Character Review – Makunouchi Ippo from Hajime no Ippo [মোঃ আসিফুল হক]

“Hard work doesn’t always pay off.
But the ones who succeed are the ones who worked hard!!“

জেনারের মধ্যে স্পোর্টস জেনার আমার সবচেয়ে প্রিয়; সেটা যত পেথেটিক এনিমই হোক না কেন – এটা অবশ্য এতদিনে সবার জানা হয়ে যাবার কথা !!! এর পেছনে একটা কারণও অবশ্য আমি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি – বাইরে থেকে আমি যতটা আশাবাদী ভিতরে হয়ত ততটা নই; হয়ত আমি কিছুটা হলেও নৈরাশ্যবাদি। সেক্ষেত্রে “লুজার”, “পেথেটিক” ট্রাজিক হিরো যারা প্রবল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেষমেশ বিজয়ী হয় – এই থিমের হিরোরাই হয়ত আমার বেশি পছন্দ। কিছু ফাইটিং এনিম হিরো যেমন নারুতো বা অন্যরা হয়ত এই ক্যাটাগরিতে পড়ে; কিন্তু আমি তাদেরকে বাস্তব জীবনের সাথে তেমন রিলেট করতে পারি না। ঠিক সেই কারণেই শিনোজাকি মিকোতো এবং মাকুনৌচি ইপ্পোরা আমার ফেভারিট ক্যারেকটারের বা ফেভারিট এনিমের স্থান দখল করে রাখে; যেখানে প্রিন্স অফ টেনিস বা “বিশেষ কিছু রোমান্টিক এনিম” বা তাদের হিরোরা আমাকে তেমন আকৃষ্ট করে না।

যাই হোক; ভুমিকাতেই বিশাল জায়গা নিয়ে নিচ্ছি। এই রিভিউ লেখার সময়েও টানাপোড়েনে ছিলাম; মিকোতোকে নিয়ে লিখব না ইপ্পোকে নিয়ে। মিকোতোই মনে হয় একমাত্র ক্যারেক্টার যে আমাকে আনন্দে কাদাতে পেরেছে; কিন্তু সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য। বড় ইমপ্যাক্ট চিন্তা করলে আমার প্রথম পছন্দ মাকুনৌচি ইপ্পোই।

 

হাজিমে নো ইপ্পো এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মাকুনৌচি ইপ্পো; যে কি না বর্তমানে জাপানের ফেদারওয়েট ক্লাসের চ্যাম্পিয়ন। পিতার মৃত্যুর পর শাই; ভদ্র এবং বিনয়ী এই চরিত্রটি তার মায়ের সাথে তাদের পারিবারিক ফিশিং বোট বিজনেসে দিন রাত খেটে সাহায্য করে। চিরদিন বুলির শিকার ইপ্পো বক্সিং সমন্ধে জানতে পারে তাকামুরা মামোরু এর মাধ্যমে। সেই সময়েই সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয় সে তার জীবনকে বক্সিং এর দিকে নিয়ে যাবে এবং শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে সে শেষ পর্যন্ত জাপান চ্যাম্পিওন হয়।

 

ইপ্পোর যেই দিকগুলো আমার অত্যন্ত প্রিয় সেগুলা হল – সে খানিকটা ইন্ট্রোভার্ট এবং চুপচাপ স্বভাবের হলেও সে যেটা স্থির করে সেটার শেষ দেখেই তবে তার শান্তি। যার প্রমাণ মোটামুটি প্রথম দিকের পর্বেই পাওয়া যায় যখন সে তাকামুরার শর্ত মেনে নিয়ে ৭ দিন একা একা পরিশ্রম করে হাত দিয়ে ১০ টা পাতা ধরতে সক্ষম হয়।

 

ইপ্পো বুদ্ধিমান; সে তার মাথাকে ব্যাবহার করতে ইচ্ছুক; সে ভেবে চিনতে ডেম্পসি রোলের মতন জটিল মুভ আবিষ্কার করে এবং অত্যন্ত সাহসের সাথে কোন প্র্যাকটিস ছাড়াই রিয়েল ম্যাচে তার প্রয়োগ ঘটায় এবং সেটা খুব সফলভাবেই ( এই পর্বটা আমার অল টাইম ফেভারিট এনিম এপিসোডগুলার একটা J )। কামোগাওয়া কোচকে যখন ইপ্পো জিজ্ঞেস করে “what does it means to be strong?” এবং এর জবাবে যখন কামোগাওয়া রিপ্লাই দেয় “go and find it out finding” আমি সেখানে অনুপ্রেরণা পাই; এইজির কাছে ম্যাচ হারার পর দুই মাস অসম্ভব মনঃকষ্টের পর ফিরতি ম্যাচেই যখন সে পুরো ক্রাউডকে স্তব্দ করে দিয়ে “ডেম্পসি রোল” ইউজ করে আমি সেখানেও অনুপ্রেরণা খুজে বেড়াই; প্রবল লড়াই শেষে জয়ী হবার পরেও যখন ইপ্পোর মাঝে কোন ঔদ্ধত্য দেখা যায় না; বরং দর্শকদের মাথা নিচু করে সে অভিবাদন জানায় তখনও আমি শিক্ষা নিতে চেষ্টা করি।

 

শুরুতে যেই কোটটা করা সেটা কামোগাওয়ার; শেষ করি সেনডো তাকেশির একটা কোট দিয়ে –

Hit, and get hit by a strong man. And win! Only then, can I truly believe that I’m strong. I….love that moment!

নতুন জগৎ Anime: Deathnote– আসিফুল হক

যারা সাধারনতএনিম দেখে তাদের মধ্যে এনিম নিয়ে প্যাশনটা মনে হয় খানিক বেশিই থাকে; এই প্যাশনের বহিঃপ্রকাশ কেউ ঘটায় দিনের পর দিন সারাদিন এনিম দেখে পার করে (যেমন আমি); কেউ বেশ ভাল টাকা পয়সা খরচ করে কস্প্লে করে; ছবি একে; রিভিউ লিখে; বিভিন্ন এনিম ফোরামে আড্ডা দিয়ে তর্ক করে – নানাভাবে। আজকে একটা বেশ মজার জিনিস দেখলাম। আমার পরিচিত একজনের একটা অভ্যাস হল এনিম দেখে মাঝে মাঝে তা নিয়ে কবিতা লেখা !!! সিরিয়াসলি; এনিম নিয়ে কবিতা – আইডিয়াটা কখনই আমার মাথায় আসে নি !!!! এবং জিনিসটা দেইখা বেশ ভাল লাগসে। যাই হোক; উনার অনুমতিক্রমে একটা কবিতা প্রকাশ করছি; যারা এনিম দেখেন না তারাও অনেকে ডেথ নোট দেখেছেন বা অন্তত এর সাথে পরিচিও; কবিতাটা সেই ডেথ নোট নিয়ে লেখা   –

নতুন জগৎ
Anime: Deathnote

বিস্তৃত আধারে দাঁড়িয়ে আমি

করেছি শপথ বিদ্রোহের পথে,

তাই আমি দেব না তোমায়

আমাকে বাধা দিতে।

আর দরজার ওপাশের আলো

বলছে যে ভবিষ্যতের কথা,

আমি সত্য করব

সেই সুপ্ত স্বপ্নকে।

যে সমাপ্তি সবাই চায়

কোন একদিন আমি দেখাব তোমায়

এক নতুন ও উজ্জ্বল জগৎ

বাস্তবতার প্রাচীরে দাঁড়িয়ে

আমি করেছি প্রতিজ্ঞা অসম্ভবের পথে,

তাই আমি দেব না তোমায়

আমাকে বাধা দিতে।

আর যে দুঃস্বপ্নে তোমরা

আছ,মায়াজালকে জড়িয়ে

আলোকিত করব আমি অন্ধকার,

কারণ আমিই একমাত্র যে

হয়তো মানবতা

ও মনুষ্যত্ত্বকে বিসজর্ন দিয়ে,

কোন একদিন আমি দেখাব তোমায়

পুরাতন রিভিউঃ

কার্টুন হলেই যে পোলাপানের দেখার জিনিস হবে তা ভুল প্রমান করার জন্য এই “Death Note” -ই যথেষ্ট।
৩৭ পর্বের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ এটি। Genre হিসেবে “Death Note” কে বলা যায় Thriller, Mystery আর Supernatural অপূর্ব সংমিশ্রণ।
আমার ভাষায় “Death Note” হল হালকা Mystery ও Supernatural এর সংমিশ্রণে দুর্দান্ত এক Thriller!

 

কার্টুনটির প্রধান দুই চরিত্র হল লাইট ইয়াগামি এবং L (এল)। মূলত এদের দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুত্ব, শত্রুতা, প্রতিযোগিতা নিয়েই কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এদের সবধরনের অনুভূতি এখানে খুব শক্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
লাইট ইয়াগামি হচ্ছে খুবই Smart, Talented, বুদ্ধিমান, সুদর্শন এক জাপানি ছাত্র যাকে বলা যায় one of the Japan’s Brightest!

 

লাইট অন্যদের চেয়ে এতই এগিয়ে থাকে যে বাকি সবাই কে তার মনে হয় Boring আর Rotten! সে চায় অনেক বড় কোন পরিবর্তন। এক সময় সে হাতে পায় এই রকম একটি Note-Book যাতে যার নামই লেখা হবে সে মারা যাবে! এখন প্রশ্ন হচ্ছে লাইটের মতো Smart – বুদ্ধিমান ছেলে সেই Note Book দিয়ে কি করে?
অপরদিকে L হল পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা। কঠিন কঠিন সব কেস এর সমাধান সে করেছে কিন্তু কেউই তার আসল পরিচয় জানেনা।

 

L-ও চরম বুদ্ধিমান এবং সবার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকে সবসময়। L কে মুখমুখি হতে হয় লাইটের যার কাছে রয়েছে একটি Death-Note। “জোকারের” ভাষায় একে বলা যায় “An unmovable object is on the way of an unstoppable force!”
যাই হোক রিভিউ লেখাটা মূল আকর্ষণের ধারেকাছেও যায় নি। অনেকে হয়তো রিভিউ পড়ে কার্টুনটি দেখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হবেন/:)। ভুলেও এই রিভিউ পড়ে “Death Note” কে ভুল ভাবে নিবেন না! আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি প্রথম দুই পর্ব দেখার পর পুরো ৩৭ পর্ব শেষ না করে উঠতে চাইবেন না। কাহিনীর Climax- Anti-climax অসাধারণ। উপস্থাপন, সংলাপ, সাস্পেন্স…

অসাধারণ, অসাধারণ, অসাধারণ!!!

IMDb তে Death Note এর রেটিং হল ৯.১। আমি একে ১০ এ ৯.৮ দেবো! :)

টরেন্ট ডাউনলোড লিংক

ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিঙ্কও দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এক্ষেত্রে একেকটি পর্বের সাইজই হয়ে যাবে ২৪০ মেগা এর মতো। যেখানে টরেন্টে মাত্র ৬০-৬৫ মেগা/পর্ব! তাই টরেন্ট থেকে নামানোই উত্তম! B-)

ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিংক

এখনও না দেখে থাকলে নামিয়ে দেখা শুরু করুন। আশা করি নিরাশ হবেন না! :)

 

Btooom! – অনলাইন গেমিং; ভার্চুয়াল বাস্তবতা এবং একটি সম্ভাবনাময়তার করুণ মৃত্যু…

রিয়োতো সাকামোতো – বয়স ২২। হতাশ; বিষণ্ণ এবং বেকার এই যুবকের দিন কাটে সারাদিন ঘরে বসে btooom নামক থার্ড পারসন শুটিং গেম খেলে। বর্তমানে সে এই গেইমে ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং এ ১০ নাম্বার এবং তার জীবনের সব হিসেব নিকেশ এই গেইমের স্টেট নিয়ে। কিন্তু এই জীবনের ছেদ ঘটে যখন একদিন সে নিজেকে আবিষ্কার করে একটা গাছের ডালে প্যারাসুটের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায়। সাকামোতো রিওতোর প্রিয় গেইম কি তাহলে বাস্তবতায় রুপ নিল? ভার্চুয়াল লাইফ যখন বাস্তবতায় মিশে যায় তখন কি সে তাতে কুলিয়ে উঠতে পারবে?

 

এই পর্যন্ত পরার পর বেশ অনেকেই একটু থমকে দাঁড়াবেন; ইতি উতি চাইবেন; তারপর প্রশ্ন করে বসবেন; “মিয়া; ফাইযলামি কর? কয়দিন আগে sword art online দেখসি কি করতে? আর তুমি এইডা কিসের রিভিউ লেখতে বসছ? পইরাতো sword art online এর মতন লাগতেসে। অইটা আর এইটার মধ্যে পার্থক্য কি?”

প্রথমেই এই ব্যাপারটা ক্লিয়ার করা যাক। sword art online এর মত এখানে জগতটা কাল্পনিক না; বরং সকল প্লেয়ারদের ছেড়ে দেওয়া হয় একটা বিশেষ ভাবে তৈরি দ্বীপে। সুতরাং; সেই দিক দিয়ে btooom অনেক বেশি রিএলিস্টিক যদিও লেখক উরাধুরা লেভেলের বোম আর তার মালিকানা এবং ব্যাবহার নিয়ে এইরকম ফিকশন জুড়ে দিয়েছেন যে এইটা যে কোন ফ্যান্টাসিকে হার মানাতে বাধ্য; তবে সেই বিষয়ে পরে আলোচনা আসতেসে। আর দুই নাম্বার হইল; btooom টা SAO এর মতন “লাভ লাভ গুডি গুডি বিপন্ন নায়িকাকে বাচাতে নায়কের অভিযান” ধরণের না; বরং মানব প্রকৃতির অন্ধকার দিককে বেশ গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। btooom দেখার সময় বরং আমার mirai nikki এর কথা বার বার মনে আসছে; যারা দেখেছেন তার তো বুঝতেই পারতেসেন বিষয়টা কি !!!

 

এবার আসা যাক তবে আসল রিভিউতে; তবে তার আগে একটা কাজ করতে হবে; সেইটা হল ব্রেইন খাটানো একেবারে অফ করে দিতে হবে। এনিমখানি দেখতে দেখতে “সবার এক দুই মাইলের মধ্যে বোম পড়লে বাচনের আশা নাই; আর নায়কের দুই হাতের মইদ্ধে বোম পড়লে নায়ক সুন্দর হাসিমুখে V পোজ দিতে দিতে কেম্নে ধোঁয়ার ভিতর থেইকা বাইর হয়?” টাইপ প্রশ্ন করা একেবারে হারাম। সে নায়ক; সারা জীবন ঘরের কোনায় ভিডিও গেইম খেইলা কাটায় দিলেও তার রিফ্লেক্স এবং athleticism অসাধারণ এবং পৃথিবীর কুনু বোম তারে কিচ্ছু করতে পারবে না – এই জিনিসের উপর ঈমান আইনা দেখা শুরু করতে হইব। বাকি কাহিনী বা ক্যারেকটার  গুলা বেশ ভাল এবং রিএলিস্টিক – সুতরাং তারা পোষায় দিতে পারবে বলে আমি গ্যারান্টি দিতেসি; আপনে টেনশন না নিয়ে বসেন।

 

এনিমের কাহিনী যদি সংক্ষেপে বলি – একটা ভার্চুয়াল গেইমের কিছু প্লেয়ারকে হাতে একটা ডিভাইস পার্মানেন্টলি খোদাই করে এবং কিছু বোম এবং খাবার সহ ছেড়ে দেওয়া হয় একটা দ্বীপে। হাতের ডিভাইসগুলো একমাত্র প্লেয়ারের হার্টবিট বন্ধ হলেই খুলে যায় ( এই জিনিস বাস্তবে করতে গেলে খবরই আছে !!! ); এবং দ্বীপ থেকে মুক্তির উপায় ৮ টা এইরকম ডিভাইস কালেক্ট করা; সোজা বাংলায় ৮ টা প্লেয়ারকে খুন করা। ৮ টা ডিভাইস কালেক্ট হইলেই একটা হেলিকপ্টার এসে সেই প্লেয়ারকে বাইর করে নিয়ে যাবে। আর সবাইকে বাচায় রাখার জন্য প্রতিদিন দুপুরে হেলিকপ্টার থেকেই খাবার দাবার সাপ্লাই দেওয়া হয়; তবে সেই খাবারের জন্য ফাইট করতে হয় প্লেয়ারদের। সকলের বোম এক রকম না; একেক জনের টা একেক রকম; এর মধ্যে এক ধরণের বোম আছে যা কিনা হোমিং টাইপ !!! ( পুরাই আম্রিকান মিলিটারি মিলিটারি ভাব !!! )

যাই হোক; বেশ মজবুত প্লট। এর উপর দাড়িয়ে যে সকল জিনিস এনিমটাকে আসলে রিভিউ লেখার যোগ্য করে তুলেছে তা হল –

১) নিজের বেচে থাকার জন্য আরেকজনকে মেরে ফেলা – এই দর্শন বা সহজ বাংলায় বললে “survival of the fittest” এ মানুষ যে কত সহজেই গ্রাস হয়ে যায় তার নমুনা !!!

২) বেঁচে থাকার জন্য বৃদ্ধ এবং দুর্বল শরীর এবং মনের মানুষের দ্বারা নেওয়া ছল ছাতুরি এবং প্রতারণা

এবং শেষ মেশ – প্রেডিক্টেবল যেইটা – মানবতা এবং মনুষ্যত্বের জয়।

 

খুব কঠিন কথা হয়ে যাচ্ছে মে বি। আমরা সহজ কথায় ফিরে আসি। কাহিনী অনেক্তাই বলে দিলাম; এবার কিছুটা বদনাম করি সিরিজের। উপরে এক দফা আলচনা হয়েছে; এর পরেও আরো কিছু আছে। আমার জানামতে মাঙ্গা ৯ ভলুমের; সেইটাকে এনিমে কেন জানি না ১২ পর্বে ঠেসে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে !!! ফলে বহু প্রশ্নের জবাব অজানাই থেকে গেসে। আর অনেকটাই “শেষ হইয়াও হইল না শেষ” ধরণের ওপেন এন্ডেড ফিনিইশিং দর্শকের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে; আমি ব্যাক্তিগতভাবে যা পছন্দ করি না !!!

 

সাউন্ড এবং এনিমেশন নিয়ে বলতে হয় বলে বলা; এক কথায় “চলে”। খুব আহামরি কিছু না হলেও কোথাও খাপছাড়া লাগে নি।

 

এইবার বারনিং প্রশ্ন; “দেখুম? এত্ত যে দোষ আর দোষ বইলা গেলেন; লাভ কি হইল?” আমার উত্তর; অবশ্যই দেখবেন; না দেখলে মিস। গল্পের প্লট আর পর্ব সংখ্যায় গন্ডোগোল থাকতে পারে; কিন্তু গল্পে কোন গন্ডোগোল নাই; অত্যন্ত উপভোগ্য একটা গল্প; সেই সাথে মানব মনের অন্ধকার গলিতে হাতড়ে বেড়ানোর অংশটা “এপিক” না হোক; নিদেনপক্ষে “ব্রিলিয়ান্ট।” সুতরাং; দেখে ফেলেন; হতাশ হবেন না। 🙂 🙂

 

age restriction: হাল্কা নূডিটি এবং বেশ ভাল ভায়োলেন্স আছে; সুতরাং একেবারে ছোটদের না দেখাই ভাল। 🙂 🙂

6 Btooom

কোড গিয়াস – Asif V bangladeshia Orders you… watch it :D :D

code geass দেইখা শেষ করলাম; কেমন লাগসে বুঝতেসি না; সময় লাগবো মনে হয়। তয় পুরাডা সিরিজ ধইরা শারলির লাইগা খারাপ লাগসে; মাইয়াডারে বড়ই ভালা পাইসিলাম; কিউট আছিল। আর ইউফেমিয়ার ফাইনাল কাহিনীর সময় তোমনে হইসে আমি নিজে যাইয়া যদি কিছু করতে পারতাম !!! সেই লেভেলের খারাপ লাগসিল !!! তয় লাস্টে যেইটায় বেশি শক খাওয়ার কথা; ওইটা মেলা আগেই স্পয়লার খাইয়া বইসা ছিলাম; তাই ততটা শক লাগে নাই !!! (এই কারনেই আসলে এতদিনেও না দেখে থাকার কারণ !!! )

আর দুইটা সিরিজ তুলনা করা আসলেই খুব বাজে জিনিস। সারাটা সিরিজ ধরে লুলু মামু রে লাইতো কুনের সাথে মিলানোর ট্রাই করসি এবং যেহেতু লাইতো কুন মাচ মোর কুলার এবং মাচ মোর টেলেন্টেড (অন্তত আমার মতে) – সারাটা সিরিজ কেমন যেন লাগসে। যদিও যদি কোন তুলনা না করে দেখতাম; তাইলে এট্টুক শিওর যে এইটা আমার অন্যতম প্রিয় সিরিজ হইত !!! (এখনও যথেষ্ট প্রিয়; লুলু মামুর ফ্যানরা আমারে আবার মারতে চইলা আইসেন না !!! )

 

নো অফেন্স টু রুরুশ; কিন্তু মাঝখানে তার একরকম নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়; তার প্ল্যান এর জন্য একবার তাকে ব্রিটানিয়ান আরেকবার ব্ল্যাক নাইটের সাহায্য নিতে হয়; সে তার গিয়াসের উপর কন্ট্রোল হারায় ফেলে; সে তার প্রিয় কাউকেই দিন শেষে রক্ষা করতে পারে না – সব দিক বিবেচনায় রুরুশ হয়ত অনেক বেশি ট্রাজেডি হিরো হইতে পারে; কিন্তু কম্পোজার এবং কুলনেস এবং বাকি সব দিক বিবেচনাত আমার কাছে সে লাইটের ধারে কাছেও নাই।

7 Code Geass

Psycho pass: সিস্টেম সিবিলাস কিংবা সংখ্যায় অস্তিত্বের পরমাপ– লেখক আসিফুল হক


“I want to see the splendor of people’s souls.” – Makishima shogo.

ধরুন; কোন এক সুন্দর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন দেশ থেকে সব মারামারি কাটাকাটি সব দূর হয়ে গেসে। পাব্লিক সব “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” গান গাইতে গাইতে যার যার কাজে যাচ্ছে। কিভাবে? ধরুন; দেশ থেকে থানা পুলিশ কোর্ট কাচারি আদালত সব উঠে গেসে; এইগুলোর আসলে দরকারই নেই। এমন টেকনোলজি বের হয়েছে যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাগানো ক্যামেরা স্ক্যান করেই বলে দিতে পারবে কে কি অপরাধ করতে যাচ্ছে; কে মনে মনে কি ভাবছে; কার ট্যালেন্ট কি; এই মুহূর্তে কার কি করা দরকার – সব। যন্ত্রের স্ক্যানে একবার ধরা খেলেই সব শেষ; সেই লেভেলের সব অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাজির; ধুমধাম যা ব্যাবস্থা নেওয়ার নিয়ে নিবে।

মোটামুটি এইরকম একটা প্লট নিয়েই শুরু হয়েছে “psycho pass” এনিমটার কাহিনী। দূর ভবিষ্যতে জাপান এমন একটা সময়ে বাস করতেসে যেখানে সব কিছুই কন্ট্রোল করে “সিবিল সিস্টেম” নামক একটা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম। যদিও সিস্টেমটি কিভাবে কাজ করে কিংবা আদৌ সিস্টেমের সব সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত কি না – সেটা কেউ ভেবে দেখে না; আসলে প্রয়োজন মনে করে না। কারন এই সিস্টেম সমাজে এক ধরণের কড়া “rules and order” maintain করতে সক্ষম হয়েছে। জনগন এই শান্তির বিঘ্ন কিছুতেই চায় না।


“The law doesn’t protect people. People protect the law. People have always detested evil and sought out a righteous way of living. Their feelings, the accumulation of those peoples feelings are the law. They’re neither the provisions, nor the system. They’re the fragile and irreplaceable feelings that everyone carries in their hearts.” – Tsunemori akane.

এই পর্যন্ত পরার পর প্রথম রিএকশন যেটা হওয়া স্বাভাবিক সেটা হল, “ভালই তো; প্রব্লেমটা কই? যন্ত্র সমাজ কন্ট্রোল করতেসে; শান্তি বজায় রাখতেসে; সমস্যাটা কই?” Well; দুইটা সমস্যা। এক – যন্ত্র কি আসলেই মানুষের মনের পরিমাপ করতে পারে? ভাল মন্দ অপরাধ শিল্প মানবিকতা – এই জিনিসগুলো কি আসলেই পরিমাপযোগ্য? কিছু certain criteria ধরে হয়ত একটা ঘটনাকে “অপরাধ” বলা যেতে পারে; কিন্তু অপরাধ ঘটার আগেই কি সেটা যন্ত্রের মাধ্যমে প্রেডিক্ট করা সম্ভব? কিংবা ভালর সংজ্ঞাটা আসলে কি? মন্দের সংজ্ঞাটাই বা কি? আইন কি? কোন অপরাধের কি শাস্তি হওয়া উচিত তা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা না করে যন্ত্র কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাকি নেওয়া উচিত? সমাজের চলার পথে মানুষের কিছু বিশ্বাস, কিছু আশা আকাঙ্খা, কিছু তৈরি করা নিয়মই কি আইন নয়? এধরণের বেশ কিছু rhetorical প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হয়েছে – কিংবা বলা ভাল – প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এই এনিমে।

সমস্যা দুই – সিস্টেমেই সমস্যা। এনিমটা কিছু দূর আগানোর পর দেখা যায় এমন কেউ বা কিছু লোক আছে যারা দিব্যি অপরাধ করে যাচ্ছে – সিস্টেম তাদেরকে স্ক্যান করে সেখানে “অপরাধপ্রবনতা” খুজে পাচ্ছে না। কিসের জন্য? জানতে হলে দেখতে হবে এই এনিমটি।

স্টোরিলাইন নিয়ে খুব একটা গভীরে যাচ্ছি না; চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়েও না। স্টোরিলাইন খুব একটা জটিল না; বর্ণনা করতে গেলেই প্রচুর স্পয়লার চলে আসবে। আর ক্যারেকটারের কথায় আসি – মুল ক্যারেক্টার আমার কাছে দুইজন। “Shinya Kōgami” আর “Shōgo Makishima”। যদিও দুই জনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক এবং বুদ্ধির লড়াই পুরো সিরিজের অন্যতম মুল উপজীব্য; কিন্তু এদের মধ্যে কে যে নায়ক আর কে যে ভিলেন পুরোপুরি কখনই নিশ্চিত হওয়া যায় না। জোরাজুরি করলে মাকিশিমা কে ভিলেন আখ্যা দেওয়া যায়; তবে পুরো সিরিজে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল এই মাকিশিমাই। যদিও ভাল মন্দ হিরো ভিলেন –রোলগুলো এই এনিমের প্রেক্ষিতে একটু টাফ। যারা ডেথ নোট দেখসেন তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। যদিও psycho pass কোন দিক দিয়েই death note এর ধারেকাছেও না; জাস্ট dilemma টা বোঝানোর জন্যই এখানে death note এর reference টানা।


“Everyone is alone. Everyone is empty. People no longer have need of others. You can always find a spare for any replacement. Any relationship can be replaced.” – Makishima Shogo.” 

বাকি সব দিক গুলো নিয়ে এক কথায় বলতে গেলে – সুন্দর প্লট; মোটামুটি চলে টাইপ স্টোরি; adorable and likable ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এবং interesting এন্ডিং। খুব বেশি নাড়া দেওয়ার মত ঘটনা না হলেও চরিত্র রুপায়ন আর বাকি সব দিক মিলিয়ে ভালই উৎরে গিয়েছে। গানগুলো বেশ সুন্দর; এমনকি একটা এন্ডিং সং এখন আমার মোবাইলের রিংটোন এবং আমি আমার রিংটোন এর ব্যাপারে যথেষ্টই খুতখুতে।

সুতরাং দেরি না করে আজই দেখে ফেলুন এই জম্পেশ এনিমটি; আশা করি ঠকবেন না।

এনিম নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে; ছবি আঁকতে কিংবা দেখতে চাইলে; মজার সব কুইজে অংশ নিতে চাইলে জয়েন করতে পারেন ফেসবুকে “এনিমখোর” গ্রুপে।

শেষ করব এই এনিমে আমার অন্যতম প্রিয় একটা লাইন দিয়ে –
“Books are not something that you just read words in. They’re also a tool to adjust your senses.”

হ্যাপি এনিমিং।

Sword Art Online: কল্পনা যেখানে মিশেছে বাস্তবতায়…. — মো আসিফুল হক

পটভুমিঃ
সময়টা ২০২২ সাল। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমের জগত অনেক এগিয়ে গিয়েছে; বের হয়েছে sword art online. “নার্ভ গিয়ার” ব্যাবহার করে প্লেয়াররা তাদের চরিত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে; সেইসাথে ভার্চুয়াল জগত “আইনক্রাড”কে আসল জগতের মতই অনুভুত করতে পারে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন এই জগতটা একটু বেশিই আসল হয়ে যায় যখন গেমের ক্রিএটর সকল প্লেয়ারের নার্ভ গিয়ারের কন্ট্রোল হাইজ্যাক করে সবাইকে ভার্চুয়াল জগতে এই শর্তে আটকে রাখে যে কেউ যদি গেমের ভিতর মারা যায় তবে সে বাস্তব জগতেও মারা যাবে এবং গেম থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় গেমের ১০০টি লেভেল ক্লিয়ার করে আইনক্রাডের সবচেয়ে উচুতে পৌছাতে হবে কাউকে না কাউকে।

রিভিউঃ
খুব সংক্ষেপে যদি বলতে হয় তবে পুরো সিরিজটা আমাকে খানিকটা হতাশই করেছে। এই সিরিজের পক্ষে যেমন প্রচুর লোক কথা বলবে; তেমনি এর বিপক্ষে কথা বলার লোকও খুজে পাওয়াটা খুব একটা দুষ্কর নয় !!! পুরো রিভিউতে ঢুকে পড়ার আগে কিছু মন্তব্য শুনে আসা যাক –

# বিপক্ষেঃ SAO was probably the only anime this year that got bashed by most MAL users for a plot that doesn’t make any sense , a geek gamer who wins every fight (only inside a virtual world) ,clichéd harem concept , the incestuous plot hint, and the season 2 epic fail ending….. The only good thing about the anime was the action scenes, nothing else…

#পক্ষেঃ Sword Art Online, definitely one of the best anime of last year, action-packed (the double blades, damn!!), Alongside Kirito and Asuna’s romantic journey in the SAO realm, followed by Kirito fighting for her in the other world, and a beautiful ending…couldn’t ask more…

#মিশ্রঃ “মিশ্র অভিজ্ঞতা। সোর্ড আর্ট অনলাইনের গেম অংশটা ভাল; রোমান্স অংশটা খুবই কিউট; ফাইটগুলা খুবই জোস। কিন্তু সেকেন্ড গেমটাতে জেইরকম ভেজাল ঢুকানো শুরু করসে তাতে আমি মহা বিরক্ত; এই পার্টটা অনেকটা “আলিফ লায়লা” টাইপ লাগসে; “দুষ্ট রাজা নায়িকাকে আটকায় রাখসে আর নায়ক বাচাইতে যাবে” টাইপ; আর আমার কাছে “oniii chan; I love you” টাইপ জিনিসপত্র অসহ্য।

#মিশ্রঃ nobody told that SAO is a great anime. But it’s special in the view of a new anime genre. Yes, romanticism flowed in various strange ways and the anime ending was less expected…but after all people goes crazy over the internet because of the plot. Maybe my answer is confusing too, but my love for the anime is special, that’s what I have to say.

গল্পঃ 
শুরুটা যথেষ্ট পটেনশিয়াল নিয়ে শুরু হলেও সেটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হইসে। প্রথম কয়েকটা পর্ব খুব দ্রুত আগাইসে; মনে হইসে মাঙ্গার অনেকগুলো পর্ব একসাথে এনিমের কয়েকটা পর্বে আটকানোর চেষ্টা; এবং শেষের দিক গিয়ে আবার সেটা বেশ স্লো হয়ে গেছে। এক পর্বে দুই তিনটে ভাল ভাল ফাইট দেখাইসে আবার দেখা গেসে পরের পর্বতেই আবার একটা বিশাল অংশ রোমান্স বা এই ধরণের স্লো জিনিসে কেটে গেসে। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত রোমান্স অংশটা আরেকটু কমায় ফাইটগুলা আরেকটু ডিটেইলস বা আরেকটু স্লো দেখাইলে ভাল হইত। তবে এইটা স্বীকার করতেই হবে; আসুনা আর কিরিতো আমার দেখা অন্যতম সুইট কাপল; এদের দুইজনকে নিয়ে আলাদা করে রোমান্টিক জেনারের কোন এনিম বানাইলেও খারাপ হইত না।

এই এনিমে স্পষ্টতো দুইটা পার্ট; দুইটা গেম। প্রথমটার তুলনায় দ্বিতীয়টাতে বেশি পটেনশিয়াল ছিল; এবং সেইখানে হতাশাও বেশি। “রাজকন্যা উদ্ধার” ব্যাতিত আর কিছুই দেখায় নাই বলতে গেলে অই অংশে।

ভিজুয়াল আর্টঃ 
এক কথায় স্টানিং। আইনক্রাড জগতটা আমার এত্ত পছন্দ হইসে যে মনে হইসে কোনভাবে যদি অই জগতে চলে যেতে পারতাম !!! ফাইট সিন গুলা অসাম; তবে কেউ মারা যাওয়ার ইফেক্টটা আরেকটু রিএলিস্টিক হইলে ভাল হইত; যেহেতু কেউ গেইমে মারা জাওয়া মানে বাস্তব জগতেও মারা যাওয়া; সুতরাং আরেকটু ভয়াবহতা আনলে মনে হয় বেটার হইত।

সাউন্ডঃ 
ভিজুয়াল আর্টের মতই; বেশ ভাল। সিম্পল এবং স্পট অন।

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ 
কিরিতো আর আসুনা বাদে আমি বাকি সব ক্যারেকটারের নাম ভুলে গেসি; সিরিয়াস্লি; আর আমি দেখে শেষ করলাম আজকে বিকেলে !!! কোন ক্যারেকটারের সাথেই তেমন ইমোশনাল এটাচমেন্টের সুযোগ রাখে নাই রাইটার। আসুনা এবং কিরিতো যথেষ্ট লাইকেবল ক্যারেক্টার এবং তাদের জুটিটা অন্যতম কিউট একটা জুটি হবার পরেও তাদের সাথেও তেমন ইমোশনাল এটাচমেন্ট হয় না।

সব মিলিয়েঃ
“দুষ্টু প্রেমের মিষ্টি কাহিনী” জাতীয় হাল্কা ধাচের কাহিনী, বেশ আকর্ষণীয় ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আর বেশ ভাল গ্রাফিক্সের কারণে দুর্বল প্লটের এই এনিমটা বেশ খানিকটা অভাররেটেডই বটে !!! মোটামুটি ত্রিভুজ চতুর্ভুজ এবং বহুভুজ প্রেম আর আবেগ নিয়ে বেশ ভাল একটা টাইম পাস করসে মাত্র ২৫ পর্বের এই এনিমটা !!!! তবে খুব বেশি সমালোচকের দৃষ্টিতে না দেখলে “টাইম পাস এনিম” হিসেবে বেশ ভালই লাগসে sword art online.

রিকমেন্ডেশনঃ 
যারা অনলাইন গেমে আসক্ত; তাদের খুব ভাল লাগার কথা এই এনিমটা। স্টোরি যেমনই হোক; গেম পার্ট; গেমের মধ্যে ফাইটিং পার্ট; গেমের জগত – অসম্ভব ভাল এবং সুন্দর। এছাড়া যারা হাল্কা ধাচের কিছু দেখার জন্য খুজছেন এবং গল্প নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই তারাও দেখে ফেলতে পারেন। দিনশেষে বলা যায়;
“it’s a good anime, but not great”

Magi: The Labyrinth of Magic by আসিফুল হক

বাসায় আমার আলাদা একটা রুমের মত আছে; ঠিক রুম না; বারান্দায় হার্ডবোর্ড দিয়ে পার্টিশন টাইপ। রুমের কথা বার্তা মোটামুটি প্রায় সবই বাইরে থেকে শোনা যায়। তো অইদিন এক ফ্রেন্ড বাসায় আসছে; আমার রুমে এনিম নিয়ে কথাবার্তা হইতেসে। এক পর্যায়ে সে তার প্রিয় সিরিজগুলা নিয়ে খুব উত্তেজিত স্বরে কথা বলতে বলতে শুরু করল, “অই তুই মাগি দেখসিস, মাগি? আমি অইদিন রাতে দেখা শুরু করলাম; সারারাত মাগি দেখসি।” and i was like “আস্তে ভাই আস্তে !!! তোর কাছে যেইটা এনিম; অন্যদের কাছে অইটা অন্য কিছুও হইতে পারে” !!!!

শানে নযুলঃ Magi: The Labyrinth of Magic দেখতেসি। ১৫ পর্ব চলতেসে;বাকি পর্ব আইডিএমের কিউতে। 🙂 🙂 একটু unusual; বাট বেশ ভাল লাগতেসে। Arabian nights টাইপ কাহিনী থেইকা যে এত সুন্দর এনিম conversion করা যাবে ভাবি নাই 🙂 🙂

recommendation level: Highly recommended 🙂 🙂

Magi

ওয়ান আউট- একটি “দেখাটা উচিত” এনিম রিভিউ — লেখক মো আসিফুল হক

“Nobody wins, but I!” এনিমটার সাবটাইটেল একদম পারফেক্ট। জেনার হিসেবে “স্পোর্টস” দেখে কেউ যদি মনে করেন এই এনিমটা শুধু বেইসবল খেলা নিয়া, আমি তো বেইসবল পারি না, বুঝি না, সুতরাং দেখব না- তাইলে বিরাট একটা ভুল করবেন।

বেইসবল এবং বুদ্ধির খেলার এক অসাধারণ মিশ্রণ “ওয়ান আউট”। বেইসবলকে গৌণ রেখে এনিমের লেখক বুদ্ধির খেলাটাকেই বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন।
কেউ যদি মনে করেন শুধু স্কিল ব্যাবহার করেই বেইসবলের মত খেলাগুলোতে সবসময় জেতা যায় – তাদেরকে ভুল প্রমাণই যেন এই এনিমের লক্ষ্য।

তকুচি তউয়ার সাথে লিগের নিচের সারির দল লিয়াকনের চুক্তি হয় এই মর্মে যে, প্রত্যেকটা “ওয়ান আউটের” জন্য সে পাবে ৫ মিলিওন ইয়েন এবং তার বিরুদ্ধে প্রত্যেক রানের জন্য সে জরিমানা দেবে ৫০ মিলিওন ইয়েন। টিমের মালিক হিসেব করে দেখে যে আগের বছরের সেরা পিচারের বেতন এই হিসেবে ০ হয়ে যায়। সে খুব খুশি হয়ে এই চুক্তি মেনে নেয়।

তকুচির স্পেশালিটি শুধু “ফাস্ট বলে”। সে আর কোন বল পিচ করতে পারে না। এই ফাস্টবল নিয়েই সে ব্যাটারদের সাথে সাইকোলজিক্যাল ওয়ার করে এবং তাদের আউট করে।

শেষ দিকে টিমের মালিক তার বেতন কমানোর জন্য যে সকল ফন্দি করে – এবং তার প্রত্যেকটাই তকুচি যেভাবে সামাল দেয়- এক কথায় অসাধারণ। আর শুরুর সাউন্ডট্র্যাকটা তো বেশী জোস। :):):):)

২৫ পর্বের এই এনিমটা যেইরকম হাই টোন দিয়ে শুরু হয়েছিল সেই রকম হাই টোন দিএই শেষ হয়েছে। লেখক অযথা কোথাও কাহিনী টেনে বাড়ানোর চেষ্টা করেন নাই। এইটাও এনিমটার আরেকটা ভাল দিক। :):):)

এক কথায় বেশ উপভোগ্য একটা এনিম। সুতরাং আর দেরি কেন? এখনই দেখা শুরু করে দিন। B-)B-)B-)B-)

হ্যাপি এনিমিং !!!! :):):)

Initial D – গতিময় একটা এনিম — লেখক মোঃ আসিফুল হক

 

ID

কার রেসিং এর মুভিগুলা কেন যেন কখনই আমাকে খুব বেশী টানে না। তাই এনিমের শুরুতে যখন নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে এই এনিমটা কার রেসিং নিয়ে এবং পাশাপাশি আরও ২-১ টা জিনিস দেখে ধারণা হল হয়ত কয়েক পর্ব পরেই এইটা দেখা বাদ দিতে বাধ্য হব। কিন্তু ২-৩ টা এপিসোড দেখার পরেই বুঝতে পারলাম আমি কতটুকু ভুল ভেবেছিলাম !!!! কোনরকম বিরতি ছাড়াই টানা ৪ টা সিজন শেষ করে বলতে পারি একটা A গ্রেডের এনিম।

মাউন্ট আকিনার একটা পেট্রোল পাম্পে কাজ করে কিছু বন্ধু। সবাই মোটামুটি কার রেসিং নিয়ে চরমভাবে আগ্রহী। তাদের একটা দলও আছে। কিন্তু তাদের একজন ফুজিওয়ারা তাকুমি। খুব সাধারণ একটা ছেলে, যে কিনা কোন কাজেই খুব উৎসাহী না, কোন সিচুএশন সহজে ধরতে পারে না। গাড়ি নিয়ে যার কোন রকম আগ্রহ কিংবা জ্ঞান নেই। নিজেদের গাড়ির মডেলটাও সে বলতে পারে না। ঠেকায় পরে বাবার বেবসায় সাহায্য করার জন্য ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে নিয়মিত গাড়ি চালায়। গাড়িটা আবার বেশ পুরনো মডেলের। কিন্তু নিয়মিত চালানোর ফলে এই গাড়ি নিয়েই তাকুমি অসম্ভব সব ড্রিফটের কাজ শিখে গেছে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলের পিছনে তাকুমি অন্য এক মানুষ। অবলীলায় এমন সব মুভ দেয় যা অনেক প্রফেশনাল রাও ভয়ে পারফর্ম করে না। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ঘটনাক্রমে একদিন পাশের এলাকার এক বিখ্যাত রেসারের সাথে তার রেসে নামতে হয়। এবং সকলকে অবাক করে দিয়ে সে রেসে জিতেও যায়। আর তার সামনে খুলে যায় রোমাঞ্চকর রেসিং জগতের দরজা

এনিমটার সবচেয়ে ভাল লেগেছে ফাস্ট পেইস। কোন জায়গায় ঘটনা ঝুলে যায় নাই। একবার ভাল লেগে গেলে মনিটরের সামনে চুম্বকের মত টেনে বসিয়ে রাখবে।

এনিমের আরেকটা দিক ভাল লাগছে যে এইটার রোমান্টিক সাইডটা। এইখানে প্রায় সব গুলা চরিত্রই রেসিং এ উন্নতি করার জন্য তাদের প্রিয়জনকে বিদায় জানায়। এবং সেই পার্ট গুলাও ভাল লাগছে।

এনিমে গাড়ি চালানোর এবং বিভিন্ন মডেলের গাড়ির কোন দিক ভাল, কোন দিক খারাপ এই নিয়াও বেশ ভাল আলোচনা করছে।

তবে এনিমের আর্ট সাইড টা বেশী ভাল লাগে নাই। ক্যারেক্টার ড্রইং অনেকটা “ক্রুড” ফর্মে করা। খুব সম্ভব রেসিং সিন গুলাকে বেশী গ্লেমারাস করার জন্য এই কাজ করছে। তবে এই দিকটা আমার কাছে খারাপ লাগছে।

এনিমের সাউন্ড ট্র্যাক গুলা যথেষ্ট ডিসেন্ট। শুনতে ভালই লাগছে।

সব মিলিয়ে বেশ ভাল একটা এনিম, সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট। নাম্বারিং করতে বললে আমি এই এনিমটাকে ১০০ তে ৭৫ দিব।

তাহলে যাদের কার রেসিং নিয়ে আগ্রহ আছে, তারা দেরি না করে দেখা শুরু করে দিন এই অসাধারণ এনিমটি।