সেন্সেই, সায়োনারা!! যেতসুবৌ সেনসেই রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_lvxkayIyLP1qdg1mko1_500

আমার ইদানীং এমন একটা অবস্থা হয়েছে, কেন যেন মনে হচ্ছে তাবৎ দুনিয়ার ভাল অ্যানিমে আমার দেখা শেষ, আর কিছু দেখার বাকি নেই। পিসি ভর্তি অ্যানিমে পড়ে থাকলে যা হয় আরকি। জেতসুবোশিতা জেতসুবোশিতা বলে মাথা কুটতে কুটতে হঠাৎ মনে হল, তাহলে জেতসুবো সেনসেই কেই একবার সুযোগ দেই, তার নেগেটিভ অরা আর আমার নেগেটিভ অরা কাটাকাটি হয়ে যাক!!দেখলাম, সায়োনারা জেতসুবো সেনসেই এর প্রথম সিজন। ইতোশিকি নোজোমু একজন ভয়াবহ লেভেলের পেসিমিস্টিক মানুষ। সবসময় ট্রাডিশনাল জাপানিজ আউটফিট পরে থাকা এই স্কুলশিক্ষক পুরো পৃথিবীজুড়ে শুধু ডেসপেয়ারই খুঁজে পান। বসন্তের মৃদু হাওয়া, কিংবা শরতের মেঘমুক্ত আকাশের মাঝেও তিনি খুঁজে পান বিষণ্ণতা!!

বসন্তের এক আলোকজ্জ্বল সকালে এক পূর্ণ প্রস্ফুটিত সাকুরা গাছের ডালে ঝুলে আত্মহনন করছিলেন ইতোশিকি সেনসেই। আর তখনই ঘটল এক ঘটনা, যা তার বিষণ্ণ জীবনটাকে পদে পদে আরও বিষণ্ণ করে তুলল!!

শ্যাফটের অ্যানিমে, বোঝার জন্য গুগল ঘাটতে হয়নি, সেনসেই এর চোখা নাকমুখ আর অস্বাভাবিক বাঁকা ঘাড়ই ফাঁস করে দিয়েছে, আর কনফার্ম হয়েছি অ্যানিমের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ এক সেকেন্ডের জন্য ডায়ালগ এসে হাওয়া হয়ে যাওয়া দেখে। আমি শ্যাফটের ভক্ত নই, তবে এই স্টাইলটা এই অ্যানিমেতে বেশ মানিয়েছে। সেনসেই মুখ খোলার সাথে সাথে বুঝেছি এটা হিরোশি কামিয়ার কণ্ঠ, তাই আগ্রহটা বেড়ে গেছে। আর কাহিনীটা যেমন ইউনিক, এক্সিকিউশনের কারণে আরও বেশি ভাল লেগেছে। বহুদিন পর টানা একের পর এক এপিসোড দেখার আগ্রহ পেলাম!

সবচেয়ে মজা লেগেছে এই ব্যাপারটা, সেনসেই যা যা করতে যান, আউটকামটা হয় ঠিক তার উল্টো!! তিনি তার বিষণ্ণতা কাটাতে পারলেন কিনা, বা তার স্টুডেন্টদের বিষণ্ণ করতে পারলেন কিনা, সেটা দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি!!

Sayonara.Zetsubou.Sensei.full.84087

কে প্রজেক্ট; কলিযুগের রাজতন্ত্র- লিখেছেন ইশমাম আনিকা

611081

জনরাঃ অ্যাকশন, সুপার পাওয়ার, সুপারন্যাচারাল
পর্বসংখ্যাঃ ১৩

অ্যানিমেটির কাহিনী অল্টারনেটিভ সেটিং এর জাপানে; প্রযুক্তি যেখানে বর্তমান পৃথিবীর তুলনায় অনেক এগিয়ে। সেখানকার একটি শহর শিজুমে সিটিতে একটি দ্বীপের ওপর অবস্থিত স্কুল আশিনাকা হাইস্কুল। এই স্কুলেরই এক সাধারণ ছাত্র ইসানা ইয়াশিরো। খামখেয়ালি, কেয়ারলেস এবং ফ্রেন্ডলি স্বভাবের “শিরো-কুন” কে ওর ক্লাসের সবাই বেশ পছন্দ করে। সেজন্য সারাক্ষণ ফাঁকিবাজি করে বেড়ানোটা শিরোর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ওদিকে শহরের অন্য প্রান্তে রেড কিং এর অধীনস্থ হোমুরা গ্যাং তান্ডব চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য, তাদের এক গ্যাং মেম্বারের খুনিকে খুঁজে বের করা। কিন্তু এদের সাথে শিরোর সম্পর্ক কি! স্কুল ফেস্টিভালের জন্য জিনিস কিনতে শহরে এসেই হোমুরা গ্যাং এর রোষের সামনে পড়ল শিরো। কোনমতে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রাণ নিয়ে পালাতে পালাতে সে গিয়ে পড়ল আরেক বিপদের মুখে। ইয়াতোগামি কুরোহ, বা কুরোইনু নামে পরিচিত এই ব্যক্তিটি হল পূর্ববর্তী কালারলেস কিং এর ফলোয়ার, যার বর্তমান উদ্দেশ্য নতুন কালারলেস কিংকে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করা।

মোটামুটি এভাবে একটি প্রমিজিং স্টোরিলাইন নিয়ে শুরু হয় কে প্রজেক্ট অ্যানিমেটির কাহিনী। এরপরে কাহিনী আরও ডালপালা মেলতে থাকে, একে একে বেরিয়ে আসে প্রতিটি ক্যারেক্টারের ব্যাকস্টোরি। জাপানের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব খাটানো “কিং” দের ও তাদের ক্ল্যানসম্যানদের সাথে দর্শকের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, এগোতে থাকে কাহিনী। হোমুরা গ্যাংকে ঘিরে অসম্ভব সুন্দর ও ইমোশনাল কিছু দৃশ্য রয়েছে, এই অংশগুলো আমার নিজের অসম্ভব ভাল লেগেছে।

Homra-k-32742846-1280-720

অ্যানিমেটির সেটিংটা যথেষ্ট ভাল, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে মাঝে মাঝে এক্সপ্লানেশনগুলো কেমন যেন অসম্পূর্ণ। অনেক ব্যাপারে আরও বেশি ব্যাখ্যা আশা করেছিলাম, যা মুভিটিতেও দেয়া হয়নি, তবে আশা করছি সামনের আপকামিং সিজনে সেগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে। এছাড়া কাহিনীটা সহজেই মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মত, বেশ কয়েকটি ক্যারেক্টারের প্রতি মায়া জন্মে গিয়েছে খুব সহজেই। আন্না কুশিনা এবং ইয়াতোগামি কুরোহ- এই দুটি চরিত্রকে আমার খুবই ভাল লেগেছে, তবে ভাল লাগার মত আরও অনেক চরিত্র আছে অ্যানিমেটিতে।

অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক খুব বেশি সুন্দর, চোখ ধাঁধানো অ্যানিমেশন আর খুব চমৎকার ক্যারেক্টার ডিজাইনের কারণে দেখার সময় অনেক শান্তি লেগেছে, ফাইট সিনগুলো খুব ভাল, আর উজ্জ্বল অ্যানিমেশনের জন্য এই সিনগুলো আরও উপভোগ্য হয়েছে। সেইসাথে সাউন্ডট্র্যাকও অতিরিক্ত সুন্দর; প্রতিটি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার মনে ছাপ ফেলেছে। ক্যারেক্টারগুলোর সাথে মানানসই থিম, ইমোশনাল দৃশ্যতে চমৎকার মন ছুঁয়ে যাওয়া ট্র্যাক এবং ফাইট সিনগুলোতে এক্সাইটিং মিউজিক- সবমিলিয়ে এই অ্যানিমেটার প্রতিটি ট্র্যাকই সুন্দর। এর মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দের ট্র্যাক হল “কিস অফ ডেথ”। (https://youtu.be/ceWxUIQyDaw?list=RDceWxUIQyDaw)

তবে অ্যানিমেটির যে ব্যাপারটি আমার কাছে অতিরিক্ত বিরক্তিকর লেগেছে, তা হল প্রতিটি নারী চরিত্রই ফ্যানসার্ভিসের শিকার হয়েছে। এই ব্যাপারটি না থাকলে অ্যানিমেটি আরও উপভোগ্য হত বলে আমার মনে হয়েছে।

1362421840014-2

অ্যানিমে রিভিউঃ আন-গো; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

UN-GO.full.890295

 

জনরাঃ মিস্ট্রি, সুপারন্যাচারাল
পর্বসংখ্যাঃ ১১

ভবিষ্যতের যুদ্ধ-পরবর্তী বিধ্বস্ত জাপান। দেশটির শাসনের ভার মিলিটারীর হাতে, সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কঠোরভাবে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্র নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মাঝে ইন্টারনেট ও তথ্য সরবরাহের সকল উৎসও রয়েছে।

এরকম সময়ে টোকিওতে বাস করে ইউকি শিনজুরৌ। তার সম্পর্কে প্রচলিত কথাটি হল, “ডিফিটেড ডিটেকটিভ”, যদিও সে নিজেকে “লাস্ট গ্রেট ডিটেকটিভ” বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। এই অস্থিতিশীল জাপানের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চুনোপুঁটি থেকে শুরু করে রুই-কাতলারা পর্যন্ত করতে থাকে বিভিন্ন চক্রান্ত, যার মাঝে হত্যা থেকে শুরু করে ক্ষমতা দখলের লড়াই পর্যন্ত সবই অন্তর্ভূক্ত। ইউকি শিনজুরো তার অদ্ভুত সঙ্গী ইংগা কে সাথে নিয়ে প্রতিটি রহস্যের তলানি পর্যন্ত যায়, যদিও এর জন্য তাকে বিভিন্ন সময়ে অনেকের রোষানলের কবলে পড়তে হয়। তাও তাকে চালিয়ে যেতে হবে সত্যের অনুসন্ধান, নাহলে যে এক ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে ইংগা! এই পথে ইউকির সাথে কখনো বন্ধু, আবার কখনো প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করেন কাইশৌ রিনরোকু, একটি বড় কোম্পানির ডিরেক্টর তিনি, ঘরে বসে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

১১ পর্বের অ্যানিমে, খুব বেশি ডেভেলপমেন্টের আসলে তেমন সুযোগ নেই, তবে তারপরেও আস্তে আস্তে প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি রিভিল হয়, ব্যাপারটা ভালভাবেই এক্সিকিউট করা হয়েছে। মিস্ট্রির অংশটা আসলেই অনেক ভাল, হত্যা, চুরি-ডাকাতি বা ষড়যন্ত্র, যাই হোক না কেন, প্রতিটি পর্বেই নতুন নতুন কেস আনা হয়েছে, এবং শেষের দিকে কয়েকটি কেসকে একসূত্রে গেঁথে একটি বড় মিস্ট্রি বানানো হয়েছে, ব্যাপারটা বেশ ভাল লেগেছে। প্রোটাগনিস্ট হিসেবে ইউকি শিনজুরৌ খারাপ না, যদিও মাঝে মাঝে তার আচরণ একটু খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে।

প্রশংসার সাথে সাথে খুঁত জিনিসটাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এই অ্যানিমেও তার ব্যাতিক্রম নয়! শুরু থেকেই যে জিনিসটা আমার কাছে বিরক্তিকর লেগেছে, তা হল “ইংগা” নামের চরিত্রটি। আপনারা যারা অ্যানিমেটি দেখেছেন, তারা হয়ত বুঝতে পারবেন আমি কি বলতে চাচ্ছি, আমার মনে হয়েছে, শুধুমাত্র ঐ একটা প্রশ্ন করার জন্য এরকম একটা ক্যারেক্টারের আসলে খুব দরকার পড়েনা, অপরাধীর মুখ খোলানোর আরও হাজারটা উপায় রয়েছে। তারপরেও সে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ অ্যানিমেটির, তাই অস্বস্তিটাও বেশি লেগেছে। এছাড়া মিস্ট্রি যখন সলভ করা হয়, মাঝে মাঝে এক্সপ্লানেশনগুলো খাপছাড়া লেগেছে, কিছু ক্ষেত্রে আরেকটু ডিটেইলড এক্সপ্লানেশন জরুরী ছিল।

অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক ভাল, ওএসটিও মন্দ নয়, মাঝে পপ আইডল “ইয়োনাগাহিমে” নিয়ে একটি কেস ছিল, সেই কেসটিতে এই (https://youtu.be/mf6VOxXKqus) গানটি ব্যবহার করা হয়, আমার বেশ দারুণ লেগেছে এটি। কাহিনীর গতি ভাল, তবে মাঝে মাঝে একটু বেশিই দ্রুত এগিয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে এটি ভালই, ১১ পর্বের ছোট একটা অ্যানিমে, তাই অল্প সময়ের মাঝেই শেষ করা সম্ভব, সিনোপসিস পড়ে ভাল লাগলে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।

UN-GO.full.887252

আনিমে রিভিউ- ইয়ামাতো নাদেশিকো শিচি হেঙ্গে; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জনরা- কমেডি, শৌজো
এপিসোড সংখ্যা- ২৫৪ জন সুদর্শন হাইস্কুল ছাত্রের ওপর তাদের ল্যান্ডলেডী দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন, তার অসামাজিক ভাতিজিকে সমাজে চলার উপযোগী এবং আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। কাজটা করতে পারলে তাদের জন্য দারুণ পুরস্কার !! কিন্তু কাজটা না করতে পারলে শাস্তি হিসেবে তাদের বাড়িভাড়া বেড়ে হবে তিনগুণ !!

চার তরুণ ভাবল, সুন্দরী ল্যান্ডলেডীর ভাতিজিই তো, কতই বা কঠিন হবে তাকে সামাজিক করে তোলা ? রাজি হয়ে গেল তারা এই প্রস্তাবে।

কিন্তু তারা আসলে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি, নাকাহারা সুনাকো আসলে কি জিনিস। সুনাকোকে দেখে চোখ কপালে উঠে গেল ওদের। লম্বা চুল দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে কেন সে? তার উপস্থিতি এতটা ভৌতিক কেন? তার খেলার সাথীরাও বা এত ভয়ঙ্কর কেন? পুরস্কার পাওয়া তো দূরের কথা, নিজেদের থাকার জায়গা বাঁচানোর চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠল চার তরুণ।

এভাবে চার তরুণ এবং ওয়ালফ্লাওয়ার সুনাকোকে ঘিরে এক মজার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে আনিমেটি। একটু পুরানো আনিমে, আর্টওয়ার্ক অবশ্যই এখনকার মত অত উন্নত না, তবে আমার কাছে এ ধরণের আর্টওয়ার্ক কেন যেন ভাল লাগে। কাহিনী এপিসোডিক, তাই ভাবনা চিন্তা ছাড়া দেখতে পেরেছি। আর সুনাকোর “খেলার সাথী” রাও যথেষ্ট মজার !!

আনিমেটি কেন দেখবেন- আপনি কি সারাক্ষণ ঘরে বসে আনিমে দেখার কারণে সৌন্দর্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন? কিন্তু সমস্যা সমাধানের জন্য কষ্ট করতে মন চাইছে না? তাহলে এই আনিমেটি দেখা আপনার জন্য আবশ্যক! এর প্রতিটি এপিসোডেই আপনি পাবেন, সৌন্দর্যবর্ধনের টিপস থেকে শুরু করে গৃহ ব্যবস্থাপনা এবং কমন সেন্সের ব্যাপারে মূল্যবান উপদেশ! বিশেষ করে আদর্শ নারী হয়ে উঠতে চাইলে এই অ্যানিমেটি দেখা আবশ্যক!

আমি জানিনা এ ধরণের আনিমে সবার পছন্দ হবে কিনা, তবে আমার মনে হয় একটা এপিসোড ট্রাই করে দেখলে ভালই লাগবে।

আনিমে রিভিউঃ নন নন বিয়োরি- লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জনরা- কমেডি, স্কুল, সেইনেন, স্লাইস অফ লাইফ

জাপানের কোন এক প্রান্তে পাহাড়ের ধারে অবস্থিত কোন এক গ্রাম। আধুনিক পৃথিবীর সব সুযোগ সুবিধা যেখানে এখনো পৌঁছায়নি। কিন্তু তাই বলে গ্রামটির ঐশ্বর্য কোন অংশে কম নয়! এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, বনাঞ্চল, পরিস্কার টলটলে পানির নদী, তাজা সবজীর ক্ষেত এবং কিছু সুন্দর মনের মানুষ। আর আছে একটি অদ্ভুত স্কুল, এবং তারচেয়েও অদ্ভুত এই স্কুলের ছাত্রছাত্রী।

বাবার চাকরির সুবাদে এলিমেন্টারী স্কুলের ছাত্রী হোতারুকে টোকিও ছেড়ে আসতে হয় এই গ্রামে। সে এসে ভর্তি হয় এই আজব স্কুলে। হাসিখুশি হোতারু খুব সহজে মিশে যায় গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশের সাথে। গল্প এগিয়ে চলে তাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট হাসিকান্নায় ভরা মজার মজার ঘটনা এবং খুনসুটি নিয়ে।

non-non-biyori-stars

আনিমেটির কাহিনী খুব সহজ সাধারণ, কিছুটা ধীরগতিতে এগিয়ে চলে, আর এই ধীরগতিই এর প্রকৃত সৌন্দর্যকে বের করে আনে। গ্রামের সবুজ সুন্দর প্রকৃতিকে খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে প্রতিটি এপিসোডে, চোখ ধাঁধানো অ্যানিমেশন দিয়ে। আনিমেতে চরিত্রগুলোর কাজকর্ম দেখতে দেখতে কখন যে নিজেকে তাদের পাশে আরেকটি চরিত্র হিসেবে আবিস্কার করতে হয়, বোঝা যায়না। সেইসাথে আছে মনকে শান্তি দেয়ার মত মানানসই ওএসটি, ব্যস্ত শহুরে জীবনের ফাঁকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও আনিমেটি মনটাকে তরতাজা করে তোলে।

আমি নিজে এইধরণের আনিমে বেশি পছন্দ করি, তাই শুরু থেকেই এটি আমার খুব সুন্দর লেগেছে, যারা একটু ফাস্ট পেসড আনিমে পছন্দ করেন, তাদের কাছে শুরুর দিকে কিছুটা স্লো লাগতে পারে, তবে একবার এই গতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আনিমেটির ১২ টি পর্ব শেষ না করে উঠতে পারবেননা, এটুকু বলতে পারি।

maxresdefault

মৃত্যু পরবর্তী জীবনের টুকরো – Angel Beats! by ইশমাম আনিকা

angel-beats-angel-beats-17469079-1920-1200

জনরা- অ্যাকশন, কমেডি, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, ট্র্যাজেডি।
ম্যাল রেটিং- ৮.৫৬

প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু অপূর্ণতা থাকে। কেউ কেউ সেগুলো পূরণ করতে পারে, কেউ কেউ এত সৌভাগ্যবান হয় না, অপূর্ণতা পূর্ণ করার আগেই জীবনের পাঠ শেষ করে পরপারে চলে যেতে হয়।

কিন্তু তারপর? কি হয় তারপর? অতৃপ্ত আত্নাগুলোর কি হয়? তারা কি শান্তি লাভ করতে পারে অপূর্ণতা নিয়ে? নাকি সেগুলো পূর্ণ করার চেষ্টা করতে থাকে মৃত্যুর পরেও??

ওতোনাশি একদিন হঠাত নিজেকে আবিষ্কার করে একটা স্কুলের সামনে। তার নিজের পরিচয় বা কোথায় থাকে এ ব্যাপারে তার কিছুই মনে পড়ে না। সেখানে তার পরিচয় হয় ইউরির সাথে, যে মেশিনগান নিয়ে কারও ওপর নজর রাখছিল। সে ওতোনাশিকে জানায় যে এই জায়গাটা হল জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি একটা জায়গা বা আফটার লাইফ। যেসব মানুষ তাদের জীবনে কোন অপূর্ণতা নিয়ে মারা গিয়েছে, তারা এখানে এসে পৌছায়। এখানে তারা সবাই আফটারলাইফ স্কুলের স্টুডেন্ট। এখানে কেউ যদি শান্তি লাভ করতে পারে, তাহলে তার আত্মা Pass on করে যায়। তাই এখানে টিকে থাকতে হলে প্রতি মূহুর্তে স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট এঞ্জেলের বিরূদ্ধে লড়াই করতে হয়।

ইউরি আরও জানায়, ওরা, আফটারলাইফ ব্যাটলফ্রন্টের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে এঞ্জেলকে ফাইট করে এবং ওতোনাশিকে আমন্ত্রণ জানায় ওদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য। স্মৃতিভ্রষ্ট ওতোনাশি কি করবে কোথায় যাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে ওদের সাথে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অ্যানিমেটি এগিয়েছে একেকটা ক্যারেক্টারের জীবনের অপূর্ণতা, আকাংখা, স্বপ্নের পরিণতি এবং ওতোনাশির জীবনের এবং আফটার লাইফের কর্মকান্ড নিয়ে। সেইসাথে কিছু অসম্ভব সুন্দর ইমোশনাল অংশ, মজার মূহুর্ত এবং ফাইটিং অ্যানিমেটাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক অসম্ভব সুন্দর, ফাইট সিনগুলোর অ্যানিমেশন খুব ডিটেইলড, সেইসাথে এতে ইংরেজি ও জাপানী, দুই ভাষাতেই সেইয়্যুরা চমৎকার কাজ করেছেন। ওএসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ওপেনিংটা কানে ধরেছে।

তাই, সময় পেলে জলদি দেখে ফেলুন এই ছোট্ট অ্যানিমেটি। ১৩ পর্বের অ্যানিমে এবং ১টি ওভা দেখে ফেলতে আশা করি খুব বেশি সময় লাগবে না।

1920x1080

লাইট মিউজিক ক্লাবের পথচলা: K-ON!! Anime Review by ইশমাম আনিকা

জনরাঃ কমেডি, মিউজিক, স্কুল, স্লাইস অফ লাইফ
সিজনঃ ২ টি; সিজন ১- ১৩ এপিসোড, সিজন ২- ২৬ এপিসোড

আনিমে জিনিসটা কি, তা আমি প্রথম জানতে পারি এই আনিমেটি দেখে, কাজেই প্রথম দেখা আনিমে হিসেবে এটি আমার কাছে অনেক স্পেশাল। তবে অ্যানিম্যাক্সে দেখা প্রথম অ্যানিমে বলে শুধু নয়, কে-অন আমার কাছে স্পেশাল কারণ আমি আমার নিজের লাইফের সাথে এর প্রচুর মিল খুঁজে পাই।

পাঁচজন স্কুলপড়ুয়া বালিকার হাইস্কুল লাইফ নিয়ে এই আনিমের কাহিনী। জাপানের হাইস্কুলে স্টুডেন্টদের জন্যে ক্লাব জয়েন করা মোটামুটি বাধ্যতামূলক, তাই হাইস্কুলে ওঠার পর ইউয়ি তার জন্যে উপযোগী একটা ক্লাব খুঁজতে থাকে। এবং এই খোঁজাখুঁজি করতে গিয়েই তার সাথে দেখা হয় আনিমেটির বাকি চরিত্রগুলোর সাথে, যারা বিভিন্ন সিলি এবং কিউট কাজকর্ম করতে করতে একসময় দাড় করিয়ে ফেলে লাইট মিউজিকের এক চমৎকার ক্লাব।

কাহিনীটি খুবই সাধারণ, হাইস্কুলের এয়ারহেড বালিকাদের সিলি কাজকর্ম ছাড়া আনিমেটিতে আর কিছুই নেই। কিন্তু খুঁজে দেখলে আমাদের আশেপাশের দৈনন্দিন জীবনের সাথে আনিমেটির খুব মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। উয়ি এবং ইউয়ির আজব ছোটবোন-বড়বোন কম্বিনেশন, মিস সাওয়াকোর মত একইসাথে আদর এবং শাসন করা টিচার, বয়সে ছোট কিন্তু সবচেয়ে পরিণত আচরণের আজুনিয়ান- সবই দর্শকের মনকে ছুঁয়ে দিয়ে ঠোঁটে ফুটিয়ে তুলবে মৃদু হাসি। দেখতে দেখতে কখন যে ওদের সুখ দুঃখ হাসি কান্নার সাথে মিশে যেতে হয়, টেরও পাওয়া যায় না। আর অনুপ্রেরণার জন্যও আনিমেটি খুব চমৎকার।

1661718_264205767077270_244751108_n

প্রথম সিজনের আর্ট উল্লেখযোগ্য কিছু না, কিন্তু সিজন ২ এবং মুভির আর্ট ভয়াবহ রকমের সুন্দর। কে-অন এর কারনেই মূলত আমি কিয়োটো অ্যানিমেশন এর ফ্যান হয়েছি। আমি দেখা শুরু করেছিলাম সেকেন্ড সিজন এর মাঝখান থেকে, উজ্জ্বল আর্ট এবং মিউজিকগুলো নজর কেড়েছিল। কিন্তু সিজন ১ ও তাই বলে ফেলনা নয়, চরিত্রগুলোর বন্ধুত্ব এবং সবচেয়ে বড় কথা, লাইট মিউজিক ক্লাবের গড়ে ওঠার মজার দিনগুলি এখানে দেখানো হয়, যা খুবই এঞ্জয়েবল।

এয়ারহেড হাইস্কুল গার্ল দের সিলি কাজকর্ম দেখে শৌনেন ফ্যানদের বোরিং লাগবে জানি, তাই সচরাচর এটা আমি সাজেস্ট করিনা কাউকে, তবে যদি হালকা মেজাজের এবং মনকে শান্তি দেয়ার মত কোন হাসিখুশি অ্যানিমে দেখতে চান এবং মুচকি হাসতে চান, সেইসাথে মজার এবং মনকে ছুঁয়ে যাওয়া ওএসটি শুনতে চান, তাহলে কে-অনকে একটা চান্স দিতে পারেন।

বাতাসের গুঞ্জন; কাযে নো স্টিগমা – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Kaze_No_Stigma_wallpaper

জনরাঃ অ্যাকশন, ফ্যান্টাসি, ম্যাজিক, রোম্যান্স, শৌনেন
ম্যাল স্কোরঃ ৭.৬১
এপিসোডঃ ২৪

ফায়ার ম্যাজিক ইউজার কানাগী পরিবারের প্রাইডের শিকার নিরীহ ছেলে কাজুমার জাপানে ফিরে আসা দিয়ে কাহিনী শুরু, কাজুমা জাপানে ফেরার সাথে সাথে কানাগী ফ্যামিলিতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে ওর সাথে কানাগীদের বিরোধ, এবং বিভিন্ন রহস্যময় ঘটনা নিয়ে জমে উঠছিল এনিমেটা। আস্তে আস্তে পরিবারের সাথে বিরোধ মেটার আভাস ও বড় একটা ঘটনার শেষ হওয়ার সাথে সাথে হঠাৎ এনিমে শেষ হয়ে যায়; মাঙ্গাকার মৃত্যুর কারণে।

কিন্তু যতটুকু হয়েছে খুব ভালো কাহিনী এবং ২৪ নম্বর এপিসোড দেখে ফেলার পর আফসোস হতে বাধ্য যে আরও নেই কেন। আর্ট স্টাইল মোটামুটি, ওএসটি বেশ ভাল। “হিতোরিকিরি নো সোরা” ট্র্যাকটা আমার অন্যতম পছন্দের এন্ডিংগুলোর মাঝে একটা। সেইসাথে জাপানিজ এবং ইংলিশ; দুই ভাষাতেই সেইয়্যুরা চমৎকার কাজ করেছেন।

তবে আয়ানোর সবকিছুতে অতিরিক্ত ন্যাকামো মাঝে মাঝে বিরক্ত ধরিয়ে দেয়।

Once Again [Manhua] Review

review poster 4

 

Genre: Drama, Romance, Slice of Life, Josei
Chapter: 7
Volume: 1
Author: Feng Xi, Shen Lei, BUDDY

 

Yuan Ge তার কর্মজীবনে এত বেশি সময় দেয় সারাক্ষণ, সাংসারিক জীবন বলতে যেন কিছুই নেই।
ঘুম থেকে উঠে অফিসে চলে যায় স্ত্রীর ঘুম ভাঙবার আগে, রাত্রে বাসায় ফেরত আসে স্ত্রী ঘুমিয়ে যাবার পরে। সকাল বেলায় আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ঠান্ডা নাস্তাই যেন তাকে মনে করিয়ে দেয় তার একজন স্ত্রী আছে। দুই জন ঘুমায় দুই আলাদা রুমে। এইটুকু বাদ দিলে Yuan Ge এর জীবনের বাকি অংশ দখল করে রাখে অফিসের ব্যস্ততা। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে অফিসে সাফল্যের আদর্শ উদাহরণ হিসাবে গড়ে তুলে নিজেকে। এমন সময়ে একদিন অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নিকট স্ত্রীর মৃত্যুর খবর চলে আসে।

বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকা স্ত্রীর অসুস্থতার কথা যেন সেই সময়ে মনে পড়ে তার। স্ত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে যেন বৈবাহিক জীবনের সব দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে, এবং আবার তার কর্মজীবনে ফেরত চলে যায় – এতটুকু সারা ফেলে না তার মনে।

Yuan Ge দক্ষতার কারণে যেকোন মানুষের চেহারা বা চালচলন দেখেই তাকে একদম পড়ে ফেলতে পারে, বুঝে নিতে পারে তার দক্ষতা কিরকম, কিংবা তার সাথে খাতির জমালে লাভ হবে না লোকসান। এমন অবস্থায় একদিন ট্রেনে চলার সময়ে এক স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দিকে তার দৃষ্টি পড়ে যায়। মেয়েটিকে কোনভাবেই যেন বুঝে উঠতে পারে না সে, খোলা বইয়ের মত সবাইকে পড়তে পারতো যেই Yuan Ge, সে কিনা এই অচেনা মেয়েটিকে দেখে কোন হিসাব মিলাতে পারে না! টিনেজ মেয়েটির মধ্যের শিশুসুলভ ব্যাপার-স্যাপার যেন তাকে আরও বেশি অবাক করে তুলে। বউ থাকার পরেও যেখানে বউকে কিংবা অন্য কোন মহিলার প্রতি বিন্দুমাত্র দৃষ্টি দিত না, সেই Yuan কিনা এখন প্রতিদিন ট্রেনে চড়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কখন মেয়েটি ট্রেনে উঠবে, তার দিকে এক পলক তাকাতে পারবে! ধীরে ধীরে একসময়ে Yuan টের পায় নিজের বয়সের প্রায় অর্ধেক বয়সী এই মেয়ের প্রতি তার অন্যরকম এক আকর্ষণ তৈরী হয়। বুঝতে পারে সে মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়।

একদিন আর ধৈর্য্যের বাঁধ ধরে রাখতে না পেরে মেয়েটির পিছু নেয় সে, উদ্দেশ্য তার সাথে একটু কিছু কথা বলা, তাকে আরেকটু জানা। মেয়েটির পিছু পিছু আসতে আসতে Yuan এসে পরে মেয়েটির স্কুলে – এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করে এটি সেই স্কুল যেখানে সে ছোটবেলায় পড়তো। হঠাত করে সে নিজের স্কুল জীবনের স্মৃতিতে চলে যায়, এবং সাথে সাথে যেন তার পুরা দুনিয়া ওলট-পালট হয়ে যায়! যে স্ত্রীকে জীবিত থাকাকালে একটুও সময় দিতে পারতো না, মৃত্যুর পরেও যেই স্ত্রীর জন্যে তার মন ভারাক্রান্ত হয় নি, এখন এতদিন পর স্ত্রীর সাথে জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত চোখের সামনে ভেষে উঠে। পুরানো দিনগুলি জাপটে ধরে তাকে, এবং Yuan আবিষ্কার করে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্তটুকু কিভাবে তার হাতছাড়া হয়ে যায়।

চরিত্র: ৯/১০

৭ চ্যাপ্টারের এই মানহুয়াটির মূল চরিত্র Yuan Ge, যাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সমগ্র কাহিনীটি। অল্প কয়েকটি চ্যাপ্টার হলেও এরই মধ্যে তার চরিত্রের দিকগুলি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে, প্রত্যেক চ্যাপ্টারের সাথে সাথে তার উপলব্ধি ও চারিত্রিক বিস্তৃতি চোখে পরার মত।

এছাড়াও গল্পের মূল চরিত্রের মধ্যে পরে স্কুল পড়ুয়া মেয়েটি, এবং Yuan-এর সদ্য অতীত স্ত্রী।

আর্ট: ৮/১০

শৌজো বা জোসেই ধাঁচের মাঙ্গার মতই আর্টস্টাইল, খুব বিশেষ কিছু নয়। তবে মূল চরিত্র বাদে বাকি কারও চেহারাই তেমন দেখানো হয় না, দেখালেও সেখানে Yuan তাদেরকে কী হিসাবে দেখছে সেটাই উল্লেখ থাকে শুধু।

গল্প: ৯/১০

অল্পের মধ্যে মন ছুঁয়ে যাবার মত একটি রোমান্টিক গল্প। বিশেষ করে শেষ দিকে এসে গল্পের টুইস্ট মনে সাড়া জাগাবে সহজেই।

উপভোগ্যতা: ৯.৫/১০

গল্পের আবর্তনের সাথে সাথে নায়কের প্রতি সমর্থন, সহমর্মিতা, বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও একটি করুণ পরিসমাপ্তি – একটি সফল উপভোগ্য ছোট রোমান্টিক গল্পে পরিণত করেছে একে।

MyAnimeList রেটিং: ৭.৯৬/১০
আমার রেটিং: ৯.০/১০

আমার পড়া সবচেয়ে সুন্দর রোমান্টিক গল্পগুলির মধ্যে পরবে unique এই গল্পটি।

MyAnimeList Link: http://myanimelist.net/manga/65923/Once_Again

মাঙ্গাটি পড়ুন এখানে: http://mangafox.me/manga/once_again/

তামাকোর মোচিসমৃদ্ধ পৃথিবী; তামাকো মার্কেট রিভিউ – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tamako_Market

“কি করব, যখন হঠাৎ করে মনে হচ্ছে, আনিমু দেখে আরাম পাইতেসি না, ধাড়ুম ধুড়ুমের ঠেলায় মাথা ধরে গেল?”

দ্য আন্সার ইজ কিওঅ্যানি!!

দেখে ফেললাম কিয়োটো অ্যানিমেশনের আরেকটি চমৎকার কাজ “তামাকো মার্কেট”। মোচি প্রস্তুতকারী পরিবারের মেয়ে তামাকো। তার বাড়ি বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ, তাদের পারিবারিক মোচিশপের পেছনে। তামাকো ভালবাসে তার পরিবারকে, তাদের দোকানকে, তাদের এই শপিং ডিস্ট্রিক্টকে; আর সবচেয়ে বেশি ভালবাসে মোচি তৈরি করতে।

১২ পর্বের এ সিরিজটিতে পুরোটা সময়ই তামাকো এবং তার আশেপাশের মানুষদের প্রাণবন্ত দৈনন্দিন জীবনের উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরা হয়। হঠাৎ একদিন হাজির হওয়া রাজকীয় মোরগসদৃশ কথাবলা পাখি দেরা, দেরার হাস্যকর কাজকর্ম, তামাকোর বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে নতুন ধরণের মোচি তৈরির আইডিয়া, প্রতিবেশী বাল্যবন্ধু মোচিজৌর সাথে প্রতি রাতে কাগজের কাপ ফোনে কথা বলা, সেইসাথে তার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে যে সুন্দর সম্পর্ক; সবমিলিয়ে যে কাউকে ভাবতে বাধ্য করবে, আমার জীবনটাও যদি তামাকোর মত হত!

অ্যানিমেটিতে বেশ কিছু মনকে ছুঁয়ে যাওয়া মূহুর্ত আছে, আবার মুড হালকা করে দেয়ার অনেক এলিমেন্ট আছে! কিওঅ্যানির আর্ট নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, প্রতিটা চরিত্রই পছন্দ করার মত। ওএসটি খুব চমৎকার, ওপেনিং এবং এন্ডিং সং- দুটোই মনে ছাপ ফেলে দেয়ার মত; আমার বেশি পছন্দ এন্ডিং সংটা।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং একটা অ্যানিমে ছিল তামাকো মার্কেট, হালকা কোন অ্যানিমে দেখতে চাইলে তামাকোর সাথে ঘুরে আসতে পারেন বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ।

sam_1494scaled