“শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”; রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

rakugo

আমার এক বান্ধবী মাঝেমাঝে একটা কথা বলত, “পরীক্ষার সময় দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে থাকাও অনেক ইন্টারেস্টিং একটা কাজ বলে মনে হয়।” কথাটা শতভাগ সত্যি। এবং এই কথামতই, সারাটা বছর পার করে অবশেষে এই ডিসেম্বর মাসে এসে দেখলাম “শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”।

আমি সাধারণত কমফোর্টেবল ফিল করি দুই ধরণের আনিমে নিয়ে কথা বলতে গেলে, একটা হল যেখানে কিছুই ঘটেনা, আরেকটা যেখানে আসলেই কিছু ঘটে না :3 সত্যি কথা, হাইস্কুলের পোলাপান দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছে, মজা করে বেন্তো খাচ্ছে; বা র্যান্ডম কিশোর বালক অ্যাডভেঞ্চার করতে বেরিয়ে দুনিয়া জয় করে ফেলছে, কিংবা খুব থ্রিলিং কম্পিটিশন বা মারামারি চলছে, এমন আনিমে নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে বেশি সহজ মনে হয়। কিন্তু যেখানে আসলেই কিছু ঘটছে, এবং জিনিসটা বাস্তবের খুব কাছাকাছি, সেটা নিয়ে কথা বলাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। তারওপর যখন আনিমেটার মূল থিমই হয় গল্প বলা নিয়ে, সেখানে অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করাটা গিভেন হয়ে যায়, আর সেটা করতে গেলে গবেষণা করা লাগবে একগাদা, যেটা খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয় (আমার জন্য)।

তাহলে কথা যেটা ওঠে এখানে, আমি তাও শৌওয়া নিয়ে লিখছি কেন, আর লিখছিই যখন, কোনরকম গবেষণা না করেই বা লিখছি কেন।

কারণ একটাই, আনিমেটা বেশ ভাল লেগেছে। শুধু ভাল লাগলে হয়ত লিখতে ইচ্ছে হত না, ইচ্ছেটা জেগেছে কারণ আনিমেটার প্লট খুব ইউনিক লেগেছে। বর্তমানের “ইসেকাই”, “তাইমু তোরাবেরু”, “আইদোরু”, বা অযথা এচ্চি দিয়ে ভরে রাখা আনিমের যুগে হাতেগোণা যে কয়টা আনিমে দেখলে মনে হয়, “নাহ! এ জিনিস তো আগে কোনদিন দেখিনি!”- তার মাঝে শৌওয়া অন্যতম।

কাহিনী মূলত জাপানের পটভূমিতে রাকুগো শিল্পের উত্থান পতন নিয়ে, কিন্তু এর পাশাপাশি খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একদল মানুষের জীবনের কাহিনী; তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাকুগো মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

আনিমেটা আমি এতদিন শুরু করতে পারছিলামনা কারণ টাইটেলটা পড়ে এবং মানু্ষের রিভিউ পড়ে একটু ভয় কাজ করছিল যে সেই শৌওয়া আমলের প্লট, তাও আবার জাপানের বিবর্তন টাইপ জিনিস নিয়ে কারবার, যদি বোর হয়ে যাই! অনেকেই হয়ত এটা ভেবে “ভারী” এই আনিমেটা দেখেননি, বা আমি একাই হয়ত “ইয়োতারো”, কিন্তু আনিমেটার ৪৭ মিনিটের প্রথম এপিসোড দেখেই আমার সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছিল। আর যাই হোক, শুরুটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কেবল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এনার্জেটিক এক ছেলে গিয়ে সরাসরি পায়ে পড়ল রাকুগো শিল্পীর- দ্যাটস সামথিং ইউ ডোন্ট গেট টু ওয়াচ এভ্রিডে!!

আনিমের কাহিনী বেশ ভাল লেগেছে, অনেক কিছুই দেখার সময় আগে থেকেই আন্দাজ করে ফেলা যায়, তা মিলেও যায়, কিন্তু মজাটা এখানেই। আপনি জানবেন এরপর এটা আসছে, কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব তা আপনি ঠাহর করতে পারবেননা। তারপর যখন জিনিসটা ঘটবে, তখন অবাক হয়ে ভাববেন যে এটাই ঘটার কথা ছিল আসলে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে আনিমের একটা প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে। আর সাথে তো রাকুগোর স্কিলফুল পারফরমেন্স গুলো আছেই, যা নিয়ে আমার আগেও অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, ভয়েস একটরদের মুন্সিয়ানা গবেষণা করে বা অ্যানিমেশন আর মিউজিকের কম্বিনেশন কিভাবে নিখুঁতভাবে ম্যাচ করানো হয়েছে তা নিয়ে তথ্যবহুল পোস্ট দিয়েছেন, তাই আমি আর কষ্ট করলাম না। খালি দুটো কথা বলব, অ্যানিমেশন এখানে গৌণ ব্যাপার, কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলে কিসের অ্যানিমেশন, কিসের কি! ওপেনিং গানটা বেশ ভাল লেগেছে, জাদুভরা কণ্ঠ।

“শৌওয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু” হয়ত আমার টপ ফেভারিট বা এমন কিছু হয়ে ওঠেনি, কিন্তু তাতে কি, ভাল তো লেগেছে, সেটাই যথেষ্ট। আর আমার মনে হয় একবার দেখা শুর করলে আনিমেটা যে কারও ভাল লাগবে।

Short Review- 91 Days; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

009cd1af841aa7a8a5c5938af483bf6d

ব্যস্ততার কারণে পোস্ট লেখা হয়ে ওঠে না আজকাল, তবে সিজন শেষে এই একটা অ্যানিমে নিয়ে পোস্ট দেয়া আসে।

৯১ দিন। নামটা দেখে কিছুই গেস করা যায় না। পিভি দেখেও কিছুই বুঝিনি (যদিও পিভি এবং ওপেনিং গানটাতে পুরো অ্যানিমের কাহিনীই বলে দিয়েছে ধরতে গেলে)। দেখা শুরু করার পর বুঝলাম যে এটা একটা প্রতিশোধ নেয়ার কাহিনী। পুরনো কনসেপ্ট, ছোটবেলায় এক পরিবারের একটা বাচ্চাকে বাদে বাকি সবাইকে খুন করে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা, এরপর সেই বাচ্চা বড় হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার আশায় ঘুরতে থাকে। আসলেও তাই। কোন নতুনত্ব নেই প্লটে।

কিন্তু আপনি যদি ভেবে থাকেন টিপিকাল কোন, “ভানেত্তি!! তুই আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছিস, আমি তোকে শেষ করব!!” টাইপ কোন কাহিনী দেখবেন, এখানেই করছেন সবচেয়ে বড় ভুলটা। আমি একটা টিভি সিরিজ খুব পছন্দ করি, সিরিজের নামই “রিভেঞ্জ”। সেখানেও মেয়েটা তার বাবার সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে শত্রুদের সাথে মিশে এক হয়ে যায়। এত মানু্ষের সাথে তার চলাফেরা, কিন্তু দিনশেষে তার যে একাকীত্বটা, যে হাহাকারটা প্রতিনিয়ত তার মনে বেজে চলে, সেটা অনুভব করে প্রচণ্ড কষ্ট লেগেছিল। অনেকদিন পর সেই অনুভূতিটা আবার ফিরে পেলাম এই অ্যানিমে দেখে। হাসিমুখে নিজের পরিবারের খুনীদের সাথে কথা বলা, বন্ধুর মত আচরণ করা, এর চেয়ে বড় শাস্তি একটা মানু্ষের জীবনে আর কি হতে পারে! অ্যাঞ্জেলো লাগুসাকে প্রতিবার দেখে তাই খারাপ লেগেছে। আর, মানুষের মন তো! অভিনয় কি আসলেই অভিনয়ে আটকে থাকে? অভিনয় করতে করতে সেটা কি কিছুটা হলেও সত্যি হয়ে যায় না?

স্টুডিও শুকার অরিজিনাল অ্যানিমে এটি, স্টুডিওর অন্য সব কাজ দেখলাম ব্রেইনস বেইজের ক্যানসেল করে দেয়া ভাল ভাল টাইটেলের রিজ্যুম, যেমন নাতসুমে বা দুরারারা। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আমার অতিরিক্ত পছন্দের দুটি অ্যানিমের সিক্যুয়াল বের করার জন্য, এবং এই অসাধারণ অরিজিনাল অ্যানিমেটি উপহার দেয়ার জন্য। সবদিক থেকে অ্যানিমেটা পারফেক্ট। কাহিনী, এক্সিকিউশন, যেখানে যে জিনিসটা যেভাবে দেয়া দরকার, ঠিক সেভাবে দিয়েছে। ডার্ক সেটিং, চমৎকার ওএসটি, পুরানো আমলের সাথে মানানসই আর্টওয়ার্ক- সবমিলিয়ে অসাধারণ। আর শেষের চার-পাঁচটা এপিসোড আমার দেখা সেরা এপিসোড গুলোর মাঝে উপরের দিকে থাকবে, এভাবে অ্যানিমে ক্যারেক্টারের প্রতি অ্যাটাচমেন্ট আমার ক্ষেত্রে অন্তত অনেক কম হয়।

যারা মাফিয়া বা ডার্ক থিমের অ্যানিমে পছন্দ করেন, তাদের তো ভাল লাগবেই, তবে আমার মনে হয় এটা সব মানুষের ভাল লাগার মত একটা অ্যানিমে। ১২ পর্বে এরচেয়ে ভালভাবে আর কিছু মনে হয় না দেখানো সম্ভব।

Aoi Bungaku Series [রিভিউ] — Barkat Hridoy

শুরু করি কবির ভাষায়,
কবি বলেছেন :
“যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই,
পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন”

এনিমের এই বিশাল দুনিয়াকে একটা ছাইয়ের গাদার সাথে তুলনা করা যেতেই পারে। এনিমের এই গাদায় ছাই (পড়ুন আজেবাজে এনিমে) অনেক থাকলেও ‘রত্ন’ খুব কমই আছে যা আমাদের বেশিরভাগরই দৃষ্টিগোচর থাকে। ঠিক তেমনই একটি রত্ন ‘আওই বুঙ্গাকু’।

aoi-bungaku-series-1

এনিমে: আওই বুঙ্গাকু সিরিজ (Aoi Bungaku Series)
জনরা: ড্রামা, সাইকোলজিকাল, সেইনেন, হিস্টোরিকাল, থ্রিলার
পর্ব: ১২
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

Synopsis: জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ছয়টি উপন্যাস/গল্পের অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে তৈরি এই এনিমে সিরিজ। গল্পগুলো হলো: ওসামু দাজাইয়ের ‘নো লংগার হিউম্যান’ ও ‘রান!মেলস’, আঙ্গো সাকাগুচির ‘আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম’, নাতসুমে সোসেকির ‘কোকোরো’ এবং আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের ‘ দ্য স্পাইডারস থ্রেড’ ও ‘হেল স্ক্রিন’।প্রতিটি গল্প ভিন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
সাইকোলজিকাল এনিমে মানেই যে ‘মাথার তিন হাত উপর দিয়ে যাওয়া ‘ স্টোরি বা ভুরি ভুরি গোর সিন ওয়ালা সিরিয়ালকিলিং সাইকোপ্যাথদের কাহিনী না, তার উৎকৃষ্ট উদাহরন হলো ‘আওই বুঙ্গাকু’। এ সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পর্যায় আর এ পর্যায়কালীন সময়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো।এর স্টোরিগুলো এতটাই ক্যাচি আর থ্রিলিং যে দেখতে দেখতে কখন যে সিরিজের চরিত্রগুলোর সাথে এক হয়ে যাবেন আর তাদের সুখ-দুঃখ,কষ্ট,বেদনা আপনার সুখ- দুঃখ হয়ে গেছে বুঝতেও পারবেন না।

aoi-bungaku-series-2

প্রতিটি স্টোরি একে অপর থেকে আলাদা। তাই প্রতিটি স্টোরির আলাদা আলাদা ইনসাইট/রিভিউ তুলে ধরলাম:

নো লংগার হিউম্যান:
সিরিজের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় গল্প। লেখক ওসামু দাজাইয়ের অনবদ্য এই সৃষ্টি অনেকটা অটোবায়োগ্রাফি ই বলা যেতে পারে কেননা লেখক প্রায় নিজের জীবনের কথায় কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। চার এপিসোডের এ গল্পে দেখানো হয়েছে ধনী,হতাশাগ্রস্থ ও প্রত্যাশার ভারে পিষ্ট এক তরুনের সমাজে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা।কোনো মানুষের জীবন যে এতটা দুঃখজনক আর ডিপ্রেসিং হতে পারে তা নো লংগার হিউম্যান না দেখলে জানা সম্ভব না। চিরকাল মনে দাগ কাটার মত ক্ষমতা রাখা এ গল্পটি কেন জাপানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রিত ও সর্বাধিক পঠিত গল্প/উপন্যাস তা দেখলেই জানতে পারবেন।

আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম:
সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড স্টোরি আর বড় ফ্ল বলা যায়। ফ্ল বলার কারণ হলো এর খারাপ অ্যাডাপ্টেশন। কারন বইয়ে যেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একধরনের ইন্টেসিটি ছিল এনিমেতে তা অনুপস্থিত।সেই সাথে প্রেজেন্টেশনও হতাশাজনক ছিল।

কোকোরো:
নাতসুমে সোসেকির অসাধারন সৃষ্টি এবং জাপানের সর্বোচ্চ বিক্রিত উপন্যাস। দুই এপিসোডের এ গল্পতে একটি ত্রিভুজ প্রেম দেখানো হয়েছে।কিন্তু নতুনত্ব হলো, এখানে দুই ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা আলাদাভাবে গল্পটিকে দেখানো হয়েছে। আমাদের মধ্যে একজনের দৃষ্টিকোণ অন্যজন থেকে কতটা ভিন্ন হতে পারে তাই তুলে ধরা হয়েছে।আর নামের সার্থকতা রক্ষার স্বার্থেই কিনা এটি আপনার ‘কোকোরো’ নিয়ে খেলবে এবং তা চুরমার করবে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও এটি সিরিজের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গল্প।

রান!মেলস:
সিরিজেরএকমাত্র প্যাঁচগোছহীন গল্প। Damon and Pythias নামক এক গ্রিক লেজেন্ড দিয়ে তৈরি নাটিকার সাথে তুলনা করে দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের গল্প বলা হয়েছে। হার্টওয়ার্মিং একটা গল্প।

দ্য স্পাইডারস থ্রেড:
‘ডুবন্ত মানুষ খড়কুঁটো ধরেও বেঁচে থাকতে চায়’ কথাটির জাপানিজ সংস্করণ হলো দ্য স্পাইডারস থ্রেড। পার্থক্য শুধু খড়কুটোর বদলে এখানে মাকড়শার সুতাকে দেখানো হয়েছে।একজন মৃত্যুভয়হীন গুপ্তঘাতক যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছায় তখন তার মধ্যে জেগে উঠা বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টাকে এ গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের লেখা এ ছোট গল্পটি মূলত বাচ্চাদের জন্য লেখা হলেও এনিমেতে ম্যাচিউর দর্শকদের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে। এর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভালো ছিল।

হেল স্ক্রিন :
আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের এ ছোটগল্পকে দুটি শব্দে প্রকাশ করা যায় এবং সেটি হলো ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। এতে দেখানো হয়েছে এক সৎ চিত্রশিল্পী ও তার মেয়ের কথা এবং তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প। এটির গল্প যেমন আপনার রক্ত হিম করে দিবে ঠিক তেমনি এর সৌন্দর্যে আপনি অস্ফুটে বলে উঠবেন ‘অসাধারন!’। অসাধারন একটি অ্যাডাপ্টেশন। আমার পার্সোনাল ফেভারিট।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, প্রতি গল্পের শুরুতে সে গল্পের লেখক সম্পর্কিত টীকাগুলো অসাধারন ছিল।

aoi-bungaku-series-3

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
প্রথমে আসি অ্যানিমেশনে,আমার দেখা স্টুডিও ম্যাডহাউসের কাজগুলোর মধ্যে বেস্ট। গল্পের ভাব বুঝে কালার আর অ্যানিমেশনের এত সুন্দর প্রেজেন্টেশন আর কোনো এনিমেতে দেখিনি। মন খারাপ করা পরিবেশ থেকে রঙে পরিপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তনগুলো(আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম বাদে) অসাধারন লেগেছে।

আর্ট অসাধারন। বিখ্যাত মাঙ্গাকারা আর্ট করেছেন তাই অসাধারন হওয়াটাই স্বাভাবিক।এনিমের পোস্টারে বসে থাকা ক্যারেক্টারকে দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, “আরে! ইয়াগামি লাইট না!!” এর কারন হলো এ এনিমের পোস্টার এবং দুটি গল্প নো লংগার হিউম্যান আর কোকোরো এর জন্য আর্ট করেছেন মাঙ্গাকা ‘তাকেশি ওবাতা'(ডেথনোট,বাকুমা­ন,প্লাটিনা এন্ড)।এছাড়া আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম, দ্য স্পাইডারস থ্রেড, হেল স্ক্রিনের আর্ট করেছেন ‘টিটে কুবো'( ব্লিচ)। রান মেলসের জন্য আর্ট করেছেন ‘তাকেশি কোনোমি'( প্রিন্স অফ টেনিস)।

aoi-bungaku-series-4

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমের দূর্বল জায়গা বলা যায়। সিরিজে কোনো ওপেনিং সং ছিল না আর এন্ডিংটা আমার শোনা সবচেয়ে বাজে এন্ডিং সংয়ের মধ্যে একটা। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মোটামুটি ভালো ছিল।

এন্জয়মেন্ট:
একটি এনিমের এন্জয়মেন্ট বড় একটি বিষয় কেননা দিনশেষে এনিমেটি এন্জয় করেছি কিনা সেটাই মূখ্য। এক্ষেত্রে আওই বুঙ্গাকুর এন্জয়মেন্টকে অনেকটা মরুভূমি ভ্রমনের সাথে তুলনা করা যায়। মরূভুমির মতো এনিমেটিরও পুরো পথ পাড়ি দিতে অনেক কষ্ট হতে পারে, এ পথ হয়ত মাঝেপথেই শেষ করতে চাইবেন।কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি পথটি শেষ করতে পারেন তবে এটি হতে পারে আপনার সেরা ভ্রমনের একটি। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন জাপানী সাহিত্যেকে অসাধারনভাবে ফুঁটিয়ে তোলা মারাত্মকরকমের সুন্দর এবং দূর্দান্ত এই এনিমেটি।

My Animelist Rating: 7.92
Personal Rating: 9

aoi-bungaku-series-5

Movie Time With Yami – প্ল্যানেটারিয়ানঃ নক্ষত্রের স্বপ্ন (টিং টং মুভি টাইম)

Screenshot_2016-09-01-20-35-04

জীবনে দুবার প্ল্যানেটোরিয়ামে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে; একবার দেশে ভাসানী নভোথিয়েটারে (সম্ভবত নামটা পালটে অন্য কিছু রাখা হয়েছে এখন, আমার মনে নেই), আরেকবার কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে। এর মাঝে ভাসানী নভোথিয়েটার এর কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। ঋতুর পালাবদল, রাতের আকাশে কন্সটেলেশন, গ্রহ নক্ষত্রের আবর্তন, বা ডায়নোসর যুগ- সবটাই এত সুন্দর ও বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল সেই অর্ধগোলাকার থিয়েটারে, মনে হচ্ছিল যেন আমি আসলেই সেই জায়গাগুলোতে পৌছে গেছি। খুবই চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল।

তো সেই নভোথিয়েটার এর কাহিনী অ্যানিমে গ্রুপে কেন বলছি? বলার কারণ হল, কাল রাতে দেখে শেষ করেছি ৫ এপিসোডের ওএনএ, “প্ল্যানেটারিয়ানঃ চিসানা হোশি নো ইউমে”।

মেলোড্রামা সাধারণত আমাকে অতটা টানে না, কেঁদেকেটে ভাসিয়ে ফেলার মত তো অবশ্যই না। কেই এর ভিজ্যুয়াল নভেল অ্যাডাপ্টেশন কয়েকটা দেখেছি, ভালই লেগেছে, তাই প্ল্যানেটেরিয়ান দেখা শুরু করেছিলাম। এবং এই অ্যানিমের যে পার্টটা আমাকে মুগ্ধ করেছে, সেটা হল ওই নভোথিয়েটারে ইউমেমির পারফরমেন্স। হঠাৎ দেখে মনে হচ্ছিল, যেন আমি নিজেই বসে আছি ওই থিয়েটারে দর্শকের আসনে। পুরনো মুগ্ধতাটা নতুন করে ফিরিয়ে এনে দিয়েছে এই অ্যানিমেটা।

অ্যানিমের কাহিনী পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক পৃথিবী, যেখানে বোমা হামলার কারণে বেশিরভাগ শহরই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনই এক শহরের একটি প্ল্যানেটোরিয়ামে ইউমেমিকে একা ফেলে তার মালিকেরা সবাই চলে গিয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। ইউমেমি খুবই লয়াল, তাই সে সেই পরিত্যক্ত নভোথিয়েটারেও রুটিন মেনে তার দায়িত্ব পালন করে যায়; কাস্টোমার আসুক, বা না আসুক।

এমন অবস্থায় হঠাৎ একদিন প্ল্যানেটোরিয়ামে একজন কাস্টোমার এসে হাজির হয়। প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত সেই কাস্টোমারকে কী ইউমেমি দেখাতে পারবে তারাভরা আকাশ?

ডেভিড প্রোডাকশন নামটা শুনলে আমার মাথায় সবসময় যে অ্যানিমেটার নামটা আসে, তা হল জোজোর অদ্ভুতুড়ে কীর্তিকলাপ। জানা নেই, তাদের অন্য কোন মোয়ে অ্যানিমে আছে কিনা, কিন্তু প্ল্যানেটেরিয়ানের আর্ট দেখে কেন যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না, এই স্টুডিওই জোজো বানায়! জোজোর আর্ট ভালই লাগে আমার, আর্টটা ওভার দ্য টপ বলেই একই স্টুডিওর করা মোয়ে ডিজাইন দেখে অবাক হয়েছি। ইউমেমিকে অতিরিক্ত কিউট লেগেছে, যদিও শুরুতে তার একঘেয়ে গলায় টানা কথা বলে যাওয়া শুনতে অতিরিক্ত বিরক্ত লাগছিল, কিন্তু পারফরমেন্স এর সময় তার গলাটা অতিরিক্ত সুন্দর আর সাবলীল লাগছিল। আর সেটাকে যোগ্য সাপোর্ট দিয়েছে অ্যানিমের মনোমুগ্ধকর আর্ট। অ্যানিমেটার সেরা মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ইউমেমির পারফরমেন্স। আর শেষটা আমি যেমন আশা করেছিলাম হুবহু তেমন হয়েছে, তবে ভাল লেগেছে।

মাত্র ৫ পর্বের অ্যানিমে, গড়ে ১৮ মিনিট করে পড়ে একেক পর্বে, দেড় ঘন্টা হাতে থাকলে দেখে ফেলতে পারেন এই সুন্দর ওএনএ টা।

planetarianfeat

Movie Time With Yami – Nerawareta Gakuen (টিং টং মুভি টাইম)

tumblr_np3536OnP71tdyyjco1_500

আজ সকালে দুই ঘন্টা ক্লাস সাসপেন্ড ছিল (যা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়ার মত বিরল ঘটনা আমাদের জন্য), ভাবলাম দুই ঘন্টা লেন্থের কোন মুভি দেখে ফেলি। ফোনের গ্যালারি ঘেটে পেলাম নেরাওয়ারেতা গাকুয়েন, ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের অ্যানিমে মুভি। তো শুরু করলাম দেখা।

শুরুতেই মার্কিং দিয়ে দেই, বাকি পোস্টে কী আছে হিন্ট পেয়ে যাবেন।
ভিজ্যুয়াল- ৯/১০
ওএসটি- ৮/১০
ক্যারেক্টার ডিজাইন- ৯/১০
ভয়েস অ্যাক্টিং- ১০/১০
স্টোরি- ৩/১০
ক্যারেক্টার- ০/১০

গ্রাফিক্স /ভিজ্যুয়াল/আর্টওয়ার্ক, জিনিসটাকে যাই বলা হোক না কেন, মোদ্দা কথা হল অসম্ভব সুন্দর। মাকোতো শিনকাই ফিল্ম ভেবেছিলাম শুরুতে, পরে দেখি সেটা নয়। সাকুরার গাছ ন্যাড়া করে ঢেলে ঢেলে পাঁপড়ি ছেড়ে দিয়েছে কিছুক্ষণ পরপর, স্কুল, বাড়ি, সমুদ্র বা তাদের আজগুবি জায়গা গুলা, সব দেখে চোখে ধাঁধাঁ লেগে গেছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই সুন্দর, ছেলেগুলো হ্যান্ডসাম, মেয়েগুলো কিউট। ব্যাকগ্রাউন্ডে যাই বাজছিল, কর্ণকুহরে ভালই লেগেছে।

গেল প্রশংসা। এখানেই শেষ। আর কিছুই নাই প্রশংসা করার মত। এবার বিরক্তির পালা শুরু।

আমি অ্যানিমে মুভির ব্যাপারে মোটামুটি সর্বগ্রাসী। ছাইপাঁশ যাই হোক গিলে ফেলি। তাই এই মোটামুটি ছাইপাঁশ লেভেলের মুভিটাও গিললাম। আই মিন সিরিয়াসলি?!! কাহিনীটা আসলে কী ছিল? আদৌ কি কোন কাহিনী ছিল? সারাক্ষণ তো দেখলাম “কেতাই কেতাই” করেই সময় পার করে দিল। তাও যদি কারণটা বলত। আগের বছর কোন এক ঘটনা ঘটেছিল স্কুলে, সেজন্য স্কুলে ফোন আনা নিষিদ্ধ। ঠিক আছে, কোন সমস্যা নেই, আমাদের যুগে বাই ডিফল্ট এটাই নিয়ম ছিল। কথা হচ্ছে যে কাহিনীটা কী হয়েছিল যে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল? পুরো মুভিতে আমি এটা জানার জন্যই বসে ছিলাম; আফসোস, কারণ বলার ধার দিয়েও গেল না। কোন কারণে সো কল্ড ফিউচার আর্থলিং এলিয়েনদের টেলিপ্যাথিতে কিছু একটা সমস্যা হয়, সেজন্য তারা এসে একটা স্কুলে সেলফোন ব্যান করতে লেগে গেল, হাউ প্যাথেটিক ক্যান ইউ গেট?

অ্যানোয়িং ক্যারেক্টার লাইফে কম দেখিনি, কিন্তু একটা মাত্র ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের মুভির প্রতিটা ক্যারেক্টারকে এত বেশি বিরক্তিকর লাগবে, কোনদিন ভাবিনি। নাতসুকি মেয়েটার প্রব্লেমটা কী?!!
স্টেটমেন্ট ১- জাপানী ছেলেরা হয় বেশি ভাল।
স্টেটমেন্ট ২- না হলে জাপানী মেয়েরা বেশি শয়তান।
স্টেটমেন্ট ৩- ওভাররেটেড সুন্দেরে একটা দেয়া লাগবে তাই দিয়ে রেখেছে স্টোরিতে।

আই মিন, এই মেয়ে তার ছোটবেলার “বন্ধু” সেকিকে যেভাবে জ্বালিয়ে গেছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, এরকম প্রতিবেশী থাকলে আমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাড়ি ঘিরে রাখতাম। ছেলেটা আবার সেগুলা সহ্য করে মেয়েটাকেই স্যরি বলে, ঢঙের শেষ নাই।

আর শেষ পর্যন্ত কাহিনী কী দাঁড়াল? বাবা তোমরা তোমাদের মাদার মুন ছেড়ে মাদার আর্থের কেতাই ব্যান কইরা কী হাসিল করলা? এ বিগ ফ্যাট জিরো -_-

যাই হোক, আমার মেজাজ খারাপ হয়েছে, তাই একটু র‍্যান্টিং করলাম, এমনও হতে পারে যে আমি আসলে কাহিনী বুঝিনি তাই না বুঝে কথা বলছি, তবে আমার মনে হয়না এই কাহিনীর আগামাথা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কেউ পেয়ে থাকলে কমেন্ট সেকশনে আমার কনফিউশন গুলো ক্লিয়ার করে দেবেন অনুগ্রহ করে।

প্রতিটি অ্যানিমে ভক্তের জন্য যে দুটো অ্যানিমে দেখা বাধ্যতামূলক; অ্যানিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_08-14-04.21.40

অ্যানিমে গ্রুপে যারা নিয়মিত ঘোরাঘুরি করেন, এই দৃশ্যগুলোর সাথে তারা সবাই মোটামুটি পরিচিত –

“নারুতো না দেখলে জীবন বৃথা”
“ওয়ান পিস দেখনি মানে তুমি কিছুই দেখনি”
“ড্রাগন বল ভাল লাগেনা? তুমি অ্যানিমে বুঝই না”

এছাড়াও জনরাভিত্তিক, পার্সোনাল চয়েস ভিত্তিক, এমন আরও অনেকভাবে সর্ট আউট করে অনেক মানুষ বিভিন্ন অ্যানিমেকে অবশ্য দেখনীয় (জানিনা শব্দটা ঠিক হল কিনা) বলে দাবি করে থাকেন।

আমি মোটামুটি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ (হেহে, বিশ্বাস করার দরকার নেই, তবে কথাটা সত্যি), কোনদিন নিজের পছন্দের অ্যানিমেকে বিশ্বসেরা বলে দাবি করার দুঃসাহস দেখাইনি। তবে আমার নজরেও এমন দুটো অ্যানিমে এসেছে, যে দুটো হয়ত আমি টপ ১০, ২০ লিস্ট বানালে সেখানে স্থান পাবে না, তারপরেও বলব, কেউ যদি অ্যানিমে ভক্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ বিনোদনের এই মাধ্যমের সাথে তার মোটামুটি পরিচয় থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই তার এই অ্যানিমে দুটো দেখা উচিৎ। অ্যানিমে দুটো হল বাকুমান এবং শিরোবাকো।

কেন এ দুটো অ্যানিমেকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি? কারণ আছে। আপনাদের সকলেরই তো জানা আছে, অ্যানিমের সিংহভাগ তৈরি হয় কোন একটা মাঙ্গার গল্পকে কেন্দ্র করে। আগে মাঙ্গা বা জাপানী কমিক বের হয়, সেটা মোটামুটি জনপ্রিয়তা পেলে সেখান থেকে অ্যানিমে বানানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মাঙ্গার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেও অ্যানিমে বানানো হয়। তো এই যে মাঙ্গাকে ঘিরে এত কাহিনী, সেই কাহিনীটার বাস্তব চিত্রটা আসলে কেমন, আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করে! যে ব্যক্তি মাঙ্গা লিখছে, তার জীবনটা আসলে কেমন, বা মাঙ্গা যে প্রকাশনী থেকে বের করা হয়, তারা কিভাবে কাজ করে, কিভাবে একটা মাঙ্গা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বা কিভাবে একটা মাঙ্গার অজনপ্রিয়তা দুর্ভাগ্য ডেকে আনে, এসব কিছুর চিত্র অসম্ভব নৈপুণ্য এবং যত্নের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যে অ্যানিমেতে, তার নাম বাকুমান। “বাকুমান” শব্দটি দুটো শব্দের সমষ্টি; বাকুচি+মাঙ্গা। বাকুচি অর্থ গ্যাম্বল বা জুয়াখেলা; মাঙ্গা লিখে জীবিকা অর্জন করা জুয়াখেলার মত বিপদজনক একটা পেশা, এখানে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।

আবার একইভাবে এটাও চিন্তা করুন, এই যে এত স্টুডিও পিয়েরট বা তোয়েই অ্যানিমেশন এর ওপর আপনারা মহা বিরক্ত, কিংবা শ্যাফট, পিএ ওয়ার্কস, কিয়োটো অ্যানিমেশন বা সিলভার লিঙ্কের আর্টের মহাভক্ত আমি; বা ব্যতিক্রমধর্মী অ্যানিমে বানানোর জন্য পরিচিত স্টুডিও ম্যানগ্লোবের যে করুণ দশা- এদের পেছনের কাহিনীটা কী? কারা এই স্টুডিওগুলোতে রাতদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছে প্রোপার ফিডব্যাক ছাড়া, কেন এখনকার অ্যানিমেগুলোতে অযথা ফ্যানসার্ভিস দিয়ে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে, বা কি উপায়ে এক টুকরো কাগজে আঁকা একটা সাদাকালো চরিত্র আমাদের চোখের সামনে হেটে বেড়াচ্ছে; কিভাবে প্রাণ পাচ্ছে সেই জড়পদার্থগুলো, যারা এই আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের জীবনটা কেমন – সেটা নিশ্চয়ই কখনো না কখনো জানতে ইচ্ছে করে! এই প্রতিটি কৌতুহল নিবারণ করবে যে অ্যানিমে, তার নাম শিরোবাকো।

অসম্ভব সুন্দর আর্ট আর ওএসটি রয়েছে দুটি অ্যানিমেতেই, আর মূল যে ব্যাপারটা রয়েছে, অ্যানিমেদুটি দেখার পর নিশ্চিতভাবে আপনি একটা অ্যানিমে/মাঙ্গাকে ট্র্যাশ বলার আগে দুবার ভেবে নেবেন। আপনি যদি এই ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে চান, এ দুটি অ্যানিমে দেখা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক!

অ্যানিমে সাজেশনঃ ReLIFE; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771996921

ReLIFE অ্যানিমেটা দেখে শেষ করলাম। আমি এমনিতেই হাইস্কুল স্লাইস অফ লাইফের ভক্ত, কিছু ছেলেমেয়ের দৈনন্দিন জীবনের খুনসুটি দেখতে আমার সবসময়ই ভাল লাগে; কিন্তু এরপরেও বলব, রিলাইফ এক্সেপশনালি ভাল ছিল। কাহিনীটার বিল্ড আপ অনেক ভাল ছিল, অবাস্তব একটা প্লট থেকে বেশ বাস্তব কিছু দৃশ্যপট খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর কাহিনী যত সামনে এগিয়েছে, নতুন নতুন রহস্যের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে, এটা বেশ ভাল ছিল, কাহিনী একটা নির্দিষ্ট গন্ডিতে থেমে না থেকে সামনে এগিয়েছে। হাসিমুখে জীবনকে ফেস করতে থাকা মানুষগুলোর ব্যাকস্টোরি, আপাতদৃষ্টিতে অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের হঠাৎ দেয়া সারপ্রাইজ বেশ লেগেছে। চমৎকার আর্ট, এক্সিকিউশন অসাধারণ, ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই ভাল লাগল, স্পেশালি চিবি ফর্মগুলো অনেক উপভোগ করেছি। ওএসটি খুবই সুন্দর, পরে সবগুলো ডাউনলোড করে বারবার শুনব।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং ও অনুপ্রেরণাদায়ক অ্যানিমে ছিল। অবশ্যই সেকেন্ড সিজন চাই।

FB_IMG_1469771988673

অ্যানিমে সাজেশনঃ কামিসামা নো মেমোচৌ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771063124

দেখে শেষ করলাম “কামিসামা নো মেমোচৌ”। অ্যানিমেটার নাম দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা রোমান্টিক কোন অ্যানিমে হবে (কামিসামা হাজিমেমাশিতা এফেক্ট), কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম যে এটা আসলে একটা মিস্ট্রি অ্যানিমে!

অ্যানিমের গল্প অ্যালিসকে ঘিরে, যে একজন নীট (NEET) ডিটেক্টিভ। আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হিকিকোমোরি এই মেয়েটি আরও কয়েকজন নীটের সমন্বয়ে চালায় তার “নীট ডিটেক্টিভ এজেন্সি”। পুরোনো একটি রামেন শপের ওপরে অবস্থিত এই এজেন্সির সাথে ঘটনাক্রমে যুক্ত হয়ে যায় নারুমি ফুজিমুরা, আর মুখোমুখি হতে থাকে একের পর এক কেসের। তাদের সাথে আরও রয়েছে ইয়াকুজা গ্যাং, রামেন শপের মালিক মিন-সান এবং শপের কর্মচারী ও নারুমির বন্ধু আয়াকা।

অ্যানিমেটা বেশ কয়েকটি ছোট ছোট স্টোরিতে বিভক্ত, ১২ টি এপিসোডের মাঝে বেশ কয়েকটি কেস সলভ করা হয়। কোন কোন কেস এক এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়, আবার কোনটা তিন-চার এপিসোড ধরে চলে। বলতে গেলে প্রতিটা কেসই লাইট হার্টেড ভাবে শুরু হয়ে পরে বেশ সিরিয়াস একটা টার্ন নেয়, সেজন্য অ্যানিমেটা বেশি ভাল লেগেছে। সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে প্রথম এপিসোডে ৪৭ মিনিট ধরে চলা কেসটা আর শেষ কেসটা। আর্ট ওএসটি ডিসেন্ট, আলাদা করে উল্লেখ করার মত লাগেনি।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে বেশ ভাল লাগল, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

FB_IMG_1469771054971

শর্ট অ্যানিমে সাজেশন; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_06-09-10.45.22

যত দিন যাচ্ছে, পৃথিবীটা সংকুচিত হয়ে আসছে। আগে যেখানে একটা অ্যানিমের ৫২ টা পর্ব থাকাটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা ছিল, সেখানে এখন ২৬ টার বেশি পর্ব হলেই অনেকে সংশয়ে পড়ে যায় দেখবে কিনা তা নিয়ে। এবং এই সংকুচন যে শুধু অ্যানিমের পর্বসংখ্যাতেই ঘটেছে তা কিন্তু নয়, অ্যানিমের দৈর্ঘ্যেও এর প্রভাব পড়েছে। বলছি না যে আগে স্বল্প দৈর্ঘ্যের অ্যানিমে ছিল না, কিন্তু ইদানীং যেন একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে এই “শর্ট অ্যানিমে”।

শর্ট অ্যানিমে বলতে সাধারণত সেগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলোর একেকটি পর্বের দৈর্ঘ্য ১৩ মিনিটের কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অ্যানিমেগুলো কমেডি নির্ভর হয়, তবে কিছু কিছু অ্যানিমের স্টোরি বেশ মজার ও উপভোগ্য হয়।

আমার দেখা শর্ট অ্যানিমেগুলোর মাঝে সেরা ৯ টির নাম আজকে বলছি, যারা দেখেননি, ট্রাই করে দেখুন; ভাল লাগবে আশা করি।

1. Yama no Susume

আমার দেখা সেরা শর্ট অ্যানিমে এটি। সিজন ১ এর প্রতি পর্ব মাত্র ৩ মিনিট করে, সিজন ২ এর পর্বগুলো ১২ মিনিট করে। মূলত হাইস্কুল পড়ুয়া চারজন বালিকার মাউন্টেনিয়ারিং এর শখ ও তাদের পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোর কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যানিমেটি। সিজন ১ লাইটহার্টেড, কিন্তু সিজন ২ তে মাউন্টেনিয়ারিং সম্পর্কে প্রচুর তথ্য ও এর ভাল খারাপ দিকগুলো চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আর কোন অ্যানিমে না দেখলেও ইয়ামা নো সুজুমে একটি মাস্ট ওয়াচ অ্যানিমে।

2. Miss Monochrome

এটি নিয়ে আগে বিস্তারিত রিভিউ লিখেছি, এখানে অল্প কথায় বলি, আইডল হওয়ার স্বপ্ন দেখা সাদাকালো রোবট মিস মোনোক্রোমের আইডল হয়ে ওঠার জার্নি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত ভয়েস অ্যাক্ট্রেস হোরিয়ে ইউইর অরিজিনাল ক্যারেক্টারের এই অ্যানিমেটি।

3. Wakaba Girl

বিশাল বড়লোকের মেয়ে ওয়াকাবা, বাবার বদলি চাকরির কারণে কখনো এক শহরে বেশিদিন থাকেনি মিডল স্কুল পর্যন্ত। তাই নতুন শহরে নতুন হাইস্কুলে ভর্তি হওয়া ওয়াকাবার স্বপ্ন, সে আর দশটা নরমাল হাইস্কুল বালিকার মত জীবনটাকে উপভোগ করবে। মূলত ওয়াকাবার হাস্যকর কাজকর্ম এবং তার বন্ধুদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে এই মজার অ্যানিমেটি।

4. She and Her Cat

এটিরও রিভিউ লিখেছিলাম আগে, মূলত একটা মেয়ের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টাকে তার নিজের ও তার পোষা বেড়ালের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখানো হয়েছে। কিছুটা নষ্টালজিক ফিল দেওয়া এই অ্যানিমেটি ডিরেক্টর মাকোতো শিনকাই এর ভাল কাজগুলোর একটা।

5. Ojisan to Marshmallow

মার্শম্যালো পাগল ওজিসান ও তার প্রেমে পড়া অফিস কলিগের মজার খুনসুটি নিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যানিমেটি। আর্ট খুবই সুন্দর, আর এন্ডিং সং এর পরে মার্শম্যালো বানানোর রেসিপিগুলোও মজার।

6. Super Seisyun Brothers

একই স্বভাবের দুই জোড়া ভাইবোন। প্রাপ্তবয়স্ক বোন দুটো বান্ধবী, আবার হাইস্কুল পড়ুয়া ভাইদুটো বন্ধু। এদের জীবনযাপন, দৈনন্দিন খুনসুটি নিয়ে কাহিনী এই অ্যানিমেটির। ওতাকু বোনের কাজকর্ম আর ভাইকে এই পয়জন থেকে দূরে রাখার জন্য তার আপ্রাণ চেষ্টা যেমন মজার, তেমনি শান্তশিষ্ট বোনের ভাইয়ের প্রতি মাত্রাছাড়া ভালবাসা দেখেও মজা লাগে।

7. Aiura

কিউট গার্লস ডুইং কিউট থিংস। আর কিছু বলার নেই এটির ব্যাপারে। নিখাদ বিনোদনের জন্য দেখুন।

8. Orenchi no Furo Jijou

মনে করুন আপনি নদীর ধারে হঠাৎ একটি মৎস্যপুত্র দেখলেন। তাকে দেখে আপনার মায়া হল, তাই জায়গা দিলেন নিজের বাথটাবে। তারপর? কি ঘটবে তারপর? জানতে চাইলে দেখে ফেলুন এই অ্যানিমেটি।

9. I Can’t Understand What My Husband is Saying

ওতাকু জামাই আর রিয়াজু বউয়ের সংসার কেমন হতে পারে? হাসব্যান্ডের ওয়াইফু কালেকশন দেখে ওয়াইফের রিএকশন কেমন হতে পারে, বা আরও উদ্ভট কাজকর্মের ফল কি হতে পারে, জানতে দেখে ফেলুন এই অ্যানিমেটি।

PicsArt_06-09-10.42.00

Akatsuki no Yona [রিএকশন] — Zahin Mobashshir

Akatsuki no Yona
২৪ এপিসোডের একটা এনিমে যার জেনারগুলা হল : Action, Adventure, Comedy, Fantasy, Romance, Shoujo.
এত্তগুলা জেনার দেখেই বুঝতে পারছেন যে এই এনিমেটা আসলে মিশ্রজাতীয় কিছু উপহার দেয়ার চেস্টা করতেছে এবং আসলেই এমন কিছু উপহার দিতে সক্ষম হয়।

কাহিনী সংক্ষেপ:
Princess Yona নামক এক মেয়েকে নিয়ে কাহিনী যে মাত্র ১৬ বছরে পদার্পণ করে। মা মারা যাওয়ার পর বাবা অনেক আদর সোহাগ দিয়ে বড় করে তুলে তাই স্বভাবতই একটু বেশি আদুরে এবং সামান্যতেই কেঁদে দেওয়া মানে ছিঁচকাঁদুনী হয়ে বড় হয়ে উঠে। এরপরে এক দুঃখজনক ঘটিনার কবলে পড়ে এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে তাকে একেবারে রাস্তায় এসে পড়তে হয়। যেই মেয়ে কখনওই রাজপ্রাসাদের বাহিরেই বের হয় নাই তার জন্যে সামনের পিচঢালা রাস্তাও বরই কাঁটা বিছানো পথ বলেই মনে হবে। তার সেই কাঁটা বিছানো রাস্তায় তার ছোটবেলার সাথীকে সংগী হিসেবে নিয়ে সে কিভাবে নিজেকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে শক্ত করে তুলে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত হয়ে উঠে এটিই এই এনিমের মূল কাহিনী।

এবার আমি কিছু পয়েন্ট বলব যে কারনে এনিমেটি অনেক ড্রপ দিয়ে থাকেন, :—

১. এনিমের প্রথম সিনেই একটা যুদ্ধক্ষেত্র দেখায় এবং এটা দেখার সাথে সাথেই আপনার মনে হবে আররে এনিমেটা তো Action জেনারের, এই বুঝি শুরু হল এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ।

কিন্তু আসলে এই এক সিন যে আসলে এনিমেটার কোন সময় দেখাবে তা আপনি ১,২,৩,৪……. এপিসোড ধরে খালি চিন্তাই করতে থাকবেন এবং এক সময় ভাববেন যে আররে এত অপেক্ষা করার কি দরকার?!!! এনিমে ড্রপড।।।।

২. আগেই বলেছি যে প্রধান চরিত্র কিছুটা ছিঁচকাঁদুনে, আসলে কিছুটা বললে ভুল হবে। এনিমেতে এই ক্যারেকটারকে যতবারই দেখবেন ততবারই দেখবেন কেঁদে কেঁদে সাগর বানাচ্ছে, তখনই আপনার মনে হতে পারে যে এই মেয়ে নিজের সাগর বানাক আর আমি গিয়ে আমার সাগর পরিমাণ না দেখা এনিমে শেষ করে হার্ডডিস্কটাকে একটু ক্ষান্ত দিই।

এনিমে ড্রপড।।।।

৩.
৪.
৫.
……..

আরও অনেক কারনেই আপনি হয়ত এনিমেটা ড্রপ দিয়ে থাকতে পারেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। এখন আমি যদি পুরা এনিমেটা দেখে বলি এটা আসলে ড্রপ দেয়া উচিত ছিল তাহলে তো আর ভাল কিছু লেখার সুযোগই থাকে না

এবার তাহলে জেনে নিন এনিমেটি কেন দেখবেন, :—–

১. এনিমের প্রথম সিনেই আপনাকে যেই যুদ্ধের আভাস দিয়ে গেল সেটার পরেই শুরু হবে এক অসাধারণ মিউজিক যা শুনে আপনি বিমুগ্ধ না হয়ে থাকতেই পারেন না এবং পুরা এনিমে জুড়েই OST গুলা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
এনিমেটার ওপেনিং আর এন্ডিংগুলাই এককথায় অসাধারণ। OST গুলার প্রয়োগ এত সুন্দর সময়ে করেছে যে আপনার মনকে ছুঁয়ে যাবেই।

২. এনিমেটার ক্যারেকটার ডিজাইনিং খুবই সুন্দর। প্রত্যেকটা চরিত্রকেই নিজেদের স্বভাব অনুযায়ী অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আর যারা বিশৌনেন ক্যারেকটার খুঁজে বেড়ান তাদের জন্যে এটা একটা স্বর্নের খনি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি খালি হা আ আ আ আ আ করে দেখেই যাবেন এবং মুগ্ধ হবেন।

৩. এনিমেটার আরেকটা সুন্দর দিক হল এটার ক্যারেকটারগুলার ব্যাকস্টোরি। প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের একেকটা সুন্দর ব্যাকস্টোরি রয়েছে যা দেখে আপনি খুব সহজেই ক্যারেকটারগুলার বর্তমান অবস্থার কারন যাচাই করতে পারবেন।

৪. এনিমেটার কাহিনী প্রথমে অগুছানো মনে হলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন যে আসলে এনিমেটার কাহিনী খুবই গুছানো এবং এনিমেটা যে অবস্থায়ই শেষ করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত একটা সুন্দর গুছানো কাহিনী উপহার দিয়ে যায়।

৫. আপাতত এনিমেটাই দেখেছি এবং এখনও মাংগা পড়া শুরু করিনি কিন্তু এখন থেকেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে যে কিছু কিছু ক্যারেকটারের এনিমেশন দেখতে পারব না। বিশেষ করে এখানের সবচেয়ে কিউট ক্যারেকটার হল একটা কাঠবিড়ালি, যার দেখা পাওয়ার পর থেকেই আপনি তার দেখা পাওয়ার জন্যে ব্যস্ত হয়ে থাকবেন।

এবার আপনারা নিজেরাই বিচার করতে পারেন যে এনিমেটা দেখবেন কিনা।

আর কারও কোন মতামত থাকলে কমেন্টে জানাবেন।