৪০০ বছর ধরে দুই রাইভ্যাল ক্ল্যান “ইগা” ও “কোউগা” এর দুই মেম্বার এর মধ্যে নিনজা ডুয়েলটি দিয়ে এনিমে শুরু হয়।সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক মনোভাব একে অপরের মধ্যে শতাব্দী ধরে বহন করে আসছে।অনেক বছর আগে “হাতোরি হানজো” নামের এক শোগান এর মাধ্যমে তাদের যুদ্দের অবসান হয় দুই ক্ল্যান হাতোরি এর সার্ভিসে থাকার মাধ্যমে।কিন্তু অবশেষে হাতোরি রিটায়ার্ড হবার হবার সময় তার নাতিদের মধ্যে একজনকে তার সরকারের সাকসেসর নির্বাচনের সময় জটিলতা দেখা দেয় যা বাড়ার আগেই দুই ক্ল্যান এর শান্তি চুক্তি বাতিল করে দেয় এবং আদেশ দেয় দুই ক্ল্যান থেকে সবচেয়ে ভালো দশ জন করে নিনজা কে প্রস্তুত হতে যারা একেক নাতিকে রিপ্রেজেন্ট করবে।রক্তারক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে এক ক্ল্যান অন্য ক্ল্যান এর দশ জনকে শেষ করতে হবে।১০ জনের নামের তালিকা দিয়ে দেয়া হবে এবং এর মধ্যে যেই ক্ল্যান মেম্বার এই তালিকা নিয়ে বেঁচে থাকবে শেষ পর্যন্ত অই রিপ্রেসেন্টেটিভ ই ক্ষমতায় আসবে এবং জয়ী ক্ল্যান কে পরবর্তী ১০০০ বছরের জন্য সাপোর্ট দিবে।
এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে আমার মতো এয়ার হেডের একটু বেশি টাইম লেগে গিয়েছিলো।ব্যাপারটা অনেকটা ফাউল মনে হয়েছিলো এবং এখনো হচ্ছে কিন্তু
রক্তারক্তি হাড্ডা হাড্ডি,অসাধারন সব মারামারি দিয়ে ভরা ও আমরা নিনজা বলতে যা বুঝি তার থেকেও অনেক ব্যাতিক্রমি ভাবে তাদেরকে ফুটিয়ে তোলা আবার এর মধ্যে প্রেম ভালোবাসা নিবন্ধিত করে তোলা এক অসাধারন ভাবে সাজানো এক এনিমে এটি।আর সে কি ভয়েস এক্টিং,অসাধারন।আমি প্রথমে অল্প একটু ডাব দেখলেও মিউজিকের জ্বালা যন্ত্রণায় সাব দেখা স্টার্ট করসি।আর সিরিজ শেষে মনে হচ্ছে সাবটাই বেশি ভালো হয়েছে।
Specially যখন Oboro বলে “Gennosuke-Sama”.
যদিও প্রথমেই বুঝে গিয়েছিলাম কি হবে লাস্ট এ এরপর ও ভাবতে পারিনি এতো ভালো লাগবে ও এতো অসাধারন লাগবে আমার কাছে এনিমেটি। গ্রুপ এ এক ভাইয়ার কমেন্ট দেখে এনিমেটি নামিয়ে ছিলাম।কিচ্ছু বলবোনা আর, খালি বলবো This anime is Worth it,so if you can then watch it.
একটা কথা না বললেই নয় শিকি দেখার সময় “একটা” ফিলিংস কাজ করসিলো।এমন একটা,যা সাধারণত কাজ করেনা ঠিক সেই ফিলিংস এই সিরিজ দেখার সময় ও কাজ করছিলো।যদিও শুরুতে আমি আন্ডারডগ এর সাপোর্টার ছিলাম।
Basilisk: Kouga Ninpou Chou [রিভিউ] — Mobashirul Haque
Anime: Basilisk:kouga ninpou chou
Episodes: 24
Genre: action, historical, romance, ninja
Studio:Gonzo
সময় ১৬১৪। জাপানে Tokugawa Shouganate প্রতিষ্ঠিত। জাপানের ২ নিনজা clan; Kouga clan আর Iga clan এর মধ্যে বিদ্যমান হয়ে আছে ৪০০ বছরের দ্বন্দ্ব সংঘাত।Shouganate দের প্রধান নিনজা clan, Hanzo দের হস্তক্ষেপে এই ২ clan এর মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়েছে।কিন্তু ২ clan এর লোকজনের মনে এখনও একে অপরের উপর বিদ্বেষ জমা হয়ে আছে।শান্তি আরও স্থায়ী করার লক্ষে ২ clan এর প্রধান clan এর পরবর্তী প্রধান Kouga Gennousuke আর Iga Oboro এর বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু পরবর্তীতে retired Shogun Ieyasu, Shouganate এর তৃতীয় উত্তরাধিকার নির্বাচনের জন্য ঠিক করে Kouga আর Iga দের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার।চাপা পড়া ঘৃণা-বিদ্বেষ আবার জেগে উঠে।নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য আর পুরনো ঘৃণা ২ clan কেই রক্তপিপাসু করে তোলে।ভাগ্যের পরিহাসে Gennousuke আর Oboro কেও নিজের ভালবাসার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়।
২৪ পর্বের Anime তে কাহিনী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল খুব সুন্দর ও গুছানো, কখনই খাপছাড়া মনে হয় নি।কাহিনীর pacing ঠিকভাবেই আগিয়েছে। ছিল কাহিনী বুঝার সুবিধার্থে প্রয়োজনমত backstory. আর পরবর্তী পর্বে কি হবে সেই suspense।
Anime এর প্রত্যেকটা চরিত্র কে ভালো লেগেছে। প্রত্যেক চরিত্রেই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল।Gennousuke আর Oboro এর অন্তঃদ্বন্দ্ব, বাকি চরিত্রদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আর তার ফলে কাহিনীর পরিবর্তন ভালো লেগেছে।
Anime তে action বেশ ভালো, সাথে সাথে নিনজা দের যুদ্ধকৌশল এর পরিচয়। প্রত্যেক চরিত্রের power ছিল interesting।
Anime এর ending song“Hime Murasaki” আমার personal favourite.
Myanimelist এই anime এর ranking আর popularity দেখে হতাশ হয়েছি। এই anime আরও প্রশংসার যোগ্য।
https://www.youtube.com/watch?v=5UxNJWMPvlw
Basilisk [রিভিউ] — Amor Asad
জেনারেশনের পর জেনারেশন একে অপরকে ঘৃণা করার ইতিহাস পর্দায় দেখলে না-চাইতেই বাস্তব দুনিয়ায় মিলেনিয়াম ধরে চলে আসা সংঘর্ষগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। এসব দ্বন্দ্বের অনেকগুলিই এখনও বর্তমান এবং সমানে ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
একটা পর্যায়ে সংঘর্ষের পিছনে আদর্শগত কারণগুলোকে আর বাটিচালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় বা পরিবর্তিত হয়ে যায় — থেকে যায় কেবল সংঘর্ষটুকু।
ভায়োলেন্সে আনন্দ পাওয়া মানুষের লং ফরগটেন আদিমতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটা। সংঘর্ষের উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত পুলক লাভে গিয়ে দাঁড়ায়, তা সে অবচেতনে আদিপুরুষের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙ্গে হলে হলেও।
উদাহরণ দিতে চাচ্ছি না, তবুও কিছু একটা ভিজুয়ালাইজ করতে চৌধুরী বাড়ি আর মির্জা বাড়ির দ্বন্দ্ব ধরে নিন।
.
ব্যাসিলিস্ক-এ এমন দুটো আলাদা গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক শতাব্দীর পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে দুটো গোষ্ঠীই কল্পিত পৃথিবীর প্রসিদ্ধ দুটো নিনজা-ক্লান। দুপক্ষই মোটাদাগে সেরা দশজন নিনজা নিয়ে গঠিত এবং কোন অজানা এক কারণে দশ-দশ মোট বিশজন বাদে এই দুই ক্লানে আর কোন দক্ষ নিনজা নেই। নিনজারা সবাই অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন। ক্ষমতাগুলোর প্রদর্শনী ঠিক সুপারপাওয়ারের কথা মনে করায় না — বরঞ্চ মিউটেশনের সাথে ঢের মিল আছে। এসব যদিও নিনজা আর্ট বা নিনজুৎসু হিসেবে দেখানো হয়েছে — ক্ষমতাগুলো আপন করে নেয়ার দুর্ভাবনা কুক্ষণেও আসে না মাথায়। কদাকার, নিষ্ঠুর এবং ভয়ানক কিছু ক্ষমতা। এছাড়া চাইলেই একজন অন্যের নিজস্ব নিনজুৎসু শিখতে পারে না। সবার ক্ষমতা আর তাঁর কার্যকারণ আলাদা — কিভাবে কে কোন ক্ষমতা পেয়েছে তাঁরও কোন ব্যাখ্যা নেই। না, একে সিরিজের নেতিবাচক নয় বরং ইতিবাচক দিক হিসেবেই ধরছি।
জাপানিজ কালচারে নিনজাদের কেমন দেখা হয় হাতে-কলমে জানতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু নারুতো আর ব্যাসিলিস্ক দ্যাখার পর মনে হয়েছে তাঁদের কাছে নিনজারা মানুষ যোদ্ধা থেকে বেশী কিছু ছিলো।
গল্পে ফিরে আসি — এই দুই ক্লান বিভিন্ন সময়ে দ্বন্দ্বের সমাধান করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পুরোপুরি সফল হয়নি; উল্টো সংঘাতের ইতিহাসে নতুন রক্তের ছোপ লেগেছে। তবু যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসা গেছে, সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। অ্যানিমের গল্পের সময়টাতে দুই-ক্লান সমাধানের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। কিন্তু এত বছরের খুনোখুনি চাইলেই ভুলে গিয়ে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মেলানো যায়? দু-পক্ষের জন্যে অবস্থা জটিলতর হয়ে যায় যখন ঘটনাক্রমে যুদ্ধবিরতি যুক্তি বরবাদ হয়ে যায়। এসব প্রথম এপিসোডের প্লট — বাকিটা জানতে অ্যানিমে দেখতে হবে।
.
ব্যাসিলিস্ক বাস্তবিকই ডার্ক এবং পুরোদস্তুর ম্যাচিউরড অ্যানিমে – ভাবগত এবং চরিত্রগত দুভাবেই। চরিত্রগুলোর সবকটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ। অনড় ন্যায়নীতি আর মূূল্যবোধের মত বালখিল্যতার পরিবর্তে নিজ নিজ ক্লানের প্রতি চির আনুগত্য আর অপর ক্লানের প্রতি ঘৃণাই তাঁদের পরিচালিত করে। গল্পে প্রটাগনিস্ট অবশ্যই আছে — কিন্তু তাঁর বা তাঁদের চোখে মাঙ্গাকা কোন মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেন না। ব্যাসিলিস্ক দেখার সময় কোন চরিত্রের প্রতি আলাদা আকর্ষণ বা বিকর্ষণ কাজ করে না — উপরন্তু মোটিভেশন গুলো আমলে নিলে সবার অবস্থানকে ব্যাখ্যা করা যায়, তাঁদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা যায়। অর্থাৎ অমক চরিত্র পটল তুললে সব শেষ — এই অনুভূতি দর্শককে তাড়িত করে না।
থিম ছাড়াও সিরিজে গ্রাফিক ভায়োলেন্স অত্যাধিক বেশী যে, গোর বললে ভুল হবে না। সেই সাথে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স আর এক্সপ্লিসিটনেস উল্লেখ করার মত। সিরিজ দেখার ইচ্ছে থাকলে এটায় মাথায় রেখে বসতে হবে।
.
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঘটনাগুলোর তীব্রতা ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে। অ্যানিমেশন আর আর্টস্টাইলের প্রশংসা করা যাক। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যানিমেশন দেখতে অনেকটা জিবলি স্টুডিওর অ্যানিমেশনের মত লাগে। আলোচনা করার চেয়ে দেখালে বোধহয় ভালো হবে। অ্যানিমে থেকে কিছু স্ক্রিনশটের লিঙ্ক দিচ্ছি, চাইলে ক্লিক করে দেখা যাবে।
https://imgur.com/gallery/Zg3pW/
.
ডার্ক ফ্যান্টাসি অ্যানিমের তালিকায় উপরের দিকে রাখতে চাই ব্যাসিলিস্ককে। ভালোবাসা, বিরহগাথা, স্বজনপ্রীতি, প্রতিশোধ, ক্রোধ – সবকিছু এক মোড়কে। এখানে কোন কিছুর কোন নিশ্চয়তা নেই। দপদপে কোন হৃদয়ের আর কোন প্রতিশ্রুতির কানাকড়ি মূল্য নেই। তাই গল্পের ব্যপ্তি খুব বেশী না হলেও, ব্যাসিলিস্ক-এর দুনিয়া প্রভাবিত করে। দিনশেষে দু-পক্ষের অতীতের সবটুকু জানার ইচ্ছে যাগে মনে।
আমার রেটিং ৮/১০
‘শিকড়ের সন্ধানে’- পর্ব ২
“দ্যা ওয়ে অব নিনজা (অন্ধকারের রহস্যময় গুপ্তঘাতক)”
এনিমে বিশ্বে কম বেশি যাওয়া-আসা আছে কিন্তু নারুতো সম্পর্কে জানে না এমন কেউ নেই, তাই নিনজা কিংবা শিনোবি শব্দটিও আমাদের অতি পরিচিত। সাধারণ ধারণাটা হয়ত এরকম, নিনজারা আনসাং হিরো, সুপারহিউম্যান ক্ষমতার অধিকারী, লোকচক্ষুর আড়ালে-আবডালে নানারকম মিশন সফল করে সাপোর্ট দিয়ে চলেছে সমাজকে, নিজের জীবন বিপন্ন করছে দেশকে রক্ষার জন্য, কতকটা আজকের সিআইএ কিংবা অন্য স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চগুলোর মত। একবিংশ শতাব্দীর স্পাই, শেডি ডিটেকটিভ, স্পেশাল এজেন্টদের পূর্বপুরুষ এই নিনজাদের জীবনধারা কেমন ছিল, কিভাবে সূচনা হলো নিনজুৎসুর, জাপানের ইতিহাসে তাদের ভূমিকা কি ছিল?

শিনোবি শব্দের অর্থ অনেকটা ‘নিস্তব্ধে ছিনিয়ে নেওয়া’ যা নিনজাদের কাজকর্মের অনেকটাই ধারণা দিয়ে দেয়। জাপানে নিনজাদের উৎপত্তি হয় ফিউডাল এইজে, মোটামুটি ১২-১৫ শতকের দিকে, তবে তকুগাওয়া এরায় (১৬০০-১৮৬৮) এদের দূর্দান্ত প্রতাপ দেখায় যায়। নিনজাদের জীবনধারা ছিল মূলতঃ সামুরাইদের ঠিক বিপরীত, সামুরাইরা যেমন সুস্পষ্ট কোড বুশিডো মেনে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করত আর যুদ্ধক্ষেত্রে সামনের সারিতে ঝাঁপিয়ে পড়ত, নিনজাদের নির্দিষ্ট কোন সিস্টেম ছিল না, উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যেকোন ধরণের অসদুপায়-নিকৃষ্ট কাজ করতে তাদের বিবেকে বাধত না, বেসিকেলি তাদের বিবেক বলতেই কিছু ছিল না। তারা ছিল ভাড়াটে যোদ্ধা, অর্থের জন্য যে কারো সাথে বেইমানি কিংবা যে কারো পক্ষে কাজ করতে তাদের কিচ্ছু যায় আসত না। এ কারণে মূলতঃ এসাসিনেশন, স্যাবোটাজ, স্পাইয়িং এদের মূল কাজ ছিল। তৎকালীন শাসকদের জন্য কম কষ্টে, বিনা অযুহাতে প্রতিপক্ষ কিংবা শত্রুকে নীরবে ধ্বংস করার এমন মাধ্যম খুব আকর্ষণীয় ছিল, তাই নিনজারা হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় আর প্রভাবশালী।
শুরুতে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু করলেও ১৪ শতকের দিকে নিনজারা ধীরে ধীরে সঙ্গবদ্ধ হতে শুরু করে, ফলে ধীরে ধীরে সূচনা হয় বিখ্যাত নিনজা ক্ল্যান ইগা আর কোগা ক্ল্যানের, অন্য নিনজাদের সাথে এদের অনেক পার্থক্য ছিল, এরা ছিল ডেডলি, শক্তিশালী প্রফেশনাল নিনজা, ১৪৮০ থেকে ১৫৮০ সালের দিকে ফিউডাল লর্ডদের মাঝে বিভিন্ন কাজে এদের চাহিদা ছিল অত্যন্ত বেশি, মূলতঃ গুপ্তহত্যা আর এসপিওনাজের জন্য। কিন্তু এমন গুপ্তহত্যার চেষ্টাই তাদের কাল হয়ে দাঁড়ায়, বিখ্যাত সামুরাই লর্ড নবুনাগাকে হত্যার চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নবুনাগা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেন।
মেজি রেস্টোরেশনের আগে টোকিও র অলি গলিতে রাজত্ব করা আরেক নিনজা ক্ল্যান ওনিওয়াবান গ্রুপ, এরা কিন্তু সরাসরি অষ্টম শোগান তকুগাওয়া ইউসিমুনের বানানো ইতিহাসের প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সিক্রেট সার্ভিস ও ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, এদের মূল দায়িত্ব ছিল ফিউডাল লর্ড ও গবমেন্ট অফিসিয়ালদের উপর কড়া নজর রাখা, মেজি এরায় ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে নিনজাদের দৌরাত্ম্য, একসময় নিনজা হয়ে উঠে আঞ্চলিক লিজেন্ড আর মিথের সংমিশ্রন সৃষ্ট রহস্যময় লোকগাঁথা।
নিনজাদের রহস্যময় সুপারহিউম্যান টেকনিক আর স্কিল সম্পর্কে প্রচলিত আছে অনেক গুজব আর উপকথা, বলা হয় তারা অদৃশ্য হতে পারত, নিজের রেপ্লিকা তৈরী করতে পারত, বিভিন্ন প্রাণি কিংবা অন্য মানুষের বেশ নিতে পারত, নিয়ন্ত্রণ করতে পারত আগুন, পানি, বাতাস। তবে এসবকিছুর কোন সুনির্ধারিত দলিল নেই। সে যাইহোক, নিনজারা ‘নিনজুৎসু’ (দ্যা আর্ট অব স্টিলথ) নামক বিশেষ মার্শালআর্ট চর্চা করত, কঠোর সাধনার মাধ্যমে তারা এমন সব করতে পারত যা পারতপক্ষেই সাধারণের চিন্তার অনেক উর্ধ্বে। এই নিনজুতসু মূলতঃ জাপানের রহস্যে ঢাকা ধর্ম ‘শিন্তো’, বুদ্ধ সেইজআর্ট আর চাইনিজ মার্শালআর্ট থেকে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।
নিনজা ওয়ারফেয়ারঃ টেকনিক, ছদ্মবেশ, অস্ত্র-শস্ত্র সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী আর তাক লাগানো, বেশিরভাগ নিনজা ট্যাকনিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরণের নিনজা স্ক্রল থেকে, কয়েকটা বেশ মজারঃ
১) গার্ডকে বিভ্রান্ত করতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া- কাতন নো জুতসু, ফায়ার টেকনিক!
২) গাছে উঠে ক্যামোফ্লেজ নেওয়া, মুকতোন নো জুতসু, উড টেকনিক!
৩) আগাছা কিংবা লতাপাতা দিয়ে ঢেকে পানির নিচ দিয়ে চলাচল করা, সুইতন নো জুতসু, তারা মিজুগোমো নামক গাছের জুতো ব্যবহার করত পানির উপর দিয়ে হাটার জন্য!
৪) বলের মত গুটি মেড়ে নিশ্চল বসে থাকা, স্টোন টেকনিক…!
কি নারুতোর সাথে তেমন অমিল নেই, তাই না ?!

ছদ্মবেশ নিনজা ওয়ারফেয়ারের মূলবৈশিষ্ট্য, কখনো মঙ্ক, এন্টারটেইনার, কখনো রনিন কিংবা ভ্যাগাভন্ড, কিংবা কখনো ভবিষ্যত বক্তা হিসাবে নিনজারা তথ্য সংগ্রহ করে বেড়াত, আজকের দিনের জেন্ডার বেন্ডিং কসপ্লে কিন্তু খুব জনপ্রিয় ছিল নিনজাদের মাঝে। নিনজা ওয়ার টেকনিকগুলো খুব স্পেশাল ছিলঃ
১) এরা দলবদ্ধভাবে কাজ করত, পাসোয়ার্ড মেইনটেইন করত ২) প্রতিপক্ষ সৈন্যদের পোশাক পরে তাদের দলে ভিড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত ৩) এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে পিছুহঠবার প্রয়োজনে নিজের দলের উপর চড়াও হত তারা, এই টেকনিক বিভিন্ন গৃহযুদ্ধ-বিদ্রোহ দমনেও ব্যবহার করা হয়।
নিনজাদের লাইফস্টাইল-ফাইটিং, টেকনিক আর ভিশন সম্পর্কে আরো জানতে দ্রুত দেখে নিতে পারেন কয়েকটা টেক্সটের সামারি, বিখ্যাত ‘জিরাইয়া গোকেতসু মনোগাতারি’ যার থেকে নারুতোর কাহিনী এসেছে কতকটা, ফুওতারো ইমাদা’র “দ্যা কোগা নিনজা স্ক্রল”, “দ্যা আর্ট অব ওয়ার”…
## এনিমেঃ নিনজাদের ফিচার করা এনিমের সংখ্যা কম হলেও মোটামুটি অনেক এনিমেতেই নিনজা ওয়ারিয়রদের দেখানো হয়েছে বিভিন্ন স্টাইলের ফাইটিং আর টেকনিক সহ।
১- নারুতো/নারুতো শিপ্পুডেনঃ তেমন কোন হিস্টোরিক্যাল বেস না থাকায় এটা দেখলে নিনজাদের সম্পর্কে সত্যিকারের ধারণা পাবার সম্ভাবনা কম, তবে তাদের লাইফস্টাইল, হাতিয়ার আর ওয়ারফেয়ার সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা পাওয়া যাবে কিছুটা, আর এনিমেটা নিয়ে বলার তেমন কিছুই নেই, একজন এনিমখোরের বিরাট একটা অপূর্ণতা থেকে যাবে এটা না দেখলে, আমার পারসোনাল মোস্ট ফেভারিট, রেটিং- সাড়ে ৯/১০।
২- বাসিলিস্কঃ এই এনিমেতে ইগা আর কোগা ক্ল্যানের ইন্টারনাল ক্ল্যাশ দেখানো হয়েছে, নিনজাদের শক্তিমত্তা, ডিসেপশন, বিশ্বাসঘাতকতা, অনর্দ্বন্দ্ব আর ভয়াবহতা কিছুটা রিয়ালিস্টিকভাবে তুলে আনা হয়েছে এত, কিছুটা ভায়োলেন্স আর নুডিডিটি আছে, রেটিং সাড়ে ৭/১০
৩- নিনজা স্ক্রলঃ এক মারসেনারি নিনজার কাহিনী, একটা এনিমে আর একটা মুভি আছে, কিছুটা ভিন্নতা আছে কাহিনীতে। এনিমে রেটিং- ৭
৪- রুরোনি খেনশিনঃ ওনিওয়াবান নিনজা গ্রুপের কাহিনী চলে এসেছে এতে।
৫- কাতানাগাতারিঃ মানাবা নিনজা গ্রুপ
এছাড়া বিভিন্ন এনিমেতে অনেক ক্যারেক্টার আছে যারা নিনজা স্টাইল ধারণ করেছে, যেমনঃ ইউরোইচি, সইফন- ব্লিচ; শিগুরে-কেনিচি; ব্ল্যাক স্টার,সুবুকি- সোল ইটার; আয়ামে-গিনতামা, Sarutobi- Samurai Deeper Kyou …
এছাড়া আছে ‘Teenage Mutant Ninja Turtle’- অস্থির একটা কার্টুন, আর আছে ‘নিনজা হাত্তরি কুন’ (দেখলেই বুঝবেন কি জিনিস!)
##নিনজাদের নিয়ে কিছু মুভিঃ
১) নিনজা এসাসিন
২) আমেরিকান নিনজা সিরিজ
৩) জি আই জো


Basilisk anime review by Tasnim M Hasan

শিনোবিদের উত্থান কোনো ভালো উদ্দেশ্যে হয় নি। তারা ছিলো প্রাক-জাপানিজ-সামান্তপ্রথা রাজনীতির বেলচা, গ্রাম-প্রতিরক্ষার নামে গড়া একদল মারসেনারি যাদের কাজ শেষে টিস্যুপেপারের মত ফেলে দেয়া হতো। কিন্তু চোরাগোপ্তা হামলা, গুপ্তচরবৃত্তিতে দুর্দান্ত সাফল্যতায় ইতিহাসে চলে আসে “ইগা” আর “কোউগা” ক্ল্যান। বংশানুক্রমে চলে আসা এই ক্ল্যানগুলোর বাড়ন্ত ক্ষমতাগুলো একসময় সমরনায়ক শোগানদের ভ্রুকুঞ্চনের কারন হয়ে ওঠে । তাই ইতিহাসে জন্ম নেয় বিখ্যাত ব্লাডফিউড “ইগা vs কোউগা”, শোগানদের গোপন পৃষ্ঠপোষকতায় রক্তে ভিজতে থাকে এই দুই ক্ল্যানের ইতিহাসের পাতা।
তবে আবেগের ভাবসাবই আলাদা, সে এত কিছু বোঝে না, তাই যখন ইগা-ক্ল্যানের সাক্সেসর “Oboro” যখন কোউগা ক্ল্যানের সাক্সেসর “Gennouske”র ডাকে সাড়া দিলো, সবাই তখন তিক্ত ইতিহাসকে ভুলে যেতে সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু আবার জেগে উঠলো ইতিহাসের ভূত। শুরু হলো আরেক রক্তাক্ত প্রতিযোগিতার। এখন কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? না কি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে?
“বাসিলিস্ক”‘ এনিমটার স্টোরিটা ১৯৫৮ সালে পাবলিশ হওয়া উপন্যাস ” দ্যা কোউগা নিনজা স্ক্রল” থেকে নেয়া। ২৪ এপির এনিমটাতে স্টোরি প্রগ্রেস আর কারেক্টার ডেভলপমেন্ট বেশ ভালো ভাবে হ্যান্ডেল করা হইসে যে আমি ভায়োলেন্সের পাশাপাশি ইমোশনের একটা স্ট্রং ভাইব পাইসি ,আর রোমান্স তো ছিলোই। আর স্টোরিপ্রগ্রেস বেশ রেপিড, শেষ পর্যন্ত স্লিভের নিচে পর্যাপ্ত অ্যামুনেশন ছিল। ওএসটিগুলোও বেশ ভালো। আর প্রাচীন জাপানের একটা বেশ ভালো একটা ভিউ আছে, আমার কাছে যেটা বেশ লাগসে।
আমার রেটিং ঃ ৮ আইএমডিবি ও আমার সাথে একমত।
মাল রেটিং ঃ ৭.৭৩,
Basilisk – Manga review by Farhad Mohsin
আজকে সকালে বাসিলিস্ক(Basilisk) পড়া শুরু করেছি। দিনে বেশ কয়েকবার ঘণ্টাখানিক করে ব্রেক দিয়ে একটু আগে শেষ করলাম। আর্টওয়ার্ক খুব বেশিই ভালো লাগসে। যথেষ্ট গোর, ভায়োলেন্স, নিউডিটি ইত্যাদি আছে। যাদের এসবে অ্যালার্জি আছে দূরে থাকতে পারেন।
যেভাবে শুরু হয়, আর যেহেতু জানতাম ৩৪ ইস্যুতে শেষ হয়ে যাবে, এন্ডিং কিরকম হবে সে সম্বন্ধেও আইডিয়া করা যায় আসলে। কাহিনীর শুরু এমন অনেকটা, এক রাজ-পরিবার টাইপের কিছুর উত্তারাধিকার নির্ধারণ করার জন্য দুইটি নিনজা ক্ল্যানের সদস্যদের মধ্যে লড়াই শুরু করা হয়। দুই ক্ল্যান থেকেই দশজন করে ঠিক করা হয়, যারা লড়াই করবে। শেষমেশ যারা জয়ী হবে তার উপর নির্ভর করছে উত্তরাধিকার।
ভালো লাগার মূল কারণ , এই যে এখানে বিশজন লড়াই করছে, প্রত্যেকের আলাদা আলাদা স্কিল আছে। যারা নারুতো’র সাথে পরিচিত তাদের হয়ত বিভিন্ন Kekkei Genkai’র কথা মনে পড়বে। এদের মধ্যে বিভিন্ন পারমুট্যেশন-কম্বিনেশনে লড়াই হয় বেশ কয়েকটা। কিছু friendly fire ধরণেরও হয় এক-দুইবার।
প্রত্যেকটা লড়াইই যথেষ্ট ভালো। অনেকগুলোতেই বেশ ভালো টুইস্ট আছে। প্রায় সবার সামর্থ্যকে বেশ সুন্দরভাবে ইউটিলাইজ করা হয়েছে। শুধু জ্ঞাতি-গোষ্ঠীগত মারামারি না রেখে অনেক ক্ষেত্রে personal stakes যোগ করা হয়েছে। ব্যাপারটা ভালোই হয়েছে বলব। ওভারালি এক টানে পড়ে ফেলার জন্য বেশ ভালো একটা মাঙ্গা।
আরেকটা জিনিস বলতে ভুলে গেছিলাম। বাসিলিস্কে কখনোই ঠিক এক দুইজন ক্যারেক্টারের উপর ফোকাস করে থাকা যায় না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্যারেক্টার ফোকাসে আসে। এইটা ভাল্লাগসে।
এইটার এনিমে’ও আছে। আমি নিজে যদিও দেখি নাই, ভালো না হওয়ার কোন কারণ দেখি না।





