অ্যানিমের ইতিহাস – চতুর্থ পর্বঃ স্নেক এন্ড সাসকে – নিউক্লিয়াস এন্ড অ্যাটম – ফাহিম বিন সেলিম

 

1781574_734068656624954_453149461_o

অ্যানিমের গল্প বলতে গেলে মাঙ্গাকে তো বাদ দেওয়া যায় না! লেখা-আঁকার যুগলবন্ধী প্রচলিত ছিলো বহু আগে থেকেই। কিন্তু অ্যানিমের মত “মাঙ্গা”-র প্রসার ভালোভাবে শুরু হল যুদ্ধের পর। ১৯৪৭ সালে নতুন সংবিধান অনুযায়ী জাপানে সকল সেন্সরশীপ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সাহিত্য, বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমের মত মাঙ্গা-অ্যানিমেতেও ভিন্নধারার সূচনা ঘটল। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের সময়গুলোতে, আমেরিকার তত্বাবধায়নে থাকার কারণে তাদের সংস্কৃতি দ্বারা অনুপ্রানিত হওয়াকেও একটা কারণ হিসেবে বলা যায়। মার্কিন সুপার-হিরো কমিকস জাপানীদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা ছিল। অনুপ্রানিত হলেও, জাপান অবশ্য তা অনুসরন করল না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হলেও সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ-শান্তির প্রভাবটা বেশ ভালোভাবেই লক্ষনীয় ছিল। ১৯৫১ সালে, প্রথমবারের মত ‘সুপার হিরো’-দের কাহিনী জাপান নিজেদের আদলে বলা শুরু করল। ওসামু তেজুকা, যাকে বলা হয় আধুনিক অ্যানিমের নিউক্লিয়াস মাঙ্গার ধর্মপিতা, আঁকা শুরু করেন Tetsuan Atom(Mighty Atom), যেটা অধিক পরিচিত Astro Boy নামে।
আধুনিক আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাঙ্গা অবশ্য তারও আধ-দশক আগে শুরু হয়েছে। ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে যা প্রকাশিত হয়! ১৯৭৪ সালে মাঙ্গা প্রকাশ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর আগেই অবশ্য তার অ্যানিমে প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছিল, ১৯৬৯ সালে। এবং তা আজ অবধি চলছে!
ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘকালব্যাপী এবং সর্বাধিক প্রচারিত পর্বের অ্যানিমে, মাচিকো হাসেগাওয়ার – Sazae-san।

এই Astro Boy আর Sazae-san কেই বলা যায় যথাক্রমে আধুনিক শৌনেন-সেইনেন আর শৌজো-জোসেই জনরার অ্যাডাম-ইভ।

অ্যানিমের গল্পে ফিরে আসা যাক। ১৯৪৮ সালে আলোর মুখ দেখল “জাপান অ্যানিমেটেড ফিল্ম” স্টুডিও। প্রথম দিকে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কিছু তৈরী করতে না পারলেও, ১৯৫৬ সালে তোয়েই কোম্পানী এই স্টুডিওকে কিনে নেওয়ার পর অবস্থা পাল্টে যায়। নতুন নাম হয় – তোয়েই অ্যানিমেশন। মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা বের করে প্রথম রঙ্গিন জাপানিমেশন এবং সর্বপ্রথম আধুনিক “অ্যানিমে” – The Tale of the White Serpent, ১৯৬১ সালে যা সর্বপ্রথম অ্যানিমে হিসেবে আমেরিকায় মুক্তি পায়। প্রথম আধুনিক অ্যানিমে হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান-প্রচলিত অ্যানিমে থেকে ডিজনীর রুপকথার গল্পগুলোর সাথেই এটার বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। এবং যথাযথ কারণেই এই মুভিটি তোয়েই অ্যানিমেশনকে এনে দেয় “প্রাচ্যের ডিজনী” উপাধি।
শুধু রঙই নয়, জাপানের তৎকালীন অ্যানিমেশন প্রযুক্তির একেবারে চূড়ান্ত ব্যবহার করা হয় এই চলচ্চিত্রে। কিন্তু চমকপ্রদভাবে তাইজি ইয়াবুশিতা আর কাজুহিকো ওকাবে পরিচালিত এই অ্যানিমে তৈরী করতে লেগেছিল মাত্র ৮ মাস! একসাথে কাজ করেছিল সাড়ে তের হাজারেরও বেশি কর্মী!

তার পরের বছরই ইয়াবুশিতা আবার আকিরা দাইকুবারার সাথে মিলে তৈরী করেন Magic Boy, যার জাপানী নাম Shounen Sarutobi (না, হিরুজেনও না, আসুমাও না, এমনকি কোনোহামারুও না) Sasuke [  ]!
এই অ্যানিমেও ডিজনীর গতবাধাঃ লোকগাথা-রুপকথা-গান-কথাবলাপশুপাখি ফর্মুলা অনুসরন করেছিল। ৮৪ মিনিটের এই দ্বিতীয় রঙ্গিন অ্যানিমে The Tale of the White Serpent-এর সাথে একই বছর আমেরিকায় মুক্তি পায়।

প্রতিবছর একটি মুভির ধারাবাহিকতায় ১৯৬০ সালে ওসামু তেজুকার My Son Goku মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে তৈরী হয়, Alakazam the Great। তেজুকা আবার মাঙ্গাটি এঁকেছিলেন ষোল শতকের চাইনিজ উপন্যাস Journey to the West এর অবলম্বনে। তোয়েই অ্যানিমেশনের পক্ষ থেকে তেজুকাকে পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও, তেজুকার ভাষ্যমতে স্টুডিওতে তার গমন বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি তুলতে যাওয়া পর্যন্তই। তবুও এই মুভির কারণেই অ্যানিমেশনের প্রতি প্রথম তাঁর আগ্রহ জন্মায়। আর ১৯৬১ সালে অসন্তোষ আর সৃজনশীল অসামঞ্জস্য, যে কারণেই হোক, তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তেজুকা নিজেরই একটা স্টুডিও খুলে বসলেন!
তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে সাথে কাঁধে কাঁধে পাল্লা দেওয়ার জন্য – মুশি প্রোডাকশন।

মাঙ্গার মতোই অ্যানিমেতেও আমেরিকানদের অনুসরন না করে জাপানের স্বকীয় আখ্যান বর্ণণা করতেই তিনি বেশী মনোযোগী হলেন। ১৯৬৩ সালে নতুন বছরের প্রথম দিনে জাপানের টেলিভিশন ইতিহাস পাল্টে গেল চিরদিনের জন্য।
হলের বড় পর্দার গন্ডি পেড়িয়ে অ্যানিমেশনের যাত্রা শুরু হল টিভির চারকোনা বাক্সে। আর মাঙ্গার মতই এখানেও প্রথম নামটি হল – Astro Boy!

 

অ্যানিমের ইতিহাস – তৃতীয় পর্ব: ওয়ার এন্ড পিস – ফাহিম বিন সেলিম

1796548_730218773676609_649659517_n

ত্রিশের দশক। জাপানীজ অ্যানিমেশন ততদিনে ডিজনীর কাছে ব্যাবসায়িক খেলায় হেরে দেশীয় চলচ্চিত্র বাজারের আধিপত্য হারিয়েছে। হলের বড় পর্দায় ব্যাবসায়িক অ্যানিমেটেড ফিল্মের পরিবর্তে তারা দায়িত্ব নিয়েছে শিক্ষা-জনসচেতনতা মুলক আর বিজ্ঞাপন-প্রচারণামুলক ভিডিও তৈরীর। জাপান সরকার এসময় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করায়, সেন্সরশিপ অনেক কঠোর হয়ে গেল।

তারা জাপানী চেতনা আর জাতীয়তা বাদে উদবুদ্ধ সিনেমা তৈরী করা পরিচালকদের অগ্রাধিকার দেওয়া শুরু করল। এ অভিব্যক্তি আরো জোড়ালো হল ১৯৩৯-এর চলচ্চিত্র আইন প্রণয়নের পর। ছোট ছোট অ্যানিমে ফিল্ম কোম্পানীগুলো একত্রিত হয়ে বড় বড় স্টুডিও গড়ে তুলল। আবার সো চিকুর মত বৃহত্তর স্টুডিও লাইভ অ্যাকশনের পাশাপাশি অ্যানিমে ফিল্ম বের করা শুরু করল। আর এই সোচিকুর সহায়তায় কেনজো মাসাওকা(Chikara to Onna no Yo no Naka) ১৯৪৩ সালে তৈরী করেন Kumo to Churippu[The Spider and the Tulip](১৯৪৩)-র মত মাস্টারপিস[যা ২০০১ সালে প্রকাশিত অ্যানিমেজের সর্বকালের সেরা অ্যানিমের তালিকায় ৪র্থ স্থান দখল করে ]।

যুদ্ধ শুরু হল। আর এসময় সকল স্টুডিওর একত্রিকরণের ধারাবাহিকতায় মাত্র ৩ টি বড় স্টুডিও অবশিষ্ট থাকল, আর এবার তারা সেনাঅর্থায়নে সিনেমা তৈরী করা শুরু করল। আর যুদ্ধকালীন সময় আমেরিকানরা যেমন কমিক আর কার্টুনের চরিত্র ব্যাবহার করে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল, পুরোনো চরিত্রদের যুদ্ধের সাজে সাজানো অথবা নতুন চরিত্রই তৈরী করা(সবচেয়ে বড় উদাহরণ Captain America); জাপান ও তার সৈন্য আর সাধারণ জনতাকে এই কঠিন সময় পার করতে সাহায্য নিল অ্যানিমের।

১৯৪৩ সালে মিতসুয়ো সেও(Ari-chan) গেইজুতসু এইগাশার প্রযোজনায়, জাপানের লোকগাথার সাথে চলমান যুদ্ধের আবহকে কাজে লাগিয়ে তৈরী করেন Momotaro’s Sea Eagles. [মজার ব্যাপার হল, আমেরিকান সমসাময়িক কার্টুন আর কমিকসে যেমন প্রতিপক্ষ হিটলার অথবা জাপানী সেনাদের আবির্ভাব ঘটা শুরু করল, তেমনই জাপানীরাও তাদের জবাব দেওয়া শুরু করল। যেমন এই অ্যানিমেতে বহুল জনপ্রিয় কার্টুন পপাই এর চরিত্র ব্লুটোকে দেখা যায় একজন সাধারণ মাতাল হিসেবে।] ৩৭ মিনিটের এই অ্যানিমেকে বলা যায় ফিচার লেংথ অ্যানিমেশনের পথে প্রথম সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

মাত্র দুই বছর পরই সেও তৈরী করেন এর সিকুয়্যেল, এবার সোচিকুর প্রযোজনায় – Momotaro’s Divine Sea Warriors. ৭৩ মিনিটের এই অ্যানিমে ফিল্মটিই সর্বপ্রথম ফিচার লেংথ জাপানিজ অ্যানিমেশন। ১৯৪১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিজনী মুভি Fantasia দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে তৈরী হওয়া এই দুটি মুভির উপরের প্রোপাগান্ডার আর যুদ্ধের ভয়াবহতার চাদরের আড়ালে ছিল শান্তি আর আশার বার্তা।

যুদ্ধে পরাজিত হলেও তাই জাপানীরা নিজেদের সমৃদ্ধ অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সৃজনশীলতা প্রকাশের নতুন এক মাধ্যমের খোঁজ পেল। ধংসস্তুপ থেকে জাপানের নবজাগরনের সাথে নতুন শুরু হল অ্যানিমেরও।
আরো বৃহৎ, আরো ভালোভাবে!

যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে সূচনা ঘটল জাপানের ডিজনী – তোয়েই অ্যানিমেশনের।
আর এই তোয়েই অ্যানিমেশনই অ্যানিমের ইতিহাসকে বদলে দিবে সবচেয়ে বড়ভাবে। শুধু প্রথম রঙ্গিন অ্যানিমে অথবা সর্বপ্রথম “আধুনিক” অ্যানিমেই নয়; হালের জনপ্রিয় সব অ্যানিমেগুলোতেও তারা রাখবে অবদান, দশক দশক পর এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই তৈরী হবে –
Seint Seiya, Space Captain Harlock, Toriko, Sailor Moon…
Slam Dunk, One Piece…
Dragon Ball Z!

// ছবি Kumo to Churippu-র //
// Momotaro’s Divine Sea Warriors লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=me5bFtkEAso //

 

অ্যানিমের ইতিহাস – দ্বিতীয় পর্বঃ জনাব ওয়াল্টারের এম্পায়ার বিজনেস, ব্রেকিং সাইলেন্স এবং ফ-অ্যানি-লা – ফাহিম বিন সেলিম

কিতায়ামা সেইতারোর কথা মনে আছে?
জাপানিমেশনের একের দশকের তিন পথিকৃৎদের মধ্যে একজন। নিজের ব্যাক্তিগত স্টুডিও থেকে তিনি ১৯১৮ সালে মুক্তি দিয়েছিলেন Urashima Tarou. কিন্তু দুইয়ের দশকের প্রথমেই বড় একটা বিপর্যয় ঘটে গেল ― ১৯২৩ সালের টোকিও মহাভূমিকম্প। আর এতে তার স্টুডিওর অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে যায়। যার কারণে এসময়ে তাঁর অধীনে থাকা শিষ্যরা চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে নিজেরাই আলাদা আলাদা স্টুডিও খোলা শুরু করল।

১৯২৩ সালে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল, প্রায় সাত হাজার মাইল পশ্চিমে ― শিকাগোর ২২ বছর বয়সী এক যুবকের হাত ধরে। The Walt Disney Company-র সূচনা।

ডিজনীর বড় বাজেটের উন্নতমানের অ্যানিমেটেড সিনেমা শুধু আমেরিকা নয় বরং সারাবিশ্বেই একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলল। জাপানও তার ব্যাতক্রম ছিল না। আর ডিজনীর অ্যানিমেটেড সিনেমাগুলোর সাথে জাপানের অ্যানিমেটররা রীতিমত হিমশিম খেতে শুরু করল। একদিকে ডিজনীর ফিল্মগুলো ইতোমধ্যেই বাইরে থেকে প্রচুর লাভ করে আসায়, শুধু আসল উশুল করতে পারলেই হত বলে, জাপানে বেশ স্বল্পমূল্যের টিকেটে থিয়েটারগুলোতে চলা শুরু করল। তার উপর তাদের তুলনামুলক বিশাল কোম্পানীর শব্দের কারুকাজ, সেলুলয়েডে ফ্রেমে রঙ্গিন অ্যানিমেশন আর পরিচালনার কাজ ছিলো বেশ উন্নতমানের। তাই শুধু লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলেই জাপানের নির্মাতাদের কম বাজেটে সিনেমা তৈরী করে আরো কম মূল্যে বাজারে ছাড়তে হত।

স্বল্প আয়ের ফলাফল হত পরবর্তীতে আবারো স্বল্প বাজেট। আর তা দিয়ে সাধারণ কাট-আউট ব্যাকগ্রাউন্ড আর হাতে আঁকা ছবির অ্যানিমেশনে আবারো তৈরী হত নিম্নমানের ফিল্ম(ব্যায়বহুল সেলুলয়েডের ফিল্মের তুলনায়)। স্বল্প বাজেট-নিম্নমান-স্বল্প আয়-স্বল্প বাজেটঃ ব্যার্থতার এই চক্র থেকে বের হতেই পারছিল না জাপানের নির্মাতারা।

২০ আর ৩০-এর শুধু ব্যার্থতার হাজারো গল্পের মধ্যেও দুজন নির্মাতার নাম উল্লেখ না করলেই নয়। কেনজো মাসাওকা আর মিৎসুয়ো সেও।
মাসাওকা ১৯৩৩ সালে তৈরী করেন Chikarato Onna no Yo no Nako, সর্বপ্রথম সবাক অ্যানিমে! এর পরের বছরই বের হয় সম্পূর্ণ সেল অ্যানিমেশনে তৈরী প্রথম অ্যানিমে Dance of the Chigamas.
আর ১৯৪১ সালে মিৎসুয়ো মাল্টিপ্লেন ক্যামেরা ব্যাবহার করে বানান Ari-chan.

তবে ব্যাতিক্রম অবশ্যই উদাহরণ নয়। আর্থিক সমর্থনের অভাবে এধরনের মান বজায় রাখা সম্ভব ছিলো না। আর সে কারণেই হলে বের হওয়া দেশীয় অ্যানিমেটেড সিনেমার সংখ্যা অনেকটা কমে গেলো। বরঞ্চ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, রাজনৈতিক আর শিক্ষা-জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ভিডিওর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল অ্যানিমে। এক্ষেত্রে জাপানের শিক্ষা বিভাগ একটা উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছিল।

দুই দশকের ক্রান্তিকাল শেষে ততদিনে অবশ্য আবার বদলের মুখোমুখি এসে পড়েছিলো অ্যানিমে।
শুধু অ্যানিমে না, পুরো পৃথিবীতেই বিরাট এক পালা বদল ঘটবে।
আর তা শুরু হবে চারের দশকের সূচনাতেই।
আর তাতে অবদান রাখবে ― দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! 

/দুঃখিত অনেক খুঁজেও এই তিনটার কোন ভিডিও লিঙ্ক খুঁজে পেলাম না, কয়েকটা স্ক্রিনশট বাদে – ছবিটি Chikarato Onna no Yo no Nako-এর/

 

1901900_721282971236856_868206932_n

অ্যানিমের ইতিহাস প্রথম পর্ব – ফাহিম বিন সেলিম

পশ্চিমের অ্যানিমেশন যখন বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই যাত্রা শুরু করেছে, তখন জাপানও খুব একটা পিছিয়ে ছিলো না। Katshudou Shashin[Moving Picture] (১৯০৭) কে ধরা হয় প্রথম অ্যানিমে ফিল্ম, সম্ভবত ব্যাক্তিগত অথবা পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের লক্ষ্যে যা তৈরী হয়েছিল। কার তৈরী, তা অবশ্য অজানা। মাত্র ৩ সেকেন্ডের।

রাজনৈতিক ক্যারিকেচারিস্ট/কার্টুনিস্ট ওতেন শিমোকাওয়া, জাপানিজ অ্যানিমেশনের অন্যতম অগ্রদূত, একের দশকে ৫ টি অ্যানিমেটেড ফিল্ম তৈরী করেন তেনকাৎসু কোম্পানীর প্রযোজনায়। এর মধ্যে ছিলো Imokawa Mukuzo Genkanban no Maki (১৯১৭), প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তৈরী অ্যানিমে, ২০০৫ সালে Katshudou Shahsin আবিষ্কারের পূর্বে যেটাকে ধরা হত সর্বপ্রথম অ্যানিমে।

একের দশকের আরো দুই পথিকৃৎ জুনিচি কৌইচি এবং সেন্তারো কিতায়ামা।

কার্টুনিস্ট এবং জলরঙ্গে দক্ষ আঁকিয়ে কৌইচি ১৯১৬ সালে কোবায়াশি শোকাই-এ যোগ দিয়ে একে একে তৈরী করেন প্রায় ১৫ টি মুভি। তাকে বলা যায় এই সময়ের সবচেয়ে কুশলী অ্যানিমেটর।

শিমোকাওয়া বা কৌইচির মত কিতায়ামা অবশ্য কোন বাণিজ্যিক স্টুডিওর হয়ে কাজ করতো না। বরং নিজের ব্যাক্তিগত স্টুডিওতেই চকবোর্ড পেইন্টিং আর পেপার পেইন্টিঙ্গের কলাকৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি বেশ কিছু অ্যানিমে তৈরী করেন। 

কৌইচির Namakura Gatana(১৯১৭)-র সাথে তার Urashima Tarou(১৯১৮) ২০০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় এক অ্যান্টিক মার্কেটে।

প্রথম দিককার মাত্র কয়েক মিনিটের নির্বাক এসব অ্যানিমে দিয়ে জাপান যখন অ্যানিমেশন জগতে যাত্রা শুরু করেছে, সীমিত সামর্থের মধ্যে শত বাঁধা বিপত্তি কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে – দুইয়ের দশকে পা রাখতেই তখন বাণিজ্যিকভাবে তাদের সামনে এসে পরলো আরেক বিশাল বাঁধা। আন্তর্জাতিক এক মহা প্রতিদ্বন্দ্বী।

ডিজনি!

Katshudou Shashin – THE First Ever Anime: 

www.youtube.com/watch?v=i1bUwGkdBrU&desktop_uri=%2Fwatch%3Fv%3Di1bUwGkdBrU