রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২: Uchuu Kyoudai — Hussain Shoykot Ash

আনিমে- উচু কিওদাই / স্পেস ব্রাদার্স

জনরা- কমেডি, সাই-ফাই, স্পেস, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন
এপিসোড- ৯৯ টি
মাই আনিমে লিস্ট স্কোর- ৮.৬১

ছোটবেলা থেকেই আমাদের অসীম আগ্রহ মহাকাশের প্রতি, আকাশের তারা আর চাঁদ কিন্তু সবাইকেই আকর্ষণ করে, মনের মাঝে কিন্তু সবারই কখনও না কখনও এমন প্রশ্ন এসেছেই যে, আচ্ছা, আকাশের তারা কিভাবে ভেসে থাকে? চাঁদ এত কাছে আর সূর্য এত দুরে কেন? হয়ত বাবা-মাকে প্রশ্ন করে কিছু জানা গেছে, কিন্তু অনেক কিছুই অজানাই রয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে হয়ত মন থেকেই মুছে গেছে কথা গুলো। আরেকটু বড় হওয়ার পর হয়ত শোনা গেছে যে মহাকাশে মানুষ গেছে। তাদের আবার এস্ট্রোনট বলে। তখন থেকেই মনের ভেতর হয়ত উঁকি দিয়েছে যে আমিও এস্ট্রোনট হতে চাই, কিন্তু জ্ঞানের অভাবেই হোক আর পরিবারের চাপেই হোক ভুলে গেছি মনের ভেতরের সেই আকাঙ্ক্ষাটাকে। আবার হয়ত কেউ এখনও এস্ট্রোনট হতে চায় কিন্তু জানেনা কিভাবে কি করে হতে হয়। আবার অনেকে আমার মত থাকতে পারেন যারা জানতে চান কেমন জীবন এস্ট্রোনটদের? তারা কেমন মানুষ? কি করতে হয় তাদের? চাঁদে গিয়ে তারা কি করে? আচ্ছা চাঁদে তারা কি ধরণের বিপদে পড়তে পারেন? আচ্ছা, আমি যদি এস্ট্রোনট হতাম, তাহলে আমার জীবনটা কেমন হত? হ্যা, এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে এই আনিমেটাতে, স্পেস ব্রাদার্স এমন একটা আনিমে যেটা দেখলে এই সকল উত্তর এমনিতেই পাওয়া যাবে, বা কেউ যদি মহাকাশ সম্পর্কে আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও দেখে, তাও সে মহাকাশের প্রতি একটা অজানা আগ্রহ অনুভব করবে।

এতো গেল কেন দেখবেন এই আনিমেটা। এখন আসা যাক এই আনিমের স্টোরিতে- এখানে দুই ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে (নাম স্পেস ব্রাদার্স যেহেতু, দুই ভাইয়ের কথা কল্পনা করে নেওয়া যায়) তবে এরা কিন্তু একভাই এক স্পেসে আরেকভাই আরেক স্পেসে এমন না, বরং দুই ভাই এই পৃথিবীরই মানুষ। তাহলে মনে প্রশ্ন আসতে পারে, নাম স্পেস ব্রাদার্স কেন? আসছি সেই কথায়, ছোটবেলায় দুই ভাই নাম্বা মুত্তা আর নাম্বা হিবিতো একটা অদ্ভুত উজ্জ্বল আলো বিশিষ্ট জিনিস দেখতে পায়। কিছুক্ষণ পরেই যদিও সেই বস্তু চোখের আড়ালে খুব দ্রুত আকাশের দিকে চলে যায়, দুই ভাইয়ের মনে প্রশ্ন জাগে, এটা কি ছিল? মনে করে এটা বোধহয় এলিয়েন সসার ছিল। শুরু হয় মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা। যদিও এই আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে যেন নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে বড় ভাই এস্ট্রোনট হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে যায়। ছোট ভাই লেগে থাকে সেই ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নের পিছনে, দেখা পায় সেই আশ্চর্য স্বপ্নের, এস্ট্রোনট হওয়ার সেই দীর্ঘ অসম্ভবপ্রায় স্বপ্ন। জাক্সা থেকে নাসাতে চাঁদে যাওয়ার জন্য ট্রেনিং নিতে থাকে সে। এখানে আপনারা দেখতে পারবেন এস্ট্রোনটদের কিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়। এবার আসি বড় ভাইয়ের কথায়। স্বপ্ন ভুলতে শুরু করেছিল সে, নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে, কিন্তু যে অফিসে সে কাজ করত সেখানে বস তার ছোট ভাইকে নিয়ে তামাশা করলে মেরে বসে সে বসকে। সহজেই চাকরি হারাতে হয় সেকারণে, অন্য কোথাও চাকরি পাওয়াও অসম্ভব, কারণ, অফিসের বসকে যে মারতে পারে তাকে চাকরি দিতে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক সবার। এমন সময় ছোট ভাই হিবিতো বড় ভাইকে তার স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেহেতু কাজ কাম নেই, মুত্তা আর কি করবে স্বপ্নকে আবার জাগ্রত করতে এস্ট্রোনট হওয়ার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করে, শুরু হয় এস্ট্রোনট হওয়ার যুদ্ধ।

এখান থেকে যারা জানতে চায় এস্ট্রোনট কিভাবে বাছাই করে বা কিভাবে ধাপে ধাপে একজন মানুষ এস্ট্রোনট হয়, তারা ভাল ধারণা পাবে, কেননা মুত্তাকে অনেকগুলা পরীক্ষা যে দিতে হবে নিজেকে প্রমানিত করার জন্য, স্বপ্নকে পাওয়ার জন্য। এখন যেই প্রশ্নটা মনে আসছে সেটা হল, তাহলে চাঁদে এস্ট্রোনটরা কি করে? কিসব বিপদে পড়ে? তা কিভাবে জানবো? এক ভাই তো এস্ট্রোনট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, আরেকভাই এস্ট্রোনট হবে তাই পরীক্ষা দিচ্ছে। ব্যাপার না, একটু ধৈর্য্য ধরে দেখুন, এস্ট্রোনটদের নিয়ে সবকিছু পরিস্কার করে দেখিয়ে দেওয়া আছে আনিমেটাতে। মোটামুটি এই হল এই আনিমের স্টোরিলাইন। তবে এই এনিমের সবচাইতে ভাল লাগতে পারে যে জিনিসটা আপনাদের তা হল দেখার সময় কখনও এমন মুহূর্তে পরবেন যে না হেসে পারবেন না। কখনও আবার মন খারাপ করার মত অবস্থাই পরবেন, হয়ত কেদেও দিতে পারেন কে জানে? তবে যে জিনিসটা আপনি এই এনিম থেকে আবিস্কার করবেন তা হল এইটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে, যেইটা এই এনিমের সবচাইতে বড় বিশেষত্ব।

এবার আসি গ্রাফিক্স, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড, ওপেনিং আর এন্ডিং গানের দিকে- স্পেস ব্রাদার্সের গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর। মহাকাশ, নাসা, জাক্সা, এস্ট্রোনটদের প্রয়োজনীয় সকল জিনিস খুব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে। এর গ্রাফিক্স এমন যে আপনি দেখার সময় এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করবেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে যে স্লো মিউজিক ব্যাবহার করা হয়েছে তা প্রতিটা মুহূর্তের সাথে মানানসই। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলো অসাধারণ রকম সুন্দর। যে গানগুলা ব্যবহার করা হয়েছে চোখ বন্ধ করে শুনে দেখতে পারেন, ভাল না লেগে যাবেনা।

স্পেস ব্রাদার্স আসলেই অসাধারণ একটি আনিমে। যদি কোন নতুন আনিমে খুঁজছেন দেখার জন্য বা সুন্দর একটা আনিমে দেখতে চান তাহলে আমি এই আনিমেটাকে দেখার কথা বলবো, দেখলেই বুঝবেন এই আনিমেটা কতটা সুন্দর। তাই হাতে কোন কাজ না থাকলে দেখা শুরু করে দিন আনিমেটা।

2 Uchuu Kyoudai

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১: Anohana — Rafid Azad

আনোহানা (anohana)

জনরা : সুপার ন্যাচরাল , রোম্যানস্,   ড্রামা
এপিসোড  : ১১
পারসোনাল রেটিং : ৮.৮/১০

আমার মতো এমন কেউ কি আছো, যে ছোটবেলায় বন্ধুদের নিয়ে গোয়েন্দা বা অন্য কোন বিষয়ের উপর  খুবই অদ্ভুত একটি নাম দিয়ে ক্লাব খুলেছিলে? সত্যি কথা বলতে আনোহানা আ্যনিমেটি আমার এত ভাল লাগার একটি মুল কারন, প্রোটগো্নিস্ট জিন্টান এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আমার অস্বাভাবিক রকমের মিল । তবে সাধারন গ্রুপ এর সাথে এই ‘পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপ এর কিছু অমিলও রয়েছে । মুল তফাৎটি বোধহয়‘পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মেনমার একি্সডেন্টে হঠাৎ মৃত্যু । তার মৃত্যুর পর ‘পিস বাস্টার্ড’গ্রুপটি ভাঙতে সময় নেয় নি বেশি। বাইরে না দেখালেও গ্রুপ এর বাকি ৫ জন সদস্যের প্রত্যেকেই মেনমার মৃত্যু এর জন্য মনে মনে নিজেকে দায়ী করতো। তাই মুলত অতীতকে পিছনে ফেলার জন্যই জিন্টান , পোপ্পো ,ইয়ুকিআটসু , সুরুক , নারুক আলাদা হয়ে যায় একে অপর থেকে এবং শুরু করে দেয় তাদের নতুন জীবন ।

আ্যনিমের প্লটটি চলে তারও ১০ বছর পরে যখন হঠাৎই মেনমার ১০ বছর পরের ভার্সন ভুত উপস্থিত হয় জিন্টান এর বাড়িতে । প্রথমে প্রথমে এটিকে হ্যালুসিনেশন হিসেবে ভেবে ছেড়ে দিতে চাইলেও পরবর্তীতে জিন্টান বুঝতে পারে মেনমা আসলেই ফিরে এসেছে ( যদিও এটি কেবল একটি ভুত ) ।মেনমা জিন্টান কে জানায় যে তার ইচ্ছে পুরণ হইনি বলেই সে পরকালে যেতে পারছে না । কিন্তু কি ইচ্ছা তা যে মেনমা নিজেও জানে না । তাই রীতিমত বিপদেই পরে যায় জিন্টান । একে তো মেনমা কে অন্য কেও দেখতে না পারায় সবাই জিন্টান এর কথা বিশ্বাস না করে সবাই উলটো ‘গাজাখুরি’ হিসেবে নেয় । আবার অপর দিকে মেনমার সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তাকে আবারও তার অতীতের (তার পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বন্ধুদের ) মুখোমুখি হতে হয় , যার থেকে সে এত বছর দূরে ভাগছিল । কিছু দিন যেতে না যেতেই জিন্টান বুঝতে পারে মেনমার ইচ্ছা পুরনের জন্য পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বাকি সদস্যদের সাহায্য তার লাগবেই। কিন্তু মেন্মার জন্য এতটুকু করা যেন জিন্টান এর কাছে কিছুই না , কেননা সে যে অনেক ভালবাসে মেন্মা কে । কিন্তু অতীত বন্ধুদের মধ্যে কেও কেও তাকে বিশ্বাস করলেও অনেকেই করে না । কিন্তু এতো সব সমস্যার পরও জিন্টান হার মানে না এবং তার চেষ্টা চালিয়ে যায় । এবং সে প্রতিজ্ঞা করে নেয় যে, মেনমা কে সে সাহায্য করেই ছাড়বে ।

আ্যানিমেটিতে ভাল দিকের পাশাপাশি খারাপ দিকও যে নেই তা কিন্তু নয়। প্রথমে ভাল দিয়েই শুরু করি । ক্যারেক্টার গুলির আর্টস্টাইল এবং তাদের সভাব চরিত্র এতইসুন্দর ভাবে ফুটে উঠে যে এই আ্যানিমের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কোন ব্যাপারই হয়ে উঠে না। এর পাশাপাশি রয়েছে আ্যানিমেটির চমৎকার একটি অপেনিং (শুরুর) আর এন্ডিং(সমাপ্তি) গান।পারলে এখনি শুনে দেখ আমি ভুল বলছি কিনা ।

এবার যে বিষয় গুলি তোমাদের অতো বেশি ভাল না লাগতে পারে তা সম্পর্কে বলি । প্রথমে যেই বিষয়টি সম্পর্কে তোমাদের কে বলতে চাই তা হল তোমরা যদি কেবল ডেথ নোট অথবা কোড গিয়াস এর মতো সাসপেনসিভ আ্যনিমে পছন্দ করো এবং সাসপেন্স ছাড়া আ্যনিমে একেবারেই না দেখ তাহলে আগেই বলে রাখি আনোহানা টুইস্ট এর চেয়ে ইমোসোন এর দিকে বেশি মনোযোগ দেয় । পুরা কাহিনীতে একেবারে মোড় ঘুড়ানোর মত টুইস্ট না থাকলেও একেবারেই যে টুইস্ট নেই তা কিন্তু বলা যাবে না ।

শেষ পর্যন্ত কি হয় তা জানার জন্য এক্ষুনি শুরু করে দিতে পার মাত্র ১১ এপিসোডের এই চমৎকার আ্যনিমেটি । তোমাদের যে ভালো লাগবে তার ১০০% গ্যারানি্ট  দিতে পারি ।

1 Anohana

Laputa: Castle in the sky – মুভি রিভিউ – আসিফুল হক

কি দেখলাম – Laputa: Castle in the sky
প্রোডাকশন হাউসঃ জিবলী
ডিরেক্টরঃ হায়ায়ো মিয়াজাকি

একটা দৃশ্যর কথা চিন্তা করুন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের হাতছানি শুরু হল মাত্র। হাতের কাজ শেষ করে সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন, বাড়ি ফিরবেন বলে। হটাত করেই ঈশান কোণে অদ্ভুত এক আলো দেখতে পেলেন। খানিকটা কৌতুহল নিয়েই আলোর উৎসের কাছাকাছি হতেই দেখতে পেলেন আকাশ থেকে নেমে আসছে ছোট একটা মেয়ে। তার গলায় জ্বলজ্বল করছে উজ্জ্বল এক মণীহার, যেটা মেয়েটাকে ধীরে ধীরে ভাসিয়ে নামাচ্ছে। দস্যুদল আর সেনাবাহিনী – সবাইই তাড়া করে ফিরছে মেয়েটিকে। কারণ মেয়েটির কাছে আছে আকাশে ভেসে বেড়ানো স্বপ্নের এক জগতের চাবিকাঠি; যে জগত অসীম ধনসম্পদের হাতছানি দেয় নিরন্তর।

ঠিক এমনই এক দৃশ্যপটকে ঘিরে শুরু হয় “Laputa: Castle in the sky” এর কাহিনী। ছোট্ট মেয়েটি শীলা, এবং তাকে উদ্ধার করা ছেলেটি পাযু। সেনাবাহিনী এবং জলদস্যু – দু’দলের ধাওয়া পালটা ধাওয়া, লাপুতার খোঁজ এবং শীলা পাযুর অভিযানের গল্প মিয়াজাকির এ মুভিটি।

লাপুতার জগত স্পর্শ করেছে অনেক কিছুই – যাদু থেকে উন্নত বিজ্ঞান; খুন কিংবা দস্যুতা; ছিল জোনাথন সুইফট থেকে লুইস স্টিভেনসন কিংবা হিন্দু পুরান থেকে শুরু করে বাইবেলের শ্রুতির রেফারেন্সও। রামায়ণের ইন্দ্রর তীর কিংবা ব্রিটিশ মাইনিং এর শহর; অথবা ইউরোপীয় ঘরানার দুর্গের ডিজাইন – মিয়াজাকি মুভিতে একগাদা রেফারেন্স ব্যাবহার করেছেন নিপুণ দক্ষতায়।

ম্যাজিক মুভির একটা বিরাট ফ্যাক্টর হলেও শুরুর অর্ধেক অংশ তা থেকে কম বেশি মুক্ত ছিল। এবং এ অংশে মুভিটা বেশি আকর্ষণীয়ও ছিল; অসাধারণ কিছুর জন্য না; বরং ছিমছাম সাধারণত্বে; স্বভাবী কিছু চরিত্রের গুণে। ছোটবেলায় বাবা মা হারানো খনিতে কাজ করা পাযু এমন এক এলাকায় থাকে যেখানকার লোকজন নিজেদের স্বার্থেই কম্যুনিটিকে সবার আগে জায়গা দেয়; বিরাট কষ্ট আর পরিশ্রমের মাঝেও তারা সুখী। ঘটনাক্রমে পাযু জড়িয়ে পরে এমন এক ঘটনায়; যা তার বহুদিনের দেখা স্বপ্নের রাস্তাতেই তাকে দাঁড় করিয়ে দেয়।

বৃহত্তর গন্ডীতে লাপুতা আমাদের জীবনেরই গল্প; শীতা এবং পাযুকে আমরা পাই শত লোভ, স্বার্থপরতা আর ক্ষমতার দড়ি টানাটানির মাঝেও নিজেদের নিষ্পাপ সত্তা ধরে রাখতে; অন্যদিকে মুস্কা এবং সেনাবাহিনী যেন মনের অন্ধকার জগতের প্রতিচ্ছবি। এর মাঝে সবচেয়ে বাস্তব চরিত্র বোধহয় দস্যুদল; বিশেষ করে তাদের লিডার ডোরা। এরা সম্পদ লুটে নেবার জন্য ঘুরে বেড়ায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়; কিন্তু আবার দুটো বাচ্চাকে দলে আশ্রয় দেয় পরম মমতায়।

পুরো মুভিতে গল্প যথেষ্ট সরল; এবং টার্গেট অডিয়েন্সের কথা মাথায় রাখলে খুব চমৎকারভাবেই সেই মুভির চিত্রায়ন হয়েছে। জিবলীর নিজস্ব আর্টস্টাইল এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এই মুভিতেও ছিল বরাবরের মতনই। সাদামাটা মাইনিং শহর থেকে সবুজে পূর্ণ স্বপ্নের নগরে স্থানান্তর মুভিটি সামলেছে দক্ষতার সাথেই। মুভিটা শেষ করে ম্যালে গিয়ে আমি রীতিমত চমকে উঠেছিলাম সালের ঘরে ১৯৮৬ লেখা দেখে। আমাকে বেশ কয়েকবার ঠিকভাবে দেখে নিশ্চিত করতে হয়েছে যে আমি ভুল দেখছি না; এতটাই চমৎকার ছিল এনিমেশন। মিউজিকও যথেষ্ট ভাল ছিল; ইমোশনাল জায়গাগুলোতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো যথার্থই ছিল। এছাড়া শেষ গানটা তো খুবই প্রিয় হয়ে গেছে এর মধ্যেই !

তবে দু’ঘন্টার এ মুভিটা যে গল্প বলা শুরু করেছিল; সেটাতেই সত্য থাকার চেষ্টা করেছে; যে কারণে অনেক বড় প্রশ্নেরই আসলে উত্তর মেলে নি মুভিটায়। লাপুতা কেন জনমানবশুন্য ছিল কিংবা শীলার অতীতে কি ঘটেছিল এবং মুস্কাই বা কি করে পৃথিবীতে ছিল, কতদিন ধরে ছিল; সে লাপুতা সমন্ধে এতো কিছু জানলো কি করে – এসবের কিছুই জানা যায় নি মুভিটায়। এছাড়া শীলা একগাদা স্পেল জানলেও সেগুলোর কোনটাই ব্যাবহারের চেষ্টা করে নি পুরো মুভি জুড়েই। লাপুতা কি করে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করবে কিংবা অতীতেই বা কি করে করেছিল – এ ধরণের কোন সুত্রও মুভিটা আমাদের দেয় না।

শেষ কথা; হাতে ঘন্টা দুয়েক সময় আর সুন্দর ছিমছাম গল্প, মনোমুগ্ধকর আর্ট আর চমৎকার পেসিং এর একটা মুভি দেখার ইচ্ছে থাকলে জিবলীর যে কোন মুভিই সবসময়েই ভাল একটা চয়েস। লাপুতাও তার ব্যাতিক্রম কিছু না।

Movie Time With Yami – 59

Mononoke.Hime.full.1474844

Name: Princess Mononoke / Mononoke Hime
Duration: 2 hr. 10 min.
MAL Score: 8.81
Ranked: 24
Genres: Action, Adventure, Fantasy

বিখ্যাত ডিরেক্টর হায়াও মিয়াজাকি সম্পর্কে একটা কথা প্রচলিত আছে, তিনি সভ্যতা পছন্দ করেন না। ইট, কাঠ, পাথরের অট্টালিকা এবং যান্ত্রিক পৃথিবীর বদলে তিনি সবুজ বনাঞ্চল এবং গ্রামীণ স্নিগ্ধ পরিবেশ বেশি পছন্দ করেন। আর তার এ পছন্দের ছাপ পাওয়া যায় তার পরিচালিত অনেক মুভিতেই। প্রকৃতি ও পশুপাখির কষ্ট, তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়ে অত্যন্ত শৈল্পিক উপায়ে কাহিনী বর্ণনা করেছেন তিনি মুভিগুলোতে। দর্শককে বাধ্য করেছেন সভ্যতার দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাতে। তেমনই এক গল্প রাজকুমারী মোনোনোকের, হায়াও মিয়াজাকি পরিচালিত স্টুডিও জিবলীর বিখ্যাত মুভিগুলোর একটি।

গহীন বনের ভেতরে বাস করে এক আদিবাসী গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর ওপর একদিন অতর্কিতে হামলা চালায় এক রোগাক্রান্ত বন্য শূকর। গোত্রের রাজকুমার আশিতাকা মুখোমুখি হয় সেটির, শূকরটিকে হত্যা করে নিজের গোষ্ঠীকে বিপদ থেকে রক্ষা করে সে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে আশিতাকার হাতে কামড় দিয়ে এক অভিশপ্ত ক্ষত সৃষ্টি করে দেয় শূকরটি মরার আগে।

গোত্রের নিয়ম অনুযায়ী আশিতাকাকে নির্বাসনে যেতে হয় নিজের শরীরে প্রবেশ করা অভিশাপের প্রতিকার খুঁজতে। নিজের এলাকা থেকে অনেক দূরের পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরতে থাকে সে, আর দেখতে থাকে বিভিন্ন এলাকার পশুপাখিদের দুরবস্থা। একসময় সে এসে হাজির হয় একটি শহরে, যেখানে গোলাবারূদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হয় আশেপাশের বনাঞ্চলের ক্ষতি করে। আশিতাকা কি পারবে এই শহর ও বনাঞ্চলের মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে? তার নিজের সময়ও যে খুব জলদি শেষ হয়ে আসছে!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক স্টুডিও জিবলীর অন্যান্য মুভিগুলোর মতই ছিমছাম, পরিপাটি, বনাঞ্চলের দৃশ্যগুলো খুব চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। আমার ভাবতেও অবাক লাগে, ১৯৯৭ সালের একটি মুভির আর্টওয়ার্ক কিভাবে এত সুন্দর হয়। সাউন্ডট্র্যাক মানানসই, সেইসাথে চরিত্রগুলো খুব সহজেই আপন করে নেয়ার মত।

মুভিটি জিবলী ফ্যানদের কাছে পুরো পৃথিবী জুড়ে অত্যন্ত সমাদৃত, এর রেটিংও তাই বলে, তবে শেষের দিকে আমার কাছে কাহিনীটা কিছুটা খাপছাড়া লেগেছে। সেটুকু বাদ দিলে বেশ ইন্টারেস্টিং একটি মুভি, হাতে সময় থাকলে দেখে ফেলতে পারেন, সময়টা ভালই কাটবে আশা করি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Mononoke-Hime

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

The Wind Rises: মুভি রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

কি দেখলামঃ The Wind Rises
প্রোডাকশন হাউসঃ জিবলী।
ডিরেক্টরঃ হায়াতো মিয়াজাকি।

ইতালীয় বৈমানিক নকশাকার কাপ্রনি দ্বারা অনুপ্রাণিত জিরোর ছোটবেলার স্বপ্ন পাইলট হবার পথে বাদ সাধে তার চোখের সমস্যা। এতে দমে না গিয়ে জিরো বরং এয়ারপ্লেন ডিজাইনকে তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে ঠিক করে নেন। ১৯২৭ সালে তিনি যোগ দেন জাপানিজ এক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির এয়ারক্রাফট ডিভিশনে। এবং খুব দ্রুতই তার প্রতিভার সাক্ষর রেখে এই ধারার একজন পুরোধা ব্যাক্তি হয়ে উঠেন।

জিরোর জীবনের ঘটনাপ্রবাহের সাথে সাথে এই মুভি বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা সমান্তরালে বর্ননা করে; যেমন – ১৯২৩ এর কান্তো ভুমিকম্প, যক্ষ্মার মহামারী, এবং জাপানের যুদ্ধে জড়িয়ে পরার গল্প। এর পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই নাওকোকে; জিরো যার প্রেমে মুগ্ধ হন এবং পরবর্তীতে বিয়ে করেন। এছাড়া জিরোর বন্ধু এবং সহকর্মী হোঞ্জোর সাথে তার চমৎকার সম্পর্ক এবং তৎকালীন জাপানের অনেক চিত্রই উঠে এসেছে এই মুভিতে।

wind rises 1

ব্যাক্তিগতভাবে আমি জিবলীর মুভির খুব বড় ভক্ত না। কারণ দর্শক হিসেবে আমার সাধাসিধে ছিমছাম গল্পই পছন্দ। খুব বেশি ভাবতে হয় এমন মুভির বদলে সকালে ঘুম থেকে উঠে বৃষ্টির সাথে এক মগ কফি খেতে খেতে একটা স্নিগ্ধ ভালবাসার গল্প দেখে ফেলায় আমি বরং বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জিবলীর মুভিগুলো আমার কাছে বড্ড “কঠিন” মনে হয়। সে কারণে আসলে দেখা হয়েছে খুব কমই। Wind rises ও তার ব্যাতিক্রম না। এখানে জিরোর জীবনের সাথে উঠে এসেছে একগাদা ঘটনা, ইতিহাস এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবন দর্শন আর ভালবাসা। জিবলীর মুভি তাই দেখতে হয় সন্তর্পণে; মুভির সাথে একাত্মা হয়ে। সেভাবেই দেখার চেষ্টা করলাম; এবং মুগ্ধ হলাম; আবারও।

যে কোন জিবলীর মুভির মতন এই মুভির আর্টস্টাইলও দুর্দান্ত; জলরঙ্গা ব্যাকগ্রাউন্ড এতো যত্নের সাথে আকা হয়েছে যে শুধু এনিমেশন দিয়েই এই মুভি যে কোন সমালোচনা উৎরে যাবে।

চরিত্র রুপায়নে এই মুভি সম্পূর্ণ মুন্সিয়ানাই দেখিয়েছে। প্রত্যেকটা সম্পর্কই স্বাভাবিক, সাধারণ, দৈনন্দিন জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন। সবগুলো চরিত্রই বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে সুন্দরভাবেই।

wind rises 2wind rises 3

মুভিটির সবচেয়ে বড় সমালোচনার দিক্টা বোধহয় আসবে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেই। পুরো মুভি জুড়েই জাপানীদেরকে যুদ্ধের ভিক্টিম হিসেবেই দেখানোর একটা সূক্ষ্ম চেষ্টা ছিল যেখানে জাপানিজ মিলিটারির সে সময়কারই যুদ্ধাপরাধের প্রচুর ইতিহাস একটু ঘাঁটলেই খুজে পাওয়া যায়। পুরো মুভি জুড়ে যুদ্ধবিমান বানানোর জন্য নানান রকম চেষ্টার বর্ণনা চলে এসেছে; কিন্তু সেই বিমানগুলোর ব্যাবহার মুভিতে খুব সুন্দরভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। জিরোকে আমরা দেখতে পাই তার চশমা এবং পরিপাটি কাপড়ে; খুব নম্র বিনয়ী তরুণ এক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে; যুদ্ধবিমান তৈরির আফটারম্যাথ যাকে মোটেও বিচলিত করে না; বরং মুভির মাঝখানে পিরামিডের সাথে তুলনা দিয়ে পুরো ব্যাপারটাকেই গ্লোরিফাই করার নিদারুণ একটা চেষ্টা ছিল। যেটা অনেকটাই আয়রনিক; কেননা জিরোর প্রথম যুদ্ধবিমান “জিরো” তৈরিতে মিতসুবিসি ব্যাবহার করেছিল কোরিয়ান এবং চীনা দাসদের। এছাড়া পুরো মুভি জুড়ে জার্মান এবং অন্যদের জাপানে বোম্বিং করা দেখানোর মাধ্যমে জাপানীজদের মধ্যে তারা “যুদ্ধের মদদদাতা নয়, বরং শিকার ছিল” ধাঁচের যে মেন্টালিটি বিদ্যমান (জাপান জার্মান এলায়েন্স বা “এক্সিস” যুদ্ধের একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল); সেটাকেই শৈল্পিক রুপ দেয় মাত্র।

পুরো মুভিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব বেশি সাসপেন্স, খুব বেশি টেনশন ছিল না। এমনকি জিরোর ব্যাক্তিগত অন্তর্দন্দ নিয়েও আমরা খুব একটা ইঙ্গিত পাই না। আর শেষে গল্পটা যেন একেবারে হটাত করেই থেমে যায়। কোন মেসেজ না; কোন বড় সমস্যার সমাধান না; কোন ক্লাইম্যাক্স এন্টি-ক্লাইম্যাক্স কিচ্ছু না; একেবারেই যেন হটাত করেই “আচ্ছা তবে বিদায়” বলে মুভি শেষ করে দেওয়া।

ওভারঅল; সাউন্ডট্র্যাক এবং এনিমেশন বিচারে দুর্দান্ত একটা মুভি; যার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও যথেষ্ট সন্তোষজনক; এবং দুই ঘন্টার একটা হ্যাপি জার্নি শেষে বেশ খানিকটা এব্রাপ্ট এন্ডিং এর অভিজ্ঞতা দিয়েছে এই মুভিটা।

রবার্ট ওপেনহাইমার তার ডিজাইন করা বোমার ডেমনস্ট্রেশন দেখে গভীর দুঃখ ভরে বলেছিলেন “Now I am become Death, destroyer of worlds.” একগাদা কিলিং মেশিনে ভরা আকাশের নিচে খোলা মাঠে হেটে যাওয়া জিরোর মানবহত্যার জন্য এক ফোঁটা দুঃখও জন্মায় নি; তার শেষতক দুঃখ ছিল তার কোন যুদ্ধবিমান অক্ষত ফেরত আসে নি; এই নিয়ে।
I can’t care for someone like that.

Hentai Prince & the Stoney Cat রিভিউ — Maruf D. Raihan

‘Even while Imprisoned,the Irish author Oscar Wilde,a pervert who I respect, said,’I don’t regret a single moment having lived for pleasure. ‘

এমনি এক উক্তি দ্বারা এক হাইস্কুল ছাত্র ট্রাকফিল্ড ক্লাবে বেশ জোরে সোরে ওয়ার্মআপ করা শুরু করবে।কিন্তু তার উদ্দেশ্য অনুশীলন নয়, অাঁট পোশাকে সুইমিং ক্লাবের মেয়েদের দেখা আর আনন্দ উপভোগ করা।

এতক্ষণ যা বললাম তা ছিল ‘হেনতাই ওউজি তো ওয়ারাওয়ানাই নেকো’ (Hentai Prince & the Stoney Cat’ নামক এনিমের প্রথম এপিসোডের শুরুর দিকের দৃশ্যপট।

এমন আরম্ভ দেখে খুব উল্লসিত হক্যে অনেকে হেনতাই! হেনতাই! বলে লম্ফঝম্প করবেন আবার অনেকে ছি!ছি! আর থু!থু! বলতে থাকবেন আর এ অধম রিভিউদাতাকে অভিশাপ দিতে থাকবেন।কিন্তু জানিয়ে রাখা ভালো আপনারা (উভয় শ্রেণী) যা ভাবছেন তার কোনোটাই পুরোপুরি সঠিক নয়।

Henneko

কি আছে এই এনিমেতে তাহলে?? স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রশ্ন জাগবে। নাম শুনেই উপরোক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা ব্যাপক তাই অস্পষ্টতা টা দূর করা যাক।

এনিমে দেখা, মানগা পড়ার বদৌলতে জাপানিজ ধর্মমত ও ধর্মতত্বের সাথে অনেকেই কমবেশি পরিচিত। এই এনিমের সমস্ত ঘটনাচক্রের উৎস হল এক অদ্ভুত কামি-সামা, যিনি কালো বিড়ালের প্রতিমূর্তির মাঝে অবস্থান করেন। তার ইচ্ছেপূরণ করার ধাচ এমন,যে তাতে গল্পের চরিত্রগুলোর জীবন পুরাই জিলেপির প্যাচে পড়ে যায়।

এনিমে: হেনতাই ওউজি তো ওয়ারাওয়ানাই নেকো

এপিসোড :১২+১( টিভি স্পেশাল)

জেনরা: কমেডি,রোমান্স,হারেম,স্কুল,সুপারন্যাচারাল,ড্রামা

প্রযোজনা: ফ্রন্টোয়ারি ওয়ার্কস,সেন্তাই ইউজি,মিডিয়া ফ্যাক্টরি,জে.সি.স্টাফ

MAL স্কোর: ৭.৫৪

ব্যক্তিগত রেটিং : ৭.৭

প্লট: ৭.৬

চরিত্র: ৮.৭

কমেডি+টুইস্ট: ৮.৫

নভেল ও মানগা রচয়িতা : সৌ সাগারা

এনিমে প্রযোজনা: ইরোহেই সুজুকি

সুপারন্যাচারাল ধাচের স্টোরিলাইন হলেও বেশ কমেডি আছে এনিমেটাতে। ১ম এপিসোড দেখেই তা বোঝা যাবে। প্লট অনুযায়ী সামান্য এডাল্ট কমেডি ও আছে এতে।

চরিত্রই এই এনিমের প্রধান উল্লেখ্য বিষয়। চরিত্র গুলো বেশ অদ্ভুত ও মজাদারও।মূল চরিত্র ইয়োকোদেরা ইয়োতো,বলার অপেক্ষা রাখে না ইনিই পূর্বোল্রিখিত সেই ছাত্র, গল্পের নামের সেই ‘হেনতাই কিং’। তবে সে হেনতাই বা Pervert হলেও ছেলে খারাপ না, যা বললাম তা বুঝতে হলে এনিমেটি দেখুন। আর অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে সুতসুকাকুশি সুকিকো,সুতসুকাকুশি সুকুশি,আজুকি আজুসা। এর মধ্যে সুতসুকাকুশি সুকিকো চরিত্রটি বেশ ইন্টারেস্টিং। বিশেষ করে মুখমণ্ডলে অনূভুতি ফুটে না ওঠার দিকটি বেশ মজাদার।

কমেডি দিয়ে শুরু হলেও কম্পলিকেটেড রোমান্টিসিজম ও ড্রামার দেখা মিলেছে। তবে সবচেয়ে আবেগঘন দিক হল মা ও সন্তানের ভালোবাসারও অসাধারণ উপস্থাপনা আছে এতে, যা এনিমেটি না দেখে থাকলে বিশ্বাস করতেই ইচ্ছা হবে না। আর এ ব্যাপারে বলা ঠিক হবে না,তাহলে স্পয়লার হয়ে দাড়াবে।

অার্টের কথায় আসা যাক। মানগার আকার নেগেটিভ দিকটা মানগাতে চোখে না পড়লেও এনিমে গ্রাফিক্স এ তা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। চরিত্রগুলোর মুখমণ্ডলের আকার অনেকটা কম আয়তন ও গোলাটে ধরনের হয়ে গেছে।

মানগাতে ডিটেইলিং বেশ ভালো হয়েছে। অতি উৎসাহী কেউ মানগা পড়তে চাইলে চলে যান এখানে-……..

http://kissmanga.com/Manga/Hentai-Ouji-to-Warawanai-Neko

ওপেনিং থিম সং টা বেশ ভালো। চিবি ধরনের কন্ঠে গাওয়া ইয়ুকারী তামুরার ‘ফ্যান্টাসটিক ফিউচার’ গানটির লিনক:

https://www.youtube.com/watch?v=HEqIU4eSP7g

এন্ডিং টা বেশ গুবলেটে হয়ে গেছে তাই ওটার কথা বাদ দেওয়াই ভাল।

কোন ওভিএ না থাকলেও খুবই হাস্যকর কমেডি টাইপ একটা টিভি স্পেশাল আছে।

https://www.youtube.com/watch?v=VhqfvL9EQ4s

একটু এন্টারটেইনমেন্ট এর জন্য দেখে ফেলুন হেননেকো,খারাপ লাগবে না এতটুকু বলতে পারি।

Movie Time With Yami – 58

place-promised-in-our-early-days1

Name: Kumo no Mukou, Yakusoku no Basho / The Place Promised in Our Early Days
Duration: 1 hr. 30 min.
MAL Score: 7.98
Ranked: 543
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Military

মুভিটির কাহিনী এমন এক জাপানে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেশটিকে দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছে। হোক্কাইডো পড়েছে ইউনিয়ন এর ভাগে, অপরদিকে হোনশু এবং দক্ষিণ দিকের অন্যান্য এলাকা পড়েছে ইউএস এর ভাগে। হোক্কাইডোতে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল এক রহস্যময় টাওয়ার, যা দক্ষিণাঞ্চলের অনেক দূর পর্যন্তও দৃশ্যমান।

এই সময়ে হোনশু এলাকায় বাস করত তিন হাইস্কুল পড়ুয়া বন্ধু। আর দশটা হাইস্কুল শিক্ষার্থীর মতই তাদের জীবন। টাওয়ারটার ব্যাপারে তাদের কৌতুহলের সীমা নেই। তারা তিনজন প্রমিস করে, একদিন একটা এয়ারক্রাফট বানিয়ে তারা এই টাওয়ারের রহস্য সমাধান করবে।

কিন্তু এর মাঝে অদ্ভুত এক রোগে আক্রান্ত হয় সাওয়াতারি। চিকিৎসার জন্যে টোকিও চলে যেতে হয় তাকে। এই ঘটনার পরে তিন বন্ধু তাদের প্রমিসের কথা প্রায় ভুলতে বসে। তারা কি কখনো জানতে পারবে, টাওয়ারের সাথে সাওয়াতারির রোগের সম্পর্কের কথা?

মুভিটির পরিচালক মাকোতো শিনকাই, এই একটা নামই যথেষ্ট এর আর্টওয়ার্কের সৌন্দর্য বুঝানোর জন্য। ঝলমলে প্রাকৃতিক দৃশ্য, খোলা আকাশ, বিস্তীর্ণ মাঠ- প্রতিটা ক্ষেত্রে মাকোতো শিনকাই এর ছাপ স্পষ্ট। ওএসটি বেশ মানানসই, এন্ডিংটা মনে রাখার মত। স্টোরিটা এই পরিচালকের অন্যান্য কাজের মতই একটু ধীরগতির, তবে মনে ছাপ রেখে যায় সহজে। আর এন্ডিংটা আমার অনেক ভাল লেগেছে।

তাই সময় পেলে দেখে ফেলতে পারেন এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/…/The-Place-Promised-in-Our-Early…

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Detective School Q! [এনিমে রিএকশন] — যারীন তাসনিম হায়দার

আগে একটা মজার কথা একটু শেয়ার করে নিই- এই অ্যানিমেটা যখন দেখি,তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি।এখানে Q নামের ছেলেটা (মেইন ক্যারাক্টার) একটা কথা বলেছিল। “If a detective gives up,the case can never be solved.” কথাটা আমাকে অনেকবেশি নাড়া দেয়।নাড়া দেয় এই হিসেবে না যে আমি একজন ডিটেকটিভ হতে যাচ্ছি,গিভ আপ করা চলবে না; বরং এই হিসেবে নাড়া দেয় যে, কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ফুলফিল করতে হলে গিভ আপ করলে চলবে না।সেই বছরেই একবার গ্রামের বাড়িতে আমি,আমার বড়বোন আর কয়েকটা পিচ্চি ভাইবোন মিলে আম্মা আব্বার নিষেধ অমান্য করে একটা বিরাট পুকুরওয়ালা খাঁদের মত (অত স্পেসিফিকালি মনে করতে পারছি না) একটা জায়গায় সবাই মিলে মজার করার জন্য নেমেছিলাম।একদম শেষ বিকাল।একটু পর সন্ধ্যা হবে।আমরা সবাই পরে উপরে ধরাধরি করে উঠে যেতে পারলে আমার বোন সেখানে কিছু বড় বড় ইটের মত একটা জায়গায় (খাঁদ বলে কিছু ইট ফেলা ছিল) ব্যথা পেয়ে তার মধ্যে আটকে যায় আর কান্নাকাটি শুরু করে।আযান দেয়।দ্রুত ফিরতে হবে।কেউ কিছু করেই ওগুলোকে সরিয়ে বোনকে তুলতে পারছিলাম না।ও ভয়ে বলা শুরু করে,”তোমরা চলে যাও,তোমরা পারবা না,আম্মু আব্বুকে ডাকো,আমি আর উঠতে পারব না” এই সেই।এইসময় আমিও যখন অনেকটা হতাশ,তখন হঠাৎ করে Q এর ডায়ালগটা মনে পড়ল। “If you give up………” হঠাৎ একটা বল পেলাম মনে।সবাইকে বললাম আমরাই পারব।আবার ট্রাই করতে।বোনকে বললাম ভয় না পেতে আর সাহস আনতে (একটু ঝাঁড়ি মেরে বলতে হয়েছিল বড় বোনকে,আমার আবার ঝাঁড়ি মারার অভ্যাস আছে, খুব বাজে অভ্যাস… :v ) এবং অবশেষে সেই খাঁদ থেকে আস্তে আস্তে তাকে তুললাম সবাই। I thanked Allah first obviously and then secondly Q. 😛

যাই হোক,২০০৮ সালে Animax চ্যানেলে এটা ছিল আমার দেখা ফার্স্ট ডিটেকটিভ অ্যানিমে সিরিজ।ডিটেকটিভ বেসড অন্যান্য অ্যানিমেগুলো এটার পরে দেখা শুরু করি।কয়েকটা দিন থেকেই আগের দেখা অ্যানিমেগুলো, অথবা যেই টুনামি দিয়ে অ্যানিমে দেখার যাত্রা শুরু সেইগুলোর কথা,মোদ্দা কথা হল পিচ্চিকালের নিশ্চিন্তে বসে শুধুই আর শুধুই অ্যানিমে টিভির সামনে বসে গিলতে থাকার কথা মনে পড়ছে,যা এখন এই লেভেলে এসে এত পড়াশুনা বা অন্যান্য কাজের প্রেসারের চাপে নিশ্চিন্তে করা হয়ে উঠে না।

এই অ্যানিমে ওয়ার্ল্ড, I repeat, এই অ্যানিমে ওয়ার্ল্ড আমার লাইফে যত অসাধারন কোটেশন শিখিয়েছে,ইন্সপিরেশন দিয়েছে; আমি মাঝে মাঝে মনে হয় হাজারটা বই পড়লেও এত সহজে হয়ত ইন্সপিরেশন পেতাম না।

লাইফের অনেক বড় বড় বাঁধা এইসব কোটেশন দিয়েই পার করেছি।And honestly speaking,I succeeded every time Alhamdulil Allah. 🙂

আগে মানুষকে বললে হাসত। “অ্যানিমে????এইগুলা দেখে কেউ???তুমিও দেখো!!!!ওহ ঐসব ‘কার্টুন ‘……… কী শিখবা দেখে এইগুলা…….” আর এখন,ঐ মানুষগুলাই আমার কাছে অ্যানিমে, যেটা তাদের ভাষায় নিছক ‘কার্টুন ‘, তার সাজেশন চায়।

Detective School Q

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ১৭

ইফ ইউ লাইকড ‘Shiki’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Higurashi no Naku Koro ni’

1

আপনার কাছে ‘Shiki’ ভালো লাগলে ‘Higurashi no Naku Koro ni’ ও ভালো লাগতে পারে

কারণ-

‘Shiki’ ও ‘Higurashi no Naku Koro ni’ এর মধ্যে মিল-

* দুইটা অ্যানিমেই এর কাহিনি ই একটা ছোট শান্ত গ্রামে ঘটে। * একই আবহ আর পরিবেশ।
* সুপারন্যাচারাল মার্ডার মিস্টেরি নিয়ে কাহিনি।
* অনেক গোরি আর ভায়োলেন্ট সিন আছে।
* মেইন মেইল ক্যারেক্টার শহর থেকে গ্রামে ট্রান্সফার হয়ে আসার পর ই কাহিনি শুরু হয়।
* ক্যারেক্টারদের মধ্যে মিল।
* গা ছমছমে আবহ সৃষ্টি করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউসিক।
* এক বিশেষ ধরণের ‘অসুখ/রোগ’ যা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তা কাহিনির অনেকটা মূল বিষয়।
* ‘অসুখ/রোগ’ যা গ্রামের সবাই ‘অভিশাপ’ বলে মনে করে।
* মিস্টেরি, সুপারন্যাচারাল, হরর, থ্রিলার জনরার।

2

‘Shiki’ ও ‘Higurashi no Naku Koro ni’ এর মধ্যে অমিল-

* Shiki তে ভ্যাম্পায়ার আছে যা Higurashi তে নাই।
* Shiki এর ২য় সিসন নাই কিন্তু Higurashi এর ২য় সিসন আছে এবং ২ সিসন মিলেই কাহিনি পূর্ণতা পায়।
* Higurshi তে সাইকোলজিক্যাল অংশ Shiki এর চাইতে বেশি।
* Higurshi তে হালকা স্ল্যাপস্টিক কমেডি আছে যা Shiki তে একেবারেই কম।
* Shiki, Higurashi no Naku Koro ni এর ৪ বছর পরে রিলিস পেয়েছে তাই Shiki এর অ্যানিমেশন Higurashi no Naku Koro ni এর চেয়ে ভালো।

3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14

Movie Time With Yami – 57

maxresdefault (4)

Name: K- Missing Kings
Duration: 1 hr. 15 min.
MAL Score: 8.12
Ranked: 383
Genres: Action, Super Power, Supernatural

শুরুতেই বলে রাখি, এ মুভিটি কে প্রজেক্ট নামের আনিমেটির সিক্যুয়াল, কাজেই কে প্রজেক্ট আনিমেটি না দেখে মুভিটি কোনভাবেই দেখা উচিৎ হবে না।

আনিমের ট্র্যাজেডীর পর ছন্নাছড়া অবস্থা হয় হোমুরা ক্ল্যান এর। ক্ল্যানসম্যানরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আলাদাভাবে জীবন-যাপন করতে থাকে। ইয়াতা শুধু একা তাদের আড্ডায় বসে পুরনো দিনের স্মৃতিগুলোকে মনে করে ভিডিও দেখে দেখে। ওদিকে শিরোর খোঁজে চারদিক থেকে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াতোগামি আর নেকো।

এমন সময় হঠাৎ আন্নাকে কিডন্যাপ করে গ্রীণ ক্ল্যান। তাকে বাঁচাতে ছুটে যায় ইয়াতা, নেকো ও ইয়াতোগামি। কিন্তু তারা সকলেই সম্মুখীন হয় তাদের সমতুল্য শত্রুর।

মুভিটি আনিমেটিতে থেকে যাওয়া অনেক প্রশ্নের জবাব দেয়, সে কারণে আমার এটি অনেক ভাল লেগেছে। হোমুরা ক্ল্যানের বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে উত্তরণ দেখে স্বস্তি পেয়েছি, শেষদিকে আন্নাকে নিয়ে টুইস্টটা অনেক বেশি চমৎকার ছিল, এই অংশটুকু মুভিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তবে মুভিটি বেশ বড় একটা ক্লিফহ্যাঙ্গার দিয়ে শেষ হয়, একারণে শেষ করার পর কিছুক্ষণ হতাশ লাগে; আশা করছি এই হতাশা সিজন ২ দূর করে দেবে।

মুভির আর্ট আনিমেটির মতই সুন্দর, সেইসাথে ওএসটিও ভাল, যদিও আনিমের ট্র্যাকগুলো মিস করেছি আমি। কাহিনীর পেসিং ভাল, আর ফাইট সিনগুলোও ভাল।

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলুন আনিমেটি এবং এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/K-Missing-Kings

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!