Honey and Clover [Reaction] — Shifat Mohiuddin

Honey and Clover 1

(প্রচুর স্পয়লারযুক্ত পোস্ট, আসলে পুরো পোস্টটাই স্পয়লার। তাই এনিমে যারা দেখেননি তাদের না পড়ার অনুরোধ রইলো)

“বাথবিহীন ছয় তাতামির একটি রুম, কলেজ থেকে দশ মিনিটের হাঁটা দূরত্ব। পঁচিশ বছরের পুরনো বাসা, ভাড়া ৩৮০০০ ইয়েন। দেয়ালগুলো যথেষ্ট পুরু নয় এবং শব্দনিরোধকও নয়। বাসিন্দারা সবাই ছাত্র। পূর্বমুখী হওয়ার কারণে সূর্যের আলোও ভাল পাওয়া যায়। আর্ট কলেজে ভর্তির সুবাদে গতবছর থেকে আমি টোকিওর বাসিন্দা। ক্যাম্পাসের চারদিকটা অনেক খোলা জায়গা দিয়ে ঘেরা থাকায় আমি যারপরনাই অবাক হয়েছি। আরও অবাক হয়েছি আমার নিজের হাতের রান্নার বাজে স্বাদ দেখে। অবাক হয়েছি পাবলিক বাথহাউসের উচ্চমূল্য দেখে এবং গাদা গাদা হোমওয়ার্কের স্তূপ দেখে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব এখন আমার নিত্য জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

*

আর্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তাকেমতো ইউতার জীবনের সারসংক্ষেপ হয়তো এটাই। জীবন নিয়ে শূন্য প্রত্যাশাধারী এই সদ্য কৈশোরত্তীর্ণ এই যুবক কিছু একটা খুঁজে পাওয়ার জন্য ভর্তি হয় স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগে। কিন্তু সেই মানে আর খুঁজে পাওয়া হয়ে উঠে না। তাকেমতো মনে করে সে প্রতিভাহীন। মধ্যবিত্ত সন্তান হওয়ার কারণে কোন ধরণের বিশাল সাহায্যও তার পেছনে নেই। গ্র‍্যাজুয়েট হয়ে বের হওয়ার পরে নিজের পায়ে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশাই তাকেমতোর মফঃস্বলবাসী বাবা-মার।

*

তাকেমতো কিন্তু আবার পিতৃহীন। শীর্ণকায় তাকেমতোর পিতা ছিলেন অনুপ্রেরণাদায়ী। তাকেমতোর শৈশব তাই পিতার স্নেহের ছায়াতলেই কেটে যায়। কিন্তু হাসপাতালে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা তাকেমতোর পিতা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাকেমতোর হাত ধরা অবস্থাতেই। চলে যাওয়ার আগে এগিয়ে যাওয়ার শেষ উপদেশ দিয়ে যান নিজ সন্তানকে। তাকেমতো তাই মাঝেমাঝেই সাইকেলে চড়া অবস্থায় চিন্তা করে সে পেছন দিকে না তাকিয়ে প্যাডাল ঘুরিয়ে কতটুকু আগাতে পারবে। তাকেমতোর মানসপটে তাই বারবার চলে আসে বিকেলের সোনালী আলোতে ঘুরতে থাকা সাইকেলের চাকা। মানসপটে এই দৃশ্য আসার সাথে সাথে তাকেমতো এগিয়ে যেতে না পারার আফসোসে নিমজ্জিত হয়।

*

মেসে থাকা আপারক্লাসম্যান মোরিতা শিনোবু এক রহস্যময় মানুষ। সেই সাথে সে প্রতিভাধরও বটে। ভাষ্কর্য বিভাগের ছাত্র মোরিতা পড়াশুনায় চরম অমনোযোগী। ঠিকঠাকমত প্রথম ক্লাসে উপস্থিত না থাকা এবং গ্র‍্যাজুয়েট থিসিস জমা দেওয়াতে গাফিলতি করায় চার বছরের কোর্স করতে তার আজ সাত বছর লাগছে। এ বছরও তার পাস করা নিয়ে শিক্ষক-সহপাঠী সবাই সন্দিহান। হুটহাট করে উধাও হয়ে যাওয়া এই মানুষটিকে ঘুম থেকে জাগানোর সাধ্য কারোর নেই। প্রতিবার নিরুদ্দেশ অবস্থা থেকে ফিরে আসার পর আশ্চর্যজনকভাবে তার পকেটে মোটা অংকের টাকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। নিজের চারপাশের মানুষদের নিয়ে আবার ভালই সচেতন এই খেয়ালী মানুষটি। কিন্তু এই সচেতনতার বিন্দুমাত্রও খাবার শেয়ার করার সময় বরাদ্দ থাকে না!

*

তাকেমতোর পাশের রুমে থাকা আরেক আপারক্লাসম্যান তাকুমি মায়ামা। চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মায়ামা ঠান্ডা মাথার অধিকারী। তাদের আরেক শুভাকাঙ্ক্ষী হল মৃৎশিল্পের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী আয়ুমি ইয়ামাদা। মেস থেকে অনতিদূরে বসবাস করেন চিত্রকলার অধ্যাপক হানামতো শুজি। ঘনিষ্ঠতার কারণে তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত তাকেমতো-মায়ামা-আয়ুমিদের। মোরিতাও খুব প্রিয়পাত্র হানামতো-সানের। একদিন হানামতো-সান তার কাজিনের মেয়ে হাগুমি হানামতোর সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দেন। আসল বয়সের চেয়ে দেখতে কয়েক বছর কম মনে হওয়া হাগু-চানের সাথে সবার ঘনিষ্ঠতা হতে সময় লাগে না। ঘটনাস্থলেই তাকেমতোর চেহারায় সদ্য প্রেমে পড়ার চিহ্ন দেখতে পায় মায়ামা। তৈলচিত্রের প্রথম বর্ষের এই ছাত্রীর চেহারা যেন তার মানসপটে তৈলচিত্রের মতই স্থায়ী হয়ে যায়।

তাকেমতো যেন তার অন্যান্য অপ্রস্তুত গুণাবলীর মতে প্রেম প্রকাশেও সদ্য অপ্রস্তুত। তবে আমতা আমতা করে সবার আগে হাগু-চানের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে সেই সবার আগে। ঘটনাস্থলে তখনই আগমন মোরিতা-সানের। মোরিতার জোরালো আবেদনের কাছে তাকেমতো যেন খড়কুটো মাত্র। আর এখানেই যেন তাকেমতোর থেকে মোরিতার স্বতন্ত্রতা। তাকেমতো যেখানে নিজের পছন্দের কথা বলতে অপারগ মোরিতা সেখানে প্রথম থেকেই স্বতঃস্ফূর্ত। প্রথম থেকেই সে হাগু-চানের সাথে আচরণ করতে থাকে নিজের ইচ্ছেমত। হাগু-চানকে বহুদিনের পরিচিত মানুষের মত সাজাতে থাকে ইচ্ছেমত। ফলে তাকেমতো বিরতিহীনভাবে নিজের ক্ষমতাহীনতা উপলদ্ধি করতে থাকে। সে না পারে মোরিতা সানের মত ৩২০০০ ইয়েনের একজোড়া জুতো উপহার দিতে, না পেরে উঠে এক টুকরো কাঠ থেকে মনে রাখার মত একটা শিল্পকর্ম বানিয়ে হাগু-চানকে দিতে। তাকেমতো বুঝতে পারে তার না আছে অগাধ প্রতিভা, না আছে অর্থনৈতিক প্রাচুর্য। অথচ এই দুটো জিনিসই থাকা মোরিতা-সানের প্রবল উপস্থিতি তাকেমতোর মনে সেই পুরনো প্রশ্নের অবতারণা ঘটায়, “ব্যর্থ প্রেমের কি কোন অর্থ আছে বাস্তবে”।

Honey and Clover 2
*

তাকেমতোর মানসপটে ফিরে আসে আবার সেই সাইকেলের চাকার ছবি। অস্বস্তি কাটানোর জন্য তাকেমতো মফঃস্বলে তার বাড়িতে ফিরে আসে। তাকেমতো তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে থাকে। এর মধ্যে হুট করে তাকেমতোর সৎ পিতা এই মৌনাবস্থা ভেঙ্গে দেয়। তাকেমতো তার এই পিতাটির মধ্যে মৃত পিতার উপস্থিতি বিন্দুমাত্র অনুভব করে না। শীর্ণকায় দেহের বদলে এই লোকটি যথেষ্ট শক্তসামর্থ্য, তার পিতার স্বল্পভাষীতার তুলনায় এই লোক যথেষ্ট বাচাল। আড্ডা-গল্পের মাধ্যমে তাকেমতোকে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেন ভদ্রলোক। এত কিছুর পরও বিচলিত তাকেমতোর মনে একটি ঋণাত্মক মনোভাব এসেই যায়, “হাহ, এবার আমার মা একজন শক্তিশালী জীবনসঙ্গীকেই বেছে নিয়েছেন। আগের মত ভুল তিনি আর করেন নি।”

*

এদিকে কেটে যায় দু-দুটো বছর। হানামতো সানের তত্ত্বাবধানে হাগু-চানের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। তাকেমতো শেষ বর্ষে পদার্পণ করে। নিজের সামর্থ্য নিয়ে এখনো সন্দীহান সে। মোরিতা-সান এক জরুরী কাজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়। কিছুটা হলেও স্বস্তি আসে তাকেমতোর মনে। হাগু-চানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ বাড়ে তাতে। হাগু-চানের প্রতিভা আর শিল্পের প্রতি একনিষ্ঠতা দেখে চমকিত হয় তাকেমতো। নিজের গ্র‍্যাজুয়েট থিসিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাকেমতো। কিন্তু লক্ষ্যহীন সে ঘোড়াকে ছোটাতে গিয়ে ব্যর্থ হয় তাকেমতো। শিক্ষকদের আন্তরিকতার পরও নিজের তৈরি ‘কৈশোরের মিনার’ নামক স্থাপনাকে তাকেমতো নিজের হাতেই গুড়িয়ে দেয়! অস্তিত্ব সংকটে ভোগা তাকেমতো পুনরায় থিসিস জমার ডেডলাইন পূরণ করতে চাইলে শরীর তাতে আর সায় দেয় না। তাকেমতোকে ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে আর অন্যদিকে মোরিতা আমেরিকা থেকে অস্কার নিয়ে চলে আসে! আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য তাকেমতো তাই কাউকে কিছু না জানিয়েই ঘর ছাড়ে। সাইকেলে প্যাডেল মারতে মারতে তাকেমতো জাপানের একের পর এক এলাকা প্রদক্ষিণ করতে থাকে। অনেক সময়ই বিশুদ্ধ পানির মত প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করার জন্য তাকেমতোকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ করতে হয়। অনেকে অবশ্য সন্দেহের চাওনি দেয়, তবে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই তাকেমতো পায় আন্তরিক ভালবাসা। এক দোকানি মহিলা তো তাকেমতোকে দুপুরের খাবার খাইয়েই তবে ছাড়ে। ব্রিজের গোড়া, পার্কের বেঞ্চ ইত্যাদি হয়ে উঠে তাকেমতোর রাত কাটাবার জায়গা। নদীর তীরে কাপড় শুকাতে দেওয়া ভবঘুরে তাকেমতোর মনে সরল উপলদ্ধি জাগে “হয়তো জাপানে জায়গার অভাব নেই তবে বসবাসের মত ভাল জায়গা কমই আছে।”

*

ক্লান্ত-শ্রান্ত তাকেমতোর সাইকেল একপর্যায়ে মহাসড়কের মাঝপথেই ভেঙ্গে পড়ে। সাইকেল ঠেলে ক্লান্ত তাকেমতো একপর্যায়ে এক শিন্তো মন্দিরের সামনেই ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরে শ্রমিক শ্রেণির মানুষের কোলাহলে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তাকেমতো পরিচিত হয়ে একদল চিরন্তন ভবঘুরে মানুষের সাথে যারা ঘুরে ঘুরে জাপানের বিভিন্ন বৌদ্ধ আর শিন্তো মন্দিরগুলোর সংষ্কারের কাজ করে। দিনে ৪২০০ ইয়েনের বদলে তাকেমতো কাজ জুটিয়ে নেয় এই দলের সাথে। আর্কিটেকচারের ছাত্র হওয়ায় তাকেমতোর মনে কিছুটা হলেও আকাঙ্ক্ষা ছিল নির্মাণকাজে দক্ষতা দেখানোর ব্যাপারে। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি, তাকেমতোর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা তেমন কোন কাজে আসে না তাদের। তাই তাকেমতো দায়িত্ব নেয় রান্নাঘরের। তাকেমতোর হাতের রান্নায় যেন অমৃত খুঁজে পায় নির্মাণশ্রমিকরা। বিশেষ করে বৃদ্ধ লোকগুলার আবেগ তো অতিরিক্ত বেশি ছিল! ফলে কিছুদিনের মধ্যেই তাকেমতো সবার আপন হয়ে যায়। দশদিনের চুক্তিতে কাজ নেওয়া তাকেমতো তাই কোন ফাঁকে চৌদ্দদিন কাটিয়ে ফেলেছে তা উপলদ্ধিই করতে পারে না। পাওনা পঞ্চাশ হাজার ইয়েন নিয়ে সাইকেল মেরামত করতে চাইলে সহৃদয় ম্যানেজার তাকেমতোকে সেই টাকাসহ একটা নতুন সাইকেলই দিয়ে দেন। তিনি টাকা ফেরত নিতে চান না বরং তাকেমতোকে অনুরোধ করেন ভ্রমণ শেষে যেন তাকেমতো যেন তাদের দলের সাথে দেখা করে যায়। একগুচ্ছ ভাল লাগা অনুভূতিকে সম্বল করে তাকেমতো তার উত্তরমুখী যাত্রা আবার শুরু করে। প্যাডাল মারতে মারতে তাকেমতো উপলদ্ধি করে যে, তার মানসপটে থাকা চলতে থাকা সাইকেলের চাকার চিত্র যেন এই চিরভবঘুরে দলেরই প্রতিচ্ছবি। সেখানেই তাকেমতো তার আজীবনের গন্তব্য খুঁজে পায়।
প্যাডাল মারতে মারতে তাকেমতো এক পর্যায়ে জাপানের উত্তর দিকের একেবারে শেষ পয়েন্টে এসে হাজির হয়। সামনে এগুনোর আর জায়গা তাই আর রইলো না, প্যাডেল মেরে কতটুকু যাওয়া সম্ভব তারও যাচাই হয়ে গেল। সুদূর টোকিও থেকে হোক্কাইডো প্রদেশ পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে আসা তাকেমতো এক অদ্ভুত প্রশান্তি নিয়ে বাড়ির পথে প্যাডাল মারতে থাকে। সঙ্গী হল একরাশ বর্ণীল অভিজ্ঞতা এবং কষ্টার্জিত পরিণতবোধ। তাকেমতো তাই আর সেই আগের অগোছানো তরুণ রইলো না।

*

বাড়ি ফেরত তাকেমতোকে পেয়ে সবাই উল্লাসে মাতোয়ারা। মোরিতা সানের অত্যাচারের দিন শেষ, তাকেমতো এখন তার সাথে সমানে পাল্লা দেয়। হাগু-চান মুগ্ধ নতুন এই তাকেমতোকে দেখে। তাকেমতো ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার গ্র‍্যাডুয়েট থিসিস নিয়ে। এক বছর পড়াশুনা পিছিয়ে যাওয়া তাকেমতো যত দ্রুত সম্ভব পড়াশুনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে চায়। অন্যদিকে মোরিতা-সান পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য ঘটিয়ে ফেলেন! দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে তিনি পাস করেই ফেলেন তাও আবার থিসিস জমার ডেডলাইন শেষ হওয়ার বিশ মিনিট আগে! ঘটনার আকস্মিকতায় মোরিতার শিক্ষক, ভাষ্কর্য বিভাগের ইমিরেটাস অধ্যাপক তাঙ্গে-সেনসেই প্রায় স্ট্রোক করে বসেন। ভূপাতিত হওয়া অধ্যাপকের সেবায় যখন সবাই নিয়োজিত মোরিতার মুখে তখন স্মিত হাসি। অধ্যাপক তখন শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দারুণ এক আবেগী উক্তি করেন, “আসলে আমরা শিক্ষকরা অনেক দুর্ভাগা। যত কিছুই করি না কেন আমরা, ছাত্ররা একদিন ঠিকই পাশ করে বেরিয়ে যায়। একবার পাশ করে গেলেই হল, কবে যে তাদের সাথে আমাদের আর দেখা হবে তার কোন ঠিকঠিকানা থাকে না।”

*

তাকেমতোর গ্র‍্যাজুয়েট থিসিস শেষের পর্যায়ে, মোরিতা-সান নিখোঁজ এইদিকে। আসে প্রত্যাশিত সামার ফেস্টিভাল আর তাকেমতো নিজের ভালোবাসার কথা সরাসরি স্বীকার করে হাগু-চানের কাছে। বলতে গেলে প্রত্যাখ্যাতই হয় তাকেমতো কিন্তু দুঃখ পায় না সে। বরং বুকের উপর থেকে একটা বিশাল ভার নেমে যায় তাকেমতোর। তাকেমতো জানতো ঘটনাটা এভাবেই ঘটবে, সে প্রত্যাখ্যাতই হবে। কিন্তু অব্যক্ত ভালোবাসার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বস্তি তাকেমতোর কাজে নতুন উদ্যম যোগায়। তাকেমতো আর কাপুরুষ রইলো না।

চারদিকে যখন সবকিছু সহজ-সরল গতিতে চলমান তখনই দুর্ঘটনার আবির্ভাব। হাগু-চানের উপর বিশাল বড় কাঁচের পাত আছড়ে পড়ে তুমুল বাতাসের কারণে। থিসিসের যত্ন-আত্তিতে ব্যস্ত তাকেমতো তাই খবর পায় কিছুটা বিলম্বে। ঘটনাস্থলে পৌছে তাই রক্তমাখা কাঁচ ছাড়া কিছুই খুঁজে পায় না তাকেমতো। আতংকের শিহরণ ছড়িয়ে পড়ে তাকেমতোর সারাদেহে। অন্যদিকে হানামতো সেন্সেই তখন হাগু-চানকে নিয়ে হাসপাতালে। হাগু-চানের ডানহাতের আঙুলগুলো সাময়িকভাবে অবশ হয়ে যায়। একজন্য শিল্পীর জন্য হাতের চেয়ে মূল্যবান কিছু হতে পারে না, তাই হাগু-চান সুস্থতার জন্য যেকোন ধরণের চিকিৎসাপদ্ধতির আশ্রয় নিতে রাজী। হানামতো সেনসেই তাই রিহ্যাবের সময় সারাদিন পাশে থাকেন হাগু-চানের। তাকেমতোর থিসিসের কথা মনে করিয়ে তাকে তিনি তাড়িয়ে দেন শিক্ষকসুলভ আচরণ দেখিয়ে। প্রিয় মানুষের আপদকালীন সময়ে পাশে থাকার তাড়না বোধ করে সদাঅপ্রস্তুত তাকেমতো। বাসায় ফেরার সময় ফুলের দোকানে চোখ পড়ে তাকেমতোর। রোগীকে ফুল উপহার দেওয়ার রীতির কথা মনে পড়ে যায় তাকেমতো। কিন্তু ফুলের দাম দেখে হতাশ হয় তাকেমতো। একেকটা ফুলের দামই ৩০০ ইয়েন, তিনটা ফুল কিনতেই ১০০০ ইয়েন চলে যায়। একতোড়া ফুল কিনতে কত লাগতে পেরে ভেবে তাকেমতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আর্থিক সমস্যা থাকায় তাকেমতো ভাবে মানসিক সাহায্য দিয়েই সেই হাগু-চানের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু এক পর্যায়ে এই ক্ষেত্রেও বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় তাকেমতোকে। কমপক্ষে দুই মাস রিহ্যাবে থাকতে হবে হাগু-চানকে আর তাকেমতোরও গ্র‍্যাজুয়েশনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। পড়াশুনায় অতিরিক্ত মনযোগ দেয়ার সাথে সাথে এপ্রিল মাসে তাকে নতুন কর্মক্ষেত্রেও যোগদান করতে হবে। তাকেমতোর মস্তিষ্কে ভেসে উঠে তার বাবা-মার ছবি যারা কিনা স্বভাবতই তাকেমতোর গ্র‍্যাজুয়েশনের পর স্বাবলম্বী তাকেমতোকে প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে ভেসে উঠে শয্যাশায়ী হাগু-চানের ভয়ার্ত চেহারার ছবি। কাজে যোগদান করা মানেই হাগু-চানের কাছ থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া। এইরকম বহুমাত্রিক সমস্যায় ভোগা তাকেমতো এক সময় হাগু-চানের পাশে থাকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।

*

তখনই দৃশ্যপটে মোরিতা-সানের আগমন। এক বিকেলে হুট করে হাগু-চানকে নিয়ে মোরিতার অন্তর্ধান। চিন্তিত হানামতো সেন্সেইকে আশ্বস্ত করে তাকেমতো। আবেগঘন এক রাত্রি যাপনের পর হাগু-চান ভালবাসার উপরে হয়তো শিল্পপ্রেমকেই বেছে নেয়। হানামতো সেন্সেই তাই আজীবন হাগু-চানের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তাকেমতোর মত তাই মোরিতাও হয় প্রত্যাখ্যাত। নদীর তীরে দুইজনের মধ্যে হয়ে যায় তাই তীব্র বাদানুবাদ। তাকেমতো যেন ব্যর্থ প্রেমের ভার চাপিয়ে দিতে চায় মোরিতার উপরেও, মোরিতা আবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে চায় না। এক পর্যায়ে দুইজনেই বুঝতে পারে যে তারা একই গোয়ালের গরু এবং হাঁপাতে হাঁপাতে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় সন্ধি করে নেয়।

*

সময় গড়িয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তাকেমতোর কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। এক আবেগঘন পার্টির মাধ্যমে যাত্রার আগের রাতে তাকেমতো সকলের কাছ থেকে বিদায় নেয়। সকালে ট্রেনে চেপে বসে তাকেমতো। বগিতে অন্য কোন যাত্রীর অস্তিত্ব না দেখে তাকেমতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তখনই স্টেশনে হাগু-চানের ছোট্ট দেহের অবয়ব দেখা যায়। তাকেমতো দৌড়ে ট্রেনের দরজার কাছে পৌছে। হাগু-চান একটা বেন্তো বক্স ধরিয়ে দেয় তাকেমতোর হাতে। অনেক কিছু বলতে চায় হাগু-চান কিন্তু অটোমেটেড দরজার লক হয়ে যাওয়ার শব্দে হাগু-চানের অব্যক্ত অনুভূতি ঢাকা পড়ে যায়। প্ল্যাটফর্মের গোড়া পর্যন্ত হাগু-চান দৌড়ে এসে তাকেমতোকে হাত নেড়ে বিদায় জানায়। এই পাগলামির কোন অর্থ খুঁজে না পেয়ে তাকেমতো স্মিত হাসি হেসে বেন্তো বক্সটা খুলতে থাকে। একগাদা পাউরুটি দেখে তাকেমতো অবাক হয়। উপরের পাউরুটিটা সরানোর পর তাকেমতো নিচের স্তরে মধু মাখানো দেখে আনমনে হেসে উঠে। কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করার পরে তাকেমতো পাউরুটির মধ্যে একটা ফোর-লিফড ক্লোভার দেখতে পায়। একটার পর একটা পাউরুটি উল্টানোর পর তাকেমতো একটা করে মধুমাখানো ফোর-লিফ ক্লোভারের দেখা পায়। আনমনা সেই হাসি রূপ নেয় আবেগের কান্নায়। হাগু-চানের ভালবাসার নিদর্শন সেই পাউরুটি হাতে নিয়ে কান্নাজর্জরিত তাকেমতো সেই মুহূর্তেই ব্যর্থ প্রেমের স্বার্থকতা খুঁজে পায়। জন লেননের সেই উক্তিটাই হয়তো তখন নেপথ্যে বাজতে থাকে,
“The Time you enjoyed wasting, is not wasted”.

*

আমাদের জীবনটা হয়তো এই হানি আর ক্লোভারের মতোই। মধুর প্রলেপ দেয়া সুখকর অনুভূতির সমান্তরালে আমাদের জীবনে আগাছাময় ভুলে যেতে চাওয়া মুহূর্তও আসে। মাত্র ৩৬ পর্বের এনিমেটাতে রীতিমতো কাব্যিকভাবে সাত-আটটি প্রধান চরিত্রের মধু-আগাছাময় জীবনগাথা পরিবেশন করা হয়েছে। এক তাকেমতো-হাগু-মোরিতার ত্রিভুজ সম্পর্ককে নিয়েই এত বকবক করতে হয়েছে! মায়ামা-আয়ুমি-নোমিয়া, মায়ামা-রিকা, রিকা-হানামোতো-হারাদা, মোরিতা ভাতৃদ্বয়ের ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে একেবারে থিসিস পেপার নিয়ে বসা লাগবে। মাঙ্গাকা উমিনো চিকাকে মন থেকে আন্তরিক অভিনন্দন এত নাটকীয়, ভালোবাসাপূর্ণ একটি জগতের সাথে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। এনিমেজীবনের অন্যতম সেরা একটা এনিমে দেখে শেষ করে ফেললাম।

Giovanni no Shima (Giovanni’s Island) [মুভি রিকমেন্ডেশন] — Md Anik Hossain

Giovanni's Island

১৫ আগস্ট, ১৯৪৫

দুই দুটো পারমাণবিক বোমার আঘাতে অবশেষে হার মানল যুদ্ধবাজ জাপানি সাম্রাজ্য। স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে বেতার ভাষণে সম্রাট হিরোহিতো ঘোষণা দিলেন আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত। সমগ্র সূর্যদয়ের দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম। তা থেকে বাদ যায়নি ছোট্ট দ্বীপ শিকোতান। অবশ্য যুদ্ধে সরাসরি দ্বীপটি আক্রান্ত হয়নি। বাহ্যিকভাবে অক্ষতই ছিল। সে দ্বীপের প্রধান নিরাপত্তারক্ষীর দুই সন্তান জুনপেই এবং কান্তা। মা মরা জুনপেই এবং কান্তার ডাক নাম ছাড়াও আরেকটা করে ভালো নাম আছে। Giovanni ও Campanella… ওদের মায়ের দেয়া নাম। নাম দুটো বিখ্যাত Night on the Galactic Railroad বই থেকে নেয়া। ওর মায়ের প্রচন্ড পছন্দের বই ছিল এটা। তো সদা হাস্যোজ্জ্বল জুনপেই ও কান্তাই এর দিনকাল ভালোই চলছিল…চলমান বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেও। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হতেই তাদের জীবন যায় চিরদিনের জন্য বদলে। জাপানের আত্মসমর্পণ ঘোষণার কিছুদিন পরেই হঠাত্‍ একদিন দ্বীপে একটা অপরিচিত যুদ্ধজাহাজ আসে। খেয়াল করে দেখা গেল , এটাতো প্রতিবেশী সোভিয়েত ইউনিয়নের জাহাজ। কিছু বুঝে উঠার আগেই স্রোতের মতো অসংখ্য সোভিয়েত সৈন্য ওদের দ্বীপে নেমে আসল। এবং দখল করে নিল দ্বীপটিকে বিনা বাঁধায়। অতঃপর শাখারিন প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত করে সোভিয়েত ইউনিয়নে যুক্ত করে দ্বীপটিকে। কিন্তু দ্বীপটিতে শুধু ভিনদেশী সৈন্য নয়, তাদের পরিবারেরাও আসে। তাদের মাঝে সোভিয়েত কমান্ডারের মেয়ে Tanya.
রাশিয়ান ও জাপানি। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন জীবনাচরণ। কিন্তু একই মানবিক অনুভূতি। একে অপরের শত্রু হবার পরেও ভাব হয়ে যায় জুনপেই ও তানিয়ার মাঝে। গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে তাদের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকেই ছোটো মানুষের মিষ্টি মধুর ভালোবাসা ভালো লাগায় রূপ নিতে থাকে এক পর্যায়ে। একদিকে দখলদার বহিরাগতদের রাজত্ব, অপরদিকে যুদ্ধে হারা দ্বীপবাসীদের দূঃখ দুর্দশা। আরেকদিকে আমাদের ছোট্ট জুনপেই কান্তাই ও তানিয়ার নির্ভেজাল বন্ধন। কোন দিকে যাবে তাদের জীবন? তাদের এই সম্পর্ক কতদূর গড়াবে? তাদের শেষ নিয়তি কী হবে?

উত্তর দিবে ঘটনার বহু বহু বছর পরে প্রৌঢ়ত্বে পৌছানো জুনপেই আর তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। যারা ফিরে যাবে সেই অতীতের দিনগুলোতে। সেই আলো অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতে নিয়ে যাবেন আমাদের। তাদের ভাষাতেই আমাদের কাছে তুলে ধরবেন সেই স্মৃতিগুলো।

ইতিহাস ও ফ্যান্টাসি-ফিকশন এর মিশেলে একটি চমত্‍কার, একটি অনবদ্য সৃষ্টি বলেই আমার বিশ্বাস এটি।
একটা আবেগপ্রবণ সুন্দর সময় কাটানোর জন্য অবশ্যয়ই দেখুন জাপানি এনিমে মুভি “Giovanni no Shima (Giovanni’s Island)”.

যারা Grave of the Fireflies মুভিটি দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন তাদের জন্য Highly recommended. যদিও GotF এর তুলনায় হয়ত একটু কম আবেগতাড়িত হবেন। তবে দেখে খুব ভালো লাগবে বলেই আশা করি।

Only Yesterday [মুভি রিভিউ/রেকোমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz

Omoide Poroporo 1

Only Yesterday (Omoide Poroporo)
পরিচালক: ইসাও তাকাহাতা
প্রযোজনা: স্টুডিও জিব্লি

অনেকেই হয়তবা ইতিমধ্যে শুনেছেন যে স্টুডিও জিব্লির সহ-নির্মাতা এবং গ্রেভ অফ দা ফায়ারফ্লাইস, টেইল অফ দা প্রিন্সেস কাগুয়া খ্যাত পরিচালক ইসাও তাকাহাতা আমাদের মধ্যে আর নেই। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মৃত্যুতে তাকে শ্রদ্ধা করে আমি তার করা ছবিগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ছবিটাকে নিয়ে কথা বলতে চাই।

“আমাদের শৈশবকাল আমাদের স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হইয়া গেলেও,
শৈশবকালের স্মৃতি হইতে আমরা বিস্মৃত হই নাই”

কোনো এক কালে স্কুলে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোনো এক গল্পে যেন পড়েছিলাম এই জিনিসটা।আমাদের জীবনের পথে যত দিন আমরা পার করি ততই আমরা অতীতের দিনগুলোকে ভুলে যাই।ছোটবেলার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা আমরা ত্যাগ করি বড় হবার এই জীবনের বাস্তবতার জন্যে।

স্টুডিও জিব্লির বেশির ভাগ ছবিগুলোর মতো এখানে কোনো কাল্পনিক কিংবা অতিপ্রাকৃত কিছু নেই এই ছবিতে। তায়েকো অকাজিমা ২৭ বছর বয়সী একজন সিঙ্গেল চাকরিজীবী যে শহরে সবার মতোই সাদামাটা একটি জীবন বসবাস করছে। ছবিটা শুরু হয় সে তার বোনের জামাইয়ের গ্রামে ছুটি কাটাতে যাচ্ছে এমন একটি সময় থেকে। তার নিজের কোনো কাছের আত্মীয় গ্রামে থাকে না বলে তাকে তার বোনের জামাইয়ের গ্রামে যেতে হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে এতটুকুই গল্পের মূল কাহিনী। বাকি পুরোটা সময় আমরা তায়েকোর সাথে তার স্মৃতিচারণা এবং তার অভিজ্ঞতার একজন যাত্রী হিসেবেই কাটাই।

Omoide Poroporo 2

“আমি আশা করি নি যে আমার পঞ্চম শ্রেণীর আমিকেও আমি এই যাত্রায় নিয়ে যাবো” এভাবেই তায়েকো পুরো যাত্রাজুড়েই নিজের পঞ্চম শ্রেণীর শৈশবেই হারিয়ে যায়। কিছু স্মৃতি মিষ্টির মতো মধুর হলে কিছু স্মৃতি আবার বিজড়িত করে এমন।জীবনের প্রথম পিরিয়ড হওয়া থেকে শুরু করে তার জীবনের প্রথম পছন্দ হওয়া সবকিছুই যেন তার মনে পড়তে শুরু করে। তখন তায়েকোই নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে এটা কেন হচ্ছে। হয়তবা শৈশবের তায়েকো এই ব্যস্ত শহুরে চাকরিজীবী তায়েকোকে জীবন উপভোগ করার নতুন উপায় শিখাচ্ছে।

ছবিটিতেই কোনো বড় কোনো দৃষ্টি আকর্ষণীয় কিছু নেই। ছবিটা এর হৃদয়ে একটি মেয়ের স্মৃতিচারণা এবং বাঁচতে শিখা নিয়েই তৈরি। নেই কোনো প্রেম কিংবা ধরণের প্যাঁচ বরঞ্চ ছবিটা আমাদের জীবনের একটি বাস্তব এবং মিষ্টি প্রতিচ্ছবি। ছবিটা দেখে অসম্ভব নিজের শৈশবকালে হারিয়ে না যাওয়া। দেখতে দেখতে কখন যে আপনি আপনার নিজের জীবনের শৈশবে ফিরে যাবেন তা টেরই পাবেন না।

Omoide Poroporo 3

ছবিটার একটি চমৎকার দিক হচ্ছে এর স্মৃতিচারণার দৃশ্যগুলো। আপনি খেয়াল করে দেখেন যে ১০-১৫ বছর আগের কথা আপনি মনে করতে গেলে আপনি কতটুকুই বা মনে করতে পারবেন।কেবল নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা কিন্তু আপনি যখন ওই স্মৃতির আশে পাশের জিনিসগুলো মনে করবার চেষ্টা করবেন তখন দেখবেন যে জিনিসগুলো স্মৃতির সাথে সাথেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।ইসাও তাকাহাতা টার বিচক্ষন পরিচালনার মাধ্যমে অসম্ভব রকমের সৌন্দর্যের সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।ছবির মিউজিকাল স্কোর আমার জীবনের শোনা সবচেয়ে প্রশান্তপূর্ণ স্কোর। প্রতিটি গান আপনাকে আপনার শহুরে বাস্তব জীবন থেকে শিথিল করবে। মুভিটার শেষ গানটি আমি আজও বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে শুনি।আমার অসম্ভব রকমের প্রিয় একটি গান।

Omoide Poroporo 4

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইংরেজি ডাব নাকি অরিজিনাল জাপানিজ ভাষারটা দেখবো? ব্যাক্তিগতভাবে অামি জাপানিজটা দেখতে বলবো কারণ ডাবের রেন্ডারিং একটু সমস্যা অাছে যদিও ডেইসি রিড্লের কন্ঠ অভিনয় জাপানিজ মিকি ইমাই থেকে ভালো হয়েছে।

আমি কোনো চলচিত্রবোদ্ধা কিংবা বিশ্লেষক নই কিন্তু আমি বলবো যে Only Yesterday আমার জীবনের দেখা সেরা চলচিত্রগুলোর মধ্যে একটি।আশা করি না দেখে থাকলে ছবিটি দেখে নিবেন।ছবি শেষে আপনার ঠোঁটে মুচকি একটি হাসি ফোটাতে ছবিটি ব্যর্থ হবে না বলেই আমি আশা করি।

Lovely Complex [সাজেশন] — Ahmed Fahmida Mou

Lovely Complex

এনিমেঃ Lovely Complex 
হাইস্কুল রোমান্টিক কমেডি
.
শিরোনাম আকর্ষণীয় না হলে সচারচর আমি সেসব দেখিনা বা পড়িনা।
স্বাভাবিকভাবেই এই আনিমুর টাইটেলও একদম ভাল্লাগেনাই  এক পিচ্চি জোরাজুরি না করলে এই চুইট আনিমুটা দেখাই হতোনা।

প্রথম দেখায় যেটা বলা যায়, এনিমেটা একেবারেই সিম্পল।
কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে,
এই বিশেষত্বহীন এনিমেটা দারুন ভালো লেগেছে।
এইখানে তেমন কোনো প্লট টুইস্ট নাই ,তাই হালকাভাবে আমি গল্পটা বলছি।

তিন বান্ধবী যার মাঝে দুজনেরই বয়ফ্রেন্ড আছে। নাই একমাত্র কোয়াইজুমি রিসা’র।
কেনো??
কারণ রিসার স্বাভাবিকের তুলনায় হাইট অনেক। সঠিক উচ্চতার কোনো বয়ফ্রেন্ড হয়না তার।
কিন্তু রিসা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যেভাবেই হোক হাইস্কুল শেষ করবার আগে সে বয়ফ্রেন্ড অর্জন করবেই! 
এদিকে ওদের ক্লাসমেট (বন্ধুও বলা যায়) ওতানি ছেলেদের স্বাভাবিক হাইটের চেয়ে ছোটো।
তাই বেচারাকে নানান অকওয়ার্ড পরিস্থিতিতে পড়তে হয় এবং যার একটা কোনো গার্লফ্রেন্ড জোটেনা 
ওতানি আর রিসাকে ক্লাসের সবাই কমেডি-ডুয়ো বলে কারণ যখনই দেখা যায় ওরা মারামারি, জগড়াঝাটিই করতেসে, পুরা উত্তরমেরু আর দক্ষিণমেরু ধরণের!
এইরকম এক পর্যায়ে দুজনে চুক্তি করে যে,
রিসা একটা বয়ফ্রেন্ড আর ওতানি একটা গার্লফ্রেন্ড জোগাড় করবে।
যে আগে সফল হবে সে অপরজনকে ট্রিট দিবে।
এইভাবে খুনসুঁটির মাঝে রিসা অযৌক্তিকভাবে ওতানির প্রেমেই পড়ে যায়!
আর বুঝতেই পারছেন,
(১৭০cm এর মেয়ের বয়ফ্রেন্ড ১৫৪cm এর এক ছেলে) এই সম্পর্কের ডিজাস্টার কল্পনা করে বেচারি একদম মিইয়ে যায়!
কিন্তু তার বাকি দুই বান্ধবী এটা জেনে উল্টা প্রচন্ড খুশি হয় এবং দুই বান্ধবী ও তাদের দুজনের বয়ফ্রেন্ড সহ ৪জনে মিলে ওতানি আর রিসাকে মিলাবার মিশন-ইম্পসিবল এর দায়িত্ব নেয়।
.
এখানে একটা ডায়লগ দেই,
রিসা যখন উপলব্ধি করে ওতানির প্রেমে পড়সে তারপর একদিন ক্লাসের সবার হাইট মাপা হলে দেখা যায় রিসা আরো ২cm বেড়ে গেসে (আর ওতানি বাড়সে 2mm ) তাই দেখে ওর বান্ধবীরা বলে
:This is no time for growing taller Risa!! 
: Am I doing it on purpose!!! 
.
প্রথম দিকে থাকে শুধু কমেডি মাঝে এসে কমেডি-ট্র‍্যাজেডি আর শেষে রোমান্টিক , এই নিয়ে ২৪ পর্বের সাদামাটা কিন্তু ভীন্নধর্মী থিমে দারুনভাবে গড়ে ওঠা এনিমেটা ভাল্লাগবে আপনারও 
কমেডিতে জোর করে কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা নাই। কমেডিগুলা পিউর।
বাস্তবতার সাথে মিল রেখে বানানো এনিমেটা অনায়াসেই পছন্দের তালিকায় জায়গা পেয়ে গেছে।
.
[বিঃদ্রঃ
এইটা দেখার পর মনে হইসে “গোল্ডেন টাইম” নামটা এই এনিমের হওয়া উচিৎ
আর
“লাভলি কমপ্লেক্স” নামটা অই গোল্ডেন-টাইম (পছন্ডো ফালতু একটা এনিমে) এর নাম হওয়া উচিৎ ছিলো ]

কোবাতো বন্দনা – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

download

“কোবাতো” আনিমেটা দেখে শেষ করলাম মাত্র। এবং বলতেই হবে, অসাধারণ আনিমে ছিল। এত বেশি ভাল লেগেছে যে দৌড় দিয়ে মিথিলার পোস্টে কমেন্ট লিখা শুরু করে দিয়েছিলাম, কারণ মিথিলার সুন্দর রিভিউটা পড়েই এই আনিমে দেখতে বসেছিলাম। পরে আবিষ্কার করলাম বেশি উত্তেজনায় রচনা লিখে ফেলেছি, তাই সেই রচনা একটু বাড়িয়ে চাড়িয়ে এখানে আবার পোস্ট করছি।

কোবাতো আনিমেটা শুরুর দিকে মনে হচ্ছিল, চিনির শিরার মধ্যে সারারাত ডুবিয়ে রেখে সকালে প্রেজেন্ট করেছে। কোবাতো অতিরিক্ত বেশি সুইট, এত বেশি যে সেটা দমবন্ধ করে দেয়ার মত অবস্থা করে। শুরুতে কোবাতোকে একটা এয়ারহেড, কিছুটা এনোয়িং কেয়ারলেস একটা মেয়ে ছাড়া কিছুই মনে হয়না, এবং হানাযাওয়া কানা ইউজলেস ক্যারেক্টার যে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, তা এই আনিমে দেখে সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। প্রথম দু-তিনটা পর্ব দেখে যদি কেউ বিরক্ত হয়ে আনিমেটা ড্রপ দেয়ার কথা ভাবে, সত্যি বলছি অবাক হব না।

এরপর আনিমেটা দেখা চালিয়ে যেতে থাকলাম, কোবাতোর স্বভাব চরিত্রে কোন পরিবর্তন এল না। কিন্তু আমি একটা ব্যাপার উপলব্ধি করলাম। তা হল, আমাদের সবার জীবনেই আসলে একজন কোবাতো প্রয়োজন, যে তার সারল্য, উচ্ছলতা, প্রাণবন্ততা দিয়ে আমাদের ম্যাড়মেড়ে মানসিকতাটা পালটে দেবে। কোবাতো সরল হতে পারে, কিন্তু বোকা নয়। সে একটা কাজ অসম্ভব জেনেও হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, শুধুমাত্র তার সদিচ্ছার জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে সে। কাজের ক্ষেত্রে হাজারটা গোলমাল করে, কিন্তু তাও সে হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, কাজটা করেই ছাড়ে। কোবাতোর ওপর বিরক্ত হওয়া যায়, কিন্তু সেটা প্রকাশ করা যায় না। তার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালে সব বিরক্তি চলে যেতে বাধ্য।

13b605e23ec7ae50a8b6f6b56bde4dbd

কোবাতো বন্দনা বেশি করে ফেলছি, কারণ আমার এই ইউজলেস মেয়েটাকে দেখে খুব বেশি ভাল লেগেছে। এখন একটু অন্যদের কথাও বলা যাক!

আমি ফুজিমোতো আর কোবাতোকে শুরুতে দেখে, এমনকি প্রায় ১৯-২০ এপিসোড পর্যন্ত দেখেও কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে এই দুটোকে কিভাবে কাপল হিসেবে কল্পনা করব। কিন্তু শেষের দুই এপিসোড যা দেখাল :’) আমার পছন্দের কাপলগুলোর একটা (অ্যাজ ইফ আমার আর কোন পছন্দের কাপল আছে :v) হয়ে গেল কোবাতো – কিওকাযু। মাঝে অল্প সময় সেকেন্ড লিড সিন্ড্রোম ধরি ধরি করছিল, এখন সেটা পালিয়ে গেছে।

আর সবচেয়ে বড় কথা, একটা স্টোরি খালি বানালেই হয়না, সেটার এক্সিকিউশন সেইরকম না হলে আলটিমেটলি অত উপভোগ্য হয়না। কোবাতোকে প্রথমে দেখে তার অতি এন্থুসিয়াস্টিক আচরণ দেখে মেয়েটাকে এনোয়িং লাগছিল, কিন্তু আনিমে আগাতে আগাতে পুরাই “I want to protect that smile” ফিল এনে দিল, যেমনটা কিওকাযুর সাথে ঘটল, সেটা যেন আমার সাথেও ঘটল। বিরক্ত লাগে, কিন্তু সামহাউ রাগ ওঠে না। আনিমের প্রতিটা চরিত্রকেই কাহিনীর প্রয়োজনে খুব দ্রুত, কিন্তু সুচারুভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, এতে পরিবর্তনটা চোখে লাগে না, কিন্তু মনে প্রভাব ফেলে। ফুজিমোতো কিওকাযুর ডেভেলপমেন্টটা বিশেষ করে আমার খুব ভাল লেগেছে। ওর শূণ্যতাগুলো যেন নিজে অনুভব করতে পারছিলাম।

আর ক্ল্যাম্পের মেয়েগুলাকে পেলে যে কি করব 😐 😐 প্রত্যেকটা ছেলেকে এত বেশি ইকেমেন বানাতে কে কইসে এদের :’| কিওকাযু চেতলেও চেহারা কি সুন্দর দেখা যায় <3

আর হ্যাঁ, ক্ল্যাম্প ভার্সের ইস্টার এগ!! ওয়াতানুকিকে দেখাল, তাও আবার তার কুল ফর্মে <3 আবার সুবাসার ক্যারেক্টারদের নিয়ে আস্ত একটা পর্বই দিয়ে দিল!! খুব ভাল লেগেছে :’) ফাইকে আবার দেখলাম <3 এছাড়া চবিটস এর মেইন ক্যারেক্টাররা এখানে পার্মানেন্ট চরিত্র হিসেবে আছে, সেটিং এও মিল আছে দুই আনিমের।

সবমিলিয়ে কোবাতো আনিমেটি আমার খুবই ভাল লেগেছে। সুইট একটা স্টোরি, মন ভাল করে দেবার মত মিষ্টি একটা আনিমে।

07a75ed2b83a14c71e191566552f29d1

গেট ইওর ডেইলি ডোজ অফ শিরোকুমা পান; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

খুব সাধারণ একটা নাম আনিমেটার, শিরোকুমা ক্যাফে, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় শ্বেতভল্লুকের কাফে। আনিমেটা খুঁজে পেয়েছিলাম আমার বিভিন্ন পছন্দের সেইয়্যুদের কাজ চেক করতে করতে। তেমন কিছু আশা করিনি, ভেবেছিলাম শ্বেতভল্লুক ক্যাফে চালাবে, সেখানে অন্য প্রাণীদের ইন্টের‍্যাকশন দেখাবে হয়ত। ৫০ এপিসোড দেখে একটু চিন্তায় ছিলাম যে এতগুলো এপিসোডে এত কি দেখানো যায় একটা ক্যাফে নিয়ে।

আমার আন্দাজ একই সাথে ঠিক ছিল, আবার ভুল। লিটারেলি বললে আমার বর্ণনাই ঠিক, কিন্তু এইটুকু বর্ণনা দিয়ে শিরোকুমা ক্যাফে আনিমে সম্পর্কে কিছুই বলা হয় না।

এই আনিমে দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, আমার অনেক পছন্দের আনিমে আছে, যা অন্যদের এতটা ভাল লাগেনা, এবং আমি বুঝতেও পারি যে তাদের কেন ভাল লাগছে না। কিন্তু এই আনিমেটা কেউ পছন্দ করবে না, এটা ভাবলেও কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে। কেন করবে না?! শিরোকুমার পানগুলো শুনলে একজন মানুষের কেন হাসি আসবে না! পেঙ্গুইনের হারেম (যা কিনা সেইম সেইয়্যুর অন্য যেকোন বিখ্যাত হারেমকে পেছনে ফেলে দেয়) দেখলে কেন কেউ মজা পাবে না! পাণ্ডার অলসতা এবং সেগুলোর পেছনের কঠিন যুক্তি কেন কাউকে ভাবিয়ে তুলবে না! বা নামাকেমোনো বা জৌগামে সানের দৃঢ় মনোবল দেখে কার মন ভরে উঠবে না!

আনিমের বেশিরভাগ চরিত্র প্রাণী, এমন আনিমে এই প্রথম দেখছি না, কিন্তু এমন অসাধারণ চরিত্রায়ন আমার মনে হয়না খুব বেশি দেখেছি। সবচেয়ে যে জিনিসটা ভাল লেগেছে, আনিমের বাঘা বাঘা সেইয়্যুদের সেরা পারফরমেন্স দেখতে পেয়েছি। প্রতিটা চরিত্রের সাথে তারা এমনভাবে মিশে গেছেন, কখনো মনে এই প্রশ্নটা আসতেই দেননি যে এতগুলো প্রাণী মানুষের মত কেন চলাফেরা করছে!

আনিমের আরেকটা ভাল দিক আমার মনে হয়েছে এর ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলো। তিনটি ওপেনিং, তার মাঝে প্রথম ওপেনিং “বোকু নি ইনিভিটেশন” এত বেশি ভাল, যে বাকি দুটো গান ভাল হওয়া সত্ত্বেও প্রথমটার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। আর এন্ডিং অনেকগুলো ছিল, এবং প্রায় প্রতিটাই আনিমের কোন না কোন চরিত্রকে ফোকাস করে। আমার লামা সানের এন্ডিং টা সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে। আর একেবারে শেষ এন্ডিং টায় শিরোকুমা সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে থাকে, শুনে খুব মন খারাপ হচ্ছিল যে এত সুন্দর আনিমেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

শিরোকুমা ক্যাফে নিয়ে আসলে কথা শেষ হওয়ার নয়। প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি আনিমেটার, একেকটা হাসির মুহূর্ত তিন চারবার করে পেছনে টেনে দেখেছি। শিরোকুমার পানের স্ক্রিনশট দিয়ে আমার গ্যালারী ভরে গেছে। বোকু নি ইনভিটেশনের সাথে সুর মেলাতে মেলাতে মুখস্থ হয়ে গেছে। এমনকি পরের পর্বের প্রিক্যাপের কার্ডগুলোও খুব আগ্রহ নিয়ে দেখতাম। শেষ পর্বের শেষ কার্ডে যখন “সি ইউ এগেইন” লেখা উঠল, খুব মন খারাপ হয়ে গেছিল, কারণ সেটা প্রচারের পর পাঁচ বছর হয়ে গেছে, কোন ছোটখাটো ওভিএ স্পেশাল কিছুই নেই এরপর। এক চেরি ব্লসম ভিউইং থেকে আরেকটা, খুব সুন্দর একটা জার্নি ছিল ক্যাফের সাথে।

My invitation came without any prior notice. I accepted it, went to this wonderful cafe knowing nothing, enjoyed myself to the fullest. Now that the party is over, I can’t even think of moving on..

Screenshot_2017-07-12-22-05-43-741_com.mxtech.videoplayer.ad

Macross: Do You Remember Love? (1984) [মুভি রিকমেন্ডেশন] — Tahsin Faruque Aninda

Macross Do You Remember Love

সেই ৩৩ বছর আগের একটা মুভি, অথচ এখনও দেখলে দর্শকেরা সেই যুগের মতই উপভোগ করে যায়। এটাই কি “কালজয়ী” কথাটার একটা ব্যাখ্যা ধরে নেওয়া যায়? যায় কি যায় না, সেটা না হয় দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দিব। মুভিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে বলবো, ‘মেকা’ এবং ‘স্পেস’ জনরা নিয়ে স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী হয়েও একটা জিনিস পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় – এই মুভিটি অন্যান্য ‘মেকা’ ও ‘স্পেস’ গল্প থেকে আলাদা বেশ। কীরকম, তার অল্পস্বল্প বর্ণনা দেই।

সাধারণত অন্যান্য মেকা জনরার আনিমেগুলি আমরা দেখি বিশাল বিশাল একেকটি মেকা নিয়ে বিভিন্ন চরিত্রদের মারামারি, আর এসব মারামারির পিছনে অনেক অনেক কলাকৌশল, থাকে রাজনৈতিক প্রভাব। থাকে সাইকোলজিকাল ব্যাপার, আবার থাকে মাইন্ড-গেম। উল্লেখ্য, যেসব ব্যাপার এখানে বললাম, সেগুলি “সাধারণত” দেখা যায়, কারণ ব্যাতিক্রম তো থাকেই। ম্যাক্রসের এই মুভিটিও তেমন একটি ব্যাতিক্রম।

এই মুভিটিতে ‘মেকা’ একটি সাইড জনরা হিসাবেই ধরে নেওয়া যায়। এর মূল জনরা হল রোমান্স ও স্পেস। হ্যাঁ, এটি নিখাদ একটি প্রেমকাহিনী, যার পুরা গল্পটি ঘটেছে মহাকাশীয় পটভূমির উপর ভিত্তি করে। মুভিটির আরও একটি ব্যাপার দেখা যায়, তা হল এখানে একটু পরপরই বিভিন্ন গানের ব্যবহার। ‘মিউজিক’-ও একটি বড় জনরা মুভিটির।

গানের ছন্দে ছন্দে প্রেমকাহিনীর আবর্তন, শুনতে কি আমাদের সেই পুরান যুগের বাংলা বা হিন্দি মুভির মত শুনাচ্ছে? অনেকটা সেরকমই। আবার একদম সেরকমও না। এক নায়ক ও দুই নায়িকার ত্রিভুজ প্রেমের গল্প এটি, যা মহাকাশীয় যুদ্ধের সাথে সাথে গল্পক্রমে বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়। মানবজাতি, ‘জেনত্রায়েদি’ নামের শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত এক এলিয়েন জাতি ও ‘মেলত্রান্দি’ নামের শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত আরেক এলিয়েন জাতি – এই ৩ পক্ষের যুদ্ধ হল গল্পটির পটভূমি। এরই মধ্যে ৩ প্রধাণ চরিত্রের সম্পর্ক নিয়েই গল্পটি এগিয়ে যেতে থাকে।

৩৩ বছরের পুরানো মুভি হয়ে থাকলেও এর অ্যানিমেশন চোখ ধাঁধানো। চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টের সাথে সাথে স্পেসশিপের যুদ্ধ দেখার মত। কিছুক্ষণ পরপর গানের ব্যবহার অনেকটা আমাদের চেনাজানা হিন্দি সিনেমার ধারণা দিবে, নায়ক-নায়িকা গানের তালে তালে ঘুরে বেড়াবে। তবে গানগুলি সুন্দর হবার কারণে বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে গিয়েছে সবকিছু। আর শুধু এটুকুতেই গানের ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ থাকছে না, কারণ “গান” জিনিসটি গল্পটার একটা বেশ বড় অংশ, বেশ বড় এক প্লট পয়েন্ট, যেই ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে হয়তো স্পয়লার হয়ে যাবে।

যতদূর শুনেছি, এই মুভিটি এর আগে মুক্তি পাওয়া টিভি সিরিজ SDF Macross-এরই এক অল্টারনেট ভার্শন। হয়তো সে কারণেই মুভির বেশ অনেক চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট ব্যাপারটি তেমন ভালমত হয়ে উঠে নি। তবে সেটা খুব বেশি বড় সমস্যার ব্যাপার হয়ে উঠে নি। মুভিটির খারাপ দিক বলতে গেলে এটুকুতেই থেমে থাকবো।

আরেকটি দিক অবশ্য সতর্ক থাকা দরকার হয়তো, যেই সময়ের মুভি, সেই সময়ে টিভি মিডিয়াতে নারী চরিত্রদের কীভাবে উপস্থাপন করা হত চরিত্র হিসাবে সেইটা মাথায় রাখা উচিৎ। এখন কিছু কিছু ব্যাপার যেগুলি অশভোনীয় বা অসম্মানজনক লাগে শুনতে, তখন সেগুলি স্বাভাবিক কথা হিসাবেই হয়তো বলা হত। এরকম কয়েকটি ডায়লগ হয়তো শুনতে পাওয়া যাবে, সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নিবেন না ক্রোধান্বিত হয়ে গ্রহণ করবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার।

ম্যাক্রস ফ্র্যাঞ্চাইজের ভক্তমহল বাংলাদেশে খুবই ছোট হয়তো, কারণ এর মুভি বা সিরিজ নিয়ে কথা শুনা যায়ই না একদম। আমি নিজেও যে দেখেছি তা না, বরং এই মুভি দিয়ে শুরু করলাম। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজটির অন্যান্য সিরিজ ও মুভিগুলি যদি এই মুভিটির মানের দিক থেকে কাছাকাছি হয়ে থাকে, আমার মনে হয় এটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠবে অনেক দর্শকদের কাছে।

বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ; সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

77590

আমার সবসময় যেটা মনে হয়, জাপানী আনিমে আসলে একটা “Double Edged Sword”. আপনার কখন কোনটা ভাল লাগবে, কিছুই বলা যায় না। দেখা যাবে যে একটা আনিমে আপনার আজ ভাল লাগল না, কিন্তু কয়েক বছর পর সেটা আবার ট্রাই করার সাথে সাথে প্রচণ্ড ভালোলাগা শুরু হয়ে গেল। আমার ক্ষেত্রে জিনিসটা হয় যখন আমি কমেডি বা ডেইলি লাইফ টাইপ কোন আনিমে দেখি।

আজ দেখে শেষ করলাম “বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ”। স্লাইস অফ লাইফ – আমার প্রিয় জনরা। অথচ বছর তিনেক আগে এই আনিমের প্রথম এপিসোড দেখে খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম। গত পরশু স্লাইস অফ লাইফ খুঁজতে খুঁজতে নামটা আবার চোখে পড়ল, ভাবলাম এটাই শেষ করে ফেলি। এবং শেষ করার জন্য দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম, আনিমেটা আমার খুবই ভাল লাগছে; almost as if I was searching for this exact anime!!

তো এই নিজের সাথে কন্ট্রাডিকশন দেখে আমার মাথায় ব্যাপারটা ঘুরপাক খেতে থাকল তিনদিন ধরে। ভাবতে ভাবতে মনে হল ঠিকই আছে। কারণ আনিমের প্রভাবটা বাদ দিয়ে দিলে “ফান” সম্পর্কে আমার নিজের যে আইডিয়া, বা আমি যেগুলোতে মজা পাই বা পেতাম, জাপানী আনিমের সাথে তা অনেকাংশেই মেলে না। জাপানী আনিমেতে এটা একটা কমন সিনারিও যে একটা ছেলে থাকবে, তাকে দুনিয়াশুদ্ধ মেয়ে যেভাবে ইচ্ছা অ্যাসাল্ট করবে, আর সে মেয়েগুলোকে কিছুই বলবে না, উলটো তাদের এসব অত্যাচার সিম্পলি শ্রাগ অফ করে তাদের সব ডিমান্ড পূরণ করবে, সেটাও তাদের প্যানপ্যান শুনতে শুনতে। এই সিনারিও যে আসলে ফানি, এটা মেনে নেওয়ার জন্য আসলেই কিছুটা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, আর সেটার ভুক্তভোগী হয় এই টাইপের প্রথম যে আনিমেটা দেখা হয়, সেটা; আমার ক্ষেত্রে সেটা প্রোবাবলি ছিল বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ (যদিও কোনোসুবাতে এই টাইপ কমেডি দেখে হাসতে পারিনি)।

77596

যাহোক, আজাইরা বক্তৃতা শেষ, আসল কথা খুব কম। ভাল করেছিলাম যে তখন এক এপিসোড দেখে এই আনিমে হোল্ডে রেখেছিলাম, কারণ বাকি এপিসোড দেখলে আমি নিশ্চিত তখন এতটা মজা পেতাম না। ছোট করে বললে আনিমের কাহিনী “কাওয়াই কমপ্লেক্স” নামের বোর্ডিং হাউস এর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে, এবং এই বোর্ডিং এর সব বাসিন্দার মাথায় প্রব্লেম আছে। তাও দিনশেষে তারা একজন আরেকজনের বিপদে ঠিকই একজোট হয়ে এগিয়ে আসে সাহায্য করতে, কাজেই মেদেতাশি মেদেতাশি।

আনিমের আর্ট বেশ সুন্দর, ব্রেইন্স বেইজকে আমি চিনি তাদের কম কালার দেয়া শান্তিময় সতেজ আর্টের জন্য, কিন্তু এই আনিমেতে তারা রঙ ঢালতে কোন কার্পণ্য করেনি। ওএসটি খারাপ না, আবার উল্লেখযোগ্য কিছুও না। স্লাইস অফ লাইফ ভাল লাগলে এই আনিমে ভাল লাগার কথা।

কেউ দেখতে চাইলে দেখতে পারেন, তবে নতুন নতুন আনিমে দেখছে, এমন কাউকে এটা সাজেস্ট না করাই ভাল, অন্তত আমার মনে হয়।

77597

সৌল ইটারঃ রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

SOUL.EATER.full.350803

কেনযেন নারু তামাশি ওয়া,
কেনযেন নারু সেইশিন তো,
কেনযেন নারু নিকুতাই নি ইয়াদোরু।

আনিমেটার প্রতি এপিসোডের শুরুতে মাকা আলবার্ন এর কণ্ঠে এই তিনটে কথা শোনা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত আনিমেটায় এই কথাগুলোর কোন রকম গুরুত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না, একটা পরীক্ষার শূণ্যস্থান পূরণের মার্ক তোলা বাদে।

পুরো আনিমেটাই আসলে এরকম। সিরিয়াস বিপদের মধ্যেও যখন ব্ল্যাক স্টার “I’m going to transcend Gods” বলে চিল্লাচিল্লি করবে, বা কিড পলায়নপর শত্রুর পিছু নেওয়া বাদ দিয়ে সিমেট্রির পেছনে দৌড়িয়ে বেড়াবে, এদের ইউজলেস কাজকারবার দেখে একদিকে প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হবে, আবার হাসিও এসে যাবে।

আমি সাধারণত কোন আনিমের রানটাইম দুই সিজনের বেশি হলে সেটাকে ওয়াচলিস্ট থেকে বের করে দেই। তাও চার সিজন ধরে চলা ৫১ এপিসোডের এই আনিমেটা দেখা শুরু করি মূলত দুটো কারণে; প্রথমত বোনস এর আনিমে, ভাল না হোক, অন্তত খারাপ হবে না- এই আশা ছিল, দ্বিতীয়ত সেইয়্যু কাস্টে মামোরু মিয়ানো ছিল। মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টারগুলো সাধারণত পাগলাটে হয়, দেখতে মজাই লাগে, আশা ছিল ডেথ দ্য কিড যদি সেই ক্যারেক্টারগুলোর ৫০% পাগলামিও করে, ভালই লাগবে। দুই দিক থেকেই আশা পূরণ হয়েছে ষোল আনা!! কথা বলছি সৌল ইটার নিয়ে।

2656-soul-eater-maka-and-soul

আনিমের কাহিনী বলা খুব সহজ, কারণ শুরুটা দেখে যে কারও মনে হবে যে ব্লিচ দেখছে, আরও ভাল আর্টওয়ার্ক এ। সেই পৃথিবীতে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানো পথভ্রষ্ট আত্মা, তাকে পাকড়াও করবে শিনিগামীর দূত। তবে মিল এখানেই শেষ, কাজেই নিশ্চিন্তে সামনে আগানো যাবে, রিপ অফ দেখব কিনা এই দুশ্চিন্তা না করে।

আমার সাধারণত আনিমে মনে থাকে কাহিনী দিয়ে, ক্যারেক্টারের নাম বা অন্যান্য খুঁটিনাটি কিছুদিন পর ভুলে যাই। সৌল ইটার এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম, কারণ এর কাহিনীর তুলনায় এর আর্ট, ওএসটি এবং অদ্ভুত ক্যারেক্টারগুলো আমাকে বেশি টেনেছে। শুরু থেকে আর্ট দেখে বারবার ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট এর কথা মনে পড়ছিল, আর মাকা আলবার্ন এর সাথে উইনরির স্বভাবে মিল পাচ্ছিলাম। ডেথ দ্য কিডকে নিয়ে আমি আসলে বেশি উৎসুক ছিলাম, কারণ মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টার, এবং সে আমার উৎসাহের আগুনে বালতি বালতি ঘি ঢেলেছে; তাকে যতটা তারছিড়া আশা করেছিলাম সে তারচেয়েও বড় তারছিড়া! নরমালি সিমেট্রি নিয়ে পাগলামি করে বেড়ানো, অথচ কাজের সময় সেইরকম কুল, কিডকে দেখে বারবার বুঙ্গো স্ট্রে ডগস এর দাযাই ওসামুকে মনে পড়ছিল।

death_the_kid_b_and_w_vector_by_x__zero__x

ছেলের কথা যখন এল, বাপের কথাও বলা উচিৎ! শিনিগামী সামার নাকিসুরের কথা আমার মাথায় ঢুকে গেছে, অস্বীকার করব না, গত কয়েকদিন ধরে তার মত নাকিসুরে কথা বলতে চেষ্টা করেছি মাঝেমধ্যেই, যদিও তা আলটিমেটলি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ;-;

পছন্দের ক্যারেক্টারের লিস্ট আসলে শেষ করা সম্ভব না। সৌল ইভান্স (যে নাকি কুল না হলে কোন কাজ করেনা), ব্ল্যাক স্টার (যে বিধাতাকে অতিক্রম করে যাবে), ৎসুবাকি (সব তারছিড়ার মাঝে একমাত্র নরমাল ক্যারেক্টার), লিয-প্যাটি (এদের যেকোনো একজন কখনোই যথেষ্ট না, সবসময় জোড়ায় আসতে হবে, কারণ “symmetry is beautiful!”), স্পিরিট, স্টাইন হাকাসে, সিড সেন্সেই, মারি সেন্সেই, জাস্টিন (এর থিমটা জোস, সাথে কথা বলার স্টাইলও); এছাড়া আরও অনেক ক্যারেক্টার মনে রাখার মত লেগেছে। ওএসটি খুবই ভাল ছিল, নরমালি ফাইট সিন আমাকে তেমন টানে না, কিন্তু সৌল ইটারের ফাইটগুলোর জন্য আমি অপেক্ষা করে বসে থাকতাম, যাতে ফাইট মিউজিকগুলো শুনতে পাই। স্পেশালি কিড আর জাস্টিনের থিম সং আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। ওভার অল কাহিনীর পেসিং কিছুটা বুঙ্গোর মত লেগেছে (এমনকি লাস্টের ফাইটটাও বুঙ্গোর লাস্ট ফাইটের মত ফুড়ুৎ করে শেষ হয়ে গেল :p), আর একটা দুটা ফাইট সিন দেখে মবের কথা মনে হয়েছিল, যদিও এখন জিজ্ঞেস করে লাভ নেই, মনে করতে পারব না।

সবমিলিয়ে সৌল ইটার বেশ ভাল একটা আনিমে, দেখে বেশ এঞ্জয় করেছি।

strana manga tapety soul+eater walpapers pozadia anime

গ্রেট টিচার ওনিযুকা – আনিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

Onizuka.Eikichi.full.291265

কিভাবে একটি টিপিকাল শৌনেন আনিমে বানাবেন যাতে সেটা টিপিকাল না লাগে?

বিখ্যাত কোন একটি টিপিকাল শৌনেন আনিমে (ধরে নিলাম ওয়ান পিস) নিন। সেখান থেকে “গ্রেটেস্ট জলদস্যু হতে চাই” রিপ্লেস করে বসিয়ে দিন “গ্রেটেস্ট টিচার হতে চাই”। নাকামা রিপ্লেস করুন স্টুডেন্ট দিয়ে, শত্রু রিপ্লেস করুন স্কুলের ফ্যাকাল্টি দিয়ে। অবশ্যই শত্রুদের মাঝেও কেউ কেউ হিরোর পক্ষে থাকবে, এবং নাকামারা শুরুতে হিরোকে এক্সেপ্ট করতে পারবে না। এটাও রুলের মধ্যেই পড়ে। হিরো হবে কেয়ারফ্রি এবং যা হতে চায় সেটা হওয়ার পূর্বশর্তেই গোড়ায় গলদ থাকবে (পাইরেটের সাঁতার না জানা, অথবা টিচারের এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড জঘন্য হওয়া)। তার কাজকর্ম দেখে নাকামাদের মাথায় হাত পড়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু যখন সিচুয়েশন একেবারেই হাতের বাইরে চলে যাবে, তারা বলবে “ইন লিডার/টিচার উই ট্রাস্ট”। এবং দুনিয়ার সব ব্লাণ্ডার ঘটিয়েও আলটিমেটলি যখন প্রোটাগনিস্ট মন থেকে একাগ্রচিত্তে কোন কাজ করতে বসবে নাওয়া খাওয়া ভুলে, ঠিকই অসম্ভবকে সম্ভব করবে। রেসিপি শেষ, আর রেসিপি ফলো করে আমরা পেয়ে গেলাম, এক টুকরো শিক্ষক, থুক্কু, “গ্রেট টিচার ওনিযুকা”।

এখন ওনিযুকা ফ্যানরা আমাকে শাপশাপান্ত শুরু করার আগেই বলি, টিপিকাল শৌনেন তো কোন খারাপ কিছু না! আমি উপরোক্ত রেসিপি দিয়ে ওনিযুকাকে খারাপ বলছি না, আনিমেটা আমার বেশ ভাল লেগেছে। বরং কথাগুলোকে পজেটিভলি এভাবেও নেয়া যায়, সাধারণ শৌনেন প্যাটার্ন ফলো করেও আনিমেটা আমাদের সমাজে প্রচলিত অনেক সমস্যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছে, তাদের বাহবা প্রাপ্য।

ইন্ট্রোতেই বলে দিয়েছি ওনিযুকার কাহিনী কেমন হতে পারে, আর বলার দরকার আছে মনে করছি না। শুধু কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করব,

স্টুডিও পিয়েরট এর তৈরি আনিমেটা সেই ১৯৯৯ সালের, আর্ট সেরকম, এটা মাথায় রেখে দেখতে বসলে ভালই লাগে।

এত পার্ভি জিনিসপাতি মাঝেমাঝে ভালই বিরক্তিকর লেগেছে, তবে মনে হয়না সেটা তেমন বেশি মানুষকে ভুগিয়েছে।

জাপানের হাইস্কুলের মেয়েরা মনে হয় সবাই এরকম হাড়বজ্জাত, নইলে মাঙ্গাকা মেয়েদের দেখতে পারে না। একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালায়ে শেষ করসে -_-

লাস্ট এপিসোডটা এরকম ফালতু না হলেও পারত। পুরো ৪২ টা এপিসোড ভালই দেখলাম, লাস্টে এসে এমন একটা এন্ডিং দিল :/

যাহোক, ওভার অল আমার মনে হয় সবারই ভাল লাগার মত আনিমে এটি, রিকমেন্ডেড।