Berserk (2016): [Honest Reaction, Rant, Appreciation] — Tahsin Faruque Aninda

berserk_2016_5127

সর্বকালের সেরা মাঙ্গা বলে কোন নাম উল্লেখ করতে বললে সব চাইতে বেশি নাম যেটা আসবে সেটা হল বার্সার্ক। কেন্তারো মিউরার এই অনবদ্য সৃষ্টি শুধু মাঙ্গা হিসাবেই নয়, কমিক্স/গ্রাফিক্স নোভেল হিসাব করতে গেলেও এরকম মানের জিনিস খুব কমই পাওয়া যায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে আসা এই মাঙ্গার গল্প যেমন অসাধারণ, আর্ট তেমনই অবাক করার মত সুন্দর! এত বছর ধরে চলে আসার পরেও গল্পের কোন কুলকিনারা করে উঠা যাচ্ছে না তার একটা বড় কারণ মাঙ্গাকার কয়েকদিন পরপর হায়াটাসে চলে যাওয়া। এক নৌকা ভ্রমণে গল্প ৭ বছর আটকিয়ে রাখার মত আকাম করেছে এই লোক। নাহলে কে জানে, গল্প হয়তো এতদূর এগিয়ে যেত যে গল্পের শেষের দিকে কী হতে পারে না পারে তার কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যেত।

সে যা হোক, সর্বজনবিদিত এই মাঙ্গার আনিমে এডাপশনের উপর যেন সবসময়েই একটা অভিশাপ লেগে থাকতো। অনেক নামকরা মাঙ্গার মতই এটারও আনিমে এডাপশনের ভাগ্যের শিকে ছিড়ে উঠে নি অনেকদিন। এডাপশন কনফার্ম হলেও আনিমের বাজেট খুবই কম থাকার কারণে স্টিল শট ব্যবহার করার কারণে কুখ্যাত হয়ে উঠে ১৯৯৭ সালের সেই সিরিজ। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের আনিমের খবর বের হলেও দেখা যায় সেটা মুভি ট্রিলজি, তাও আবার ১৯৯৭ সালে গল্প যতটুকু দেখিয়ে রেখে দিয়েছিল, ততটুকুই আবার রিবুট করবে। এই মুভি তিনটি বের হয়ে থাকলেও এরপর আবার খবর নেই। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের নতুন আনিমে এডাপশনের খবর বের হলেও সবাই চিন্তায় থাকে আবার রিবুট না তো! এবার অন্তত রিবুট হবে না এটা মোটামুটি কনফার্ম হবার পরেও সবার মনে আরেকটা চিন্তা উকি দেয় — CG এর ব্যাবহার আনিমের মানটাকে আবার খারাপ করে ফেলবে না তো!

তা শেষ পর্যন্ত কেমন হয়ে উঠে সিরিজটা? এডাপটেশন খারাপ বলে সবাই গলা ছাড়িয়ে বেড়ালেও আর মাঙ্গা পাঠকদের হতাশ করা হয়ে থাকলেও সব মিলিয়ে সিরিজটি কেমন হয়েছে? দেখার মত নাকি একদমই ফেলে দেবার জিনিস?

মাঙ্গা এডাপশন হিসাবে কেমন, সেই টপিক আপাতত সরিয়ে রাখি। ইন্টারনেটে গত তিন মাস উপস্থিত থাকলে যে কেউই এতক্ষণে জেনে গিয়েছে পাঠকদের রিএকশন কেমন। তাই সে কথা বাদ থাক। আগে থেকে কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, আনিমে দিয়েই শুরু করেন, তাহলে তার জন্যে এই লেখাটি একটি গাইডলাইন হতে পারে সিরিজটা সম্পর্কে বিচার করার জন্যে।

শুনতে অবাক লাগলেও, সিরিজটির বেশ ভাল কিছু দিক আছে। সেই ভাল দিকগুলি তুলে ধরার আগে অল্প কথায় সিরিজটির অনাকর্ষণীয় দিকগুলি নিয়ে আসি:

— CG মানেই খারাপ নয়, ভাল CG-এর ব্যবহার একটা সিরিজকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। বার্সার্কে CG-এর ব্যবহার খারাপ ছিল নিঃসন্দেহে, তবে তার চাইতেও বড় সমস্যা হল CG কিভাবে ব্যবহার হয়েছে এখানে। সিরিজ ডিরেক্টর এর আগে যত আনিমেতে কাজ করেছে, সেগুলি ছিল ৩-৪ মিনিটের পর্ব করে slapstick slice of life comedy সিরিজ। সেই ডিরেক্টর (এবং একই সাথে আগের আনিমেগুলির সেই একই স্টুডিওকে) এমন একটি আনিমের দায়িত্ব দেওয়া হল যা ছিল সবদিক থেকে আগের কাজগুলি থেকে একদম আলাদা। comedy slice of life এর জায়গায় dark fantasy horror, 2d এর জায়গায় 3d cg, short fast paced slapstick আনিমের জায়গায় বড় পর্বের action drama সিরিজ। এত কঠিন সব কন্ডিশনের পরেও সিরিজটা চমৎকার হয়ে উঠতে পারে যদি ডিরেক্টরের গুণ অনেক বিশেষ কিছু হয়ে উঠে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এরকম কিছুই হয়ে উঠে নি। অ্যানিমেশন, স্ক্রিনপ্লে, কোরিওগ্রাফি, কোন কিছুই ঠিকমত হয়ে উঠে নি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই ভিডিওটি দেখে ফেলুন, সুন্দর করে সবকিছুর analysis করা হয়েছে:

— গল্পের কাটছাট অনেক বেশি হয়েছে। বিশেষ করে Black Swordsman arc ও Conviction arc এই ১২ পর্বে দেখানোর কথা থাকলেও অর্ধেকের মত গল্পের উপাদানই বাদ দেওয়া হয়েছে এখানে। বাকিটুকুও যা দেখানো হয়েছে সেগুলিও অনেক rushed করে দেখিয়েছে।

— Censoring.
এটা বলার আগেই বুঝে নেওয়া যায়, মাঙ্গায় যে ভয়াবহ রকমের বেশি পরিমাণ nudity আর gore ছিল, তা আনিমেতে কোনভাবেই দেখাতো না। HBO যদি Berserk-এর কোন এডাপশন করে, তাহলেই একমাত্র সেখানে এরকম কিছু দেখা যেত [এবং যার কাছে GoT এর nudity-কে রীতিমত childish পর্যায়ে ফেলে দেওয়া যায়]। তা স্বত্ত্বেও কিছু কিছু যায়গায় সেন্সরিং চোখে পড়ার মত ছিল।

এবার আসি সিরিজটার ভাল দিকগুলির কথায়:

+ শুরুর দিকে সিনেম্যাটোগ্রাফি খারাপ থাকলেও ধীরে ধীরে ভাল হয়ে উঠতে শুরু করে। ডিরেক্টরের কাজ দেখে মনে হয়েছে, প্রথম ৪-৫ পর্ব কোনরকম হয়ে থাকলেও এর মধ্যেই সে অনেক কিছু শিখে উঠে। যার কারণে পরের দিকের পর্বগুলি তুলনামূলক বেশ ভাল হয়।

+ মিউজিক চমৎকার ছিল। এন্ডিং গানটা খুব ভাল না হলেও ওপেনিং গানটা এই বছরের অন্যতম পছন্দের গান। মিউজিকের ব্যবহার ভাল তো ছিলই, আমার কাছে সাউন্ড ইফেক্টও ভাল লেগেছে।

+ ক্যারেক্টার ডিজাইন।
হ্যাঁ, গাটসকে বেশি খারাপ লেগেছে আসলে, মুখটা বেশি চিকন করে ফেলেছে, শরীরটাকেও। কিন্তু বাকি সবাই একদম মাঙ্গার মতই রয়ে গিয়েছে।

+ একশন দৃশ্যগুলি বেশ ভাল ছিল। শুরুর দিকে একশন দৃশ্যের মান খারাপ থাকলেও, প্রথম পয়েন্টটার মত এ ক্ষেত্রেও যথেষ্ট উন্নতি ঘটে শেষের দিকে এসে। বিশেষ করে conviction arc-এর শেষের মারামারিটা বেশ মুগ্ধ করেছে আমাকে।

+ আনিমের জন্যে তৈরি নতুন অংশটি।
যেহেতু অনেকদিন পর আনিমে হিসাবে বার্সার্ক এসেছে আবার, আর তাছাড়া এর আগের সিরিজ/মুভিগুলির কারণে আর একই সাথে এইবারের সিরিজে সময়-স্বল্পতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিতে হয়েছে, এই জন্যে apostle জিনিসটা কী সেই ব্যাপারে দর্শকদের পরিষ্কার ধারণা না থাকতে পারে। এজন্যে apostle-এর ব্যাপারটা নতুন দর্শকদেরকে ভাল মত introduce করাবার জন্যে শুরুর দিকে একটি anime only mini arc দেখায়। এই অংশটি “ফিলার” বলে দাবী করতে গেলেও একে ফিলার বলা যাবে না আসলে। কারণ মিউরা নিজেই গল্পের এই অংশটুকু লিখেছে। আর এটি বেশ ভালই হয়েছিল, দেখার সময়ে বিরক্তি তো লাগেই নাই, বরং গল্পের অন্যান্য অংশের সাথে মানিয়ে যাবার মত ঘটনাই দেখিয়েছে। মাঙ্গাকা নিজে লিখেছে বলেই এই অংশটুকু ভাল হয়েছে।

+ নতুন জেনারেশনকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
আনিমেটাকে মাঙ্গার এডভার্টাইজমেন্ট হিসাবে ধরে নেওয়া হোক বা না হোক, এই সুযোগে এখনকার জেনারেশনের অনেক দর্শক এবং একই সাথে পাঠকদেরকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা ভাল উদ্যোগ। “READ THE MANGA” বলে চেঁচানোর কারণে অনেকে আনিমে দেখে এরপর আর সাসপেন্স সইতে না পেরে মাঙ্গাটা শুরু করে দিবে সন্দেহ নাই।

সব মিলিয়ে এটুকু বলবো, কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, তার কাছে এই বার্সার্ক একদম ভয়াবহ খারাপ লাগবে না। সব মিলিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং সিরিজ হিসাবেই মনে হবে। মাঙ্গা পড়তে না চাইলে এবং শুধু আনিমে দর্শক হয়ে থাকলে, সিরিজটা উপভোগ্য লাগবে পরের দিকে গিয়ে। বিশেষ করে সময়ের সাথে সাথে সিরিজটার making-এ উন্নতির ছাপটা বুঝা যাবে। তবে মাঙ্গা পড়তে আপত্তি না থেকে থাকলে অবশ্যই মাঙ্গা পড়তে অনুরোধ করবো।

সবশেষে বলবো, যেহেতু এর সিকোয়েল আসবে সামনের বছর, তার অর্থ খুব নিকট ভবিষ্যতে অন্য কোন ভাল স্টুডিওর পক্ষ থেকে এর রিবুট আসছে না। তাই প্রথম সিজনের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় সিজনটা যেন আরও ভাল করে তুলে সেটাই আশা করছি। Falcon of the Millennium Empire Arc-টা কোনভাবেই খারাপ কিছু যেন না হয়ে উঠে এই আশাতেই আছি।

রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি- পর্ব ৩: বারসার্ক- কাস্‌কার অনুপস্থিতিতে গাটস্‌ এর ব্যাভিচার

Berserk Guts
ইয়ে মানে, আমি জানি আমি বারসার্কের ফ্যানডম এ নতুন। কিন্তু তার পরেও একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। অনেকের কাছেই এই কথাটি শুনেছি এবং বিরক্ত হয়েছি। কথাটি হল, গাটস্‌ কাস্‌কার সাথে চিট করেছে।
বারসার্ক মাঙ্গার প্রথম ভলিউম এর প্রথম চ্যাপটার এর প্রথম দৃশ্যটি কি? দৃশ্যটি হল গাটস্‌ একজন নারীর এর সাথে মিলিত হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষনেই সেই নারীটি একজন অ্যাপোস্টল/রাক্ষসীর রূপ নেয় এবং গাটস্‌ কে বলে যে সে তার ফাঁদে বন্দী হয়েছে। তখন গাটস্‌ বলে , ফাঁদে আমি বন্দী হইনি, হয়েছ তুমি। আর তার বাম হাতের লুকানো গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেয় রাক্ষসীটার চেহারা। দৃশ্যটি আসলেই ব্যাডঅ্যাস। কিন্তু গাটস্‌ তো কাস্‌কাকে ভালোবাসে। তার পরেও সেই অ্যাপোসটল এর সাথে কিভাবে মিলিত হতে পারল?
গাটসের জীবনের একমাত্র পণ হল সকল অ্যাপোস্টল হত্যা করা। তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য গাটস্‌ যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আগুনের উপর ঝাপিয়ে পরে, শত্রুর তলয়ার কামড়ে ধরে, শত ফিট উপর থেকে মাটিরে পরে, যেভাবেই হোক সে লক্ষ্য হাসিল করে ছাড়বে।আরে ভাই, বারসার্কের দুনিয়াটা হল এমন এক ব্যাভিচারের জায়গা, সেখানে গাটসের এই আর অ্যাপোস্টলের সাথে মিলিত হওয়া, এইটা তো কিছুই ছিল না। এভ্রিথিং ইয ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। গাটসের ওয়ার হল অ্যাপস্টলদের সাথে ।
যেই অ্যাপস্টলটির সাথে গাটস মিলিত হয়েছিল সেটি ছিল সম্ভবত একটি সাকিউবাস। সাকিউবাস হল এক ধরণের মহিলা শয়তান :P। অথবা অপদেবী, যে কিনা পুরুষদেরকে রাতের বেলা সিডিউস করে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এক্লিপস্‌ এর সময় করকাস এর মৃত্যু হয়ে ছিল ঠিক এই রকম এক সাকিউবাস এর হাতে। সাকিউবাস দের ক্ষমতাই হল সিডিউস করা। গাটস্‌ কে সিডিউস করার পরেই হয়ত তারা মিলিত হয়েছিল এবং গাটসের সেখানে হয়ত কোনোই ইচ্ছা ছিল না।
আর গাটস্‌ তো শুধুই কাসকাকেই ভালোবাসে। যেই গাটস্‌ কখনো কাউকে তার নিজের গায়ে ছুঁতেই দিতে চায় না, সে কিভাবে কাসকার সাথে চিট করবে। আর শেষ কথা হল, end justifies the means। গ্রিফিথ সারাজীবন অন্যের চোখে ভালো হয়ে থাকলেও শেষে যা করেছে তার জন্যই সবাই তাকে ঘৃণা করে। গাটস্‌ তাই যতই হিংস্রতার অবলম্বন করুক, তার শেষ কাজটা সম্পন্ন হলেই হল।

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৩: Berserk — Nafis-san

হবায় তো মাত্র কাহীনি শুরু

-হুদ্দাই লেখা একটা রিভ্যু

————————————————————————————————

এনিমের নামঃ বার্সাকসোনালী যুগের পর্ব

শুরু করার আগে ১টা সংবিধীবদ্ধ সতর্কীকরনঃ

আপনার বয়স ১৮ এর কম হইলে বার্সাক দেখার চিন্তা বাদ দেন ।

————————————————————————————————

কিল্লাইগ্গা বার্সাক? 

ঈদের বন্ধের মইধ্যে আবারও বার্সাকের সিনেমা গুলা দেখলামতো (এইবার ডাব ভারসন দেখছি) , তাই মাথায় খালি বার্সাকই ঘুরতাছে । যদিও কি-বোর্ড দিয়া লেখতে আমার একটুও ভালো লাগেনা তাও ভাবলাম লেইক্ষা ফালাই, যা আছে কপালে ।

নায়কের পরিচয় 

রাজা-বাদশাগো আমলের কথা । দুই দলের মইধ্যে যুদ্ধ চলতাছে, একটা দল নীল-ছাইয়া আর একটা দল লাল-ছাইয়া । নীল-ছাইয়া দলের এক ভোটকা পালোয়ান লাল-ছাইয়া দলের সৈন্যগোরে হেভভী ঘারাইতাছে কেউ পারতাছে না ব্যেডার লগে । তখন লাল-ছাইয়া দলের সেনাপতি চেইত্তা ফায়ার হইয়া এলান দিল “কেউ কি আছে ঐ গাধাডারে ঘারানের মত?” এমন সময় লাল-ছাইয়া সৈন্যগো ভিতরেরতে একটা পোলা বাইর হইল, হাতে একটা বিশাল তলোয়ার , শরীরে কালা বর্ম । ইনিই হইল গল্পের নায়ক “গাটস ভাই” । তো গাটস ভাই সেনাপতির দিকে চাইয়া কইল “১০ ট্যেকা লাগবো” সেনাপতি কইল “৭ ট্যেকা পাবি” , গাটস ভাই “শালা কিপ্টা” কইয়া পালোয়ানের দিগে আগায়া গেল । পালোয়ানরে ঘারাইয়া ট্যেকা লইয়া বাসার দিকে রওনা দিলো ।

গ্রীফিথ্ কেডা? 

এক কথায় রুপকথার রাজকুমার । মেঘের মত সাদা তার চুল , চোখ যেন তার নীল সাগর , হাজার মেয়ের ঘুম হারাম করে দেয়া তার চেহারা । শুধু চেহারা-সুরতেই নয়, যুদ্ধ বিদ্যাতেও সমান পারদর্শী সে । তার নিজস্ব একটা ভারাটে গুন্ডা বাহীনিও আছে,নাম “বাজপাখীর দল” । গাটস ভাইও এই দলের একজন সদস্য । গাটস ভাইয়ের চীরপ্রতিদন্ধী সে ।

নয়িকা কি নাই?

আছে, নাম “কাসকা” । গ্রীফিথের লগে কাইল্লা কইরা একটা মাইয়া ঘুরে, ওইডাই কাসকা । রুপ তার এত আহামরি কিছু না হইলেও তলোয়ারবাজী তে কারত্তে কম যায়না সে । গাটস ভাইরে তেমন একটা বেলও দেয়না সে ।

হবায় তো মাত্র কাহীনি শুরুমানে কি??

মানে সোজা কথায় “বার্সাক-সোনালী যুগ”এর ৩টা সিনেমা ছিল এই কাহীনির সূচনা পর্ব । এখানে দেখানো হয়েছে গ্রীফিথের উত্থান,পতন ও পূনরুত্থান । গাটস ভাইয়ের প্রেম ও তার পরীনতি এবং তার সুখের জীবনের পরিসমাপ্তী । তাই তো এই পর্বের নাম “সোনালী যুগ” ।

এনিমেশন আর সাউন্ড 

এনিমেশন যঠেষ্ট ভাল । চকচকে-যকযকে একটা ভাব আছে । গতানুগতিক জাপানীজ এনিমেশন থেকে বার্সাকের এনিমেশন বেশ আলাদা । ক্যেরেক্টার ডিজাইনে বেশ একটা থ্রীডি-থ্রীডি ভাব আনা হয়েছে ।

জায়গামত কিছু দুর্দান্ত সাউন্ড সিনেমাগুলোকে করে তুলেছে আরও প্রানবন্ত । ভয়েজ এক্টিং ইংরেজী ডাবের চেয়ে জাপানীজটাই বেশী জোশ্ লাগছে আমার কাছে ।

বিনোদনের মাত্রা 

বিনোদন প্রদানের ক্ষেত্রে বার্সাক নিঃসন্দেহে একটি প্রথম সারীর এনিমে । যুদ্ধ, প্রেম, বন্ধু্ত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, ক্রোধ, রক্ত বন্যা, জাদু  কি নেই এতে ? আর এসব কিছু মিলে বার্সাক হয়ে উঠেছে অদ্বীতিয় একটি এমিনে সিরিজ ।

তো, যাদের এখনো দেখার সৌভগ্য হয়নি, তারা আর দেরী না করে আজই দেখে ফেলুন অসাধারন এই সিনেমা সিরিজটি ।

33 Berserk

Berserk manga review by Farsim Ahmed

 

কিছু সাহিত্যকর্ম পাবেন, যেগুলো শুরু করলে শেষ না করে আর কিছু করার জো নেই। বাংলায় এগুলোকে বর্ণনা করার মত ভালো কোন শব্দ আপাতত মনে আসছে না, তবে ইংরেজিতে দারুন একটা শব্দ আছে, আনপুটডাউনেবল [Unputdownable]। তো কখনো কি শুনেছেন, জনাথান ক্যাথরিন রাওলিং বা জন রোনাল্ড রুয়েল তল্কিনকে কেউ গালিগালাজ করছে? না। কিন্তু এমন এক মাঙ্গাকা আছেন, যিনি মোটামুটি অবিসংবাদিতভাবে প্রতিষ্ঠিত সর্বকালের সেরা মাঙ্গার স্রষ্টা হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত গালি খাচ্ছেন। কেন? কারণ ভদ্রলোক মাঙ্গাটা ভয়াবহ এক ক্লিফহ্যাঙ্গারে ফেলে গত দুই বছর ধরে আইডলমাস্টার নামের একটা গেম খেলছেন, যে গেমে তার ভুমিকা হচ্ছে কতগুলো সুন্দরী আইডলের ম্যানেজারের। সুখের কথা হল, উনি এপ্রিল থেকে আবার মাঙ্গাটা কনটিনিউ করবেন।

যারা মাঙ্গা নিয়ে কিছুটা হলেও ঘাটাঘাটি করেন, তারা ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছেন আমি কিসের কথা বলছি। এটা সেই অসাধারণ মাঙ্গার ছোটখাটো স্পয়লারযুক্ত রিভিউ।মাঙ্গার নাম?

বার্সার্ক!

আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় দীর্ঘদেহী লোকটা যাযাবর, উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো যার কাজ। তাঁর দিকে দ্বিতীয়বার চোখ যেতো না, যদি না তার কাঁধে ঝোলানো তলোয়ারটা চোখে পড়ত, যার দৈর্ঘ্য লোকটার চেয়েও বেশি। এক পানশালায় সে দেখিয়ে দিল, তলোয়ারটাকে ভালই ব্যবহার করতে পারে সে। এক চোখো যান্ত্রিক হাতের লোকটা যেন মূর্তিমান আতঙ্ক, মানুষের কাছেও, প্রেতের কাছেও। এক নামে তাকে সবাই চেনে, কৃষ্ণ অসিচালক[Black Swordsman] কিন্তু কার বিরুদ্ধে সে তার এই বিপুল প্রতিহিংসা ধারন করে রেখেছে?

 

ছেলেটার জন্ম হয়েছিল মৃত মায়ের গর্ভে, দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে তাকে চিহ্নিত করল সবাই। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হল সে, খুন করল তার নির্যাতনকারী আর পালক পিতাকে। সে বুঝল, The earth means struggle. বেরিয়ে পড়ল সে শক্তির সন্ধানে, পরিণত হল এক দুর্বিনীত তরুনে, যে কাউকেই ভয় পায় না, সাধারণ কোন লড়াই হলেও জীবনবাজি রাখতে তার কোন আপত্তি নেই। দেখা হয়ে গেল তার গ্রিফিথের সাথে, এক দুর্দমনীয় তরুন, আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। গ্রিফিথের বাহিনী ব্যান্ড অব দ্য হক্সে ইচ্ছার বিরুদ্ধে যোগ দিল সেই ভাগ্যাহত তরুণ। সে দেখা পেল বন্ধুত্বের, ভালবাসার। কিন্তু সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো, যখন গ্রিফিথ তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য পুরো বাহিনীকে বলি দিল শয়তানের কাছে, ধর্ষণ করল ভাগ্যাহত তরুণের ভালবাসার মানুষকে তার চোখের সামনে। কোনমতে বাঁচতে পারল সে, কিন্তু সর্বনাশ যা হবার টা তো হয়েই গিয়েছে। তার পিছনে ধাওয়া করছে অন্ধকারের প্রেতরা সারাক্ষন, মানুষ কি আর পারে অলৌকিক ক্ষমতার মুখোমুখি হতে? কিন্তু তরুণ দেখিয়ে দিল, তার প্রতিহিংসার তেজ কত ভয়াবহ, তার হিম্মত আছে, এই ভয়াবহ শত্রুর মোকাবেলা করার।
তরুণের নাম?

কৃষ্ণ অসিচালক, গাটস!

প্রথমেই বলতে হয়, মিউরা কেনতারো এক অসাধারণ মাঙ্গাকা। ভীষণ গ্রিপিং এবং থ্রিলিং স্টোরিলাইন, ভদ্রলোক জানেন কিভাবে পাঠকদের ধরে রাখতে হয়। আর তাঁর আঁকা? নিঃসন্দেহে আমার এ পর্যন্ত পড়া মাঙ্গাগুলোর মধ্যে সেরা। বিশাল বিশাল প্রাসাদের প্রতিটা ইট, ক্যারেক্টারদের প্রতিটা চুল, ঘামের ফোঁটা, এক্সপ্রেশন, অ্যাকশান সিকোয়েন্স, ঘোড়ার কেশর, বিশাল সৈন্যবাহিনীর প্রতিটি সদস্য, এত ডিটেইল এর কাছাকাছি কাজ আমি দেখেছি আর শুধু ওয়ান পাঞ্চ ম্যানে আর তাকেহিকো ইনউয়ের মাঙ্গায়[ভ্যাগাবনড, স্ল্যাম দাঙ্ক]। অসাধারণ ভিজুয়াল ওয়ার্কস, প্যানেলগুলো দারুন সুন্দর, কোন জায়গাই মেসি[Messy] নয়। এতে মহা সমস্যায় পড়েছি, বার্সার্কের পর যে মাঙ্গাই পড়ি, পানসে লাগে, অমন শক্তিশালী ভিজুয়ালাইজেশন পাইনা, রুরউনি কেনশিনের মত মাঙ্গা পড়তে গিয়েও এই অবস্থা। সহজ কথায়, বার্সার্ক এমন এক মাঙ্গা, যার আনিমের আদৌ কোন প্রয়োজন নেই।

আনিমের কথা যখন আসলই, তখন বলেই ফেলি, বার্সার্ক মাঙ্গার তুলনায় আনিমে রীতিমত থার্ড ক্লাস। আনিমেতে রাখা হয়েছে মূলত ব্ল্যাক সোরডস্ম্যান আর্ক আর গোল্ডেন এজ আর্ক, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বহু কিছু বাদ দেয়া হয়েছে। আমার নিজের খুব পছন্দের কিছু চ্যাপ্টার হল গার্ডিয়ানস অব দ্য ডিসায়ারস, বাকিরাকা, আর ডিমন ডগ এর অংশটুকু, যেটা আনিমেতে নেই। গোল্ডেন এজ আর্কের পরে যখন আপনি ভাববেন, এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে? তখনি মিউরা নিয়ে এসেছেন [মাইলড স্পয়লার] গ্রিফিথের পুনর্জন্ম, বিস্ট সোরডস্ম্যান ভারসাস ব্ল্যাক সোরডস্ম্যান, গাটসের ড্রাগন স্লেয়ার আর বার্সার্ক আরমার, রাজা গানিশকার সাথে গ্রিফিথের লড়াই, এবং সম্ভবত আমার সবচেয়ে পছন্দের আর্ক, গানিশকার বাহিনীর সাথে গাটসের লড়াই। পারফেক্ট এক্সিকিউশন।

[মাইলড স্পয়লার] আমার গাটসের লোন উলফ পারসোনালিটিটা দারুন লাগত, তাই যখন দেখেছিলাম তাঁর একটা গ্রুপ হয়েছে, তখন বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, আরেকটা ইনু ইয়াশা হয়ে যায় কিনা। কিন্তু মিউরাকে ধন্যবাদ, সেরপিকোর মত একটা ক্যারেক্টারকে তিনি হাজির করেছেন।

যদি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের কথা বলতে হয়, বার্সার্ক একটা ওয়ান ম্যান শো, কোন সন্দেহ নেই। মুল ফোকাস গাটসের উপর।এত “কুল” আর কোন মেইল প্রটাগনিসট হতে পারবে না, হওয়া সম্ভব না।[প্রসঙ্গত, সোরড আর্ট অনলাইন এর একটা ক্যারেক্টার আছে, যে গাটসের প্রচলিত নাম ব্যবহার করে, আমি নিশ্চিত করছি, সেই ক্যারেক্টার “ভুয়া”। শুধু তাই না, গাটসের কুলনেসের কাছে আর যে শউনেন/সেইনেন আনিমের মেইন ক্যারেক্টারকেই আনুন, তারা সবাই “ভুয়া”।]

এর পরেই আসে গ্রিফিথ, মূল এনটাগনিসট, গডহ্যান্ডের একজন, অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ফেমটো। সে দিন দিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, গাটস তাকে কিভাবে হারাবে তাই সন্দেহ।
গাটস আর গ্রিফিথ, এরা যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ইয়িন-ইয়াং এর পারফেক্ট এগজাম্পল। তারা একজন আরেকজনের পরিপূরক, ”None can live while the other survives”.

এর আগে একটা রিভিউতে বলেছিলাম, এপিক শব্দটা বহু ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে গিয়েছে। বার্সার্ক আর এপিক, এই দুটো শব্দ সমার্থক। বার্সার্ক হল মাঙ্গা জগতের মহাকাব্য। এর জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

এখন কিছু ড্রব্যাক। বার্সার্ক প্রচণ্ড গোর, এবং ডার্ক একটা মাঙ্গা। গ্রাফিক আর ম্যাচিউর কন্টেন্ট প্রচুর, অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। কিন্তু এই মাঙ্গা না পড়া মানে আপনার আনিমে/মাঙ্গা জগতে বিচরন অসম্পূর্ণ থাকা।

ম্যাল রেটিং-৯.১৭
আমার রেটিং-
গল্প-৯/১০
আর্ট-১২/১০
ক্যারেক্টার-৯/১০
এনজয়মেন্ট-১৫/১০

গাটস-এক অনুপ্রেরণার নাম।গাটস-শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দৃঢ় সংকল্প থাকার নাম। গাটস-কখনোই হার না মানার নাম। গাটস-হার নিশ্চিত জেনেও লক্ষ্যের দিকে অবিচল থাকার নাম।

সম্মুখ পানে এগিয়ে চল গাটস! পাহাড় সমান বাধাকেও বাধা মনে কর না, দেখিয়ে দাও মানবতার শক্তি কত বেশি হতে পারে! কখনো গ্রিফিথকে ক্ষমা কর না! আর বিসর্জন দিও না তোমার মনুষ্যত্বকে!

 

Berserk : the darkness review by Sabbir Bin Taher

এই গ্রুপে আছি অনেকদিন।লাইক,মাঝে মাঝে কমেন্ট এবং এখনও পর্যন্ত একটা পোস্ট ছাড়া অন্য কোন কন্ট্রিবিউশন করা হইনি।(তার জন্য গ্রুপের অভিজ্ঞ সদস্যরা দায়ি।)

বিখ্যাত এবং পরিচিত সব টিভি সিরিজ এবং এনিমে মোটামুটি দেখা হয়েছে। সিরিজ ক্যাটেগরিতে “দ্য অয়্যার”(BB এর শেষ সিজন ডিএল করা আছে,কালকে সমাপ্ত করে না হয় মন্তব্য করব ) এবং এনিমে ক্যাটেগরিতে “এফ এম এ ব্রাদারহুড” এখনও আমার দেখা বেষ্ট।গ্রুপে এত্ত ম্যাচুর সিরিযালখোর এসব নিয়ে লিখেছেন যে এগুলো নিয়ে লেখাটা বাহুল্য হয়ে যাবে।

কিন্ত কয়েকদিন আগে এমন একটা এনিমে দেখলাম মনে হল এটা নিয়ে কিছু না লেখাটা অন্যায় হয়ে যাবে।

বারসারক/ Berserk
Year of Release : 1997
No of Episodes : 25
Duration of Episodes : 22 minutes

গাটস নামের এক সোরডসম্যান,তার সহযোদ্দা এবং তাদের নেতা গ্রিফিথ এর গল্প বলা হয়েছে এই এনিমে। দেখানো হয়েছে গাটস এর নিরন্তর নিজেকে খুজে ফেরা এবং তাদের নেতা গ্রিফিথ এর প্রতি তাদের অগাধ আনুগত্য এবং গ্রিফিথ এর স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

ঠিক কিভাবে বর্ণনা করব এনিমেটার।তিন মূল চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এনিমে তো এনিমে, অনেক ভাল টিভি সিরিজেও পাইনি।প্রাসাদ ষড়যন্ত্র,রাজনীতি,যুদ্ধ কোশল সবই আছে।এক্টা ক্যারেক্টার তো গেইম অব থ্রোন্স এর লর্ড ভ্যরিস এর কথা মনে করিয়ে দিল।

কিনতু দিন শেষে সবচেয়ে সবচেয়ে যেটা আমাকে আকৃষ্ট করল সেটা হল এটার চরম ডারকনেস।এনিমের মত মাধ্যমে যে এরকম ডার্ক কিছু বানানো যায় এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।শেষের ৫ টা এপিসড তো পুরা…………………আরে ফিনিসিংটা টা এমন আপনার মনে হবে আরো ২৫ এপিসড কেন করলনা?

অনেক কিছু লেখা সত্তেও মনে হল এনিমেটা নিয়ে কোন সুবিচার করতে পারলাম না।তাই অনুরোধ রইল হাতে যদি ৭ ঘন্টার মত সময় থাকে তাহলে এটা দেখুন।

বি দ্র
-ম্যচুর লোকজন এটা দেখবেন।(হেক্ট্ররদের জন্য এটি নয়)।
-গ্রিফিথ এবং গাটস এর মত এরকম ইন্ত্রিগিং ক্যারেকতার কম দেখসি।
-এন্দিংটা অনেক অনেক ডার্ক।

http://www.imdb.com/title/tt0318871/?ref_=nv_sr_1

Berserk by Shaikh Mohammad Habib

যারা মাঙ্গা পড়েন এবং Berserk পড়েছেন তাদের আমার নতুন করে কিছু বলার নাই, আর যারা পড়েন নাই তাদের জন্য Berserk Golden Age Arc I II & III এই ৩টা মুভি রিকমেন্ড করব। আমার নিজের সবচেয়ে প্রিয় মাঙ্গা এবং এটার মত এপিক জিনিস আমি মুভি,অ্যানিমে,টিভি সিরিজ মিলায়ে দেখি নাই বললেই চলে। মাঙ্গার ভলিউম ৪-১৩ পর্যন্ত কাভার করা হয়েছে।
* Game of Thrones যেমন সবার জন্য না তেমনি Berserk ও একই। অন্তত ১৬+ মানুষ ছাড়া বাকিদের না দেখাই ভালো এর ভায়োলেন্স ও ম্যাচিউর কন্টেন্ট এর জন্য।

Download Link –
Berserk The Golden Age Arc I – The Egg of the King :http://www.animeout.com/berserk-the-golden-age-arc-i-the-egg-of-the-king-movie-1dual-audio720p-minihd-bluray-300mb-encoded/

Berserk – Golden Age Chapter II – The Capture of Doldrey :http://www.animeout.com/berserk-golden-age-chapter-ii-the-capture-of-doldrey-movie-bd-720p-500mb-encoded/

Berserk – Golden Age Arc III – Descent : http://kickass.to/gentleman-berserk-golden-age-arc-iii-eng-sub-descent-18xver-bd-816p-x264-10bit-mkv-t7551398.html

Berserk 1 Berserk 2 Berserk 3