অ্যানিমে সাজেশনঃ সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10014955_577552792409231_3034083471763853742_o

অ্যানিমে- সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু / এ কর্পস বারিড আন্ডার সাকুরাকোস ফিট

অ্যানিমেটি যখন দেখা শুরু করি, এর তিন মাইল লম্বা নাম দেখে মেজাজ খারাপ হয়েছিল, ভাবতাম যে এত বড় নাম হয় কেন রে বাবা লাইট নভেল গুলার!! কিন্তু আজ শেষ পর্বটি দেখার পর মনে হচ্ছে, নাহ!! এই নামকরণ আসলেই সার্থক। ওয়ান পাঞ্চ ম্যান বা নোরাগামী আরাগোতোর হাইপের আড়ালে ঢাকা পড়ার কারণে অনেকেই হয়ত অ্যানিমেটির নামও শোনেননি, কিন্তু মিস্ট্রি জানরার ফ্যানদের জন্য এটি একটি মাস্ট ওয়াচ অ্যানিমে।

1412744_577554125742431_4213871888005648295_o

কাহিনী আবর্তিত হয় কুজোও সাকুরাকো নামের সুন্দরী অস্টিওলজিস্ট এবং তার হাইস্কুল পড়ুয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট শৌতারোকে ঘিরে। হাড়প্রেমী খামখেয়ালী সাকুরাকো সান হাড়ের সন্ধান পেলে দুনিয়া ভুলে যান, আর তার এই খামখেয়ালীপনার লাগাম টেনে ধরে শৌতারো। মৃতদেহ কথা বলে তার সাথে; হাড়ের অবস্থা দেখে সাকুরাকো সান সমাধান করে রহস্যের, বের করে আনে লুকিয়ে থাকা চাবিকাঠি।

অ্যানিমেটির গ্রাফিক্স অনেক বেশি সুন্দর, আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার পার্ফেক্ট। অ্যানিমেটিতে দেখানো মিস্ট্রিগুলো খুবই চমকপ্রদ, সেকেন্ড সিজনের জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।

মাত্র ১২ পর্বের এই অ্যানিমেটি যারা দেখেননি এখনও, দেখে ফেলতে পারেন, ভাল লাগবে আশা করি। আমার কাছে এটি এ বছরের সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি।

1933220_577553085742535_1007971363804566011_o

এনিমে সাজেশন: Kuroko no Basuke — Fahmida Ahmed Mou

কুরোকো নো বাসুকে (Kuroko no Basuke) 😀 খুব কমন তাইনা! 😀
নাম নিলেই আমার দুপাটি দাঁত অটোমেটিক বের হয়ে যায় 😀
আত্মার সাথে মিশে যাওয়া অ্যানিমে খুব কমই আছে যেগুলার মাঝে এইটা একটু বেশিই জোস 😀
এখন পর্যন্ত ‪#‎সিজন‬– ৩টা
নামেই বোঝা যাচ্ছে স্পোর্টস অ্যানিমে!

KnB 3
#‎ছোট্ট_সারসংক্ষেপঃ‬
এ গল্পটা বাস্কেটবল ভালোবাসার ।
পারি তাই খেলি আর খেলাটা ভালবসি তাই খেলি এদুটোর পার্থ্যকের গল্প।
গল্পটা টিমের মাঝে Ace হয়ে একাই খেলা আর Ace হয়েও টিমমেটদের সাথে মিলে খেলার তফাৎ এর গল্প!
গল্পটা সেনপাইদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর ডেডিকেশনের!
এ গল্পটা …. না থাক এত বললে ক্যামনে হবে! :v বাকিগুলা আপনারাই দেখবেন!
জাপানে বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট হয়। মিডলস্কুল, হাইস্কুল সবারই আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত।
তবে প্রায়ই মিডলস্কুলে থাকাকালীন খেলোয়াড়রা হাইস্কুলের টুর্নামেন্টে এসেও একে অন্যের সাথে দেখা হয়ে যায়!
জাপানের সমসাময়িক ইতিহাসের মিডলস্কুল টুর্নামেন্টে ★তেইগা মিডলস্কুলের ‪#‎জেনারেশন_অফ_মিরাকল (আওমিনে, মিডোরিমা, মুরাসাকিবারা, কিসে &আকাশি) এবং #‎ফ্যান্টম_সিক্সথ_ম্যান‬ (কুরোকো) নামে একটা রিউমর প্রচলিত থাকে।
যখন তারা মিডলস্কুল ছেড়ে হাইস্কুলে ওঠে ৬জনই ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে যায়!
আমেরিকা থেকে আসা ★কাগামি তাইগা #‎সেইরিন‬ হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার পরে এসব জেনে সে লক্ষ্য নেয় অই ‪#‎৬লিজেন্ড‬ কে পরাজিত করার।
But he’ve no idea what hell players they are 😛
আর একই স্কুলে ভর্তি হয় সেই জেনারশন অফ মিরাকল এর ফ্যান্টম সিক্সথ ম্যান কুরোকো তেতসুয়া! 😀
ব্যাস আরকি! খালি ব্যাক টু ব্যাক খেলা, সাসপেন্স, এক্সাইটমেন্ট সবকিছু মিলিয়ে প্রতিটা সিজন, প্রতিটা এপিসোড জমে দই হয়ে থাকে 😛

KnB 2
#‎আপনি_কেনো_দেখবেন‬?
আপনাকে দেখতেই হবে কারণ আমি বলছি 😛 (dnt be serious) আসলে যা বলার উপরেই বলে ফেলছি!
সত্যি বলতে এর প্রশংসা করার জন্য আমার কাছে সবসময় বাক্যের অভাব মনে হয়! 😀
একটা সাধারণ খেলা বাস্কেটবল নিয়ে যে এত অসাধারণ একটা অ্যানিমে বানানো যায় আপনি দেখলে উপলব্ধি করতে পারবেন না! খেয়াল করে দেখলে বা শুনলে …..
তাঁদের ছোট্ট ছোট্ট বান্দ্রামি আপনাকে হাসাবে হিউজ, তাদের মন খারাপ, কষ্ট আপনাকে টাচ করবে খুব, তাদের আনন্দে আপনি আনন্দিত হবেন কত!

KnB 1

‪#‎আমার_অভিমতঃ‬
আপনার মনে হবে আমি অতিরঞ্জন করছি! কিন্তু
হাইসেন না, টু বি অনেস্ট
প্রত্যেকটা পর্বের প্রতি মোমেন্টে আমি ওদের সাথে যেনো মিশে ছিলাম।
হাসি, দুঃখে, আনন্দে, জয়-পরাজয় সবকিছু যেনো হার্ট থেকে উপলব্ধি করেছি!
টুকটাক চোখের পানিও এসেছে আনন্দে কিংবা দুঃখে 😀
আমি যে পরবর্তীতে কিছু গেম আরো কতবার রিপিট করছি তার ইয়ত্তা নাই!
যাক
যাঁরা দেখসেন তারাতো দেখসেন যাঁরা দেখেন নাই তাঁরা অবশ্যই 😀
ধন্যবাদ

এনিমে সাজেশন: Psycho-Pass — Fahmida Ahmed Mou

সাইকো পাস (Psychopass)
জনরাঃ সাইফাই সাইবারপাংক
সিজন ২টা।
#১ম‬ সিজনে ২২টা এপিসোড আর #‎২য় সিজনে ১১টা।
#‎স্টোরি_সংক্ষেপঃ‬
জাপান এখন বহুত উন্নত, হাইলি ডিজিটালাইজড।
[ছোট্ট মেকাপ বক্সের মত একটা জিনিসে ইচ্ছামত পোশাক চুজ করে রাস্তাঘাটেও ইজিলি পোশাক চেঞ্জ করা যায় 😀 (এইটা কিউট লাগছে) ]
একমাত্র অপরাধী হচ্ছে সাইকো-পাস যারা।
সিভিল-সিস্টেম কঠোর হাতে দমন করে আসছে অপরাধীদের।

PP 1

পুলিশের পিস্তলগুলা দিয়ে আর ঠাইঠাই গুলি করতে হয়না এবং একজনের পিস্তল আরেকজন ব্যাবহার করতে পারেনা!
পিস্তল আগে ব্যাবহারকারীর আইডেন্টিটি কমফার্ম করে, কারো দিকে তাক করলে তার সাইকো-পাস পার্সেন্টেজ দেখে যদি পজিটিভ আসে তবেই লক খোলে এবং গুলি করা যায়!
ঠু ফার!
সব এতবেশি যান্ত্রিক না দেখলে ভাবা যায়না!
কিন্তু
সবসময় ল সবার ক্ষেত্রে খাটেনা। কিছু মানুষ হঠাৎ জন্মে যারা যেকোনো সমাজের সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।
এ ঘটনা সৃষ্টির আদি থেকেই ঘটছে।
তবে মানবিকতা বা নীতিবোধ না থাকলে সচারচর সেসব ধোপে টেকেনা যদি আইন প্রয়োগ সংস্থায় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত কেউ থাকে।
তেমনি এই অ্যানিমেতে….
মাকাশিমা সমাজের লেইম সিস্টেম চেঞ্জ করতে প্ল্যান করে এবং সেটা যেইসেই প্ল্যান না! আমার দেখা ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট ভিলেন 😀
আমি অবশ্য মাকাশিমার সাথে একমত ছিলাম কেবল কাজের ধরণটা নেগেটিভ!
মাকাশিমার দিকে পিস্তল তাক করলে সবসময় পিস্তল লক থাকে কারণ তার সাইকো-পাস কখনোই পজিটিভ আসেনা 😛 হাউ হাইলি সেল্ফ পারসোনালাইজড হি ইজ! 😀
ডিটেকটিভ
*গিনোজা এবং *আকানে সিনোমোরি!
আরো থাকে ★ইনফোর্সার
[ইনফোর্সার হলো
যারা একসময় অপরাধী হিসাবে জেলে আসে এবং পরে তাদের অপরাধী ধরতে ইউজ করা হয় অপরাধী মাইন্ডের জন্য। অনেকটা আর্মিতে ব্যাবহৃত কুকুরদের মতো ]
এদের মাঝে থাকে
কোগামি, কাসাওকা, কুনোজাকি, কারানোমোরি, কাগারি।
সিজন ১ এবং ২ এর থিম একই মোটামুটি স্টোরি আর চরিত্র ভিন্ন হয়।
২তে একটা হালকা টুইস্ট আছে।

PP 2

★আপনি সাইকো-পাস কেনো দেখবেন?
এটা ওটাকুদের কাছে স্টোরি বেজলাইনে, প্লটে বা থিমে খুব আহামরি লাগবেনা কারণ এর থেকে বহু হাইরেটেড অ্যানিমে আপনি দেখেছেন
কিন্তু একটা কথা সিউর…
আপনি সবসময় ভাববেন “আরে জানি এরপর এই হবে” কিন্তু হবেনা 😛 এখানে খুব স্পেশাল যেকেউই মারা যাবে দুম করে আপনি বুঝে ওঠার আগেই, চেঞ্জ হবে অন্য চরিত্রে মানে টোটালি আন প্রেডিকটেবল ঘটনা আর স্ট্রং ভিলেন মিলিয়ে আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখেই যেতে হবে 😀 এবং টুইস্ট দেখে চমকে যাবেন দূর্বল হার্ট হলে বমিও করতে পারেন 😛
তাছাড়া ডায়লগ গুলোও বেশ স্ট্রং। মনযোগ দিয়ে শুনলে ভালো লাগবে।

PP 3
★আমার অভিমতঃ
ভালো লেগেছে। বলা যায় এক বসাতেই শেষ করেছি পরপর দুটো সিজনই :v
প্রথম কথা হলো আই এডোর কোগামি ভেরি মাচ।
আকানের উইক আর হাস্যকর ক্যারেক্টারটা দেখে প্রথমে প্রচন্ড বিরক্ত আসছিলো।
[ ব্লাড+দ্যা লাস্ট ভ্যাম্পায়ার এর নায়িকা “ছায়া”কে দেখে যেমনটা আসছিলো ]
বাট পরে যাইহোক ভালো লেগেছে। আলটিমেটলি যে যারযার চরিত্রে পারফেক্ট ছিলো দোষ-ত্রুটি মিলিয়ে।
আর
সিজন-২ তেঃ
আই হ্যাভ ব্যাডলি মিসড কোগামি! প্রত্যেক পর্বের, প্রতি মোমেন্টে চাইছিলাম কোগামি আসুক
ও আরেকটা ব্যাপার
পিস্তলগুলার সিস্টেমটা জঘন্য কেনো বলছি দেখলেই বুঝবেন।

ভালো থাকুন সবাই
ধন্যবাদ 😀

Rare Anime Recommendation: Chinmoku no Kantai — Rafid Rahim

Chinmoku no Kantai
জনরাঃ Military, Seinin, Drama, OVA
Link: https://www.youtube.com/watch?v=euV4ki99yvk

(এই আনিমেটি কেউ সাব করেনি সুতরাং ইউটিউবে শুধু এর ইংরেজি পাওয়া যায়,অন্য কোন সাইটে পাওয়া যায় না)

ব্যক্তিগত রেটিং: ৭.০/১০
পটভূমিঃ সময়টা ৭০ দশকের দিকেই স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন,আমেরিকা একটি অত্যাধুনিক পরমানবিক সাবমারিন তৈরি করে। সাবমারিনটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কিছু জাপানিজ ক্রুদের।কিন্তু তারা সাবমারিনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।সাবমারিনটির মধ্যে পরমানবিক অস্ত্র আছে বলে সবাই তাদের ভয় করতে শুরু করে।
আমেরিকান নৌবাহিনী তাদের সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে সাবমারিনটি ধাওয়া করলেও প্রতিবারি বিভিন্ন চৌকশ কৌশল অবলম্বন করে তারা বার বার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।কিন্তু জাপানিজ ক্রুরা সাবমারিনটি নিয়ে পালালো কেন?তাদের লক্ষ কি?তারা কি Defect করার চেষ্টা করেছে নাকি বিশ্বযুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছে? রহস্যটি জানতে হলে অবশ্যই আনিমেটি দেখতে হবে।

মুভিটিতে দেখার মত যা যা আছে-
# কমব্যাট দৃশ্য গুলো খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। সাবমারিন নিয়ে যে কত ধরনের চতুর কৌশল ব্যবহার করা যায় তা এই মুভি না দেখলে কল্পনাও করা যাবে না।
# পুরো মুভি জুড়ে প্রচুর অ্যাকশান, ড্রামা, সাসপেন্সে এবং থ্রিলার দৃশ্য রয়েছে।
#৭০ দশক এর বিভিন্ন হিস্তরিকাল ফিগারদের এই মুভিতে দেখানো হয়েছে।

বিদ্রি-
# এই আনিমেটি হলিউড মুভি “The Hunt for Red October” এর সাথে কিছু মিল পাওয়া যায়। তবে আনিমেটির মাঙ্গা হলিউড মুভিটি বের হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল।
# এই আনিমেটি “The Silent Service” মাঙ্গা থেকে ৩টি OVA হিসেবে বের হয়েছিল। ৩টি OVA একসাথে করেই মুভিটি পাওয়া যায়।
# আনিমেটা কিছুটা জাপানিজ পক্ষপাতপূর্ণ যা অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে।

Chinmoku no Kantai

Movie Time With Yami – 70

safe_image (1)

আনিমে মুভি যারা মোটামুটি দেখেন, তাদের কাছে মাকোতো শিনকাই নামটি অজানা নয়। এই ডিরেক্টর মূলত কোতোনোহা নো নিওয়া, ৫ সেমি / সেকেন্ড সহ তার পরিচালিত ভারী বাজেটের আনিমে মুভিগুলোর জন্যে সুপরিচিত। তার মুভিগুলোতে যে ব্যাপারগুলো খুব অহরহ পাওয়া যায়, তা হল উজ্জ্বল চোখ ধাঁধাঁনো অ্যানিমেশন, খুব সুন্দর ওএসটি আর ভালবাসার সম্পর্কের টানাপড়েন। আজ আমি এই পরিচালকের কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী কাজের কথা তুলে ধরছি আপনাদের সামনে। দুই থেকে সাত মিনিট দৈর্ঘ্যের ছোট ছোট এই অ্যানিমেশন গুলোর মাঝে প্রথম দুটি মাকোতো শিনকাই এর সিগনেচার আর্টস্টাইল ফলো করে, যা দেখলে এই এই ডিরেক্টরের কাজের সাথে পরিচিত যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবে এটি কার কাজ। আর মানবিক সম্পর্কের খুব সূক্ষ্ম দিকগুলো এই অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে তিনটি অ্যানিমেতেই।

Dareka No Manazashi

বলা হয়ে থাকে, একটি পরিবার সম্পূর্ণ হয়, যখন সেই পরিবারে সন্তানের জন্ম হয়। বাবা-মা ও সন্তাতানেরা সবাই একসাথে থেকে একে অপরকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তারপর হয়ত একটা সময় আসে, যখন সন্তানেরা নিজেদের পথ নিজেরা বেছে নিয়ে একাই সে পথে রওনা হয়ে যায়, পিছনে পড়ে থাকে সেই পুরোনো পরিবার। কিন্তু এভাবে কি সবসময় সুখ খুঁজে পাওয়া যায়? মাত্র ৬ মিনিট সময়ের মাঝে বেশ মনকাড়া অ্যানিমেশনের মধ্য দিয়ে এই সুন্দর গল্পটি দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

লিঙ্ক – https://youtu.be/KSwbnUQJGnA

Cross Road

এটি থেকে আসলে তেমন কিছু আশা করার নেই, কারণ এটি আসলে একটি কোম্পানির হাই বাজেট বিজ্ঞাপন। তারপরেও এটি সাজেস্ট করার কারণ, ২ মিনিটের মাঝে শিনকাই এর উজ্জ্বল আর্টওয়ার্ক দেখার সুযোগ ও খুব হাসিখুশি একটি স্লাইস অফ লাইফ মুভি হওয়ার পটেনশিয়াল সমৃদ্ধ একটি ট্রেলার দেখা, যা শিনকাই এর জন্য বেশ বিরল।

লিঙ্ক – https://youtu.be/AfbNS_GKhPw

Kanojo to Kanojo no Neko

অ্যানিমেটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫ মিনিট, আর পুরো অ্যানিমেটিতে শুধুমাত্র দুটো রং ব্যবহার করা হয়েছে, সাদা ও কালো। কিন্তু এই অল্প সময়ের মাঝে একটি বেশ মনকে ছুঁয়ে যাওয়া কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, শুধুমাত্র দুটো চরিত্রের মাধ্যমে! একটি মেয়ে ও তার পোষা বিড়াল, এই দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একই ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। স্টোরিতে হয়ত তেমন গভীরতা নেই, তারপরেও বেশ উপভোগ্য একটি ওভিয়ে এটি।

লিঙ্ক – https://youtu.be/jc2xSY0iBiY

এটি এই সেগমেন্টের শেষ পর্ব। অনেক ধন্যবাদ এতদিন ধরে যারা নিয়মিত সেগমেন্টটি ফলো করেছেন তাদের, সেইসাথে এনিমখোরের সকল মেম্বারকেও ধন্যবাদ আমাকে এতদিন সাপোর্ট করার জন্যে। এবং সেইসাথে শেষবারের মত- সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 69

safe_image

Name: The Case of Hana & Alice / Hana to Alice: Satsujin Jiken
Duration: 1 hr. 38 min.
MAL Score: 7.42
Ranked: 1787
Genre: Drama

যেকোন স্কুলের জন্য একটা চিত্র বোধহয় একইরকম হবে, ট্রান্সফার স্টুডেন্টের সবার সাথে মানিয়ে নেয়ার যুদ্ধ। পুরাতন স্টুডেন্টরা মনে করবে, কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসতে চেষ্টা করছে! আর ট্রান্সফার স্টুডেন্টকে বুলিইং করতে চেষ্টা করবে।

কিন্তু আরিসুজাওয়া এসবের থোড়াই পরোয়া করে। সে বুলিইংকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মত ঘুরে বেড়ায়, সবাইকে সাহায্য করতে চেষ্টা করে।
এরই মাঝে সে জানতে পারে ক্লাসের এক অদ্ভুত গল্প। বাইবেলের জুডাস ও তার চার স্ত্রী, অ্যানাফাইলেক্সিস, মৃত আত্মা ও সারাবছর অ্যাবসেন্ট থাকা স্টুডেন্ট- সবমিলিয়ে কাহিনীর আগামাথা কিছুই বুঝতে পারে না আরিসুজাওয়া। কিন্তু দমে না গিয়ে সে আস্তে আস্তে খোঁজ করতে থাকে। আর বেরিয়ে আসে এতসব আজগুবি কথার পেছনের গল্প।

মুভিটির গল্পটি বেশ ইন্টারেস্টিং, আমার বেশ ভাল লেগেছে। কাহিনীটা ঠিকমত বুঝতে হলে পুরো মুভিটিই শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়, এই ব্যাপারটা ভাল লেগেছে। পেসিং শুরুতে একটু স্লো হলেও পরবর্তীতে ঠিক হয়ে যায়। আর্টওয়ার্ক মোটামুটি, চরিত্রগুলোর নড়াচড়া করার ধরণটা আমার ভাল লাগেনি। সাউন্ডট্র্যাক মনে রাখার মত না হলেও ভাল।

মুভিটি এ বছরই মুক্তি পেয়েছে একটি লাইভ একশনের প্রিক্যুয়াল হিসেবে, তাই দেরি না করে এখনই দেখে ফেলুন, আর ভাল লাগলে টপচার্টে একে সাপোর্ট করুন!!

Movie Download Link- http://kissanime.to/Anime/Hana-to-Alice-Satsujin-Jiken

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 68

safe_image

Name: Giovanni’s Island / Giovanni no Shima.
Duration: 1 hr. 42 min.
MAL Score: 7.89
Ranked: 680
Genres: Drama, Historical

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের কথা। জাপানের এক প্রান্তে একটি শান্ত, সুন্দর অচেনা দ্বীপে হঠাৎ আগমন ঘটে রাশিয়ান সৈন্যবাহিনীর। দ্বীপের বাসিন্দারা নিরীহ মৎস্যশিকারী, সেনাবাহিনীর আগ্রাসন মাথা পেতে মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকে না।

এই গ্রামেই বাস করে জুনপেই ও কান্তা নামের দুই কিশোর। মিয়াজাওয়া কেনজির একটি বিখ্যাত উপন্যাসের দুই চরিত্র জিওভান্নী ও ক্যাম্পানেলার নাম থেকে তাদের নাম অনুপ্রাণিত। এ কারণেই হয়ত এই দুই ভাইয়ের “নাইট অন দ্য গ্যালাকটিক রেইলরোড” উপন্যাসটি অনেক প্রিয়। তারা স্বপ্ন দেখে, একদিন গ্যালাকটিক রেইলরোডের দেখা পাবে তারাও, আর সেই রেইলরোড অনুসরণ করে তারা পৌছে যাবে এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে কোন ভিনদেশী সৈন্য এসে তাদের ঘরছাড়া করবে না, পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনেক সুন্দর জীবন যাপন করবে তারা।

জিওভান্নী নো শিমা মুভিটি যুদ্ধের গল্প, নিরূপায় মানুষদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প, শত কষ্টের মাঝেও আপনজনদের কাছে পাওয়ার আকুতির গল্প, ভাষা ও সংস্কৃতির বাঁধা অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার গল্প। মিয়াজাওয়া কেনজির গল্পের বিভিন্ন লাইন ব্যবহার করে কল্পনা ও বাস্তবতার মিশেলে অনেক হৃদয়স্পর্শী একটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। জুনপেই এর স্মৃতিগুলো যেন ছড়িয়ে রয়েছে দ্বীপটির কোনায় কোনায়, এত বছর পরেও তা এখনো তাজা!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত বেশি সুন্দর, অনেক বেশি ফ্লুইড অ্যানিমেশন, যা চোখকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ক্যারেক্টারগুলো নিজের অজান্তেই কখন যে আপন হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। কাছে টেনে নেওয়ার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আছে মুভিটির। সাউন্ডট্র্যাক পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব মানানসই, বাচ্চাদের অপরিণত গলায় গাওয়া গানগুলো মনটাকে জুড়িয়ে দেয়। আর এ মুভিটির এন্ডিংটা অতিরিক্ত সুন্দর, আমার খুব বেশি পছন্দ হয়েছে কাহিনীটা; সর্বোপরি এর বর্ণনাশৈলী।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Giovanni-no-Shima

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 67

Name: Bungaku Shoujo / Literature Girl
Duration: 1 hr. 40 min.
MAL Score: 7.71
Ranked: 981
Genres: Drama, Mystery, Romance, School

একটা সুন্দর মুভি বা টিভি সিরিজ দেখার পরে আপনার ভাললাগার অনুভূতিটা নষ্ট করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়টা কি বলতে পারেন? উত্তর- বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে “বিখ্যাত” ক্রিটিকদের বিশ্লেষণমূলক রিভিউ পড়া। বুঙ্গাকু শৌজো মুভিটি দেখার পর আমার এত বেশি ভাল লেগেছিল যে, আমি দৌড়ে গেছিলাম এটার রেটিং, রিভিউ ঘাটাঘাটি করতে। এবং সেগুলো দেখার পরে আমি উপলব্ধি করি, কোনরকম ধারণা ছাড়া মুভিটি দেখা শেষ করে আমি আসলেই ভাল কাজ করেছি।

ইনৌয়ে কোনোহা, আমাদের অ্যাভারেজ হাইস্কুল স্টুডেন্ট। শান্তশিষ্ট, চুপচাপ এ ছেলেটির সাথে একদিন স্কুলের ক্যাম্পাসে দেখা হয় একটি অদ্ভুত মেয়ের। নিজেকে “বুঙ্গাকু শৌজো” বা লিটারেচার গার্ল নামে পরিচয় দেয়া এ মেয়েটি প্রতীকী অর্থে নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই বই এর পৃষ্ঠা চিবিয়ে খায়। এক একটি গল্প এ মেয়েটির কাছে এক একটি সুস্বাদু স্ন্যাক!

এ পর্যন্ত শোনার পর মনে হতে পারে, এইতো, শুরু হল হাইস্কুল রোমান্স এর প্যানপ্যানানি, খালি এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটা একটু নতুন লাগছে। আমিও তাই ভেবে বসেছিলাম! এই মুভিটি দেখার আগে এর ১৫ মিনিটের একটি ওভিয়ে দেখা ছিল, সেটিও এমনই একটা আভাস দিয়েছিল। সুন্দর আর্টওয়ার্ক, প্রশান্তিদায়ক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাহিনীটাকে উপভোগ করতে বেশ সাহায্য করছিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মোড় ঘুরে গেল কাহিনীর!! বেরিয়ে এল কোনোহার অতীত জীবনের এক বেদনাদায়ক কাহিনী, হাইস্কুল রোমান্স পরিণত হল মানবিক টানাপড়েন এর এক অপরিচিত গল্পে।

আচ্ছা, অনেকেই তো বলে, ভালবাসার মানুষকে কাছে রাখার জন্য আমি সবকিছু করতে পারব। সেই সবকিছুর দৌড়টা আসলে কতদূর? মিরাই নিক্কির গাসাই ইউনোর কল্যাণে সেই কতদূরের দৌড় কিছুটা হয়ত জানা আছে আমাদের, কিন্তু সেটা আমার কাছে অতি অবাস্তবতার মত লেগেছিল। এই মুভিটিতে বরং ব্যাপারগুলো বাস্তবতার খুব কাছাকাছি রেখে দেখানো হয়েছে, আর তাই আরও বেশি ভাল লেগেছে।

এ পৃথিবীতে কোন কিছুই নিখুঁত নয়, অবশ্যই এ মুভিটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে মুভিটি তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গেছে, অবশ্য এটা রিভিউ নিয়ে ঘাটাঘাটি করার আগে তেমন বড় হয়ে চোখের সামনে আসেনি। আর তা হল, লিটারেচার গার্ল নিজে। মুভিটির মাঝখানের বড় একটা অংশে তার কোন খোঁজ নেই, যদিও ঠিক সময়ে সে তার গুরুত্ব ঠিকই ফিরে পেয়েছে। কিন্তু তার এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটায় কোন আলোকপাত করা হয়নি, এটা একটু হতাশার ব্যাপার।

যাই হোক, সবমিলিয়ে মুভিটি আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে, মানবিক সম্পর্ক ও টানাপড়েন এর ব্যাপারটা এর আগে কোন মুভিতে এত সুন্দরভাবে পাইনি, আর ভুলোমনা লিটারেচার গার্ল এর পরিণত আচরণ আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl
OVA Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl-OVA

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Tsuritama অ্যানিমে রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tsuritama.full.1107613

জনরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ, স্পোর্টস, সাই-ফাই

“Even if the world ends tomorrow, I just want to fish!”

আচ্ছা, আপনারা কেউ কখনো বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন? কেমন লাগে ব্যাপারটা? কাঠির গায়ে সুতো বেঁধে পানিতে টোপ ফেলে চুপ করে বসে বোরিং সময় কাটানোর মাঝে কি এমন থাকতে পারে, যা নিয়ে হারু আর কোকো এত হাইপড? কিংবা বড়শিতে মাছ গাঁথার পর সেটাকে খেলিয়ে ডাঙায় তোলা কি এমন কঠিন কাজ, যার জন্যে নাতসুকিকে “প্রিন্স” উপাধি দেয়া হয়েছে?কি এমন রয়েছে এই মাছধরাতে, যে দুনিয়া উল্টে গেলেও কিছু যায় আসে না??

কিংবা মনে করুন, আপনি একজন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট। কিন্তু অনেক লোকজনের সামনে আপনি অত্যন্ত অকওয়ার্ড ফিল করেন। তাও কষ্টেসৃষ্টে ফার্স্ট ইমপ্রেশনটা ঠিক রাখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে গেলেন। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে শুনতে আপনি স্পীচ দেয়া শেষ করে কেবল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হল রাস্তায় দেখা হওয়া সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন ছেলেটি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরো ক্লাসের সামনে, হাত নেড়ে এনোশিমা ডান্স করা অবস্থায়!! গেল আপনার সাধের ফার্স্ট ইম্প্রেশন!

HorribleSubs_Tsuritama_-_10_720p.mkv_snapshot_04.04_2012.06.16_13.44.05
অথবা, সবসময় একটা হাঁস বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হারুর ব্যাপারে সে এত সতর্ক কেন? ইউকি আর নাতসুকিকে জোর করে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি ছাড়া তো আর তেমন কিছুই করেনা সে। কিংবা হারুই বা সমুদ্রে মাছ ধরতে এত আগ্রহী কেন? এনোশিমার প্রাচীন লোকগাঁথার সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে?

অ্যানিমেটার শুরুটা এমনই ওলট পালট মার্কা, কোথা থেকে কি হচ্ছে আমি কিছু ঠাহর করে উঠতে পারছিলাম না। মাথায় মাছের জার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন হারুর কাজকর্ম দেখে হাসি পাচ্ছিল, আবার ওর সরলতা দেখে মায়াও লাগছিল। কিন্তু যত এগোলাম, তত যেন কাহিনীটা আমাকে ভেতরে টানতে থাকল! ভেবেছিলাম কি, আর শেষে হলটা কি! সিম্পল একটা মনকে খুশি করে দেয়া হাসিখুশি স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে হঠাৎ হয়ে গেল একটি জমজমাট রূদ্ধশ্বাস সাইফাই অ্যানিমে! এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপারটি হল, এতকিছুর মধ্যেও অ্যানিমেটা আমার মুখ থেকে একবারের জন্যেও হাসিটা মুছতে দেয়নি!
tsuritama_by_squ_chan-d56d05l
অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত সুন্দর। উজ্জ্বল, ঝলমলে রঙ ব্যবহার করে এনোশিমা নামক সমুদ্র উপকূলের শহরটিকে খুব মনোমুগ্ধকর উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে; দেখে যে কারও মনে হতে বাধ্য, একবার যদি এনোশিমায় যেতে পারতাম! ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ উদ্ভট, আর এই উদ্ভট ডিজাইনের কারণেই যেন অ্যানিমেটা প্রাণ পেয়েছে। নাতসুকির মাছধরা বিষয়ক জ্ঞান, ইউকি ও হারুর এ বিষয়ে অজ্ঞানতা, শুধুমাত্র এই ফিশিং এর কারণে চারটা ছেলের জীবনে পরিবর্তন, তাদের মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে দেখলে নিজের অজান্তেই তাদেরকে আপন মনে হতে থাকবে!

অ্যানিমেটার ওএসটি খুবই চমৎকার, ওপেনিং এন্ডিং একটাও স্কিপ করার মত না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্রতিটা সিচুয়েশনে পার্ফেক্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাছধরা থেকে শুরু করে ক্লাইম্যাক্স, সবখানেই নিখুঁত আবহ তৈরি করেছে এর ওএসটি।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা আবার খুবই ভাল লেগেছে, ভিন্নধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ ও সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ দেখে আরও বেশি ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরেও তাপিওকার “ডাক” মনে করে আমি হাসব, নাতসুকি, ইউকি, হারু আর ইয়ামাদার বন্ধুত্বের কথা মনে করে আনন্দ পাব। আর ক্লাইম্যাক্সের সেই লোম খাড়া করা মূহুর্তগুলো তো কখনোই পুরনো হবার নয়!

tsuritama_wallpaper_by_chatlantic-d5974r8

অ্যানিমে রিভিউঃ বারটেন্ডার; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

lunar-bartender-01-x2641280x7201639e648-mkv_snapshot_04-25_2011-03-19_02-30-54

আজ দেখে শেষ করলাম “বারটেন্ডার”। রাফিউলের ভাষায় বলি, “বাউরে বাউ, কি যে দেখলাম এইটা!!” হার্ড লিকারের উপর কেউ পিএইচডি করতে চাইলে এই অ্যানিমে দেখা আবশ্যক!!

সাসাকুরা রিউ একজন বারটেন্ডার। টোকিও শহরের গিনজা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বার, “এডেন হল।” রিউ অত্যন্ত দক্ষ একজন বারটেন্ডার, যে কারণে তার তৈরি করা ককটেলকে বলা হয় “গ্লাস অফ গড”। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যারেক্টারিস্টিকের এবং ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল স্ট্যাটাসের মানুষ আসে বারে, আর এক গ্লাস ককটেলের সাথে উঠে আসে তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। সাসাকুরা রিউ নৈপুণ্যের সাথে ককটেলের গ্লাসে ফুটিয়ে তোলে তার শিল্পকর্ম, আর সেইসাথে এর সাথে সম্পর্কিত একেকটি অদ্ভুত গল্প দিয়ে মুগ্ধ করে অতিথিকে, কারণ, একজন বারটেন্ডারের যে দায়িত্ব এটা, অতিথি যেন যাওয়ার সময় একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি সাথে করে নিয়ে যান।

অ্যানিমের কাহিনী এপিসোডিক, প্রতিটা পর্বে বিভিন্ন ধরণের ককটেল আর তার সৃষ্টির ইতিহাস বেশ ইন্টারেস্টিংভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সাসাকুরা রিউ যখন ককটেলগুলো বানায়, ঐ দৃশ্যটা বেশ অ্যামেজিং। আর প্রতিটা মানুষের মনের ভেতরের কথা সে যেভাবে টেনে বের করে আনে, এটাও ইন্টারেস্টিং।

অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অনেক ভাল, সঙ্গত কারণেই “ডেথ প্যারেড” এর কথা বারবার মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন চমৎকার, আর ওএসটিও বেশ ভাল। এন্ডিং সংটা একবারও স্কিপ করতে পারিনি।

সবমিলিয়ে খুবই এক্সেপশনাল এবং ইন্টারেস্টিং একটি অ্যানিমে এটি, ১১ টা এপিসোড বেশ উপভোগ করেছি।

12022554_555071621324015_3926291896555078707_o