Sakib’s Hidden Gems – Episode #04
আনিমে: Seirei no Moribito (Moribito – Guardian of the Spirit)
Sakib’s Hidden Gems – Episode #02
আনিমে: Ueki no Housoku (The Law of Ueki)
Sakib’s Hidden Gems – Episode #01
Anime:Top Secret: The Revelation
Omake: Tsumiki no Ie (The House of Small Cubes)
MAL Link: https://myanimelist.net/anime/5365/Tsumiki_no_Ie
মাত্র ১২ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটিতে একজন মানুষের জীবন কাহিনী খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সংলাপবিহীন এই ছবিটিতে আসলে কী বোঝান হয়েছে, তা নির্ভর করবে আপনি কীভাবে তা Interpret করছেন তার উপর। আমি যখন প্রথম দেখি, তখন যেভাবে বুঝেছি, পরেরবার অন্যভাবে বুঝেছি। তবে আপনি যেভাবেই বুঝেন না কেন, গল্পটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। তাই এখনি নিচের ভিডিওটি দেখে আসতে পারেন।
Movie Time With Yami – Pseudo Episode (টিং টং মুভি টাইম)
টিং টং, সিউডো মুভি টাইম উইথ ইয়ামি
আজকে মুভি দিবস পালন করলাম, তাই মেলাদিন পরে মুভি নিয়ে আবার কিছু লিখতে ইচ্ছা হল। রিভিউ টিভিউ দেয়া ধাতে পোষাবে না, কোনটা কেমন লাগল খালি সেটা লিখতেসি।
১. পেঙ্গুইন হাইওয়ে –
খুবই ভাল লেগেছে। বাচ্চাকাচ্চা পোলাপানের ইঁচড়েপাকা গবেষণা, ট্যান্ট্রাম থেকে শুরু করে শহরের মাঝখানে পেঙ্গুইনের আবির্ভাব, সবমিলিয়ে মোটামুটি উদ্ভট একটা প্লটকে খুব এঞ্জয়েবল ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। একটা মুহূর্তের জন্যও স্লো বা বোরিং লাগেনি। অ্যানিমেশন, ওএসটি খুবই সুন্দর। যেকোনো আনিমেতে আমি ব্যাকগ্রাউন্ড, বাড়িঘর, গাছপালা, আকাশ বাতাসের দিকে আলাদা করে নজর দেই, এইখানে সেগুলো খুবই যত্ন নিয়ে বানিয়েছে, so I’m happy!!
২. কিমি তো নামি নি নোরেতারা –
আমি খুবই খুশি যে সিনোপসিস না পড়ে বা কোনোরকম গবেষণা ছাড়া শুধুমাত্র পোস্টার দেখে এই মুভি দেখতে বসেছিলাম। এইজন্য শুরুর ২৪ মিনিটের মিষ্টি অংশটুকু খুব ভাল লেগেছে দেখে। এরপরে মোটামুটি ইমোশনের আপ ডাউনের উপর দিয়ে পার করেছি। প্লট মোটেও নতুন না, এর আগে এরকম প্লট নিয়ে আরও মুভি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, এক্সিকিউশনের কারণে কাহিনিটা আপন আপন লেগেছে। এন্ডিং পছন্দ হয়েছে। অ্যানিমেশন, ওএসটি ভাল, আমার মাথায় এখন মুভিতে অতি ব্যবহৃত গানটা কন্টিনিউয়াস ঘুরপাক খাচ্ছে।
৩. নি নো কুনি –
উপরেই রাইড ইওর ওয়েভ নিয়ে যেটা বললাম, সেটার উল্টা ভার্সন এখানে বলব। ইসেকাইতে যাতায়াত, এই টাইপ প্লট মনে হয় তেমন আনকমন না, ওয়েল রিসিভড বলেই হয়ত, কিন্তু আমার মুভিটা তেমন ভাল লাগে নি। 30 minutes into the movie I got bored. পেসিং বাজে লাগল, একেবারেই টানছিল না আমাকে। অন্তত ২০/৩০ বার বোরড হয়ে উঠে গিয়ে অন্য কাজ করে এসে আবার বসেছি। কাহিনী বেশিই প্রেডিক্টেবল, ওয়েল প্রেডিক্টেবল হলে আমার কোনো সমস্যা হয় না ইউজুয়ালি, এটার এক্সিকিউশন ভাল লাগে নি। মেদেতাশি মেদেতাশি মার্কা এন্ডিংটা আমি দুই মাইল দূর থেকে চারচোখো হওয়া সত্ত্বেও দেখতে পাচ্ছিলাম, খুব পেইনফুল ভাবে সেটাই ঘটল। অ্যানিমেশন আহামরি লাগেনি, ওএসটি আদৌ শুনসি কিনা মনে পড়ে না
(নোট – এককালে কোনো কিছু বেশি ভাল লাগলে বলতাম “অতিরিক্ত ভাল লেগেছে”। Today this award goes to Penguin Highway )
Kimetsu no Yaiba [রিয়্যাকশন/সাজেশন] — Shifat Mohiuddin
সত্যি বলতে এই সিজনে এই এনিমেটা যে বের হচ্ছে তা আমি জেনেছি অনেক পরে। AOT আর OPM এর উপরেই মনযোগটা নিবদ্ধ ছিল বেশী, সিজনের নতুন জিনিস হিসেবে কোন এক কারণে Fairy Gone ই দেখছিলাম শুধু। কারণ ছিল ইন্টারনেট হাইপ আর শিল্প বিপ্লব পরবর্তী ঘরানার পটভূমি। অথচ যে কয়টা পর্বই দেখলাম আপাতত, ফেয়ারি গন পুরোই হতাশ করছে আমাকে এপর্যন্ত। তখনই আসলে কিমেতসু নো ইয়াইবা নিয়ে গ্রুপের বিভিন্ন পোস্ট বিশেষ করে গ্রুপের কাভার ফটোর সুন্দর পোস্টটা চোখে পড়লো। সেখান থেকেই জানতে পারলাম এনিমেটা ইউফোটেবলের, আমি মোটামুটি ইউফোটেবলের ফ্যানবয় হিসেবেই দাবী করি নিজেকে, এখন এত বড় খবর মিস হয়ে যাওয়ায় নিজের কাছে নিজেরই লজ্জায় মাথা কাটায় যোগাড়!
তো প্রথম পর্বটা প্লে করার সাথে সাথেই হুকড হয়ে গেলাম বরফে আচ্ছাদিত ল্যান্ডস্কেপ দেখে। তাতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখতে অসাধারণ সুন্দর দেখাচ্ছিল যদিও মনে মনে বিশাল অমঙ্গলের আশা করছিলাম। শেষমেশ কী যে বিশাল অমঙ্গল হয়েছে তা তো দর্শকদের সবার জানাই! তারপর বলতে গেলে একটানেই দশটা পর্ব দেখে ফেললাম। সেই ডিসেম্বরে গুরেন লাগান দেখার পর আর কোন এনিমে এভাবে একটানা দেখতে পারি নি। সে হিসেবে জিনিসটা খুব স্বস্তির ছিল, ভয় পাচ্ছিলাম যে এনিমের প্রতি আগের সেই অনুরাগ হারিয়ে ফেলছি বুঝি।
তো এনিমেটার যেসব জিনিস ভাল লেগেছে তা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:
প্রথমেই এনিমের শুরুটা, প্রথম পর্বেই যথেষ্ট পরিমাণে ভায়োলেন্স আর গোর দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এনিমেটা ডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানার। এটাতে যে দর্শকদের অনেক আশার প্রতিফলন হবে না তাও যেন জানান দেয়া হল। প্রথম পর্ব হিসেবে যথেষ্ট ক্লাইমেটিক ছিল যা দর্শকদের এনিমেটা আরো দেখাতে আগ্রহী করেছে বলতেই হবে।
দ্বিতীয়ত ইউফোটেবলের অসাধারণ ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কাজ। বিশেষ করে তানজিরোর মুভমেন্টের সাবলীলতা। জানি না কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ফ্লুয়েন্সিটা আনা হয়, সম্ভবত মোশন সেন্সর জাতীয় কিছু দিয়ে। এ ঘরানার ফ্লুয়েন্ট মুভমেন্ট দেখেছিলাম Kara no Kyoukai সিরিজের মুভিগুলাতে। সবার নিশ্চয়ই শিকির করিডোর ফাইটের কথা মনে আছে! তানজিরোর থ্রি ডাইমেনশনাল নাড়াচাড়ার সাবলীলতা মুগ্ধ করার মত। অন্যকোন স্টুডিও হলে নিশ্চিত ভজকট পাকিয়ে ফেলতো, ভিডিও গেইম অ্যাডাপ্টেশনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ইউফোটেবলকে এখানে অনেক সাহায্য করেছে মনে করি।
আরেকটা ভাল লাগা ছিল এনিমেতে সুন্দর সিজিআইয়ের ব্যবহার। সাথে সাথে এটাও স্বস্তিদায়ক ছিল মানুষ ও বিশেষ করে ডিমনগুলাকে পরিশ্রম বাঁচানোর জন্য সিজিআই দিয়ে অ্যানিমেট না করাটা! আসলে চলন্ত আর নাড়াচাড়া করা জিনিস অ্যানিমেট করার বেলায় হাতে আঁকা ফ্রেমই এখনো শ্রেষ্ঠ। অথচ সেই জায়গায় ফেয়ারি গনের ফেয়ারিগুলাকে সিজি দিয়ে বীভৎস বানানো হয়েছে। ইউফোটেবল খুব বুদ্ধিমানের মত অন্ধকার জঙ্গল, গাছপালা, বাড়িঘর ইত্যাদিকেই শুধু সিজি দিয়ে তৈরি করেছে। আর আমরা তো সবাইই জানি ইউফোটেবল রাতের দৃশ্য বানানোর ওস্তাদ! (UBW দ্রষ্টব্য) সেই হিসেবে KNY এনিমেটার বলতে গেলে সব মেজর দৃশ্যই রাতে, (যেহেতু শুধু রাতের বেলাতেই ডিমন আসে) ইউফোটেবলের অ্যাডাপ্ট করার জন্য একেবারে পারফেক্ট এনিমে ছিল এটা।
এনিমেটার স্টোরি আর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়েরও প্রশংসা করতে হবে। নেজুকোকে ডিমন বানানোর কারিগরকে বেশ তাড়াতাড়ি স্টোরিতে দেখানোটা খুব ভাল হয়েছে আমার মতে। আবার এটাও জানান দেয়া হয়েছে যে তার বারোজন ঘনিষ্ঠ সহচরও আছে, মানে তাদের মুখোমুখি না হওয়ার আগ পর্যন্ত বস ফাইট হবে না। আবার Demon Slayer Corps. এর অর্ডারেরও বেশী কিছু খোলাসা করা হয়নি। তারমানে অনেক চমকপ্রদ জিনিস এখনো আছে মাঙ্গাকার ঝুলিতে। শুধু নেজুকোকে নিয়ে তানজিরোর একা একা জার্নি করাটাই ভাল লাগছে বেশী আপাতত। শীঘ্রই মনে হয় কমরেড পেতে যাচ্ছে তানজিরো, দেখি তারা কেমন ক্যারেকটার হয়।
এনিমেটাতে যথেষ্ট শৌনেন এলিমেন্ট আছে। যেমন পাওয়ারের নাম মুখে এনে পাওয়ার ব্যবহার করা ইত্যাদি। তানজিরোর সোর্ডের স্কিলগুলা দেখার মত। ওর সোর্ডের পানির যে অ্যানিমেশন সেরকম অ্যানিমেশন আমি এর আগে দেখি না কোনখানে। দারুণ অ্যাস্থেটিক স্কিলগুলা আর নামগুলাও খুব সুন্দর। তানজিরো একদমই মাথা গরম ঘরানার প্রোটাগনিস্ট না, সেটা আরো বড় স্বস্তির। আর তার পাওয়ারফুল হওয়ার কাজটাও হচ্ছে ধীরে ধীরে, আশা করি এই মাঙ্গার মাঙ্গাকা হুটহাট পাওয়ার বাড়ানোর ভুলটা করবেন না। (যেটা নারুতোসহ অনেক ভাল শৌনেন মাঙ্গার বিশাল একটা সমস্যা ছিল।)
এই এনিমের আরেকটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর মিউজিক, শুনেই বুঝেছিলাম কাজিউরা ইউকির কাজ! বিশেষ করে ডিমন আসার ক্রিটিকাল মোমেন্টে যে অশরীরী choir টা বাজে সেটা পুরোই গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দেয়। এই মিউজিকটা আবার প্রতি পর্বের নাম দেখানোর জায়গাটাতেও দেয়া হয় যেটা দারুণ একটা ভৌতিক আবহ তৈরি করে। প্রতিটা পর্বের নাম যে ক্যানভাসের উপর স্ক্রিপ্ট আকারে আসে সেই জিনিসটাও ভাল লাগে, এনিমেটা যে সম্রাট হিরাহিতো আমলের পটভূমিতে রচিত তা টের পাওয়া যায়।
শেষমেশ এনিমেটার এন্ডিং সংয়ের পর যে ফান সেগমেন্টটা হয় সেটা অনেক প্রশান্তি দেয়। পুরো পর্বের ভয়ানক ভয়ানক ঘটনার পর যখন নেজুকোর মৃদু মৃদু কণ্ঠস্বর শুনি তখন আসলে মন ভাল না হয়ে উপায় থাকে না।
Kimetsu no Yaiba / Demon Slayer [সাজেশন] — Kazi Rafi
গল্পের নামঃ কিমেতসু নো ইয়্যাইবা ( ডিম্যান স্লেয়ার)
শ্রেষ্ঠাংশেঃ কয়লা বিক্রেতা তাঞ্জিরো কামাদো, তাঞ্জিরোর আদরের ছোট বোন নেযুকো, পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ওরফে মুযান কিবুতশুশি ও প্রমুখ।
কাহিনিঃ কয়লা বেঁচে মোটামোটি দিন চলে যাচ্ছিল তাঞ্জিরো ও তার পরিবারের। কিন্তু কোন পিশাচের জানি ক্যাড়া উঠসিল, সহ্য হইচ্চিল নাহ তাঞ্জিরোর পরিবারের সুখ দেখতে, এক রাত্রে এসে খতম করে দিয়ে গেল পুরো পরিবারকে। ওহ আচ্ছা, তাঞ্জিরো সেদিন আবার কোন এক গ্রামে গেছে কয়লা বেঁচতে, এসে দেখে এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। এদিকে পুরো পরিবার ইন্তেকাল করলেও দেখা যায় তাঞ্জিরোর ছোট বোন নেযুকো, মৃত্যুর পরিবর্তে পিশাচ এ পরিণত হইছে কিন্তু এখানেও আবার আরেক জিলাপির প্যাঁচ, বেঁচে থাকা বড় ভাইয়ের প্রতি মায়ার টান আর পরিবারের মর্মান্তিক পরিনাম ভুলতে নাহ পেরে পিশাচ হয়েও কিছুটা মনুষ্যত্ব নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারছে; আচ্চা বড়ই ভাল কথা। এদিকে তাঞ্জিরোর তখন মাথা খারাপ অবস্থা, পরিবার হারায়ে এই বোনরে নিয়ে কেমনে কি করবে কিছুই বুঝতে পারতেছে নাহ। পরে, পিশাচ নিধন করে বেড়ায় এমন এক কোম্পানির বড় ভাইয়ের রেফারেন্সে, পিশাচঘাতক পদে চাকুরী নেয় তাঞ্জিরো। সেইখানেই সেই বড় ভাইয়েরই প্রাক্তন বসের কাছে তাঞ্জিরো জানতে পারে যে ওর পরিবার আর নেযুকোর এই পরিণতির পিছে হাত থাকার ষোলআনা সম্ভাবনা আছে পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ও তার কোম্পানির। সাথে সাথে তাঞ্জিরো ঠিক করে ফালায় ওর ‘Aim in Life’- বোনের রোগ সারায় তুলার অ্যান্টিবায়োটিক খুজে বের করতে হবে, আর মাইকেল জ্যাকসন ও তার কোম্পানিকে ব্যাবসায়ে লাল বাত্তি দেখানোর ব্যাবস্থা করবে। এই মূলমন্ত্রে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে চাকুরী শুরু করে তাঞ্জিরো। একি টীমে পরে আরও দুইজন সহকর্মী যোগ দেয় তাঞ্জিরোর সাথে।
তো এই হইল এই গল্পের কাহিনী। আর এইটা এনিমেতে রুপ দেবার দায়িত্ব নিছে ফেট সিরিজ ভাঙ্গায় খাওয়া Studio Ufotable. কুনো একটা ফেট যদি দেখে থাকেন, তাইলে নিশ্চয় বুঝতেই পারতেছেন অতিযত্ন সহকারে পুরো এনিমেটা বানাচ্ছে Ufotable. ব্যাকগ্রাউন্ড সিনসিনারি, অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স থেকে শুরু করে সাউন্ডট্র্যাক বলেন, সব কিছুই এতো নিখুঁত, দেখলে চোখ, কান, দিল সব জুড়ায়ে যাবে। এখন কথা হচ্ছে Ufotable হঠাৎ শৌনেন জাম্প সিরিজের দিকে হাত বাড়াইল কেন? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে এই মাঙ্গার ঐতিহাসিক পটভূমি, কাহিনী, মাঙ্গার ইউনিক আর্টস্টাইল সবকিছু বিবেচনা করে স্টুডিয়োর মনে হইছে এই সিরিজ তাদের সাথে যায়। আরও সোজা উত্তর হচ্ছে- এখন মোটামোটি সব নামকরা স্টুডিও যখন একটা/ দুইটা করে শৌনেন জাম্পের সিরিজ বাগায় নিচ্ছে তখন Ufotable এর মতন বনেদি স্টুডিওই বা কেন পিছায়ে থাকবে? সারাজীবন গেম বেসড এনিমে বানায়লে চলবে? অন্যদিকেও তো একটু মনোযোগ দেওয়া লাগে মাঝেমধ্যে, আর তাছাড়া শৌনেন জাম্পের একটা সিরিজের মাধ্যমে চারিপাশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ট্যাকা আসতেই থাকে, এগুলা কি মিস করা যায়?
যাইহোক, কথা হচ্ছে আপনি যদি শৌনেনভক্ত হয়ে থাকেন, শুরু করে দেন এটা দেখা, কারন দিনশেষে নেযুকো Best Girl!!
Listen to Me, Girls. I Am Your Father! [রিয়্যাকশন] — Md. Anik Hossain
সিরিজটা তেমন জনপ্রিয় কিনা বা খুব বেশি মানুষ দেখেছেন কিনা জানি না, তবে এটা নিয়ে এনিমেসমাজে তেমন আলাপ করতে দেখিনি কখনো। কোনো এক Random সাজেশনে সিরিজটার নাম পেয়েছিলাম অনেক দিন আগে ।এতদিন লিস্টে জমিয়ে রেখেছিলাম।অতঃপর গত পড়শু Wikipedia তে সিরিজের সিনোপসিস টা পড়ে সব পর্ব ডাউনলোড দিলাম । অবশেষে গতকাল দেখা শেষ করলাম।
যারা দেখেননি তাদের জন্য কাহিনী সারসংক্ষেপ: Yuuta মাত্র ভার্সিটি তে ঢুকেছে। এতিম Yuuta কে খুব কষ্ট করে মানুষ করেছে ওর বড় বোন Yuri… তো একবার Yuri আর তার হাজব্যান্ড এক বিজনেস ট্যুরে বিদেশে যাবে। এমন সময় Yuri এর মেয়ে আর তার সতীনের ঘরের আরো দুই মেয়েকে কিছুদিন দেখা শুনার দায়িত্ব পড়ে Yuuta এর উপর।১৪ বছর বয়সের বড় মেয়েটার নাম Sora, মেজো মেয়ের নাম Miu আর সবচেয়ে ছোটোজন মানে Yuuta এর আপন ভাগ্নীর নাম Hina. কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত Yuri আর তার স্বামী যে Plane এ ছিল সেটা বিধ্বস্ত হয়ে যায়। যাতে ধারনা করা হয় তারা মারা গেছে। এমন সময় Yuuta তার তিন ভাগ্নীকে একাই লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় বাকি আত্মীয়দের মতামত উপেক্ষা করে। মূলত এই অবিবাহিত ছাত্র কীভাবে তার বোনের মেয়েদের পেলে বড় করে এবং যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয় তা নিয়েই কাহিনী আবর্তিত হয়।
দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া(তেমন স্পয়লার থাকার কথা নয়):
প্রথমত, অনেক বেশি আশা নিয়ে দেখতে বসেছিলাম। বাচ্চা পালা নিয়ে জিনিস-পাতি আমার এমনিতে খুব পছন্দ। কিন্তু এনিমের ভেতরটা আমার কাছে ছিল “UNEXPECTEDLY AWKWARD”……….. Pewdiepie এর স্টাইলে বলতে হয়, “My expectation was totally shattered!!!!!”
সবার আগে বলব ফ্যানসার্ভিসিং এর কথা। এচ্চি ট্যাগ ছিল নাকি চেক করিনি কিন্তু কিছু জিনিসে এচ্চি একেবারে বেমানান লাগে। এক্ষেত্রেও তাই।
ছোটো ছোটো মেয়েদের উপর সেক্সুয়াল ফ্যানসার্ভিসিং এক্কেবারে ফালতু একটা ব্যাপার। হার্ডকোর এচ্চি ছিল না তবে যেটুকু ছিল সেটুকুও মোটেই মানানসই লাগেনি আমার কাছে। সাথে প্লট এর তুলনায় কিছু dirty(?) কথা বার্তা ছিল। বেশি পাঁকনা মেয়ে হইলে যা হয় আরকি।
দ্বিতীয়ত, হা বুঝলাম আপন রক্তের সম্পর্ক নাই। কিন্তু তারপরেও “মামা X ভাগ্নী” রোমান্টিক সম্পর্কের উপর ফোকাস! ক্যাম্নে কি!
এখানে Yuuta আর Raika (Yuuta এর ভার্সিটির বড় আপু) এর রিলেশনশিপের মাঝে বেশি ফোকাস করলে ভালো হতো বলে মনে করি। আমি হলে স্টোরিলাইনটা এইভাবে সেট করতাম – “Sora এর তার সত্ মামা Yuuta এর উপর সিক্রেট ক্রাশ আছে। ওকে ব্যাপার না। ছোটোমানুষ অনেকসময় আকাশ কুসুম কল্পনা করতেই পারে। কিন্তু সময় যাওয়ার সাথে সাথে Yuuta আর Raika এর মাঝে সম্পর্কটা আরো গভীর হতে থাকবে। খালি ফ্রেন্ডশিপের মাঝেই আবদ্ধ থাকবে না।ওরা সিরিয়াসলি ডেটিং করা শুরু করবে এরকম কিছু”। কিন্তু না! সিরিজে মামাজানের প্রতি tsundere বড় ভাগ্নীর এত্ত বেশি দূর্বলতা দেখিয়েছে যে শেষ পর্যন্ত জিনিসটা বিরক্তিকর ঠেকেছে। লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায় ।
এমনকি আরো গভীরভাবে একটু গবেষণা করতে গিয়ে আমি তো একেবারে ওয়াদ্দাপাক হয়ে গেছি… অরিজিনাল লাইট নোভেলে এই মামা আর ভাগ্নি নাকি সত্যি সত্যি বিয়ে করেছে! পুরাই Usagi Drop 2.0।
সিরিজটা আসলে ললিকন দের কথা মাথায় রেখে তৈরি নাকি তা জানি না। কিন্তু আমার আশানুরুপ হয়নি। বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে। যদিও এনিমের অন্যান্য দিকগুলো নিয়ে আমার তেমন অভিযোগ নেই।
আমি বরাবর ই সব এনিমে কে বেশি বেশি রেটিং দেওয়ার চেষ্টা করি। এই সিরিজটাকেও আমি অন্তত 8/10 দেওয়ার চেষ্টা করলাম অনেক। কিন্তু মন থেকে 7/10 এর বেশি দিতে ইচ্ছে করছে না এই মূহুর্তে।
আপনাদের কি মতামত সিরিজটা নিয়ে?
And Yet The Town Moves/Circles [সাজেশন] — Prottoy Rahman
১৬৩৩। গালিলেও গালিলেইকে সদ্য বাধ্য করা হয়েছে তার অলক্ষুণে বাণী অস্বীকার করতে: পৃথিবী নাকি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। তা সে জীবন বাঁচাতে নাহয় করল। কিন্তু পরে আসমানের দিকে অতঃপর জমিনের দিকে তাকিয়ে সে ঠিকই চিন্তামগ্ন স্বরে বলল “Eppur si muove”, ইংরেজিতে যা দাঁড়ায় “And yet it moves”। যেন সেই সুশীল সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জানায় ‘তোমরা যা খুশি বিশ্বাস করো, সত্যের এতে কিছু যায় আসে না’। তা এসব অনেক আগের কথা, তখন আমার দাদার দাদা, বা তার দাদারও জন্ম হয় নি। প্রত্যক্ষ না করায় এর শুদ্ধতা যাচাই করাও আমার সাধ্যের বাইরে।
সাল এবার ২০১০। এনিমে মিডিয়ামটা কৈশরের গন্ডি পেরিয়েছে অনেক আগেই। পরিপক্কভাবে ভিত গেঁথে কয়েক দশক থেকেই অনেক শিল্পকর্ম উপহার দিয়ে এসেছে যা বিশ্বসেরা গল্পগুলোকেও টেক্কা দিতে পারে। এমন সময় আবির্ভাব ঘটে ২০০৫ সাল থেকে চলে আসা এক মাঙ্গার অ্যাডাপটেশন, স্টুডিও হলো Bakemonogatari-এর টানে সদ্য উঠে আসা শ্যাফ্ট। নতুন এই এনিমের নামটি ছিল ‘সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু’, যার ইংরেজি করলে দাঁড়ায় And Yet The Town Moves/Circles. কিন্তু এ যুগে তো কোনো ধর্মালয় এসে কোনো কিছুতে বাঁধা দিচ্ছিলো না। তবে কার উদ্দেশ্যে এই নগর ঘুরানো নামটি এল?
এনিমটির মূল চরিত্র কাজের জন্য গর্ধভ, অকাজের জন্য চতুর; এর কমেডি slapstick ধাঁচের, কৌতুকগুলো ক্লিশে, ঘটনাচক্র কোনো এক দুনিয়ার নিয়ম মানে না, একেক অংশ একেক রকমের গল্প ধারণ করে, আর সাথে আছে উদ্ভট সব ক্যামেরা দৃষ্টিকোণ। সূক্ষ্মদর্শীতার দৃষ্টিতে এসব ধর্মকে একটু নিচু চোখেই দেখা হয়, প্রস্তুতিতে অলসতার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত তা-ই বাস্তব। কিন্তু তা যে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য তা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারে না। সঠিকভাবে ও অনুরাগের সাথে বাস্তবায়ন করলে যেকোনো কিছুই শিল্পের পর্যায়ে অধিষ্ঠিত হতে পারে। এই নতুন এনিমটি সেটিই প্রমাণ করে অসাধারণ নৈপুণ্যের সাথে। প্রকৃতপক্ষে এটি কাঁচকলা দেখায় convention জিনিসটাকেই। এর সকল দিক যে শুধু চমৎকার কারুকর্মের নিদর্শন তাই না, সকলের সমষ্টিতে এর সৌন্দর্যের বহুগুণ বৃদ্ধিও লক্ষ্য করার মতো।
অবশ্য সে যুগের এনিমে দর্শক না হওয়ায় ও এর লেখক ও অন্যান্য প্রস্তুতকারকদের না চেনায় এর নামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে করা সকল উক্তিই আমার ব্যক্তিগতভাবে ধরে নেওয়া। যাই হোক, প্রচলিত ধারা ভঙ্গ করে ধারণা পাল্টানো এনিমের অভাব এসময় ছিলো না। বরং গত শতকেই বেশ কিছু ব্যাপক রকমের ভিন্ন ধাঁচের এনিমে পুরো ইন্ডাস্ট্রি কাঁপিয়েছে। কিন্তু সোরেমাচির মতো খাঁটি সোনা বেশ কমই পরখ করেছি গত ৬-৭ বছরের অভিজ্ঞতায়। তবুও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এটি খুব একটা দৃষ্টি আকর্ষণ করে নি। যদি আপনার সর্ব প্রকার কমেডি ও প্যারোডি একটি মোহনীয় ন্যারেটিভের ভেতর মজাদার ও প্রাণবন্ত চরিত্রের মধ্য দিয়ে অসম্ভব নৈপুণ্যের সাথে উপস্থাপনের প্রতি কৌতুহল থাকে… you know it.
চটপট দেখা শুরু করুন, শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামতে পারবেন না। যদিও মাঙ্গা পুরো এডাপ্ট করে নি, থামার জন্য বেশ ভালো জায়গাই বেছে নিয়েছে। মাত্র ১২ পর্বের, তাই বেশি সময় লাগবে না।
Kokkoku [রিকমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz
এই এনিমেটির নাম এনিমে কমিউনিটির সবারই কমবেশি জানা আছে এবং এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এর এনিমে ওপেনিং। এই এক এনিমে ওপেনিং পুরো কমিউনিটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। ট্যাঙ্ক এবং এ ক্রুয়েল এঞ্জেলস থিসিসের পরে এই প্রথম মনে হয় আমি কোনো এনিমের ওপেনিং স্কিপ করিনি একবারও। কিন্তু খালি ওপেনিং ভালো হলেই সব হয় না। যদিও এনিমেটাকে চমৎকার কিংবা অসাধারণ বলা যাবে না তাও বলবো এর অসাধারণ কনসেপ্ট,কিছু চমৎকার কাহিনীগত উদ্ঘাটন রয়েছে যা আপনাকে ইমপ্রেস করবে।
কাহিনীটা যদিও অসম্ভব রকমের প্রিটেনশিয়াস এবং সুডো ভিত্তিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী কেন্দ্র করে লেখা।মাত্রই চাকরির এক ইন্টার্ভিউ দিয়ে আসা জুরিকে তার বড় বোন ফোন করে তার বড় বোনের ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য বলে।বাসায় এসে জুরি তার বেকার বড় ভাইকে এই কাজে পাঠায়। কিছুক্ষণ পরেই সে একটি ফোনকল পায় যে তার বড়ভাই এবং মাকোতোকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং তারা টাকা দাবি করে। এরকম সময়ে জুরির দাদা এমন একটি পাথর তাদের দেখায় যার মাধ্যমে সময় আঁটকে রাখা যায় পৃথিবীর। এই সময়ে কেবল যারা পাথরটা ব্যাবহার করেছে তারা ছাড়া অন্য কেউ চলাচল করতে পারবে না এবং তারা পাথরের মতো আঁটকে থাকবে কারণ সময় বন্ধ কিন্তু জুরি তার দাদা এবং বাবা যখন কিডন্যাপারদের হাত থেকে তার বড় ভাই এবং মাকোতোকে উদ্ধার করতে যায় তখন দেখে কিডন্যাপাররাও তাদের মতো চলাচল করতে পারছে এবং পুরো কিডন্যাপটাই একটা ট্র্যাপ ছিলো তাদের কাছ থেকে সেই বিশেষ পাথরটা নেবার জন্যই।এখান থেকেই শুরু হয় কক্কোকু এনিমের মূল কাহিনী। সিরিজের পুরোটা সময়ই তারা এই সময় থেমে থাকা স্ট্যানিস নামক এই পৃথিবীতে আটকিয়ে থাকে এবং বের হবার চেষ্টা করে।
সিরিজটা দেখে আমার নিকোলাস কেজের Knowing সিনেমাটার কথা মনে পড়ে গেলো। ওই সিনেমাটার সবই ঠিক থাকলেও শেষটা খুবই উদ্ভট এবং আধ্যাত্মিক রকমের ছিলো। কাহিনীগত দিক দিয়ে কক্কোকু এবং নোয়িং এর মিল না থাকলেও কাহিনীর সমাপ্তির প্রতি আমার মনোভাবটা একই।এন্ডিংটা একটু বেশি আধ্যাত্মিক হয়ে গেছে তা ছাড়া বাকি সবই ঠিক ছিলো।
সব মিলিয়ে এনিমেটা ভালোই। খুবই ভিন্নধর্মী একটি কনসেপ্ট এবং মোটামোটি ভালোই এক্সিকিউশন ছিলো ওই কনসেপ্টের। একটু ভিন্নধর্মী সাইয়েন্স ফিকশন কিংবা সুডো সাই-ফাই এর প্রতি আকর্ষণ থাকলে এটা রেকোমেন্ডেড।

















