Kekkai Sensen [রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

এবং একদিন শহরে। কিছু প্রশ্নের খোঁজে। এলোমেলো পা ফেলে হেঁটে চলা রাস্তায়। সুন্দর ধূসর।

ফটোগ্রাফি? তাতে থিতু হতে পারা যেত। সর্বদর্শী চোখ দুটোর কাছে ক্যামেরার লেন্স নিরর্থক হয়ে না পড়লে।

বিভ্রান্ত নায়ক প্রাক্ নিউ ইয়র্কে, ভেতরে বাইরে উদভ্রান্ত জীবেদের ভিড়ে হারিয়ে। তার সাথেই সময় কাটালাম প্রহর দেড়েক। জানাতে এলাম সে খবর।

Kekkai Sensen 1

টাইটেল: কেক্কাই সেনসেন
পর্ব: ১২
জনরা: শৌনেন
ম্যাল রেটিং: ৭.৭

গল্পের চাষ ইয়াসুহিরো নাইতোর কালিতে, কলমে। অজানা থাকার কথা নয়। ট্রিগান বা গানগ্রেভের মতো কাহিনীর রূপকার তিনি। ম্যাঙ্গাকা ওয়েস্টার্ন সেটিং-এ গল্প রচনায় সিদ্ধহস্ত। বেছে নিলেন পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক স্টোরিলাইন কেক্কাই সেনসেন-এ। ম্যাঙ্গা এখনো অনগোয়িং। ২০১৫ তে ওয়ান কু’র অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন পায়। স্টুডিও বোনস্। হেলসালেম’স লটে বিচিত্র নির্ঘণ্টে চলতে থাকা ঘটনা দুর্ঘটনাগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেতে দেরি করে না। মূল চরিত্রে সম্ভবত মিশরীয় সৌরদেবতা রা, হোরাসের অবতারণা করা হয়। একেবারে ডার্ক থিমড না হলেও সমালোচকরা ইতিবাচকভাবে এর মাঝে খুঁজে ফিরেছেন বাকানো!- এর ছায়া।

Kekkai Sensen 2

নরম রোদ গায়ে এসে পড়লে যেমনটা লাগে। তুলোট উষ্ণতা। অ্যানিমেশন অনুভূতি সৃষ্টি করে তেমনটাই। প্রথম দর্শনে মনে রেখাপাত করতে যথেষ্ট। ম্যাঙ্গার আর্টওয়ার্কে একরকম সারল্য ধরা পড়ে। সে তুলনায় স্ক্রিনে যারপরনাই ব্যস্ততা। অ্যাকশন সিন হোক বা সোফায় গা এলানো অলস মুড ― সূক্ষ্মতার সাথে বোনা হয়েছে প্রতিটা দৃশ্য। রঙের ব্যবহার অকৃপণ। আর্বান ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে আলো ছায়ার মিতালী। অনিয়মিত একটি পৃথিবীর গল্প বলতে উপযোগী বেদী আর কোনো কিছুতে হতো কি?

কোনো ছাঁচে ফেলে চরিত্রগুলো মাপতে যাওয়া বৃথা। অল্প কিছু প্যারামিটার ধরে রেখে কাহিনীকার তাদের ছেড়ে দিয়েছন ঘুরতে, ফিরতে। মানব প্রবৃত্তির অলিতে গলিতে। খামখেয়ালিপনাতে কমতি নেই কারো। টান পড়েনি স্বকীয়তায়। আর অসংলগ্নতায়। লিওনার্দো, সনিক, জ্যাপ। পর্দায় এই ত্রয়ী হাজির হলেই চমকে উঠতে হয়। গুর‍্যেন লা’গান দেখছি নাতো? ভিলেনদের তুলনায় কখনো কখনো প্রোটাগনিস্টদের পিছিয়ে পড়তে হয়, পিছিয়ে রাখতে হয়। ফেমট আগ্রহ ধরে রাখতে পারছে। সামনে কী নিয়ে অপেক্ষা করে আছে সে দেখার বিষয়। চরিত্রগুলোর বিকাশে সেইয়ুরা কম করেননি। কেক্কাই সেনসেন ভয়েস অ্যাক্টিং পর্ষদের বাকশিল্পীরা অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত। তাছাড়া ইংলিশ ডাবিংও খুব ভালো হয়েছে। সবরকম দর্শকের জন্য ব্যাপারটা স্বস্তির।

Kekkai Sensen 3

মোজার্টের ম্যাজিক ফ্লুটে ডুব দিয়েছি। তবু তার চেয়ে বেশি ভালোলাগা ব্ল্যাকের শিসে। শুনছি মোহিত হয়ে। অ্যানিমেতে ক্লাসিকাল মিউজিক অ্যাডাপ্ট করার প্রবণতা বেশ মজার। ইদানীংকালের অনেক শো’তে চোখে পড়ছে হঠাৎ হঠাৎই। ম্যাজিক ফ্লুট ওভার্চারের স্লো ভার্শনকে আশ্রয় করে তোলা শিসে উন্মনা না হয়ে পারা যায় না। কিং অব ডিসপেয়্যার চরিত্রের সব রহস্যময়তা ধরা দেয় যেন এই হুইসেলে।

আউটস্ট্যান্ডিং কিছু কাজের মাঝে কেক্কাই সেনসেন- এর সাউন্ডট্র্যাক স্থান করে নিতে পারে। কী অর্কেস্ট্রা, কী লাউঞ্জ। পপ বলুন বা ইডিএম। কাহিনীপট বিবেচনায় মিউজিক কম্পোজিশন অনবদ্য। পর্দার পেছনের শিল্পীরা নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। সময়ে সময়ে টের পাওয়া যায়। সাড়া জাগানো ট্র্যাকের কথা উঠলে ‘হোয়াইট গ্লাভস’, ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’, ‘ল্যান্ড অব নড’ এর নাম আগেভাগেই করে ফেলা যায়। আমার বেশ কিছু নির্ঘুম রাতের সঙ্গী ছিল ‘কীপ অন দ্য সানি সাইড’, ‘আর্লি ট্রেইন’ আর ‘স্টারবো’। নান্দনিকতা বিচারে ট্র্যাকগুলোর তুলনা চলতে পারে খুব কম কাজের সাথেই। চিত্তাকর্ষক মিউজিকের কারণে অ্যানিমেটা জায়গা করে নিবে দর্শকের মানসপটে।

কেক্কাই সেনসেন- এর এন্ডিং থিম নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করা যেতে পারে। শিল্পীরা সুযোগটা রেখেছেন। ইউনিসন স্কয়ার গার্ডেন ব্যান্ডের করা ‘সুগার সং তো বিটার স্টেপ’ গানটা কানে পৌঁছলে মন থেকে সব অন্ধকার দূর হয়ে যায়। সিজনসেরা ছিল থিমটা বলা বাহুল্য। সেই তুলনায় ওপেনিং থিম ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড! ‘ বেশ মিডিওকার।

Kekkai Sensen 4

শৈশবে সেইনেন আর ফিলসফি কপচে হঠাৎ হাতে পেলাম কেক্কাই সেনসেন। মনে হলো বেশতো, দেখে ফেলি। হতাশ হইনি। মানবহিতৈষা, বন্ধুত্ব, পরিবার, জগৎ উদ্ধার — এই আর কি। টুপ করে গল্পের মাঝখানে পড়ে যাওয়ার আনন্দ আছে। আনন্দ পাচ্ছি।

অপেক্ষায় আছি সেকেন্ড সিজনের।

Kekkai Sensen 5

Baccano! [রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

ফ্লাইং পুসিফুটের শেষ যাত্রাটা এমন হবে ভাবতে পারেনি কেউই। ১৯৩২ এর শুরুতে ট্রেনটার করুণ প্রত্যাবর্তন। বাকরুদ্ধ না হয়ে উপায় থাকে না।

উপায় তেমনি থাকে না মাঝসমুদ্রে। এক জাহাজে। সময়টা অষ্টাদশ শতাব্দী। একের পর এক অ্যালকেমিস্ট উধাও হয়ে যাচ্ছে। অমরত্বের দাম তবে কি এতটাই চড়া?

মাফিয়া এবং সাইকো। স্ট্রিট থাগ এবং কাপল। অ্যালকোহল কিংবা নিছক পাগলামো।

টারময়েল বটে গল্পটা…….. ইটালিয়ান ডিকশনারিতো তাই বলে।

Baccano

গল্পের মূল পটভূমি গ্রেট ডিপ্রেশন চলাকালীন ইউনাইটেড স্টেটস। সোর্স রিয়ো’গো নারিটার লেখা নভেল। টুকরো টুকরো ঘটনা-অনুঘটনা জোড়া দিয়ে কাহিনীর প্রগ্রেশন। ‘পাল্প ফিকশন’-এর কথা মনে পড়ে যায়। অফ-ট্র্যাক ন্যারেটিভ স্টাইলের মুভি দিয়ে অমর হয়ে গেছেন কোয়েন্টিন টারান্টিনো। একুশ ভল্যুমের নারিটার নভেলগুলোও একই ধাঁচে লেখা। পুরো গল্প না পড়া পর্যন্ত সঙ্গতি মিলবে না। ২০০২ এ প্রথম ভল্যুম ‘দ্যা রোলিং বুটলেগস্’ পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়। বেশ পরে বের হয় দু’ ভল্যুমের ম্যাঙ্গা। নারিটার আরেকটা নভেল ‘দুরারারা!’ও অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন পায়। ভালো বই পাঠককে তৈরি করে। শ্রোতা তৈরি করে ভালো মিউজিক। আর ‘বাকানো!’ দেখতে হলে দর্শককে তৈরি হয়ে আসতে হয়।

অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন সবসময় নষ্ট হয় না। এত বিরাট কাস্টিং নিয়ে রেকর্ড করে ফেলেছে অ্যানিমেটা। ক্যারেক্টারগুলোর ডিপিকশন বেশ ভাবায়। মর মানুষ নিজেদের যেভাবে দেখতে চায় তাই চিত্রিত করেছেন কাহিনীকার। ফ্রয়েডীয় কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে। আত্মবিশ্বাস আর স্বকীয়তা চরিত্রগুলোর উপজীব্য। তবু তাদের সম্পাত বিন্দু একটাই ― ব্যাডাসারি।

ডার্ক স্টোরির জন্য অ্যানিমেশন যেমনটা হওয়া দরকার, আলো ছায়ার খেলা। গোর সিনগুলোতে ইম্প্রেসিভ কিছু ছিল। ইম্প্রেসিভ ছিল আরো অনেক কিছুই। পাপেট মাস্টাররা চেয়েছিলেন দর্শকরা যেন স্টোরিটাকেই মূল্যায়ন করে, সেভাবেই সবকিছু হ্যান্ডল করা। ব্রেইন’স বেস কমপ্লেইন করার কোনো সুযোগ রাখেনি। সুযোগ রাখেনি সেইয়ুরাও। নতুন পুরোনো শিল্পীদের আন্তরিকতা টের পাওয়া যায়। কখনো প্রিফার করি না যদিও, বাকানো! -এর ইংলিশ ডাবিং যথেষ্ট স্ট্রং। ক্যারেক্টারগুলোর পরিপূর্ণতা আর কোনো কিছুতে হতে পারত না।

আর্লি থার্টিজ’ ভাইবটা ভালোই ফুটে উঠে বাকানো! -এর সাউন্ডট্র্যাকে। অডিওফাইল হওয়া সত্ত্বেও জ্যাজ নিয়ে কখনো আলাদা করে সময় দিইনি। অন্তত সিরিজটা দেখার আগেতো নয়ই। ভালো লেগেছে পিয়ানো সোলোগুলো। ‘কিয়োকু নো তেগামি’ ট্র্যাকটা একধরণের শূন্যতা তৈরি করে। লিখে বোঝানো সম্ভব হবে না কখনোই। আবার ‘ইন দ্যা স্পিক ইজি’ খুব সুন্দর হ্যাপি সোলো। আরো ভালো লেগেছে ‘অ্যালভিয়্যার নো ব্রুস’, ‘উতাকাতা নো ইনোরি’, ‘রিঙগো নো এ নো উয়ে নো রাকুগাকি’। স্যাটায়ার ধাঁচের বেশ কিছু ইনস্ট্রুমেন্টাল আছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে চমৎকার শোনায়।

ওপেনিং নিয়ে আলাদা কিছু না বললে রিভিউটাই মিথ্যা হয়ে যাবে। ‘গানস্ অ্যান্ড রোজেস’ অবকাশটা তৈরি করে নেয় এভাবেই। প্যারাডাইজ লাঞ্চের করা ট্র্যাকটা সেরা কিছু ওপেনিং থিমের একটা অ্যানিমের ইতিহাসে। কম্পোজিশনে এতটা পারফেকশন আনা যায় না আর কোনোভাবে। ইউটিউব লিঙ্ক : https://youtu.be/OOZ1hsb8smQ
এন্ডিং থিম কিছুটা স্লো পেসড, মাইল্ড। ওদা কাওরির ‘কলিং’ তেমন আপিল তৈরি করতে না পারলেও একেবারে খারাপ না। অ্যানিমের সাথে এটা খাপ খাইয়ে নিয়েছে সফলভাবে।

বাকানো! -কে আর দশটা অ্যানিমে দিয়ে মাপতে গেলে হয় না। গল্পটা একজন শিল্পীর পরিণত মানসিকতার ফসল। অল্প কিছু শব্দে যার পর্যায় বলে ফেলা যায় না। বলে ফেলা যায় না ক্যারেক্টারগুলোর অসাধারণত্ব। বলে ফেলা যায় না অ্যানিমেটার স্ট্রেন্থ। বলে ফেলা যায় না এটার জন্য ভালো-লাগাগুলো।

খুব অপেক্ষা করে আছি সেভেন্টিন্থ এপিসোডের জন্য। অপেক্ষা ফুরোচ্ছে না।

Hotarubi no Mori e [মুভি রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

ছোট্ট হোতারু বনে হারিয়ে গেছে, বাড়ি ফেরার কোনো উপায় পায় না। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হঠাৎই আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন, মুখ ঢাকা মুখোশে। নাম গিন।

গল্পটা কোনো এক গ্রীষ্মকালের। সে’বার হোতারুকে বাড়ি যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছিল গিনই। ভালো বন্ধু হয়ে যায় তারা।

মজার ব্যাপার হলো, গিনকে স্পর্শ করা যায় না। কোনো মানবসন্তান যদি ওকে ছুঁয়ে দেয় তাহলে ও অবলিটারেটেড হয়ে যাবে।

Hotarubi no Mori e

Title: Hotarubi no Mori e (蛍火の杜へ)
Alternative Title: Into the Forest of Fireflies’ Light
Release Date: September 17, 2011
Director: Takahiro Omori
Music: Makoto Yoshimori
MAL: 8.63 (http://myanimelist.net/anime/10408/Hotarubi_no_Mori_e)
Running Time: 44 min
Genre: Romance, Supranatural, Drama
Studio: Brain’s Base

কিছুটা অটোকনক্লুসিভ এই মুভির সোর্স হলো ইয়ুকি মিদোরিকাওয়ার সেম টাইটেল্ড ওয়ান-শট ম্যাঙ্গা। গল্পের সাথে রিলেটেড কীপসেক এডিশন ম্যাঙ্গাও রিলিজ পেয়েছিল যদিও। যারা ম্যাঙ্গাকাকে চেনেন না, তাদের বলি, নাতসুমে ইয়ুজিনচৌ – এর স্রষ্টা তিনি। মুভিটা যথেষ্ট প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয় দেশে বিদেশে। গল্পের সেটিং ছিল জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারের কামিশিকিমি কুমানোয়মাসু শ্রাইন।

জাপানীজ ফোকলোর, মিথোলজি বা ফ্যান্টাসির গল্পে অ্যাডাপ্টেশন খুব বিরল কিছু না। হোতারুর পারসপেক্টিভ থেকে বলতে চাওয়া গল্পতে মানুষ এবং অতিপ্রাকৃত সত্তার সম্পর্ক উঠে এসেছে। আর্টওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো। রং ব্যবহারে কোমলতা, আলোর প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো। এবং সব ফিগারই চমৎকারভাবে ডিটেইলড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্রেইন’স বেস তাদের অ্যাবিলিটি দেখিয়েছে বটে। অ্যানিমেশন ক্রুরা মুভিটা তৈরির পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। ছোট ব্যাপ্তির এই মুভির কাহিনীতে দর্শক ডুবে যায়, বশীভূত হয় আবেগের। মুভিতে পুরোটা সময় জুড়ে একটা সারল্য বিরাজ করে। হায়াও মিয়াজাকি বা মাকোতো শিনকাইয়ের কাজ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন। সেইয়ুদের কাজও চমৎকার হয়েছে। হোতারুর ভয়েস দিয়েছে আয়ানে সাকুরা, গিনের কোউকি উচিইয়ামা।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই ইনটেন্স। এক একটা দৃশ্যের সাথে এর মিউজিক যে প্রণোদনা সৃষ্টি করে তা লিখে বোঝানো সম্ভব হবে না কখনোই। এন্ডিং সংটা মনে দাগ কেটে যায়। মেলানকোলিক আবহে ইনস্ট্রুমেন্ট প্লেয়িং — লিরিক্যাল থিমকে রিফ্লেক্ট করেই তা করা। ট্র্যাকটা শুনতে শুনতে ঘণ্টার পর ঘন্টা পার করেছি। শিজুরু য়ুকাতার গাওয়া “Natsu wo Miteita” ঠিক এতটাই প্রিয়। গল্পের প্রগ্রেশনের সাথে সাথে পিয়ানো আর ভায়োলিনের শব্দব্যঞ্জনা আচ্ছন্ন করে রাখে দর্শককে। কাহিনীর সারল্য, উত্তেজনাশূন্য শান্ত সময়কে ডিপিক্ট করতে বা রোমান্টিসিজমে — হোতারুবি নো মোরি এর সাউন্ডট্র্যাক অসম্ভব ব্রিলিয়্যান্ট কিছু কাজের একটি। ব্যাকগ্রাউন্ডে যখন “Kanakana Shigure” প্লে হচ্ছিল, আবেগে, অবসন্নতায় চোখ বুজে ফেলেছিলাম।

কাহিনীর প্রাঞ্জলতা একটা রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করে। মুভিটা দেখতে বসে রিল্যাক্সড ফিলিংস চলে আসাটা অসম্ভব কিছু না। এই মুভির একটাই নেগেটিভিটি — শর্ট লেন্থ।

আর কোনো মুভিতে নায়িকা মনে হয় না এতবার ধপাস করে পড়ে গেছে, রেকর্ড বটে! রোমান্স জনরাতে খুব প্রিয় কিছু মুভির মাঝে এটা একটা। এতটা ভালোলাগা আর কখনোই কাজ করেনি।

কেউ কাউকে ছুঁয়েছে কি ছোঁয়নি, গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে, চেতনার গভীরে।