক যেখানে বর্তমান পৃথিবীর দেশসমূহের বদলে ফিকশনাল কিছু ল্যান্ড রয়েছে এবং এরিয়া ১১ শুরু থেকেই ব্রিটানিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত। তাহলে এরিয়া ১১’কে স্বাধীন করতে গড়ে ওঠা ব্লাক নাইট অর্গানাইজেশন আর জিরো আদতেই টেররিস্ট এবং সুজাকু আদতেই হিরো। স্রেফ ন্যাশনালিস্ট সেন্টিমেন্ট দর্শকের মনে সুজাকুর অবস্থান পাল্টে দিয়ে জিরোকে হিরো হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
এই পর্যায়ে প্রশ্ন করতে হবে, জিরো আদতেই হিরো ছিল কিনা। জিরো বা ‘লুলুচ ভাই ব্রিটানিয়া’র (ধন্যবাদ ইয়ামি আপু, নামটা পছন্দ হইছে) কোন ইচ্ছেই ছিলো না পাবলিক সার্ভিস দেয়ার, তার সবগুলো মোটিভ পারসোনাল এবং পারসোনাল গেইনেই তার সব প্লান। হ্যাঁ, সেগুলো হারানো জাপানের দমিত জনসাধারণের পক্ষেই গেছে কিন্তু সেটা জিরোর উদ্দেশ্য ছিল না এটা পরিস্কার। তাই, জিরো আসলে ভিলেইন। একেবারে শেষে আত্মাহুতি দিয়ে ভিজিলান্টিজম আর জাস্টিস আপহোল্ড করার চিহ্ন হিসেবে জিরো চরিত্রকে হিরোর মর্যাদায় উঠিয়ে দিয়ে গেলেই লুলুচের ক্রাইমগুলো মাফ হয়ে যায় না। ইনফ্যাক্ট, গিয়াস ব্যবহার করাটাই ক্রাইম, সুপারপাওয়ার নয়। জিরো তাই আমার চোখে সুপারহিরো তো নয়ই, হিরোও নয়।
হিরো সুজাকুও নয়। সেও ব্যক্তিগত আবেগের বশবর্তী হয়ে আনুগত্য পাল্টেছে বারংবার। একজন ন্যাশনালিস্টের চোখে সুজাকু রাজাকার, একজন অ্যানারকিস্টের চোখে সুজাকু অ্যান্টিহিরো, একজন ইউটোপিয়ানিস্টের চোখে সুজাকু হিরো।
—
লেখক ও পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিলো মূল দুই ক্যারেক্টারের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্দ্বন্দ্ব তুলে ধরা।
স্যালুট দিয়ে বলতে হবে, তারা দারুণভাবে সফল।
—
তবে মেকিং এ কিছু ত্রুটি ছিল। কিছু দৃশ্যের ব্যাখ্যা না চাইতেই গরুর রচনা পেশ করা হয়েছে, কিছু দৃশ্য গ্যাপ দিয়ে দেখিয়ে দর্শকের কল্পনাশক্তির উপর ভরসা করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে খুঁটিনাটি বিষয়গুলি লক্ষ্য করতে পছন্দ করি – তাও আমার কাছে রোলো, ভিলেটা আর জিরোর চুক্তির ব্যপারটা ঝাপসা – কোত্থেকে হুট কী হয়ে গেল। এরকম উদাহরণ আরো দেয়া যাবে।
আবার গল্পের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, হটাৎ করেই কাহিনীর রেশ চেপে ধরে ধীরে ধীরে এগোনো হয়েছে। এইরকম ছন্দপতনগুলি পছন্দ করতে পারিনি। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হবে প্রথম সিজনের শেষ এবং দ্বিতীয় সিজনের শুরুর সময়টা। এতই বিরক্ত হয়েছিলাম, কোড গিয়াস দেখা বন্ধ করে অ্যাটাক অন টাইটান দেখতে বসেছিলাম।
—
তবে এসব ট্রিভিয়াল ব্যপার ওভারলুক করতে রাজী আমি। অন্তত সম্পূর্ণ সিরিজ শেষ করার পর সেটার আফটার ইফেক্ট হিসেবে যে ঘোরের ভীতর ছিলাম, তার জন্যে হলেও। খুব বেশি মোশন পিকচার দর্শককের অবচেতনকে আপন করে নিতে পারে না। এইটুকু ক্রেডিট দিতেই হবে কোড গিয়াসকে।
—
আমার রেটিং ৮.৭/১০

CG3

অ্যানিমে রিভিউঃ বারটেন্ডার; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

lunar-bartender-01-x2641280x7201639e648-mkv_snapshot_04-25_2011-03-19_02-30-54

আজ দেখে শেষ করলাম “বারটেন্ডার”। রাফিউলের ভাষায় বলি, “বাউরে বাউ, কি যে দেখলাম এইটা!!” হার্ড লিকারের উপর কেউ পিএইচডি করতে চাইলে এই অ্যানিমে দেখা আবশ্যক!!

সাসাকুরা রিউ একজন বারটেন্ডার। টোকিও শহরের গিনজা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বার, “এডেন হল।” রিউ অত্যন্ত দক্ষ একজন বারটেন্ডার, যে কারণে তার তৈরি করা ককটেলকে বলা হয় “গ্লাস অফ গড”। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যারেক্টারিস্টিকের এবং ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল স্ট্যাটাসের মানুষ আসে বারে, আর এক গ্লাস ককটেলের সাথে উঠে আসে তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। সাসাকুরা রিউ নৈপুণ্যের সাথে ককটেলের গ্লাসে ফুটিয়ে তোলে তার শিল্পকর্ম, আর সেইসাথে এর সাথে সম্পর্কিত একেকটি অদ্ভুত গল্প দিয়ে মুগ্ধ করে অতিথিকে, কারণ, একজন বারটেন্ডারের যে দায়িত্ব এটা, অতিথি যেন যাওয়ার সময় একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি সাথে করে নিয়ে যান।

অ্যানিমের কাহিনী এপিসোডিক, প্রতিটা পর্বে বিভিন্ন ধরণের ককটেল আর তার সৃষ্টির ইতিহাস বেশ ইন্টারেস্টিংভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সাসাকুরা রিউ যখন ককটেলগুলো বানায়, ঐ দৃশ্যটা বেশ অ্যামেজিং। আর প্রতিটা মানুষের মনের ভেতরের কথা সে যেভাবে টেনে বের করে আনে, এটাও ইন্টারেস্টিং।

অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অনেক ভাল, সঙ্গত কারণেই “ডেথ প্যারেড” এর কথা বারবার মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন চমৎকার, আর ওএসটিও বেশ ভাল। এন্ডিং সংটা একবারও স্কিপ করতে পারিনি।

সবমিলিয়ে খুবই এক্সেপশনাল এবং ইন্টারেস্টিং একটি অ্যানিমে এটি, ১১ টা এপিসোড বেশ উপভোগ করেছি।

12022554_555071621324015_3926291896555078707_o

Behind the Voices – 04

আজকের সেগমেন্টটা বলতে পারেন একটু স্পেশাল। কারণ আজকে যে দুইজনকে নিয়ে লেখছি তারা বাস্তব জীবনেও বিবাহিত দম্পতি। আনিমে জগতে তাদের দুজনের কণ্ঠ দেওয়া এমন কাপল হল কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়াxশিকি । যাই হোক, আজকের সেগমেন্টটি পড়ে দেখুন এবং কোন মতামত থাকলে প্রকাশ করুন।

btv 1

সুযুমুরা কেনিচি

এক অনন্য কণ্ঠ নিয়ে খুব অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করেন যারা তাদের মধ্যে সুযুমুরা কেনিচি একজন। আমার প্রিয় কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যেও তিনি একজন। তিনি সাধারণত দর্শকের নজরে পরে এবং তাদের প্রিয়ও হয়ে উঠে এমন সব চরিত্রের কণ্ঠ দেন। কারণ এক অনন্য চরিত্রের সাথে তো আর সাধারণ কণ্ঠ মানায় না।

আমার কাছে তার যে চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে তা হল ডি.গ্রে ম্যানের লাভি, কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়া, কুরোকো নো বাস্কেটের মুরাসাকিবারা, প্রিজন স্কুলের শিঙ্গো, ম্যাজাই-এর কা কৌবুন এবং ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের হিকারু( যদিও চরিত্রটার কিছু সমস্যা আছে :v ) । তার আরো অনেক অসাধারণ রোল আছে তা তো নিঃসন্দেহে বলা যায়। এছাড়া তার পোকেমন, ডিজিমন, বেইব্লেডেও রোল ছিল, মূখ্য কোন চরিত্র না অবশ্য । সাধারণত তার কণ্ঠ আমাদের বাচ্চাকালেই শুনার কথা কিন্তু দঃখের বিষয়, এই আনিমেগুলোতো আমরা ইংরেজি ডাব্ড দেখেছি ।

kenichi suzumura

তার গাওয়া গানগুলাও অসাধারণ। বিশেষ করে শিরোই কারাসু (https://goo.gl/XQk3y2 এইটা কিন্তু কোড ব্রেকারএ এন্ডিং ) এবং মেসেন্জার ( https://goo.gl/5Atsyy ) এই দুইটা গান আমার খুব প্রিয়। এছাড়া তার আসুনারো ( https://goo.gl/YnnqL6 ) এবং ইন্টেনশন( https://goo.gl/2r8DmH ) এই দুইটা গানও আমার অনেক ভালো লাগে। তার আরও অনেক ভালো গান আছে শুনে দেখতে পারেন।

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে তার জন্ম। কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তার অভিষেক ১৯৯৪ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে। এই বছরও অনেক ভালো রোল পেয়েছেন তিনি আর আসা করি সামনেও পাবে।

kenichi suzumura 2

সাকামোতো মায়া

দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র তুলে ধরতে পারেন এমন কণ্ঠ অভিনেত্রী, এই ক্ষেত্রে আমার মতে যাকে শ্রেষ্ঠ বলা উচিৎ তিনি হলেন সাকামোতো মায়া। তিনি সুধু একজন অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রী না সাথে দক্ষ গায়িকাও।

আমার দেখা তার যে রোলগুলো খুব ভালো লেগেছে তা হল কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যানচাইজের রিয়োগি শিকি, মোনোগাতারি সিরিজের শিনোবু, ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের ফুজিওকা হারুহি, কুরোশিৎসুজির সিয়েল ফ্যান্টোমহাইভ, সোউল ইটারের ক্রোনা, ম্যাজাই-এর শেহেরযাদে এবং আর্স্লান সেঙ্কির ফারাঙ্গিস। এছাড়াও তার আরও অনেক ভালো রোল আছে ।

maaya sakamoto 1

আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। তামায়ুরা, গোস্ট ইন দ্যা শেল: অ্যারাইজ অল্টারনেটিভ আর্কিটেকচার, সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু এই আনিমেগুলার ওপেনিং এবং এই সিজনের নতুন আনিমে গাকুয়েন তোশি আস্টেরিস্কের একটি এন্ডিং তার গাওয়া। এছাড়া সাধারণত তার গাওয়া গানগুলাও আমার খুব ভালো লাগে। এর মধ্যে আছে ‘Melt the snow in me'( https://goo.gl/WTXnR3 ), আই সুরু কোতো ( https://goo.gl/JsXg92 ), ‘Gravity’ ( https://goo.gl/7c58f4 ) এবং ‘Platinum’ (https://goo.gl/SrwE6T ) । জাপানির পাশাপাশি ভালো পরিমাণ ইংরেজি গান তার আছে এবং তার ইংরেজি গানগুলো সুদ্ধ উচ্চারণ-ভঙ্গিতেই গাওয়া ।

যেখানে সাধারণ কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিষেক ঘটে ১৮-২১ বছর বয়সে সেই তুলনায় তার কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে অভিষেক মাত্র ১২ বছর বয়সে । ১৯৮০ সালের ৩১ মার্চ তার জন্ম। অনেক দক্ষ একজন কণ্ঠ অভিনেত্রী তিনি, আশা করি সামনে তার আরও ভালো রোল পাবো।

maaya sakamoto 2

Movie Time With Yami – 66

5cm

Name: Byousoku 5 Centimeter / 5 Centimeters per Second
Duration: 3 episodes- 22 min per episode
MAL Score: 8.19
Ranked: 311
Genres: Drama, Romance, Slice if Life

এই মুভিটা দেখার আগে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, দুটো কারণে। প্রথমত এটি মাকোতো শিনকাই এর পরিচালিত, এটি আগে এই ডিরেক্টরের একটাই মুভি দেখেছিলাম, “গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস”, আর সেটি বেশ ভাল লেগেছিল; আর দ্বিতীয় কারণ হল এটি নিয়ে আমি সবধরণের অ্যানিমে গ্রুপে অনেক প্রশংসামূলক রিভিউ/রিএকশন দেখেছিলাম। কিন্তু মুভিটি দেখার পরে সত্যি কথা বলতে আমি কিছুটা নিরাশই হয়েছিলাম।

তাকাকি তোনো এবং আকারি শিনোহারা এলিমেন্টারি স্কুলের ক্লাসমেট এবং খুব কাছের বন্ধু। এলিমেন্টারী স্কুল পাসের পর আকারির বাবার বদলির কারণে আকারি অন্য একটি শহরে চলে যায়। দুজন যোগাযোগ রক্ষা করে একে অপরকে চিঠি লেখার মাধ্যমে।

এরপরে মিডল স্কুলে পড়ুয়া আকারি এবং তাকাকির আবার দেখা হয় তুষারঝড়ের মাঝে এক রেলওয়ে স্টেশনে, তাকাকি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে তাদের শেষ দেখা এটি। তারা একজন আরেকজনকে মনের কথা জানিয়ে চলে যায় নিজেদের দ্বিখন্ডিত পথ ধরে। এরপর দুজনের ব্যস্ততা, প্রায়োরিটি এবং বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার সাথে আবেগের সংঘাত দেখা দিতে থাকে।

মুভিটি তিনভাগে বিভক্ত, এই তিনভাগের মধ্যে তাকাকি এবং আকারির জীবনের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এলিমেন্টারি স্কুলের বাচ্চাদের অ্যাডোলেসেন্ট লাভ, মিডল স্কুলের ছেলেমেয়ের অপরিণত আবেগ ও আরেকটু পরিণত বয়সের অপ্রয়োজনীয় যুক্তিবোধ। কাহিনীকার ভালবাসা সংক্রান্ত আবেগীয় টানাপড়েন, বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ এবং দুটো ছেলেমেয়ের আস্তে আস্তে পরিণত মানুষে রূপান্তর হওয়ার ধাপগুলো ড্রামাটিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন, এবং কিছুদূর পর্যন্ত তিনি সফলও। কিন্তু আমার যে ব্যাপারটি ভাল লাগেনি তা হল, অতি নাটকীয়তা। মানুষের জীবনের কাহিনী, অর্থাৎ স্লাইস অফ লাইফ, এই ধরণের কাহিনীতে একটু নাটুকেপনা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু তাই বলে “এলিমেন্টারী” স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের আবেগে ভেসে যাওয়ার ব্যাপারটা বেশ চোখে লেগেছে। চিঠি লিখে যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারটা খুব রোমান্টিক, মানছি, কিন্তু যেখানে তোমাদের হাতে সেলফোন নামক বস্তুটা আছে, একটু কষ্ট করে বস্তুটা মাঝে মাঝে ব্যবহার করলে তো এত ভেজাল বাঁধে না! ভালবাসলে সেটার প্রকাশটা স্ট্রংভাবে বের হয়ে আসেই, আমি বিশ্বাস করি এটা, কাজেই মুভির বেশকিছু জায়গা আমার কাছে বাড়াবাড়ি রকমের অবাস্তব লেগেছে। আর, মানছি জাপানের মানুষ আমাদের দেশের প্যারেন্টস দের মত ওভারপ্রোটেক্টিভ না, তাই বলে কোন বাপ মা নিজের এলিমেন্টারি স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে তুষারঝড়ের মাঝে একা একা ট্রেনে করে ৪-৫ ঘন্টার জার্নিতে যাওয়ার অনুমতি দেয়?

মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত ভাল, মাকোতো শিনকাই এর থেকে এর কম আশাও করা যায়না, এই আর্টওয়ার্ক আমাকে সাহায্য করেছে মুভিটা শেষ পর্যন্ত দেখতে। ঠাট্টা করে একজন ইউটিউব রিভিউয়ার এই মুভির নাম দিয়েছিলেন “5 wallpapers per second”!! সাউন্ডট্রাকও চমৎকার, এন্ডিং সংটা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মুভিটি ওভারঅল খারাপ লাগেনি, তবে বেশ ওভাররেটেড লেগেছে। কে জানে, হয়তো আমার মেলোড্রামা ভাল না লাগাই এর পেছনে দায়ী!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/5-Centimeters-per-Second

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

অ্যানিমে রিঅ্যাকশন- শার্লট; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

charlotte

অবশেষে শার্লট দেখে শেষ করলাম। কালকেই শেষ হত আসলে, একেবারে শেষ এপিসোডের সাবটাইটেলে গন্ডগোল থাকায় সম্ভব হয়নি।

শুরুতে তেমন আহামরি লাগেনি, হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের চূনিবিও সিন্ড্রোমের মত কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে, সেগুলো ব্যবহার করে একদল শয়তানি করে বেড়ায়, আর আরেকদল সেটা থামিয়ে তাদের পথে আনে। মনে হচ্ছিল, “ওকে, দেখা চলে, দেখা যাক এই চূনিবিওর দৌড় কতদূর।”

এরপর আগাতে থাকলাম, জিনিসটা ইন্টারেস্টিং হওয়া শুরু করল। নতুন নতুন পাওয়ার আসে, তাদের সাথে এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্যদের নিজেদের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি দেখে বেশ ভাল লাগছিল।

তারপর, এলো এপিসোড ৬!! হঠাৎ করে একটা হাসিখুশি অ্যানিমে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেল। ব্যাপারটা এতটা আচমকা ঘটে যে আমারই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর ইউ এর অবস্থা, রিকভারী, ঘটনাগুলো কষ্টদায়ক ছিল, আবার সুইট ছিল (ইউ নো হোয়াই)। ভাবলাম যে হ্যা, এখন বোধহয় লাভ ষ্টোরি ঢুকায়ে দিবে।

কিন্তু আবার চমক, কিসের লাভ স্টোরি, কিসের নরমাল লাইফ!! কাহিনী তো কেবল শুরু!! একের পর এক টার্ন অফ ইভেন্ট, মানসিক চাপ আর দুঃখজনক ঘটনা। এপিসোড ১২ তে পৌছে অনেক ভাল লাগল, এটা ভেবে অবাক লাগল যে এই অল্প কয়টা এপিসোডের মাঝে এতকিছু কিভাবে দেখাল!!

তবে একেবারে লাস্ট এপিসোডটার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি খুঁজে পেলাম না। সারা দুনিয়া ঘোরাটা যেন ডাল মাখায়ে ভাত খাওয়ার মত সহজ, তাই এত ডেঞ্জারাস একটা কাজে জনাব নায়ক একাই বের হয়ে পড়লেন, জাস্ট লাইক দ্যাট!!

যাহোক, ভালই লেগেছে সবমিলিয়ে, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি অনেক ভাল, আর স্টোরিটাও ঘোটপাকানো হলেও ভাল।

 

628927

Arslan Senki (TV) [আনিমে রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

 

~অ্যানিমে রিভিউ~

Anime Name: Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan
Genre: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Supernatural
Episodes: 25
MAL Rating: 7.90

মুভি, বই, মাঙ্গা বা সিরিজ যা-ই বলুন বর্তমানে ফ্যান্টাসির জয়জয়কার। এ যেন আমাদের ছোটবেলার স্বপ্নকেই একের পর এক স্ক্রিনে রূপ দেয়া। রূপকথার গল্প পড়ে নিজেকে যেমন কল্পনা করতাম অজানা কোন এক রাজ্যের সর্বজয়ী প্রিন্স হিসেবে যে কিনা রাজ্য থেকে সব খারাপ দূর করবে, মানুষ যাকে হিরোর আসনে বসাবে। আরস্লান সেনকি সেরকমই একটি ফ্যান্টাসি সিরিজ যাতে দেখানো হয়েছে এক প্রিন্সের হিরো হয়ে ওঠার গল্প।

The Heroic Legend of Arslan হচ্ছে মূলত ইয়োশিকি তানাকা-র লেখা ফ্যান্টাসি নভেল সিরিজ যা পরে দুইবার মাঙ্গায় অ্যাডাপ্ট করা হয়। এর মধ্য থেকে হিরোমু আরাকাওয়া-র ইলাস্ট্রেট করা মাঙ্গা থেকে অ্যাডাপ্ট করা হয় ২৫ এপিসোডের আরস্লান সেনকি সিরিজটি।

প্লটঃ

মধ্যযুগের ঠিক আগেকার সময়। পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যবর্তী মহাদেশীয় হাইওয়ের পাশে আছে পার্স(Pars) নামের সম্পদশালী এক দেশ যা শাসন করেন প্রতাপশালী রাজা ৩য় অ্যান্ড্রাগোরাস। রাজ্যের একমাত্র প্রিন্স, আরস্লান, যে কিনা রাজার একমাত্র উত্তরাধিকারী, এ সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র। প্রিন্সের ১৪বছর বয়সে, পার্স ইরা ৩২০ সালে, শত্রুরাজ্য লুসিতানিয়ানদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয় রাজা অ্যান্ড্রাগোরাস। পার্স চলে যায় লুসিতানিয়ানদের দখলে। কি এমন হয়েছিল যার কারণে অজেয় পার্স সেনাবাহিনীর এ অসহায় আত্নসমর্পণ? দারিয়ুন, আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রক্ষী ও সঙ্গী এবং এবং তার বন্ধু নারসাস যাত্রা করে এক অ্যাডভেঞ্চারে যার মূল লক্ষ্য হারানো রাজধানী পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সাথে যুক্ত হয় আরো অনেকেই যারা ক্রমে আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচরে পরিণত হয়। সামনে বাধা হয়ে আছে লুসিতানিয়ানরা আর সিলভার মাস্ক পরে থাকা রহস্যময় এক যুবক। ইতোমধ্যে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, ‘শক্তিশালী বাধা উপেক্ষা করে রাজ্যোদ্ধার করতে পারবে কি আরস্লান ও তার সঙ্গীরা? পারলে কিভাবে? এ জন্য যে আর্মি লাগবে তা-ই বা কোথায় পাবে?

বুঝতেই পারছেন এটি যুদ্ধ আর রাজ্যজয়ের এক চিরাচরিত গল্প। এমন কিছুই নেই যা আমরা আগে কোথাও দেখিনি। কাহিনীর গতি শুরুতে বেশ ভাল হলেও মাঝে এসে এত ধীর হয়ে যায় যে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার যখন শেষের দিকে এসে যুদ্ধের সময়গুলো দেখায় তখন বেশ ফাস্ট হয়ে যায় যে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো ঠিক বুঝে ওঠা যায় না। তাছাড়া প্রায় সব জায়গায়ই নারসাস-কে এমন এক স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে যার কিনা কখনো ভুল হতে পারে না। মূলত স্ট্র্যাটেজিগুলো খুবই সাধারণ মানের এবং কোন চমক জাগাতে পারেনি। খানিক অবাস্তবও। আরো যেটার অভাব অনুভব করেছি তা হল ইনটেনসিটি। আপনি যুদ্ধ, রাজ্য, বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কিছু একটা দেখবেন আপনি একটা টানটান উত্তেজনা আশা করতেই পারেন। এছাড়াও গল্পের সাথে রাজনীতির যে ব্যাপারটা জড়িয়ে আছে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেই আমি মনে করি। মনে হয়েছে কাহিনীর স্রোতটা মাঝে এসে কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। ছোটখাটো কিছু চমক অবশ্য আছে, তবে এগুলো আরো ভালভাবে দেখানো যেত পারতো বলে আমার বিশ্বাস।

আর্ট ও অ্যানিমেশনঃ

আর্ট আর অ্যানিমেশন এ সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। মাঙ্গার ডিজাইন করেছেন Fullmetal Alchemist আর Silver Spoon এর ইলাস্ট্রেটর হিরোমু আরাকাওয়া। সাথে প্রোডাকশনে ছিল Universal Studio-র জাপানি অঙ্গসংঠন। আর্ট ভালো হওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। ইনডিভিজ্যুয়াল ফাইটগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো আরেকটু বেশি দেখালেই ভাল হত মনে হয়। তাছাড়া কিছু হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট দেখানো দরকার ছিল। যাই হোক, কিছু কিছু জায়গায় অ্যানিমেশন কোয়ালিটি একটু ফল্টার করলেও পুরো সিরিজের তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য।

মিউজিক ও সাউন্ডঃ

Uverworld এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং আর Eir Aoi এর গাওয়া এন্ডিং আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। ২য় ওপেনিংটিও মোটামুটি কিন্তু এক্ষেত্রে এন্ডিংটা কেন যেন ভাল লাগেনি। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভাল করেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে সাউন্ডের মেলবন্ধন বিশেষ করে যুদ্ধের ক্ষেত্রে যেভাবে করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

চরিত্রায়নঃ

অগভীর চরিত্রায়ন এ অ্যানিমের আরেকটি দুর্বল দিক। মূল চরিত্র আরস্লানের চরিত্রায়নটা বেশ ভাল হলেও পার্শ্বচরিত্রগুলোর সেভাবে কোন গভীরতা দেখানো হয়নি। কেবল তাদের ভূমিকাটাই দেখানো হয়েছে। মাঝে কাহিনীকে টেনে লম্বা না বানিয়ে এ সময়টা চরিত্রায়নে ব্যয় করলে দুর্বুল স্টোরি সত্তেও খুব সুন্দর একটা অ্যানিমে হতে পারতো।

ওভারঅল, এটি কনভেনশনাল এক কাহিনী আর অসাধারণ CGI works এর সমন্বয়ে করা মোটামুটি দেখার মত একটি অ্যানিমে। রেট করলে আমি এটিকে দু’ভাবে রেট করব। এক, নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে; দুই, পার্টিকুলারলি হিস্টোরিকাল আর ওয়ার ড্রামার ভক্ত হিসেবে।

নিরপেক্ষঃ ৬.৫/১০
বায়াসডঃ ৮/১০ (অর্থাৎ আপনি ‘বিশেষভাবে এ জনরার’ অ্যানিমের ভক্ত হলে নির্দ্বিধায় দেখে ফেলুন।)

পরিশেষে, আশা করি Season-2 তে ভুলগুলো শুধরিয়ে আমাদের ক্লাসিক একটা ওয়ার ড্রামা উপহার দেবে।

Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan