একজন সাধারন মানুষের জীবনে লক্ষ্য কি !? ছাত্রবস্থায় পরীক্ষায় ভালো করা , এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটে ভালো করা , ভালো কলেজে চান্স পাওয়া , ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া , মানে সবমিলিয়ে খ্যাতিমান হওয়া , অনেকের মাঝে স্ট্যান্ড আউট করা । কিন্তু এই অসংখ্য কিছু করার তাগিদে আপনার জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে যাচ্ছে না তো ?! হঠাত্ করে যদি কোন এক কারণে আপনি যদি উপলদ্ধি করেন যে আপনি কি হারাচ্ছেন , আপনি আপনার আশেপাশে লুকিয়ে থাকা রত্নগুলো , জীবনকে উপভোগ করার আসল রহস্য আপনার সামনে এসে পরে তাহলে কেমন হবে ? তেমনি এক যুবক হানদার হাসিখুশি জীবনের আসল মানে খুঁজে পাবার যাত্রা নিয়ে এনিমে বারাকামন ।
হানদা এক ২২বছর বয়সী বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার । বেশ কম বয়সেই সে ক্যালিগ্রাফির জন্য সুপরিচিত । বাপকা বেটা অর্থাত্ হানদা বাবার মতই ক্যালিগ্রাফার । তো একদিন এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বাধলো বিপত্তি । প্রদর্শনীর পরিচালক হানদার ক্যালিগ্রাফী দেখে বলে যে হানাদা তার বাবার স্টাইল কপি করে সাফল্য পাচ্ছে , তাতে নেই কোন নতুনত্ত্ব । তো হানদা বেশ রগচটা বা একটু রিএকশান বেশিই করে । বলা নেই কওয়া নেই , হানদা বুড়া পরিচালকের গালে বসিয়ে দিল বিরাশি সিক্কির ঘুষি । যথারিতী তার বাবা তাকে এক নির্জন দ্বীপে বনবাসে পাঠিয়ে দিল মাথাটা ঠান্ডা করার জন্য এবং আরও একটা গোপন কারনে যেটা হানদা জানেনা । তো শহুরে ছেলে হানাদা গ্রামে এসে ঠিক সুবিধে করে নিতে পারছিল না । কিন্তু নতুন বাড়িতে উঠতে গিয়ে পরিচয় হল গ্রামের দস্যি মেয়ে নারুর সাথে , মিষ্টি এই দস্যি মেয়ে অপরিচিত এই শহুরে শাট ইনকে কয়েকঘন্টার মধ্যেই আপন করে নেয় । এবং সাথে গ্রামের সকলে তার সাথে পরিচিত হতে আসে । প্রথমে হানাদা মন খারাপ করলেও পরে সে বলে “দিনগুলো মনে হয় খারাপ কাটবে না ,, । ডাকাতসর্দারের মেয়ে মিওয়া , অতিবুঝা শখের মাঙ্গাকা তামা , অতি কিউট হিনা আর গ্রামের চ্যাংড়া পিচ্চির দলের জ্বালাতনে কখোনো বিরক্ত , কখোনোবা নিজেই তাদের সাথে বাদরামিতে নেমে পরা । যেই হানদার জীবনে এক কাওয়াফুজি ছাড়া আর কোন বন্দ্ধু ছিল না আজে তার জীবন যেন এই দস্যিদের ছাড়া ফাঁকা হয়ে যাবে । নারুর কাছ থেকে , এই গ্রামের কাছ থেকেই সে ক্যালিগ্রাফিকে নিজের স্টাইলে করার চেষ্টা করে । হানাদা সেনসে কি পারবে তার জীবনের খারাপ মুহূর্তগুলোকে ভুলে নতুন একজন হয়ে উঠতে !?
বারাকামন আমার দেখা সেরা স্লাইস অফ লাইফ এনিমে । এই এনিমেতে রোমান্সের র ও নেই যা বিরল । এর আর্ট স্টাইল খুবই সুন্দর .আছে দম ফাটানো কমেডি এবং ক্যারেকটারগুলোও অস্থির । এর ওপেনিং গানটা একবারও স্কিপ করার না । এই এনিমে দেখার পর একটা কথাই মনে হবে
“দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া , ঘরের বাইরে দু পা ফেলিয়া ,,
হানাদার অবস্থা অনেকটা আরণ্যক গল্পের নায়কের মত , প্রথমে গ্রামে এসে ভাবছিল কেমন করে শহরে পালাবে আর ২বছর পর ভাবছে শহরের গন্ডগোল থেকে পালিয়ে কেমন করে গ্রামে ফিরে যাবে । হয়ত এই এনিমে দেখার পর আপনারও মনে হবে আমি কি কিছু হারাচ্ছি !?
তো এই এনিমে দেখুন এবং অসাধারন এক যাত্রায় সওয়ার হন এবং নারু নামক এক দস্যি মেয়ের ভক্ত হয়ে যান ।
রেটিং :১০/১০ ।
Barakamon রিভিউ — Rokibul Islam

গতকাল রাতে একটানা দেখে শেষ করলাম বারাকামোন। দেখা শুরু করার আগে এইটা নিয়ে কোন রিভিউ পড়া হয়নি। গ্রুপে কিছু পোষ্ট দেখেছি, স্ক্রল করে নিচে নেমে গিয়েছি, পড়িনি। প্রচন্ড মন মেজাজ খারাপ নিয়ে ইউটুব ব্রাউজ করতে গিয়ে সাজেশনে এইটার একটা এপিসোড চোখে পড়লো FunAnimation এর আপলোডে- কী ভেবে প্রথম পর্বে গিয়ে চালু করে দিয়ে বসলাম।
মিথ্যে বলবো না, হুট করে মন ভালো করে দেয়ার টনিক এই এনিমেটা, অন্তত আমার জন্য সেভাবেই কাজ করেছে। ইন্ট্রোতে- নারু যখন কষ্টে সৃষ্টে দরজা খুলে সেনসেই’র ঘরে উঁকি দেয়- ঐ জায়গাটা দেখেই কেমন জানি মন ভালো হয়ে যায়।
খুব সাদামাটা গল্প, প্যাচগোছ নেই। কিন্তু, আছে উচ্ছাস, নিজেকে খুঁজে নেয়ার গল্প, দুরন্তপনা, একটু পর পর হেসে উঠবার বাহানা… পুরো সিরিজটার প্রাণ আমার কাছে হান্দা সেইসু আর নারু। নারুকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই; উপরি হিসেবে বলবো- এই দুরন্ত, হাসিখুশী পুচকে ছুঁড়িকে দেখলেই আমার পিচ্চি কাজিনটার কথা মনে পড়ে যায়- প্রায় কাছাকাছি বয়সী- কিন্তু একই রকম প্রাণশক্তি, পোকামাকড়ের ভক্ত, নানাবাড়ির এমাথা থেকে ওমাথা দৌড়ে বেড়াবে।
পুরো সিরিজটা ধরেই নিজেকে নতুন ভাবে চেনার কাজটুকু করে যাবে হানদা, সহজ সরল- পরোপকারী দ্বীপের মানুষগুলোর কাছে থেকে একটু একটু করে জীবনকে নতুন ভাবে শিখতে শুরু করবে। প্রথম পর্বে উঁচু দেয়ালের উপরে উঠতে গিয়ে হানদার উদ্দেশ্যে নারুর বলা শিশুমনের সরলোক্তিগুলো কিছুটা হলেও নিজেকে নাড়া দিয়ে গেছে; পুরোটা সিরিজেই এমন অনেক বার্তা রেখে গেছে দর্শকদের জন্য। একেবারে শেষ পর্বে হানদার মা’র কথাটুকু শেষটায় খুব সত্য মনে হয়- “হানদার ক্যালিগ্রাফি কেবল পরিণত হয়নি, মানুষ হিসেবে সেও পরিণত হয়েছে ঐ দ্বীপে গিয়ে…”
মাত্র ১২ টা পর্ব দেখে শেষটায় নিজেরই মন খারাপ হয়ে গেছে। ধুচ্ছাই, শেষ হয়ে গেল।

Best Comedy Anime (2014) – Gekkan Shoujo Nozaki-kun
কমেডি লাভারদের জন্য অসাধারণ একটা বছর ছিল ২০১৪, বারাকামন, কাওয়াই কমপ্লেক্স, তোনারি নো সেকি কুন, আই কেন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড হোয়াট মাই হাসবেন্ড সেয়িং সহ একের পর এক চমৎকার হাসির এনিমে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে এনিমখোরদের। কিন্তু দিনশেষে এনিমখোর টপচার্ট- বেস্ট কমেডি এনিমে ক্যাটেগরীতে শেষ হাসি হাসল গেক্কান সোজো নোজাকি কুন, তাও দ্বিতীয় স্থানে থাকা বারাকামনের প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে।
গেক্কান সোজো নোজাকি-কুন এনিমেটির কয়েকটা বেশ ডিস্টিঙ্কটিভ ফিচার আছেঃ ১/ মেইল এবং ফিমেইল দুই গ্রুপেরই পছন্দ হয় এমন রোমান্টিক এনিমে পাওয়া একটু মুশকিল, যেক্ষেত্রে এই এনিমেটা অসাধারণ পারফর্ম করতে পেরেছে। ২/ এই এনিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একের পর এক সারপ্রাইজ, একদম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত… ভিউয়ারদের একটা মুহূর্ত বোরড হবার সুযোগ নাই… ৩/ সবশেষে ক্যারেক্টারস, সিমপ্লি অস্থির, মেইন দুই ক্যারেক্টার খুবই পাওয়ারফুল, ডাইনামিক আর বৈচিত্র্যময়… আরো ইন্টারেস্টিং এস্পেক্ট হলো সাইড ক্যারেক্টারগুলা, কম সময়ের জন্য আসলেও পুরো ফর্ম নিয়ে এসেছে আর পরিষ্কার প্রভাব বিস্তার করে গেছে… এই দূর্দান্ত এনিমেটিকে বছরের সেরা কমেডি এনিমে হওয়াতে অসংখ্য অভিনন্দন… দ্বিতীয় স্থানে থাকা বারাকামন নিয়ে নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই, বছরের সবথেকে আলোচিত এনিমেগুলোর মধ্যে একটি এই অস্থির হাস্যরসাত্মক মজাদার এই এনিমেটি নির্দ্বিধায় প্রাণখুলে হাসাতে পেরেছে শত-সহস্রকে…
Best Slice of Life Anime (2014) – Barakamon
শহুরে ইটকাঠের মধ্যে ক্যালিগ্রাফার হান্দার মন বিষিয়ে উঠলো যখন, প্রকৃতির কাছে সে খুঁজে নিল আশ্রয়। গ্রামের সহজ সরল শিশু, আর দিলখোলা মানুষের সাথে অসামাজিক, রূঢ় হান্দার মিথস্ক্রিয়া, ব্যস, সহজ সরল প্লট বারাকামনের। বলতেই হবে, চমত্কার ভয়েস এক্টিং এর সাথে জীবনের ছবি যেন ক্যালিগ্রাফির তুলি দিয়েই আঁকা হয়েছে, তবে তা রঙিন, জীবন্ত। ইনস্ট্যান্ট হিট বারাকামন যদিও বহুল প্রচলিত ফর্মুলা ব্যবহার করেছে বেশিরভাগ গ্যাগ এলিমেন্টের ক্ষেত্রে, কিন্তু শেষমেষ অসমবয়সী দুজনের এই জুটি সম্ভবত আরো বছরখানেক ফ্যানদের মনে থাকবেই।
অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গিন নো সাজি সিজন টু ছিল একাধিকহতাশাজনক মাঙ্গা এডাপ্টেশনের বছরে একটি চমৎকার মাঙ্গা থেকে বানানো ততোধিক চমৎকার একটিআনিমে। কৃষিভিত্তিক স্কুল ইউজো হাই-এ হাচিকেন ইউগো ও তার সঙ্গী-সাথীদের গল্প নিয়েদুই সিজনের এই আনিমে সম্ভবত চলে যাবে ক্লাসিক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের লিস্টে।




