Anime Suggestion: Honey and Clover — Tufika Anwar

বড় হয়ে কি হবে বাবা?? এই ছেলে জীবনে কি হবার ইচ্ছা?? তারপর লাইফ প্লান কি??
ছোট বয়স থেকেই “এইম ইন লাইফ” প্যারাগ্রাফের সাথে সাথে এই ধরণের (ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি) প্রশ্নেরও সম্মুখীন আমরা প্রত্যেকেই হয়ে থাকি বিভিন্নভাবে জীবনের বিভিন্ন ধাপে।
তখন হয়ত আমরা বুঝে বা না বুঝে, জেনে বা না জেনেই এর উত্তর তৈরি করি। মজার ব্যাপার হল প্রশ্ন যতটা সহজ উত্তর ততটাই কঠিন। এর সাথে জড়িয়ে আছে সময়, আছে নিজেকে জানার ব্যাপার, আছে ভাগ্যের খেলা।
আর একটা বড় প্রশ্ন আপনার পাশের মানুষটি কে হবে?? আপনি যার জন্য রাত দিন সব এক করে ফেলছেন, আদৌ সেই জন কিনা- এই সব বড় বড় অনিশ্চিত বিষয়গুলো হয়ত এক দৌড়ে ভবিষ্যতে গিয়ে দেখে আসতে পারলে দারুন হত কিন্তু তা তো আর হবার নয়।
জীবনের এই সব ফাইনাল ব্যাপারগুলোর উত্তর মেলে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়েই। আর অনিশ্চয়তাই এই যাত্রার প্রধান আকর্ষণ।

HnC 2
এনিমে “হানি অ্যান্ড ক্লভার” এইম ইন লাইফ টাইফ প্রশ্ন থেকে পালাবার যখন আর উপায় থাকে না তেমনি বয়সের কাহিনী। দীর্ঘ ২৪ পর্ব জুড়ে আছে আর্ট কলেজের কয়েকজন ছেলেমেয়ে কারো হয়ত শেষ বর্ষ কেউ বা প্রথম বর্ষে তাদের বন্ধুত্ব, আছাড় খেয়ে প্রেমে পড়া তারপর ভালো মতো নাকানিচুবানি খাওয়া, প্রথম দৃষ্টির প্রেমও আছে, অসাধারণ কমেডি, অসাধারণ সিরিয়াস সব বিষয়ও আছে, জীবনের দর্শন বা লক্ষ্যের অনুসন্ধান। যদিও গল্পের প্রত্যেকটা চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন গল্পের বাহক আবার একে অপরের সাথেও জড়িত।
সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগার একটা এনিমে। শেষ পর্যন্ত আশ্চর্য হবার মতো আছে অনেক চমক, সময় ও ভাগ্যের খেলা, কোন আশ্চর্যের জন্য অপেক্ষা।

HnC 1

Tokyo Godfathers: মুভি রিভিউ – আসিফুল হক

 

কি দেখলামঃ Tokyo Godfathers

পরিচালকঃ সাতোশি কন
মানুষর জীবনের চিত্রনাট্যটা বড়ই অদ্ভুত। খুব অল্প সময়ের ব্যাবধানেই সব হিসেবনিকেশই উলট পালট হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় এক দিন; শুধু একদিন; মানুষের গোটা জীবনটাকেই এলোমেলো করে দিতে পারে। আমরা যতই অতীতকে চিন্তা করে ভবিষ্যতের ভাবনায় বুঁদ হয়ে থাকি না কেন, আমাদের বসবাস সবসময়েই বর্তমানে, যে কারণে বেশিরভাগ সময়েই নিজেদের ভেতরের, নিজেদের জীবনের আমুল পরিবর্তনগুলো অনেক সময়েই টের পাই না।

যারা এই মুহূর্তে এই পোস্ট পড়ছেন কম বেশি সবাই-ই হয়ত নিজের রুমে অথবা অফিসে আরাম করে বসে বা শুয়ে পোস্টটা পড়ছেন। এই অবস্থায় আসলে চিন্তা করা কষ্টকর; তাও একটা দৃশ্যর কথা চিন্তা করুন। ধরুন এই মুহূর্তে আপনি গৃহহীন; রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটে। ভিক্ষা করে, কুড়িয়ে – যেভাবে পারেন এটা সেটা যোগাড় করে বেঁচে থাকেন। একদিন প্রচন্ড শীতের রাতে আবর্জনার ভিতর খাবার কুড়োতে গিয়ে একটা বাক্সের ভিতরে খুঁজে পেলেন এক শিশুকে। কি করবেন তখন? পুলিশের হাতে তুলে দিবেন, যখন আপনি জানেন যে তার জায়গা হবে কোন এতীমখানায় অথবা মায়াদয়াহীন কোন পরিবারে? নাকি বাচ্চার বাবা মা কে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করবেন? অথবা নিজেদের ছোট্ট খুপড়ি ঘরে রেখে বড় করে তোলার কথা চিন্তা করবেন?

সাধারণত শিবুইয়া; ইকেবুকোরোর মতন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা রোপ্পঞ্জি বা আকিহাবারার মতন বিনোদন এলাকাগুলো দেখতে দেখতে জাপানের আরেক্টা পাশ আমাদের অজানাই রয়ে যায়, ঘনবসতিপূর্ণ টোকিও; আর সেখানকার অভিভাসী শ্রমিকদের ঘিঞ্জি বস্তি এলাকা; কিংবা বাস্তুহারা লোকদের জীবন যাপন; যারা নিয়মিত পদে পদে লাঞ্চিত হয়; হয়রানি হয়; বেঁচে থাকার জন্য প্রবল সংগ্রামে লিপ্ত হয়।
মুভিটির গল্প আবর্তিত হয় মুলত তিন গৃহহীনকে ঘিরেঃ মিয়ুকি – দলের সবচেয়ে নবীন সদস্য। হানা – ড্র্যাগ কুইন, যে কি না তার মেয়েলি ধাঁচের কথা বার্তা এবং কাজকর্ম দিয়ে সবসময় মনোযোগের কেন্দ্রে থাকার চেষ্টা করে। গিন – হতাশ মদ্যপ বয়স্ক ভদ্রলোক; যে সব সময়েই তার নিজের জীবন নিয়ে হাহুতাশ করতে থাকে।

আপাত দৃষ্টিতে খুব অচিত্তাকর্ষক এই তিনটি চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে থাকা সত্যগুলো, তাদের রাস্তায় নামার কারণগুলো একে একে আমাদের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বোধহয় হানার চরিত্রটিই। এনিমে ড্র্যাগ কুইন ধাঁচের চরিত্রগুলোর মুল লক্ষ্যই থাকে কমিকাল রিলিফ; তাদের জীবনের পিছনের গল্প, সংগ্রাম বা মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো ঘুরে দেখার চেষ্টা থাকে খুব কমই। এই মুভিটা অবশ্য সে পথে না হেঁটে হানার নিজেকে খুজে পাওয়ার সংগ্রামটা দেখিয়েছে যথেষ্ট যত্নের সাথেই।

গল্পের মাঝখানে একটা দৃশ্যে মিয়ুকি স্প্যানিশ এক মহিলার কাছে তার দুঃখগুলো, স্মৃতির কথাগুলো বলতে থাকে, জাপানিজে। ভদ্রমহিলা স্প্যানিশে তাকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন। কারো কথাই কেউ বুঝতেসে না; অথচ কে কি বলতে চাচ্ছে আন্দাজ করে নিতে মোটেও কষ্ট হচ্ছে না। দৃশ্যটা আমার কাছে পুরো মুভির হাইলাইট হয়েই থাকবে।

তবে একটা জিনিস কিছুটা চোখে লাগার মতন – একদিনের মধ্যে সব ঘটনার দৃশ্যপ্রবাহ দেখাতে গিয়ে মুভিটা নিয়মিতই কোইন্সিডেন্সকে কাজে লাগিয়েছে। শুরুতে ব্যাপারটা আকর্ষণীয় থাকলেও শেষ দিকে এসে খানিকটা একঘেয়ে হয়ে যায়। এবং এই জিনিসটা চরিত্রগুলোর ক্রেডিবিলিটিও খানিকটা খাটো করে দেয় বৈকি।

আর্টওয়ার্ক এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ চমৎকার। চরিত্রগুলোর ফেশিয়াল এক্সপ্রেশন বেশ কিছু জায়গাতেই অতিরঞ্জিত হলেও অভিব্যাক্তি ফুটিয়ে তুলেছে চমৎকারভাবেই।

দিনশেষে টোকিও গডফাদার ঘরছাড়া একদল ছন্নছাড়া মানুষের গল্পকে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছে ঘরের গল্প, পরিবারের গল্প, ভালবাসা আর মানবতার গল্প।

Hotarubi no Mori e রিভিউ — Amor Asad

Hotaru 1

Hotarubi no Mori e
(হোতারু বিবির মৃত্যু নাই 😉 )
AKA Into the Forest of Fireflies’ Light (2011)

এই অ্যানিমে আমাকে বানাতে দিলে আমি নাম দিতুম, “হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো’, যেন মুভি শেষ করে দর্শক নামটা দেখে কাহিনীর সাথে মনে মনে সংযোগ করে নিতে পারে।

সারসংক্ষেপঃ ছোট্ট দুরন্ত এক বালিকা Hotaru, বয়স মাত্র ছ’বছর, ছুটোছুটি করতে করতে জঙ্গলে হারিয়ে গেলো। যে সে জঙ্গল না, কথিত আছে, এখানে নাকি মাউন্টেইন গড এবং স্পিরিটদের বসবাস।
Hotaru উদ্ধার পেলো, কিন্তু সেই সাথে একজন বন্ধুও জুটিয়ে ফেললো। তবে সময় নামক বেরসিক হতচ্ছাড়াটা বাগড়া না বাঁধালে বোধকরি ভালোই হত। আর না বলি, স্পয়লার দেয়া হয়ে যাবে। এমনিতেই রানটাইম অনেক কম।

Hotaru 2

অ্যানিমে শর্ট ফিল্ম কালে ভদ্রে দেখা হয়। পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমে ছায়াছবির চেয়ে শর্ট ফিল্ম গুলোতে স্বভাবতই কম সময় পাওয়া যায়; এ অল্প সময়ে পরিপূর্ণ কোন ভাব প্রকাশ করা চাট্টিখানি কথা না।
উৎরে গেছে Hotarubi no Mori e. গল্পে কোন ইন্টেনসিটি নেই, অতিরিক্ত ভাবাবেগ নেই; বরঞ্চ একটা মানানসই প্রাঞ্জলতা কাজ করছে। মুভির গল্পকথন আপনাকে চেয়ারে আঠা মেরে রাখবে না, আবার উঠে যাওয়ার অনুমতিও দিবে না। ক্যারেক্টার ইন্ট্রোডিউস করতেও বাড়তি সময় নেয়া হয়নি, কাহিনী এগোনোর তালেই দর্শক ঠাওর করতে পারে।

প্রধান চরিত্র Hotaru সিনেমার শুরুতে অতীত-কীর্তন শুরু করে অর্থাৎ, শুরুটা ন্যারেটিভ ভঙ্গিমার। এবং একটা সময়ে কাহিনী ক্যাচ আপ করে বর্তমান সময়ে চলে আসে। গোটা সিনেমার কাহিনীর সাথে ফিল্ম এডিটিং এর এই অনিবার্য মিল খেয়াল করে বেশ মজা পেলাম।

তবে সময়কে অনুভব করার শিক্ষা পেলাম নতুন করে। অযথা দুশ্চিন্তা করে লাভ নাই বাহে, এসো বর্তমানে বাচি।

আমার রেটিং ৮.৫/১০

Hotaru 3

Tokyo Ghoul Anime vs Manga — Rezo D. Skylight

TG

টপিকটি শুরু করার পূর্বে আমি বলে নিতে চাই আমি Tokyo Ghoul এনিমের দুইটা সিজনই দেখেছি, সাথে মাঙ্গাও পড়েছি। তবে মাঙ্গাটা আমি আগে পড়েছি তারপর এনিমেটা দেখেছি।

টপিকঃ Tokyo Ghoul Anime vs Manga / Tokyo Ghoul Complete Review.

আলোচনা শুরু করি Tokyo Ghoul এর এনিমে দিয়েই। গতবছর যখন Tokyo Ghoul এর এনিমে বের হল তখন এটি প্রায় সব Anime Community তে তুমুল সাড়া জাগিয়েছিল। অনেকেরই ধারণা ছিল যে এটি বছরের সেরা এনিমে হতে যাচ্ছে। কিন্তুু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে “Studio pierrot” Tokyo Ghoul কে পুরুপুরি নষ্ট বানিয়ে ফেলেছে। সোজা কথায় বলতে গেলে যাকে “Trash adaption” বলা হয়ে থাকে। এখন যারা শুধু এনিমে দেখেছেন অনেকেই ভাবছেন যে, “কই কাহিনী তো ভালোই ছিল, Trash adaption হল কিভাবে?” আমি এখন সেটাই ব্যাখ্যা করবো।

Tokyo Ghoul (Anime 1st season):
শুরুর এপিসোডটা খারাপ ছিল না যদিও ৬ চ্যাপ্টার মিলে এপিসোডটি বানানো হয়েছিল। কিন্তু এর দুই তিন পর্বের পরেই পুরো “Dove Arc” টা বাদ দিয়ে পরের আর্কটা শুরু করেছিল। আবার সেই আর্ক শেষে আবার “Dove Arc”টা লাস্টের দিকে নিয়ে এসেছে। এরপর কয়েকটা আর্ক বাদ দিয়ে একেবারে “Aogiri Arc” এর লাস্টের দিকের কাহিনী দেখানো হয়েছে। বলতে গেলে পুরা কাহিনীকে জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। আর শেষ এপিসোডের কানেকির চুল সাদা হয়ে যাওয়া দেখে আমার বেশ হাস্যকর লেগেছিল। আমি শুধু বলেছিলাম, “এইটা কিছু হইলো? কি জিনিসকে কি বানায় ফেলছে এরা। এত দ্রুত চুল সাদা বানায়ে ফেলল।” যাই হোক এনিমের ১ম সিজনটা প্রচণ্ড বাজে ছিল। মাঙ্গার পুরো ৬৫ চ্যাপ্টার মিলে ১২ এপিসোডের একটা এনিমে বানাতে গেলে কেমন হবে এইবার বুঝে নিন। তবে “Unravel” গানটা আর OST গুলো ছিল প্রশংসা করার মতো, এতে আমার কোন অভিযোগ নেই।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 8.11
বেক্তিগত রেইটিং: 4/10

Tokyo Ghoul √A (Anime 2nd season):
Tokyo Ghoul √A এর কথা বলতে গেলে আমি বলব এইটা ছিল Tokyo Ghoul এর “Spin-off” সিরিজ ছাড়া কিছুই না। এর সাথে মাঙ্গার কাহিনীর কোন মিল নেই। সম্পূর্ণ আলাদা রুটে তৈরি কাহিনী। “√A” বলতে “Root Aogiri” বুঝানো হয়েছে। যদিও এর কিছু কিছু জায়গা মাঙ্গার কাহিনীর সাথে মিলে গিয়েছিল। তাও কাহিনীটা কেমনজানো খাপছাড়া টাইপের ছিল। ওভারঅল আমার কাছে তেমন ভালো লাগেনি। এর থেকে মাঙ্গার ষ্টোরি রুট হাজার গুনে ভালো ছিল।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 7.59
বেক্তিগত রেইটিং: 3/10

Tokyo Ghoul (Manga):
এখন মাঙ্গার কথা শুরু করি। বলতে গেলে মাঙ্গাটা আমার পড়া “মাস্টারপিছ” মাঙ্গাগুলার মধ্যে একটা। মাঙ্গার কাহিনীর সিকুয়েঞ্ছ ঠিক ছিল, সবকিছু ঠিকঠাক মতো এক্সপ্লেইন করা হয়েছিল। যেমন-

[এরপর থেকে পড়লে সতর্ক থাকুন। কিছু মাইনর স্পয়লার রয়েছে। স্পইলার এড়িয়ে পড়তে চাইলে একেবারে শেষের “>” পেরাটি পড়ুন।]

১. এনিমেতে কানেকির কোন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দেখানো হয় নাই। মাঙ্গাতে
Yomo আর Touka মিলে কানেকিকে ফাইটিং স্কিল শিখেয়েছিল। এনিমেতে তার সিংহভাগ অংশ স্কিপ করা হয়েছে। এছাড়া আরও বহুত ফাইটিং সিন এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। মাঙ্গাতে এগুলো ঠিকমতো দেখানো হয়েছে।

২. Dove আর্কের পর কতগুলো আর্ক ছিল। যা এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। আর্কগুল খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

৩. Amon, Nishiki, Akira, Suzuya সহ আরও অনেক ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো মাঙ্গায় খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।

৪. “Aogiri Arc” এর শতকরা ৫% কাহিনী এনিমেতে দেখানো হয়েছে। শুধু জেসন কানেকিকে ধরে নিয়ে টর্চার করে সেই সিনটুকু দেখিয়েছে। কিন্তু মাঙ্গাতে এর অনেক কাহিনী এক্সপ্লেইন করা হয়েছে। আর কানিকির চুল এনিমের মতো হটাত করে সাদা হয়ে যাইনি। মাঙ্গাতে ধীরে ধীরে ওর মাথার চুল সাদা হতে থাকে প্রতিনিয়ত মানুষিক ও শারীরিক টর্চারের কারনে। একসময় সে বাস্তবতা বুঝতে পেরে সে মানুষিক ভাবে পরিবর্তন হয়ে পরিণত হয় নতুন কানেকিতে।

৫. এরপর “√A”তে Ayatoর সাথে নামমাত্র ফাইটিং দেখিয়েছে। আর আপনারা মাঙ্গাতে সেই ফাইটিং সিন দেখলে মানব শরীরের ২০৬ টা হাড়ের নাম মুখস্ত হয়ে যাবে।

> এরপর আর কাহিনীর মিল নেই। আর মাঙ্গার কাহিনীও আর বলছি না। বাকিটুকু আপনারা মাঙ্গাটা পড়ে জেনে নিয়েন। আমি রিকোয়েস্ট করবো মাঙ্গাটা একেবারে ১ম চ্যাপ্টার থেকে পড়ার জন্যে। তাহলে ওরিজিনাল “Tokyo Ghoul” এর কাহিনী উপভোগ করতে পারবেন। এইটা সত্য মাঙ্গাটা ভালো হওয়া সত্তেও এনিমের কারণে ঢাকা পড়ে গিয়েছে এবং মানুষজন Tokyo Ghoul নিয়ে অনেক নেগেটিভ মন্তব্য করছে। আর এই উদ্দেশেই আমি এই টপিকটি লিখলাম Tokyo Ghoul নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্যে।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 8.79
বেক্তিগত রেইটিং: 9.5/10

*F.A.Q-

১. কানেকির চুল হটাত সাদা হয়ে যাওয়ার কারণ কি? এর কোন এক্সপ্লেনেশন আছে?
=> কানেকির আসলে “Marie Antoinette syndrome”-এ ভুগেছিল। এইজন্যই তার চুল হটাত সাদা হয়ে গিয়েছে। প্রচণ্ড মানুষিক চাপ, ভয়, দুঃখ ইত্যাদি কারণে চুলের সাদা রঙের জন্য দায়ী হরমোনগুলো অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। আর এই কারণেই হটাত চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। [ তথ্যসূত্র –https://en.wikipedia.org/wiki/Marie_Antoinette_syndrome ]

২. Tokyo Ghoul এর মাঙ্গাকা Ishida Sui এর আসল পরিচয় কি?
=> এখনো তা জানা সম্ভব হয়নি। কারণ সে এখনো মানুষের সামনে অফিসিয়াল ভাবে দেখা দেয়নি। এজন্য তার পরিচয় এখনো গোপন রেয়েছে।

৩. কানেকি যে বইগুলো পড়ে সেগুলো কি আসলেই আছে?
=> ‘The Black Goat’s Egg’ এর মতো আরও কিছু কিছু কাল্পনিক বই ছিল। কিন্তুু কিছু বই আসলেই আছে। যেমন- Franz Kafka’s ‘Crossbred’ এবং Brothers Grimm’s ‘Grimms Märchen’ বইদুটি আসলেই আছে।

ধন্যবাদ এত কষ্ট করে লিখাটা পড়ার জন্য। আশা করি আপনারা মাঙ্গাটা পড়ে দেখবেন।

Binbougami Ga [এনিমে রিভিউ] — Maruf D. Raihan

binbougami ga

Binbougami Ga(Poor God) / বিনবোগামি

এপিসোড সংখ্যা: ১৩
জেনরা: কমেডি,প্যারোডি,শোউনেন,সুপারন্যাচারাল
স্টুডিও: টিভি টোকিও,সানরাইজ এন্টারটেইনমেন্ট
MyAnimelist Rating: ৭.৯৫
ব্যক্তিগত রেটিং :
সর্বোপরি : ৭.৬/১০
প্লট: ৬.৯/১০
চরিত্রায়ন : ৮.৩/১০
কমেডি :৮.৮/১০

যদি পড়ন্ত কোন বিকেলে “Grave of the Fireflies ” বা “Your Lies in April” দেখার পর এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় বিমর্ষ মুখে বসে আছেন,চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে কিন্ত সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। বাইরে তাকিয়ে কি যেন ভাবছেন।

তাহলে মুড চেঞ্জ করুন। এত সিরিয়াস কেন???


টাডা!!!!!!!!!!!!!! ♪

ভাগ্যবান কে না হতে চায়? দুর্ভাগ্য বরণ করতে কেউ রাজি নয়। কিন্ত কেমন অবস্থা হবে যখন খুব বেশি ভাগ্যবান হওয়ার অপরাধে উপররের জগত হতে কামি-সামা এসে তার ভাগ্য চুরি করতে উদ্যত হয়!!!!!!!

কিছুই হবে না। একটি অতি মজাদার টাইপের এনিমে শুরু হবে [Binbougami Ga]

সাকুরা ইচিকো(প্রধান চরিত্র) এক অতিরঞ্জিত ধনের দুলালী তথা সেলিব্রিটি কন্যা। তার মোহিনীয়তার জোরে ছেলেরা কাবু। এই নিয়ে স্কুলের অন্যান্য মেয়েরা ঈর্ষান্বিত তার ওপর। কিন্ত এক মেয়ের কপলে এত সৌভাগ্য কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আকাশ ফেড়ে নেমে এলেন বিনবোগামি সামা, কামি-সামা। কিন্ত ইনি কারও ভালো করেন না, সাহায্যও না। ওনার কাজ দুর্ভাগ্য বয়ে আনা।

শুরু হয়ে যায় টম এন্ড জেরির লুকোচুরি খেলা। তবে বেশ মজাদার ভংগিতে। বিনবোগামি সামার টার্গেট সাকুরার ভাগ্য আর সাকুরার লক্ষ্য ভাগ্য রক্ষা। গল্পের এভাবেই শুরু হয়……..

আর কাহিনী বললে দেখার আগেই এনিমে শেষ,এমন অবস্থা দাড়াবে। তাই কিছু খুঁটিনাটি দিক নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ওপেনিং সং টা বেশ আনন্দদায়ক। গান হিসেবে কমেডি টাইপ হলেও কথা ও সুরে হাসির উদ্রেক করার জন্য যথেষ্ট।

পিকো এনাহোমার “Make my day” গানটির ইউটিউব লিনক-

হ্যা! হ্যা! হ্যা! বিনবোগামি তে এচি ও এডাল্ট ম্যাটেরিয়াল আছে। কিন্ত তাই বলে একে ফালতু বলার কোন সুযোগ নেই। কারন যা ইনক্লুড করা হয়েছে তা এনিমেটিকে হাস্যরসাত্নক করার জন্য।
ফালতু ন্যাকামি নেই বললেই চলে, যা আছে তা প্লটের সাথে মানানসই…….

ছোট আয়তনে এসেছে অনেক চরিত্র। আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, ১৩ এপিসোডের এনিমেতে এত চরিত্র আসলেও তা অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়নি। রয়েছ কিছু অদ্ভুত ও মজাদার ক্যারেক্টার :

সাকুরা ইচিকো
বিনবোদা মোমিজি
হিনকোগাওয়া
সুয়াবুকি কেইতা
ইনুগামী মোমোউ
রিন্দো রানমারু

আর এই এনিমেতে ডেথ নোট,ওয়ানপিস, ড্রাগনবল জি এমনকি ডোরেমনকে নিয়ে ব্যাপক ট্রলিং হয়েছে যা ব্যাপক হাসির খোরাক যোগাবে।।

একবারে বসে শেষ করে ফেলুন। আগেই বলেছি, এর একমাত্র উপযোগিতা হল মুডকে হাস্যোজ্জল করা। অর্থাৎ এনিমেটা দেখে আপনি বিশাল বিনবোগামি ফ্যান হয়ে যাবেন, প্রোফাইল পিকচার এ বিনবোগামি ক্যারেক্টার এর ছবি দেবেন… তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা ১/১০০……
তবে যতক্ষণ দেখবেন, ততক্ষণের বিনোদন গ্যরান্টিড। কিন্ত এনিমে শেষ করার পর যদি মনে হয়, “ধুর!!!!! ফাও ফাও টাইম ওয়েস্ট করলাম” তাহলে সেটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না। কেননা এটা আপনাকে ভাবাবেও না, কাঁদাবেও না। কিছুক্ষণের জন্য হাসাবে।

আর মানগাটা না পড়তে রিকমেন্ড করব। মানগাটির আকা কোরিয়ান এচি মানহয়ার মত ফালতু।

যাই হোক, বিনবোগামি নিয়ে আর কথা বাড়াব না।
কৌতুহল জাগলে পরখ করে দেখতে পারেন। ভালো লাগলে জানাবেন।।।

Movie Time With Yami – 56

maxresdefault (2)

 

Name: When Marnie Was There / Omoide no Marnie
Duration: 1 hr. 43 min.
MAL Score: 8.43
Ranked: 138
Genres: Mystery, Psychological

জাপানের কোন এক প্রান্তে একটি শহর স্যাপ্পোরো। এই শহরে বাস করে আন্না নামের একটি মেয়ে। কিছুটা চুপচাপ, অমিশুক স্বভাবের এই মেয়েটির কোন কাছের বন্ধু নেই; ছবি আঁকার খাতা-কলমই তার একমাত্র সঙ্গী। আন্নার জন্য তার মায়ের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই; তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও তাকে গ্রামে আত্মীয়দের বাড়িতে কিছুদিনের জন্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন আন্নার মা, কিন্তু আন্না বরাবরের মতই তাকে ভুল বোঝে এবং কিছুটা রাগ করেই ট্রেনে চড়ে বসে গ্রামে যাওয়ার জন্য।

গ্রামের নিশ্চুপ ছিমছাম পরিবেশ, আত্মীয়দের হাসিখুশি আপন আপন ব্যবহার, সবই আন্নার পছন্দ হয়, কিন্তু একটা ব্যাপারে রয়ে যায় সেই আগের মতই, অচেনা মানুষদের সাথে কখনই সহজ হতে পারেনা সে। আন্নার দিন তাই কাটে আশেপাশের জঙ্গল এবং পুরনো বাড়িঘর দেখে আর সাগরপাড়ে বসে ছবি এঁকে।

এভাবেই সে একদিন আবিষ্কার করে একটি রহস্যময় বাগানবাড়ি। বাড়িটির প্রতি সে কেমন যেন একটা টান অনুভব করে। তাই সাগরের মাঝে একটি দ্বীপের মত জেগে থাকা বাড়িটির কাছে সে ছুটে যায় বারবার। এভাবেই সে আবিষ্কার করে এক গভীর রহস্য, যা আন্নার পুরো জীবনটাকেই বদলে দেয়।

মুভিটি স্টুডিও জীবলীর শেষ মুভি (তাদের ভাষ্যমতে), আর এই শেষ মুভিটিই তাদের এত বেশি সুন্দর হয়েছে, যে মুভিটি দেখার পর থেকেই আমার খুব আফসোস হচ্ছে যে এত সুন্দর একটা জার্নি কেন হঠাৎ করে এভাবে থেমে যাবে! মুভির কাহিনী খুব বেশি চমৎকার, জিবলী স্টুডিওর করা সেরা কাহিনীর মুভি এটি। খুব সাধারণ একটা শুরুর পরে আস্তে আস্তে অসাধারণ একটা সাইকোলজিক্যাল মুভিতে টার্ন নেয় এটি; আর সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাপারটা হল, পুরোটা সময় দর্শককে একইভাবে মন্ত্রলুগ্ধ করে রাখার ক্ষমতা আছে মুভিটির। কাহিনীর পেসিং খুব বেশি চমৎকার, অল্প সময়ের মাঝেই ভেতরে টেনে নেয় দর্শককে। এটির আর্টওয়ার্ক জিবলীর সেরা আর্টওয়ার্কগুলোর একটি; কাহিনীর রহস্যময়তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুরো মুভিতে যে আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে- এককথায় অসাধারণ! সেইসাথে কৃতিত্ব দিতে হবে এর সাউন্ডট্র্যাককেও, কাহিনীর গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মনকাড়া ওএসটি নিমেষেই যে কারও মন ভাল করে দেবে!

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলুন আমার খুব পছন্দের এই সুন্দর মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/When-Marnie-Was-There

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

অ্যানিমে রিভিউঃ আন-গো; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

UN-GO.full.890295

 

জনরাঃ মিস্ট্রি, সুপারন্যাচারাল
পর্বসংখ্যাঃ ১১

ভবিষ্যতের যুদ্ধ-পরবর্তী বিধ্বস্ত জাপান। দেশটির শাসনের ভার মিলিটারীর হাতে, সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কঠোরভাবে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্র নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মাঝে ইন্টারনেট ও তথ্য সরবরাহের সকল উৎসও রয়েছে।

এরকম সময়ে টোকিওতে বাস করে ইউকি শিনজুরৌ। তার সম্পর্কে প্রচলিত কথাটি হল, “ডিফিটেড ডিটেকটিভ”, যদিও সে নিজেকে “লাস্ট গ্রেট ডিটেকটিভ” বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। এই অস্থিতিশীল জাপানের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চুনোপুঁটি থেকে শুরু করে রুই-কাতলারা পর্যন্ত করতে থাকে বিভিন্ন চক্রান্ত, যার মাঝে হত্যা থেকে শুরু করে ক্ষমতা দখলের লড়াই পর্যন্ত সবই অন্তর্ভূক্ত। ইউকি শিনজুরো তার অদ্ভুত সঙ্গী ইংগা কে সাথে নিয়ে প্রতিটি রহস্যের তলানি পর্যন্ত যায়, যদিও এর জন্য তাকে বিভিন্ন সময়ে অনেকের রোষানলের কবলে পড়তে হয়। তাও তাকে চালিয়ে যেতে হবে সত্যের অনুসন্ধান, নাহলে যে এক ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে ইংগা! এই পথে ইউকির সাথে কখনো বন্ধু, আবার কখনো প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করেন কাইশৌ রিনরোকু, একটি বড় কোম্পানির ডিরেক্টর তিনি, ঘরে বসে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

১১ পর্বের অ্যানিমে, খুব বেশি ডেভেলপমেন্টের আসলে তেমন সুযোগ নেই, তবে তারপরেও আস্তে আস্তে প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি রিভিল হয়, ব্যাপারটা ভালভাবেই এক্সিকিউট করা হয়েছে। মিস্ট্রির অংশটা আসলেই অনেক ভাল, হত্যা, চুরি-ডাকাতি বা ষড়যন্ত্র, যাই হোক না কেন, প্রতিটি পর্বেই নতুন নতুন কেস আনা হয়েছে, এবং শেষের দিকে কয়েকটি কেসকে একসূত্রে গেঁথে একটি বড় মিস্ট্রি বানানো হয়েছে, ব্যাপারটা বেশ ভাল লেগেছে। প্রোটাগনিস্ট হিসেবে ইউকি শিনজুরৌ খারাপ না, যদিও মাঝে মাঝে তার আচরণ একটু খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে।

প্রশংসার সাথে সাথে খুঁত জিনিসটাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এই অ্যানিমেও তার ব্যাতিক্রম নয়! শুরু থেকেই যে জিনিসটা আমার কাছে বিরক্তিকর লেগেছে, তা হল “ইংগা” নামের চরিত্রটি। আপনারা যারা অ্যানিমেটি দেখেছেন, তারা হয়ত বুঝতে পারবেন আমি কি বলতে চাচ্ছি, আমার মনে হয়েছে, শুধুমাত্র ঐ একটা প্রশ্ন করার জন্য এরকম একটা ক্যারেক্টারের আসলে খুব দরকার পড়েনা, অপরাধীর মুখ খোলানোর আরও হাজারটা উপায় রয়েছে। তারপরেও সে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ অ্যানিমেটির, তাই অস্বস্তিটাও বেশি লেগেছে। এছাড়া মিস্ট্রি যখন সলভ করা হয়, মাঝে মাঝে এক্সপ্লানেশনগুলো খাপছাড়া লেগেছে, কিছু ক্ষেত্রে আরেকটু ডিটেইলড এক্সপ্লানেশন জরুরী ছিল।

অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক ভাল, ওএসটিও মন্দ নয়, মাঝে পপ আইডল “ইয়োনাগাহিমে” নিয়ে একটি কেস ছিল, সেই কেসটিতে এই (https://youtu.be/mf6VOxXKqus) গানটি ব্যবহার করা হয়, আমার বেশ দারুণ লেগেছে এটি। কাহিনীর গতি ভাল, তবে মাঝে মাঝে একটু বেশিই দ্রুত এগিয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে এটি ভালই, ১১ পর্বের ছোট একটা অ্যানিমে, তাই অল্প সময়ের মাঝেই শেষ করা সম্ভব, সিনোপসিস পড়ে ভাল লাগলে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।

UN-GO.full.887252

Children Who Chase Lost Voices রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

Children Who Chase Lost Voices – মুলত জাপানিজ একটা উপকথার উপর ভিত্তি করে তৈরি মুভি, যেখানে গল্পের দুই প্রধান চরিত্র তাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে রওনা হন মৃতদের দেশে।

অন্ধকারে অদ্ভুত আওয়াজ আর ক্রিস্টাল রেডিও থেকে ভেসে আসা অপার্থিব এক সুর – শুধু এইটুকুর উপর ভর করেই আসুনার যাত্রা শুরু হয় পৃথিবীর নিচে হারিয়ে যাওয়া কিংবদন্তীর জগতে। অদ্ভুত প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত আর রহস্য ঘেরা এক বালকের মাধ্যমে উদ্ধার পাওয়া আসুনা নিজেকে আবিস্কার করে শতাব্দী পুরোনো এক রহস্যের মাঝে; যেটা কিনা তাকে দাঁড় করিয়ে দেয় এমন এক সত্যের মুখোমুখি যেটার সাথে জড়িত আছে খোদ জীবন আর মৃত্যুর রহস্য।

আসুনা পাহাড়ী এক গ্রামের সাধাসিধে কিন্তু মেধাবী এক মেয়ে। বাবা নেই; মায়ের কর্মক্ষেত্রে বিশাল ব্যস্ততার কারণে মোটামুটি একাকীই দিন কাটে আসুনার। পড়াশুনায় ভীষণ মেধাবী আসুনা তাই সময় পেলেই মাঝে মাঝে ছুটে যায় পাহাড়ে, ক্রিস্টাল রেডিও আর একটা বিড়ালকে সঙ্গী করে একাকী সময় কাটায় দূরদেশের সুর শোনার অপেক্ষায়।

গল্পের অন্য মুল চরিত্র রিউজি – যিনি আসুনার স্কুলে বদলি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্ত্রীর মৃত্যুর ১০ বছর পরেও তার স্মৃতি আর শোক বয়ে চলা ভদ্রলোকের অন্যতম লক্ষ্যই হল মৃতদের জগত থেকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা। এই নিয়ে সব রকম গবেষণা এবং খোঁজাখুঁজিতেই সময় কাটে তার। রিয়ুজির চরিত্রের মাঝে সব সময়েই আমরা একটা অন্তদ্বন্দ্ব দেখতে পাই। সে তার লক্ষে অটল, কিন্তু সেটা পাগলামির পর্যায়ে না; কিন্তু আবার অবসেসডও। এর মাঝেও সে আসুনার দিকে খেয়াল রাখে, দেখাশুনা করে; তাকে রক্ষা করে।

মৃত ব্যাক্তিকে মৃতদের রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনা কিংবা পুনর্জন্ম – চলে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনার চিরন্তণ যে মানব আকাঙ্ক্ষা; তার কথা ঘুরে ফিরে এসেছে সব ধর্মেই, সব কালেই, সব পুরোকথাতেই। জাপানিজ, গ্রীক কিংবা রোমান – সব মিথোলজিতেই অনেক আকর্ষণীয় গল্প আছে এই বিষয়টা নিয়ে।

জাপানিজ শ্রুতিমতে, ইজানাগি আর ইজানামি জাপান এবং এর সব দেবতাদের সৃষ্টিকর্তা। এই জুটি প্রথমে আটটা ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দেন, যারা কিনা পরে জাপানের আটটা দ্বীপে পরিণত হন। ইজানাগি ইজানামি এর পর একে একে জন্ম দেন পাহাড়, উপত্যকা, জলপ্রপাত, ঝর্ণা, বাতাস, এবং অন্যান্য দেবতার। সমস্যাটা বাঁধে আগুনের দেবতা কাগুতসুচি(Kagutsuchi)র জন্মের সময়; ইজানামি খুব বাজেভাবে আগুনে পুড়ে যান। তারপরেও থেমে থাকেন নি ইজানামি; এই অবস্থাতেও আরও দেবতার জন্ম দিতে থাকেন এবং কিছুদিনের মাঝেই মারা যান।

মৃত্যুর পর ইজানামির জায়গা হয় ইয়োমি সু কুনি(Yomi-tsu Kuni)তে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ইজানাগি রওনা হন ইয়োমির পথে। সেখানে ইজানামি অন্ধকারের মাঝে তাকে বরণ করে নেন। ইজানামি তাকে অনুরোধ করেন যতক্ষণ না ইয়োমির দেবতার কাছ থেকে অনুমতি আদায় করতে পারেন ততক্ষণ যেন তার দিকে না তাকান ইজানাগি। কিন্তু স্ত্রীকে দেখার পরম আকাঙ্ক্ষায় ইজানাগি আলো জ্বেলে ইজানামিকে দেখতে উদ্যত হন। কিন্তু ইজানামির পচা গলা মৃতদেহ দেখে আতঙ্কিত ইজানাগি পালিয়ে আসেন ইয়োমি থেকে।

ফিরে এসে ইজানাগি নিজেকে পবিত্র করার জন্য স্নানের ব্যাবস্থা করেন। এ সময় ইজানাগির কাপড় এবং শরীর থেকে আরও কিছু দেবতার সৃষ্টি হয় যাদের মধ্যে ছিল সূর্যদেবী আমাতেরাসু ( Amaterasu), চন্দ্রদেবতা সুকিয়মি(Tsuki-yomi) এবং ঝড়ের দেবতা সুসানো (Susano-ô) – যাদের মাঝে পরে ইজানাগি তার রাজত্ব ভাগ করে দেন।

মুভির ঘটনাপ্রবাহ যথেষ্ট সহজ সরল এবং কিছুটা একমুখী। এবং বেশ কিছু জায়গায়ই অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টাও করে নি। ক্লাভিস নিয়ে মুভিতে এতো ঘটনা ঘটল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লাভিস কি জিনিস (“মাটির নিচের পৃথিবীর চাবি” – শুধু এইটুকুতে আসলে সব প্রশ্নের উত্তর হয় না) কিংবা আসুনা কি করে ক্লাভিসের অংশ হাত করে নিল – সেই প্রশ্নের কোন জবাব নেই গোটা মুভি জুড়ে। আসুনা আর রিয়ুজি একবার আগার্থায় (By the way, মাটির নিচের পৃথিবীর আরেক নাম আগার্থা) প্রবেশ করার পর উপরের পৃথিবীর কথা একেবারে বেমালুম ভুলে গেল সবাই। উপরে আসুনার মায়ের কি হল, রিয়ুজির সাথে থাকা সঙ্গী সাথীদের কি হল – মুভির শেষেও এইরকম কোন কিছুরই উত্তর পাওয়া যায় না। মুভির কিছু কিছু জায়গায় পানি সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল; কিছু পানিতে শ্বাস নেওয়া যায়, কিছু জায়গায় সেভাবে যায় না; আগার্থার যে যে জায়গায় দরকার সেখানে সেখানে ভিটা আকুয়া(শ্বাস নেওয়া যায় এমন পানি)র ব্যাবস্থাটা খানিক্টা হলেও কাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।

মুভিটা প্রথম প্রায় ৩০ মিনিট ব্যয় করে চরিত্রগুলোকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে; এবং এই ৩০ মিনিটে আমরা আসলে কোন আভাসই পাই না সামনে কি হতে যাচ্ছে। এবং এই প্রথম পর্বে আমরা আসুনার জীবন যাপন দেখতে পাই, তার চারপাশের পরিবেশ দেখতে পাই – যেটার আসলে বাকি মুভিতে মোটেও খুব একটা গুরুত্ব নেই। এবং এই সময়ের মাঝে এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছুও ঘটে না যেটা আসলে বাকি মুভিতে তেমন প্রভাব ফেলে। দু’তিনটে চরিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এতো লম্বা সময় নিয়ে নেওয়াটা খানিকটা হতাশাজনকই ছিল।

মুভিটা চরিত্রনির্ভরতার বদলে পুরোপুরিই গল্প নির্ভর ছিল। সমস্ত সময় জুড়েই আসুনা এবং রিয়ুজির অভিযানই ফোকাসে ছিল, চরিত্রগুলো নয়। সেই কারণে কোন চরিত্রই খুব বেশি স্বতন্ত্রতার সুযোগ পায় নি। মাঝে মাঝে ফ্ল্যাশব্যাক এবং পিছনের ঘটনার যে সব বর্ণনা এসেছে তাও গল্পের প্রয়োজনেই।

শিনকাই এর অন্যান্য মুভির মতন এই মুভিরও আর্টওয়ার্ক খুবই চমৎকার; যদিও “হারিয়ে যাওয়া জগত” কিংবা “মাটির নিচের রাজ্য” চেনাজানা পৃথিবীর মতনই ছিল অনেকটা। এনিমেশন খুব ফ্লুইড, সিজি থেকে শুরু করে সব কাজই খুব যত্ন নিয়ে করা ছিল; কোথাও কোন কিছু বেখাপ্পা লাগে নি। চরিত্র রুপায়ন অবশ্য খুব একটা আহামরি ছিল না; আসুনা, শিন, শুন বা রিয়ুজি – সবগুলো চরিত্রের ডিজাইনই কম বেশি একমুখী ছিল। তবে মিমি এবং গেটকিপারদের ডিজাইন ছিল খুব রিফ্রেশিং। আর সিমপ্লিসিটি থাকার কারণে প্রত্যেকটা চরিত্রকেই আলাদা করা গিয়েছে খুব সহজেই। কিছু কিছু দৃশ্য, বিশেষ করে আগার্থার চম্পকরথ কিংবা রাতের আকাশ অথবা সামনের খোলা প্রান্তরের নিখুঁত চিত্রায়ন – রীতিমত শ্বাসরুদ্ধকর। আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল পুরো মুভি জুড়েই উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি – পুরো গল্পটাকে একেবারে জীবন্ত করে তুলেছে যেন !

সাউন্ডট্র্যাকও বেশ ভাল ছিল, বিশেষ করে থিম সং “Hello, Goodbye and Hello” দুর্দান্ত ছিল।

খুব আহামরি কোন কিছু হয়ত না; কিন্তু শিনকাইর নামই বোধহয় জানিয়ে দেয় একটা দুর্দান্ত সেটিং এ স্নিগ্ধ একটা গল্পের কথা। দুটো চমৎকার ঘন্টা কাটাতে এর চেয়ে বেশি আর কি লাগে? :)

Colorful – মুভি রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Colorful 1

Are you alive?

মাঝে মাঝে কি এমন সময় এসেছে যখন কোন একদিন মনে হয়েছে চিরজীবন বেঁচে থাকতে পারলে বোধহয় খুব ভাল হত? অথচ ঠিক তার পরদিনই হটাৎ করে সব কিছু অর্থহীন মনে হয়েছে? বেঁচে থাকার ইচ্ছের জায়গাগুলো কি হটাৎ করেই দখল করে নিয়েছে একরাশ হতাশা, নিজের উপর; চারপাশের মানুষগুলোর উপর? নিজের ভুলগুলোর জন্য নিজের উপর প্রবল আক্রোশ এসে ভর করেছে?
আমার ধারনা আমাদের সবার জীবনেই কখনো না কখনো এমন সময় এসেছে। এবং আমরা সেই অবস্থা কাটিয়েও উঠি, আবার ফিরে যাই যান্ত্রিক জীবন যাপনে; কখনো কারো সাহায্য নিয়ে; কখনো কখনো হয়ত নিজের মনের জোরেই।

আমরা অনেক সময়েই আসলে বেচে থাকাটাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। কারণ আমরা আসলে পুরোপুরি বেঁচে থাকি না কখনই। আমরা তিন বেলা খাই, সারারাত ঘুমাই আর সারা দিন ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ুতে থাকি; ক্যারিয়ার; পড়াশুনা; দায়িত্ব; কর্তব্য – এখান থেকে সেখানে। একটু স্থির হয়ে বসে গোটা দুনিয়াটাকে, আকাশটাকে; চারপাশে মানুষগুলোকে চোখ মেলে দেখার একটুও ফুরসত মেলে না আমাদের। আমরা পুরোপুরি বেঁচে থাকি না; বেঁচে থাকার অভিনয় করি যাই আসলে।

খুব প্রিয়জন যখন বড় কোন ভুল করে ফেলে; এমন কিছু করে বসে যা জন্ম দেয় একগাদা অবিশ্বাসের; সেই ঘটনা ভুলে গিয়ে তাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিতে আসলে কত সময় লাগে? ১মাস? ৬ মাস? ১ বছর? পুরোপুরি কি ভুলে যাওয়া যায় আদৌ? যদি না যায় সেক্ষেত্রে করণীয় আসলে কি? আর সেই প্রিয়জনেরই বা কি করার থাকে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য?

Colorful 2

 

কালারফুল মুভিটা দেখতে শুনতে আট দশটা স্বাভাবিক পরিবারের মতন অথচ নানারকম মানসিক টানাপোড়েনে থাকা এক পরিবারের গল্প, যে পরিবারের সবচেয়ে ছোট, বিষাদগ্রস্থ, জুনিয়র হাই স্কুলে পড়া ছেলেটি একের পর এক খারাপ ঘটনার পিঠে জীবনের চরমতম সিদ্ধান্তটি নিয়ে নেয়। সৃষ্টিকর্তা অপর একটা অপরাধী আত্মাকে পাঠান সেই শরীরে; আত্মার শুদ্ধির জন্য। আমরা সেই আত্মার চোখে পরিবারটাকে দেখতে পাই; ছেলেটার চারপাশের পরিবেশটা দেখতে পাই; প্রতিদিনের সংগ্রামগুলো দেখতে পাই; একে একে সবার বদলে যাওয়াটা দেখতে পাই এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে একসময় আসলে জীবনের সৌন্দর্যগুলোরও খোজ পেতে আরম্ভ করি। প্রত্যেকটা মানুষের পিছনে যে আসলে অনেকগুলো মানুষের সহযোগিতা জড়িয়ে আছে; নীরবে হোক অথবা সরবে – কেউ না কেউ যে তার উপর ভরসা করে আছে, তাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছে – এই সহজ সত্যগুলো আমরা ভুলে যাই মাঝে মাঝেই। এই মুভিটা সেই সত্যগুলোকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখতে শিখায়; সব কিছুকে মেনে নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়; সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কি করে জীবনটাকে উপভোগ করতে হয় তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয় আমাদের।

জীবনের আসল উত্তরটা কি? তার সফলতা আর বিফলতাটাই বা কোথায়? একটা ভাল রেজাল্টে? ভাল চাকরিতে? একগাদা টাকা পয়সায়? নাকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে; প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে একটু ভাল থাকায়? তাদেরকে সময় দেওয়ায়? চারপাশের দুনিয়াটাকে দেখায়, মানুষজনের সাথে মেশায়, জীবনটাকে নিজের মতন করে উপলব্ধি করায়, উপভোগ করায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো আসলে কখনোই মেলে না। কিংবা আমরা হয়ত মেলাতে চাই-ও না। চারপাশের মানুষগুলোকে দেখে; তাদের চিন্তাভাবনা আর তাদের উত্তরগুলোকেই নিজের উপর চাপিয়ে নেই, অবলীলায়। অথচ নিজেকে একবারও প্রশ্ন করে দেখি না – আমি কি আসলেই এটাই চেয়েছিলাম? আমরা কখনোই বুঝতে চেষ্টা করি না যে অপরের সফলতা মানে কখনোই নিজের ব্যার্থতাও নয়; আর ৮-১০ জনের মতন হতে না পারাটা কোন বড় সমস্যাও নয়।

প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই আরেকটা মানুষ বাস করে। যে মানুষটাকে আমরা কাউকে দেখাতে চাই না; তাকে লুকিয়ে রাখতে চাই নিরন্তর। কিন্তু খুব দুর্বল মুহূর্তগুলোতে সে কি করে কি করে যেন ঠিকই বেড়িয়ে আসে। এবং সে কারণে নিজের উপর খুব অভিমান হয় পরে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মানুষের রঙ আসলে একটা না; অনেকগুলো। সবার আলাদা আলাদা রঙ মিলেই পুরো পৃথিবীটা রঙিন। সবার জন্য একই ছাঁচ, একই ব্লুপ্রিন্ট খাটে না; খাটা উচিতও না। দিনশেষে শুধুমাত্র একগাদা রঙকে ধারণ করে, নিজের সবগুলো অপূর্ণতাকে মেনে নিয়ে নিজের মত করে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি –
Yes, I am alive.

…………

মুভিঃ কালারফুল।
সময়ঃ ২ ঘন্টা ৭ মিনিট।
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৩।

Colorful 3

 

Perfect Blue রিভিউ — Saqib Shadman

PB2

খুব কম সিরিজ/মুভি থাকে (শুধু এনিমের কথা বলছি না) যেইটার প্রথম ৫ মিনিট দেখে বলা যায় বাকি অংশ চরম হবে। গত রাত Princess Mononoke শেষ করেই দেখা শুরু করলাম Perfect Blue ।

Pop Idol জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হওয়ার প্রয়াস করে Mima Kirigoe। কিন্তু মিমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে হতাশ অনেকেই। একজন stalker Pop-Idol মিমার প্রতি এতোই অন্ধকারাচ্ছন্ন, মিমার জীবনযাপন, চলাচল সব কিছুর দিকে নজর রাখে। ইন্টারনেটে সেসব আবার প্রকাশও করে। পাশে এই একি মানুষ মিমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে।

PB1

Perfect Blue হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্নের গল্প, এবং তা মানুষকে কেমনে ধ্বংস করতে পারে। ফিল্ম দুনিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য মিমাকে অনেক কাজ করতে হয় যেইটা মিমা নিজের উৎসাহে করতে চায় না। এসবের জন্য মিমাকে প্রায় বিদ্রূপ করে মানসিক বিভ্রম।

ফিল্মের বেশির ভাগ অংশ দেখা হয় মিমার পরিপ্রেক্ষিত থেকে। আশেপাশের পরিস্থিতির কারনে মিমা বাতুলতার দিকে আগাতে থাকে। প্রায় যা বাস্তব ও যা বিকল্পিত তার মাঝের দাগটা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং প্রশ্ন দারায়ঃ সবকিছু কি মিমাই করছে?

PB3

গল্প ও চরিত্রদের সাথে সঙ্গত করা আছে যথাযথ আর্টওর্য়াক ও মিউজিক। ডার্ক ও বর্ণহীন একটা রঙ প্যালেট একটা ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি করে। মিউজিকও কম নয়, কার্যকরীভাবে টেনশনের মুহূর্তে উত্তেজনা আর বারায়।

ভাল সেইনেন এনিমে যদি খুজে থাকেন, পারলে দেখে নিয়েন। Psychological এনিমে ফ্যান্দের জন্য আমি মনে করি এই ফিল্ম আবশ্যক।

PB4