মেলোরিন – এই শব্দ টি কোথা থেকে এল ? একটি “ওয়ান পিস” গবেষণা by Adnan Mohsinur Rahman

মেলোরিন – এই শব্দ টি কোথা থেকে এল ?
একটি “ওয়ান পিস” গবেষণা
J

Untitled

ডিস্ক্লেইমার– আমি এই লেখা টা পেয়েছি ফ্যান ফিকশন ডটনেটে। মূল লেখার লিঙ্ক –
http://www.fanfiction.net/s/5585768/1/Mellorine

ইহা একটি ভাবানুবাদ মাত্র ।

 

দৃশ্য – সানি গো জাহাজ এর ডেক ।

“সানজি -কুন।“
“জ্বী,নামি- সুওয়ান  ”সোনালি চুলের রাধুনী সানজি গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে,প্রায় নাচতে নাচতে  হাজির হল ডেকের শেষ প্রান্তে যেখানে কমলা চুলের নাবিক আগেই অপেক্ষমান ছিল।

যদি সানজি অই মুহূর্তে নামি ছাড়া অন্য কোন দিকে চোখ রাখত তাহলে সে দেখতে পেত অন্য সহযাত্রীদের আনন্দিত আশান্বিত মুখ । যদি তার চোখ  এর আকার ধারন না করত তাহলে সে অবশ্যি দেখতে পেত নামির ক্রুদ্ধ দৃষ্টি , অথবা তার অধৈর্য পায়ের নাচন , অথবা  তার হাতের আড়াআড়ি অবস্থান ,কিন্তু …

-সানজি কুন , আমাকে তুমি যে নামটা ধরে প্রায় ই ডাক …

– “অথবা , রবিন কে” উসপ যোগ করল ।
– “ অথবা দৃষ্টির সম্মুখে থাকা যে কোন মেয়ে কে” জোরো বাকা হাসি দিল ।
– “হ্যা , সেটা যেন কি ?”
– “মেলোরিন~~” সানজি সুর করে গাইল ।
-“অইতো , আবার বলল” উসপ সানজির দিকে আঙ্গুল তুলল ।
-“হুম , এই বইয়ে তো এই বানান টাই দেখা যাচ্ছে” জোরো একটা মোটা বই ঘাটতে ঘাটতে বলল ।
-“ সানজি কুন , তুমি কি সত্যি ই মেলোরিন বলতে চেয়েছ ?”
-“হ্যা , নামি সুওয়ান”
– যেমন ,  “ আইস্ক্রীম এর একটি কম দামী বিকল্প , যা তৈরি হয় প্রানীর চর্বি এবং সবজি থেকে … “
নামি শব্দ খুজে পাচ্ছিল না
-“বাস্তবিক ই , নামি সুয়ান”
সানজির এই নিষ্পাপ সত্যই যথেষ্ট ছিল নামির তেলে বেগুনে জ্বলে উঠার জন্য ।
“তুমি বলতে চাচ্ছ এই পুরো সময় আমাকে তুমি “সস্তা” এবং “মোটা” ডেকেছ ?”
“আমি আসলে …”
সানজি শুধু হুপ জাতীয় একটা শব্দ করার সময় পেল নামির ঘুষিতে সমুদ্রের পানিতে হারিয়ে যাওয়ার আগে ।
“আর তোমাদের দুইজনের জন্য … “ নামি এবার বাকি দুই জনের দিকে দৃষ্টি দিল ,যারা পালিয়ে যাচ্ছিল ।
তাদের চোখ বিস্ফোরিত হয়ে গেল যখন নামির মুষ্টিবদ্ধ হাত তাদের কেও ছুড়ে দিল সাগরে , সানজির অনুকরণে ।

এই আনাহুত ঘটনার বা দুর্ঘটনার পরেও ,জোরো এবং উসপ একমত হল যে “অপারেশন- মেলোরিন-শব্দের –চারদিকে- গোল্লা –দেও- এবং -নামির -ডেস্কে -বইটা -রেখে –আস “ বিশাল সাফল্য নিয়ে এসেছে ।

লেখকের কথা –

আজকে আমি হঠাত ভাবলাম “মেলোরিন” মানে কি ? এবং এই অর্থটাই আমাকে উইকিপিডীয়া জানাল J  । আরলং পার্ক ফোরাম এর একটি থ্রেড বলছে – মেলোরিন সত্যিকার অর্থে হয়ত “মেরো-রিন” যার “মেরো “ মানে ভালবাসায় পতিত হওয়া (যেমন হ্যাঙ্ককের মেরোমেরো ফল) এবং অদা-san হয়ত “রিন” যোগ করেছেন একটা সুর তৈরির জন্য , যেমন জোরোর অনেক গুলো মারের নাম খাবারের সাথে সুর তৈরি করে – উদাহরণ – “ অনি-গিরি “। হয়তবা সানজি শুধুশুধুই এই শব্দ ব্যবহার করে ।

জোরো কে সাধারন দুষ্টামি করার মত মনে না হলেও , আমি মনে করি সানজির শাস্তি দেখতে সে আনন্দই পাবে J।

যাই হোক ,

আমাকে জানাও তোমরা কি ভাব ???

 

বাকেমোনোগাতারি – ভূত নিয়ে কিন্তু ভয়ের নয় ! — লেখক Adnan Mohsinur Rahman

বাকেমোনোগাতারি – ভূত নিয়ে কিন্তু ভয়ের নয় !

 

14 Best-bakemonogatari-hybrid-mixed-girl-thread

একদম ছোট বেলার কথা মনে আছে ? যখন আমাদের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অনুষঙ্গ ছিল রুপকথার গল্প-বিশেষত ভুত প্রেত পিশাচ দের নিয়ে রোমহরষক সব গল্প গাথা যা শুনলে সারা গায়ে কাটা দিয়ে উঠত । এখন হয়ত আর ভয় লাগবে না , কিন্তু ছোটবেলার সেই সব রুপকথা গুলোকেই যদি আমাদের এই বাস্তব জীবনে ঘটতে দেখি , কেমন হবে ? আমার মনে হয় যথেষ্ট  উপভোগ্যই হবে ।আজকে আমি যে এনিম টা নিয়ে কথা বলব তার মুল গল্প গড়ে উঠেছে এই ভুত প্রেত দের নিয়েই , ভাল করে বললে “ভূতের আছর” হও্য়া কিছু চরিত্রকে নিয়ে । এনিম এর নাম বাকেমোনোগাতারি।

বাকেমোনোগাতারি  আসলে দুইটি জাপানীজ শব্দের যোগফল – বাকেমোনো , মানে ভুত/প্রেত এবং মোনোগাতারি, মানে গল্প ।ইংরেজি তে এর নাম করা হয়েছে এরকম ghostory= ghost+story .এই নাম এর ব্যাপার টাই আমাকে প্রথম আগ্রহী করেছিল ।হাতে সময় থাকায় দেখতে বসে গেলাম ।

১৫ পর্বের ছোট একটা এনিম । মূল গল্পের নায়ক কোয়োমি আরারাগি , হাইস্কুল ৩য় বর্ষের ছাত্র । ক্লাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট সে । তার অতীত সম্বন্ধে শুধু এতটুকুই জানা যায় যে ভ্যাম্পায়ারের আক্রমণে ভাম্পায়ারে পরিণত হয়েছিল সে , কিন্তু তা অতি অল্প সময়ের জন্য ।পরবর্তী তে মেমে অশিনো নামের এক রহস্যময় চরিত্রের সহায়তায় সে পুনরায় মানুষ হয়ে গেছে , কিন্তু কিছু পরিমাণে ভ্যাম্পায়ার  বৈশিষ্ট্য তার মাঝে এখন ও রয়ে গেছে । পুরো এনিমে তে মেম অশিনো চরিত্র টাই যেন আরারাগির গুরু , যেকোন সমস্যায় তার কাছেই ছুটে যায় আরারাগি । গল্পের শুরু আরারগির ক্লাস মেট হিতাগি সেঞ্জোগাহারা কে নিয়ে। শুরু টা অনেক টা বাংলা সিনেমার মতই , গল্পের নায়িকা হিতাগি কলার খোসায় পা পিছলে সিড়ি দিয়ে পড়ে যায় । আরারাগি তখন তাকে ধরে ফেলে, কিন্তু অবাক বিস্ময়ে সে আবিষ্কার করে হিতাগি যেন ওজনহীন । হিতাগি তার এই সিক্রেট কাউকে বলতে নিষেধ করে , এবং আরারগি কে মোটামুটি হুমকিও দেয় । তারপরেও আরারগি এই ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালায় , হিতাগিকে সাহায্যের প্রস্তাব দেয়, এবং হিতাগি কে মেমের সাহয্য নিয়ে সুস্থ ও করে তোলে । হিতাগি পরবর্তী তে আরারগির বন্ধু এবং এক সময় প্রেমিকা হয়ে উঠে । হিতাগির চরিত্র টা আমার কাছে বেশ কৌতুহল উদ্দীপক লেগেছে , যখন যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ করে বসা এক মেয়ে হিসেবে । আরারাগি  কে মোটামুটি পুরো সিরিজ ধরেই সে হুমকি ধামকির উপর রেখেছে অথচ আরারাগির প্রতি তার ভালবাসাও কম নয় ।
পুরো সিরিজে যতই সময় আগায় নতুন চরিত্র গুলো উপস্থিত হয়, যাদের প্রত্যেক এরই নিজস্ব কোন অস্বাভাবিকতা আছে , যা আসলে কোন প্রেতের অশরীরী উপস্থিতির ফল । চরিত্র গুলো হল – একটি হারিয়ে যাওয়া শিশু মায়ই হাচিকুজি, আরারাগির জুনিওর স্কুল মেট সুরুগা কানবারু, আরারাগির ছোট বোনের বান্ধবী নাদেকো সেঙ্গোকু এবং তার ক্লাসের প্রেসিডেন্ট সুবাসা হানেকাওয়া ।এরা প্রত্যেকেই মেয়ে চরিত্র (এটা নিয়ে একবার সুবাসা মজা করে বলেও যে ভ্যাম্পায়ার দের নাকি বিপরীত লিংগকে আকর্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি । ), এবং সবাই কোন কোন না কোন ভাবে অশরীরী উপস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত । তাদের প্রত্যেক কেই আরারাগি সাহায্য করে মেমের মাধ্যমে, এবং পরবর্তী তে হানেকাওয়ার ক্ষেত্রে শিনবো নামের এক ভ্যাম্পায়ার এর সহযোগিতায় ।

পুরো সিরিজ টা আসলে দাঁড়িয়ে আছে চরিত্র গুলোর কথোপকথনের উপর । লেখক নিসিও ইসিন এর ডায়লগ নির্বাচন  খুব ই চমৎকার , প্রচুর ওয়ার্ড প্লে আর জোক আছে । পিছনের সাউন্ডট্রেক গুলোও বেশ ভাল ছিল । আর ছবি আকার স্টাইল টাও অন্যরকম ছিল , বিশেষত কিছু কথা চরিত্রের মুখ দিয়ে না শুনিয়ে শুধু কাগজে লিখে স্ক্রীনে দেখানোর আইডীয়া টা আমার কাছে ভাল লেগেছে । এতে এনিম এর attarctiveness বেড়েছে। ১২ তম এপিসোডটা সেরকম রোমান্টিক ছিল ,অনেকদিন মনে থাকবে , গ্যারান্টি J ।

অশরীরী উপস্থিতি গুলোর বর্ণনা (আরো ভাল করে বললে এদের রূপায়ন এবং  আক্রান্ত চরিত্রের উপর প্রভাব) নেয়া হয়েছে প্রাচীন জাপানীজ উপকথা থেকে । একের মাঝে দুই, এনিম টা দেখলে জাপানের কিছু প্রাচীন উপকথার সম্বন্ধেও জানা হয়ে যাবে J ।

এই এনিম এর সিকুয়েল্ হল নিসেমোনোগাতারি (১১ পর্ব ) আর প্রিকুয়েল নেকোমনোগাতারি (৪পর্ব ) । আমি এখনও এগুলো দেখি নাই , দেখলে এগুলো নিয়ে লেখার ইচ্ছাও আছে । আর এই সিরিজের ২য় সিজন  “মোনোগাতারি ,সিজন ২ “ নামে জুলাই ৭ ,২০১৩ থেকে প্রচার শুরু হয়েছে ।

এনিম ডাউনলোড লিঙ্ক ঃ  (টরেন্ট )
http://thepiratebay.sx/torrent/7210278/

যারা এখনো এই সিরজ টা দেখেন নি , দ্রুত দেখে ফেলুন , আশা করি ভাল লাগবে ।