Holyland [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Holyland 1

বক্সিং বা মার্শাল আর্ট ভিত্তিক মাঙ্গা অনেক আছে । কিন্তু পুরোপুরি স্ট্রিট ফাইট অর্থাৎ রাস্তার মাস্তান মার্কা মারামারি ভিত্তিক অস্থির মাঙ্গা ও আছে এবং তার নাম হল Holyland.
মাঙ্গার স্টার্টিং প্লট খুবই কমন । কামিশিরো ইয়ু এক হাইস্কুল বালক যে মধ্যস্কুলে থাকতে প্রচুর বুলিইং এর শিকার হতো । এই অত্যাচারের জ্বালায় সে স্কুলে যাওয়াও বন্দ্ধ করে দেয় ।এবং আত্নহত্যার কথাও ভাবে , কিন্তু পারে না । পরে একটি মিক্স মার্শাল আর্টের বই দেখে ঘরে বসে সে স্ট্রেইট জ্যাব কম্বো প্র্যাকটিস করা শুরু করে এবং এই অল্পবিদ্যা নিয়ে রাতের রাস্তায় চলে কিছু মাস্তান পিটিয়ে থাগ হান্টার তকমা পায় । পরে সে ধীরে ধীরে আরো শক্তশালী প্রতিপক্ষ পায় এবং তাদের বিরুদ্ধে মারামারি করতে করতে সে নিজেও শক্তশালী হয়ে ওঠে এবং একসময়কার প্রতিপক্ষদের বন্ধু বানিয়ে ফেলে ।

Holyland 2
তো এই কমন প্লট দেখে কেউ এড়িয়ে যাবেন না । হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটের ক্ষেত্রে ইপ্পোর পরে দেখা বেস্ট রিয়েলিস্টিক আর্ট আমার কাছে এই মাঙ্গায় । এবং মারামারি শিখার জন্য এই মাঙ্গাটাকে টেক্সটবুকের মতও ব্যাবহার করা যাবে , কেননা প্রত্যেকটি ফাইটের মুভমেন্ট বিস্তৃত ভাবে সচিত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে ।আর এই মাঙ্গায় পাড়ার মাস্তানদের ভিতরকার জীবনচিত্রও ভালোভাবে দেখিয়েছে । কাহিনী ,আর্ট সবমিলিয়ে বেশ ভালো একখানা মাঙ্গা ।আর এর ভেতরকার কিছু ক্যারেকটারও আছে অস্থির । আপনি যদি রিয়েলিস্টিক একশানের ভক্ত হন তাহলে পড়া শুরু করে দিন হলি ল্যান্ড ।
চ্যাপ্টার : ১৮৮
এখানে পড়তে পারেন : http://kissmanga.com/Manga/Holyland

Holyland 3

কিও নো কিরা কুন(Kyou no Kira-kun) [মাঙ্গা রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

কিও নো কিরা কুন (Kyou no Kira-kun)
জন্রা:শৌজো,রোমান্স,হাইস্কুল,স্লাইস অফ লাইফ,কমেডি,ট্রাজেডি

প্রত্যেকটা শৌজো বেসিকালি হালকা একটু ঊনিশ বিশ করলেও প্রায় সেইম প্লট ফলো করে। পপুলার/আনপপুলার ছেলে/মেয়ের সাথে পরিচয় হয় পপুলার/আনপপুলার আরেক ছেলে/মেয়ের সাথে। প্রথম প্রথম একজনের সাথে আরেকজনের দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকলেও কাহিনির মাঝপথে যেয়ে একজন আরেকজনের প্রতি নিজের আকর্ষণের কথা টের পেলেও তা আর বলতে পারেনা।বাংলা সিনেমার ভাষায় “বুক ফাটে তো মুখ ফাটেনা” টাইপ অবস্থা। এরকম করে প্রায় কয়েক শতাব্দী কেটে যায় নিজের ফিলিংস এক্সপ্রেস করতে করতে,অবশেষে কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে বহু প্রতিক্ষিত চুম্বনের মাধ্যমে।

KnKK 1
যে মাঙা নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি সেটা টিপিকাল স্টোরিলাইন ফলো করলেও নট সো টিপিকাল।
নায়িকা নিনো ওকামুরার ছোটকালে বুলিইং এর শিকারের ফলে কপালে মস্ত একটা কাটা দাগ থেকে যায়। তারপর থেকে সে হয়ে যায় বিশিষ্ট ইন্ট্রোভার্ট,অগোছালো, অপ্রস্তুত এক মেয়ে যার কপালের উপরের বিশাল ব্যাংস তার কাটা দাগ সহ মুখের অর্ধেকখানি ঢেকে রাখে। ষোলকলা পূর্ণ করতে তার সাথে সবসময় একটা পাখি থাকে,যে আসলে কিনা সুপার জিনিয়াস এবং কথা বলতে ও বুঝতে সক্ষম। যার কারণে স্কুলে নিনোর নাম হয়ে যায় “ক্ষ্যাত bird woman”।
নায়ক কিরা ইয়ুজি স্কুলের পপুলার+ইতর প্রজাতির এক ছেলে যে কিনা আবার নিনোর সামনের বাসায়ই থাকে। নিনো এবং ইয়ুজির ব্যালকনি এত কাছাকাছি যে ছোটখাটো একটা লাফ দিলে অনায়াসেই একজন আরেকজনের রুম ভিজিট করতে পারবে। দুজনের কেউই কোনোদিন কারো সাথে ইহকালে একটা বাক্যবিনিময় করেনি প্লাস নিনোর রুমের এপাশ থেকে ওপারে কিরার রুমে বিভিন্ন মেয়ের সাথে ইতরামির সমস্ত সাক্ষী হওয়াতে নিনো কখনো তার প্রতিবেশীর সাথে আলাপ করতে আগ্রহী হয়না।

KnKK 2
হঠাতই একদিন নিনোকে তার মা জানালো যে পাশের বাড়ির ছেলের হয়েছে এক মরণব্যাধি,যার কারনে কিরার হাতে আছে কেবল এক বছর্। কিরাকে স্কুলে দেখাশোনা করার সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া হলো নিনোকে। একটু একটু কৌতূহলী নিনো যখন সত্যতা যাচাই করতে যায়,তখন ব্যাড বয় কিরার অন্য রূপ আবিষ্কার করে সে। বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে একজন আরেকজনের কাছাকাছি আসে,ভাল বন্ধু হয়,এবং বন্ধুত্ব একসময়ে প্রেমে পরিণত হয়। কিন্তু কিরার টাইম লিমিট ছাড়াও তাদের দুজনের মাঝে আসে অনেক প্রতিবন্ধকতা। নিনো আর কিরা কি শেষ পর্যন্ত পারবে দুজন দুজনের হতে?যদি আগ্রহ জাগাতে পারি,তাহলে অবশ্যই মাঙ্গাটা আপনি পড়বেন।
কেন পড়বেন?

KnKK 3
টিপিকাল শৌজো হলেও কাহিনী খুব একটা টিপিকাল না।
মেইন নায়িকা অনেক কিউট,মোয়ে টাইপ,কিন্তু ক্রাইবেবি না বা এনয়িং না। হ্যাঁ,সে কাঁদে। যেসব জায়গায় কাঁদতে হবে সেসব জায়গায় কাঁদে। কিন্তু তাছাড়া সে যেভাবে লজ্জা-জড়তা কাটিয়ে কিরাকে সাহায্য করার জন্য নিজেকে চেঞ্জ করে,সেটা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। আর নায়ক পুরাই ক্রাইবেবি। এরকম ক্যারেক্টার দেখে খুবই মজা পেয়েছি। নায়ক উপরি উপরি শক্ত ভাব দেখালেও একটুখানি ভাল ব্যবহার কিংবা নিনোর দয়ালু কাজকর্মে পুরোই গলে যায় এবং লিটারেলি আবেগে কেঁদে দেয়। আর তাছাড়া কিরার ফ্রেন্ড,ইয়াবে,সাইড ক্যারেক্টার নাম্বার ওয়ান,কাহিনীর পেস চেঞ্জ করার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মাঝে মাঝে সাইড ক্যরেক্টারদের স্ট্রাগলদের কাহিনি,হতে হতেও হয়নি একটা লাভ ট্রায়াঙ্গল,ক্লিশে শৌজো ভুল বুঝাবুঝি-এসবের জন্যই এই মাঙ্গাটি এঞ্জয়েবল হয়েছে। মাঙ্গার আর্ট অনেক সুন্দর। আহামরি ডিটেইল্ড না,কিন্তু ভাললাগার মত ভাল।
আর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো -জায়গামত দোকি দোকি মোমেন্টস,যা সত্যিই মন ছুঁয়ে যাবার মত।

KnKK 4
না পড়ার কারন-
আপনি যদি এক্সট্রিম খুঁতখুঁতে হয়ে থাকেন জন্রা কিংবা শৌজোর ব্যাপারে,তাহলে এটা না পড়াই ভাল। “unpopular girl meets bad popular boy and they change each other life” টাইপ কাহিনি অনেক কমন।এটাও ব্যতিক্রম না।
চ্যাপ্টার ৩৬ কিন্তু সবকয়টা এখনো স্ক্যানটেলেড হয়নি। সবখানে ২২ পর্যন্তই আছে। সে হিসেবে এখনো অনগোয়িং।
আর মাঙ্গাকার নাম মিকিমোতো রিন। ইনার আর কোনো কাজ কখনো পড়া হয়নি কিন্তু এই মাঙ্গা পড়ার পরে ইনার অন্য মাঙ্গা পড়ার আগ্রহ হয়েছে।
আপনি যদি লাইট হার্টেড কিছু পড়তে চান,কিংবা শৌজো পছন্দ করে থাকেন,তাহলে পড়ে দেখতে পারেন । আপনার সময় বৃথা যাবেনা।
পার্সোনাল রেটিং: ৯/১০
ম্যাল রেটিং: ৮.১৬/১০

KnKK 5

xxxHOLiC, একটি অলীক দিবাস্বপ্নের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

কখনো চিন্তা করেছেন, আমাদের সাথে প্রতিদিন যে বিভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটে, সেগুলোর পেছনে ভাগ্যের হাত না থেকে অন্যকিছুর হাত থাকতে পারে? হয়ত আমাদেরই অসতর্কতাবশত করা কোন ভুলের মাশুল এই ঘটনাগুলো! কর্মফলের কথা না ভেবে আপনি যে পিঙ্কি প্রমিসটা অতি সহজে ভেঙে ফেললেন, তা কিন্তু ডেকে নিয়ে আসতে পারে জীবন সংশয়ে ফেলার মত বিপদ! কিংবা খুব চেনা একটা প্রবচন – “রাতে নখ কাটলে আপনি আপনার বাবা মায়ের ফিউনারেলে উপস্থিত থাকতে পারবেন না”; কখনো কল্পনা করেছেন যে এই বাক্যটার পেছনে কোন গূঢ় অর্থ থাকতে পারে? ইচিহারা ইউকো সান কিন্তু তাই বলেন- “There is no such thing as coincidences in this world. There is only the inevitable.”

হলিকের পৃথিবীটা খুবই আজব। এখানে রয়েছেন ইচিহারা ইউকো সান, সৌন্দর্য ও জ্ঞানের সংমিশ্রণ একইসাথে যার মাঝে বিদ্যমান। পৃথিবীর সব ধরণের সুপারন্যাচারাল ঘটনার ব্যাখ্যা মিলবে ইউকো সানের ইচ্ছাপূরণ দোকানে; যে দোকানের দেখা শুধু তারাই পায়, যাদের কোন অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যে কোন আশা পূর্ণ করতে পারবেন ডিমেনশনাল উইচ ইউকো সান, যদি আশার সমপরিমাণ মূল্য তাকে দেয়া হয়। এবং সেই মূল্য কখনোই অর্থ দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। এমনও হতে পারে, আপনার মৃত দাদার রেখে যাওয়া একমাত্র স্মৃতিটা, কিংবা আপনার মাথার প্রিয় চুলগুলোই হল আপনার আকাঙ্ক্ষার মূল্য!

635814093931043176

এই আজব পৃথিবীর এক আজব বাসিন্দা ওয়াতানুকি কিমিহিরো। ছোটবেলায় বাবা মা হারানো হাইস্কুল পড়ুয়া এই ছেলেটির দুর্ভাগ্য, সে ইয়োকাই দেখতে পায়। ইয়োকাইরা তাকে তাড়া করে প্রায়ই, আর তাই প্রাণের ভয়ে দৌড়াতে থাকা ওয়াতানুকিকে দেখে সাধারণ মানুষের তাকে পাগল বলে মনে হয়।

এভাবে এক সকালে দৌড়াতে দৌড়াতে ওয়াতানুকি পৌছে যায় ইউকো সানের দোকানে; কে জানে, হয়ত ইয়োকাইয়ের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাই তাকে টেনে নিয়ে যায় ওখানে!

অ্যানিমেটির কাহিনী আবর্তিত হতে থাকে ওয়াতানুকিকে ঘিরে। শান্তশিষ্ট, সোজা সরল, কর্মঠ এবং কিছুটা শর্ট টেম্পার্ড এই ছেলেটিকে বড় বোনের মত আগলে রাখেন ইউকো সান, অ্যানিমে যত সামনে আগায়, তত তা স্পষ্ট হয়। সবসময় বিভিন্নভাবে ওয়াতানুকির সাথে খুনসুটি করতে থাকা ইউকো সানের ব্যক্তিত্ব পুরোপুরি পালটে যায়, যখন তিনি আশা নিয়ে দোকানে পা রাখা কাষ্টোমারদের ইচ্ছা পূরণ করেন। তার সাথে আরও রয়েছে মারু-মোরো এবং মোকোনা, যাদের ছাড়া হলিক অ্যানিমেটি অপূর্ণ রয়ে যেত।

এছাড়া হলিকে আরও দুজন ইমপর্ট্যান্ট ক্যারেক্টার রয়েছে, দৌমেকি শিজুকা এবং ওয়াতানুকির ক্রাশ হাসিখুশি এবং মিশুক হিমাওয়ারি কুনোগী। দৌমেকিকে বলা যায় ওয়াতানুকির বিপরীত; অ্যাভারেজ মানুষের আইডিয়াল অ্যানিমে ক্যারেক্টার। ওয়াতানুকিকে জ্বালানো তার অন্যতম প্রধান কাজ, কিন্তু তা তো ভাল বন্ধুত্বেরই একটা সাইন! তিনজনেই একে অন্যের বিপদে নিজের জীবন বিপন্ন করতে কখনো পিছপা হয়না।

হলিক অ্যানিমেটির সিজন ১ এর কাহিনী এপিসোডিক, দেখে মনে হতে পারে যে এই অ্যানিমেটার মূল থিম হল “ডেইলি লাইফ অফ ওয়াতানুকি অ্যান্ড ইউকো”। কোন একজন মানুষের উইশ এবং সেটার সাথে জড়িত ঘটনা বা দুর্ঘটনা একটা এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়। এতে ঘটনাগুলো অনেক ইন্টারেস্টিং, কিন্তু অনেকের মনে হতে পারে, “when does the story actually kick off?” তাদের জন্য বলছি, এপিসোডিক ব্যাপারটা সিজন ১ এই শেষ। হলিকের দুনিয়ার সাথে সিজন ১ এ পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর সিজন ২ তে শুরু হয় ওয়াতানুকিকে ঘিরে সব টুইস্ট। এই সিজনে কাহিনীটা বেশ ডার্ক একটা মোড় নেয়, বেশ বড় একটা ধাক্কা ছিল সেটা আমার জন্য। সব ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়, আর সেটার পরিণতি দেখা যায় এর ওভিএ, রৌ তে। ওয়াতানুকির ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা অন্যতম সেরা। দুই পর্বের ওভিএটি শুরু হয় একটি দুঃখের সংবাদ দিয়ে, আর শেষ হয় একটি আশার আলো দেখিয়ে।

হলিক অ্যানিমের দূটি স্ট্রং পয়েন্ট হল এর আর্ট এবং ওএসটি। ক্ল্যাম্পের ডিজাইন করা চিকন চিকন হাত পা দেখে অনেকেরই হয়ত অদ্ভুত লাগে, কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যটির জন্যেই ক্ল্যাম্পের আর্ট আমার পছন্দ। সিজন ১ এর শুরুর দিকে আর্টে কিছুটা ঘাটতি ছিল, এটা অস্বীকার করব না, তবে প্রোডাকশন আইজি সেটাও পরে ঠিক করে নিয়েছে, সিজন ২ এবং ওভিএগুলোর আর্ট নিখুঁত; মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকার মত। আর ওএসটির যত প্রশংসা করা যায় কম হয়ে যায়, সুগা শিকাও এর পার্ফরম্যান্সে প্রতিটা ওপেনিং সুন্দর এবং সেইসাথে এন্ডিং গুলোও পাল্লা দিয়ে সুন্দর, এমনকি ওভিএগুলোর ওএসটিও একটাও স্কিপ করার মত না। প্রতিটা দৃশ্যের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পারফেক্টভাবে মানিয়ে গিয়েছে, আর ওপেনিং এন্ডিং গুলোর সুর আর ভিজ্যুয়াল যে রহস্যময় ভাইবটা দেয়, এককথায় অসাধারণ!

আরেকটা কথা উল্লেখ করাটা এখানে আবশ্যক, তা হল সেইয়্যু কাস্ট, অর্থাৎ কণ্ঠশিল্পীদের অবদান। ওয়াতানুকি চরিত্রটিকে প্রাণ দিয়েছেন জুন ফুকুয়ামা; আমার দেখা তার সেরা চরিত্র এটি। প্রথম এপিসোডের শুরুতেই ওয়াতানুকি যখন আয়াকাশিদের হাত থেকে পালাতে থাকে, এই একটা সিনই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ফুকুয়ামা সানের দক্ষতা প্রমাণ করে দেয়। চঞ্চল হাইস্কুল পড়ুয়া কিশোর এবং পরিণত যুবক; দুটি রূপকেই তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া ইউকো সান চরিত্রে ওহারা সায়াকা, দৌমেকি শিজুকা চরিত্রে নাকাই কাজুয়া, হিমাওয়ারি কুনোগী চরিত্রে ইতোও শিজুকা, মোকোনা চরিত্রে কিকুচি মিকা; সবাই চমৎকার কাজ করেছেন।

xxxHOLIC 3

হলিকের মাঙ্গাটি পুরোটা পড়া হয়নি, তবে যেটুকু পড়েছি, তাতে বলতে পারি, মাঙ্গাটি আর্ট ও স্টোরির দিক থেকে অনন্য। তবে একে প্রাণ দিয়েছে অ্যানিমেটি।

সবমিলিয়ে সাইকোলজিক্যাল, মিস্ট্রি এবং সুপারন্যাচারাল জনরার এই অ্যানিমেটি আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি; হিওকার সাথে যদি কোন অ্যানিমেকে স্থান দেই, তবে সেটা হলিক। আপনারা যারা দেখবেন, তাদের জন্য একটি সাজেশন, সিজন ১ এ থেমে যাবেন না, কারণ সিজন ২ থেকে কাহিনী জমে উঠতে শুরু করে। এই সিরিয়ালে দেখবেন –
xxxHOLiC – ২৪ এপিসোড
xxxHOLiC Kei – ১৩ এপিসোড
xxxHOLiC Shunmuki – ২ এপিসোড
xxxHOLiC Rou – ২ এপিসোড

এছাড়া এটির একটি মুভি আছে, xxxHOLiC Movie: Manatsu no Yoru no Yume; এটি সিজন ১ দেখার পরই চাইলে দেখতে পারবেন। এখানেও কিছু টুইস্ট আছে, যার রিভিউ আমি “মুভি টাইম উইথ ইয়ামি” তে দিয়েছিলাম।

xxxHOLIC [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

এক্স এক্স এক্স হোলিক-জাপানের অতিপ্রাকৃতিক জগতের অন্দরমহলে
আনিমে সিরিজের পরিচালক:- ত্সুতমু মিজুশিমা ।
সিরিজের গল্প লিখেছেন:- নানাসে ওকাওয়া এবংমিচিকো ইয়োকোতে(টিম ক্লাম্পের সদস্য)।
এপিসোড সংখ্যা:- 24 টি।

xxxHOLIC 1

জাপানে “ইয়োকাই” শব্দটির অর্থ বাংলায় আত্মা এবং বা ইংরেজিতে স্পিরিট খুব কাছাকাছি। “আয়াকাশি” হলো এমন এক ধরনের “ইয়োকাই” যারা জলে বা জলের উপরে অবস্থান করে।
হয়ত কোন সকালে পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখছেন ,কেউ আপনার সামনে দিয়ে কোনো কারন ছাড়াই চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালাচ্ছে, যেন কেউ বা কারা তাকে তাড়া করেছে–( “ছেড়ে দে -আমি বলছি, ছেড়ে দে,আমি কী কোন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা ?” ইত্যাদি ইত্যাদি) এবং কোন কারন ছাড়াই ছুটতে ছুটতে রাস্তাতে পড়ে কাতরাতে লাগল,গড়াগড়ি খেতে লাগল ,যেন তার উপরে কোন জগদ্দল বোঝা চেপে আছে এবং সে বোঝা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছে।স্বাভাবিক ভাবেই আপনি তাকে কোন পাগল -ছাগল- স্কিজোফ্রেনিক বলে পাশ কাটাবেন ।সত্যিই তো ,এমন কত পাগল আমাদের চারপাশে,হাওয়ার সঙ্গে কথা বলে ,হাওয়ায় বিনুনি কাটে আঙুল দিয়ে ।কিন্তু এই কেসটা সেরকম নয়,ইনি হচ্ছেন আমাদের কাহিনীর “বেচারা” নায়ক কিমিহিরো ওয়াতানুকি, সেইরকম বিরল মানুষের একজন যে শুধু নিয়মিত ইয়োকাই বা আয়াকাশি দেখতে পায় না ,বরং সেগুলো তার জীবনকে জ্বালিয়ে ছাড়ছে ।যেখানে যাচ্ছে ,জেলির মতো বিশাল বড় উদ্ভট আকৃতির ইয়োকাইগুলো তার পিছু ছাড়ে না ।তো সেদিনও সেই কাহিনীর রিপিট হচ্ছে, বেচারা ওয়াতানুকি দৌড়াচ্ছে, পেছনে সেই ইয়োকাইগুলো দৌড়াচ্ছে ,একসময় তার উপর চেপে বসল ইয়োকাইগুলো,বেচারা ওয়াতানুকি মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে ,মাটিতে হাত ঠুকছে ।মাটিতে হাত ঠুকতে ঠুকতে তার হাতটা গেয়ে পড়ল একটা বড় কাঠের প্রাচীরের গায়ে ।ব্যাস,সঙ্গে সঙ্গে জেলির মত আকৃতিহীন ইয়োকাইগুলও ভ্যানিশ !!মাঝ রাস্তা থেকে সে কীভাবে এখানে টপকে পড়ল ?
ওয়াতানুকি তো অবাক ।

xxxHOLIC 2
হাত ঝেড়ে ওঠে সে দেখল ,একটা বড় উদ্ভট ডিজাইনের বাড়ির সামনে সে দাঁড়িয়ে ।বাড়িটার ডিজাইন না ইউরোপীয়ান ,না জাপানি কায়দায় ,আবার বাড়ির দুটো ছাদে অর্ধগোলাকৃতি
চাঁদের প্রতীক ।ওয়াতানুকি সদর্পনে একটু উঁকি দিতেই দেখল বাড়িটা তাকে চুম্বকের মত টানছে ,প্রচণ্ড টান ,সত্যিই টান।এমন সময় বাড়ির সদর দরজা খুললো এবং দুজন অদ্ভুত হেয়ারস্টাইলের ছোট মেয়ে বেড়িয়ে এল,বয়স হবে হয়ত বারোর কাছাকাছি ,একজনার বিশাল গোটানো চুল মাটি ছুঁয়েছে , আর একজনের ছোট গোলাপি কালারের চুল কাঁধ ছাড়ায়নি ।তারা ওয়াতানুকিকে ওয়েলকাম করল ,এটা একটা কোনও দোকান !!
সেই রহস্যময় মেয়েদুটো ওয়াতানুকিকে টানতে টানতে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল । তারা বিশাল সৌজি দরজাটা খুললো এবং ওয়াতানুকি ওপার থেকে একরাশ ধোঁয়া ছাড়িয়ে একটা বড় কেদারার উপর ধূমপানরত ,লাল কিমোনো পড়া ইউকো সানের দেখা পেলো ।সে তার জন্যই অপেক্ষা করছিলো

xxxHOLIC 3

এবার ইউকোর পরিচয় কীভাবে দি ? পুরোনো বঙ্গিম-কালীদাস মার্কা বাংলাতে বললে “বৃহৎবক্ষা-ক্ষীনকটি-গুরু নিতম্ব” ইত্যাদি ইত্যাদি অথবা আমার চলিত চিন্তাতে বললে ইউকো একজন কঠিন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মেয়ে ,যে আবার সময়ে সময়ে মেজাজের দিক থেকে ছোট বাচ্চাদের মত হয়ে যায় । চেন -স্মোকার পর্যায়ে ,পান করে প্রচুর,ওয়াতানুকিকে খাটিয়ে মারে কিন্তু গোটা সিরিজের একাংশে তার অন্যতম সেরা বন্ধু,পোশাক,খাবার এবং স্টাইল সচেতন ,নিজের জীবনটা ভালোভাবে উপভোগ করে,স্বাধীন । আবার এই ইউকোই তার ম্যাজিকের দোকানের কাস্টমারদের সামনে হয়ে যায় নম্র,বিনয়ী এবং নিজের রহস্যপূর্ণ দিকটা কাস্টমারের সামনে রেখে তাদের সমস্যার সমাধান যথাসম্ভবভাবে করে ।ইউকো ডাইমেনশন ভাঙার ক্ষমতা রাখে ,সেজন্য হোলিক সিরিজ ছাড়াও ৎসুবাসা সিরিজেও তার দেখা মেলে ।ইউকো কিন্তু অনেক দিন আগেই মারা গেছে ,ৎসুবাসা ইউনিভার্সের এক যাদুকর ইউকোর নিজস্ব বাস্তবতার টাইম জোনকে থামিয়ে দিয়েছে,সেজন্য সে হোলিক দুনিয়ায় বেঁচে আছে ।যদিও শেষ অবধি সে আর থাকবে না ,যাকে ম্যাজিকের ভাষাতে বলে ভ্যানিশ ।মৃত্যু ।

টিম ক্লাম্প ইউকোকে বানানোর পর মনে করেছিলো সেই হবে সিরিজের প্রধান চরিত্র ।তারপর মনে করে ,আরও একটা চরিত্র তৈরি করা যাক ,যে ইউকোর মতই আত্মা,দেবতা,অতিপ্রাকৃতিক জিনিস দেখতে পারে ।তো ,সেইমত তৈরি হলো ওয়াতানুকি ।ইউকো আর ওয়াতানুকির মধ্যে সম্পকটা অনেকটা ডোরিমনের ডোরিমন-নোবিতার সম্পকের মত ।যদিও ডোরিমন ছোটদের জন্য বানানো ।
ওয়াতানুকি ,অনেকটা সেইরকম চরিত্রের ,যে নিজের ইমোশনকে নিজের মনের মধ্যে বেঁধে রাখে না,বাইরে প্রকাশ করে দেয় ।আর তার ইমোশনকে প্রকাশ করে বিভিন্ন উদ্ভটভাবে হাত পা শরীর নাড়ানোর মাধ্যমে, জোরে কথা বলে ।যাতে ওয়াতানুকিকে হাস্যকর লাগে ।কিন্তু ওয়াতানুকির সহজাত বুদ্ধির দিকটা ঝলসে ওঠে কোন চরম বিপদের সময় ..আবার প্রচণ্ড কৌতুহলী মন,তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 4
হিমাওয়ারি, যার বাংলা অর্থ হবে সূর্যমুখী , ওয়াতানুকির ক্রাশ ।সে যদিও ইউকোর থেকে অনেকটা আলাদা ,এইরকম সরল,সাধাসিধে মেয়ে চরিত্র অনেক আনিমে সিরিজেই থাকে ।ওয়াতানুকি, দৌমেকি এবং ইউকোর ভালো বন্ধু হিমাওয়ারি, যখনই কোনও খাবার আনে দৌমেকি আর ওয়াতানুকির মধ্যে ভাগ করে দেয়,দৌমেকির অন্যতম প্রীয় বান্ধবী হওয়ার জন্য তারও কেয়ার নেয়, তীরন্দাজী প্রতিযোগিতায় তাকে চিয়ারস করে ,এবং এসব দেখে ওয়াতানুকির জ্বলে ।
দৌমেকি আবার ওয়াতানুকির চেয়ে অনেকটা আলাদা , একেবারে বিপরীত মেরুর । হ্যান্ডসাম ,কুল এবং কম সিরিয়াস ।যেখানে ওয়াতানুকি প্রচুর বকে,সেখানে দৌমেকি খুবই কম কথা বলে। সে বহু মেয়ের আকর্ষণের কেন্দ্র, যেটা দেখেও ওয়াতানুকির জ্বলে ।কিন্তু দৌমেকি ওয়াতানুকির খুব ভালো বন্ধু, কেয়ার নেয় অনেক ,যার প্রমান সিরিজের বহু এপিসোডে ।
আর যার কথা ছাড়া হোলিক গ্যাং এর কথা শেষ হয় না ,অবশ্যই মোকোনা ।খরগোশের মত দেখতে কালো আর সাদা রঙের এই দুটো কিউট প্রানীটা হোলিক ইউনিভার্স ছাড়াও ক্লাম্পদের বানানো আরও দুটো ইউনিভার্সে হাজির,ৎসুবাসা সিরিজ আর ম্যাজিক নাইট রেআর্থ ।দেখলে মনে হয় চোখ বন্ধ করে আছে,লম্বা লম্বা কান আর মাথার কাছে বড় একটা নীল রঙের গোলাকৃতি বস্তু -এই হচ্ছে প্রধান বৈশিষ্ট্য মোকোনার ।কালো মোকোনা ওরফে লার্গ বা রাগু হচ্ছে ইউকো-সানের অন্যতম প্রিয় বন্ধু,দাবা খেলা আর ড্রিঙ্কস পার্টনার ।

 

হোলিক ইউনিভার্স প্রচণ্ড রহস্যময় ,ওয়াতানুকি প্রতি এপিসোডে নতুন নতুন অতিপ্রাকৃতিক জিনিসের সঙ্গে মুখোমুখি হয়,কখনও রহস্যময় আঙটি আর তার ইয়োকাই ,কখনও এমন কিছু অতিপ্রাকৃতিক উপাদান যা স্কুলে উদ্ভট ঘটনা ঘটাচ্ছে ,কখনও মানুষের মত কথাবলা শিয়াল পরিবার,বৃষ্টি আত্মা, আত্মা আর অতিপ্রাকৃতিক প্রানীদের দীর্ঘ মিছিল অথবা এমন এক পূর্ণিমার চাঁদ, যা ওয়াতানুকিকে এই বাস্তবতার গভীরে ঢুকতে সাহায্য করবে ।
কোন পূর্ণিমার রাত্রে,যখন বিশাল বড় বহুরঙা চাঁদ একদিকে ওঠে,তাদের মধ্যে দিয়ে কোন ঝাঁটায় উড়ন্ত যাদুকর ছাতা হাতে নেমে আসে বা মৃতদের উদ্ভট মিছিল দিগন্ত পেরোয় অথবা অমাবস্যার শেষে যখন অন্ধকার দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় ,সেই পথ দিয়ে ইয়োকাইরা জেলির মত ওয়াতানুকির পেছন নেয় অথবা বসন্তের চেরিব্লসম ঝড়া সন্ধ্যায়, কোন শিন্তো শ্রাইনের চত্বরে উদ্ভট প্রানীদের আনাগোনা শুরু হয়,এ রকমই হোলিকের প্রকৃতি, সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল একে অন্য একটা চেহারা দেয়।

হোলিক আমাদের এটাও দেখায় যে সবার একটা নিজস্ব বাস্তবতা আছে,হয়ত কারও সেটা প্রচণ্ড একান্ত ,কোন গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ দিয়ে সবার বাস্তবতা এবং বোধ এক কাতারে ফেলা যায় না ।

xxxHOLIC 5

হোলিক হচ্ছে আনিমে জগতের ছোট্ট আরব্য রজনী ,সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল ।অথবা হোলিককে কোনও কিছুর সঙ্গে তুলনাই করা উচিত নয়,হোলিক ইউনিভার্স এবং এর প্রত্যেক লৌকিক এবং অতিপ্রাকৃতিক চরিত্রগুলো অথবা গল্পের চরিত্রগুলো এবং দিকপ্রকৃতি এটতাই আলাদা আলাদা,উদ্ভট যে একে অন্য কোন কিছুর সঙ্গে তুলনা করতে ইচ্ছা করে না,এমনকী টিম ক্লাম্প এর অন্য কাজগুলোর সঙ্গে ও নয় ।

আনিমে সিরিজের অন্যতম অর্জন হচ্ছে এর এনিমেশন, পরিচালক ৎসুতমু মিজুশিমা একেবারে ক্লাম্পের মেজাজে পরিচালনা করেছেন ।
এছাড়া এর ওপেনিং আর এন্ডিং থিমও ব্যাপক ।বিশেষ করে এপিসোড 24 অবধি চলা ওপেনিং সং “19 সাই” আমার অন্যতম প্রিয় আনিমে ওপেনিং ,গান সমেত ভিডিওতে একটা যাদু বাস্তবতার আবেশ আছে ।এছাড়া এপিসোড 37 অবধি চলা “নোবডি নোওজ” ও খুব প্রিয় ।দুটোই গেয়েছে শুনা(শুগা) শি(ই)কো ।তেমনি 37 এপিসোড ধরে চলা এন্ডিং সং “রিসন” যেন সিরিজ সম্পকেই কথা বলে ।

যারা পরাবাস্তব,অ অথবা অতিপ্রাকৃতিক অথবা যাদু বাস্তবতাধর্মী এবং কমেডি ধাঁচের কাজ পছন্দ তার অবশ্যই এক্স এক্স এক্স হোলিক সিরিজ ভালো লাগবে,আশা করি ।এরপরও এর একটা ভালো সিনেমাও আছে ।
ব্যাক্তিগতভাবে এই সিরিজটা আমার প্রিয় দশটা আনিমে সিরিজের অন্যতম ।পাঁচ বছর আগে আনিম্যাক্সে দেখার পরও অনলাইনে একাধিক বার দেখেছি ।আর হ্যাঁ, ড্রয়িং আর এনিমেশনে সরু সরু হাত পা টিম ক্লাম্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 6

Anime Suggestion: Joshiraku — Imamul Kabir Rivu

শৌয়া গেনরোকু রাকুগো দেখে অনেকেরই হয়তো রাকুগো নিয়ে আগ্রহ জেগেছে । রাকুগো নিয়ে আরেকটি আনিমে আছে কিন্তু, তা জোশিরাকু । তবে এটা নামে মাত্র রাকুগো নিয়ে যদিও, কেননা রাকুগো নিয়ে বলার চেয়ে ৫ জন রাকুগো পারফর্মারের দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী বলাটা বেশি মানানসই । পুরা আনিমেতে রাকুগোর দেখা পাবেন সুধু প্রতি পর্বের শুরুর দিকে । এরপর থেকে মারি, তেতোরা, কিগু, গান-চান এবং কুকুরুরা মিলে কি করে সেটাই পুরা পর্ব জুড়ে দেখানো হয় ।

Joshiraku

দেখতে মনে হয় কিউট গার্ল্স ডুইং কিউট থিংস তবে ঔ কাতারের আনিমের তুলনায় এই আনিমেটির কমেডিক এলিমেন্ট বেশ ম্যাচিউর । এছাড়া নানা বিষয় নিয়ে প্যারোডিও করা হয়েছে আনিমেটির মধ্যে । এই প্যারোডিগুলা ঠিক আনিমের চেয়ে বাস্তব জিনিশের পরিমান বেশি ।

ওপেনিং-এন্ডিং দুটা দেখেই বেশ মজা পাবেন । এটার এন্ডিংটা নিয়ে বহু প্যারোডিও আছে, যা ইউটিউবে গেলেই পাবেন ।

৫ জনের সেইয়ূও এখন বেশ পরিচিত নাম হলেও এই আনিমের রোলগুলা দিয়েই উঠে আসার পথ চলা, যদিও গান-চানের কণ্ঠ অভিনেত্রী নানজৌ ইয়োশিনো এর আগেই কাতেকিয়ো হিটম্যান রিবর্নের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইউনির কণ্ঠ দিয়েছেন এবং এখন হয়তো লাভ লাইভ আর এর সাথে ফ্রিপসাইডের জন্যই বেশি পরিচিত । ওহ্ আর বাকি ৪ জন হল গোতৌ সাওরি, কোয়াই কোতোরি, সাকুরা আয়ানে এবং ইয়ামামোতো নোযোমি ।

১২ পর্বের হালকা ধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ-কমেডি আনিমে । সময় নিয়ে দেখে ফেলতে পারুন । ওহ্, আর এই আনিমে এবং সায়োনারা যেৎসুবৌ সেনসেই-এর অথর কিন্তু একই ব্যক্তি ।

মাঙ্গা রিএকশান: The Flowers Of Evil — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

এ মাঙ্গা নিয়ে আগে বেশ কয়েকটা পোস্ট দেখে আমি আগ্রহী হয়ে পড়তে শুরু করলাম আকু নো হানা। পড়া শেষ করার পর আমার মনে হলো অসাধারণ কিছু পড়া শুরু করেছি এবং তা ছিলোও কিন্তু শেষে গিয়ে ভাবলাম যে আরো অস্থির কিছু হতে পারত ।

The Flowers Of Evil 1
মাঙ্গার মেইন ক্যারেকটার তাকাও কাসুগা , এক মাধ্যমিক পড়ুয়া বইপোকা । ছেলে সবদিক দিয়ে ভালো এবং ক্লাসের এক সুন্দরী সহপাঠী নানাকো সায়েকির উপর ক্রাশ খাওয়া । তো একদিন ক্লাস থেকে বের হবার সময় দেখে যে নানাকোর জিমের পোশাক নিচে পরে আছে এবং কেমন করে জানি এই ভালো ছেলে তাকাও সেই পোশাক অনিচ্ছাকৃত ভাবে চুরি করে ফেলে । তো ভালো ছেলে হওয়ায় আত্নগ্লানিতে সে প্যারনয়েড হয়ে ওঠে এবং মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে সে নজরে পরে যায় ক্লাসের পাগলী স্যাডিস্ট মেয়ে সাওয়া নাকামুরার খপ্পরে যে তাকে পোশাক চুরি করতে দেখেছে এবং তাকে সেটা নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়েও না করে একধরনের মানসিক টর্চার শুরু করে !তাকাও পাগলপ্রায় হয়ে উড়াধুরা কাজ শুরু করে এবং অবস্থা আরও খারাপ হয় যখন নানাকো তাকাওর কাছে আসতে চায় ।

The Flowers Of Evil 2
মাঙ্গার ফেস্টিভালের ইনসিডেন্ট পর্যন্ত আমার অস্থির লেগেছে । কিন্তু তাকাও এর চেইন্জ আর ভালো লাগেনি । আর লাস্ট পর্যন্ত সবশেষে ওই হ্যাপি এন্ডিং । আমি ভাবছিলাম পরে নাকামুরা আরও অস্থির বা ডেন্জারাস কিছু হবে । তবে স্বপ্নের ব্যাপারটা অস্থির ছিল । আর নাকামুরাকে ভাল লাগসে কারন সে ছিল ট্রু স্যাডিস্ট । আমি যখন জ্বলবো তখন আশেপাশের সবাইকে নিয়ে জ্বলবো । এরকম সোসাইটি থেকে বিচ্ছিন্ন স্যাডিস্টদের মানসিকতা নাকামুরার মধ্য দিয়ে দেখেছি ।
সবশেষে মাঙ্গাটা সত্যি খুবই ভালো লেগেছে । এরকম থ্রিলিং জিনিস পড়তে খুবই ভালো লাগে । আর্ট কোয়ালিটিও যথেষ্ট ভালো ! এবং ক্যারেক্টার গুলো যে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে ,তা মাঙ্গায় ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।যারা পড়েননি তারা পড়ে ফেলুন , আপনার সময়টা নষ্ট হবে না বলতে পারি!!

The Flowers Of Evil 3

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট [রিকমেন্ডেশন] — Fatiha Subah

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট
ইংরেজি নামঃ সুগার ক্যান্ডি বুলেটস ক্যান্ট পিয়ারস এনিথিং
জানরাঃ সাইকোলজিক্যাল, শৌনেন, ড্রামা, স্কুল
ভলিউমঃ ২টি
চ্যাপ্টারঃ ১৩টি
অবস্থাঃ সমাপ্ত
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

সাধারণত আমি রেকমেন্ডেশন লেখার চেয়ে রিভিউ লেখাটা ভালো মনে করি। একটা সিরিজ নিয়ে যদি লিখবই তবে ভাল-খারাপ সব খুঁটিনাটি নিয়ে একটা রিভিউই লিখি। রেকমেন্ডেশনের কাজটা তো ওটার সাথেই হয়ে যায়। কিন্তু এই মাঙ্গাটার ক্ষেত্রে কথাটা খাঁটাতে পারছি না। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার এর আগেও কিছু দেখেছি, পরেছি। মনস্তত্বের উদ্ভট সব জিনিস সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু কোনটাই আমাকে এই মাঙ্গাটার মত বাকরুদ্ধ করতে পারেনি। এতটাই বাকরুদ্ধ হয়েছি যে আজো সেই বাকরুদ্ধ ভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। এরকম একটা মাঙ্গা নিয়ে ঠিক কিভাবে রিভিউ লিখলে সেটার একটা সুন্দর বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে পৌঁছাবে তা আমার জানা নেই। তাই বলে এত ভালো একটা মাঙ্গা সবার চোখের আড়ালে থেকে যাওয়াটাও হবে দুঃখজনক। তাই এটা নিয়ে একটা রেকমেন্ডেশনই লিখে ফেললাম।

গল্পের শুরুটা হয় সাদামাটা ভাবে। আমাদের খুব বেশি পরিচিত একটা প্রেক্ষাপটঃ ক্লাসে বদলি হয়ে আসা নতুন স্টুডেন্ট প্রধান চরিত্রের সাথে কোনভাবে জড়িয়ে যাবে। ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা যখন পড়ালেখা করবে না কিন্তু সুন্দর ইউনিফর্ম পড়ে কোন হাই স্কুলে যাবে এই স্বপ্নে বিভোর তখন নাগিসা ইয়ামাদা’র সময় কিংবা ইচ্ছা কোনটাই নেই সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেবার। একই বয়সের বাকি সবাই যখন কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে ব্যস্ত তখন নিষ্ঠুর বাস্তবতা নাগিসাকে বাধ্য করে তার পরিবার আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে। নাগিসার বাবা মারা গেছেন। বাবার রেখে যাওয়া ইনস্যুরেন্সের টাকা ফুরিয়ে গেছে। তার পুরো পরিবার তার মায়ের একার পার্ট-টাইম জবের আয়ের উপর নির্ভরশীল। পুরো পরিবার বলতে আর আছে নাগিসার বড় ভাই তোমোহিকো যার কিনা কথা ছিল পরিবারের দেখাশোনা করার। হাই স্কুলে থাকাকালে উজ্জ্বল ছাত্র হলেও তোমোহিকো পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ঘরকুনো হয়ে যায়, সে এখন শুধু অদ্ভুত সব জিনিস সংগ্রহ করে আর বই পড়ে। ভাইয়ের এই দ্বায়িত্বহীনতার কারণে সব চাপ নাগিসার ঘাড়ে এসে পড়লেও সে তবু তার ভাইকে অনেক শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। তার এখন লক্ষ্য শুধু একটাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিডেল স্কুল পাশ করে তার ছোট্ট শহরের সীমান্তে অবস্থিত সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সে যোগদান করবে। সে হতে চায় “বুলেট”। বুলেটের মত সজরে নিজের শক্তিতে বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে ছুটে যাবে। সাধারণ মেয়েরা যে মিষ্টি মিষ্টি বা “সুগারি” ধরণের বিলাসিতা করে সেসব তার জন্য নয়।

একদিন নাগিসার ক্লাসে আসে একটি নতুন মেয়ে। মেয়েটির নামটা অদ্ভুত, উমিনো মোকোযু। “উমি নো মোকোযু” এর অর্থ হল সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষুদ্র বর্জ্য অংশ। আর শুধু “মোকোযু” শব্দটার মানে “সাগরে মৃত্যু”। এই অদ্ভুত নামের মেয়েটা তার চেয়েও অদ্ভুত। সে সোজা সবাইকে বলে দেয় সে নাকি কোন মানুষ না। সে একজন মৎস্যকন্যা! সে তার পরিবার, জাপানের সাগরের মাছদের কাছে শুনেছে মানুষ নাকি একটা বোকা, মুর্খ প্রজাতির প্রাণী যারা অনুভূতির বশে হারিয়ে যায়। কিন্তু মানুষেরা ঠিক কতটা বোকা? তাদের জীবনের কি কোন মূল্য আছে? তারা মরে গেলেই কি বেশি ভালো হত? এসবের উত্তর জানতেই সে সাগর থেকে মানুষের পৃথিবীতে চলে এসেছে। সবাই বলাবলি করতে থাকে মোকোযু এক সময়ের জনপ্রিয় একজন সেলেব্রিটি উমিনো মাসাচিকার মেয়ে যেটা মোকোযু অস্বীকার করে। বাস্তববাদী নাগিসা স্বভাবতই পাগলাটে মোকোযুকে পাত্তা দেয়না। কিন্তু বিধিবাম। মোকোযু নাগিসার পিছে লাগে। তাকে অনুসরণ করতে থাকে। সে নাগিসাকে বলে যে তার আসল লক্ষ্য নাকি অন্য। সে একটি সত্যিকারের বন্ধু খুঁজতে এসেছে। একজন ভালো বন্ধু যে কিনা তার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকবে। যদি তার এই ইচ্ছা পূরণ না হয় তাহলে সে সামুদ্রিক শৈবালে পরিণত হয়ে ফেনায় হারিয়ে যাবে। নাগিসার শহরটায় প্রতি ১০ বছরে একটা করে বড় ঝড় হয় যেটা আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয় না। শীঘ্রই আসছে সে ঝড়ের আগেই মোকোযুকে খুঁজে বের করতে হবে একজন বন্ধু। সে চায় নাগিসাই হবে সেই বন্ধুটা। একে তো মোকোযু আবলতাবল অবাস্তব সব কথা বলে তার উপরে ঠিক ১০বছর আগে এমন এক ঝড়ই কেড়ে নিয়েছিল নাগিসার বাবাকে। প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে নাগিসা মোকোযুকে এড়িয়ে যেতে থাকে। তবু মোকোযু নাগিসার পিছু ছাড়ে না। “সুগার বুলেটের” মত মোকোযুর কথাগুলো বিঁধতে থাকে নাগিসাকে। অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু কারণে নাগিসাকে জড়িয়ে যেতে হয় মোকোযুর সাথে। নিজের ভাইয়ার সাথে মোকোযুকে নিয়ে কথা বলে, মানুষের মানসিকতার কিছু আজব তথ্য জানে। এরপর সে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে যায় মোকোযুর জীবনের সাথেও। সবসময় হাসিখুশি, আজগুবি আর পাগলামো আচরণ করা মেয়েটার পেছনের কারণটা কি? আর মোকোযুর বাবা মাসাচিকার মৎস্যকন্যা নিয়ে গাওয়া প্রথমে রোমান্টিক কিন্তু পরে পাশবিক হয়ে যাওয়া ওই গানটারই বা রহস্য কি?

মাঙ্গাটি একই নামের একটি লাইট নোভেল থেকে রূপান্তরিত। মাঙ্গাটির আর্ট ভালো আছে। তবে স্লাইস অফ লাইফের মত কাহিনী খুব ধীর গতিতে শুরু হয়। প্রথমে এমনও মনে হয় যে এতে তো কোন নতুনত্ব নেই। কিন্তু এরপরে গিয়ে আস্তে আস্তে সব প্রকাশ হতে থাকে। আর শেষে যা অপেক্ষা করছে ওটা একটা বিশাল বড় ধাক্কা। একদম লাইটহার্টেড মাঙ্গাটা শেষে গিয়ে ডার্ক হয়ে যায় যেটা হতভম্ব করে দিবে। তাই শুরুতে বোরড হলেও ড্রপ করবেন না। মাত্র ১৩টি চ্যাপ্টারই তো।

শেষ করব তোমোহিকোর একটি ধাঁধা দিয়ে। একজন লোকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তার এক সহকর্মীর সাথে তার স্ত্রীর দেখা হয়। খুব তাড়াতাড়ি তাদের মাঝে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। বরং বলা উচিত তাদের মাঝে পারস্পরিক আকর্ষণ তৈরি হয়। ঠিক সেই রাতেই মৃত লোকটির ছেলেটিও খুন হয়। জানা যায় খুনিটি ছিল সেই স্ত্রী। সে হঠাৎ করেই তার ছেলেকে খুন করল। কিন্তু কেন? আপনি কি ভাবছেন তা আমি ধারণা করতে পারি। কিন্তু উত্তরটা তা না। তোমোহিকোর ভাষ্যমতে ভুল উত্তর দেওয়ার মানে হল আপনি একজন স্বাভাবিক মানুষ। আর যারা ঠিক ধারণা করেছেন তারা হতে পারেন ভবিষ্যতের বড় বড় খুনি!! কিন্তু কি সেই উত্তরটা? মানসিকতায় কি এমন তফাৎ? জানতে হলে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি।

Lollipop or Bullet

কামিচু! [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

কামিচু!
আনিমে টেলিভিশন সিরিজের পরিচালক :- কোজি মাসুনারী
এপিসোড সংখ্যা:- 16 টি ।

Kamichu 3

গল্পের আরম্ভ অনেক আগে, যখন আমাদের জীবনটা কোন স্মার্ট ফোনের হাতে ফেলে দিয়নি, ফেসবুক আমাদের আর একটা জীবন হয়ে ওঠেনি, পার্সোনাল কম্পিউটারে ছেয়ে যায়নি পৃথিবী ।অথবা আমাদের তখন অস্তিতই ছিলো না, গল্পের শুরু যে বছরে, সে বছরে মোটোরোলা প্রথম বানিজ্যিক মোবাইল ফোন মোটোরোলা ডায়না টিএসি ৮০০০এক্স বাজারে ছাড়ে,আবার অ্যাপলের ম্যাকিনটোশ পার্সোনাল কম্পিউটার আসতেও একবছর দেরী, সেই বছরই আবার ইন্টারনেটের অফিসিয়াল জন্মবছর,সেই বছরই পৃথিবীর চ্যালেঞ্জার মহাকাশ ফেরির প্রথম যাত্রা, যা ছয়বছর তার শেষ যাত্রা সমাপ্ত করবে তার দশ নম্বর উড়ানে, সাত জন মহাকাশচারীর জীবন সঙ্গে নিয়ে। জাপানের প্রথম টোকিও ডিজনিল্যান্ড সেই বছরেই খোলে, বছরটা 1983 ।আরও ভালো করে বলতে গেলে 1983 এর এক রঙিন বসন্ত গল্পের শুরু, শেষ হয় পরের বসন্তে।

জাপানের শিন্তো ধর্ম খুবই প্রাচীন। অন্যসব প্যাগান ধর্মের মতই এই শিন্তো ধর্মও প্রকৃতি থেকে নিজের উপাদান, দার্শনিক মত, মিথোলজি নিয়েছে। অন্য সব ধর্মের মতনও শিন্তো প্রভাবিত করেছে জাপানের অন্যান্য কালচারাল মাধ্যমকে, প্রভাবিত করেছে জাপানের চিত্রকলা, উপকথা, কবিতা বা বর্তমানে আনিমে, ভিডিওগেম, মাঙ্গা, সাহিত্য সব জায়গায়। শিন্তো ধর্মে দেবতা এবং দেবী, উভয়দেরই কামি বলা হয়। এটা একটি উভয় লিঙ্গ শব্দের উদাহরন। আবার আত্মা, সর্বোচ্চ ঈশ্বর বোঝাতেও কামি শব্দটা ব্যাবহার হয়। একটা শব্দের অনেক অর্থ।

Kamichu 4

টোকিও থেকে সাতশো চৌত্রিশ কিলোমিটার দূরে হিরোসিমা প্রিফেকচারে শিটো ইনল্যান্ড সমুদ্রের ধারে অনমিচি একটা সুন্দর শহর। শহরকে দুভাগ, তিনভাগ করেছে নদীর মতো সমুদ্রের কয়েকটা অংশ, সৃষ্টি করেছে ছোটবড় বেশ কয়েকটা সুন্দর দ্বীপের। দ্বীপগুলোর মধ্যে যাওয়া আসার জন্য আছে ফেরি সার্ভিস।
গল্পের মূল চরিত্র, ইয়ুরি হিতত্সুবাসী,শহরের একটা মিডল স্কুলের ছাত্রী ,হটাৎ একদিন টিফিনের সময়ে, তার অন্যতম প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরিকে বলেই ফেলল কথাটা “সে একজন কামি(দেবী)।”

নিজের হাতে দুধের প্যাকেটের মধ্যে স্ট্র ঢোকাতে ঢোকাতে মাৎসুরি অতি স্বাভাবিকভাবে জিজ্ঞাসা করলো “কিসের দেবী ?”

আনিমের এই শুরুটা যেকোনো মনোযোগী এনিমখোরকে অবাক করে দিতে পারে ।অথবা সিরিজে দুই বান্ধবীর মধ্যে কথোপোকথন দিয়ে শুরুটা অনেকটা ফ্রান্ৎস কাফকার মেটামরফোসিসের প্রথম বাক্যটা মনে করিয়ে দিতে পারে, গ্রেগর সামসার এক স্বপ্নবহুল ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেকে এক বিশাল পোকায় পরিনত লাভ করা যেমন গ্রেগরের কাছে অতি স্বাভাবিক ব্যাপার,তবুও সে অফিসের যাওয়ার জন্য ভেবে যাচ্ছে। সেইরকমই নিজেকে বা কোন বান্ধবীকে একজন দেবী হিসাবে জানা অতি স্বাভাবিক, রোজকেরে ব্যাপার ।

Kamichu 2

প্রথম এপিসোডে দেখব , ইয়ুরি তার দুই প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরি আর মিত্সুএ এর সঙ্গে মাৎসুরিদের পারিবারিক শিন্তো মঠে যায় ,সে কোন বিষয়ের দেবী জানার জন্য ।আবার নিজেদের স্কুলের ছাদেও চলে তিন বন্ধু র পরীক্ষা ,তারা দেখতে চায় ইয়ুরির কীরকম শক্তি, টিভির সুপারহিরোদের মত পরীক্ষার ব্যবস্থা, কিন্তু কিছুই হয়না ।যদিও তখনই পরিচালক আমাদের দৃষ্টিকে শিটো উপসাগরের তীরের শহর থেকে দূর প্রশান্তের বুকে নীল জলের উপর ভাসমান একটা নৌকাতে নিয়ে গিয়ে ফেলে, কোনও অজানা কারনে সেই নৌকার পালে টাঙানো একটা কাপড়ের টুকরো দুলে ওঠে, কাকতালীয় ভাবে, হয়ত হাওয়ায়!!!!
সেই ছাদেই পরিচয় হয় কেনজি আর ইয়ুরির।কেনজি স্কুলের ক্যালিগ্রাফি ক্লাবের একমাত্র সদস্য (এবং প্রেসিডেন্ট)।
সেই রাত্রিতেই ইয়ুরি তার দেবীত্বের পরিচয় পেয়ে যায়, তৈরি করে ফেলে বিশাল একটা টাইফুন,কেনজি আবার সেই টাইফুনের কবলে পড়লে তাকে ইয়ুরি বাঁচায়।

পরের এপিসোডে, মাত্সুরি, আর তার বোন ঠিক করে তাদের নতুন দেবীর সম্মানে একটা উৎসব আয়োজন করবে তাদের শিন্তো মঠে। কিন্তু দেখে মঠের আরাধ্য দেবতা য়াশিমা নেই!! তো, ইয়ুরি যায় দেবতাদের জগতে, য়াশিমাকে ফিরিয়ে আনতে।

Kamichu 5

এইরকম আরও ভালো ভালো গল্প দিয়ে এগিয়েছে 2005 এ তৈরি কামিচুর পরবর্তী এপিসোডগুলো, এসেছে নতুন নতুন চরিত্রের সঙ্গে। যেমন য়াশিমা সামা, শহরের লোকাল কামি বা দেবতা। বা বিন চান, আর এক কামি, যে ইয়ুরির বিড়াল তামার শরীরে আশ্রয় নেবে।
গোটা আনিমেটা আমার কাছে মিথোলজি, ম্যাজিক রিয়ালিজম আর কমেডির সুন্দর সংমিশ্রণ লেগেছে। এনিমেশন খুবই ভালো, বেশ সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্য। ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যে যেসব শিন্তো মঠ মন্দির, প্রতিষ্ঠান দেখা গেছে সেগুলো অনমিচি শহরে আজও দেখা যাবে।
ইয়ুরির গলা দিয়েছে ভয়েস একট্রেস মাকো, এটা তার প্রথম কাজ ছিলো।
আনিমেটা কোনও মাঙ্গা থেকে তৈরি নয় বরং আনিমে সিরিজ থেকেই একট সমনামী মাঙ্গা তৈরি হয়েছে। শিন্তো ধর্মের মিথ ব্যাবহার করে কামিসামা কিস, নোরোগামীর মত জনপ্রিয় আনিমে তৈরি হয়েছে। যাদের এগুলো পছন্দ, তাদের আশাকরি অবশ্যই কামিচু পছন্দ হবে।

Kamichu 1

দেনপা তেকি না কানোজো [রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

—রিভিউ—

আনিমে – দেনপা তেকি না কানোজো
পর্ব – ২
জনরা – মিস্টেরি, থ্রিলার

দেনপা তেকি না কানোজো মূলত একটি ২ পর্বের এক এক্সেপশনাল ওভিয়ে । এবং এর কাহিনী এক বাক্যে, দুই প্রধান চরিত্র জুযাওয়া জূ এবং ওচিবানা আমের ২ পর্ব ধরে ২ টি কেস সল্ভ করার কাহিনী । তবে এর কিন্তু কোন ডিটেক্টিভ ডুয়ো না বরং বুঝতে উঠে পারার আগেই তারা কেসটির সাথে জড়িয়ে যায় ।

কাহিনীর শুরু হয় ঠিক কিভাবে জুযাওয়া জূ-এর সঙ্গে ওচিবানা আমের মিল হয় ও থেকে । ওচিবানা আমে হঠাৎ এসে হাজির হয় জূ-এর সামনে এবং সে বলে সে জূ-এর সাথে তার পূর্ব জন্মে পরিচিত ছিল তাই তাকে এখন থেকে সার্ভেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে । প্রথমে জূ বিষয় এটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনাক্রমে মেনে নেয় ।

এবার আসি মূল কাহিনীতে । আগেই বলেছি, ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন কেস । প্রথমটা বেশ টিপিকাল, দ্বিতীয় বেশ এক্সেপশনাল । প্রথমটার কাহিনী ঠিক এক সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে । এই সিরিয়াল কিলার জ-এর নজরে আসে তার এক ঘনিষ্ট বন্ধের খুনের পর । প্রথমে ওচিবানা আমেকে সন্দেহ করলেও ঘটনাক্রমে বের হয়ে আসে আসল দোষী কে, তবে তা দেখে নেওয়ার কাজ আপনার । দ্বিতীয় পর্বটির কাহিনী ঠিক একটি মেয়ের ট্রমাকে ঘিরে । তার ট্রমার সাথে খানিকটা ওয়ারিমোনোগাতারির দ্বিতীয় আর্কে ঔকুরা সোদাচির ট্রমার সাথে কিছুটা মিল আছে, যাদের ওয়ারিমোনোগাতারি দেখা আছে তারা হয়তো কিছুটা ধরতে পেরেছেন । এ কাহিনীটা আমার বেশ ভালো লেগেছিল । কাহিনীটির মাঝে এক বড় টুয়িস্ট আছে । এবং সুধু তাই নয় ঠিক শেষের দিকে আরেকটি টুইস্ট । আগেই বলে দেই ওভিয়েটির এন্ডিংটা বেশ শকিং ।

আর্টটা বেশ ভালো ছিল । তবে এখানে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেইলিং-এর উপর । ক্যারেক্টার ডিজাইনটা মোটামোটি তবে ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চারপাশে পরিবেশ বেশ অসাধারণ ছিল । এর কোন ওপেনিং তবে ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন এন্ডিং । ২ টি এন্ডিংই বেশ সুন্দর ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয় এন্ডিংটা বেশ সুন্দর এবং ইমোশোনাল ছিল ।

চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালো লাগবে । কোন এক্সেপশনাল চরিত্র নেই । আর বাকি সাধারণ আনিমেগুলোর চরিত্রের ব্যক্তিত্বই এই আনিমের চরিত্রেগুলোর মাঝে বিদ্যমান । ২ পর্বে চারিত্রিক উন্নতি দেখানো প্রায় অসম্ভব, তাই তেমন কোন চারিত্রিক উন্নতি ২ টা পর্বে নজরে পরবে না ।

এবার আসি সেইয়ূদের কথায় । হিকারু এবং ফুজিশিমা কানাকো বাদে বাকি সবার সেইয়ূই ছিল অভিজ্ঞ এবং খ্যাতিমান । আমার কার কোন সেইয়ূ তা বের করতে নেটের কোন সাহাজ্যই লাগে নাই । না দেথেই বলে দেওয়া যায় যে জুযাওয়া জূর কণ্ঠ দিয়েছেন হোসোয়া ইয়োশিমাসা এবং ওচিবানা আমের কণ্ঠ দিয়েছেন হিরোহাশি রিয়ৌ । এছাড়া কাস্টে আরও ছিল কোশিমিযু আমি, উয়েদা কানা, সাইগা মিৎসুকি, কোবায়াশি ইয়ূ, নাকাহারা মাই এবং কিতামুরা এরিদের মত অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রীরা । মাত্র ২ পর্বের জিনিশে এরকম নামি-দামিদের দিয়ে কাজ করানো বেশ ভালো জিনিশ । শেষমেশ, সাইগা মিৎসকি বাদে বাকি সবায়ই আমার প্রিয় সেইয়ূ ।

৪ পর্বের সমান মাত্র ২ পর্বের ওভিয়ে, কেননা প্রতি পর্ব ৪০ মিনিট করে । অল্প সময়ের মধ্যে কোন ভালো মিস্টেরি আনিমে দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন দেনপা তেকি না কানোজো ।

denpa teki no kanojo

FLAG!(2009) রিভিউ — Fahim Bin Selim

FLAG!(2009)
★★★★☆

[ইংলিশ ডাব]

অরিজিনাল নেট অ্যানিমেশন

জনরাঃ ওয়ার ড্রামা, মিলিটারী
প্রযোজকঃ দ্য অ্যান্সার স্টুডিও (Garden of Words, Golgo 13)
মূল ও পরিচালনাঃ রিওস্কে তাকাহাশি (Gasaraki, The Cockpit)

সেন্সরঃ সরাসরি ভায়োলেন্স অনুপস্থিত

মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিংঃ ৭.৩৬(#২০২৬)

 

FLAG

গৃহযুদ্ধ-বিদ্ধস্ত উদিয়ানা(Uddyana). একে অনেকটা মধ্যপ্রাচ্য আর দক্ষিণ এশিয়ার সংকর বলা যায়। একপাশে দিগন্ত বিস্তৃত মরুভূমি আর বেদুঈনদের বাস, আরেকদিকে চারিদিক ঘেরা সুউচ্চ পাহাড়ের খাঁজে গড়ে ওঠা এর প্রধান শহর সুবাশি(Subasci) – আর তার মানুষ – সনাতন আর বৌদ্ধ ধর্মের মিশেলে এক ধর্মের অনুসারী যারা, আর তাদের প্রার্থণার বড় একটা অংশ জুড়েই হয়তো বা ছিলো চলমান যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রেহাই পাওয়ার ব্যগ্র কামনা।

সায়াকো শিরাসু – জাপানী অনুসন্ধানী চিত্র-সাংবাদিক – তরুণী। যুদ্ধের কারণেই উদিয়ানায় পা রাখা তার, জ্যেষ্ঠ আর অভিজ্ঞ কেইচি আকাগির সাথে।তারপর হঠাৎ যখন বিক্ষোভের উত্তাল এক মূহুর্তে  তার তোলা বিপ্লবীদের হাতে উড়ন্ত UNF(জাতিসংঘ)-এর পতাকার এক ছবি হয়ে দাঁড়ালো উদিয়ানার শান্তিচুক্তির শক্ত হাতিয়ার, পুরো জাতির আশার প্রতীক, তখন খুব দ্রুতই শিরাসুর জীবনের মোড় ঘুড়ে গেল। সে পেয়ে গেল নায়োকোচিত(নায়িকাচিত?) সংবর্ধনা, আর আন্তর্জাতিক খ্যাতি। কিন্তু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগেই অপহৃত হলো সেই বিখ্যাত পতাকা। UNF থেকে তৈরি করা হল গোপন এক মিলিটারী ইউনিট, একমাত্র লক্ষ্য – শান্তিচুক্তির আগেই সেই পতাকা পুনোরুদ্ধার। আর সেই পতাকার সাথে তার যোগসূত্র থাকায়, অনেকটা মাসকট হিসেবেই শিরাসুকে জুড়ে নেওয়া হল এই দলে। তার সু্যোগ মিললো পুরো অপারেশনটা ক্যামেরাবন্দী করার। আর চিরদিনের জন্য একটি জাতির কিংবদন্তীর অংশ হওয়ার।

vlcsnap-2016-02-11-00h04m03s203

পলিটিক্যাল ড্রামা অ্যানিমে তুলনামূলক কম হলেও, একেবারে কম না। কিন্তু এক্ষেত্রে FLAG এর বিশেষত্ব হচ্ছে তার গল্পের প্রেক্ষাপট, বাস্তব-বিশ্বের সাথে রিলেটেবলিটি আর অবশ্যই এর গল্পবর্ণনার পারস্পেরক্টিভ। আর এখানে এর কৌশলগত বিশেষত্বও। FLAG-এর পুরোটাই তার দুই মূল চরিত্র সাংবাদিকের চোখ দিয়ে দেখানো, এবং সেটা আক্ষরিক অর্থেই – FLAG হলো (সম্ভবত) প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র “Found Footage” টিভি অ্যানিমে। অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য এক কীর্তি বলেই মনে হবে! কিন্তু সত্যি সত্যি-ই, FLAG-এর ২০ মিনিট ব্যপ্তীর পুরো ১৩ পর্ব ধরে দেখানো প্রতিটি মূহুর্ত হয় তার চরিত্রদের তোলাঃ স্থিরচিত্র বা ভিডিও অথবা কম্পিউটার পর্দায় চলা কোন ফাইল অথবা হেলিকপ্টার, সমরযন্ত্রের ভেতর-বাইরের ক্যামেরায় বন্দী হওয়া দৃশ্য – যেগুলো কখনো কখনো কেবলই একগাঁদা স্থিরচিত্রের মনটাজ, কখনো বা সম্মুখসমরে চলা রুদ্ধশ্বাস কোন দৃশ্য, আবার কখনো বা দুপুরের ব্যস্ততার সময়টায় মিলিটারী ক্যাম্পের রাঁধুনীর একান্ত সাক্ষাৎকার।

vlcsnap-2016-02-12-16h31m54s196

“Found Footage” কায়দাটা “সত্যিকারের” ক্যামেরায় কাজে লাগানো যতটা সহজ, অ্যানিমেশনে ততটাই কঠিন, যেহেতু অ্যানিমেশন বানাতে কোন ক্যামেরা লাগেনা। সাধারন ক্ষেত্রে ক্যামেরার বিভিন্ন বিষয়গুলো খুব দ্রুত এবং সহাজাতভাবেই হয়, সেখানে অ্যানিমেটরদের তা প্রতিটি ফ্রেমেই আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। এটেনশন টু ডিটেইলস হাঁ করে দেওয়ার মত। FLAG-এর “পাওয়া ফুটেজ”-গুলো কেবল এক কোনায় “REC” আর আরেক কোনায় সময়-তারিখ দিয়েই শেষ হয়ে যায়নি, এর ক্যামেরাগুলো গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে ক্যামেরাগুলো হঠাৎ সূর্যের আলোতে তাক করলে পর্দা অন্ধকার হয়, জুম-ইন আর জুম-আউটের সময় ঘোলাটে হয়ে যায়, বাহকদের কাঁপা কাঁপা হাতের সাথে তারাও নড়তে থাকে। অধিকাংশ সময়ই ফার্স্ট পারসন ভিউ থেকে দেখানো, শটগুলোও অনেক সময় দীর্ঘ আর আনকাট। আর একারণেই গল্পের দুই মূলচরিত্র শিরাসু আর কেইচির স্ক্রিনটাইম খুবই নগন্য। আমরা তাদের হাতে ধরা ক্যামেরার সাথেই পুরো উদিয়ানা চষে বেড়াই।

vlcsnap-2016-02-11-00h07m25s214

FLAG এর গল্প দুটো – সমান্তরালে চলা – শিরাসু আর কেইচির। শিরাসুর উপস্থিতি মিলিটারী ক্যাম্পের ভেতরে, যা আপাত নিরস, নির্মোহ সৈন্যদেরও – যাদের কাজই হচ্ছে মানুষের প্রাণ নেওয়া, সেটা সন্ত্রাসবাদ রুখতে কোন পরিকল্পিত আক্রমনের বলী চরমপন্থীই হোক, বা কোন “অঘটনে্র শিকার” সাধারণ মানুষে – মানবীয় দিক উপস্থাপনের প্রয়াস। আমরা শিরাসুর সাথে ঘুরে বেড়াই মিলিটারী ক্যাম্পের ব্যারাক, তার রান্নাঘর, তার পরিকল্পনা রুমে – আমরা তার সাথে হেলিকপ্টারে চড়ি, বেদুঈনদের সাথে দিন কাটাই, মধ্যরাতের রোমাঞ্চকর সব মিশনের সঙ্গী হই। আবার যুদ্ধ-রাজনীতির বিশাল বিস্তৃত সাদা-কালো ঘর করা ছকে ধীরে ধীরে সৈন্য শ্রেনীর গুঁটি হিসেবে আটকা পরি, আর বাকিদের মত।

HAVWC(team)

শিরাসু যেখানে বাইরের বিশ্ব থেকে বিযুক্ত, সেখানে কেইচি বরং সুবাশিতে আমাদের ভ্রমণসঙ্গী। আমরা তার সাথে পৌছাই বেজমেন্টের এক ক্যাফেতে যেখানে সব ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের আসর বসে, অথবা জ্যোৎস্না রাতে দেখে আসি উদিয়ানার শতাব্দী প্রাচীন এক ধর্মীয় আচার, কিংবা হতবিহবল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি সদ্য বোমা-বিদ্ধস্ত এক নগরীর ধ্বংসস্তুপে। কেইচি আমাদের ন্যারেটর। সে উদিয়ানার ইতিহাস সম্পর্কে জানায়, তার ঐতিহ্য সম্পর্কে জানায় – আর আমরা যখন উদিয়ানার এই সমৃদ্ধ ইতিহাস আর তার প্রাণবন্ত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানি – তা কোন অংশেই “ফিকশনাল” মনে হয় না। যেন পৃথিবীর মানচিত্র ফুঁড়ে বের হওয়া জীবন্ত কোন দেশ। উদিয়ানার বারুদের গন্ধ ভেসে বেড়ানো বাতাস আর এর রক্তভেজা পাহাড়, চারিদিক ছড়িয়ে থাকা এর মিথোলজি আর তার মানুষের জীবন-দর্শন, তাদের  অনিশ্চয়তায় ঘেরা বর্তমান আর আশায় বুক ভরা ভবিষ্যতের সাথে আমরা একাকার হই।

vlcsnap-2016-02-11-00h05m48s18

“Now we are out of place in our own home,” কেইচি সেইসব মানুষের ছবি তুলে, তাদের গল্প শুনে।  “You take our pictures and go home. But we have to stay here and live through all of this. Because this is the only place we can stay.”  তাদের মুখে লেগে থাকা স্মিত হাসির গভীরে দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়। লুকিয়ে রাখা সেইসব ক্ষত জট পাকিয়ে বেরিয়ে আসে, দুই পাহাড়ের মাঝখানে অস্ত যাওয়ার সূর্যের ক্ষনিক আভায় দ্যুতি ছড়ায়। কেইচির ক্যামেরায় আটকা পরে যুদ্ধের রেখে যাওয়া ধ্বংসলীলা।

vlcsnap-2016-02-12-16h32m58s66

ইংলিশ ডাবের ভয়েস অ্যাক্টিং সহজাত। আর্ট আর অ্যানিমেশন চমৎকার। এমনকি থ্রিডি অ্যানিমেশনও আর বেশিরভাগ অ্যানিমের চেয়ে ভালো। আর সবকিছুর মতই এর ক্যারেক্টার আর মেকা ডিজাইনও বাস্তবস্মত। যুদ্ধযন্ত্রগুলো এক লাফে দশ ফুট উঠে যায় না, আকাশে ভেসে বেড়ায় না। বরং যখন নতুন তাতে নতুন এক রাইফেল লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়, তখন বেশ কঠিন অংক কষেই তার পরিমার্জন করা হয়। তাদেরও দূর্বলতা, সীমাবদ্ধতা আছে। তারা পদার্থবিজ্ঞানে সূত্র মেনেই চলে। মেকা অ্যাকশন দৃশ্য হাতে গোনা এবং সাধারণ, বরং এর ক্যারেক্টার ড্রামাই গল্পের মূল আকর্ষন।

vlcsnap-2016-02-12-16h30m39s177

এর চরিত্ররদের মুভমেন্ট, ফেস এক্সপ্রেশন বাস্তবসম্মত না হয়েও বাস্তবসম্মত – সর্বদাই ক্যামেরা সামনে থাকায়, সেলফ-অ্যাওয়ার হওয়ায়, আলাদা একটা অস্বস্তি, জড়তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর এখানেই মূলত FLAG ভালো লাগা, না-লাগার ব্যাপারটা এসে যায়। এর গল্প যতই আকর্ষনীয় হোক, ন্যারেটিভ স্টাইলকে কোনভাবেই অগ্রাহ্য করা যায় না। তার চরিত্রগুলোর মতই ক্যামেরার উপস্থিতি সবসময়ই আমাদের চোখে লেগে থাকে। তার সাথে মানিয়ে নিতে না পারলে ১৩ পর্ব ধরে বসে থাকার মত ধৈর্য্য হওয়ার কথা না। FLAG-এর পেসিং ধীরগতির না হলেও, তখন সেটা “বোরিং” লাগাই স্বাভাবিক।

FLAG অনুসন্ধানী-সাংবাদিকতার প্রতি প্রেমপত্র। একে অ্যানিমেটেড স্যুডো-ডকুমেন্টারি বলা যায়, অথবা তার চেয়েও বেশি বলা যায় কোন ভবিষ্যৎ ডকুমেন্টারি বানানোর পেছনের গল্প – তার কাঁচামাল ইমেজ আর ভিডিওর সমাহার মাত্র। সেই ডকুমেন্টারি আদৌ বের হয় কিনা আমাদের জানা সম্ভব না। কারণ FLAG-এর কাহিনী অসমাপ্তই থেকে যায়। পৃথিবীর বুকে চলতে থাকা বর্তমান সব যুদ্ধের মতই কি না?