Anohana: The Flower We Saw That Day [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anohana 1

এনিমে: Anohana: The Flower We Saw That Day
পর্ব: ১১
স্টুডিও: A-1 Pictures
মুক্তি: ২০১১
MAL রেটিং: ৮.৬

কাহিনী সংক্ষেপ: সিক্সস্থ গ্রেডে পড়া ছয় কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে কাহিনীর শুরু। ছয় বন্ধুর তিনজন ছেলে, তিনজন মেয়ে। তারা একে অপরকে ডাক নামেই ডাকে। নাম: জিনতা, মেনমা, আনারু, সুরুকু, ইয়োকিয়াতসু ও পোপ্পো। সমবয়সী আর সব ছেলেমেয়েদের মত তারাও মাঠে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। পুরাতন এক কাঠের কেবিনে তাদের সংগঠনের হেডকোয়ার্টার। তাদের দলের নাম: Super Peace Busters.

অনেকটা তিন গোয়েন্দা বা ফেমাস ফাইভের কথা মনে পড়ছে না? চলুন দেখে আসি এরপর কী হয়।

হুট করে দলের সবচেয়ে উচ্ছল সদস্য মেনমা রহস্যজনক ভাবে মারা যায়। মনমালিন্যে ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাস্টারস। বাকী পাঁচ বন্ধুকে জোড়া দেবার জন্য মেনমা আর রইলো না, সবাই চলে গেল যার যার পথে।

কিন্তু কাহিনীর এখানেই শেষ নয়। দলের নেতা জিনতা হাইস্কুল ফাঁকি দিয়ে অলস দুপুর কাটাচ্ছিল একদিন বসে বসে। হুট করে তার ঘরে এসে হাজির হয় মেনমা! জিনতা তো অবাক, প্রথমে ভেবেছিল অতিরিক্ত গরমের কারণে মরীচিকা বুঝি। পরে ভূত মনে করে ভয়ই পেয়েছিল!

মেনমা আসলে ভূতই বটে। পরকাল থেকেই এসেছে সে। তবে কেনই বা তার পরকাল থেকে এই ইহলোকে আসার দরকার পড়লো! কারণ একটাই: মেনমার শেষ আবদার! মেনমা জানায় যে বেঁচে থাকতে তার একটা অপূর্ণ শখ ছিল। সেটা পূরণ না হওয়ায় সে পরকালে ফিরে যেতে পারছে না অতৃপ্ত আত্মা বলে। জিনতার প্রতি তার একটাই অনুরোধ, যেভাবেই হোক তার এই উইশ পূরণ করতে হবে। মজার ব্যাপার হল সেই ইচ্ছের কথা মেনমা নিজেই মনে করতে পারছে না!

অনুরোধটা কঠিন হয়ে যায় জিনতার কাছে। সুপার পিস বাস্টারসের সবাই প্রায় বিচ্ছিন্ন। সবাইকে একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে না সহজে। আরো বড় বিপদ হল মেনমাকে জিনতা ছাড়া আর কেউ দেখতে পায় না। এখন কিভাবে জিনতা বাকী চারজনকে মেনমার কথা বিশ্বাস করাবে! তাই বলে কী বেচারী মেনমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণ হবে না!

জানতে হলে এনিমেটার এগারোটা পর্ব পেরিয়ে যেতে হবে মন শক্ত করে।

Anohana 2

প্রতিক্রিয়া:

রোমান্টিক এনিমে তো এই জীবনে কম দেখা হল না। বেশীরভাগ এনিমেতে বন্ধুত্ব জিনিসটা প্রধান থিম থাকে না। বন্ধুতা একপর্যায়ে রাইভাল বা প্রেমের সম্পর্কে গিয়ে গড়ায় জাপানিজ কালচারে। সেই জায়গায় আনোহানা একটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী উদাহরণ। আনোহানার আগাগোড়া থিমটাই গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বকে নিয়ে।

বাকী চার বন্ধুকে একত্র করতে গিয়ে জিনতা আর মেনমাকে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা অত্যন্ত বাস্তবিক। না বলা অনেক কথা-আবেগ-অনুভূতি অনেক সময় বন্ধুত্বের কাল হয়ে দাঁড়ায়। সুপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও অনেক সময় দেয়াল তুলে দেয় বন্ধুত্বের মধ্যে। অতিরিক্ত অনুরক্ততা ও লুকিয়ে রাখা ভালবাসা যথেষ্ট একটা সার্কেলের জমাট দেয়ালে ফাটল ধরাতে। কুড়ে কুড়ে খাওয়া অপরাধবোধের কারণে যে অনেকে নিজের বন্ধুদের ছেড়ে চলে যায় তার উদাহরণ অনেক আছে। আর হীনম্মন্যতার মত বড় শত্রু বুঝি বন্ধুত্বের আর নেই।

তো আনোহানার চরিত্রগুলোকে উপরের মোটামুটি সবগুলা সমস্যাতেই ভুগতে দেখা যায়। এনিমেটা শুধুই বন্ধুত্বকে নিয়ে। এনিমেটা শুধুমাত্র এক মৃত বন্ধুর অসম্ভব ইচ্ছাকে পূরণ করার অনেকগুলা মানুষের আত্মগরিমা বিসর্জনের গল্প। ভুল বোঝাবুঝি হতে হতে যখন জিনতার সব প্রচেষ্টা যখন ভেঙে পড়ার যোগাড় তখন বন্ধুত্বের সুতোর টানে সবাই এক হয়। সেই এক হওয়া কি ক্ষণস্থায়ী হবে নাকি চিরস্থায়ী হবে তা বলে দেবে এনিমের গল্পটা। মেনমার অপূর্ণ ইচ্ছা কি আসলেই তাদের এত এত বিসর্জনের যোগ্য কিনা তাও বলে দেবে গল্পটা। সাথে বের আসবে ছয় বন্ধুর মনে লুকিয়ে থাকা যত খেদ-ক্ষোভ-অভিযোগ-বিরাগ আর ভালবাসা।

ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুত্ব জিনিসটা মূল থিম হওয়ায় আনোহানা দেখতে আমি আগ্রহী হয়েছিলাম। যদিও চেইন রিয়্যাকশনের মত প্রেমের ব্যাপার ছিল তবে তা বেশী বাঁধা দেয় নি গল্পটা উপভোগের রাস্তায়। এনিমেটা দেখার পর ভয়ানক ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল অন্তরের ভেতরটা। ইচ্ছে করছিল বন্ধুদের সাথে এতদিন যা যা অন্যায় করেছি তার জন্য করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আসলেই আনোহানা আপনাকে এই চিন্তার যোগান দেবে, ইচ্ছে করবে লুকিয়ে রাখা সকল অপরাধবোধের কথা বন্ধুদের বলে দিতে। সেটা যে অবশ্যই একটা খাঁটি কাজ তা শেষ পর্বের সমাপ্তির পর একটা অদ্ভুত পূর্ণতা অনুভবের মাধ্যমে উপলদ্ধিও হবে। দু ফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লেও একে চেপে রাখা উচিত হবে না।

এনিমের গল্প লিখে দিয়েছেন মারি ওকাদা যিনি True Tears, Nagi no Asukara, Anthem of the Heart, Hanasaku Iroha ইত্যাদি এনিমের গল্প লিখে দেবার জন্য খ্যাত। গাদা গাদা মিডিওকোর এনিমের মধ্যে আনোহানার মত কিছু এনিমেই A-1 Pictures এর সবেধন নীলমণি। ভাল কাজ দেখিয়েছে A-1 তা বলতেই হবে। পুরো এনিমেটার অ্যানিমেশনেই একটা আলোকিত ভাব ছিল। বিশেষ করে দিনের বেলার দৃশ্যগুলা ছিল উজ্জ্বল ও মনমাতানো। জঙ্গল, কেবিন, নদী, ব্রিজ, মাঠঘাটের দৃশ্যের অ্যানিমেশন এনিমেটার ইমোশনাল সাইডটাকে ভালভাবে সাহায্য করেছে। রাতের দৃশ্যগুলা আরেকটু ভাল হতে পারতো বলে আমার মতামত। তবে ফায়ারওয়ার্কসের পর্বটার বেলায় এই অভিযোগ খাটবে না।

আর আনোহানা যে জিনিসটার জন্য বিখ্যাত তা হল এর ওপেনিং আর এন্ডিং সং। Aoi Shiori
ওপেনিং সংটা বারবার দেখতাম, বিশেষ করে বাকী পাঁচ বন্ধুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মেনমার ফুল হয়ে যাওয়ার জায়গাটা। গ্যালিলিও গ্যালিলাই ব্যান্ডটা আর নেই, তাদের ভোকালের আরো দুয়েকটা গান শুনেছি, তবে আওই শিয়োরিই সেরা আমার মতে।

এখন আসি এন্ডিং সংয়ের বেলায়। Secret Base Kimi ga Kureta mono- 10 years after ver. নামের এই গানটা শুনে অন্তর কাঁদে নাই এমন দর্শক মনে হয় আর পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিটা পর্বের একেবারে শেষে এমন জায়গায় গানটা বাজানো শুরু করে দিত যে বুকটা কেঁপে উঠতো প্রতিবারই। শেষ পর্বে ফুল ভার্সনটাই ছেড়ে দেওয়ার পর আর সহ্য না করতে পেরে পজ করে দিয়েছিলাম ভিডিও প্লেয়ার। এনিমের তিন নারী চরিত্রের তিন হেভিওয়েট ভয়েস অ্যাক্ট্রেস কায়ানো আই, তোমাতসু হারুকা আর হায়ামি সাওরির গাওয়া এই জাদুকরী গানের তালে তালে পিচ্চি মেনমা, আনারু আর সুরুকোকে দেখতে খুব ভাল লাগতো। একটা লাইভ পারফরমেন্স আছে এই গানের, দেখলে আবেগে ভেসে যেতে হয়।

আসলে আনোহানা ঐ ধরণের এনিমে যার হয়তো বিধ্বংসী কোন প্লট নেই, ডিরেক্টর সাহেবের ক্যামেরার কারিকুরিও নেই অতটা, মাকাতো শিনকাইয়ের মত সিনেমাফটোগ্রাফি নেই, সিরিয়াস বা ম্যাচিউরড থিমও অল্পই। তারপরেও ইমোশনাল রাইড আর সুন্দর সমাপ্তির জন্য এনিমেটা ভক্তদের মনে মনে অনেক অনেক দিন অক্ষয় হয়ে থাকবে তা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়।

Anohana 3

Kaze to Ki no Uta Sanctus/The Poem of Wind and Trees [রিভিউ] — Krista King

Kaze To Ki No Uta 1

Anime: Kaze to Ki no Uta Sanctus / The Poem of Wind and Trees.
Genre: Drama, Social Life, Psychological, Historical, Romance, Mature, Shounen-Ai.
Demographic: Shoujo, Josei (in my opinion)
Duration: 60 min
Author: Keiko Takemiya
Aired: 1987

সারসংক্ষেপ:
ফ্রান্সের এক অভিজাত ছাত্রাবাসে অনেকদিন বাদে ফিরে আসে এক প্রাক্তন ছাত্র সার্জ বাটর(Serge Battour), আর সে মনে করে যৌবনের কিছু স্মৃতিকথা।

মনে পরে, সে যখন প্রথম এসেছিল এই স্কুলে, তাকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল এমন এক কক্ষে যেখানে কেউ থাকতে চায় না। প্রথমে টের না পেলেও সেই রাতেই পরিচিত এক ভয়ানক দৃশ্যের সঙ্গে, এক সিনিয়র ছাত্র তার রুম-মেটকে ধর্ষণ করছে। সরলমনা সার্জ বাধা দিতে গিয়ে জানতে পারে, আসলে তার রুম-মেট গিলবার্ট ককটিউ (Gilbert Cocteau) চেয়েছে তাকে বেধরক মাড়ার জন্য। এত তিরস্কার সত্তেও সার্জ গিলবার্টকে স্বাভাবিক জীবনে জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। বুদ্ধি প্রতিভা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরনে সার্জ সকলের মন জয় করলেও গিলবার্টকে সে বুঝে উঠতে পারেনা কিছুতেই। তবে ক্লাসে সবাই যেভাবে গিলবার্টকে হেনস্থা করে কোথাও একটা লোকানো ব্যাথার আঁচ করে সার্জ গিলবার্টের মনে। যার ফলে স্কুলের সকলের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যায় তার জন্য। অবশেষে বাস্তব সমাজ হিংসা মাদক ধর্ষণ আর অসম্ভব মানসিক যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে গিলবার্ট আঁকড়ে ধরে সার্জের হাত, সার্জও অনুভব করে, হয়ত সেই পারে গিলবার্টকে অন্ধকার জগতে আলোর পথ দেখাতে।

চরিত্র:
প্রথমেই বলে রাখি গল্পের প্রত্যেক চরিত্রই ভীষণ স্বাধীন ও পরিণত।
Serg Battour – সার্জ একজন অভিজাত ও জিপসির পুত্র। সে মায়ের মত কৃষ্ণাঙ্গ হলেও বাবার মত ভীষণ প্রতিভাশালী। কোথাও একটা অসম্ভব জেদী পতিতকে দলিত হতে দেব না –”Even if it kills me, I’ll never allow someone to act violently towards others”–। তার সাথে পরিণত বিচারবুদ্ধি ও বিচক্ষণতা সার্জকে করে তুলেছে আরো আকর্ষণীয়– ”How can you call him dirty? Are you clean yourself!? All men are dirty.”–

Kaze To Ki No Uta 2

Gilbert Cocteau – গল্পের এক বিস্ময়কর অন্যতম প্রধান চরিত্র হল গিলবার্ট। স্বর্ণকেশ নীলাভ নয়ন, গিলবার্ট যেন রুপকথার রাজকুমার। ফুলের মত সুন্দর গিলবার্টের জীবন যেন অভিশাপ। প্রথমে তাকে দেখলে উদ্ভট নোংরা চরিত্রের ভিলেন মনে হলেও, পড়ে বোঝা যায়, সেই সবচেয়ে বেশী জর্জরিত ও সামাজিক নোংরামিতে আক্রান্ত। অগাস্ট বিঊ (Auguste Beau) নামক এক ব্যক্তি এর জন্য দায়ী, যার বিশ্বাস– ”The more he suffers, the more he’ll develop artistically. He will lose his indecency and become nude; his sensitivity will be pure”. সার্জ গিলবার্টকে আলো দেখালেও, অন্ধকার গিলবার্টকে শেষ পর্যন্ত গ্রাস করেই নেয়।

Kaze To Ki No Uta 3

My View:
এটি হল প্রথম সৌজো মাঙ্গা যেখানে দুটি কিশোরের মধ্যে রোমান্টিকতা ও যৌনতা দুটোই দেখানো হয়েছে, যেখানে তিক্ততা ও মাধুর্য দুইই বর্তমান।

এই গল্প সম্পর্কে যতই বলি ততই কম। প্রচুর জটিল বস্তু যেমন- মাদক, ধর্ষণ, গণিকাবৃত্তি, সামাজিক হিংসার শিকার, দ্বন্দ্ব, স্বাধীনতা ও ভালোবাসা এক ভীষণ সুন্দর আর্টিস্টিক ভাবে পরিবেশিত।

চরিত্রগুলির ভাব, ঘটনার পরিণতি আকর্ষণীয় কবিতা, জলরঙা চিত্র ও সুর দ্বারা প্রকাশিত। যেমন শুরুতেই দেখানো হয় এক শুকনো পাতা ঝরা অরণ্যের দৃশ্য আর সাথে একটা কবিতা, চিত্রগুলি যেন এক একটা কথা বলছে। আর কবিতা–
”Can you hear the song of wind and trees?
Can you hear the ruslting of our youth?
Ah, there must be others who remember.
Those who remember the good old days of their youth.”

তাছাড়া ও দেখানো হয়েছে ফরাসি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমাজ।

জানেন, আমি এটা আগে দেখিনি কারণ এর প্রধান চরিত্র দুটিকে একটু বেশিই কম বয়সই দেখতে। কিন্তু আমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ছিল, এতটা পরিণত চরিত্র আমি আর কোথাও দেখিনি।

আমি বলব মাঙ্গাটা পড়ে দেখুন, ওখানে আরো চরিত্রগুলির detail ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য গুলো আছে। ওটার কাছে এই ovaটা অনেকটা ম্লান বলেই মনে হবে।

[যেমন আপনি শুধুমাত্র Soujo-Ai বলে যদি Revolutionary Girl Utena না দেখেন, তেমনই শুধুমাত্র Shounen-Ai বলে যদি না দেখেন তবে একটি মাস্টারপিস থেকে আপনি অজ্ঞাত থেকে যাবেন, এই যা।]

Kaze To Ki No Uta 6

The Big O [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

The Big O 1

মনে করুন আপনি কোন এক ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীতে বাস করছেন। রোজকার অভ্যেস মত ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশাল জানালার সামনে আর পেছনে জ্যাজের হালকা সুর ভেসে আসছে। সুউচ্চ দালান থেকে পিপীলিকার মত ছোট ছোট গাড়ি আর এ্যান্ড্রয়েডের ছোটাছুটি দেখে হয়ত নস্টালজিক হয়ে যাবেন স্মৃতিকাতরতায় যে স্মৃতির অস্তিত্ব নিয়ে নিজেই সন্দিহান। এমন এক পৃথিবীতেই রচিত হয়েছে Big O’র প্লট।
ফিল্ম নয়ের, সাইফাই, মেকা ও সাইকোলজিক্যাল জন্রার অদ্ভুত সুন্দর মিশেলে ২৬ টি এপিসোডের এনিমেটি আপনাকে একাধারে ব্যাটম্যানের স্বভাবসুলভ এলেগ্যান্স, কাউবয় বিবপের হালকা চালের ভারী দর্শন বা নিওন জেনেসিসে শিঞ্জির প্রলাপের কথা মনে করিয়ে দিবে।

Paradigm City, a city of amnesia. চল্লিশ বছর আগে কোন এক ঘটনায় সবার স্মৃতি হারিয়ে যায়। মুছে যায় শহরের ও সব স্মৃতি। তবে কিছু ফ্র‍্যাগমেন্ট আজও মানুষের মনে রয়ে গেছে। তাছাড়া স্মৃতি হারানোর পরও মানুষ দিব্যি জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনকার স্বভাবমতো কাজে যাচ্ছে, কিন্তু কেন ও কীভাবে তারা আজ এখানে সেটি পুরোই অজানা। শহরের প্রতিটি লোকালয় একেকটি ডোমে আবদ্ধ। ডোমের ভেতর নানা ধরণের মানুষের বাস।
এই শহরের জনপ্রিয় নেগোশিয়েটর রজার স্মিথ। কিডন্যাপিং থেকে শুরু করে বিজনেস বা পলিটিকাল ডিল সব ক্ষেত্রেই রজার স্মিথ এক জনপ্রিয় নাম। ব্যাটম্যানের মত মাল্টিবিলিয়নিয়ার হয়ত না, তবে পারিশ্রমিক হিসেবে যে চেক পায় তাতে শূন্যের অংক নেহাত কম নয়। আছে স্মিথ ম্যানশন আর নরমান নামের বাটলার। আরও আছে বিশালাকায় মেগাডিউস এবং প্রতিদিনের সঙ্গী গ্রিফিন। মেগাডিউসকে এক ধরণের উইপন বলা যায়। সোজা ভাষায় নিওন জেনেসিসের এভা। প্রথম দুটো এপিসোডের পর তাদের সাথে যোগ দেয় ডরোথি নামের এক এন্ড্রয়েড। প্রথম সিজন এপিসোডিক। রজার বিভিন্ন কেস হাতে নেয়। বেশিরভাগ সময় নেগোশিয়েশন শেষ হয় মেগাডিউসদের মধ্যকার যুদ্ধে। তবে দ্বিতীয় সিজনে কাহানী অন্যদিকে মোড় নেয়। মেকার চেয়ে বরং ফিলোসফিকাল এনিমেতে রূপ নেয় আর তার সাথে আছে ধর্মীয় রেফারেন্স।
এনিমের প্রতিটা রিকারিং চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ।
প্যারাডাইম সিটির মিলিটারি পুলিশের চিফ ডাস্টিন। পুলিশের বিভিন্ন কেসে রজার তাকে সাহায্য করে। রজার নিজেও একসময় মিলিটারিতে ছিল। তাই তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক বিরাজ করে।
প্যারাডাইম সিটির কর্ণধার এ্যালেক্স রোজওয়াটার। ক্ষমতার লোভে মানুষ যে কী করতে পারে তার উদাহরণ এ্যালেক্স। নিজেকে ‘গড’ প্রমাণের জন্য নিজের শহর ধ্বংস করতেও দ্বিধা হয়না তার।
গর্ডন রোজওয়াটার হলেন এ্যালেক্সের বাবা। তার বিশাল ক্ষেত আছে টমেটোর। তবে তার মানসিক ভারসাম্য দ্রুতই লোপ পেতে থাকে। এই প্যারাডাইম সিটি তার হাতে গড়া। অন্তত লোকে যা বলে আর কি। অনেক বছর আগে কিছু বাচ্চাদের উপর একটা এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। রজার, এ্যালেক্স ও এঞ্জেল ঐ এক্সপেরিমেন্টেরই ফসল। কিন্তু তাদের মন থেকে এই স্মৃতি একদম মুছে ফেলা হয়েছে। এনিমে জুড়ে টমেটো উৎপাদন নিয়ে নানান কথা আছে। খুব ভাল করে খেয়াল করলে বোঝা যায় এগুলো আসলে মেটাফোর ঐ ভয়ংকর স্মৃতির। মূলত চল্লিশ বছর আগে গর্ডন রোজওয়াটার ই মানুষের স্মৃতিগুলো মুছে ফেলে। তার ভাষ্যমতে স্বপ্নে পাওয়া আদেশক্রমে এই কাজটি করেছেন। কিন্তু কার আদেশ?
এঞ্জেল একজন স্পাই। তার উদ্দেশ্য হল ৪০ বছর আগের স্মৃতি সংগ্রহ করা। বিভিন্ন সময় রজারের বিভিন্ন কেসের সাথে সে কেমন করে যেন জড়িয়ে যায়। এনিমে জুড়ে রজার আর এঞ্জেলের কেমিস্ট্রি উপভোগ করার মত।

The Big O 2
এনিমের আরেক চরিত্র বেক একজন রিকারিং ক্রিমিনাল। রজারের সাথে সে প্রায়ই ঝামেলা করতে আসে। আর আছে ম্যানিয়াক এলান গ্যাব্রিয়েল। অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক এন্ড্রয়েড।
তবে এনিমের অন্যতম এক চরিত্র মাইকেল সিবাক/শোয়ার্জওয়াল্ড। একজন জার্নালিস্ট যে সারাজীবন সত্যের খোঁজ করে গেছে। সে নামমাত্র কয়েকটি এপিসোডে ছিল। কিন্তু তার ইমপ্যাক্ট ছিল ভয়াবহ! বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তার ন্যারেটিভ এনিমেতে এক নতুন মাত্রা দেয়। মানুষ, ধর্ম আর প্যারাডাইম সিটির প্রকৃত রূপ সে সবাইকে জানিয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করেনি কেউই। শেষ এপিসোড দেখার পরেই আসলে বুঝতে পারি তার স্পিচ ও ন্যারেটিভ কতটা মূল্যবান ছিল। আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ছিল তার লিফলেট বিতরণ। উইলিয়াম ব্লেকের এর Illustrations of the Book of Job এ Behemoth ও Leviathan কে নিয়ে যে আর্টওয়ার্ক ছিল, তার ছবিই থাকে ঐ লিফলেটে।
এতো গেল চরিত্রের ছোটখাটো পরিচয়। এবার আসি কাহিনীতে। আগেই বলেছি এটি এপিসোডিক এনিমে। কিন্তু চল্লিশ বছর আগের ঐ ঘটনা নিয়ে একটু একটু রহস্য জমতে থাকে সিজন ১ এ। দ্বিতীয় সিজন ফোকাস করে রজারের উপর। “A megadeus chooses its dominus.” রজারের সাথে তার মেগাডিউস Big 0’র সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারি। তাদের পরস্পর বোঝাপড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি এলিমেন্ট। এই মেগাডিউসদের সাথে ডরোথির সম্পর্ক পরে বুঝতে পারি। এঞ্জেলের প্রকৃত পরিচয় জানা যায় শেষের আগের এপিসোডে। শেষ এপিসোডে এসে কাহিনী অন্য উচ্চতায় চলে যায়। এঞ্জেল আর রজারের আবেগঘন নেগোশিয়েশনের পরিসমাপ্তি কোথায়, তা নিয়েই সব ধরণের বিতর্ক। শেষের আগের দৃশ্যে রজারের কিছু মেমোরি ফ্র‍্যাগমেন্টস দেখি যা আমার নিজের জন্যও চপেটাঘাত। আর শেষ দৃশ্যে নতুন আরেক রিয়েলিটির সৃষ্টি হয় যেখানে রজার স্মিথ পুনরায় একজন নেগোশিয়েটরের রোল প্লে করে। অনেকের মতে পুরো এনিমেটি হল শেষ দৃশ্যের লুপে চলতে থাকা এক কোনানড্রাম। আর সবচেতে মজার ব্যাপার হল শেষের আগের এপিসোডে গর্ডন রোজওয়াটার একটা ছবি দেখায় রজারকে। রজারের সাথে তার চল্লিশ বছর আগের ছবি। কিন্তু রজারের তখন জন্মই হয়নি। চল্লিশ বছর আগে রজার গর্ডনকে প্রমিজ করে প্যারাডাইম সিটির ডিরেক্টরের সাথে নেগোশিয়েট করার, যাতে একটা সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ পৃথিবীবাসীকে উপহার দিতে পারে। প্রশ্ন হল প্যারাডাইম সিটির ডিরেক্টর কে? গর্ডন রোজওয়াটার একটি বই লিখে যেখানে তার স্মৃতি লিপিবদ্ধ করে। আর এই বই সে পায় অন্য আরেকজনের কাছ থেকে। অর্থাৎ বইটির প্রকৃত লেখক সে নয়। এই বই অনেকের হাত ঘুরে এসেছে । প্রশ্ন হল গর্ডন যদি তার লেগ্যাসি অন্য কাউকে হস্তান্তর করে, তবে ঐ লেগ্যাসি সর্বপ্রথম কার ছিল? আরও কিছু বলে ফেলি, চল্লিশ বছর পর পর মেমোরি রিসেট করা হয়। অর্থাৎ এনিমের টাইমলাইনের চল্লিশ বছর আগে মেমোরি মুছে ফেলা হয়। যার কারণে মানুষের কোন আইডিয়াই থাকেনা নিজের অস্তিত্বের ব্যাপারে। আর প্রতিবার রিসেটে মানুষদের চরিত্র এবং রোল ভিন্ন হতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কার?
এনিমের শেষ দুটো এপিসোড নিয়ে অনেক কন্ট্রোভার্সি আছে। অনেকখানি রাশড অবশ্যই। কিন্তু আমার একটুও খারাপ লাগে নি। অনেক ধরণের থিওরি আছে এন্ডিং নিয়ে। তবে ভাল লেগেছে এই ওপেন এন্ডেড এন্ডিং। দর্শক তার ইচ্ছেমত কল্পনা করবে। সিমুলেটেড রিয়েলিটি না
চোখে দেখা সত্য, বাছাই করার দায়িত্ব দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দেয়া হয়।
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে এই পৃথিবী একটি মঞ্চ আর আমরা কিছু ক্ষুদ্র অভিনেতা যারা প্রতিদিনই বিভিন্ন চরিত্রে, বিভিন্ন রূপে হাজির হচ্ছি, প্রশ্ন হল কোন সময়ে, কোন কালে? সত্যি বলতে এটিই পুরো এনিমের সারাংশ।
**কেন দেখবেন না?
– অনেকের কাছে এটাকে ব্যাটম্যানের কপি মনে হতে পারে, যদিও আকাশপাতাল তফাৎ। আর্ট নিয়েও অনেকের কমপ্লেইন থাকতে পারে। কিন্তু নয়ের এনিমেতে এই আর্ট খুব ভালই মানিয়ে গেছে। তাছাড়া একই স্টুডিও এর আগেই ওয়ার্নার ব্রসের ব্যাটম্যান এনিমেটেড সিরিজে কাজ করেছিল। খুব স্বাভাবিক আর্টে তার ইনফ্লুয়েন্স থাকবে। তবে কারও কাছে ক্লিশে মনে হলে না দেখাই ভাল। আর যেহেতু এটি মেকা এনিমে, অনেকেই আকর্ষণীয় ফাইটের আশা করবেন। তবে ফাইটগুলো এতটা আহামরি কিছু না।
**কেন দেখবেন?
– কারণ এটি পটেনশিয়াল কাল্ট ক্লাসিক। কাউবয় বিবপ ভাল লাগলে এই এনিমেও ভাল লাগার কথা। আর সাথে আছে অসাধারণ সব মিউজিকাল স্কোর। যদি সাইকোলজিক্যাল মারপ্যাঁচে ডুবতে চান, বিব্লিওকাল রেফারেন্স আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয় কিংবা ডিভাইন জাস্টিস নিয়ে আপনার কৌতূহল থাকে, তবে এ এনিমে আপনার জন্য।
আর আছে ভয়েস এ্যাক্টরদের কারিশমা। এই এনিমের ডাব হাইলি রিকমেন্ডেড। আমি প্রথম ৪/৫ টা এপিসোড জাপানিজে দেখেছিলাম। পরে ভাবলাম ডাব ট্রাই করি। শুনেই দেখি এ যে স্পাইক আর ফে’! স্টিভ ব্লাম ও ওয়েন্ডি লি এর ভয়েস একদম পারফেক্ট ছিল। শোয়ার্জওয়াল্ডের ডাব ভয়েস অনেক বেশি ভাল এবং তা আবেগটাকে খুব ভালভাবে ক্যাপচার করতে পেরেছে। তবে অন্যতম আকর্ষণ হল এলান গ্যাব্রিয়েলের ভয়েস। এরপর ক্রিস্পিন ফ্রিম্যানের ফ্যান হয়ে গেলাম। পরে তার বায়ো তে গিয়ে দেখলাম কোতোমিনে কিরেই বা শিজুও’র মত ভারী কিছু চরিত্রের নাম।
এতকিছু চিন্তা না করে শুধু মজার জন্যেই নাহয় দেখে ফেলুন Big O.

Baby Steps [রিভিউ] — Arafin Shanto

Baby Steps

Anime: Baby Steps (শিশুর পদক্ষেপ)
Genre: Sports, Romance, School, Shounen 
Episode: 50 (season 1 + season 2)
Rating: MAL- season 1:- 7.95, season 2:- 8.19
Personal- season 1:- 7, season 2:- 8(Higher)

সারসংক্ষেপ-
Honor student বা সন্মানিত শিক্ষার্থী শব্দটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত।শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে বুদ্ধিমান চরিত্র বলা যায় তাদের।
তাদেরকে আমরা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে দেখি।কারো মতে সে যেমন শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে আদর্শ চরিত্র আবার অনেকেই একবাক্যেই বলে দেই এদের চেয়ে একঘেয়ে,রসকসহীন প্রজাতি দ্বিতীয়টি পাওয়া দুষ্কর। (আমি দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে পড়ি 😛) সবকিছুতেই তারা অস্বাভাবিকভাবে পার্ফেক্ট।

তেমনি একজন নার্ভে ওঠা সন্মানিত ছাত্রকে নিয়েই গড়ে উঠেছে শিশুর পদক্ষেপ এনিমের গল্প।আরেকটু ভদ্রভাবে বললে “একজন পেশাদার নার্ড থেকে পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হয়ে ওঠার গল্প।”

Maruo Eiichiro আমাদের গল্পের নায়ক।অন্যান্য পেশাদার নার্ডের মত সেও শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে ব্যাস্ত চরিত্র। তার তৈরি করা নোটবুকগুলো নাকি শিক্ষকের লেকচার তো বটেই পাঠ্যবইয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর। (SFX;Kill him -_-)

এখন প্রশ্ন সে কিভাবে টেনিস খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত হল!

না, তার টেনিস খেলার কোন ইচ্ছাই ছিল না। সে তার জীবনেই সুখী ছিল। এমনকি উচ্চ বিদ্যালয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত সে জানতোও না টেনিস নামের কোন খেলা পৃথিবীতে আছে। মারুয়ো কেবল তার ব্যাস্ত জীবনের মাঝে কিছুটা সময় বের করে প্রাত্যহিক শরীরচর্চা করতে চেয়েছিল।কি করা যায় সেটা চিন্তা করতে করতে ঘটনাচক্রে টেনিস খেলার সাথে পরিচিত হয় এবং টেনিসকেই তার প্রাত্যহিক শরীরচর্চার জন্য ব্যাবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।(মূলত এক সুন্দ্রী টেনিস প্লেয়ারের রূপে মুগ্ধ হয়ে ._.)

Baby Steps 2

নিজস্ব ভাবনা-
আমি স্পোর্টস এনিমে খুব বেশি দেখেছি বলা যায় না, যে কয়েকটা দেখেছি বেশিরভাগই দলগত খেলাভিত্তিক। কারণ স্পোর্টস এনিমের ক্ষেত্রে আমি সবসময় দলগত খেলাকেই প্রধান্য দিয়ে থাকি।একক কোন খেলোয়াড়ের গল্প থেকে দলগত খেলা বেশি ইন্টারেস্টিং এজন্যই হয়তবা।
কিন্তু শিশুর পদক্ষেপ দেখার পর আমার মত আপনারও সে ধারণা পালটে যেতে বাধ্য।একক খেলাতেও যে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা যায় শিশুর পদক্ষেপ তার অনন্য উদাহরণ। টেনিস এমনিতেই টেনিস খুবই একটি মজার খেলা এবং সময়ে সময়ে যথেষ্ট ইন্ট্যান্স। আমরা সবাই টেনিসের সাথে কমবেশি পরিচিত।কিন্তু আপনি যদি আগে টেনিস নাও দেখে থাকেন বিচলিত হবার কিছু নেই।এনিমের মধ্যেই টেনিসের প্রতিটি নিয়মকানুন সুন্দরভাবে ধাপে ধাপে বিশ্লেষন করা হয়েছে। এতই সুন্দর এবং গোছানোভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে আপনি টেনিস সম্পর্কে ধারণা তো পাবেনই সাথে টেনিসের খুটিনাটি এমন অনেক বিষোয় সম্পর্কে জানতে পারবেন যা হয়ত আপনি রাফায়েল নাদাল কিংবা রজার ফেদেরারের খেলার নিয়মিত দর্শক হয়েও জানতেন না বা খেয়াল করেননি কোনদিন। 😛
একজন টেনিস খেলোয়াড়ের প্রতিটা শটের পেছনে কতটা শ্রম,কত আবেগ ও তাৎপর্য লুকিয়ে থাকে আপনি সেটাও খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন।তাই এনিমে শেষ করার পর একজন ডাই-হার্ড টেনিস ফ্যান হয়ে গেলেও অবাক হবার কিছুই থাকবে না। xD

এই এনিমের আর্ট নিয়ে অনেকেই কিছুটা নেগেটিভ রিভিউ দেন। কিন্তু আমার কাছে তেমন নিম্নমানের কিছু মনে হয়নি। আহামরি কিছুও নয়। খেলা চলাকালীন ব্যাকগ্রাউন্ডের দর্শকদের দিকে তাকালে কিছুটা আজব অনুভূতি হতে পারে এই যা। গল্পের মাঝে ঢুকে গেলে এগুলো চোখে পড়বে না।

শিশুর পদক্ষেপের সবচাইতে বড় সফলতা হল এটি তার গল্পের প্রতিটি চরিত্রকে খুব সুন্দরভাবে পোট্রে করতে পেরেছে। মারুয়োর চরিত্র অনেক টিপিক্যাল শৌনেন স্পোর্টস এনিমের মূল চরিত্র থেকে অনেকক্ষেত্রেই আলাদা। তাছাড়া এই এনিমের আরেকটি সুন্দর দিক হল তারা চরিত্রগুলোকে এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে গল্পে যেই চরিত্রের তেমন কোন প্রয়োজন নেই তাকেও আপনি অনেকদিন মনে রাখবেন।

এনিমের চরিত্রগুলোর ডেভেলাপমেন্ট চোখে পড়ার মত। বিশেষত গল্পের নায়ক মারুয়োর চরিত্রের উন্নতি খুব সুন্দরভাবে ধাপে ধাপে করা হয়েছে। মারুয়োর সাথে অন্যান্য খেলোয়াড়ের সম্পর্ক,তার বন্ধুমহলের সাথে সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের একটা অসাধারণ দিক হল অনেক স্পোর্টস এনিমের মত এখানে মূল চরিত্রের পরিবারকে দৃশ্যপটের বাইরে ফেলে রাখা হয়নি।বরঞ্চ গল্পের প্রতিটি মোড়ে বিশাল কিছু ভূমিকা দেয়া হয়েছে। যার কারণে আপনার জন্য হয়ত গল্পের সাথে আত্মিক একটা সম্পর্ক তৈরি করে নিতে সহজ হবে।

রোমান্স ট্যাগ টা দেখে প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে বা কেমনভাবে দেখানো হয়েছে রোমান্স।আপনাক আশ্বস্ত করতে পারি মোটেই ক্রিঞ্জি ভাইবটা নেই। এনিমেতে স্পোর্টসের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। স্পোর্টসের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই রোমান্স ফ্যাক্ট টা তুলে ধরা হয়েছে। ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ছিল ততটুকুই রাখা হয়েছে।

শিশুর পদক্ষেপের সাউন্ডট্র্যাকগুলো সত্যিকার অর্থে অসাধারণ না বলা গেলেও যথেষ্ট ভাল। গল্পে মজে গেলে হয়ত ওএস্টির দিকে তেমন মনোযোগ দিবেন না কিন্তু একইসাথে এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। ঠিক অন্য কথা বলা যায় ওপেনিং এবং ইন্ডিং গান নিয়ে। বিশেষত Mao Abe এর গাওয়া “Believe in Yourself” গানটি একবারও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব তো নয়ই কিছুক্ষেত্রে লুপেও শুনতে বাধ্য হবেন।

শিশুর পদক্ষেপ এনিমেটি তার নামের সাথে মিল রেখেই গল্প ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। একটি শিশু যেমন প্রথম হাঁটতে শেখে এবং সেই শেখার মাঝে যে আনন্দ খুজে পায়।এভাবে চেষ্টার মাধ্যমে সবার উৎসাহে একসময় হাঁটতে সমর্থ হয়, আমাদের গল্পের নায়ক মারুয়োও ঠিক একই গাইডলাইন ফলো করেছে টেনিসের ক্ষেত্রে।

শিশুর পদক্ষেপ এনিমেটির অন্যতম বড় দিক হল এর বাস্তবধর্মী এপ্রোচ। গল্পের কোন জায়গাতেই ফোর্স করে মূল চরিত্রকে জিতিয়ে দেয়ার কোনরকম চেষ্টাই করা হয়নি। এমন কোন টেকনিক বা ট্যাকটিক যুক্ত করা হয়নি যার কোন ব্যাখ্যা নেই। মূল চরিত্র তার ম্যাচগুলো আবেগ দিয়ে নয় বরং এনালাইজ করে খেলে। উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন মুভ দেখবেন না আপনি। খেলার মাঝে নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই পূর্বপরিকল্পিত। তাই অসাধারণ গল্পের সাথে বাস্তবধর্মী এবং একইসাথে ইন্ট্যান্স স্পোর্টস এনিমের অভাব যদি বোধ করতে থাকেন দেরি না করে দেখতে বসে যান শিশুর পদক্ষেপ।

এখন এনিমেটি শুরু করার আগে আপনাকে যে বিষয়ে ভাবতে হবে তা হল আপনার হাতে কতটা অলস সময় আছে!কারণ একবার শুরু করলে বারবার নেক্সট এপিসোড ক্লিক না করে আপনি থাকতে পারবেন কিনা সেটা ভাববার বিষয়। :3

পুনশচঃ (যদি এই রিভিউ পড়ে এনিমেটা দেখেন,দ্বিতীয় সিজন শেষ করার পর আপনার কাছ থেকে ধন্যবাদ পাই আর না পাই গালি ঠিকই খাইতেসি এইটা আমি শিওর। not because of story. কারণটা ভিন্ন। তাই উহ্যই থাক। 😛)

Ninja Batman (2018) [মুভি রিভিউ] — Md Anik Hossain

Ninja Batman

কয়েক সপ্তাহ যাবত্‍ দেখব দেখব করে দেখা হচ্ছিল না। শেষে আজ সকালে দেখলাম।

মূল কাহিনীর সারাংশ হয়ত শিরোনাম দেখেই বোঝা যায়। তবুও বলি আর কি- ব্যাটম্যান যখন গোরিলা গ্রড এর সাথে মারামারি করছে এমন সময় গ্রডের বানানো টাইম মেশিন সম্ভবত দুর্ঘটনাঃবশত এক্টিভেট হয়ে যায়। আর ব্যাটম্যান টাইম মেশিনের বদৌলতে প্রাচীন জাপানে চলে আসে। সেখানে গিয়ে খুঁজে পায় তার কিছু চিরশত্রুদেরকে। আর তাদের খতম করে আবার বর্তমানে ফিরে আসা নিয়েই Ninja Batman এর মূল theme.

প্রথমেই স্টোরিলাইনের কথা বললে কাহিনী পুরাই লুলমার্কা হাস্যকর মনে হইছে আমার কাছে। কিন্তু একইসাথে প্লট টা মজাদার ছিল এটা মানতে হবে।
প্লট-কাহিনী মিলিয়ে 6/10 দিব।

আর্টওয়ার্ক বেশ ভালো লেগেছে। ওয়েস্টার্ন কমিকের এডাপ্টেশন হিসেবে মানানসই ছিল। এটার এনিমেশনে বেশ Uncommon একটা vibe পাওয়া যায়। Afro Samurai খ্যাত তাকাশি ওদাকাই এর সৃষ্টি বলে কথা। CGI এনিমেশন এর মুভমেন্টগুলো খারাপ লাগেনি। আর একশন সিকোয়েন্সগুলো অস্থির ছিল। বিশেষত একবারে শেষের ব্যাটম্যান বনাম জোকার এর Duel টা 
এই খাতে 8/10 দিলাম।

ব্যাটম্যান সেই চিরাচরিত ব্যাটম্যানের মতোই ছিল। নিজের আদর্শ ও বাস্তবতার মাঝে বিরোধ ভালোভাবেই ফুটেছে মুভিতে। আর বিখ্যাত জোকার মামু এবং কুইন এর পাগলামি ছিল এক্কেবারে দারুণ! পুরা মুভিতে জোকার মামুর কান্ডকারখানাই সবচেয়ে উপভোগ্য ছিল। ক্যাটওমেন,টু ফেইস,গোরিলা গ্রুড কেও কমবেশি ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে বলে মনে হলো। অন্যান্য ক্যারেক্টার রা খুব বেশি স্ক্রীনটাইম পায়নি।যেটুকুও পেয়েছে, চলে আরকি।
তো চরিত্রগুলোর মিথস্ক্রিয়ার দিকটাতে 7+1/10 দিব(জোকার মামুর জন্য ১ বোনাস)

নেগেটিভ দিকের কথা আর কি বলব, মুভির নাম দিছে নিনজা ব্যাটম্যান আর পোশাক পরাইছে সামুরাই যোদ্ধাদের মতো, পুরাই আজব! তার উপ্রে প্রাক-শিল্পবিল্পব জমানায় ইয়া বিশাল বড় বড় রোবোট নিয়ে মারামারি দেখায় দিল। দেখে তো আমি হাসতে হাসতে কতক্ষণ লুটোপুটি খেলাম।

মুভির সবচেয়ে সেরা মূহুর্ত: বাতুমান-দোনো যখন হাত দিয়া নারুটোর মতো শারিনগান(?) জুত্‍সুর হ্যান্ড সিগনাল দেখাইল।

তো সে যাইহোক, সামগ্রিকভাবে সময় কাটানোর জন্য ভালোই লাগল। ৭/১০ দিলাম সব মিলিয়ে।

Major [রিভিউ] — Rahat Rubayet

Major 2

এনিমেঃ মেজর 
সিজনঃ ৬ টা সিজন + ২টা এক্সট্রা এপিসোড (আরো কিছু আছে এদিক সেদিক)

অনেকদিন পর এনিমে দেখতে বসা। মানে শুরু করে শেষ করা আরকি। বেশ বড়সড় একটা সিরিজ। গড়ে ২৫ এপি ধরে ২৫*৬= ১৫০ এর কমবেশি।
বেশ আশা নিয়ে দেখতে বসা, যেখানে বেজবল নিয়ে এর আগে দেখা ২ টা এনিমেতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। সেদিকে না যাই।
প্রতি সিজনেই কত রকম কথা মনে হয়েছে যা রিয়েকশান হিসেবে লিখতে চেয়েছি, কিন্তু ৬ টা সিজন শেষ করে অনেক কিছুই মাথায় আসছে না।

>> মেজর-
মেইন ক্যারেক্টার এর নিজেকে ভাঙ্গা গড়ার এনিমে। বন্ধুত্বের ভিতকে আগলে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা নয়, বরং বন্ধুদের ক্রমাগত রাইভালে পরিনত করতে করতে এগিয়া যাওয়ার গল্প।
না, এই জায়গাটায় আমার কোন সমস্যা নেই- বরং ভালই লেগেছে গোরোর জার্নিটা।
>>মেইন ক্যারেক্টার কে কিছু এপিসোড পরে থেকেই পিটানোর ইচ্ছা দমন করে রেখেছি, কারন তা সম্ভব না। না, সে ইরিটেটিং ক্যারেক্টার মোটেই না। হিরো তো বটেই, চিৎকার করে ডান হাত বাম হাত দিয়ে যে কামানের গোলা ছোড়ে তাকে হিরো না বলে…. সে যাক।
ক্লিশে ব্যাপারে আমার খুব যে সমস্যা আছে তা না, বরঞ্চ মূল চরিত্রের এথলেটিক বডি বিল্ডিং টা বেশ করে দেখিয়েছে শুরুতেই।
কেন যেন থেকে থেকে মূল চরিত্রের সেলফ ডেস্ট্রাক্টিভ কাজকর্মে মেজাজ চড়ে গেছিল। (নিজেকে গোরোর বাবার চরিত্রে কল্পনা করেছি কি? হতে পারে, হতেই পারে)
এমন পোলাপানকে সকালে বিকালে ২ ঘা দেয়া দরকার।
যদিও অনেকের কাছে মনে হতে পারে, প্যাশনের জন্য নিজেকে উজার করে দেয়া, হ্যান-ত্যান….. পারসোনালি আমার তাকে পিটাতে ইচ্ছা করেছে।
যদিও, ছেলে ভালো, শুধু নিজের ভালমন্দ বুঝে না- এই আরকি।

Major 1

>> মেজর এনিমেতে একটা নির্দিষ্ট ডেথের ইন্সিডেন্ট খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছে। মানে আমার কাছে খুবই খুবই সুন্দর লেগেছে জায়গাটা। (মৃত্যুর আবার সুন্দর কি? মৃত্যু মানেই তো অসুন্দর)
মানে, কোন একটা ক্যারেক্টার এর ডেথ আর তাতে সবার প্রতিক্রিয়া বেশ নাটকীয় ভাবে উপস্থাপন ছিল। আমার ভাল লেগেছে।

>> অপেনিং সং ২ টা (২ নং আর ৬ নং) বেশ, বেশ……বেশ ভালো লেগেছে। এখনো Saraba Aoki Omokage লুপে চলছে। লুপে চলার মতন?
কম্পোজিশন, লিরিক আর মূলভাব যদি ঠিকমতন ফুটে ওঠে, তখনই এমন সাউন্ডট্র্যাক পাওয়া যায় কেবল।
লিরিকের কয়েকটা লাইন দিই এখানে যেটা এনিমের ভেতর এমন ট্রান্সলেশনে পাবেন, কিন্তু গুগলে সার্চ দিলে দায়সারা ধাচের ট্রান্সলেশন।
what should i see, when i close my eyes?
will surely be- shining you there.
let your passion rise now,
until your despair becomes hope
get yourself fired up with a golden vow
you can face a challenge without end

>> মেজরের ফিমেইল ক্যারেকটার প্রায় সবগুলো কেই ভালো লেগেছে শুধু শিমিজু আর তার বান্ধবী বাদে। তার বিশেষ টোনে ‘হোন্দা’ বলে চুপসে যাওয়াটা বোধহয় একমাত্র ভাল লাগার দিক।
সবথেকে ভালো লেগেছে বোধহয় Ryoko , Momoko আর Sophia কে।
আর কেন যেন, সোফিয়ার মাঝে হালকা রকমের নাচ্চানের(বেবি স্টেপ্স) ছায়া পেলাম। আচার ব্যবহার+ চেহারা সুরতে মিল আছে সম্ভবত।

>> মেজর বোধ হয় একমাত্র এনিমে আমার জন্য, যেই এনিমের মূল ক্যারেকটার কে মাটিতে পরে যাবার জন্য বারবার প্রে/উইশ করছিলাম।
সিরিয়াসলি!
‘অমুক দলে’র বিপক্ষে ‘অমুক ম্যাচে’ বারবার করে চাইছিলাম – ‘ব্যাটা পর, পরে হস্পিটালাইজড হ, আর সহ্য করা যাচ্ছে না’
>> গিবসন
গিবসন আর গোরো সম্ভবত যুগ্মভাবে আমার পছন্দের চরিত্র এই এনিমেতে।
কেন? দেখলেই বুঝবেন।
>> কোন খারাপ দিক নেই?
আছে, প্রচুর আছে। যেমন সময়ে সময়ে বোরিং লাগতে পারে অনেকের কাছে (আমার লাগে নি মোটে)। ক্লিশে ব্যাপার এর ঘাটতি খুব একটা ছিল না।
তবে, অমুক তমুক এনিমের মতন, মেইন ক্যারেক্টারের সবকিছু জিতে ফেলার মতন ঘটনা ঘটে নি।
>> একটা জিনিষ বলা দরকার।
অনেক অনেক এনিমেতে দেখা যায় অনেক এপিসোড খরচ করে মূল চরিত্রের ছোট থেকে বড় হওয়াটা দেখায় (যদিও আরো অনেক বিষয় থাকে- মানা করছি না), কিন্তু মেজরে ১৫০ এপিসোড যদিও অনেক, তবু এর মাঝেই প্রধান চরিত্রের এত পরিবর্তন যা আবার দৃষ্টিকটু লাগে নি- প্রশংসনীয়।

আর হ্যাঁ, মেজর বোধ হয় যারা ধুম ধারাক্কা থ্রিলিং স্পোর্টস এনিমের খোঁজে আছেন, তাদের চাহিদা মেটাবে না।
পছন্দের স্পোর্টস এনিমে লিস্টে ৩ বা ৪ এ থাকবে মেজর। সিজন ৭ এর অপেক্ষায় রইলাম।

অনেক কিছু বলার ছিল, আঙ্গুলে ঝাল আর শীতে স্থবিরতা এনে দিয়েছে, এই পর্যায়ে।

Major 3

Kono Subarashii Sekai ni Shukufuku wo! [লাইট নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

KonoSuba 2

Kono Subarashii Sekai ni Shukufuku wo! /Give Blessings to This Wonderful World!

জনরা- ফ্যান্টাসি, কমেডি, অ্যাডভেঞ্চার
মোট ভলিউম- ১৩

সাতৌ কাজুমা পারফেক্ট হিকিমোরি। হিকিমোরি হচ্ছে নিজের রুমে সারাদিন বসে কম্পিউটার গেম, অ্যানিমে ও সিনেমার মাঝে ডুবে থাকা। খুব কমই ঘর থেকে বের হয় হিকিমোরিরা। কিন্তু কাজুমা একদিন বাসা থেকে বের হলো, তবে এক ফেভারিট গেম কেনার জন্য। বিপত্তি বাধে সেখানেই, গেম কিনে ফিরে আসার সময় সে দেখে এক স্কুল পড়ুয়া মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, এক ট্রাকের ছায়া এগিয়ে আসছে মেয়েটার দিকে। মেয়েটাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে মারা যায়, আর আবিষ্কার করে অন্য এক জায়গায়। সেখানে এক সুন্দরী মেয়ে বসে ছিল তার অপেক্ষায়।

সুন্দরী মেয়েটি ছিল পানির দেবী আকুয়া। তার কাজ হলো জাপান থেকে মৃত লোকদের স্বর্গে নাইলে অন্য আরেক দুনিয়ায় পাঠানো। আর ভালো কথা, কাজুমা কিন্তু ট্রাকের চাপায় পড়ে মারা যায়নি। মারা গেছে ট্রাক্টরের কারণে। কিন্তু সেটাও ওকে চাপা দেয়নি, সময়মত থেমে যায়। কিন্তু ট্রাক্টরকে ট্রাক মনে করে সে হার্ট অ্যাটাক করে, আর মরার আগে নিজের প্যান্ট ভেজাতে ভুল করে না!

আকুয়া এটা নিয়ে হাসাহাসি করে, কাজুমা যায় রেগে। তাকে বলা হয় যে সে প্যারালাল এক ফ্যান্টাসি দুনিয়ায় যেতে পারবে যেখানে ডেমন কিং আছে, এবং তার চ্যালা-পুলা মানুষদের উপর বারবার আক্রমণ করছে। তাদের রক্ষা করতে হবে। ডেমন কিং-কে পরাজিত করার জন্য সে নিজের ইচ্ছেমত যেকোনো নিতে পারবে, সেটা অস্ত্র কিংবা অসীম ক্ষমতা, যেকোনো কিছু। কাজুমা এক পায়ে খাড়া। কিন্তু দেবী আকুয়ার তাচ্ছিল্য সে সহ্য করতে পারল না। তাই সে দেবীকে নিয়েই ফ্যান্টাসির মাটিতে নামল। আর দেবী আকুয়া তো বাকহারা।

KonoSuba 1

কাজুমা মনে করেছিল আকুয়া যেহেতু দেবী, সেই কাজুমার অর্ধেকের বেশি কাজ করে দিবে। কিন্তু বিধিবাম, দেবী কোনো কাজের না, অলস আর নারসিসিস্ট টাইপের। আর ফ্যান্টাসি দুনিয়ার হিরো হবার যোগ্যতা নেই কাজুমার। সবচেয়ে নিচু লেভেলের অ্যাডভেঞ্চারার হতে হলো তাকে। তার দলে যোগ দিল আরো দুটো মেয়ে, প্রতিভাবান জাদুকর মেগুমিন, যে কিনা বিস্ফোরণের জাদু ছাড়া আর কোনো জাদুতে আগ্রহী না। আর ডার্কনেস, হাজার ধাক্কা সহ্য করতে পারলেও শত্রুর গায়ে ফুলে টোকা মারতে পারে না, আর মেয়েটা প্রচুর পরিমানে masochist।

এই অদ্ভুত টিম নিয়ে কাজুমা কীভাবে ডেমন কিং ও তার চ্যালা-পুলাদের সামলাবে?

তবে আরেকটা কথা বলি, কাজুমা কিন্তু দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা না। শত্রুর সামনে দুই নাম্বারী, চালিয়াতি করতে তার মন বিন্দুমাত্র কাঁপে না। তাছাড়া সাথীদের ঢাল বানিয়ে নিজেকে রক্ষা করতেও দ্বিধা করে না, তবে বিপদে পড়লে তাদের আবার ঠিকই রক্ষা করে। সাথে সে প্রচুর পরিমাণে অলস আর পার্ভাট স্বভাবের।

আর ভাবেই এগিয়ে যায় তাদের অ্যাডভেঞ্চার। আর তাদের অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে এগিয়ে যায় কোনোসুবা সিরিজ।

এখন আপনি যদি ইংরেজী কোনো সিরিজ পড়তে চান, কিন্তু সেটা সহজ ভাষায়। আর হাসতে চান দম ফাটিয়ে। তাহলে আমি আপনাকে এটা রেকমেন্ড করব। এই সিরিজটা লেখাই হয়েছে আপনাকে হাসানোর জন্য। কখনো কাজুমার কীর্তিকালাপে, কখনো মেগুমিনের পাগলামি, কখনো আকুয়ার বোকামি, কখনো ডার্কনেসের নিজের চাহিদা(!) এর উপর সঁপে পড়তে দেখে আপনি নির্দ্বিধায় হাসবেন। পড়ে আরো কিছু মজার চরিত্র আসে, প্রাক্তন ডেমন কিং দলের সদস্য ও লিচ (আনডেড জাদুকর) উইজ যে কিনা এক ম্যাজিকশপ খুলেছে কিন্তু লসের মুখে আছে। আরেক ডেমন কিং দলে সদস্য ভানির, যার একমাত্র লক্ষ্য মানুষকে ধোঁকা দিয়ে মজা করা। মেগুমিনের সহজ সরল বান্ধবী (কাজুমার ভাষায় একমাত্র স্বাভাবিক মেয়ে) ইয়ুনইয়ুন। ডার্কনেসের বান্ধবী, ও বিখ্যাত চোর ক্রিস। সাথে আছে কাজুমার তলোয়ার চুনচুনমারু (নাম মেগুমিনের দেয়া), মেগুমিনের অদ্ভুত বিড়াল চমুস্কে, আর আকুয়ার তথাকথিত ড্রাগন কিন্তু অন্যের চোখে বাচ্চা মুরগী এম্পায়ার যেল (সে অনেক পড়ে আসে)।

এখন কেন এই নভেল সিরিজ পড়বেন? আগেই বলেছি দম ফাটিয়ে হাসার জন্য। বইয়ের প্রতিটি পরতে পরতে হাসির এলিমেন্ট ঢুকানো আছে যা আপনাকে হাসিয়ে ছাড়বে। আর প্রচুর সহজবোধ্য করে জাপানি থেকে ইংলিশে ট্রান্সলেট করা হয়েছে। ডেমন কিং দলের সাথে মারামারি করা সময় কাজুমা ও তার দলের পাগলামি পড়লে তো হাসাহাসি খাবেন। আর ওদের পাগলামির একটু বর্ণনা যদি দিই তাহলে গল্পের কিছুটা স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই দিলাম না। এছাড়া এটার অ্যানিমে সিরিজও আছে। সেটাও কিন্তু কম হাসির না, ভয়েস আর্টিস্টরা খুব যত্নের সাথে চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু অ্যানিমে চারটা নভেল অ্যাডাপ্ট করেছে, সেখানে মোট নভেলের পরিমাণ ১৩টা, তাই আমি বলব প্রথম থেকেই পড়া শুরু করে দিন। মজা শতভাগ উসুল হবে।

KonoSuba 3

Honey and Clover [Reaction] — Shifat Mohiuddin

Honey and Clover 1

(প্রচুর স্পয়লারযুক্ত পোস্ট, আসলে পুরো পোস্টটাই স্পয়লার। তাই এনিমে যারা দেখেননি তাদের না পড়ার অনুরোধ রইলো)

“বাথবিহীন ছয় তাতামির একটি রুম, কলেজ থেকে দশ মিনিটের হাঁটা দূরত্ব। পঁচিশ বছরের পুরনো বাসা, ভাড়া ৩৮০০০ ইয়েন। দেয়ালগুলো যথেষ্ট পুরু নয় এবং শব্দনিরোধকও নয়। বাসিন্দারা সবাই ছাত্র। পূর্বমুখী হওয়ার কারণে সূর্যের আলোও ভাল পাওয়া যায়। আর্ট কলেজে ভর্তির সুবাদে গতবছর থেকে আমি টোকিওর বাসিন্দা। ক্যাম্পাসের চারদিকটা অনেক খোলা জায়গা দিয়ে ঘেরা থাকায় আমি যারপরনাই অবাক হয়েছি। আরও অবাক হয়েছি আমার নিজের হাতের রান্নার বাজে স্বাদ দেখে। অবাক হয়েছি পাবলিক বাথহাউসের উচ্চমূল্য দেখে এবং গাদা গাদা হোমওয়ার্কের স্তূপ দেখে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব এখন আমার নিত্য জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

*

আর্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তাকেমতো ইউতার জীবনের সারসংক্ষেপ হয়তো এটাই। জীবন নিয়ে শূন্য প্রত্যাশাধারী এই সদ্য কৈশোরত্তীর্ণ এই যুবক কিছু একটা খুঁজে পাওয়ার জন্য ভর্তি হয় স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগে। কিন্তু সেই মানে আর খুঁজে পাওয়া হয়ে উঠে না। তাকেমতো মনে করে সে প্রতিভাহীন। মধ্যবিত্ত সন্তান হওয়ার কারণে কোন ধরণের বিশাল সাহায্যও তার পেছনে নেই। গ্র‍্যাজুয়েট হয়ে বের হওয়ার পরে নিজের পায়ে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশাই তাকেমতোর মফঃস্বলবাসী বাবা-মার।

*

তাকেমতো কিন্তু আবার পিতৃহীন। শীর্ণকায় তাকেমতোর পিতা ছিলেন অনুপ্রেরণাদায়ী। তাকেমতোর শৈশব তাই পিতার স্নেহের ছায়াতলেই কেটে যায়। কিন্তু হাসপাতালে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা তাকেমতোর পিতা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাকেমতোর হাত ধরা অবস্থাতেই। চলে যাওয়ার আগে এগিয়ে যাওয়ার শেষ উপদেশ দিয়ে যান নিজ সন্তানকে। তাকেমতো তাই মাঝেমাঝেই সাইকেলে চড়া অবস্থায় চিন্তা করে সে পেছন দিকে না তাকিয়ে প্যাডাল ঘুরিয়ে কতটুকু আগাতে পারবে। তাকেমতোর মানসপটে তাই বারবার চলে আসে বিকেলের সোনালী আলোতে ঘুরতে থাকা সাইকেলের চাকা। মানসপটে এই দৃশ্য আসার সাথে সাথে তাকেমতো এগিয়ে যেতে না পারার আফসোসে নিমজ্জিত হয়।

*

মেসে থাকা আপারক্লাসম্যান মোরিতা শিনোবু এক রহস্যময় মানুষ। সেই সাথে সে প্রতিভাধরও বটে। ভাষ্কর্য বিভাগের ছাত্র মোরিতা পড়াশুনায় চরম অমনোযোগী। ঠিকঠাকমত প্রথম ক্লাসে উপস্থিত না থাকা এবং গ্র‍্যাজুয়েট থিসিস জমা দেওয়াতে গাফিলতি করায় চার বছরের কোর্স করতে তার আজ সাত বছর লাগছে। এ বছরও তার পাস করা নিয়ে শিক্ষক-সহপাঠী সবাই সন্দিহান। হুটহাট করে উধাও হয়ে যাওয়া এই মানুষটিকে ঘুম থেকে জাগানোর সাধ্য কারোর নেই। প্রতিবার নিরুদ্দেশ অবস্থা থেকে ফিরে আসার পর আশ্চর্যজনকভাবে তার পকেটে মোটা অংকের টাকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। নিজের চারপাশের মানুষদের নিয়ে আবার ভালই সচেতন এই খেয়ালী মানুষটি। কিন্তু এই সচেতনতার বিন্দুমাত্রও খাবার শেয়ার করার সময় বরাদ্দ থাকে না!

*

তাকেমতোর পাশের রুমে থাকা আরেক আপারক্লাসম্যান তাকুমি মায়ামা। চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মায়ামা ঠান্ডা মাথার অধিকারী। তাদের আরেক শুভাকাঙ্ক্ষী হল মৃৎশিল্পের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী আয়ুমি ইয়ামাদা। মেস থেকে অনতিদূরে বসবাস করেন চিত্রকলার অধ্যাপক হানামতো শুজি। ঘনিষ্ঠতার কারণে তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত তাকেমতো-মায়ামা-আয়ুমিদের। মোরিতাও খুব প্রিয়পাত্র হানামতো-সানের। একদিন হানামতো-সান তার কাজিনের মেয়ে হাগুমি হানামতোর সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দেন। আসল বয়সের চেয়ে দেখতে কয়েক বছর কম মনে হওয়া হাগু-চানের সাথে সবার ঘনিষ্ঠতা হতে সময় লাগে না। ঘটনাস্থলেই তাকেমতোর চেহারায় সদ্য প্রেমে পড়ার চিহ্ন দেখতে পায় মায়ামা। তৈলচিত্রের প্রথম বর্ষের এই ছাত্রীর চেহারা যেন তার মানসপটে তৈলচিত্রের মতই স্থায়ী হয়ে যায়।

তাকেমতো যেন তার অন্যান্য অপ্রস্তুত গুণাবলীর মতে প্রেম প্রকাশেও সদ্য অপ্রস্তুত। তবে আমতা আমতা করে সবার আগে হাগু-চানের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে সেই সবার আগে। ঘটনাস্থলে তখনই আগমন মোরিতা-সানের। মোরিতার জোরালো আবেদনের কাছে তাকেমতো যেন খড়কুটো মাত্র। আর এখানেই যেন তাকেমতোর থেকে মোরিতার স্বতন্ত্রতা। তাকেমতো যেখানে নিজের পছন্দের কথা বলতে অপারগ মোরিতা সেখানে প্রথম থেকেই স্বতঃস্ফূর্ত। প্রথম থেকেই সে হাগু-চানের সাথে আচরণ করতে থাকে নিজের ইচ্ছেমত। হাগু-চানকে বহুদিনের পরিচিত মানুষের মত সাজাতে থাকে ইচ্ছেমত। ফলে তাকেমতো বিরতিহীনভাবে নিজের ক্ষমতাহীনতা উপলদ্ধি করতে থাকে। সে না পারে মোরিতা সানের মত ৩২০০০ ইয়েনের একজোড়া জুতো উপহার দিতে, না পেরে উঠে এক টুকরো কাঠ থেকে মনে রাখার মত একটা শিল্পকর্ম বানিয়ে হাগু-চানকে দিতে। তাকেমতো বুঝতে পারে তার না আছে অগাধ প্রতিভা, না আছে অর্থনৈতিক প্রাচুর্য। অথচ এই দুটো জিনিসই থাকা মোরিতা-সানের প্রবল উপস্থিতি তাকেমতোর মনে সেই পুরনো প্রশ্নের অবতারণা ঘটায়, “ব্যর্থ প্রেমের কি কোন অর্থ আছে বাস্তবে”।

Honey and Clover 2
*

তাকেমতোর মানসপটে ফিরে আসে আবার সেই সাইকেলের চাকার ছবি। অস্বস্তি কাটানোর জন্য তাকেমতো মফঃস্বলে তার বাড়িতে ফিরে আসে। তাকেমতো তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে থাকে। এর মধ্যে হুট করে তাকেমতোর সৎ পিতা এই মৌনাবস্থা ভেঙ্গে দেয়। তাকেমতো তার এই পিতাটির মধ্যে মৃত পিতার উপস্থিতি বিন্দুমাত্র অনুভব করে না। শীর্ণকায় দেহের বদলে এই লোকটি যথেষ্ট শক্তসামর্থ্য, তার পিতার স্বল্পভাষীতার তুলনায় এই লোক যথেষ্ট বাচাল। আড্ডা-গল্পের মাধ্যমে তাকেমতোকে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেন ভদ্রলোক। এত কিছুর পরও বিচলিত তাকেমতোর মনে একটি ঋণাত্মক মনোভাব এসেই যায়, “হাহ, এবার আমার মা একজন শক্তিশালী জীবনসঙ্গীকেই বেছে নিয়েছেন। আগের মত ভুল তিনি আর করেন নি।”

*

এদিকে কেটে যায় দু-দুটো বছর। হানামতো সানের তত্ত্বাবধানে হাগু-চানের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। তাকেমতো শেষ বর্ষে পদার্পণ করে। নিজের সামর্থ্য নিয়ে এখনো সন্দীহান সে। মোরিতা-সান এক জরুরী কাজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়। কিছুটা হলেও স্বস্তি আসে তাকেমতোর মনে। হাগু-চানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ বাড়ে তাতে। হাগু-চানের প্রতিভা আর শিল্পের প্রতি একনিষ্ঠতা দেখে চমকিত হয় তাকেমতো। নিজের গ্র‍্যাজুয়েট থিসিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাকেমতো। কিন্তু লক্ষ্যহীন সে ঘোড়াকে ছোটাতে গিয়ে ব্যর্থ হয় তাকেমতো। শিক্ষকদের আন্তরিকতার পরও নিজের তৈরি ‘কৈশোরের মিনার’ নামক স্থাপনাকে তাকেমতো নিজের হাতেই গুড়িয়ে দেয়! অস্তিত্ব সংকটে ভোগা তাকেমতো পুনরায় থিসিস জমার ডেডলাইন পূরণ করতে চাইলে শরীর তাতে আর সায় দেয় না। তাকেমতোকে ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে আর অন্যদিকে মোরিতা আমেরিকা থেকে অস্কার নিয়ে চলে আসে! আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য তাকেমতো তাই কাউকে কিছু না জানিয়েই ঘর ছাড়ে। সাইকেলে প্যাডেল মারতে মারতে তাকেমতো জাপানের একের পর এক এলাকা প্রদক্ষিণ করতে থাকে। অনেক সময়ই বিশুদ্ধ পানির মত প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করার জন্য তাকেমতোকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ করতে হয়। অনেকে অবশ্য সন্দেহের চাওনি দেয়, তবে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই তাকেমতো পায় আন্তরিক ভালবাসা। এক দোকানি মহিলা তো তাকেমতোকে দুপুরের খাবার খাইয়েই তবে ছাড়ে। ব্রিজের গোড়া, পার্কের বেঞ্চ ইত্যাদি হয়ে উঠে তাকেমতোর রাত কাটাবার জায়গা। নদীর তীরে কাপড় শুকাতে দেওয়া ভবঘুরে তাকেমতোর মনে সরল উপলদ্ধি জাগে “হয়তো জাপানে জায়গার অভাব নেই তবে বসবাসের মত ভাল জায়গা কমই আছে।”

*

ক্লান্ত-শ্রান্ত তাকেমতোর সাইকেল একপর্যায়ে মহাসড়কের মাঝপথেই ভেঙ্গে পড়ে। সাইকেল ঠেলে ক্লান্ত তাকেমতো একপর্যায়ে এক শিন্তো মন্দিরের সামনেই ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরে শ্রমিক শ্রেণির মানুষের কোলাহলে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তাকেমতো পরিচিত হয়ে একদল চিরন্তন ভবঘুরে মানুষের সাথে যারা ঘুরে ঘুরে জাপানের বিভিন্ন বৌদ্ধ আর শিন্তো মন্দিরগুলোর সংষ্কারের কাজ করে। দিনে ৪২০০ ইয়েনের বদলে তাকেমতো কাজ জুটিয়ে নেয় এই দলের সাথে। আর্কিটেকচারের ছাত্র হওয়ায় তাকেমতোর মনে কিছুটা হলেও আকাঙ্ক্ষা ছিল নির্মাণকাজে দক্ষতা দেখানোর ব্যাপারে। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি, তাকেমতোর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা তেমন কোন কাজে আসে না তাদের। তাই তাকেমতো দায়িত্ব নেয় রান্নাঘরের। তাকেমতোর হাতের রান্নায় যেন অমৃত খুঁজে পায় নির্মাণশ্রমিকরা। বিশেষ করে বৃদ্ধ লোকগুলার আবেগ তো অতিরিক্ত বেশি ছিল! ফলে কিছুদিনের মধ্যেই তাকেমতো সবার আপন হয়ে যায়। দশদিনের চুক্তিতে কাজ নেওয়া তাকেমতো তাই কোন ফাঁকে চৌদ্দদিন কাটিয়ে ফেলেছে তা উপলদ্ধিই করতে পারে না। পাওনা পঞ্চাশ হাজার ইয়েন নিয়ে সাইকেল মেরামত করতে চাইলে সহৃদয় ম্যানেজার তাকেমতোকে সেই টাকাসহ একটা নতুন সাইকেলই দিয়ে দেন। তিনি টাকা ফেরত নিতে চান না বরং তাকেমতোকে অনুরোধ করেন ভ্রমণ শেষে যেন তাকেমতো যেন তাদের দলের সাথে দেখা করে যায়। একগুচ্ছ ভাল লাগা অনুভূতিকে সম্বল করে তাকেমতো তার উত্তরমুখী যাত্রা আবার শুরু করে। প্যাডাল মারতে মারতে তাকেমতো উপলদ্ধি করে যে, তার মানসপটে থাকা চলতে থাকা সাইকেলের চাকার চিত্র যেন এই চিরভবঘুরে দলেরই প্রতিচ্ছবি। সেখানেই তাকেমতো তার আজীবনের গন্তব্য খুঁজে পায়।
প্যাডাল মারতে মারতে তাকেমতো এক পর্যায়ে জাপানের উত্তর দিকের একেবারে শেষ পয়েন্টে এসে হাজির হয়। সামনে এগুনোর আর জায়গা তাই আর রইলো না, প্যাডেল মেরে কতটুকু যাওয়া সম্ভব তারও যাচাই হয়ে গেল। সুদূর টোকিও থেকে হোক্কাইডো প্রদেশ পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে আসা তাকেমতো এক অদ্ভুত প্রশান্তি নিয়ে বাড়ির পথে প্যাডাল মারতে থাকে। সঙ্গী হল একরাশ বর্ণীল অভিজ্ঞতা এবং কষ্টার্জিত পরিণতবোধ। তাকেমতো তাই আর সেই আগের অগোছানো তরুণ রইলো না।

*

বাড়ি ফেরত তাকেমতোকে পেয়ে সবাই উল্লাসে মাতোয়ারা। মোরিতা সানের অত্যাচারের দিন শেষ, তাকেমতো এখন তার সাথে সমানে পাল্লা দেয়। হাগু-চান মুগ্ধ নতুন এই তাকেমতোকে দেখে। তাকেমতো ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার গ্র‍্যাডুয়েট থিসিস নিয়ে। এক বছর পড়াশুনা পিছিয়ে যাওয়া তাকেমতো যত দ্রুত সম্ভব পড়াশুনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে চায়। অন্যদিকে মোরিতা-সান পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য ঘটিয়ে ফেলেন! দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে তিনি পাস করেই ফেলেন তাও আবার থিসিস জমার ডেডলাইন শেষ হওয়ার বিশ মিনিট আগে! ঘটনার আকস্মিকতায় মোরিতার শিক্ষক, ভাষ্কর্য বিভাগের ইমিরেটাস অধ্যাপক তাঙ্গে-সেনসেই প্রায় স্ট্রোক করে বসেন। ভূপাতিত হওয়া অধ্যাপকের সেবায় যখন সবাই নিয়োজিত মোরিতার মুখে তখন স্মিত হাসি। অধ্যাপক তখন শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দারুণ এক আবেগী উক্তি করেন, “আসলে আমরা শিক্ষকরা অনেক দুর্ভাগা। যত কিছুই করি না কেন আমরা, ছাত্ররা একদিন ঠিকই পাশ করে বেরিয়ে যায়। একবার পাশ করে গেলেই হল, কবে যে তাদের সাথে আমাদের আর দেখা হবে তার কোন ঠিকঠিকানা থাকে না।”

*

তাকেমতোর গ্র‍্যাজুয়েট থিসিস শেষের পর্যায়ে, মোরিতা-সান নিখোঁজ এইদিকে। আসে প্রত্যাশিত সামার ফেস্টিভাল আর তাকেমতো নিজের ভালোবাসার কথা সরাসরি স্বীকার করে হাগু-চানের কাছে। বলতে গেলে প্রত্যাখ্যাতই হয় তাকেমতো কিন্তু দুঃখ পায় না সে। বরং বুকের উপর থেকে একটা বিশাল ভার নেমে যায় তাকেমতোর। তাকেমতো জানতো ঘটনাটা এভাবেই ঘটবে, সে প্রত্যাখ্যাতই হবে। কিন্তু অব্যক্ত ভালোবাসার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বস্তি তাকেমতোর কাজে নতুন উদ্যম যোগায়। তাকেমতো আর কাপুরুষ রইলো না।

চারদিকে যখন সবকিছু সহজ-সরল গতিতে চলমান তখনই দুর্ঘটনার আবির্ভাব। হাগু-চানের উপর বিশাল বড় কাঁচের পাত আছড়ে পড়ে তুমুল বাতাসের কারণে। থিসিসের যত্ন-আত্তিতে ব্যস্ত তাকেমতো তাই খবর পায় কিছুটা বিলম্বে। ঘটনাস্থলে পৌছে তাই রক্তমাখা কাঁচ ছাড়া কিছুই খুঁজে পায় না তাকেমতো। আতংকের শিহরণ ছড়িয়ে পড়ে তাকেমতোর সারাদেহে। অন্যদিকে হানামতো সেন্সেই তখন হাগু-চানকে নিয়ে হাসপাতালে। হাগু-চানের ডানহাতের আঙুলগুলো সাময়িকভাবে অবশ হয়ে যায়। একজন্য শিল্পীর জন্য হাতের চেয়ে মূল্যবান কিছু হতে পারে না, তাই হাগু-চান সুস্থতার জন্য যেকোন ধরণের চিকিৎসাপদ্ধতির আশ্রয় নিতে রাজী। হানামতো সেনসেই তাই রিহ্যাবের সময় সারাদিন পাশে থাকেন হাগু-চানের। তাকেমতোর থিসিসের কথা মনে করিয়ে তাকে তিনি তাড়িয়ে দেন শিক্ষকসুলভ আচরণ দেখিয়ে। প্রিয় মানুষের আপদকালীন সময়ে পাশে থাকার তাড়না বোধ করে সদাঅপ্রস্তুত তাকেমতো। বাসায় ফেরার সময় ফুলের দোকানে চোখ পড়ে তাকেমতোর। রোগীকে ফুল উপহার দেওয়ার রীতির কথা মনে পড়ে যায় তাকেমতো। কিন্তু ফুলের দাম দেখে হতাশ হয় তাকেমতো। একেকটা ফুলের দামই ৩০০ ইয়েন, তিনটা ফুল কিনতেই ১০০০ ইয়েন চলে যায়। একতোড়া ফুল কিনতে কত লাগতে পেরে ভেবে তাকেমতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আর্থিক সমস্যা থাকায় তাকেমতো ভাবে মানসিক সাহায্য দিয়েই সেই হাগু-চানের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু এক পর্যায়ে এই ক্ষেত্রেও বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় তাকেমতোকে। কমপক্ষে দুই মাস রিহ্যাবে থাকতে হবে হাগু-চানকে আর তাকেমতোরও গ্র‍্যাজুয়েশনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। পড়াশুনায় অতিরিক্ত মনযোগ দেয়ার সাথে সাথে এপ্রিল মাসে তাকে নতুন কর্মক্ষেত্রেও যোগদান করতে হবে। তাকেমতোর মস্তিষ্কে ভেসে উঠে তার বাবা-মার ছবি যারা কিনা স্বভাবতই তাকেমতোর গ্র‍্যাজুয়েশনের পর স্বাবলম্বী তাকেমতোকে প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে ভেসে উঠে শয্যাশায়ী হাগু-চানের ভয়ার্ত চেহারার ছবি। কাজে যোগদান করা মানেই হাগু-চানের কাছ থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া। এইরকম বহুমাত্রিক সমস্যায় ভোগা তাকেমতো এক সময় হাগু-চানের পাশে থাকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।

*

তখনই দৃশ্যপটে মোরিতা-সানের আগমন। এক বিকেলে হুট করে হাগু-চানকে নিয়ে মোরিতার অন্তর্ধান। চিন্তিত হানামতো সেন্সেইকে আশ্বস্ত করে তাকেমতো। আবেগঘন এক রাত্রি যাপনের পর হাগু-চান ভালবাসার উপরে হয়তো শিল্পপ্রেমকেই বেছে নেয়। হানামতো সেন্সেই তাই আজীবন হাগু-চানের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তাকেমতোর মত তাই মোরিতাও হয় প্রত্যাখ্যাত। নদীর তীরে দুইজনের মধ্যে হয়ে যায় তাই তীব্র বাদানুবাদ। তাকেমতো যেন ব্যর্থ প্রেমের ভার চাপিয়ে দিতে চায় মোরিতার উপরেও, মোরিতা আবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে চায় না। এক পর্যায়ে দুইজনেই বুঝতে পারে যে তারা একই গোয়ালের গরু এবং হাঁপাতে হাঁপাতে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় সন্ধি করে নেয়।

*

সময় গড়িয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তাকেমতোর কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। এক আবেগঘন পার্টির মাধ্যমে যাত্রার আগের রাতে তাকেমতো সকলের কাছ থেকে বিদায় নেয়। সকালে ট্রেনে চেপে বসে তাকেমতো। বগিতে অন্য কোন যাত্রীর অস্তিত্ব না দেখে তাকেমতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তখনই স্টেশনে হাগু-চানের ছোট্ট দেহের অবয়ব দেখা যায়। তাকেমতো দৌড়ে ট্রেনের দরজার কাছে পৌছে। হাগু-চান একটা বেন্তো বক্স ধরিয়ে দেয় তাকেমতোর হাতে। অনেক কিছু বলতে চায় হাগু-চান কিন্তু অটোমেটেড দরজার লক হয়ে যাওয়ার শব্দে হাগু-চানের অব্যক্ত অনুভূতি ঢাকা পড়ে যায়। প্ল্যাটফর্মের গোড়া পর্যন্ত হাগু-চান দৌড়ে এসে তাকেমতোকে হাত নেড়ে বিদায় জানায়। এই পাগলামির কোন অর্থ খুঁজে না পেয়ে তাকেমতো স্মিত হাসি হেসে বেন্তো বক্সটা খুলতে থাকে। একগাদা পাউরুটি দেখে তাকেমতো অবাক হয়। উপরের পাউরুটিটা সরানোর পর তাকেমতো নিচের স্তরে মধু মাখানো দেখে আনমনে হেসে উঠে। কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করার পরে তাকেমতো পাউরুটির মধ্যে একটা ফোর-লিফড ক্লোভার দেখতে পায়। একটার পর একটা পাউরুটি উল্টানোর পর তাকেমতো একটা করে মধুমাখানো ফোর-লিফ ক্লোভারের দেখা পায়। আনমনা সেই হাসি রূপ নেয় আবেগের কান্নায়। হাগু-চানের ভালবাসার নিদর্শন সেই পাউরুটি হাতে নিয়ে কান্নাজর্জরিত তাকেমতো সেই মুহূর্তেই ব্যর্থ প্রেমের স্বার্থকতা খুঁজে পায়। জন লেননের সেই উক্তিটাই হয়তো তখন নেপথ্যে বাজতে থাকে,
“The Time you enjoyed wasting, is not wasted”.

*

আমাদের জীবনটা হয়তো এই হানি আর ক্লোভারের মতোই। মধুর প্রলেপ দেয়া সুখকর অনুভূতির সমান্তরালে আমাদের জীবনে আগাছাময় ভুলে যেতে চাওয়া মুহূর্তও আসে। মাত্র ৩৬ পর্বের এনিমেটাতে রীতিমতো কাব্যিকভাবে সাত-আটটি প্রধান চরিত্রের মধু-আগাছাময় জীবনগাথা পরিবেশন করা হয়েছে। এক তাকেমতো-হাগু-মোরিতার ত্রিভুজ সম্পর্ককে নিয়েই এত বকবক করতে হয়েছে! মায়ামা-আয়ুমি-নোমিয়া, মায়ামা-রিকা, রিকা-হানামোতো-হারাদা, মোরিতা ভাতৃদ্বয়ের ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে একেবারে থিসিস পেপার নিয়ে বসা লাগবে। মাঙ্গাকা উমিনো চিকাকে মন থেকে আন্তরিক অভিনন্দন এত নাটকীয়, ভালোবাসাপূর্ণ একটি জগতের সাথে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। এনিমেজীবনের অন্যতম সেরা একটা এনিমে দেখে শেষ করে ফেললাম।

Giovanni no Shima (Giovanni’s Island) [মুভি রিকমেন্ডেশন] — Md Anik Hossain

Giovanni's Island

১৫ আগস্ট, ১৯৪৫

দুই দুটো পারমাণবিক বোমার আঘাতে অবশেষে হার মানল যুদ্ধবাজ জাপানি সাম্রাজ্য। স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে বেতার ভাষণে সম্রাট হিরোহিতো ঘোষণা দিলেন আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত। সমগ্র সূর্যদয়ের দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম। তা থেকে বাদ যায়নি ছোট্ট দ্বীপ শিকোতান। অবশ্য যুদ্ধে সরাসরি দ্বীপটি আক্রান্ত হয়নি। বাহ্যিকভাবে অক্ষতই ছিল। সে দ্বীপের প্রধান নিরাপত্তারক্ষীর দুই সন্তান জুনপেই এবং কান্তা। মা মরা জুনপেই এবং কান্তার ডাক নাম ছাড়াও আরেকটা করে ভালো নাম আছে। Giovanni ও Campanella… ওদের মায়ের দেয়া নাম। নাম দুটো বিখ্যাত Night on the Galactic Railroad বই থেকে নেয়া। ওর মায়ের প্রচন্ড পছন্দের বই ছিল এটা। তো সদা হাস্যোজ্জ্বল জুনপেই ও কান্তাই এর দিনকাল ভালোই চলছিল…চলমান বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেও। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হতেই তাদের জীবন যায় চিরদিনের জন্য বদলে। জাপানের আত্মসমর্পণ ঘোষণার কিছুদিন পরেই হঠাত্‍ একদিন দ্বীপে একটা অপরিচিত যুদ্ধজাহাজ আসে। খেয়াল করে দেখা গেল , এটাতো প্রতিবেশী সোভিয়েত ইউনিয়নের জাহাজ। কিছু বুঝে উঠার আগেই স্রোতের মতো অসংখ্য সোভিয়েত সৈন্য ওদের দ্বীপে নেমে আসল। এবং দখল করে নিল দ্বীপটিকে বিনা বাঁধায়। অতঃপর শাখারিন প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত করে সোভিয়েত ইউনিয়নে যুক্ত করে দ্বীপটিকে। কিন্তু দ্বীপটিতে শুধু ভিনদেশী সৈন্য নয়, তাদের পরিবারেরাও আসে। তাদের মাঝে সোভিয়েত কমান্ডারের মেয়ে Tanya.
রাশিয়ান ও জাপানি। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন জীবনাচরণ। কিন্তু একই মানবিক অনুভূতি। একে অপরের শত্রু হবার পরেও ভাব হয়ে যায় জুনপেই ও তানিয়ার মাঝে। গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে তাদের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকেই ছোটো মানুষের মিষ্টি মধুর ভালোবাসা ভালো লাগায় রূপ নিতে থাকে এক পর্যায়ে। একদিকে দখলদার বহিরাগতদের রাজত্ব, অপরদিকে যুদ্ধে হারা দ্বীপবাসীদের দূঃখ দুর্দশা। আরেকদিকে আমাদের ছোট্ট জুনপেই কান্তাই ও তানিয়ার নির্ভেজাল বন্ধন। কোন দিকে যাবে তাদের জীবন? তাদের এই সম্পর্ক কতদূর গড়াবে? তাদের শেষ নিয়তি কী হবে?

উত্তর দিবে ঘটনার বহু বহু বছর পরে প্রৌঢ়ত্বে পৌছানো জুনপেই আর তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। যারা ফিরে যাবে সেই অতীতের দিনগুলোতে। সেই আলো অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতে নিয়ে যাবেন আমাদের। তাদের ভাষাতেই আমাদের কাছে তুলে ধরবেন সেই স্মৃতিগুলো।

ইতিহাস ও ফ্যান্টাসি-ফিকশন এর মিশেলে একটি চমত্‍কার, একটি অনবদ্য সৃষ্টি বলেই আমার বিশ্বাস এটি।
একটা আবেগপ্রবণ সুন্দর সময় কাটানোর জন্য অবশ্যয়ই দেখুন জাপানি এনিমে মুভি “Giovanni no Shima (Giovanni’s Island)”.

যারা Grave of the Fireflies মুভিটি দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন তাদের জন্য Highly recommended. যদিও GotF এর তুলনায় হয়ত একটু কম আবেগতাড়িত হবেন। তবে দেখে খুব ভালো লাগবে বলেই আশা করি।

BLAME! [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

BLAME 1

“May be on Earth.
May be in the future.”

পৃথিবী।

দিগন্তহীন, চির-প্রসারিত, কঙ্ক্রিটের তৈরি একটা জগত। সেখানে মেশিন, রোবট, সাইবর্গ আর অসংখ্য অমানবিক সব সত্ত্বা মিলে তৈরি করেছে এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দুঃস্বপ্ন। প্রকাণ্ড, বিস্তৃত ও বহুতল এই ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীতে কিলি হেঁটে যায় অজানা গন্তব্যে। নেট টার্মিনাল জিন খুঁজে পাবার আশায়।

তার হাতে আছে একটা বিরল শক্তিশালী গান – গ্রাভিটেশনাল বিম এমিটার।
সে হেঁটে যায়।
ভঙ্গুর মেগাস্ট্রাকচারের আনাচে কানাচে হয়তো সে খোঁজ পাবে কোনো লুকানো সভ্যতার, আর বেরিয়ে আসবে পুরনো পৃথিবীর আদিম রহস্য।

BLAME 2

মাঙ্গাঃ BLAME!
জনরাঃ Science Fiction, Action, Psychological, Seinen, Cyberpunk, Mystery, Horror
মাঙ্গাকাঃ Tsutomu Nihei
চ্যাপ্টারঃ ৬৬
স্ট্যাটাসঃ Completed.
পাবলিশডঃ Nov 25, 1996 to Jul 25, 2003

হার্ডকোর সাইফাই গল্পের ফ্যানদের জন্য মাস্ট রিড একটা মাঙ্গা। খুব কম ডায়লগ, আর প্রচুর অ্যাকশন প্যানেলের উপর নির্ভর করে আঁকা এই মাঙ্গাটা পড়ার সময় অনেকটা গোলকধাঁধায় পরে যেতে পারেন। তবে তাতে বরং পড়ার মজা বাড়বে বৈকি।

মাঙ্গাটিতে অনেক পিওর সাইবারপাঙ্ক কনসেপ্টের পরিচয় পাবেন। যেমন গল্পের একটা মূল কল্পিত বিষয় বস্তু, নেট টার্মিনাল জিন হচ্ছে একজন সম্পূর্ণ মানুষের জিনোম। কোনো সাইবর্গের জিন নয়, ইনজিনিয়ার্ড সাব-স্পিসিস মানুষদের জিন নয়। এই নেট টার্মিনাল জিন হল নেট-স্ফেয়ারের দরজা খোলার চাবি।

আরেকটা আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এই গল্পের দুনিয়ার প্রত্যেকটা স্তরের পরিবেশ খুব ডিস্টিঙ্কট। আরকিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করা সুতোমু নিহেই তাঁর মাঙ্গার প্যানেলে প্যানেলে মেগাস্ট্রাকচারের স্পেইস আর স্কেল তৈরি করতে যে তাঁর সবটুকু দিয়েছেন তা দেখলেই বোঝা যায়। আর সেই স্তর গুলোতে বাস করা মানুষ, সাইবর্গ আর রোবট গুলোর ডিজাইনগুলো নিতান্তই বিস্ময়কর।

BLAME 3

নেটফ্লিক্সের মুভি অ্যানিমেটা একটা ছোট আর্কের উপর বেইজ করে যা অ্যাডাপ্টেশন করেছে, তাতে আমি আশাহত হয়েছিলাম। কারণ মূলত সিজিআইয়ের কারণে এই জগতটার অরগানিক, গোথিক আর সাররিয়েল আবহটা একদম হারিয়ে গেছে। সাউন্ডট্র্যাক আর ক্যারেক্টার ডিজাইনেও অনেক ত্রুটি ছিল। যদি এই মাস্টারপিস এবং বেশ জটিল সায়েন্স ফিকশনটা সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে চান তাহলে মাঙ্গাটা পড়ার জন্যে সাজেস্ট করবো।

আর, আরেকটা কথা। BLAME! দিয়ে কারো উপর দোষারোপ করা বুঝায়নি। BLAME! মানে Gravitational beam emitter gun এর আওয়াজ, ব্লাম!

BLAME 5