Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র্যান্ট (কোনো রিভিউ না)
এনিমের উপরঃ
- Bungaku Shoujo Movie
সিরিয়ালওয়াইজ প্রথমে আসে এই মুভি, কোনোহা আর তোহকোর প্রথম পরিচয় থেকে শুরু, তারপর একে একে আসতে থাকে অন্যান্য চরিত্ররা। তোহকো হচ্ছে বুক গার্ল, সহজ কথায় সে বই খায়, বই খাবার মাধ্যমেই সে তার খাবারের প্রয়োজন মেটায়, সাধারণ খাবারের কোন স্বাদ সে নিতে পারে না। আর তার রাইটার হচ্ছে কোনোহা, প্রতিদিন ক্লাসের পর বুক ক্লাবের রুমে তাকে ৩ টি শব্দের উপর ভিত্তি করে ৫০ মিনিটের মধ্যে তোহকোর জন্য খাবার ( 😛 ) তৈরি করতে হয়, আর তোহকো তার পুরাটা খায়, যতই না খারাপ হোক। আর খাবার খাওয়ার সময় যা বর্ণণা দেয় তা আরেক জিনিস।
কোনোহার আরেকটা পরিচয় আছে, ২ বছর আগে সে ছিলো এক নভেল কন্টেস্টের বিজয়ী, মাত্র ১৪ বছর বয়সে সে জয়ী হয় এবং তার নোভেল অন্যতম বেস্ট সেলার হয়। যদিও তার নোভেল লেখার উদ্দেশ্য ছিলো অন্য একটা, তার বাল্যবন্ধু আসাকুরা মিউ এর প্রতি তার অনুভূতির কথা জানানো। যদিও তা তার উপর ব্যাকফায়ার করে। আসাকুরা মিউ এতই মানসিকভাবে নির্যাতিত হয় যে সে আর সহ্য করতে না পারে কোনোহার সামনের তাদের স্কুলের ছাদ থেকে লাফ দেয়। এই ঘটনা কোনোহাকে এতই বিপর্যস্ত করে যে সে এক বছরের জন্য আর ঘর থেকে বের হতে পারে নি।
হাইস্কুলে এসে তার জীবন অনেক চেঞ্জ হয়, বুক ক্লাবে যোগদান করে আর তোহকোর সাহায্যে সে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠে এবং আরেক সহপাঠী নানাসের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ( -_- ) গড়ে উঠে।
এদিকে তারপর আগমন ঘটে মিউ এর, ২ বছর পর, কোনোহার সুখ ভাঙ্গার এবং কোনোহাকে নিজের করে নিতে সে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায়, অনেকাংশে সফল ও হয়।
বুঙ্গাকু শৌজো এর প্রতিটা ভলিউম ই একটি নির্দিষ্ট নোভেলকে ঘিরে আবর্তিত হয়, ঐ নোভেলের চরিত্র গুলোর সাথে সিরিজের চরিত্রগুলোর একটা মিল তৈরি করে কাহিনীকে পূর্ণতা দেয়া হয়। এই মুভির ভিত্তি ছিলো কেঞ্জি মিয়াকাওয়ার Night on the Galactic Railroad.
মুভিটার সবচেয়ে ভালো দিক ছিলো এনিমেশন, অসাধারণ এনিমেশন লেগেছে, ভাইব্র্যান্ট ছিলো, তারপর ট্রেনের সিনটা অনেক ভালোভাবে দেখিয়েছে। তারপর সাউন্ডট্র্যাক আর শেষের এন্ডিং সংটা। আর কানাজাওয়ার ভয়েস যা ছিলো <3 , তোহকোর সাথে কীবারে মিলে গিয়েসে, বোনাস হিসেবে ছিলো মিজুকি নানা।
এই মুভির অনেক কিছুই খাঁপছাড়া লাগবে। অনেক কিছুই হঠাৎ করে আনা হয়েছে বা করা হয়েছে, কিছু ব্যাখা যদিও Memoire তে দেয়া হয়েছে তাও আশানূরূপ নয়।
রেটিং: ৬.৫ / ১০
- Bungaku Shoujo Kyou no Oyatsu: Hatsukoi
১৫ মিনিটের একটা অভিএ, মুভির সাথে শুধু একটি কাহিনীরই মিল আছে, এছাড়া তেমন গুরুত্বপূর্ন না, দেখার জন্য দেখা আর কি।
রেটিং: ৬/১০
- Bungaku Shoujo Memoire
৩ পর্বের সিরিজ, ৩ টি পর্ব ৩ জন ভিন্ন নায়িকার উপর। প্রথম পর্ব তোহকো, ২য় পর্ব মিউ আর ৩য় পর্ব নানাসেকে নিয়ে।
মুভির কাহিনী অনেকাংশেই ব্যাখা করেছে পর্বগুলো। তোহকোর যে কোনোহার অতীত জানতো, সে যে তার প্রথম ফ্যান ছিলো, তাকে বুক ক্লাবে যোগদানে বাধ্য করাতে সে নাটকও সাজায় :3 । তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিলো কোনোহাকে আবার নোভেল লিখাতে অনুপ্রাণিত করে এবং সে সার্থক হয়েছিলোও।
তারপর মিউ এর পর্ব। মিউ এর পারিবারিক দূর্দশা ই এখানেই প্রথম প্রকাশ পায়। তার বানোয়াট গল্পের প্রতি একমাত্র কোনোহাই আগ্রহ প্রকাশ করে, সে হয়ে উঠে কোনোহার প্রতি ওভারপ্রটেক্টিভ। কিন্তু যখন কোনোহা তাকে ছাড়িয়ে পুরস্কার জিতে নেয়, তখন সে চূড়ান্ত হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়, শুধুমাত্র কোনোহাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।
রেটিং: ৭.৫ / ১০

র্যান্ট — নভেলের ভিত্তিতে (স্পয়লার এলার্ট)
প্রথমেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়েছে মুভি করার সময়। ৮ ভলিউমের একটা সিরিজ। ২-৩ ভলিউম থেকে হয়তোবা শুরু করতে পারতো। নাহ একেবারে পঞ্চম ভলিউম!!!! জীবনেও দেখি নাই, অর্ধেক ম্যাটেরিয়াল পুরো স্কিপ। তাতে যা ক্ষতি হইলো প্রথম দিলের চরিত্রগুলোর। চিয়া ছিলো প্রথম ভলিউমের নায়িকা, তার কোনো ডেভেলপমেন্ট নাই, কিছু উল্লেখ ও করে নাই। অথচ এই হাসিখুশি মেয়েটাই নিজের বয়ফ্রেন্ডকে বুকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাও ভরা রাস্তায়, সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড ক্যারেক্টারগুলোর একটা।
তারপর রিইউতো। সিরিজের অন্যতম মেইন চরিত্র, শেষ ৩ ভলিউমের ভিলেইন আর কোনো উল্লেখই নাই এ ব্যাপারে। তোহকোর বাবা মা র সুইসাইডের পিছনে যে ওর হাত আছে তাও কেউ জানলো না। ও আর মাকি সিরিজের সবচেয়ে অসাধারণ কাপল, ২ জনকে অন্তত একবার সামনাসামনি হইলেও দাঁড় করাইতো এনিমেতে। অনেক আশা ছিলো যে মাকি কে নিয়ে একটা পর্ব কি, কিসের কি। পুরা সিরিজে ৫ মিনিটের বেশি টাইম ই পায় নাই। মাকি যে দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছিলো শেষের দিকে, অন্তত একটি পর্ব তার পাওয়া উচিত ছিলো। টাইমলাইন তো এনিমে আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে, আর একটু করতো।
সবচেয়ে খারাপ দিক ছিলো মুভির এন্ডিংটা। প্রথমে মিউ এর প্রতি কোনোহার কনফেশন পুরো বাদ। কোনোহা নোভেল এ এটা লিখছিলো যদিও ফাইনাল সিলেকশনে এই অংশ বাদ পড়ে যায়। কিন্তু তোহকো পুরো পার্টটা প্লানেটারিয়মে পরে শোনায়। আর এনিমতে শুধু শেষ ২ টা লাইন মনে হয় দেখালো।
তারপর হলো মুভির এন্ডিং। মুভি ছিলো ভলিউম ৫ এর, এরপর শেষ ৩ মিনিট মানে এণ্ডিং টা আসলো ভলিউম ৮ এর থেকে, এইটা অবিশ্বাস্য। ৩ ভলিউম স্কিপ করে এন্ডিং দেখানো!!!! ওয়াও। আর এই সময় কোনোহার সাথে তোহকোর কোন রিলেশন কি, কেউ কাউকে পছন্দ করার বিন্দুমাত্র চিহ্ন ছিলো না, কোনোহার তখন কোতোবুকির সাথে প্রেম করতেছিলো। পুরাতন ভালবাসাকে অনুভূতির কথা জানিয়ে বর্তমান প্রেমিকাকে ফেলে আরেকজন মেয়ের পিছনে দৌড়ানো। ওয়াও, ৩ ভলিউমের ডেভেলপমেন্ট ৫ মিনিটে বিসর্জন।






