Movie Time With Yami – 34

FlandersNoInu

Name: Flanders no Inu / The Dog of Flanders
Duration: 1 hr. 42 min.
MAL Score: 8.17
Ranked: 330
Genres: Adventure, Drama

প্রাচীন জাপানের একটি চার্চের একজন সিষ্টার চার্চের কয়েকটা বাচ্চাকে একটি জাদুঘর দেখাতে নিয়ে আসেন। সেখানে রয়েছে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী রুবেনের আঁকা একটি অত্যন্ত চমৎকার পোর্ট্রেট। বাচ্চারা পোর্ট্রেটটি দেখে সিষ্টারের সাথে শিল্পী রুবেনের ব্যাপারে কথা বলে। তখন তার মনে পড়ে যায় এক শিল্পীর কথা, রুবেনের চিত্রকর্ম দেখে যে অনুপ্রেরণা পেত, স্বপ্ন দেখত ঠিক রুবেনের মত একজন শিল্পী হওয়ার। খুব গরিব এবং অভাবী অবস্থায় থাকার পরেও যে ছবি আঁকা চালিয়ে যেত। মুভিটির গল্প চলতে থাকে সিস্টারের কল্পনা অনুসরণ করে।

মুভিটি বেশ পুরোনো, এটি একই নামের একটি গল্পের বইয়ের কাহিনী অনুসরণ করে তৈরি। এবং মুভিটি তৈরি হওয়ার আগে ঐ একই বই অবলম্বনে যথাক্রমে ৫২ এবং ২৬ পর্বের দুটো অ্যানিমে সিরিজও তৈরি হয়েছিল। তারপরেও পৌনে দুই ঘন্টার এ মুভিটি আমার দেখা অন্যতম সেরা মুভিগুলোর মাঝে একটি। কাহিনীটা সম্পূর্ণ বাস্তবধর্মী, একটুও অবাস্তবতার ছাপ নেই, রূঢ় বাস্তবতাকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এককথায় অসাধারণ, প্রতিটি চরিত্রের সাথে দর্শক খুব সহজেই একাত্ম হয়ে যেতে পারেন। আর্ট স্টাইলটা কাহিনীর সাথে মানানসই, ওএসটি অসাধারণ বললেও কম বলা হবে, প্রতিটা দৃশ্যের আবেগকে খুব সুন্দরভাবে বের করে এনেছে। আর এর এন্ডিং আমার দেখা অন্যতম সেরা এন্ডিংগুলোর মাঝে একটি, মুভি শেষ করার পরেও অনেকক্ষণ বিশ্বাস করতে পারিনি।

তাই, আমার মতে, এই অসাধারণ বাস্তবধর্মী এবং হৃদয়স্পর্শী মুভিটি সবারই দেখা উচিৎ, তাহলে একবারের জন্যে হলেও অন্তত মনে পড়বে আমরা কতটা ভাল অবস্থানে আছি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Flanders-no-Inu-Movie-Sub

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 33

tokyo-godfathers

Name: Tokyo Godfathers
Duration: 1 hr. 32 min.
MAL Score: 8.33
Ranked: 199
Genres: Comedy, Drama

আচ্ছা, “গডফাদার” শব্দটা শুনলে চোখের সামনে ঠিক কোন ছবিটা ভেসে ওঠে? মনে হয়না, যে নিশ্চয়ই কোন মাফিয়া বা আন্ডারওয়ার্ল্ড এর গ্যাং লিডার টাইপের কেউ হবে!! মুভিটার নাম দেখে আমিও তাই মনে করেছিলাম। কিন্তু গডফাদারের তো আরেকটা খুব সুন্দর অর্থ আছে! আর এই মুভিটি সেই অর্থটিই অনুসরণ করে।

ক্রিসমাস ইভে টোকিও শহরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে তিন ভবঘুরে। তাদের একজন গৃহহারা, একজন ক্রস ড্রেসার এবং আরেকজন ঘর পালানো বালিকা। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে এবং আবর্জনার মাঝে ব্যবহারযোগ্য জিনিসের খোঁজ করতে করতে তারা হঠাৎ করে একটি ছোট্ট নবজাত শিশু খুঁজে পায়।

শিশুটিকে পেয়ে তিনজনই সংশয়ে পড়ে যায়। তারা নিজেরাই বাস্তুহারা, থাকার জায়গার কোন ঠিক নেই, সেখানে শিশুটিকে নিয়ে কি করবে তারা? একজন চাইল তাকে পুলিশের কাছে দিয়ে দিতে। কিন্তু আরেকজন পুলিশের নাম শুনলেই রেগেমেগে ওঠে। উপায়ন্তর না দেখে সিদ্ধান্তে পৌছানোর আগে তারা শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে দেয়। শুরু হয় শিশুটিকে নিয়ে এই তিন ভবঘুরের দুর্দান্ত অভিযান।

মুভিটির পরিচালক সাতোশি কন, যিনি সাধারণ একটি প্লটকেও অসাধারণ করে তোলার ক্ষমতা রাখেন। টোকিও গডফাদারও তার ব্যতিক্রম নয়। পুরনো ধাঁচের আর্টওয়ার্কের এই মুভিটির কাহিনী বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়, প্রতিটি দৃশ্যই দর্শকের জন্য কোন না কোন চমক তৈরি করে রেখেছে। একই সাথে মজাও লাগে, আবার কষ্টের অনুভূতিও হয় মুভিটা দেখার সময়। আর মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাহিনীটাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

তাই, সময় করে এখনই দেখে ফেলুন না এই চমৎকার মুভিটি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Tokyo-Godfathers

 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 32

The-Secret-World-of-Arrietty-image-6-e1337491809962

Name: The Secret World of Arrietty / Karigurashi no Arrietty
Duration: 1 hr. 34 min.
MAL Score: 8.16
Ranked: 337
Genre: Fantasy

আমাদের পরিচিত পৃথিবীটাকে অনেক সময়ই হয়ত আমাদের কাছে একঘেয়ে লাগে। কিন্তু যদি এই পৃথিবীটাকেই একটু অন্যভাবে দেখা যায়; ধরুন, আকৃতিতে খুব ছোট্ট কোন মানুষের চোখে, তাহলে কেমন হয়? তখন নিশ্চয়ই অনেক সুক্ষ্ম ব্যাপার চোখে পড়বে, যা সবসময় আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অভিজ্ঞতাটা মন্দ হবে না, তাইনা!

দুরারোগ্য হৃদরোগে আক্রান্ত “শো”কে ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন সম্পূর্ণ বিশ্রাম করতে, সামান্যতম ক্লান্তি আসে এমন কোন কাজই তার করা চলবে না। শো র ব্যস্ত শহুরে পরিবার তাই তার উপযুক্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে তাকে পাঠিয়ে দেয় শহরের বাইরে নিরিবিলিতে অবস্থিত তার দাদীর বাড়িতে।

শো র দাদীর বাড়িটা বাগান দিয়ে ঘেরা, ছিমছাম, সুন্দর। একপাশে একটি সরু নালাও বয়ে যাচ্ছে। প্রথম দর্শনেই শো টের পায় বাড়িটিতে অচেনা কিছুর উপস্থিতি। বাগানের ছোট ছোট গাছগুলোর আড়ালে আকৃতিতে ছোট্ট একটি মেয়ের ছায়া চোখে পড়ে তার। কৌতুহলী হয়ে সে খোঁজ শুরু করে এ ব্যাপারে। এবং আবিষ্কার করে এক চমকপ্রদ ঘটনা।

মুভিটির কাহিনী আবর্তিত হয় প্রধাণত ছোট্ট আকৃতির মানুষের চোখে দেখা পৃথিবীকে ঘিরে, তাই অ্যানিমেশনে ছোট ছোট ডিটেইলের দিকে অনেক নজর দেয়া হয়েছে, চমৎকার গ্রাফিক্স এবং প্রতিটি দৃশ্যের মেকিং এ যত্নের ছাপ মুভিটিকে জিবলীর অন্যান্য মুভি থেকে আলাদা করেছে। কাহিনীটি গতানুগতিক যেকোন মুভির থেকে একেবারেই অন্যরকম, ধীরস্থির কিন্তু ধারাবাহিক, কোথাও ছন্দপতন নেই, দর্শককে সহজেই ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। আর ওএসটি খুবই চমৎকার, এন্ডিং ট্র্যাকটা মনে রাখার মত।

তাই, খুব ব্যস্ততা না থাকলে দেড়ঘন্টা সময় বের করে এখনই দেখে ফেলুন এই মুভিটি, আর ঘুরে আসুন আরিয়েটির লুকোনো পৃথিবীতে!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/The-Secret-World-of-Arrietty

Ending Song Link-
http://youtu.be/scUyXaWMyAk

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 31

okami-kodomo-no-ame-to-yuki_2012-3-3150x1772

Name- Ookami Kodomo no Ame to Yuki / Wolf Children Ame and Yuki
Duration- 1 hour 57 min.
MAL Score- 8.90
Ranked- 13
Genres- Fantasy, Slice of Life

আজ বলে বিশ্ব ভালবাসা দিবস! তাই, এই দিবস উপলক্ষে আজ সাজেস্ট করছি একটি ভালবাসায় পরিপূর্ণ হৃদয়স্পর্শী মুভি!

মানুষের জীবন বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। জন্ম, বাবা মায়ের সাহায্য নিয়ে বেড়ে ওঠা, তারুণ্য, নিজের পায়ে দাড়ানোর উপযোগী হয়ে ওঠা, বিয়ে, নিজের একটি নতুন পরিবার তৈরি করা, সেই পরিবারকে সামলানো, বেড়ে উঠতে সাহায্য- এবং এই চক্র চলতে থাকে। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে আনন্দ নিয়ে, পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য এসবই অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু সত্যিকারের আনন্দ আসলে কোথায় লুকিয়ে থাকে?

১৯ বছর বয়সী হানাও চেয়েছিল এরকম সুখী একটি জীবন। কলেজপড়ুয়া হানার সাথে পরিচয় হয় ওকামির, এরপর তাদের সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়। তারা বিয়ে করে, তাদের দুটি ফুটফুটে সন্তানও হয়। সবই ঠিক ছিল, সমস্যা একটাই। ওকামি যে আসলে একজন নেকড়েমানব! এবং সে কারণে তাদের সন্তানরাও বাবার মত নেকড়ে এবং মানুষের সংমিশ্রণ।

একদিন এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় হঠাৎ প্রাণ হারায় ওকামি। এবং হানার সুখের সংসারে নেমে আসে অনিশ্চয়তার ছায়া। কিভাবে এই অর্ধ-নেকড়ে বাচ্চাদুটোকে নিয়ে এই মানুষের পৃথিবীতে থাকবে হানা? তাদের ঠিকভাবে বড় করে তুলবেই বা কিভাবে?

আমি একটা কথা সবসময় বলি, ভালবাসার অনেক রকম রূপ আছে। কিন্তু তার মাঝে সবচেয়ে সুন্দর রূপটি হল মা এবং সন্তানের সম্পর্ক। নিঃস্বার্থভাবে নিজের কথা সামান্যতম চিন্তা না করে একজন মা তার সন্তানকে ভালবেসে যান। কিন্তু আমরা কি সবসময় মায়ের কষ্টটাকে উপলব্ধি করতে পারি? মাকে তার প্রাপ্য ভালবাসা, সম্মানটুকু দিতে পারি? এই মুভিটি দেখে অল্প সময়ের জন্য হলেও আশা করি দর্শকদের সবারই নিজের মায়ের কষ্টের কথা মনে পড়বে, আর সেইসাথে অন্যরকম সুন্দর একটি ভালবাসার উদাহরণ চোখে পড়বে।

মুভিটির আর্টওয়ার্ক চমৎকার, গল্পের ধারাবাহিকতা অল্প সময়ের মাঝেই দর্শককে ভেতরে টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য। প্রতিটি চরিত্রকে যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে, তাদের কথাবার্তা, ছোটখাট কাজকর্মই কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়। সেইসাথে আছে মানানসই ওএসটি, আবহ তৈরি করে দেয় খুব সহজেই।

তাই, বসে বসে হা হুতাশ না করে দুইঘন্টা সময় নিয়ে এখনই দেখে ফেলুন এই মুভিটি, আর যারা দেখেছেন, তারা আরেকবার রিওয়াচ দিন!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Ookami-Kodomo-no-Ame-to-Yuki

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 30

Ojii-san-no-Lamp-06-800

Name- Ojii-san no Lamp / Grandfathers Lamp
Duration- 24 min.
MAL Score- 7.80
Ranked- 808
Genres- Drama, Historical

সৃষ্টির শুরু থেকেই আমাদের পৃথিবী প্রতি মূহুর্তেই কোন না কোন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভাল হোক বা খারাপ, এই পরিবর্তনের ফলেই পৃথিবীর উন্নতি হয়েছে; আর আমরা পেয়েছি আমাদের আজকের এই পৃথিবী। কিন্তু এইসব পরিবর্তন প্রতিটি মানুষের ওপর আলাদাভাবে কি প্রভাব ফেলে, তা কি আমরা কখনো চিন্তা করে দেখি? সার্বিক উন্নতির জন্য একজন মানুষের জীবনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে এই ছোট মুভিটি।

জাপানের একটি ছোট্ট গ্রাম। এই গ্রামে বাস করেন বৃদ্ধ মিনোসকে এবং তার পরিবার। গ্রামের আর দশটি পরিবারের মতই সুখী এবং শান্তিপূর্ণ পরিবার তাদের।

মিনোসকের নাতি গ্রামের অন্য বাচ্চাদের সাথে লুকোচুরি খেলতে গিয়ে ষ্টোররূমে অনেকদিন ধরে পড়ে থাকা একটি লণ্ঠন খুঁজে পায়। লণ্ঠনটি দেখে মিনোসকের মনে পড়ে যায় তার অতীত জীবনের কথা, যে জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বিশ্বের উন্নয়নের প্রভাব। তিনি তার নাতিকে গল্প শোনাতে থাকেন, কিভাবে এই লণ্ঠন তার জীবনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন এনে দেয়।

মানুষের জীবন আসলে খুব বৈচিত্র্যময়। কখনো উত্থান, কখনো পতন, ছোট ছোট হাসি কান্না, আনন্দ এবং দুঃখের সমষ্টি একজন মানুষের জীবন। যখন তার অতীতের স্মৃতি রোমান্থন করেন, আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেষ্টার গল্প, পরিবর্তনের গল্প, পরিশ্রমের গল্প এবং পরিতৃপ্তির গল্প।

মুভিটি ইয়ং অ্যানিমেটর ট্রেনিং প্রজেক্টের অধীনে নির্মিত, কিন্তু এর আর্টওয়ার্ক, গল্প- সবই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। গল্পটি যে বার্তাটি দর্শকের কাছে পৌছাতে চেয়েছে তা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মাঝেই চরিত্রগুলোর খুব চমৎকার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং এন্ডিংটাও খুবই সুন্দর।

তাই, হাতে ২৪ মিনিট সময় থাকলে এখনই দেখে ফেলুন এই চমৎকার মুভিটি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Ojii-san-no-Lamp

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 29

eve_3

Name- Eve no Jikan / Time of Eve
Duration- 1 hour 46 min.
MAL Score- 8.39
Ranked- 154
Genres- Sci-Fi, Slice of Life

ভবিষ্যতের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত অনেক মুভি এবং অ্যানিমে তৈরি হয়েছে। এবং সেগুলোতে যে ব্যাপারটা প্রায়ই কমন পাওয়া যায়, তা হল রোবট এবং মানুষের সহাবস্থান। এ মুভিটিও রোবট ও মানব প্রজাতির পারস্পারিক সম্পর্কের পরিণতিটাকে খুব সুন্দর এবং হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরেছে।

কাহিনীটি এমন এক সময়ের জাপানকে কেন্দ্র করে, যখন সকল ক্ষেত্রে রোবটের অংশগ্রহন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। গৃহস্থলী কাজে মানুষের মত দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সমাজে। রোবটদের আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্য সরকার থেকে নিয়ম করা হয়েছে যে রোবটদের সবসময় মাথার ওপর সার্কেল ব্যবহার করতে হবে।

রিকুওদের বাড়িতেও এরকম একটি হিউম্যানয়েড মেইড আছে, যার নাম স্যামি। সে হাইস্কুলপড়ুয়া রিকুও এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার তৈরি করা থেকে নিরাপত্তা প্রদান- সবরকম কাজ করে।

একদিন স্যামির হিস্ট্রি লগ চেক করতে করতে রিকুও হঠাৎ আবিষ্কার করে, স্যামির বাইরে কাজ করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সে তুলনায় অনেক বেশি সময় সে বাইরে কাটাচ্ছে। কৌতুহলী রিকুও একদিন তার স্কুলের বন্ধু মাসাকিকে নিয়ে স্যামিকে অনুসরণ করে।

এভাবে স্যামির পেছনে পেছনে গিয়ে দুই বন্ধু এসে হাজির হয় একটি ক্যাফের সামনে, যে ক্যাফের নাম “টাইম অফ ইভ।” এখানকার নিয়ম দেখে তারা হতবাক হয়ে যায়! কারণ, তাদের ক্যাফেতে মানুষ এবং রোবটদের মাঝে পার্থক্য করা নিষিদ্ধ!

টাইম অফ ইভ মুভিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার মাথায় সবসময় যে কথাটা আসে- এই মুভিটি সাইফাই এবং স্লাইস অফ লাইফ, দুটি জনরার জন্যই একটি অমূল্য সম্পদ। একই নামের ক্যাফেতে বিভিন্ন অপরিচিত মানুষ এবং রোবটদের জীবনের কিছু মূহুর্তকে খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে- খুব সহজে যা কাহিনীর ভেতর দর্শককে টেনে নিয়ে যায়। তাদের ছোট ছোট আনন্দের মূহুর্তগুলো দেখতে দেখতে কখন তাদেরকে আপনজনের মত মনে হয়, টেরও পাওয়া যায়না। সেইসাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন, রোবট ও মানুষের অনুভূতি এবং ভালবাসায় মোড়ানো একটি এন্ডিং- সবমিলিয়ে মুভিটি আসলেই একটি রত্ন!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক উজ্জ্বল এবং পরিপাটি, ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই চমৎকার, রোবট ও মানুষ, দুই দলকেই সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং ইমোশনের অংশটিকে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর ওএসটি অসাধারণ, কালাফিনা এবং ইউকি কাজিউরার ছোঁয়া স্পষ্ট।

মুভিটির ৬ পর্বের ওভিএ আছে, প্রতিটি পর্ব ১৫মিনিট করে; যা মুভির আগে বের হয়েছিল, তবে মুভিটিতে ওভিএর পুরো কাহিনী কভার করে কিছু নতুন সিন যোগ করা হয়েছে। সুতরাং, মুভিটি হল গল্পটির কমপ্লিট ভার্সন। তাই ওভিএগুলো না দেখলেও কোন অসুবিধা নেই।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলুন আমার খুব পছন্দের এই মুভিটি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Time-of-Eve

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

সাইকো পাস সিজন ২ আলোচনা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

psy

একটা অ্যানিমে যখন আমাদের ভাল লাগে, তখন আমরা সবাই আশা করি যে ঐ অ্যানিমেটার আরেকটা সিজন আসুক, এবং একই রকম চমক উপহার দিক আমাদের। আর অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রি চলেই আমাদের এই এক্সপেকটেশনের ওপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে সাইকো পাসের সফলতার পরে যখন সিজন ২ আসার খবর পাওয়া যায়, আমরা আগ্রহ নিয়ে দেখব এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে এটা আমাদের আশা পূর্ণ না করে যদি শুধু নাম ভাঙিয়ে খাওয়ার একটা প্রচেষ্টা হয়, তাহলে বিরক্ত লাগাটাও স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন হল, সাইকো পাস সিজন ২ আগের সিজনের সেই চমৎকার এক্সপেরিয়েন্সটা দেয়ার ক্ষমতা রাখে কিনা।

প্রথমে দেখা যাক, কি কি কারণে সিজন ২ অনেকের দেখতে ইচ্ছা না হতে পারে।

# প্রথম সিজনটা ছিল গেন উড়োবুচির সৃষ্টি। কিন্তু পরেরটায় তিনি কোন কাজই করেননি। এটা খুব সহজেই ধরে নেয়া যায় যে অন্য কেউ তার লেখা গল্প তার মত করে এক্সিকিউট করতে পারবে না, কাজেই সবচেয়ে বড় রিস্কটা ওখানেই। তবে শেষমেশ অবস্থা কি হল, তা জানতে হলে তো দেখতেই হবে।

# Studio পাল্টে গেছে। এটা যদিও আমার কাছে তেমন বড় ফ্যাক্ট না, তবে বাজেট, গ্রাফিক্স আরও যা যা একটা অ্যানিমে বানাতে প্রয়োজন, সেটা তো এরই সাথে পাল্টাবে। তবে এইক্ষেত্রে আমার চোখে গ্রাফিক্সে খুব পার্থক্য ধরা পড়েনি, হয়ত এপিসোড সংখ্যা কমিয়ে সেটা ম্যানেজ করা গেছে।

# শিনিয়া কৌগামি। সবচাইতে বড় পার্থক্যটা সে একা গড়ে দিয়েছে। এই সিজনে একমাত্র আকান সুনেমোরির কল্পনাতে ছাড়া কোথাও তার দেখা নেই। একটা প্রধান চরিত্রের অনুপস্থিতিটা অনাগ্রহ জাগিয়ে তোলার জন্যে যথেষ্ট।

# Storyline এ আগের সিজনের সাথে ধরতে গেলে কোন সম্পর্কই নেই। আবার সেই সিবিল সিষ্টেমকে চ্যালেঞ্জ, এটাকে জাজ করার প্লট, আকানে সুনেমোরির ওপর প্রেশার। ক্রাইম সিনে মারামারি কাটাকাটি যা হয় তা এই সিজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ। সম্ভবত গেন উড়োবুচি নিজের সৃষ্ট চরিত্রগুলোকে নিজহাতে খুন করতে চান।

# আগের সিজনের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্রুটাল করার চেষ্টা করেছে। এবং তাতে কিছুটা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

# ক্যারেক্টার ডিজাইন কিছুটা বিরক্তিকর। প্রায় সব ফিমেল ক্যারেক্টার দেখতে একই রকম। আমি শেষ এপিসোড পর্যন্ত তাদের চিনতে ভুল করেছি বারবার।

# শুরুর দিকে কাহিনীটা একটু জট পাকিয়ে গিয়েছিল। পরে যেটা শুধরে নেয়।

# সবশেষে আবার স্টোরিটাকে মোটামুটি ঐ সিজন ১ যেখানে শেষ হয়েছে ঐরকমই একটা পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যদিও এটা কেবল একটা অনুমান মাত্র, ঠিক নাও হতে পারে।

এবার বলি কেন আমার কাছে সাইকো পাস সিজন ২ কে ভাল লেগেছে।

# কৌগামি নেই, মাকিশিমা নেই, তো কে আছে? কিরিতো কামুই। মাকিশিমা যদি ক্রিমিনালি অ্যাসিম্পটোম্যাটিক হয়, তো কামুই আরেক আশ্চর্য বস্তু। কামুই এর কাজকর্ম দেখার জন্য হলেও এটা দেখা উচিৎ।

# স্টোরিলাইন। সিবিল সিস্টেমকে বেশ ভালভাবে সংশয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে কিরিতো। টানটান উত্তেজনাটা ধরে রাখতে পেরেছে।

# আকানে সুনেমোরি। সে যেভাবে ল’ কে প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমত্তার সাথে রক্ষা করে যাচ্ছে, তার প্রমাণ আরও একবার পেতে ভালই লাগবে।

# আমি নিশ্চিত সুনেমোরির কালার নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন আছে। ওর কালার কি আসলেই কখনো পাল্টাবে না? Well, there is a surprize for you regarding that fact!

# নতুন ইনস্পেক্টর এবং এনফোর্সার আছে বেশ কয়েকজন, তারা যদি হঠাৎ করে মুভিতে এসে পড়ে, চিনতে কষ্ট হবে। তারওপর একরকম দেখতে, ঐ ব্যাপারটা তো আছেই।

# সিবিলকে কামুই এর শেষমূহুর্তে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটা। এটা মুভির সাথে সিজন ২ কে জুড়ে দিতে পারে।

# সিবিল নিজেকে কিভাবে পাল্টাবে কামুইকে জাজ করতে। এটা জানাটা বোধহয় সবারই উচিৎ।

# মাত্র ১১টা এপিসোডের মাঝে অনেক কিছুই দেখিয়ে ফেলেছে, যে সময়টা দেখতে ব্যয় হবে, তা মোটেই নষ্ট হবেনা।

সবমিলিয়ে সাইকো পাস সিজন ২ কে আমার কাছে অনেকটা ফিলার সিজনের মত মনে হয়েছে। কিন্তু এঞ্জয়েবল, ভাল স্টোরিলাইনের এবং চমৎকার ওএসটি যুক্ত একটি ফিলার এবং আমি বেশ উপভোগ করে দেখেছি। আবার বলাও যায়না, কোন না কোনভাবে মুভির কাহিনী যদি এর সাথে জুড়ে যায়, তাহলে এটা মাস্ট ওয়াচে পরিণত হবে। কাজেই, আমার মতে, মুভি আসতে আসতে একটু কষ্ট করে এটা দেখে নেয়াটাই উচিৎ।

কুরোশিতসুজি- সার্কাস পর্ব; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10734268_420565528107959_2014149067390686627_n

Genres- Comedy, Demons, Fantasy, Historical, Shounen, Supernatural
Episodes- 10
Score- 8.41
Ranked- 145

 

কুরোশিতসুজি বা ব্ল্যাক বাটলার। অ্যানিমেটির এ পর্যন্ত সর্বমোট তিনটি সিজন বেরিয়েছে; বুক অফ সার্কাস তার মাঝে তৃতীয়টি। এটি মাঙ্গার “Noah’s Ark Circus” আর্কটি অনুসরণ করে বানানো।

কাহিনীর সময়কাল সেই পরিচিত সুপ্রাচীন ভিক্টোরিয়ার আমলের অভিজাত লন্ডনে, যেখানে বাস করে ফ্যান্টমহাইভ কোম্পানির মালিক, অভিজাত এই বংশের কিশোর উত্তরাধিকারী এবং কুইন ভিক্টোরিয়ার গার্ড ডগ- সিয়েল আর্ল ফ্যান্টমহাইভ। তার পরিবার এক দুর্ঘটনায় মারা যায়, এবং নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষা করার জন্য সে ডেমন বাটলার সেবাস্টিয়ান মিখাইলস এর সাথে নিজের আত্মার বিনিময়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

শহরে হঠাৎ করেই এসে হাজির হয় এক সার্কাস দল। অতি অল্পসময়ের মাঝে এই সার্কাস দলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। কিন্তু প্রায় একই সময়ে শহর থেকে একের পর এক ছোট ছেলেমেয়ে হারিয়ে যেতে থাকে। তাহলে কি এই সার্কাস দল এবং বাচ্চাদের হারিয়ে যাওয়ার মাঝে কোন যোগসূত্র আছে? রাণী ভিক্টোরিয়া আদেশ করেন এ ব্যাপারে তদন্ত করতে। রাণীর আদেশে সিয়েল তার ডেমন বাটলারকে নিয়ে ছদ্মবেশে ঐ সাকার্স তদন্ত করতে নামে।

কাহিনীতে বরাবরের মতই টিপটপ বাটলার সেবাষ্টিয়ানের নিখুঁত কাজের চমক এবং আনুগত্যের দেখা পাওয়া যায়, সেইসাথে পাওয়া যায় অদ্ভুতুড়ে ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টদের উল্টোপাল্টা কাজ। আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন সবই প্রায় আগের মতই, তবে কিছুটা উন্নত। এই সিজনের অন্যতম আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ছদ্মবেশী সিয়েল, সার্কাসের ভেতরে সেবাষ্টিয়ান ও সিয়েলের অভিযান, গ্রীম রিপাররা এবং অবশ্যই- ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টরা! শেষের দিকে কাহিনীটা একটু ডার্ক থিমের দিকে মোড় নেয়, যার কারণে এন্ডিংটা বেশ ভাল হয়েছে এবং পুরো অ্যানিমেটাই যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়েছে। মাত্র ১০ পর্বের অতি অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দরভাবে কাহিনীটা এক্সিকিউট করা হয়েছে। সেইসাথে রয়েছে মানানসই ওএসটি এবং ভয়েস অ্যাক্টরদের চমৎকার কাজ।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা বেশ উপভোগ্য হয়েছে। কুরোশিতসুজি প্রথম সিজনটির প্রথম ১৫ টি এপিসোড মাঙ্গা অনুসরণ করে; এরপর “কারি কনটেষ্ট আর্ক” এর পর থেকে বাকিটা এবং পুরো সিজন ২ মাঙ্গা অনুসরণ করে না। বুক অফ সাকার্সের কাহিনী মাঙ্গার কারি কনটেষ্ট আর্কের ঠিক পরের আর্ক থেকে শুরু, কাজেই ধরে নেয়া যায় যে এটি এপিসোড ১৫র পরের কন্টিনিউয়েশন।

তাই আমি বলব, যাদের কুরোশিতসুজির আগের সিজনগুলো ভাল লাগেনি, তারাও এই ছোট আর্কটা দেখে ফেলতে পারেন, ভালই লাগবে আশা করি!

Hyouka / Koten-bu Series রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

অ্যাডভেঞ্চার অথবা মিস্ট্রি জনরা চোখে পড়লে সাধারণত আমাদের মনে একধরণের ধারণা আসে, এই নভেলটির কাহিনী সেই ধারণার সাথে একেবারেই খাপ খায়না। কিন্তু তারপরেও, এই নভেলটি একটি নয়, বরং অনেকগুলো চমৎকার রহস্যের কাহিনী উপহার দিয়েছে পাঠকদেরকে।

প্রথমে কিছু তথ্য উপাত্ত দেয়া যাক-
Genres: Adventure, Mystery, School
Authors: Yonezawa, Honobu
Status: Publishing
Published: Oct 31, 2001
Score: 8.44
Ranked: 205 (MyAnimeList)

সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, হাইস্কুল জীবন হল একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুবান্ধব অথবা নতুন কোন অভিজ্ঞতা অর্জন- সবকিছু মিলিয়ে এই জীবনটার জন্য প্রচলিত কথাটি হল “Rose-coloured life”. এবং, ধরে নেয়া হয় যে, এই গোলাপ রঙা জীবনই যেকোন মানুষের সবচেয়ে আরাধ্য বস্তু।

কিন্তু কারও যদি এই রোজ কালারড লাইফ ভাল না লাগে? কারও যদি এই সবকিছুকে শুধু শক্তির অপচয় বলে মনে হয়, তাহলে তার জীবনকে কি বলা যায়? “Grey coloured”?

ওরেকি হোতারু নিজেকে তেমনই মনে করে। সে এই রোজ কালারড লাইফের প্রতি কোন আকর্ষণ অনুভব করেনা। এমন নয় যে সে যারা এভাবে জীবনযাপন করে তাদের অপছন্দ করে। তবে সে নিজে এসব থেকে দূরে থেকে নিজের শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে চায়, কারণ, নিজের সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হল, সে একজন “Energy Saver”.

Hyouka-hyouka-33509469-1024-768

হোতারুর জীবনের motto হল, “If I don’t have to do it, I won’t do it, If I have to do it, make it quick”. যদিও এই ব্যাপারটা নিয়ে তার একমাত্র কাছের বন্ধু সাতোশি ঠাট্টা করার সুযোগ পেলে কখনো ছাড়েনা। সাতোশি নিজে হল ডেটাবেইস। পৃথিবীর যতধরণের তথ্য, সবই সাতোশির ঝুলিতে সযত্নে সংরক্ষিত থাকে। আর যেকোন কিছুতে বিশ্বাসযোগ্য ঠাট্টা করতে তার জুড়ি নেই। হোতারুর সম্পর্কে তার ধারণা, হোতারু নিজের ক্ষমতাকে ঠিকমত ব্যবহার করে না। করলে সে অনেক কিছু খুব সহজেই অর্জন করতে পারত।

এই নির্বিবাদ, শক্তি সঞ্চয়কারী হোতারুর জীবন পাল্টে দিল, বেনারস থেকে আসা একটি চিঠি।

হোতারুর বড়বোন তোমোয়ে হোতারুকে চিঠি পাঠায় একটি অদ্ভুত অনুরোধ (অথবা আদেশ) করে। হোতারুর বড়বোন হাইস্কুলের যে ক্লাবের সদস্য ছিল, সেই ক্লাবটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। হোতারুর মত এনার্জি সেভারের জন্য এটা খুবই অপ্রয়োজনীয় একটি অনুরোধ, তাও বড়বোনের কথায় রাজি হয়ে হোতারু পা বাড়ায় ক্লাসিকস ক্লাবকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু ক্লাবরুমে পা দেয়ার সাথে সাথে হোতারুর জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। কে জানত, স্পেশাল ব্লকের চারতলার শেষমাথার ঐ গোধূলীর স্নিগ্ধ আলোয় স্নান করা আলোকিত ঘরের কোনায় দাড়িয়ে থাকা এলিগেন্ট দেখতে বড় বড় কৌতুহলী চোখের শান্তশিষ্ট মেয়েটি এভাবে ঝড় তুলে দেবে ওরেকি হোতারুর জীবনে! কে জানত, এনার্জী কনসার্ভিং হোতারু একের পর এক কাজ করে যাবে চিতান্দা এরুর ইচ্ছায়, যা তার স্বভাবের পুরো বিপরীত! কি এমন আছে সেই মিষ্টি স্বরের “কিনিনারিমাস” এ?!

আমার মতে, নভেলটির একইসাথে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দুর্বল দিক হল এর ট্যাগ। আমি নিজে যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, আমার এক্সপেকটেশন ছিল মিস্ট্রি জনরার অন্যান্য কাহিনীর মতই মাথা ঘুরিয়ে দেয়া এবং প্লট টুইস্ট যুক্ত কোন কাহিনী হবে এবং পড়তে গেলে প্রতিটা লাইন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে ক্লু বোঝার জন্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা আসলে একেবারে উল্টো। একদম চিন্তাভাবনা ছাড়া হালকা মেজাজে যেকোন অবস্থায় পড়ার উপযোগী একটি নভেল এটি। প্রতিটা ক্যারেক্টারের নিজস্ব চার্ম আছে এবং আলাদাভাবে মনে ছাপ ফেলে দেবে। তাদের কথাবার্তা, কাজকর্ম নিজের অজান্তেই মনে একটা প্রশান্তির ভাব এনে দেবে। কিন্তু একইসাথে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হওয়া সমস্যাগুলো যখন খুব সহজে সমাধান হতে দেখা যায়, চমৎকৃত না হয়ে পারা যায়না।

এর একটা দুর্বল দিক হল, ট্যাগ দেখে এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়তে শুরু করার পরে প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার একটু ধীরগতির এবং বোরিং মনে হতে পারে, যদি আপনি ধীরগতির কাহিনীতে অভ্যস্ত না হন। কিন্তু যত কাহিনী যত এগিয়ে যাবে, পাঠককে এর ভেতরে তত বেশি টেনে নেবে, তা নিশ্চিত।
নভেলটির এ পর্যন্ত তিনটি ভলিউম ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে, তবে আশার কথা হল, এর অনুবাদ এখনো চলছে, তাই আশা করছি এটা সম্পূর্ণ অনূদিত হবে কোন একদিন।আরেকটা কথা না বললেই নয়, এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন প্রায় নিখুঁত। স্টোরিতে দুএকটা ছোটখাট পার্থক্য আছে, তবে দুটো থেকেই একইরকম আবহ পাওয়া যায়।

কাজেই, আমার মতে, সকলের জন্য, বিশেষ করে যারা কখনো লাইট নভেল পড়েননি, তাদের শুরু করার জন্য এ নভেলটি আদর্শ। যদি পড়ে না থাকেন তাহলে আজই পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

বি. দ্র. – “হিওকা” এই নামটিই একটি বড় রহস্য।

Movie Time With Yami – 28

1407136376_f5-600x335

Name- Only Yesterday / Omohide Poroporo
Duration- 2 hours
MAL Score: 7.65
Ranked: 1093
Genres: Drama, Romance, Slice of Life

স্টুডিও জিবলীর নাম শুনলেই সাধারণত আমাদের চোখে যে ছবিটা ভেসে ওঠে, এ মুভিটি তার থেকে একেবারেই আলাদা। শহুরে ব্যস্ত জীবন, গ্রামীণ সবুজ পরিবেশ এবং একজন মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটে যাওয়া কিছু সুখদুঃখের স্মৃতি নিয়ে তৈরি হওয়া একটি চমৎকার এবং বাস্তবধর্মী মুভি এটি।

তায়েকো ওকাজিমা একজন শহুরে মহিলা। একটি অফিসে চাকরি করেন তিনি। অফিসের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নেয়ার জন্য তিনি ছুটি নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। যাত্রাপথের সময়টুকুতে তিনি তার শৈশবের স্মৃতি রোমান্থন করতে থাকেন। স্কুলে পড়ার সময়কার বিভিন্ন ঘটনা, বন্ধুবান্ধব, বাড়িতে পরিবারের সুখদুঃখ, পাওয়া না পাওয়ার অভিমান, আবার একসাথে বসে ডিনার খাওয়ার আনন্দ- এসব মনে করে আনমনা হয়ে পড়েন।

গ্রামে পৌছে তিনি তার আত্নীয়দের বাড়িতে আতিথ্য গ্রহন করেন। এবং তাদেরকে খামারের এবং মাঠের কাজে সাহায্য করেন। তার ছোটবেলার পুরনো বন্ধুর সাথেও দেখা হয়। এসব অভিজ্ঞতা তাকে নতুন করে জীবনের অর্থ বুঝতে সাহায্য করে।

মুভিটির আর্টওয়ার্ক জিবলীর অন্যান্য মুভির মতই পরিচ্ছন্ন, গ্রামের পরিবেশটা খুব সুন্দরভাবে দেখান হয়েছে। আর এর ওএসটি খুবই মনকাড়া, বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। আর মুভিটি দর্শককে জীবনের ব্যাপারে একটি অন্যরকম ধারণা প্রদান করবে।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলুন এই চমৎকার মুভিটি!

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/Only-Yesterday

 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!