Colorful – মুভি রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Colorful 1

Are you alive?

মাঝে মাঝে কি এমন সময় এসেছে যখন কোন একদিন মনে হয়েছে চিরজীবন বেঁচে থাকতে পারলে বোধহয় খুব ভাল হত? অথচ ঠিক তার পরদিনই হটাৎ করে সব কিছু অর্থহীন মনে হয়েছে? বেঁচে থাকার ইচ্ছের জায়গাগুলো কি হটাৎ করেই দখল করে নিয়েছে একরাশ হতাশা, নিজের উপর; চারপাশের মানুষগুলোর উপর? নিজের ভুলগুলোর জন্য নিজের উপর প্রবল আক্রোশ এসে ভর করেছে?
আমার ধারনা আমাদের সবার জীবনেই কখনো না কখনো এমন সময় এসেছে। এবং আমরা সেই অবস্থা কাটিয়েও উঠি, আবার ফিরে যাই যান্ত্রিক জীবন যাপনে; কখনো কারো সাহায্য নিয়ে; কখনো কখনো হয়ত নিজের মনের জোরেই।

আমরা অনেক সময়েই আসলে বেচে থাকাটাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। কারণ আমরা আসলে পুরোপুরি বেঁচে থাকি না কখনই। আমরা তিন বেলা খাই, সারারাত ঘুমাই আর সারা দিন ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ুতে থাকি; ক্যারিয়ার; পড়াশুনা; দায়িত্ব; কর্তব্য – এখান থেকে সেখানে। একটু স্থির হয়ে বসে গোটা দুনিয়াটাকে, আকাশটাকে; চারপাশে মানুষগুলোকে চোখ মেলে দেখার একটুও ফুরসত মেলে না আমাদের। আমরা পুরোপুরি বেঁচে থাকি না; বেঁচে থাকার অভিনয় করি যাই আসলে।

খুব প্রিয়জন যখন বড় কোন ভুল করে ফেলে; এমন কিছু করে বসে যা জন্ম দেয় একগাদা অবিশ্বাসের; সেই ঘটনা ভুলে গিয়ে তাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিতে আসলে কত সময় লাগে? ১মাস? ৬ মাস? ১ বছর? পুরোপুরি কি ভুলে যাওয়া যায় আদৌ? যদি না যায় সেক্ষেত্রে করণীয় আসলে কি? আর সেই প্রিয়জনেরই বা কি করার থাকে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য?

Colorful 2

 

কালারফুল মুভিটা দেখতে শুনতে আট দশটা স্বাভাবিক পরিবারের মতন অথচ নানারকম মানসিক টানাপোড়েনে থাকা এক পরিবারের গল্প, যে পরিবারের সবচেয়ে ছোট, বিষাদগ্রস্থ, জুনিয়র হাই স্কুলে পড়া ছেলেটি একের পর এক খারাপ ঘটনার পিঠে জীবনের চরমতম সিদ্ধান্তটি নিয়ে নেয়। সৃষ্টিকর্তা অপর একটা অপরাধী আত্মাকে পাঠান সেই শরীরে; আত্মার শুদ্ধির জন্য। আমরা সেই আত্মার চোখে পরিবারটাকে দেখতে পাই; ছেলেটার চারপাশের পরিবেশটা দেখতে পাই; প্রতিদিনের সংগ্রামগুলো দেখতে পাই; একে একে সবার বদলে যাওয়াটা দেখতে পাই এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে একসময় আসলে জীবনের সৌন্দর্যগুলোরও খোজ পেতে আরম্ভ করি। প্রত্যেকটা মানুষের পিছনে যে আসলে অনেকগুলো মানুষের সহযোগিতা জড়িয়ে আছে; নীরবে হোক অথবা সরবে – কেউ না কেউ যে তার উপর ভরসা করে আছে, তাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছে – এই সহজ সত্যগুলো আমরা ভুলে যাই মাঝে মাঝেই। এই মুভিটা সেই সত্যগুলোকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখতে শিখায়; সব কিছুকে মেনে নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়; সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কি করে জীবনটাকে উপভোগ করতে হয় তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয় আমাদের।

জীবনের আসল উত্তরটা কি? তার সফলতা আর বিফলতাটাই বা কোথায়? একটা ভাল রেজাল্টে? ভাল চাকরিতে? একগাদা টাকা পয়সায়? নাকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে; প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে একটু ভাল থাকায়? তাদেরকে সময় দেওয়ায়? চারপাশের দুনিয়াটাকে দেখায়, মানুষজনের সাথে মেশায়, জীবনটাকে নিজের মতন করে উপলব্ধি করায়, উপভোগ করায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো আসলে কখনোই মেলে না। কিংবা আমরা হয়ত মেলাতে চাই-ও না। চারপাশের মানুষগুলোকে দেখে; তাদের চিন্তাভাবনা আর তাদের উত্তরগুলোকেই নিজের উপর চাপিয়ে নেই, অবলীলায়। অথচ নিজেকে একবারও প্রশ্ন করে দেখি না – আমি কি আসলেই এটাই চেয়েছিলাম? আমরা কখনোই বুঝতে চেষ্টা করি না যে অপরের সফলতা মানে কখনোই নিজের ব্যার্থতাও নয়; আর ৮-১০ জনের মতন হতে না পারাটা কোন বড় সমস্যাও নয়।

প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই আরেকটা মানুষ বাস করে। যে মানুষটাকে আমরা কাউকে দেখাতে চাই না; তাকে লুকিয়ে রাখতে চাই নিরন্তর। কিন্তু খুব দুর্বল মুহূর্তগুলোতে সে কি করে কি করে যেন ঠিকই বেড়িয়ে আসে। এবং সে কারণে নিজের উপর খুব অভিমান হয় পরে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মানুষের রঙ আসলে একটা না; অনেকগুলো। সবার আলাদা আলাদা রঙ মিলেই পুরো পৃথিবীটা রঙিন। সবার জন্য একই ছাঁচ, একই ব্লুপ্রিন্ট খাটে না; খাটা উচিতও না। দিনশেষে শুধুমাত্র একগাদা রঙকে ধারণ করে, নিজের সবগুলো অপূর্ণতাকে মেনে নিয়ে নিজের মত করে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি –
Yes, I am alive.

…………

মুভিঃ কালারফুল।
সময়ঃ ২ ঘন্টা ৭ মিনিট।
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৩।

Colorful 3

 

Perfect Blue রিভিউ — Saqib Shadman

PB2

খুব কম সিরিজ/মুভি থাকে (শুধু এনিমের কথা বলছি না) যেইটার প্রথম ৫ মিনিট দেখে বলা যায় বাকি অংশ চরম হবে। গত রাত Princess Mononoke শেষ করেই দেখা শুরু করলাম Perfect Blue ।

Pop Idol জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হওয়ার প্রয়াস করে Mima Kirigoe। কিন্তু মিমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে হতাশ অনেকেই। একজন stalker Pop-Idol মিমার প্রতি এতোই অন্ধকারাচ্ছন্ন, মিমার জীবনযাপন, চলাচল সব কিছুর দিকে নজর রাখে। ইন্টারনেটে সেসব আবার প্রকাশও করে। পাশে এই একি মানুষ মিমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে।

PB1

Perfect Blue হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্নের গল্প, এবং তা মানুষকে কেমনে ধ্বংস করতে পারে। ফিল্ম দুনিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য মিমাকে অনেক কাজ করতে হয় যেইটা মিমা নিজের উৎসাহে করতে চায় না। এসবের জন্য মিমাকে প্রায় বিদ্রূপ করে মানসিক বিভ্রম।

ফিল্মের বেশির ভাগ অংশ দেখা হয় মিমার পরিপ্রেক্ষিত থেকে। আশেপাশের পরিস্থিতির কারনে মিমা বাতুলতার দিকে আগাতে থাকে। প্রায় যা বাস্তব ও যা বিকল্পিত তার মাঝের দাগটা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং প্রশ্ন দারায়ঃ সবকিছু কি মিমাই করছে?

PB3

গল্প ও চরিত্রদের সাথে সঙ্গত করা আছে যথাযথ আর্টওর্য়াক ও মিউজিক। ডার্ক ও বর্ণহীন একটা রঙ প্যালেট একটা ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি করে। মিউজিকও কম নয়, কার্যকরীভাবে টেনশনের মুহূর্তে উত্তেজনা আর বারায়।

ভাল সেইনেন এনিমে যদি খুজে থাকেন, পারলে দেখে নিয়েন। Psychological এনিমে ফ্যান্দের জন্য আমি মনে করি এই ফিল্ম আবশ্যক।

PB4

Origin: Spirits of the Past রিভিউ — Saqib Shadman

Origin Spirits of the Past 2

বেশির ভাগ এনিমে Feature-film এর বেশ কিছু সহজাত সমস্যা থাকে: প্লট ঠিক মতন ডেভেলপ হয় না, Backstory এর অভাব, চরিত্র অপূর্নগঠিত হয়, ইত্যাদি, ইত্যাদি……… Origin: Spirits of the past আমার কাছে একটা Textbook উদাহরন মনে হল যেটা ফিল্মের ভাল এবং খারাপ দিক গুল পরিবেষ্টন করে।

চাঁদে আপাতদৃষ্টিতে অপার্থিব এক ঘটনার পর সভ্যতার প্রত্যাগতি হয়। একদিন পানি আনতে গিয়ে Agito উদ্ধার করে পুরন দুনিয়ার Toola কে (Hibernation এ ছিল, or something)। Post-apocalyptic দুনিয়ায় মানুষ থাকে প্রকৃতির ভয়ে। মানবজাতি দুই ভাগ হয়ে গেছেঃ এক ভাগ প্রকৃতির সাথে সাদৃশ্যে থাকতে চায়, অন্য ভাগ চায় প্রক্রিতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আনতে।

Origin Spirits of the Past 3

গল্প মোটামোটি চলে, খুব খারাপ না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে শেষে একটা twist বাদে, খুব অসাধারণ বা চিন্তাকর্ষক কিছু মনে হয় নাই। কিছু কিছু জাইগায় plot holes ছিল আমার মতে।

চরিত্রদের তেমন আহামরি কিছু মনে হয় নাই। ভাল এনিমে ফিল্মে অন্তত প্রধান চরত্রিদের কোন না কোন স্বভাব থাকে জার কারনে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। ওইটাও পেলাম না।

Origin Spirits of the Past 4

তবে এনিমেশন এবং আর্টওর্য়াক চমৎকার হয়েছে। বেশ উজ্জ্বল একটা color scheme ব্যবহার করা হয়, যার কারনে scenery এর দৃশ্যগুল চোখে ধরে।

Would I recommend this? Well, if you have some time to kill, go ahead. But if you’re looking for something more serious, poignant and/or memorable, steer clear.

P.S. – The OP theme is pretty awesome

Origin Spirits of the Past 1

Psycho-Pass Movie রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

কি দেখলামঃ Psycho pass movie

নিহঙ্গদেশ। চারিদিকে শুধু সুখ আর আনন্দ; দুঃখ কষ্টের কুনু বালাই-ই নাই। সিবিল সিস্টেম দেশের শান্তি রক্ষার কার্জ সমাধা করিয়া আপাতত ঘটক পাখি ভাইয়ের ভাত মারার কাজেও নিয়োজিত হইয়াছে। সুনেমরি আকানে এই দেশের একজন সৎ ঈমানদার পুলিশ অফিসার। দেশে অন্যায় অপরাধের ঘাটতি হেতু উনি বান্ধবীর সাথে বিয়ের মার্কেটিং করিয়া বেড়ান, নিজের বিশাল এপার্টমেন্টে একা একা খান, ঘুমান, টিভি টুভি দেখেন আর মাঝে মাঝে সঙ্গী রোবটের সাথে কুস্তি খেলিয়া শরীরটাকে চাঙ্গা রাখেন।
বিশাল আরামের লাইফ !

PP 1

কিন্তু নিহঙ্গদেশ আর সুনেমরি; কারো কপালেই এই সুখ শান্তি বেশিদিন সহিল না। হটাত করিয়া ট্রলার ভর্তি একঝাক রিফিউজি গেরিলা আসিয়া উপস্থিত হইল সীমান্তে। চোখে তাদের একরাশ স্বপ্ন; আর তার উপরেই কুটি টেকার দামী সানগ্লাস। সুনেমরি ম্যাডাম ছুটিয়া আসিলেন খবর পাইয়াই; একগাদা লোক মারিয়া মুরিয়া দুই একটারে ধরিয়া নিয়া আসিলেন; সানগ্লাস সমেতই। স্বপ্ন পর্যন্ত ঠিকই ছিল; কিন্তু গরীব দুখী অসহায় এইসব রিফিউজির কুটি টাকার সরঞ্জাম উনাকে বড়ই চিন্তায় ফালাইয়া দিল। উনি ভাবিতে লাগিলেন এবং শেষে ভাবিয়া ভাবিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন “কুছ তো গড়বড় হ্যায়।”

এরই মধ্যে আরেক অফিসার পাকনামো করিয়া মেমোরি থেরাপি দিয়া বসিলেন একটারে; উপরমহলের আদেশে। সুনেমরি এতে গোস্বা করিলে উপরমহল জানাইলেন; থেরাপিতে কোগামির দর্শন লাভ হইয়াছে। কোগামির চেহারা দেখিয়াই সুনেমরি সব ভুলিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন, উনি ব্যাপারখানা “তদন্ত” করিতে বিদ্রোহীদের আদি নিবাস SEAUn এ পাড়ি জমাইবেন। পারমিশন মিলিল। তিনি একখানা স্যুটকেস বগলদাবা করিয়া দামী জেট প্লেনে চড়িয়া বসিলেন।

সিওনের অবস্থা অনেকটা গুলশানের মতন। একপাশে বিশাল বিশাল অট্টালিকা; আর তার পাশেই বস্তি। বস্তি এলাকায় চলিতেছে তুমুল বিদ্রোহ। এইরকমই এক বস্তির সর্দার, জনদরদী, গরীবের বন্ধু, মজলুমের সহায় কোগামি; যার লড়াই অভিজাত সম্প্রদায়ের সাথে; যারা নিজেদের সুখ শান্তির জন্য সিবিল সিস্টেম ব্যাবহার করিয়া বাকিদের নির্বিকারে হত্যা করিতেসে। কোগামি মুলত বস্তির সাধারণ মানুষকে হাতে কলমে ড্রোন মোকাবেলার জন্য কুংফু কারাতে শিক্ষা দেন; যদিও পুরো মুভিতে গুলি আর গ্রেনেড ব্যাবহার করিয়াও ড্রোন ঠ্যাকানি যায় নাই। যাই হোক; কাহিনীতে ফেরত যাই।

কোগামির দলের সাথে সিওনের মিলিশিয়া বাহিনীর লড়াইয়ের মাঝেই কোগামিকে স্ক্রিনে দেখিয়া সুনেমরি নামিয়া গেলেন গাড়ি থেকে, “তদন্তের” জন্য। কোগামির সাথে দেখা হইল, কথাও হইল। কথাবার্তা অনেকটা এইরকম –
– কোগামি সান; আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না; ইউ আর আন্ডার এরেস্ট।
– এহ; মজা নেও?
– মজা নিমু ক্যান, আপনি সন্ত্রাসী পাচার করেন না জাপানে?
– নাহ; আমি তো কিছু জানিই না। তাও এরেস্ট করবা?
– না; তাইলে করতাম না। লন; আপ্নের বাসা দেইখা আসি।
– চল; দুইটা ডাইল ভাতও খাইয়া আসবা নে।
– জোস; চলেন যাই।

PP 2

এর মধ্যে মিলিশিয়া একদল গুন্ডাপান্ডা ভাড়া করিল এই দুইজনকে মারিবার জন্য। বিপুল অঙ্কের টাকার প্রতিশ্রুতি পাইয়া তারা তাদের সকল অস্ত্র সস্ত্র ও সরঞ্জাম সহ রওনা হইয়া গেল। এবং একদিনের ভিতর আস্তানা খুজিয়া আক্রমণও করিয়া বসিল। সুনেমরি পালাইয়া গেলেন; কোগামি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়িলেন। তারে নিয়া গিয়া গুন্ডাদল আচ্ছামত বাঁশডলা দিয়া বলিল, “আমাদের দলে আইসা পড়; অন্নেক মগা হবে।” কোগামি জানাইল “কাভি নেহি।” গুন্ডাদলের সর্দার কহিল; “যাও তুমারে খেলায় নিব না। নিকোলাস ভাইয়ের কাছে তুলিয়া দিব; তখন দেখবা; কি হয়।”

সুনেমরি পালাইয়া আসিয়া নিজের রুমে বসিয়া ফন্দি আটিতেসিলেন; কী করিয়া ইহাদিগকে মজা দেখানো যায়। এরই মধ্যে তিনারে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে অজ্ঞান করিয়া ফেলিল মিলিশিয়া বাহিনী। উনাকে আর কোগামিকে একখানা বিমানে তুলিয়া দিয়া সেইখানা উড়াইয়া দেওয়া হইবেক; যাতে করিয়া কেউ বুঝিতে না পারে যে উনারা এত্তগুলা খারাপ। যেই ভাবা; সেই কাজ। কিন্তু শেষ মুহুর্তে গিয়া শুভ কাজে বাঁধা পড়িল। একঝাক পুলিশ অফিসার বিমানে করিয়া আসিয়া গুলি করিয়া সব খারাপ মানুষ মারিয়া সাফ করিয়া ফেলিতে লাগিলেন। সুনেমরি গেলেন নেতার কাছে; গিয়া বুঝাইয়া বলিলেন; “এইগুলা খারাপ; এইগুলা করতে হয় না; লোকে পচা বলে।” নেতা বুঝিলেন; এবং “সাধারণ নির্বাচন” এর ঘোষণা দিয়া ক্ষমতা ছাড়িয়া দিলেন।

অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলেন।

নটে গাছটি মুড়ালো, আমার কথাটি ফুরালো।

PP 3

Spritied Away রিভিউ — Tufika Anwar

আচ্ছা আপনার ছেলেবেলায় কি কখনো এমন হয়েছে, আপনি বাবা মার হাত ধরে মাথা নাড়তে নাড়তে বাজারে গেছেন। রং বেরঙের দোকান, হরেক রকম মানুষ, আর নানা ধরনের জিনিসপত্র দেখতে গিয়ে কখন যে মায়ের হাতটা ছেড়ে দিয়েছেন তা আর মনে নেই। আর মনে পড়তেই মা বাবার ছায়াটিরও আর খোঁজ পাচ্ছেন না। অনেক খোঁজার পরে সেই ছোট্ট আপনার একটু আগের ভীষণ রঙিন পৃথিবীটা মুহূর্তে যেন সাদাকালো হয়ে গেল।
ছোট্ট চিহিরুর সাথেও প্রায় এ রকমই ঘটে জিবলী স্টুডিও এর অ্যানিমেটেড মুভি Spirited Away তে। বাবা মার সাথে পুরনো বাড়ি ছেড়ে ভীষণ মন খারাপ করে নূতন জায়গায় নূতন বাড়ির উদ্দেশে আসছিল চিহিরু। কিন্তু পথিমধ্যে তারা এক আশ্চর্য রহস্যজনক স্থানে এসে পৌঁছে, সেখানকার সুন্দর সাজানো দোকান, মজাদার খাবার, আর জাদুকরী এক আকর্ষণে চিহিরু আর তার বাবা এতটাই মুগ্ধ হয়ে যায় যে তারা বুজতেই পারে না যে এটা একটা মায়াজাল। কিন্তু গল্পের নায়ক হাকুর সহায়তায় চিহিরুর সম্ভিত ফিরলেও এই প্রবল মায়াজালে আটকা পরে তার বাবা মা।
এখন চিহিরুর অবস্থা দাড়ায় সেই বিশাল বাজারে হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাটির মত। পার্থক্য শুধু একটাই যে চিহিরু হারিয়ে যায় মায়াজালে আচ্ছন্ন ভুত আর অদ্ভুত সব প্রাণীতে ঘেরা ভিন্ন এক জায়গায় কাজ নেয় একটা বাথ হউসে।
তারপর গল্পে আসে আরও সব মজাদার ব্যাপার- এই মায়াচ্ছন্ন জায়গায় চিহিরু পরিচিতি পায় সিন নামে, এই ছোট্ট সিন বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে বড় সব পরিবর্তন আনে এই মায়াপুরিতে। হাকুর সাথে মিলে সিন আবার তার আসল পরিচয় আর বাবা মা কে ফিরে পায়। এমনিই একটা মজাদার গল্প নিয়ে এই মুভি।
এই ছোট্ট মুভিতে হায়াতো মিয়াজাকি এত চমৎকার কিছু অ্যানিম্যাটেড ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছে যা মুভিকে করেছে আরও বেশি আকর্ষণীয়। রূপকথার পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়া রাজকুমারতো সবার পরিচিত কিন্তু এখানে আচ্ছে আকাশে উড়ে বেড়ানো সুদর্শন ড্রাগন রাজকুমার হাকু। আর অসাধারণ গুনে গুণান্বিত অনেক সাধারণ চিহিরু।
জানি অনেকেরই দেখা আছে এই অসাধারণ মুভিটি কিন্তু যাদের এখনও দেখা হয়নি তারা আর দেরি না করে দেখতে পারেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী কাহিনীর মুভি Spirited Away.

Spirited Away

Psycho-Pass: The Movie রিভিউ — Rafiul Alam

PP 1

এটা বছরের সবচাইতে প্রতিক্ষিত মুভি ছিল আমার কাছে।সেই জানুয়ারি মাস থেকে অপেক্ষা করার মেওয়া ফল পেলাম কয়েকদিন আগে।বুঝাই যাচ্ছে,ব্যাপক এক্সপেকটেশন ছিল।তাই প্রশ্ন হল এই মুভির জন্য এত অপেক্ষা স্বার্থক ছিল কিনা।আসছি সে কথাতেই।

Synopsis:যারা আনিমের প্রথম সিজন দেখেন নি,তারা না দেখলেই ভাল হয়।কাহিনী মূলত ১ম সিজনের সিকুয়াল।তো যাই হোক,ঘটনার শুরুতে দেখা যায় যে একদল বিদেশী জাপান আক্রমণ করতে আসে।আগে থেকে ঘটনা আঁচ করতে পেরে তাদের থামাতে উদ্যত হয় আকানে সুনেমরি ও তার দল।ঝটিকা মিশনে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।সুনেমরির অজান্তে মেমরি স্কুপ প্রযুক্তি ব্যাবহার করে সেই বন্দীর মাথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন ইন্সপেক্টর সিমোটসুকি।বোঝা যায় যে সেই লোক পলাতক শিনয়া কোগামীর সাথে পরিচিত।এখন কোগামীকে ফিরিয়ে আনতে আকানে রওনা দেয় গৃহযুদ্ধরত দ্বীপ SEAUn এর উদ্দেশ্যে।যেখানে পরিক্ষামূলকভাবে জাপানের মত সিবিল সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে।কিন্তু আকানে যেমনটা চেয়েছিল,তেমন সহজে কোগামীকে ধরতে পারে না,বরং সেই দেশের বিশ্রি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে,তার সাথে উন্মোচিত করে সিবিলের আরো একটি রহস্য।
উল্লেখ্য,সম্পূর্ণ কাহিনীতেই ২য় সিজনের ভাইব স্পষ্ট।সিবিলের ও আকানের ভুমিকা আগের মতই ছিল।বোনাস ছিল কোগামীর ফিরে আসা।

PP 2

Characters Setup:মূলত সব আগের চরিত্রই।নতুন সাইড ক্যারেক্টার ছিল প্রচুর,জানি না ৩য় সিজনে (যদি বের হয়) তাদের আদৌ কোন আগমণ ঘটবে কিনা।তবে চরিত্রগুলোর বেশ ভাল সম্ভাবনা আছে।সবচেয়ে অপ্রিয় নতুন চরিত্র নিকোলাস ওং,প্রিয় কেউ নেই।আগেই জানতাম,শোগো মাকিশিমার মত অসাধারণ কেউ থাকবে না।কোগামিকে দেখার জন্যই যে আগ্রহ ছিল,ধুন্ধুমার একশনে সেই ক্ষুধা লাঘব হয়েছে আমার ক্ষেত্রে।তবে চরিত্রে বড় কোন পরিবর্তন ছিল না।আকানে সুনেমরিকে যেরকম আশা করেছিলাম,তেমনই “রেডী ফর একশন” মুডে পেয়েছি।আর ডাব দেখা ভাল অপশন হবে বলে মনে হচ্ছে।জাপানী ভয়েস এক্টরদের গলায় ইংরেজি শোনা বরাবরই পীড়াদায়ক।যদিও এর বাইরে কোন অভিযোগ করার সুযোগ নেই।সব চরিত্রই জীবন্ত লেগেছিল।

PP 3

Theme setup, Music and Animation:গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত দেশ SEAUn.দরিদ্রতা,বৈষম্য এবং সিবিলের শোষণ।পাশাপাশি মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু লোকের মরিয়া চেস্টা।নতুন প্রেক্ষাপটই বলা চলে।তবে আনিমের সাথে খুবই মানানসই, সন্দেহ নেই।ভাওলেন্স আগের তুলনায় পরিমিত ছিল।তবে একশনের কমতি ছিল না।সবচাইতে প্রিয় মুহূর্ত ছিল কোগামির বাহিনীর সাথে নিকোলাস বাহিনীর দুধর্ষ যুদ্ধ এবং পিছনে অসাধারণ ক্লাসিকাল মিউজিক, destruction goes on. শুধুমাত্র এই কয়েক মিনিটের জন্যই পুরো মুভির ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেয়া যায়। মুভির এন্ডিংয়ে নতুন কোন গান ব্যবহার করলে আরও ভাল হত হয়ত।তবে যেটা ব্যবহার করা হয়েছে, ইগোইস্টের Namae no nai Kaibutsu গানটি আমার,সবারই অনেক প্রিয়। আর আনিমেশন,আর্টওয়ার্ক নিয়ে কি আর বলব? Production I.G আমাকে সবসময়ই ইম্প্রেস করতে সক্ষম হয়েছে,এবারও ব্যতিক্রম হয় নি।এই বছরের আমার দেখা মুভিগুলার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় আনিমেশন সো ফার।আর এই আনিমেশনে দূর্দান্ত একশন চোখের ব্যায়াম ছিল।

Overall Rating:
MAL Rating: 8.15
My Rating: 8.6

PP 4

সব মিলিয়ে বেশ হাই বাজেটের,হাইপড একটা মুভি।সেই হিসেবেও বেশ ভাল অঙ্কের আয় করতে সক্ষম হয়েছে এটি।সাইফাই কারিকুরি বরাবরের চেয়ে বেশি ভাল ছিল।তাই ১ম সিজন দেখা হয়ে থাকলে আর এক ঘন্টার বিনোদন পেতে চাইলে দেখে ফেলুন।

Destruction goes on-

https://www.youtube.com/watch?v=-cnly0dodeI

PP 5

Tamako Love Story রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

Tamako 1

কি দেখলামঃ Tamako Love Story
স্টুডিওঃ Kyoto Animation

‘Everybody loves somebody.’

হয়ত কাউকে খুব করে ভালবাসেন, হয়ত খুব কাছের কোন বন্ধু; কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হবার ভয়ে কখনই বলা হয়ে ওঠে নি? হটাত করেই জীবনে এমন মোড় চলে এসেছে যখন সবকিছু নতুন করে ভাবার সময় সামনে; সব সমীকরণ মেলাতে হবেই, জোর করে হলেও? এমন সময় হুট করেই একদিন তাকে বলে বসলেন – ভালবাসি। অপ্রত্যাশিত কনফেশনে চমকে উঠল প্রিয় মানুষটা; হয়ত সে মানুষটা ভালবাসার জন্য প্রস্তুত ছিল না। যেরকম প্রতিক্রিয়া আকাঙ্ক্ষিত ছিল সেটা পাওয়া হল না। কি করবেন তখন? আগে যেমন ছিলেন তেমন অবস্থায় ফিরে যাবেন? সব কিছু ভুলে যেতে বলবেন তাকে? নাকি দু’জন দু’জনকে এড়িয়ে চলা আরম্ভ করবেন? নাকি পুরো ব্যাপারটাকে পাশে সরিয়ে রেখে তাকে সঙ্গ দিয়ে যাবেন; অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতে সব তুলে দিয়ে, একদিন না একদিন সে আপনাকে বুঝতে পারবে – এই আশায়?

তারপর, কোন একদিন; হটাত করেই হয়ত ইয়োকোর কিন্নরী কন্ঠ মুঠোফোনে অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা অপ্রত্যাশিত ফোনের কথা জানিয়ে দেবে আশ্চর্য নির্লিপ্ততায়। “কেমন আছেন?” আর “ব্যস্ত আপনি?”র পরই শুরু হয়ে যাবে পরিচিত সেই খুনসুটি, কপট অভিমান, আর প্রাণখোলা হাসি। অনেক কথাই বলা হবে; বাকি থেকে যাবে হয়ত তার চেয়েও বেশি কিছু কথা। বিদায়টাও হয়ত হবে বিষণ্ণ রকম দ্রুততায়। কিন্তু বিদায় বেলায় শোনা একটা বাক্য কিন্তু দু’তিনটে শব্দ হয়ত বদলে দেবে পুরো জগতটাকেই।

Tamako 2

তারপর একদিন হলুদ খামে নীল কাগজে ভালবাসা চিঠি পাঠাবে অভিমানকে, ফিরবে বলে। আকাশপথে উড়ে যেতে যেতে ভালবাসা গান গাইবে গুনগুন করে; তার চোখের তারায় নীল সমুদ্রটাকে আরও একটু বেশি নীল মনে হবে তখন। অভিমান তখন পথে পথে ঘুরে বেড়াবে; ভালবাসার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানোর আকুতিতে। একটা সময় সে ঘরে ফিরবে; ভালবাসা যেখানে অপেক্ষা করছিল; চুপচাপ।
অভিমান দরজায় এসে মাথা নিচু করে দাঁড়াবে; অস্ফুট স্বরে হয়ত বলে উঠবে “দুঃখিত।” “কেন?” – শুধাবে ভালবাসা। “আমি যে শুধু তোমার আর তুমি আমার, ব্যস” – কাঁপা গলায় বলবে অভিমান।

Tamako love story – সহজ সরল খুব সাধারণ ভালবাসার গল্প, সহজ স্বীকারোক্তির গল্প, প্রতিউত্তরের গল্প, দ্বিধাদন্দ আর দোলাচলের গল্প, অনুভুতির গল্প, আর দুটো মানুষের কাছে আসার গল্প। কিয়োএনি এনিমেশন আর ক্যারেক্টার ডিজাইনে কখনই হতাশ করে না; এখানেও তাই। দুর্দান্ত এনিমেশন আর চরিত্রগুলোর অভিব্যাক্তিতে ভালবাসার রুপ প্রকাশের সাথে যুক্ত হয়েছে স্নিগ্ধ সুন্দর সাউন্ডট্র্যাক। “Yet another romantic movie, it’s gonna be cheesy, just like many others out there” বলে শুরু করা মুভিটা ১৫ মিনিটের মধ্যে এমনভাবে বেঁধে ফেলল যে ৮৩টা মিনিট কেটে যাওয়ার কথা টেরই পাই নি।

Tamako 3

Bitter memories are proof that you did something. Taste the regret, bitter as it may be, and indulge in it.
অনেক দিন মনে রাখব মুভিটা; অনেক অনেক দিন।

(নোটঃ এই মুভিটা Tamako market সিরিজের সিক্যুয়াল। জ্ঞানীগুণীজন বলে থাকেন মুভির আগে সিরিজ দেখা থাকলে মুভিটার আনন্দ আরও বেশি করে পাওয়া যাবে; এবং সিরিজটাও নাকি মন্দ না। আমি অবশ্য সিরিজ না দেখেই দেখেছি।)

Tamako 4

Gedo Senki (Tales from Earthsea) রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Gedo 1

কি দেখলাম – Gedo Senki (Tales from Earthsea)

স্টুডিও – জিবলী।
সময় – ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট।

হায়াতো মিয়াজাকির ছেলে গোরো মিয়াজাকির ডেব্যু মুভি। Ursula K. Le Guin এর তিনটে বই এর মুভি এডাপশন; যার কাহিনী আবর্তিত হয় এমন এক পৃথিবীতে; যেখানে খুব অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটা শুরু হয়। দুর্ভিক্ষ, জনগনের অদ্ভুত আচরন – এসব কিছুর সাথে যুক্ত হয় ড্রাগনের আবির্ভাব; যারা কিনা কখনই মানুষের সীমানায় প্রবেশ করে না। এরই মাঝে যাদুকর Sparrowhawk এর দেখা হয় ১৭ বছরের এক ছেলের সাথে; যার নিষ্পাপ চেহারার পিছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত।

জিবলীর মুভিগুলোর মধ্যে গেডো সেনকি খুব উপরের দিকে থাকবে না সম্ভবত। তার পিছনের কারণগুলোও যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। গেডোকে Ursula বলেছিলেন – ‘It is not my book. It is your movie. It is a good movie’; কিন্তু শেষমেশ তিনি তার অসন্তুষ্টিই প্রকাশ করেছিলেন মুভি নিয়ে। তিনটে বই এর এডাপশন হলেও শেষ বইটাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে; আগের বইগুলো থেকে আসা এলিমেন্টগুলো বেশিরভাগই ব্যাখ্যা করা হয়নি যথাযথভাবে।

মুভিটা রীতিমত একগাদা প্রশ্নের উত্তর অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছে। খুনের রহস্য কি, শহরে দাস কেন, কে দাস হতে পারবে আর কে পারবে না; Sparrowhawk এর সাথে টেনারের সম্পর্ক কি এবং তার ভিত্তি আসলে কি (আমাকে রক্ষা করেছে – আসলে খুব সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না); থেরুর অতীত কি জন্য এতো অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল; যাদুকর কারা হতে পারে; তাদের সংখ্যা কত আর এই ক্ষমতার উৎসই বা কি – এরকম অনেক প্রশ্ন এবং অনেক এঙ্গেলই মুভিটা গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন বোধ করেনি।

Gedo 2

তাছাড়া চরিত্রগুলো এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি খুবই অসম্পূর্ণ। Sparrowhawk প্রধান যাদুকর এটুকুই শুধু জানা যায়; তার পিছনের আর কোন কাহিনীই আমাদের জানা নাই; অথচ তার চেহারার দাগ ইঙ্গিত দেয় যে এখানে অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করার অবকাশ ছিল। তাছাড়া মুভির মেইন ক্যারেক্টার আরেনের চরিত্র অসম্ভব রকমের সোজাসাপ্টা। পুরো মুভিতে আমি এমন কিছু পাই নি তার চরিত্রে যেটা তাকে পছন্দ করতে সাহায্য করবে। পুরো মুভিতেই সে ভয়াবহ বিভ্রান্ত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকর চরিত্র হিসেবেই সামনে এসেছে।
মুভিটা তার যে মেসেজ সেটাতে ট্রু ছিল শেষপর্যন্তই; কিন্তু জিবলীর অন্য মুভিগুলোর মতন গল্পের আড়ালে মেসেজ না দিয়ে রীতিমত গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল কিছু জায়গায়; যেটা মোটেও সুখকর ছিল না।

মুভির সাফল্যও ছিল কিছু। মধ্যযুগীয় কল্পনারাজ্যর যে সেটিং মুভি দিতে চেয়েছিল তাতে এটা পুরোপুরি সফল। ব্যাকগ্রাউন্ড, শহরের দৃশ্য – দুর্দান্ত; যদিও চরিত্র রুপায়ন আরেকটু ভাল হতে পারত। কিংবা এটাই হয়ত পরিচালক চেয়েছিলেন। সবচেয়ে শক্তিশালী দিক বোধহয় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। মাঝখানে একটা সময়ে কোন রকম ইন্সট্রুমেন্ট ছাড়া একটা গান আছে – যেটা আপাতত আমার নিউজিক প্লেয়ারে রিপিট অন করে বাজতেসে।
(লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=1hN3iGc1uW8)

ইন্টারনেট অবশ্য অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর একটা ব্যাখ্যা দেয় এই বলে যে, বইগুলো পড়ে নিতে হবে আগে; তাতে অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বসা যাবে; মুভিটা পুরোপুরি উপভোগও করা যাবে। কিন্তু যে মুভি দেখে বোঝার জন্য আমাকে তিনটে বই পড়ে নিতে হয়; সেটা যে তার উদ্দেশ্য পুরণে এবং নির্বর্তনে কিছুটা হলেও ব্যর্থ – একথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

Gedo 3

 

Hal — মোঃ আসিফুল হক

যা দেখলাম – Hal.

এক ঘন্টার একটা মুভি।

রোবট আর রোমান্স – মেইনলি। কোন একজনের মৃত্যুর পর তার জায়গাটা রোবট নিয়ে নিলে কি হবে না হবে – টাইপ কাহিনী। স্টোরিতে টুইস্ট আছে একটা; স্টোরি বেশি বলতে গেলে সেই টুইস্ট রিভিল করে দেওয়ার চান্স বেশি। সো; বাকিটা দেখে নিলেই বোঝা যাবে।

Hal 1

ভাল লাগার পার্টঃ ছেলে মেয়ে দুইজনই তাদের উইশ রুবিক্স কিউবে লিখে স্ক্র্যাম্বল করে আরেকজনকে দেয়। পছন্দের মানুষের কোন ইচ্ছে পূরণ করতে হলে সল্ভ করতে হবে রুবিক্স কিউব – বোথ ইন্টেলিজেন্ট এন্ড রোমান্টিক – নাইস।

মুভিটা অনেকটাই এই রুবিক্স কিউবের পাজলের মতন। একেবারে শুন্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে একটু একটু করে সব কিছু রিভিল করতে থাকে।

সবচেয়ে স্ট্রং দিক – ভিজ্যুয়াল। সিমপ্লি দুর্দান্ত। প্রচুর কালারের ব্যবহার, দারুণ ক্যারেক্টার ডিজাইন – এক মুহূর্তের জন্যও চোখ ফেরানোর জো নেই।

সাউন্ডট্র্যাকও সুন্দর; কাজ চালানোর মতন। ভয়েস এক্টিং বেশ ভাল।

Hal 2

হাল অতীতকে ফিরে পাবার এবং একজন আরেকজনের কাছে আসার রোমান্টিক একটা গল্প; যেটা আমাদেরকে এই মেসেজ দেয় যে প্রিয়জনের খুতগুলো, কিংবা কম আকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত ভালবাসা এবং বোঝাপড়ার সূচনা হয়। ভালবাসা হটাত করেই থেমে যেতে পারে; নির্মমভাবে সমাপ্তি ঘটতে পারে; কিংবা খুব অন্যায়ভাবে দূরত্ব তৈরি হতে পারে; কিন্তু সেই জিনিসগুলো মেনে নিয়েই প্রিয় মুহূর্তগুলোকে সাথে করে নির্মম বাস্তবতাকে মুখোমুখি ফেইস করাটাই সেই ভালবাসার সার্থকতা।

হাতে ঘন্টাখানেক সময় থাকলে বসে যেতে পারেন দেখতে; সময়টা খারাপ কাটবে না আশা করি।

হ্যাপি এনিমিং !

Hal 3

Another [এনিমে রিভিউ] — Maruf D. Raihan

15 Another

Another

জেনরা: থ্রিলার,রহস্য,সামান্য হরর,ট্রাজেডি,স্কুল
এপিসোড সংখ্যা: ১২+১(এক্সট্রা)
স্টুডিও: পি.এ.ওয়ার্কস
নভেল ও মানগা রচয়িতা : ইয়ুকিতো আয়াতসুজি
এনিমে পরিচালনা : সুতোমু মিজোশিমা

MyAnimelist Point : ৭.৯৭
ব্যক্তিগত রেটিং : ৭.৭৫

‘Have you heard the story of a girl named Misaki of class 3 who died in an accident? ‘
খানিকটা এরকম একটা প্রশ্ন(মৃদু গলায়),একটি পুরোনো ক্লাসরুম, মৃত্যুপুরীর ন্যায় একটি স্কুল প্রাংগন-
এভাবে যদি কোন এনিমে শুরু হয় তবে কেমন অনূভুতি হয় তা জানতে চান?? জানতে হলে অল্প সময় বের করে দেখে ফেলুন ‘Another’ নামের এই অন্যরকম এনিমেটি।

গল্প খুবই ক্ষুদ্র এবং প্লট সীমিত হলেও রোমাঞ্চ ও উত্তেজনাময় কিছু ঘটনাবলি এনিমেটাকে খুবই আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবুও গল্পের অল্প ইংগিত দেওয়াই যাক। নাহলে রিভিউ টা প্রশংসা-নিন্দা সর্বস্ব এক রচনা হয়ে দাড়াবে।

ইয়োমিয়ামা নর্থ মিডল স্কুলের এক অস্বাভাবিক ঘটনাচক্র ও তার পরিণতিই কাহিনীর ক্ষেত্র। ব্যাপারটা প্রথম প্রথম ভৌতিক মনে হলেও গল্পের মূল প্রতিপাদ্য ১৯৭২ এর এক অভিশাপ। আর সেই অভিশাপ এর প্রভাব ও কি হয়েছিল এই অভিশাপের কারনে, তা জানতে হলে এনিমে টা দেখতেই হবে।।

সুতরাং,যারা অতিমাত্রায় যুক্তিবিদ এবং অশরীরী ধারণায় বিশ্বাসী নন, তাদের এনিমে টা ভাল লাগবে কি না তা অনিশ্চিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র বলতে দুইজনের কথা বলা যেতে পারে। দুই প্রোটাগোনিস্ট কোউচি সাকাকিবারা ও মিসাকি মেই। অর্থাৎ,গল্পের ধাচ ভালো হলেও আয়তন সংকীর্ণ হওয়ায় ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট এর আলোচনা এখানে অবান্তর। মাঝের দিকের কতগুলো (৩-৪ টি) এপিসোড বোরিং লাগলেও শেষের দিকের এপিসোডগুলো আপনার ও কম্পিউটার মনিটরের দূরত্ব কমিয়ে আনবে তা অনেকটা নিশ্চিত।

পি.এ.ওয়ার্কস এর ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড এর কাজ যথেষ্ট সার্থকতার দাবিদার। যখন যেমন পরিবেশ ও দৃশ্য, ঠিক তার উপযোগী ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দাড় করানো বেশ কঠিন। খুবই কম এনিমের মাঝে এমনটা দেখা যায়।
এনিমেটার ১ম এপিসোড দেখার সময় ওপেনিং সং টা শুনে অনেকেই একে ‘পিউর হরর’ টাইপ মনে করতে পারে। কিন্ত এনিমেটা পুরো দেখলে আপনি নিজেই এর প্রকৃতি নিরূপণ করতে পারবেন।

ওপেনিং –
https://www.youtube.com/watch?v=mbMp3YERJ2k

পরিশেষে, এনিমেটা দীর্ঘসময় যে আপনার মনে রেখাপাত করে থাকবে সে ব্যপারে আমি নিজেই সন্দিহান। তবে এনিমেটা দেখার সময় আপনার উত্তেজনা ও রক্তচাপ কিছুটা হলেও বাড়বে বলে আশা করা যায়।

আর এই এনিমেটার উইকি বা কোন ওয়েবসাইট ঘাটতে যাবেন না,অধিকাংশ ওয়েবসাইট এ স্পয়লার দেওয়া হয়েছে। তাই সময় নষ্ট না করে চলে যান সরাসরি এনিমে তে।