A Poet’s Life নামে একটা শর্ট স্পপ মোশন মুভি দেখে শেষ করলাম এখন। বরাবরের মতোই আমার এমন জিনিস ভালো লাগে, সেটা যদি এরকম উইয়ার্ড হয় তাহলে তো কথাই নাই।
গল্পের শুরুতে দেখা যায় এক কারখানার শ্রমিককে যে কিনা চাকরী হারায় কারখানার মালিকের সাথে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাক-বিতন্ডায়। বিষন্ন শ্রমিক বাড়িতে পড়ে থাকে হতাশায়। বাড়িতে তার সাথে থাকে বৃদ্ধা মা যে কিনা সর্বদায় সুতা তৈরীতে ব্যস্ত।
সুতো বুনতে বুনতে তিনি ক্লান্ত যেনো, একদম তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে গিয়েছেন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে। তেমনি সেদিন ক্লান্ত মা সুতো বুনে শেষ করলেন, বরাবরের মতোই ক্লান্ত ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে মেঝেতেই। ঠিক তখনই এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে গেলো, হঠাৎ করে নিজেই যেনো সুতোতে বনে গেলেন তিনি। অবশ্য এটা হওয়াই হয়তো বাকী ছিলো। সবার অন্তরালে ঘুমন্ত ছেলেকে পাশে রেখে সুতোর বান্ডিলে পরিণত হলেন তিনি। সেই সুতো এই হাত থেকে সেই হাতে হলো স্থানান্তর।
কারখানার মালিকরা তাদের আনন্দে মশগুল, সেই আনন্দে পিষে যাচ্ছে কারখানার শ্রমিকেরা। বিষন্ন-হতাশ-দরিদ্র শ্রমিকেরা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যেখানে হেরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেখানে উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা ব্যস্ত কি করে ব্যবসাতে আরো লাভ করা যায়। কিন্তু সেই হতাশা-বিষন্নতা যেনো পৃথিবীকে ঘিরে ফেললো, ঘিরে ফেললো শহরবাসীকে শুরু হলো প্রচন্ড তুষারঝড় এবং ঠান্ডা। যার কাছে কোনো শ্রেণীর ভেদাভেদ নেই, ধনী-গরীব কাউকে সে মানে না, কখনো মানেও নি। এইখানে হেরে যেতে লাগলো সেই উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা।
সিনেমাটাতে প্রচন্ড বিষন্নতায় ভরপুর হলেও কি করে যেনো শেষ দৃশ্যে এক টুকরো আনন্দ যেনো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখানো হয়েছে বৃদ্ধা মা এর ছেলের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং সবশেষে কবি হিসেবে নিজেই যেন আবিষ্কার করা নিজের কাছে।
**এনিমেশন টা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে, সবচেয়ে বেশি ভাল্লাগছে আমার সুতো হয়ে যাবার অংশটা। গল্প লেখলে এই অংশটা বলা যত সহজ কিন্তু ভিজ্যুয়ালি এই জিনিসটাই পোট্রে করা এবং দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করা ততটাই কঠিন বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমি দেখে পুরা ওয়াও অবস্থা। আহ ভাল্লাগছে।

