আমি নারুতো প্রথম দেখেছিলাম Cartoon Network এ। সেখানে কাকাশির যে জিনিসটা প্রথম আমাকে curious বানায় সেটা হল ওর চুল আর মুখোশ। আমি খালি ভাবতাম—-“এই লোক মুখোশ পরে কেন?!” প্রথম প্রথম ওর আসল চেহারা দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। এখন আর সেটা নেই। থাকুক একটু রহস্য।
আমার সবসময় একটু carefree, laid back কিন্তু intelligent type এর চরিত্র পছন্দ হয়। সাথে একটু funny আর mysterious type. Kakashi ও ঠিক তাই। ওর যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভাল লাগে তা হল অন্যের perspective থেকে চিন্তা করতে পারার ক্ষমতা, দূরদর্শীতা, আর অন্যকে বুঝতে পারার capability. Sasuke এর ভিতরে ক্রমশ বাড়তে থাকা ক্রোধ ও ঠিকই আঁচ করতে পেরেছিল এবং অনেকে অনেক কথা বল্লেও আমি মনে করি ও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল Sasuke কে বিপথে যেতে না দিতে।
“Don’t worry. I won’t let my comrades die.” হাসি দিয়ে এই কথা বলেই কাকাশি আমার মন জয় করে নিয়েছিল। কারণ নিজের কাছের মানুষদের জন্য যে কোন extent পর্যন্ত যেতে পারা আমার মতে অনেক বড় একটা ব্যাপার। আরেকটা যে জিনিস মজা লাগে তা হল ওর funny দিক। ক্ষেত্রবিশেষে খুবই serious হলেও সে মজা করতে জানে। অনেক রকম বাজে জিনিস সহ্য করেও হাসতে ভুলে যায়নি। Chouji কে পালিয়ে যেতে দেয়ার জন্য নিশ্চিত মৃত্যুও মেনে নিয়েছিল। সেই সাথে নারুতোর বড় এক সহায় হয়ে ও ছিল এবং আছে ।
“As long as you don’t give up, you can still be saved.”— এই quote টা আমাকে সত্যিই inspire করে।
কাকাশি কে নিয়ে লিখতে গেলে আমি মনে হয় পুরো বই লিখে ফেলতে পারব। সুতরাং, দ্রুত ইতি টানাটাই ভাল হবে।
আমার দেখা সবচেয়ে cool character দের একজন কাকাশি। He is unique in his own way and he is the only character who looks cool even while reading porns in front of his students or while playing rock-paper-scissors with Guy
[যদিও বলা হয়েছে বাংলায় পুরোটা লিখতে, আমি একটু ইংরেজী নিয়ে আসলাম দেখে দুঃখিত।]
নারা শিকামারু – ব্রিলিয়ান্ট বাই বার্থ, লেজি বাই চয়েস। – by Fahim Bin Selim
ফেভারিট অ্যানিমে ক্যারেক্টার বলতে গেলে অনেক আছে – কাকাশি, লাইট, হৌতারো, কিওন – আমি নিজে বুদ্ধিমান না বলেই হয়ত এদের প্রতি আকর্ষন বেশি। কাকে রাইখা কারে বলি?
প্রথম নারুতো দেখসিলাম মোটামুটি ছোট থাকতে, ৫-৬ বছর আগে, কার্টুন নেটওয়ার্কে ফার্স্ট সিজনের শেষের ১০-১৫ টা পর্ব। চুনিন এক্সাম, গারা ভি লী এর লেজেন্ডারি সীস’ ম্যাচটা দেইখাই ফ্যান হয়ে গেলাম। এরপর অপেক্ষা; ২০১০-এর দিকে ভালোভাবে অ্যানিমে দেখা শুরু করলাম, আর প্রথম শৌনেন নারুতো। মোটামুটি সবার মত নারুতোই প্রথম দিকে ফেভারিট ছিল। আবার চুনিন এক্সাম, থার্ড রাউন্ড প্রিলিমিনারী, তখন পর্যন্ত প্রায় অগুরুত্বপুর্ণ ক্যারেক্টার শিকামারু, কিন সুচিকে যেভাবে হারালো; আমি তো মুগ্ধ – wait, this guy – some genius, he is. তখনই ভালো লাগা শুরু। তারপর আবার সেমিফাইনালে তেমারির সাথে জয় এবং একমাত্র চুনিন নিবার্চিত। এবার পুরাপুরি ভাবে ফ্যান হয়ে গেলাম।
অলস, প্রতিভাবান, লেভেলহেডেড, পরিপক্ব, আবেগকে আটকে রাখা – এই শিকামারু। কিন্তু শীপুডেন-এর ৮০~ পর্বে এসে শিকামারুর সেই নাজানা দিকটাও দেখা হল। আসুমা মারা যাওয়ার সময়ের সেই তীব্র আবেগময় মুহুর্ত, অতঃপর হিদানকে মারার(আটকানোর) মুহুর্তগুলি।
ফেভারিট অ্যানিমে ক্যারেক্টার বলতে গেলে অনেক আছে – কিন্তু শিকামারু অন্য লেভেলের প্রিয়।
নিনজা ওয়ারের প্রক্সি কমান্ডার, আর্গুয়েবলি কোনোহার সবচেয়ে বিচক্ষন শিনোবি, হোকাগে হওয়ার যোগ্য – কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ত নারুতোই হোকাগে হবে। ভাল। শিকামারুদের আলোতে আসতে হয়না, কোনোহার “শ্যাডো নাইট” আড়াল থেকেই তার “কিং”-দের বাচিয়ে যাক, তাই ভাল।
নারা শিকামারু – ব্রিলিয়ান্ট বাই বার্থ, লেজি বাই চয়েস।
BTOOOM! – [সেমি রিভিউ] লেখক তাহসিন ফারুক অনিন্দ্য
এই আনিমেটা নিয়ে এত বেশি রিভিউ বা এত মিশ্র প্রতিক্রিয়া কেন, দেখার পর বুঝলাম।
আর সাথে এইটাও বুঝলাম যে আরেকটা “রিভিউ” লিখলে সবাই ধৈর্য নিয়ে পড়বেও না, পাত্তাও দিবে না। তারচেয়ে কয়েকটা পয়েন্ট অভ ভিউ থেকে হাল্কা পাতলা আলোচনা টাইপ এই সেমি রিভিউ 🙂
# SAO বা Mirai Nikki এর কম্বিনেশন টাইপ একটা আনিমে মনে হবে, Massively Multiplayer Online gaming এর Online বাদ দিন, আরে Mirai Nikki এর survivor is the winner – ব্যাস, পেয়ে গেলেন BTOOOM! এর আইডিয়া! নিজের জীবন বাজি রেখে এই ভার্চুয়াল নয়, বাস্তব গেমে নিজেকেই অংশগ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থেকে জিততে হবে।
# The +’s
– টান টান উত্তেজনা
– সার্ভাইনিং এর একশন
– এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন, এক কথায় অসাধারণ!!!
– হালকা পাতলা ফ্যান-সার্ভস (:P )
# The -‘s
– নায়ক-নায়িকাকে বাঁচিয়ে দেওয়ার ধরণ + কিছু হাস্যকর লজিক
– হালকা পাতলা ফ্যান-সার্ভিসগুলি কাহিনিতে আনার ধরণ 🙁
# The “Should have these”s
– আরও বেশি এপিসোড
– আরও বেশি একশন
– শুনতে খারাপ শুনালেও, আরও বেশি ভায়োলেন্স [প্লটটি ভয়ংকর সব ভায়োলেন্সের জন্য আদর্শ]
– অবশ্যই একটা Season 2!!! 😀
আমার মতামত:
FMA/FMAB, Death Note, Code Geass এগুলির মতন এক্যুরেট [কিছুক্ষেত্রে প্রায় এক্যুরেট] কাহিনি/লজিকের আনিমে দেখার পর সব আনিমেকে এদের সাথে তুলনা দিতে যাওয়া ঠিক না, একদমই না। সবার আগে একটা আনিমের মূল লক্ষ দর্শকদের বিনোদন দেওয়া, সেটা করতে গিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই আনিমে সফল 😀
অবশেষে আমার রেটিং: 7.5/10
[কয়েকজনের একটা বিষয় নিয়ে বিরক্তি দেখে লিখতে গেলাম:
[[Contains Spoilers]]
# বোম্ব বাস্ট হল, মানুষ মারা গেল, অথচ সাথে থাকা বোম্বের বক্স আর তার ভিতর থাকা বোম্ব অক্ষত, এমনকি খাবারের স্যুটকেজটাও অক্ষত
~ যারা এই গেমের অর্গানাইজ করেছে, তারা অবশ্যই এইটা মাথায় রেখেছে যেন তাদের কন্টেস্ট্যান্টদের জিনিসপত্র অক্ষত থাকে, কারণ গেমের নিয়ম যে মারা গিয়েছে তার বোম্ব + জিনিসপত্র বিজয়ী দখল করবে। এখন সেই জিনিসপত্র কিভাবে BIM-proof করেছে, সেই science দেখতে চাইতে গেলে আরেকটা আনিমে করা উচিৎ, এই ১২ এপিসোডের ছোট্ট আনিমেতে এত কিছু দেখানো যাবে না এইটা বুঝাই যায় 😀 ]
Full Metal Alchemist & Full Metal Alchemist Brotherhood by Monirul Islam Munna
এই বুড়া বয়সে এসে, এতো দিনে Full Metal Alchemist & Full Metal Alchemist Brotherhood দেখলাম, বড়ই লজ্জার ব্যাপার
এই ২টা এনিম নিয়ে এতো মাতামাতি কেন, তার ১০০% উত্তর পেলাম। নিঃসন্দেহে সেরা এনিমগুলার মধ্যে অন্যতম এই ২টা। Action, Drama, Comedy এর কোনটার
কমতি ছিল না এই ২টা এনিমে! সাথে suspense আর twist মিলে তো ১৫০% জটিল!
Edward(the short tempered short guy :p) , Winry (the beauty) , Al, Roy( FMAB তে এর পাওয়ার যা দেখাইসে!!! ), Riza(Roy’s soul mate ), Major Armstrong (the muscular beauty!!:v), General armstrong ( *_* )
Izumi ( only a house wife, passing by )অসাধারণ character একটার চেয়ে অন্যটা।
One of the best part of FMAB: ‘যখন Edward, Winry কে প্রোপোজ করে, প্রোপোজ করার কি স্টাইল!!!!
2টা এনিমের মধ্যে FMAB better কোন সন্দেহ নাই।সাথে FMAB এর ending বেশ দুঃখের কিন্তু সত্যি বলতে FMA এর ending দেখে আমার বেশী খারাপ লাগসে
Feeling Great *_* এখন আর কোন এনিম ভালো লাগবে কিনা বুঝতেসি না
True Tears by Kazi Rafi
“The you inside me is always crying. I wanted to wipe away your tears. But I never got to know the feeling of wiping the tears away from your soft cheeks.”
এভাবেই শুরু হয় True tears নামের রোমান্স, ড্রামা, স্কুল জেনার এর এনিমেটা। কাহিনী মূলত গড়ে উঠেছে Nakagami Shinchiro নামের এক (ইডিয়ট) ছেলে, Isurugi Noe (<3), Yusa Hiromi নামের দুটি মেয়ে আর Raigomaru আর Jibeta নামের দুইটা মুরগী কে নিয়ে !!!! কি চমকে গেলেন নিশ্চয়ই ??? চিন্তা করতেছেন যে চোখে ভুল দেখলেন কিনা ? ভাবতেছেন যে দুইটা মেয়ে আর একটা ছেলে কে নিয়ে একটা রোমান্স এনিমের মধ্যে দুইটা মুরগী আসে কোত্থেকে ??? আসে রে ভাই আসে, কিভাবে আসে সেইটা এই এনিমেটা দেখলেই বুঝবেন।
এনিমেটার কাহিনী নিয়ে বেশি কিছু বলব নাহ কারন সেটা বললে এনিমেটা দেখা শুরু করার মজা কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে যাবে। খুবই সংক্ষেপে কাহিনী মোটামুটি হচ্ছে এই- Yusa Hiromi নামের এক মেয়ের বাবা মা রোড এক্সিডেন্টে মারা যাবার পর তাকে তাঁর বাবার এক বন্ধুর বাসায় নেওয়া হয় থাকার জন্য। সেই বন্ধুর ছেলে, Nakagami Shinchiro, পছন্দ করে Hiromi কে, কিন্তু জানে না এই ভালো লাগা আওদো পারস্পারিক কিনা, নাকি শুধুই একপেশে ! এটা মনে করার কারন, তাদের বাসায় আসার পরে হটাৎ ই কোন এক কারনে Yusa কেমন যেন বদলে যায়, হয়ে যায় কেমন যেন নির্জীব, সবসময় থাকে মনমরা হয়ে; যার কারনে Shinchiro কখনোই বুঝতে পারেনা Yusar মনের গভীরে আসলে কি চলতেছে। এমনি সময়, স্কুলে একদিন দেখা মেলে খুবই, খুবই অদ্ভুত চরিত্রের একটি মেয়ে, Isururgi Noe এর সাথে এবং সেইসাথে আবির্ভাব হয় Raigomaru আর Jibeta নামের দুই মুরগীর !!!!!! কি হয় এরপর তা জানতে আপনাকে এনিমেটা দেখা শুরু করতে হবে।

কাহিনী সংক্ষেপ শেষে এইবার আসি গল্পের চরিত্রদের প্রসঙ্গে। এই এনিমের প্রতিটি চরিত্রের রয়েছে খুবই ভিন্ন ভিন্ন আলাদা কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, রয়েছে তাদের নিজেদের এবং অন্যদের জীবনের উপর, দুটি মানুষের মধ্যের সম্পর্কের উপর, সেই সম্পর্ক তাদের নিজেদের এবং সেইসাথে অন্যদের কাছে কি ধরনের গহির্ত অর্থ বহন করে তাঁর উপর তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, যা আপনার প্রত্যেক সময়, প্রত্যেক চরিত্রের উপস্থিতির সময় আলাদা ভাবে দৃষ্টি কাড়বে, যা একেকজনের থেকে একেকজনকে প্রিথক ভাবে আপনাকে চরিত্রগুলকে খুব ভালভাবে চিনতে, বুঝতে সাহায্য করবে, সবমিলিয়ে যা এদেরেক দিয়েছে একধরনের জীবন্ত রুপ, যেন এটা আপনারই আশেপাশের পরিচিত কিছু মানুষের গল্প ! এতকিছুর পরে আপনার হয়তো কোন চরিত্র কে ভালো না লাগতেও পারে তাদের কিছু কিছু ক্রিয়াকলাপের কারনে আবার হয়তো আপনি এক বা একাধিক কোন চরিত্রর প্রেমেও পরে যেতে পারেন, যেটা আসলে নির্ভর করে একজনের, একেক চরিত্রের প্রতি তাঁর নিজের দৃষ্টিভঙ্গির উপর। আমার কথা জিজ্ঞেস করলে আমি বলব এই এনিমের আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র হচ্ছে Isurugi Noe, যার ব্যক্তিত্ব, মন মানসিকতা, উদ্দেশ্য, জীবনের প্রতি তাঁর বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গি আমার মন কেঁড়ে নিয়েছে, নাড়া দিয়েছে মেয়েটির দুঃখ, কষ্ট আর বেদনার প্রতিটা মুহূর্ত, চোখে এনে দিয়েছে পানি, আবার সেইসাথে মনটা খুশিতে উঠেছে নেচে যখন দেখেছি মেয়েটিকে সবকিছু ভুলে হেসে উঠেছে মনকাড়া, প্রান প্রাচুর্যে ভরা এক হাশিতে !!! এবং আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, Isurugi Noeর চরিত্রটির নতুনত্ব, তাঁর দুঃখ কষ্ট বেদনা, অভিজ্ঞতাগুলো আপনার মনকেও দিয়ে যাবে এক প্রবল আবেগের নাড়া যা আপনার মনে থাকবে অনেকদিন ।। এ তো বললাম আমার প্রিয় চরিত্রের কথা। এইবার আসি বাকি দুজন মেইন চরিত্রের ব্যাপারে। Nakagami Shinchiro আর Yusa Hiromi এদেরকে আমার চরিত্র হিসেবে খুবই দুর্বল লেগেছে। এরা দোনোজনেই এক ধরনের বিচিত্র মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় ভোগে যার মধ্যে Hiromir ব্যাপারটায় অউদো কিছুটা হলেও রিলেট করা গেলেও Shichiror কাহিনীটা আমার মোটেও বোধগম্য হইনি। এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে হলে এনিমেটা দেখতে হবে।
যাইহোক। এতক্ষন যাদের কথা বললাম এরা হচ্ছে গল্পের আসল চরিত্র দের কথা। এরা ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু পার্শ্ব চরিত্র যাদের তেমন খুব একটা ভুমিকা নেই গল্পে। কিন্তু এদের মধ্যেও এমন একজনের কথা না বললেই নয় যে সম্পূর্ণ তাঁর নিজে গুনে জয় করে নিবে আপনার মন, সে হচ্ছে shinchiro’র বেস্ট ফ্রেন্ড Nobuse Miyokichi। প্রথম দিকে হয়তো মনে হবে এরা আছেই শুধু মেইন চরিত্র গুলোকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য, কিন্তু এরি মাঝেও Nobuse আস্তে আস্তে ভালো লাগার একজন হয়ে উঠবে অন্যসব চরিত্রের পাশাপাশি, Shinchiroর প্রতি তাঁর বন্ধুত্তের নিদর্শন দেখে যা আপনাকে করে তুলবে বিস্মিত !!!!!
গল্পের কাহিনী এবং তাঁর চরিত্রের বর্ণনা শেষে এবার আসি এনিমের এনিমেশন আর সাউন্ড প্রসঙ্গে। True Tears ছিল এই এনিমের অন্যতম প্রডিউসার P.A. Works এর প্রথম প্রজেক্ট এবং সেই কথা মাথায় রেখে বলতেই হয় যে তারা বিরাট রকমের বিশাল এক প্রশংশার দাবীদার, এর কারন হচ্ছে এই এনিমের অপূর্ব সুন্দর এনিমেশন এবং সেইশঙ্গে অসাধারন শ্রুতিমধুর সাউন্ড এফেক্ট, যা একসঙ্গে মিলে, একেকটা বিশেষ বিশেষ মুহূর্ত আপনার ভাবাবেগের উপর যে প্রভাব ফেলবে তা বাড়িয়ে তুলবে ১০০ গুন।
পরিশেষে যেটা নিয়ে কথা বলতে চাই তা হচ্ছে, এনিমেটার এন্ডিং। এই এনিমের একমাত্র অংশ যেটা আমার মোটেও ভালো লাগেনাই; একদমই নাহ ! কিন্তু তাই বলে আপনাদের দুশ্চিন্তায় পড়ার কোনই কারন নাই, কারন আমার কাছে যেটা খারাপ লাগছে আপনাদের সেইটা খারাপ নাও লাগতে পারে, তো খামাকা আমার কথা শুনে এতো টেনশনে পড়ার দরকার নাই। এন্ডিং খারাপ হইছে নাকি ভালো হইছে সেইটা আপনারা দেখেই নাহয় বিচার করবেন, শুধু এইটাই বলব যে সবার সবকিছুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই এক থাকে নাহ, আমার কাছে যে জিনিসটা সুন্দর লাগবে সেইটা অন্যজনের কাছে নাও লাগতে পারে,সবটাই নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের দৃষ্টিভঙ্গির উপর !!!!!!!!
এন এনিমে বের হইছে ২০০৬ সালে, মোট ১৩টা পর্ব এবং সেই সাথে একটি ৩ মিনিটের এপিলোগ যেটা আপনার দেখতে হলে ইউটিউব এ গিয়ে সার্চ দিতে হবে ‘True Tears Epilogue’ নামে; অথবা নিচের যে ডাউনলোড লিঙ্কটি দেয়া আছে তাঁর শেষ পর্বের একদম শেষে দেখেবন এপিলোগটি জোড়া লাগান আছে।
লোল !!! এখন নিশ্চয় আপনি চিন্তা করতেছেন যে ব্যাপারটা কি হইল, সবকিছু নিয়ে অনেক কথা বলা হইলেও মুরগী দুইটার ব্যাপারে কোন কিছু বলা হইল নাহ কেন ! বলি নাই, এর কারন, Raigomaru আর Jibeta এই কাহিনীর খুবই বিশাল এবং খুবই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুইটা চরিত্র যাদের ব্যাপারে আমি কিছু বলে কাহিনীর সবচেয়ে অসাধারন অংশগুলির মজা নষ্ট করতে চাচ্ছি নাহ !!!!!!!!!!!!
( রিভিউ তে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে তাঁর জন্য দুঃখিত ! দয়া করে সেটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ! এবং এতো বড় একটা রিভিউ পড়ার জন্য আগাম ধন্যবাদ !!!! )
এনিম: ফুল মেটাল আলকেমিস্ট: না দেখলে পস্তাইতে পারেন by ইশতিয়াক মাহমুদ
অনেক দিন আগে এক বন্ধুর চাপাচাপিতে পড়ে এনিম সিরিজ ফুলমেটাল আলকেমিস্ট দিয়ে আমার এনিম এর দুনিয়াতে অনিয়মিত যাত্রা শুরু। তখন সিরিজটা সম্পুর্ন করতে পারি নাই কারন সবটা ছিল না কালেকশনে। এই কয়দিনে আবার সব ডাউনলোড করে দেখতে লাগলাম… এবং পস্তাইলাম…
এতদিন অপেক্ষা করসি ক্যান????
আরও আগে নামানো যাইতো না????
১
এক অদ্ভুত দুনিয়ার কাহিনী, সেখানে মানুষ বস্তুর অভ্যন্তরীন গঠন বুঝে সেটাকে নিজের ইচ্ছা মত করে পরিবর্তন করে অন্য কিছুতে রুপ দিয়ে ফেলার উপায় আবিস্কার করেছে। তবে কোন যন্ত্রের সাহায্যে না, নিজের মানসিক শক্তি ব্যবহার করে।
এলকেমিতে ভীষন মেধাবী বাচ্চা ছেলে এডওয়ার্ড এলরিক এবং অ্যালফনস এলরিক তাদের মাকে হারাবার পরে সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তাকে ফিরিয়ে আনবে মৃত্যুর ওপার থেকে। ব্যবহার করবে ভীষনভাবে নিষিদ্ধ হিউম্যান এলকেমি ব্যবহার করে।
কিন্তু তার জন্য যে মুল্য তাদের দিতে হয তা হিসেবের বাইরে… অ্যারফনস হারায় তার শরীর। সে এখন একটা ধাতব বর্মের মধ্যে আটকে থাকা এক আত্বা। এডওয়ার্ড হারায় তার হাত, পা।
কিন্তু এটাই কি সব?
এখন তারা উাপয় খুজে বেড়ায় এমন এক এলকিমিক পদ্ধতি যেটা ব্যবহার করে তারা অ্যালফসন এর জন্য একটা মানবিক শরীর তৈরি করতে পারবে। এডওয়ার্ড এর জন্য তৈরি করতে পারবে সত্যিকারের হাত এবং পা।
এই লক্ষে তারা এগিয়ে যায় এবং এক এক করে সবার সামনে উন্মোচিত হতে থাকে এলকিমিকি দুনিয়ার অসাধারন সব রহস্য…..
এনিম হিসেবে যথারীতি যথেষ্ট পরিমানে চেচামেচি আছে। চোখ দিয়ে কান্নার পানি নদীর মত বয়ে যাওয়া কিংবা মানুষজন সেই পারি বন্যায় ভেসে যাওয়া কিংবা রাগে সারা শরীরে আগুন ধরে যাওয়া.. অথবা ভয়ে সাদা হয়ে যাওয়া…
তবে সিরিয়াস মুহুর্ত গুলো সত্যিই ভীষন সিরিয়াস করে বানিয়েছে… আর কাহিনীর বুনন চমৎকার।
Black Lagoon: Roberta’s Blood Trail – by Tariqul Islam Ponir

Revi: Hey chniglish. Want a job? You get to kill a whole lot of dipshits.
Shenhua: I’ll be happy to skin you for free, slut.
Revi: Jesus, what’s with the attitude.
Black Lagoon: Roberta’s Blood Trail দেখলাম। যদিও দুইবছর আগের টাইটেল কিন্তু ইংলিশ ডাব এর জন্য ওয়েট করাতে এত দেরি হল দেখতে।
আগের সিজনের মত অস্থির ডায়ালগ বেশ কম। রক এর ক্যার্যাক্টার এ যে চেঞ্জটা এনেছে সেটাও বেশ মজাদার। এইভাবে চলতে থাকলে মনে হয় সিরিজটাকে আরো অনেকদূর নেয়া সম্ভব। আর একটা দিক, রবার্টা মনে হয় আর কখনোই আসবে না সিরিজটাতে, তার গল্পের এখানেই সমাপ্তি। অবশ্য আমি প্রথম সিজনের কিডন্যাপিকং আর্ক এর পরই এই ক্যার্যাক্টার আবার আসবে এটা আশা করলেও এভাবে আসবে ভাবি নাই।
তবে, আগের দুইটা সিজনই রোজার মধ্যে দেখার উপযোগী না (Don’t get me wrong. শুধুমাত্র গালাগালির কারনে) আর এই সিজন এসেছে ওভিএ ফরম্যাট এ। তো বুঝতেই পারছেন!! তবে টু বি অনেস্ট, FLCL এর পর একমাত্র এই ওভিএটাকেই আমি রেকমেন্ডেবল বলতে পারি (And yes, I have watched Hellsing Ultimate) কমিক রিলিফগুলো আগেরবারের মতই সুন্দর করে করা হয়েছে। এবং ফাইটিং অবশ্যই অভার দা টপ এন্ড অফ কোর্স লজিকলেস। আমি যখন প্রথম সিজন দেখেছিলা তখন অনেক লজিক খুজেছিলাম সিরিজটাতে, সেকেন্ড সিজনে এসে বাদ দিয়ে দিয়েছি আর মজা পেয়েছি +_+ তবে এই আর্কে মজাও সেই তুলনায় কম। কিন্তু চলে।
প্রথম তিন পর্বে রবার্টার হার্ডকোর পার্ফর্মেন্স এর পর পঞ্চম পর্বে আবার মেইড আউটফিটে আসা তা খুব একটা ভালো লাগে নাই। ফ্যান সার্ভিস ফ্যান সার্ভিস মনে হইসে। T_T
আর ডাবটার ব্যাপারটা বলতেই হয়। আমি বেশিরভাগ সময়ই ডাব দেখার পর সাব টা চালু করে দেখি (ডুয়াল অডিও এনকোড আরকি )। এটার জাপানিজ অডিওটাতে দেখলাম লাভলেস ফ্যামিলি এর আরেক পিচ্চি মেইড ফ্যাবিওলাকে ‘শ্রিম্প’ বলে ডাকে পুরা এনিমেতে। কিন্তু ইংলিশটা বলেছে Minimaid যা চরম হাসির, অন্যদিকে Shenhua কে জাপানিজ ভার্সনে Revi তার নাম ধরে ডাকলেও এখানে দেকেছে Chinglish (Cninese+English) হিসাবে। আর রেভির ডায়ালগ ডেলিভারি দেখলে অনেকটা টারান্টিনো আর গাই রিচি এর ফিল্মে বিভিন্ন গ্যাংস্টার এর ডায়ালগ ডেলিভারি এর কথা মনে পরে। হুইচ ইজ অসাম। আফটার অল, ইটজ অল এবাউট ডায়ালগস।
“I appreciate the help. But after all these is finished and my hunt is complete, I’ll reward you with a painless death.”
![]()
সিজন ১ আর ২ ডাউনলোড করতে পারেন।
নতুন জগৎ Anime: Deathnote– আসিফুল হক
যারা সাধারনতএনিম দেখে তাদের মধ্যে এনিম নিয়ে প্যাশনটা মনে হয় খানিক বেশিই থাকে; এই প্যাশনের বহিঃপ্রকাশ কেউ ঘটায় দিনের পর দিন সারাদিন এনিম দেখে পার করে (যেমন আমি); কেউ বেশ ভাল টাকা পয়সা খরচ করে কস্প্লে করে; ছবি একে; রিভিউ লিখে; বিভিন্ন এনিম ফোরামে আড্ডা দিয়ে তর্ক করে – নানাভাবে। আজকে একটা বেশ মজার জিনিস দেখলাম। আমার পরিচিত একজনের একটা অভ্যাস হল এনিম দেখে মাঝে মাঝে তা নিয়ে কবিতা লেখা !!! সিরিয়াসলি; এনিম নিয়ে কবিতা – আইডিয়াটা কখনই আমার মাথায় আসে নি !!!! এবং জিনিসটা দেইখা বেশ ভাল লাগসে। যাই হোক; উনার অনুমতিক্রমে একটা কবিতা প্রকাশ করছি; যারা এনিম দেখেন না তারাও অনেকে ডেথ নোট দেখেছেন বা অন্তত এর সাথে পরিচিও; কবিতাটা সেই ডেথ নোট নিয়ে লেখা –
নতুন জগৎ
Anime: Deathnote
বিস্তৃত আধারে দাঁড়িয়ে আমি
করেছি শপথ বিদ্রোহের পথে,
তাই আমি দেব না তোমায়
আমাকে বাধা দিতে।
আর দরজার ওপাশের আলো
বলছে যে ভবিষ্যতের কথা,
আমি সত্য করব
সেই সুপ্ত স্বপ্নকে।
যে সমাপ্তি সবাই চায়
কোন একদিন আমি দেখাব তোমায়
এক নতুন ও উজ্জ্বল জগৎ
বাস্তবতার প্রাচীরে দাঁড়িয়ে
আমি করেছি প্রতিজ্ঞা অসম্ভবের পথে,
তাই আমি দেব না তোমায়
আমাকে বাধা দিতে।
আর যে দুঃস্বপ্নে তোমরা
আছ,মায়াজালকে জড়িয়ে
আলোকিত করব আমি অন্ধকার,
কারণ আমিই একমাত্র যে
হয়তো মানবতা
ও মনুষ্যত্ত্বকে বিসজর্ন দিয়ে,
কোন একদিন আমি দেখাব তোমায়
পুরাতন রিভিউঃ
কার্টুন হলেই যে পোলাপানের দেখার জিনিস হবে তা ভুল প্রমান করার জন্য এই “Death Note” -ই যথেষ্ট।
৩৭ পর্বের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ এটি। Genre হিসেবে “Death Note” কে বলা যায় Thriller, Mystery আর Supernatural অপূর্ব সংমিশ্রণ।
আমার ভাষায় “Death Note” হল হালকা Mystery ও Supernatural এর সংমিশ্রণে দুর্দান্ত এক Thriller!
কার্টুনটির প্রধান দুই চরিত্র হল লাইট ইয়াগামি এবং L (এল)। মূলত এদের দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুত্ব, শত্রুতা, প্রতিযোগিতা নিয়েই কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এদের সবধরনের অনুভূতি এখানে খুব শক্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
লাইট ইয়াগামি হচ্ছে খুবই Smart, Talented, বুদ্ধিমান, সুদর্শন এক জাপানি ছাত্র যাকে বলা যায় one of the Japan’s Brightest!
লাইট অন্যদের চেয়ে এতই এগিয়ে থাকে যে বাকি সবাই কে তার মনে হয় Boring আর Rotten! সে চায় অনেক বড় কোন পরিবর্তন। এক সময় সে হাতে পায় এই রকম একটি Note-Book যাতে যার নামই লেখা হবে সে মারা যাবে! এখন প্রশ্ন হচ্ছে লাইটের মতো Smart – বুদ্ধিমান ছেলে সেই Note Book দিয়ে কি করে?
অপরদিকে L হল পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা। কঠিন কঠিন সব কেস এর সমাধান সে করেছে কিন্তু কেউই তার আসল পরিচয় জানেনা।
L-ও চরম বুদ্ধিমান এবং সবার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকে সবসময়। L কে মুখমুখি হতে হয় লাইটের যার কাছে রয়েছে একটি Death-Note। “জোকারের” ভাষায় একে বলা যায় “An unmovable object is on the way of an unstoppable force!”
যাই হোক রিভিউ লেখাটা মূল আকর্ষণের ধারেকাছেও যায় নি। অনেকে হয়তো রিভিউ পড়ে কার্টুনটি দেখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হবেন
। ভুলেও এই রিভিউ পড়ে “Death Note” কে ভুল ভাবে নিবেন না! আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি প্রথম দুই পর্ব দেখার পর পুরো ৩৭ পর্ব শেষ না করে উঠতে চাইবেন না। কাহিনীর Climax- Anti-climax অসাধারণ। উপস্থাপন, সংলাপ, সাস্পেন্স…
অসাধারণ, অসাধারণ, অসাধারণ!!!
IMDb তে Death Note এর রেটিং হল ৯.১। আমি একে ১০ এ ৯.৮ দেবো! ![]()
ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিঙ্কও দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এক্ষেত্রে একেকটি পর্বের সাইজই হয়ে যাবে ২৪০ মেগা এর মতো। যেখানে টরেন্টে মাত্র ৬০-৬৫ মেগা/পর্ব! তাই টরেন্ট থেকে নামানোই উত্তম! ![]()
এখনও না দেখে থাকলে নামিয়ে দেখা শুরু করুন। আশা করি নিরাশ হবেন না! ![]()
এনিম রিভিউঃ Black Lagoon – অন্ধকার জগতের গল্প — লেখক নিঃসঙ্গ নির্বাসন
অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম এনিম নিয়ে একটা পোস্ট দেব। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সময়ই করে উঠতে পারি না। অবশেষে ঈদের ছুটিতে মার্কেটিং করা বাদ দিয়ে রিভিউ লিখতে বসলাম।
অন্ধকার জগতের খুনে গুন্ডা পাণ্ডাদের নিয়েই এই ব্ল্যাক লেগুন রিভিউতে যাওয়ার আগে একটু ভূমিকা দিতে চাচ্ছি। আমি একজন অত্যন্ত কুটিল প্রকৃতির খারাপ মন মানসিকতার মানুষ। আমার পছন্দও হয়ে থাকে সেই রকমেরই। আমার অল টাইম ফেভারিট লিস্টে অবশ্যই থাকবে ডেথ নোট লাইট ইয়াগামির একজন হার্ডকোর ফ্যান আমি। পুরোপুরি পারফেক্ট এভিল। কোড গিয়াসও আমার অত্যন্ত পছন্দের। তবে লেলুশকে কিন্তু আমি একদমই দেখতে পারি না। আমার পছন্দ শ্নাইজেল এল ব্রিট্যানিয়া- সেকেন্ড প্রিন্স। ভয়ংকর এক ভিলেন। evil minded. puppet master. (অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি, জাপানিজ এনিম গুলোয় ভিলেনদের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়। হলিউডের কি এখান থেকে শিক্ষণীয় কিছু আছে? )
সাইকোলজিক্যাল এনিম হিসেবে মনস্টার আমার অত্যন্ত প্রিয়। মনস্টারের ভিলেন সবারই টপ ভিলেন লিস্টে থাকেই। কিন্তু আমার তাকে খুব একটা ভাল লাগে নাই। সে আগের দুইজনের মতো পারফেক্ট এভিল না। আমি ওইধরনের খারাপ এনিম খুঁজার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাই নাই। বাচ্চা মেয়েদের ধরে ধরে অ্যাসাসিন বানানো হয়গানস্লিঙ্গার গার্লে হার্ট টাচিং একটা এনিম। কিন্তু না, সেখানেও আমার পছন্দের কোন সাক্ষাৎ শয়তান পাই নাই। আবার হেল গার্ল কিংবা এলফিন লেইড এগুলোও অনেক পছন্দ হয়েছে। কিন্তু আমার যেই চাহিদা, খারাপ কিছু, সেটাই আমি পাচ্ছি না। ভালোমানুষি ব্যাপারটাই আমার সহ্য হয় না। মনস্টার থেকে এলফিন লেইড সবগুলোতেই সেটাই আমার আপত্তির একটা বড় কারণ। সেখানে পারফেক্ট এভিল তো নেইই, বরং ভাল কিছুর কথাই বলা হয়েছে।
ভূমিকা অংশটা মোটামুটি শেষ। এরকম একটা প্যারাগ্রাফ আসলে লেখার কোন দরকার ছিল না, আজকের এই রিভিউটার জন্য। আমি এসব কথা বললাম, ব্ল্যাক লেগুন দেখার আগে আমি কিরকম মানসিক অবস্থায় ছিলাম, সেটা বুঝানোর জন্য। এনিমটা আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। আর কাউকে এখনো পাই নাই, যার ব্ল্যাক লেগুন এতো পছন্দ হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে ব্ল্যাক লেগুন এরকম আহামরি কোন এনিমও না। যদি ৮০ – ৯০ দশকের এনিম হত, তাহলে এটা আরও জনপ্রিয় হত।
লেগুন কোম্পানি হচ্ছে মূলত একটি জলদস্যু গ্যাং। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে স্মাগলিং করাই তাদের মূল কাজ। দলের সদস্য মাত্র তিনজন। লিডার ডাচ, শুটার রেভি, টেকনোলোজি গিক বেনি। লেগুন কোম্পানির বেস ক্যাম্প রোয়েনাপারে। সিটি অফ গডের কথা মনে আছে? সেরকম একটা শহর হচ্ছে থাইল্যান্ডের বন্দরশহর রোয়েনাপার। শহরে সক্রিয় বিভিন্ন মাফিয়া দল। তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে ডাচ। বিভিন্ন মাফিয়া সংগঠনের হয়ে, মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মিশনেও যায় সে। সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি মাফিয়া গ্যাং হচ্ছে, রাশিয়ান ক্রাইম সিন্ডিকেটঃ হোটেল মস্কো এবং চাইনিজ হংকং ট্রেইড। ডাচের সঙ্গে অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক হোটেল মস্কোর প্রধান কাপিতান বেলালাইকার। কাহিনীর দিকে যাওয়ার আগে রোয়েনাপারের একটা ছবি মনের মধ্যে এঁকে নিন। অস্ত্র, রক্ত, খুন, মাদক, পতিতাবৃত্তি এগুলোই রোয়েনাপারের দৈনন্দিন চিত্র।
এনিমটা দুই সিজনের। প্রতিটা সিজনে ১২ টা করে এপিসোড। প্রতিটা এপিসোডের লেংথ ২০ মিনিটের মতো। প্রতি ২ – ৩ এপিসোডে একটা করে ছোট ছোট কাহিনী। এভাবেই এই অপরাধ নগরের সাথে পরিচিত হয়ে ওঠা। আমি সবগুলো কাহিনী বলে আপনাদের মজা নষ্ট করতে চাই না। শুধু প্রথম গল্পের শুরুটা বলি।
রোকারো ওকাজিমা একজন জাপানিজ বিজনেসম্যান। তার জীবনের গল্পটা শুনে নিন, তার নিজের মুখেই।
Graduating from a National University, I somehow managed to get my way into corporate world. This is a businessman’s town.I get my ass kicked by my boss all day. But in the same time I hope to be in his place someday. It’s the only way to maintain your sanity here. This is the city of winter.
একদিন একটা বিশেষ কনফিডেনসিয়াল ডিস্ক নিয়ে সে যাচ্ছিল একটি বিজনেস ট্রিপে। তাকে কিডন্যাপ করে লেগুন কোম্পানির ক্রুরা। বেলালাইকা তাদের হায়ার করেছে, ওই ডিস্কের জন্য। ওকাজিমাকে হয়তো মেরেই ফেলত তারা। কিন্তু রেভির মাথায় বুদ্ধি এলো, ওকাজিমাকে কিডন্যাপ করে মুক্তিপণ আদায় করার। কিন্তু ওকাজিমার মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে হতাশই হতে হল রেভিদের। তারা জানিয়ে দিল, তারা ঘোষণা করে দিয়েছে রোকারো ওকাজিমা মারা গিয়েছে। ভাল কথা, ততক্ষণে কিন্তু তার নাম বদলে গেছে; লেগুন কোম্পানির ক্রুরা তাকে রক বলে ডাকছে। যাই হোক, ডাচের মনে হলো, তার ক্রুতে একজন বিজনেসম্যান থাকা দরকার। এভাবে লেগুন কোম্পানিতে যোগদান রকের। আর এখান থেকেই ব্ল্যাক লেগুনের যাত্রা শুরু।
আমি চাচ্ছি, ব্ল্যাক লেগুনের তিনটা ক্যারেকটার সম্পর্কে কিছু লিখতে লিখতে। (মানে আপনাদের ব্ল্যাক লেগুনের ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড করা আর কি! কাহিনীটা খুব জোরালো কিছু না, আমি নিজেও স্বীকার করি। কিন্তু ক্যারেকটারগুলো অছাম। ) জানি না, ক্যারেকটার গুলো কিরকম লাগবে আপনাদের। আমি এখানে তিনজনের কথা বলব। একত্রে এই তিনজনকে বলা হয়,
Three most terrifying women of the world.
এরকম আরও অনেক ক্যারেকটারই আছে সিরিজটায়। আমার ভাল লেগেছে, প্রতিটা ক্যারেকটারের পেছনের গল্পগুলো। আজকে তারা অন্ধকার জগতের মানুষ। কিন্তু তারা অতীতে এরকম ছিল না।
What happened to them, created them monster.
আর ক্যারেকটার গুলোর অতীত আমরা সেভাবে দেখতেও পাই না। ছাড়া ছাড়া ভাবে মাঝে মাঝে দেখানো হয় আরকি।
ভাল কথা, এনিমটা কিন্তু TV-MA রেটিং প্রাপ্ত। এবং সেটার প্রধানতম কারণ ভাষা।সেটা মাথায় রাখতে হবে। আমার অবশ্য খুব একটা খারাপ লাগে নাই ব্যাপারটা। অন্ধকার জগতের মানুষদের ভাষা আর কিই বা হবে?
আরেকটা কথা না বললেই নয়, সিরিজের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেকটারই মেয়ে। শুনে আবার হতাশ হয়ে যাবেন না। কেউই লুতুপুতু টাইপের মেয়ে না। পারফেক্ট ক্রিমিনাল। যাই হোক, চলুন পরিচিত হয়ে আসি, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক তিন মহিলার সাথে।
রোসারিতা সিস্নেরোসঃ
প্রথম জীবনে সে ছিল একজন দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষিত অ্যাসাসিন। কিউবার গেরিলা সংগঠন FARC এর সদস্য। সে পরিচিত Bloodhound Of Florencia নামে। তাকে আরও অনেক নামেই ডাকা হয়।
Hardcore Terrorist
Killer Robot From The Future
কিউবান মাফিয়া বিপ্লবী দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু একসময় সে বুঝতে পারে, সে কোন বিপ্লবী হতে পারে নি। সে একটি Watch Dog এ পরিণত হয়েছে। যার কাজ হচ্ছে মাফিয়াদের কোকো ক্ষেত পাহারা দেওয়া। সে তখন চাইলো, এই জীবন থেকে পালিয়ে যেতে। ভেনিজুয়েলার বিখ্যাত লাভলেস ফ্যামিলির প্রধান ডিয়েগো লাভলেস তাকে নিজের দেশে নিয়ে এলো। ব্লাডহাউন্ডের দায়িত্ব ৮-১০ বছরের Garcia কে দেখাশোনা করা। সেই ব্লাডহাউন্ড এখন হাউজমেইড।
ব্লাডহাউন্ডের নাম এখন Roberta. প্রথম সিজনে Young Master Garcia কে অপহরণ করে কলম্বিয়ান একটি মাফিয়া দল। তখন নিজের পুরাতন পরিচয় আবার জাগিয়ে তুলে রোসারিতা। লাভলেস ফ্যামিলিই তাকে কুকুরের জীবন থেকে উদ্ধার করে একটি মানুষের জীবন দিয়েছিল। তার প্রতিদান দিতে তুলকালাম শুরু করে দেয় সে অপরাধনগর রোয়েনাপারে।
ব্লাডহাউন্ডের যুদ্ধ শুরু করার স্টাইলটা আপনাদের পছন্দ হবেই।
In the name of Santa Maria, a hammer blow of righteousness to all injustice.
এরকম একটা হাউজমেইড থাকলে চরমই হত। ব্লাডহাউন্ড নিঃসন্দেহে এই সিরিজের বেস্ট অফ দা বেস্টস ফাইটার। তবে তার সম্পর্কে সমালোচনা করতে গেলে বলতে হবে, সে কথা কম। কাজ বেশি। এই পলিসিতে বিশ্বাসী। এদিক দিয়ে সে রেভির থেকে পিছিয়ে আছে। প্রথম সিজনেই শুধু পাওয়া যায় ব্লাডহাউন্ডকে। তাও মাত্র অল্প কয়েক পর্বের জন্য।
ভ্লাডিলেনাঃ
রাশিয়ান ক্রাইম সিন্ডিকেট হোটেল মস্কোর প্রধান। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলিটারির একজন ক্যাপ্টেন। আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় তাকে অনৈতিকভাবে ডিসচার্জ করা হয় মিলিটারি থেকে। তিনি চলে যাওয়ার সাথে সাথে তার কম্যান্ডে থাকা দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষিত বিশেষ স্কোয়াডের কমান্ডো সোভিয়েত সেনারাও তার সঙ্গে চলে যায়। রোয়েনাপারে নিজের পরবর্তী গন্তব্য ঠিক করেন বেলালাইকা। বেলালাইকা নামের আড়ালে তার আসল নামটা সবাই ভুলেই যায়। বেলালাইকা একটা রাশিয়ান স্নাইপার রাইফেল। নিন্দুকেরা তাকে Fry Face বলে সম্বোধন করে। আফগান যুদ্ধে তার মুখের অর্ধেক পুড়ে গিয়েছিল। হোটেল মস্কো হচ্ছে রোয়েনাপারের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মাফিয়া দল। শহরে খুন খারাপি কোন ব্যাপারই না। কিন্তু কেউই হোটেল মস্কোর সাথে সম্পৃক্ত কারো দিকে ফুলের পাপড়ি দিয়েও আঘাত করার কথা ভাবতেই পারে না। নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য ডাচ ও লেগুন কোম্পানির প্রতি বেলালাইকা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। সিজন টুতে হোটেল মস্কোর উপর একের পর এক আক্রমণ শুরু হয়। যেরকম কঠোর ভাবে বেলালাইকা ব্যাপারটার প্রতিশোধ নেয়, তাতে পুরোই তার প্রেমে পরে যাই।
বেলালাইকা পারতপক্ষে তার কম্যান্ডে থাকা সেই রাশিয়ান কমান্ডো সেনাদের ব্যবহার করে না। হোটেল মস্কোর বিশেষ অপারেশনেই কেবল মাঠে নামে Desantniki তাদের মুখে শুধু একটা কথাই শোনা যায়। কাপিতান। এই কাপিতানের জন্য, যে কোন কাজ করতেই তারা বদ্ধপরিকর। বেলালাইকা একজন এক্স মিলিটারি। তাই মাফিয়া সংগঠন হলেও, তার কাজের স্টাইল মিলিটারির মতো। রোয়েনাপার শহরে প্রবেশ করার পর তৎকালীন প্রধান মাফিয়া বস মি চ্যাং (চাইনিজ হংকং ট্রেইড) এর সাথে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। পরে ডাচের হস্তক্ষেপে মিউচুয়ালি কো এক্সিস্ট করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে বেলালাইকাই শহরের প্রধান মাফিয়া বস হয়ে উঠে। বুঝতেই পারছেন, কি রকম মাস্টার মাইন্ড লিডার এই কাপিতান।
রেভিঃ
আসল নাম রেবেকা (রেভেকা), বেশিরভাগ সময় রেভি বলেই সম্বোধন করা হয়। তার নিক হচ্ছে, Two Hand. একসাথে দুই হাতে শুটিং করায় পারদর্শী বলে। লেগুন কোম্পানির বেশিরভাগ অপারেশন সেই চালায়। সে একজন জাপানিজ আমেরিকান। জন্ম চায়নাটাউনে। তার অতীত সে খুব বেশি বলে না। কিন্তু ছাড়া ছাড়া ভাবে যা বলে, তাতেই বোঝা যায়, আজকের এই Two Hand সে একদিনে হয় নি। সেটার পেছনে আছে একটা বিশাল গল্প। হাসতে হাসতে মানুষ খুন করে রেভি। একটু কপি পেস্ট করতে চাচ্ছি।
Revy is one of the deadliest fighters in the series, whose skill with firearms and ability to dodge bullets is almost superhuman and unparalleled—there are only a few other characters, such as Roberta and Ginji, that can hold their ground against her in combat.
নিজেকে রেভি সম্বোধন করে, Best Shooter In The East হিসেবে। সে অত্যন্ত বদরাগী, চেইন স্মোকার। সব কিছুর সমাধান সে করতে চায় বুলেটের মাধ্যমে। এই ব্যাপারটা নিয়েই রকের সাথে তার মাঝে মাঝেই ঝগড়া লেগে যায়। রকের অনেক কিছুই সহ্য করে না রেভি। রেভি বলতে চায়, রক লেগুন কোম্পানিতে আছে পিকনিকের জন্য। যখন তার মনে হবে পিকনিক শেষ, তখনই সে চলে যাবে। যদিও পরে রকের ব্যাপারে তার ধারণা চেঞ্জ হয়। রেভির মুখ সম্পর্কে আলাদা করে বলতেই হবে! একথা বলাই যায় , এনিমটা TV MA রেটিং পেয়েছে শুধু রেভির জন্যই! মুখে কথা বলেই রেভি যুদ্ধ জিতে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর অস্ত্রের কথা বলার দরকার কি? শুধু শুধু কি আর Two Hand নিক অর্জন করেছে। রেভিকে আমার পছন্দ একই সাথে মুখে কথা বলা আর কাজ করে দেখানর জন্য। রেভি এরকম মেজাজি ক্যারেকটার হলেও সে রেসপেক্ট করে বেলালাইকাকে। এতেই বুঝা যায়, বেলালাইকা কি জিনিস!
ডাচের কামান হচ্ছে রেভি।
This is showtime revy, can you make them dance?
এরকম আরও অনেক ক্যারেকটার আছে। ডাচ, মি চ্যাং, সেনহুয়া, গিনজি এবং আরও অনেকে। সিরিজটার সমালোচনা করতে হলে বলব, এখানে গোলাগুলি ব্যাপারটা খুব সহজভাবে দেখান হয়েছে। আর এখানে কাহিনীর মারপ্যাচ কম। আশা করবো, আপনারা Bourne সিরিজ টাইপের কিছু দেখার ইচ্ছা নিয়ে বসবেন না।
আমি সিজন থ্রিকে রিভিউ থেকে বাদ দিয়ে দিলাম। সিজন ১ আর ২ ডাউনলোড করতে পারেন।
ঈদের ছুটিতে দেখে ফেলুন ব্ল্যাক লেগুন। সিরিজটা কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। সবাইকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।
পাদটীকাঃ কথা প্রসঙ্গে আমি দুইজনকে বলেছিলাম ব্ল্যাক লেগুন নিয়ে কোন পোস্ট দেওয়ার কথা। তাদের গুঁতাগুঁতিতেই মূলত লেখাটা পোস্ট করা হলো। সেই দুইজনকেই লেখাটা উৎসর্গ করলাম।
মূল লেখা http://www.somewhereinblog.net/blog/persian_knot/29659959
Panty & Stocking with Garterbelt – REPENT, YOU MOTHAFUCKA! – লেখক রেড এলার্ট
[Writers Note: Huge text of random stream of thought follows. Consider yourselves warned. With little editing and cropping writer directly translated this from an English version of this review which belongs to him as well as the Bangla version. So you may find some English word/sentence in between. Writer begs pardon for this inconvenience.]
“O pitiful shadow lost in the darkness, O evil spirit born of those drifting between Heaven and Earth. May the thunderous power from the garments of these holy, delicate maidens strike down upon you with great vengeance and furious anger, shattering your loathsome impurity and returning you from where you once came! REPENT, YOU MOTHAFUCKA!” – Panty & Stocking Anarchy
যখন প্রথম আনিমেটার টাইটেল দেখলাম, ধরেই নিয়েছিলাম শত আনিমের মাঝে আরও একটা নিম্ন মানের এনিমেশন আর জঞ্জাল মার্কা স্টোরিলাইনে আপাদমস্তক ভরা এচ্চি কমেডির সামনে পড়ে গেছি। কয়েকদিন ফেলে রাখবার পর কৌতূহলবশত দেখতে বসলাম এবং উপলদ্ধি করলাম আনিমেটি সম্পর্কে আমার ধারণা ভুল ছিল। তবে এই অর্থে নয় যে Panty & Stocking with Garterbelt তথা PSG আমার ধরে নেয়া genre এর মধ্যে পড়েনা; আনিমেটি আসলেই একটি নিম্ন মানের এনিমেশন আর জঞ্জাল মার্কা স্টোরিলাইনে আপাদমস্তক ভরা এচ্চি কমেডি। যে জিনিষটা আনিমেটাকে অন্য সবার থেকে ভিন্ন করে তুলে তা হল এই যে… আনিমেটি ভিন্ন লোল।
আমি বলতে চাইছি যে একটি ভাল আনিমে, হোক কমেডি কিংবা অ্যাকশন, “ভাল আনিমের” খেতাব পায় তখন যখন তা দর্শকদের বিস্মিত ও উদ্দিপ্ত করতে সক্ষম হয়। কোন আনিমে দেখতে বসে আগামীতে ঘটতে যাওয়া কমেডি কিংবা অ্যাকশন দৃশ্যে কি হতে যাচ্ছে তা যদি ঘটার আগেই আপনি বুঝে ফেলেন তাহলে আপনি পেলেন একটি মাঝারি মানের আনিমে। কোন উঁচুদরের আনিমের কৌতুক দৃশ্য অথবা যুদ্ধের শেষ পরিণাম আগে থেকেই দর্শক ভবিষ্যদ্বাণী করে বসে থাকতে পারেনা বলেই সেটি আর দশটা আনিমে থেকে আলাদা। PSG-র সাফল্য এখানেই। আপনি কখনই ধরতে পারবেন না পর মুহূর্তে যা হতে যাচ্ছে তা বিয়োগান্তক নাকি হাস্যকর।
বেশীর ভাগ শো এক বা একাধিক ফর্মুলা অনুসরণ করে, PSG এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। গড়পড়তা শোওনেন অ্যাডভেঞ্চার আনিমের সূচনা পর্বগুলো দেখে আগে থেকেই আপনি মোটামুটি একটা ধারণা পেয়ে যাবেন বাকি ৫০০টি পর্ব কেমন হতে যাচ্ছে (দয়া করে আমায় বলবেন না যে নারুতো ও ওয়ান পিসের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য নয়)। প্লটের বিষয়বস্তু পরিষ্কার, সর্বশেষ পরিণামটাও স্পষ্ট, এখন আপনি শুধু এর মাঝেই ফ্যানসার্ভিস আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো থেকে কিছু বিনোদন আরোহণ করার চেষ্টা করতে পারেন। শুরুতে এবং মাঝে মাঝে এগুলো উপভোগ্য হলেও, প্রায়শই আনিমেগুলো দেখতে দেখতে নিজেকে নিস্তেজ মনে হয় এবং গ্র্যান্ড ফিনালে দেখে বলতে হয়, “Ok, it ended as I expected; now where is my popcorn?”
এখানেই PSG আমার ভাল লেগেছে। আগামীতে ঘটতে যাওয়া প্লট টুইস্ট ও কৌতুকগুলো আগে থেকেই আন্দাজ করে প্লটের মজাটা একরকম জোর করে নষ্ট করতেও ব্যর্থ হয়েছি। আজকাল আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপদ ও পরীক্ষিত ফর্মুলার ব্যবহার বেশী, কেউ আর বাক্কানো কিংবা ঘোস্ট ইন দ্য শেল জাতিও ভিন্ন ধরনের আনিমে তৈরি করে ঝুকি নিতে চায়না। যখন অন্যেরা আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত-সফল-ঝুঁকিহীন-বাঁধাধরা ধাঁচের চরিত্র এবং ছকে বাধা প্লটেই বেশি আগ্রহী, PSG তখন অনেকটা “Screw it, let’s just have fun” জাতিও ছোট ছোট গল্পতে পরিপূর্ণ। এ সময়ের সিরিজগুলোয় এটারই খুব অভাব; একটি আনিমে যখন দেখি তখন সেই আগের অনুভূতিটি পাইনা যে লেখক আনিমেটি যত্ন ও অনুরাগ দিয়ে লিখেছেন, ব্যবসায়িক সাফল্য পাবে কিনা কিংবা নির্বোধ ওতাকুর দলকে সন্তুষ্ট করবার জন্য যথেষ্ট moe আর কাওয়াই হয়েছে কিনা এধরনের দুশ্চিন্তা নিয়ে লিখেননি, যেমনটা অনুভূত হয়েছিল কাউবয় বিবপ, প্ল্যানেটিস কিংবা মাই নেইবর তোতোরো দেখে।
তবে আমি এটা পরিস্কার করে দিতে চাই যে Panty and Stocking with Garterbelt মোটেও ওরিজিনাল কিংবা যুগান্তকারী আনিমে নয়। এতেও ওতাকুগণের সন্তুষ্টির জন্য প্রচুর sexy/moe stereotype রয়েছে, কিন্তু সেগুলোও আবার অত্যন্ত খোলামেলা এবং উগ্র, বোঝাই যায় লেখক মহাশয় R-Rated সিল-ছাপ্পর এবং সেন্সরশিপের ভয় করেননি। অধুনা কালে শতশত কার্বন-কপি করা হারেম এবং এচ্চি কমেডি আনিমে গুলোতে একটি বিশেষ দৃশের অবতারণা বহুবার ঘটেছে, some dork gets to score with a chick and the chick may want it too but something really lame always happens every time to stop it. কেন? Why? এটা কি ওতাকুদের জন্য হতাশাজনক নয় যে “juicy part” গুলোতেই বারংবার থামিয়ে দেয়া হয়? আমি বলছি কেন, কারণ সেটাই হল লিমিট। এই লিমিট পার হয়ে “ওটা” পর্যন্ত যাওয়া আর হয়ে ওঠেনা ফলে ওতাকুবৃন্দ “ওটা” ছাড়াই সন্তুষ্ট থাকবার চেষ্টা করে, আর সেই “ওটা” হলঃ সেক্স। আমার যতদূর মনে পড়ে এর সাম্প্রতিক একটি নমুনা হল “বি গাতা এইচ কেই ইয়ামাদাস ফার্স্ট টাইম” আনিমেটি। এর সেলিং পয়েন্ট হচ্ছে এরকমটা, একটি হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ে যথেচ্ছ ভাবে বেছে নেয়া হাজারো ছেলের সাথে হাজারো নচ্ছার উপায়ে সেক্স করবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আনিমেটি শুধু আজেবাজে স্বাদহীন সেক্স জোক এবং “বিশেষ মুহূর্তে” মেয়েটি ভয় পেয়ে যাচ্ছে অথবা কেউ এসে সমস্ত কিছু ভণ্ডুল করে দিচ্ছে এ জাতিও হাবিজাবি দেখিয়েই ক্ষান্ত থেকেছে। কেন? কারণ ওই যে, লিমিট।
তো PSG আবার এদিক দিয়ে বিদ্রোহী। গল্পের মূল দুই হিরোইনের একজন Panty (জী, নামটা ঠিকই শুনেছেন) এই মাত্র পরিচয় হওয়া ব্যক্তিটির সঙ্গে সেক্স করতে মোটেই ভীত নয়। শুনতে তেমন “জটিল” মনে হয় না এবং বাস্তব জীবনে হয়ত এমন চরিত্র পাওয়াটা অসম্ভব নয়, কিন্তু এক নন-হেন্তাই আনিমেতে? IMPOSSIBRU!! ধারণাতীত!! অন্য কোন শোর মতো হিরোইন শেষ মুহূর্তে এখানেও ভয় পেয়ে বসবে এই ধারণা যদি করে থাকেন তাহলে তা ভুল। এই শো অসম্ভব পরিমাণে শিট, পিউক, সেমেন, নগ্নতা, গালিগালাজ এবং অন্যান্য সকল উগ্র জিনিষ দেখাতে মোটেও ভীত নয়। যাইহোক, আনিমেটি ওরিজিনাল না হোক, এর আগে আর কেউই এমন উগ্রতা দেখাবার সাহস করেনি।
আর পুরোটাই সাধারণমানের এনিমেশনের দ্বারা দেখানো হলেও অপছন্দ করবার মতো নয়; বরঞ্চ কারোকারো কাছে আবার এটাকে ন্যাক্কারজনক রকম হাস্যোদ্রেককর মনে হবে। আনিমেটির এনিমেশনে লক্ষ করবার মতো আরেকটি বৈশিষ্ট্য আছে। সেটি হল এর পশ্চিমা ভঙ্গি যেটি আনিমেটিকে স্মরণীয় করে তোলে। শুধু তাই নয়, চরিত্রগুলো পাওয়ার পাফ গার্ল এর মতো সাধারণ ডিজাইনের হলেও আর দশটা আনিমের চরিত্র থেকেও বেশি জীবন্ত মনে হয়।
শুধু এনিমেশনই যে স্পেশাল তা নয়। এর সাউন্ডট্র্যাকও বিশেষত্ব পূর্ণ। বেশিরভাগ ব্রেককোর/ডাবস্টেপ ধারার মিউজিক। ব্যক্তিগত ভাবে আমি ডাবস্টেপ অপছন্দ করি। কিন্তু PSG এর সাউন্ডট্র্যাক এতই অসাধারণ যে শত ঝামেলা-ঝক্কি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আমাজন.কম থেকে কিনেই ফেললাম। Fly Away, Chocolate, Anarchy, Fallen Angel, Beverly Hills Cock, D-City Rock; এই গানগুলো অত্যন্ত মনোরম (unlike most anime OSTs) ও স্মরণীয়।
তো এবার প্লট এবং চরিত্র মূল্যায়নের পালা, আরেকবার পরিস্কার করে নেই Panty & Stocking with Garterbelt এর কনসেপ্ট ওরিজিনাল ও স্বতন্ত্র নয়। গল্পের চরিত্রসমূহ অন্যান্য আনিমের চরিত্রগুলোর মতই প্রচলিত ধাঁচের। কিন্তু তবুও তারা কখন কি করবে তা সম্বন্ধে আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায়না এবং তাদের কাজকারবার কিছুটা মানে ইয়ে কি বলবো, এক্সট্রিম, বাকিটা নিজেরাই বুঝে নিবেন। আর তাদের এই সকল কর্মকাণ্ডই তাদের স্মরণীয় ও পছন্দনীও করে তোলে। সবসময় তারা কোন না কোন ধরনের অদ্ভুত কাজ করে যাচ্ছে ফলে আপনাকে একঘেয়েমিতেও ভুগতে হবেনা। আনিমেটির প্লট ছোট ছোট অনেকগুলো গল্পে বিভক্ত। প্রথম দৃষ্টিতে গল্পগুলোকে একেওপরের সাথে সম্পর্কহীন মনে হলেও আসলে তা নয়। আর প্রত্যেকটি গল্প কমবেশি ১৫ মিনিটের, একঘেয়েমিতে ভোগার সময় কই? I sure prefer this form to that of silly shows like Gintama, where they literally tell you when it is ok to laugh by making a reference to another show and YELLING THEY JUST MADE A REFERENCE!
আনিমেটির কাহিনী দুই বোন, স্বর্গের এঞ্জেল Panty Anarchy এবং Stocking Anarchy-কে ঘিরে। অপরিমার্জিত ব্যবহারের কারণে ঈশ্বর তাদের স্বর্গ থেকে বহিস্কার করে নরক ও স্বর্গের ফল্টলাইনে অবস্থিত দাতেন সিটিতে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন। স্বর্গের টিকেট কিনে আবার ফিরে যেতে হলে তাদের প্রিষ্ট Garterbelt এর তত্ত্বাবধানে দাতেন সিটিতে আক্রমন চালানো দানবীয় সব “ভূত (spirit)” ধ্বংস করে যথেষ্ট হেভেন কয়েন আয় করতে হবে। গল্পের দুই হিরোইনের একজন Panty তার অন্তর্বাস Backlace নামক পিস্তলে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। স্বর্গে ফিরে যাওয়া ছাড়াও তার আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে এক হাজার পুরুষের সাথে মিলিত হওয়া (!)। গল্পের দ্বিতীয় হিরোইন গথিক এঞ্জেল Stocking তার মোজা এক জোড়া কাতানায় রূপান্তরিত করতে সক্ষম। মিষ্টি খাবারের প্রতি তার অবিশ্বাস্য রুচি। Stocking এর ভাষ্য অনুযায়ী, “All the fat I gain goes to my breasts, allowing me to eat sweets to my heart’s content”। প্রিষ্ট Garterbelt তাদের দেখাশোনা করেন, তার বিশেষ কিছু fetish আছে যেগুলো সম্পর্কে এখানে বলতে আমি অপারঙ্গম। এছাড়াও আছে স্বঘোষিত ঘোস্ট হান্টার Brief Rock এবং অদ্ভুত ধরণের কুকুর Chuck।
আনিমেটি দেখে দর্শকদের তিন রকমের রিঅ্যাকশন হতে পারে। এর বাহিরে অথবা মাঝামাঝি অন্য কোন রিঅ্যাকশন হবার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করিনা। যথাঃ
1)THIS IS THE BEST FUCKIN’ ANIME I’VE EVER SEEN IN MY LIFE!!
2)WTF DID I JUST SEE?!
3)THIS IS THE WORST SHIT I’VE EVER ENCOUNTERED IN MY WHOLE GODDAMN LIFE!!
আনিমেটির নির্মাতা হল GAINAX, এই ধরনের গাঁজাখুরি জিনিষ বানাতে আবার তারা সিদ্ধহস্ত। ১৯৯৫ সালে নিওন জেনেসিস এভানগেলিওন বানানোর মাধ্যমে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে এক বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছিল তারা। এভানগেলিওন সে সময়ের আনিমেগুলোর প্লট এবং চরিত্রের ছকেবাধা প্যাটার্নটাকে এক রকম হাস্যকর এবং তুচ্ছ করে তুলেছিল। মেকা (mecha) Genre-টাকে ভেঙ্গেচুড়ে নতুন করে সাজিয়েছিল। এমনকি ভিন্ন কিছু তৈরি করবার ঝুঁকি থেকে অন্যান্য নির্মাতাদের পলায়ন প্রবৃত্তিকেও পরোক্ষ ভাবে ব্যঙ্গ করেছিল GAINEX এর এভানগেলিওন।
তৃতীয়বারের মতো পরিস্কার ভাবে বলে নেই, Panty & Stocking with Garterbelt নিওন জেনেসিস এভানগেলিওন নয় এবং এর মধ্যে বিপ্লবী কিছু নেই। তবে এই আনিমেটি এভানগেলিওনের মতো আরও একবার মনে করিয়ে দেয় নতুন কিছু দেখানোর ঝুঁকি থেকে পালাবার কিছু নেই, যেটা গত ৫ বছর ধরে জাপানিজ আনিমে ইন্ডাস্ট্রি করে আসছে। প্রত্যাশা করা যায় আগামীতে আনিমে নির্মাতারা অত্যাধিক moe ও এচ্চির বদলে ভিন্ন ধাঁচের কিছু আনিমে তৈরিতে উদ্যোগী হবে। মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা অসীম এবং নতুনত্বতে তার নেশা, তবে কেন আমরা সাধাসিধেতেই সন্তুষ্ট থাকব? We can always strive for something different. The sky is the limit… and even that can be pierced by Guren Lagann.
Now for some excused scoring:
- ART SECTION: 10/10
General Artwork 2/2 (looks special)
Character Figures 2/2 (perky and sexy)
Backgrounds 2/2 (lots of sex innuendos)
Animation 2/2 (minimal but highly artistic)
Visual Effects 2/2 (you actually read the sounds)
- SOUND SECTION: 10/10
Voice Acting 3/3 (bonus for profanity)
Music Themes 4/4 (go buy the OST)
Sound Effects 3/3 (cartoony and as I said, you also read them)
- STORY SECTION: 7/10
General Scenario 2/2 (Bitch angel in a deprived city sounds uncommon to me)
Pacing 2/2 (mostly fooling around but doesn’t let you be fed up with the dead time)
Side Stories/Extra Spices 1/2 (present but rushed and superficial)
Believability/Reasoning/Realism 1/2 (the action makes little sense but it’s themes are constant)
Conclusion 1/2 (a cliffhanger, believe it or not)
- CHARACTER SECTION: 4/10
Presence 2/2 (Attractivene and cute)
Personality 2/2 (A bitch, a hard to get goth, a gay afro priest, a Kenny dog; sounds interesting to me)
Backdrop 0/2 (um… what?)
Development 0/2 (who?)
Catharsis 0/2 (where?)
- VALUE SECTION: 8/10
Historical Value 2/3 (very special amongst other anime of its time but not all time classic)
Rewatchability 2/3 (works only the first time but still gets kicks when you show it to others)
Memorability 4/4 (extreme enough not to be forgotten)
- ENJOYMENT SECTION: 9/10
The epitome of guilty pleasure
- TOTAL: 8/10
কিছু কিছু অংশ মোটেও কৌতুককর মনে হয়নি, এছাড়া অত্যন্ত উপভোগ্য। যদি এ ধরণের হাস্যরসে কোন আপত্তি না থাকে তাহলে আনিমেটি দেখতে পারেন। আর যদি আপত্তি থাকে এই আনিমে আপনার জন্য নয়। HATERS GONNA HATE!







