JoJo Part 7: Steel Ball Run [মাঙ্গা রিভিউ] — Debashish Paul

সাল ১৮৯০। অ্যামেরিকার স্যান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়াতে বসছে প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটারব্যাপী এক বিশাল ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা। গন্তব্য নিউ ইয়র্ক সিটি; মানে সেই ওয়েস্ট কোস্ট থেকে ইস্ট কোস্ট পর্যন্ত! দৌড়ের বিজয়ী পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, আর সাথে বিশ্বজোড়া খ্যাতি তো আছেই। দৌড়ে যত প্রতিযোগীর এস্টিমেট করা হয়েছিল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি প্রতিযোগী এসেছে। বিভিন্ন্ দেশ থেকে শতশত মানুষ এসেছে অংশ নিতে। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত জকি থেকে নেপলসের রাজকর্মী; জাপানের বয়স্ক দৌড়বিদ থেকে ভ্যাটিকানের নান; খালি পায়ে দৌড়ানো এক নেটিভ ইন্ডিয়ান, এমনকি হাঁটতে না পারা এক পুরনো ঘোড়দৌড়বিদও! কিন্তু এই রেসই কি পুরো কাহিনী? জোজোর আগের পার্টগুলো নিয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও এর উত্তর আপনার জানা।
 
 
স্টোন ওশানের ধামাকাদার এন্ডিংয়ের পর এ আরেক রোলার কোস্টার রাইড। এই পার্টের প্রতিটা চ্যাপ্টার এত জমজমাট যে এটা পড়া শুরু করে শেষ না করা পর্যন্ত আর শান্তি নেই। এর আর্ট এত সুন্দর যে মনে হয় সত্যিই চোখের সামনে রেস হচ্ছে। আর ঘোড়াগুলো এত সুন্দর! স্টোন ওশানের আর্ট দেখে এত ভাল লেগেছিল যে ভেবেছিলাম এর চেয়ে বেশি সুন্দর আঁকা আরাকির দ্বারা হবেনা। বলাই বাহুল্য, ভুল ভেবেছিলাম। আর্টের দিক দিয়ে সম্ভবত সেরা পার্ট এইটা। কালার ভার্শন পড়াতে মনে হচ্ছিল সৌন্দর্য ঠিকরে পড়ছে! আর সাথে আরাকির ডাইভারসিটির প্রশংসা না করলেই নয়। যা নিয়েই গল্প লিখছেন সেখানেই বাজিমাত করছেন। জোজোর এই পর্যন্ত এসে এখন বুঝতে পারছি যারা আনিমে দেখে অথচ জোজো দেখেনি তারা আসলে কতকিছু যে মিস করে যাচ্ছে!
 
এই পার্টের জোব্রো একজন মাত্র- জায়রো(জাইরো?) যেপেলি এবং সে আর মেইন জোজো, জনি জোস্টার যেন একে অপরের সম্পূরক। একজন প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, আরেকজনের আত্মবিশ্বাসের বড় অভাব। একজনের সহজেই মাথা গরম হয়ে যায়, আরেকজন ভেবেচিন্তে কাজ করে। এই ক্যারেক্টার দুইটাকে এইভাবে সাজানোতে অনেক ভালভাবে অনেক ফাইট দেখানো গেছে। এটাই প্রথম জোজো পার্ট যেখানে পার্টের নামের সাথে মেইন জোজো স্ট্যান্ডের নামের মিল নেই, আছে তার প্রিয় বন্ধু জায়রোর স্ট্যান্ডের সাথে মিল। যদিও জায়রোকেই মেইন জোজো বলে মনে হয়- ক্যারিশম্যাটিক, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, শর্ট টেম্পার, এমনকি জোস্টারদের ব্যাটলক্রাইও ওর। প্রথমদিকে অনেক রহস্যময় এবং বদরাগী কিন্তু আস্তে আস্তে ওর ফানি সাইডটা প্রকাশ পায়; সে এমনকি গানও লিখে! এমন ক্যারেক্টারকে আসলে ভাল না বেসে উপায় নেই। এই পার্টে ওর প্রভাব অনেক বেশি। এবং নিঃসন্দেহে বেস্ট জোব্রো (Sorry, Bruno. You’re second.)
 
আগের পার্টগুলার চেয়ে এখানে তুলনামূলক মূল ক্যারেক্টার কম থাকাতে এদের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অনেক বেশি করা গেছে। তবে অন্যান্য রেসারদের প্রতি আরেকটু নজর দেয়া যেত। এই পার্টের কিছু ক্যারেক্টার পুরো জোজো সিরিজের সেরাদের মধ্যে উপরের দিকে থাকবে। জায়রো আর জনির ক্যারেক্টার দুইটা খুবই ভালভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এদের ব্যাকস্টোরি থেকে এদের ট্রান্সফরমেশন প্রচন্ড ভাল হয়েছে। ডিয়েগো ব্র্যান্ডোর ক্যারেক্টারটা কিছুটা আগের ডিওর আদলে তৈরি তবে প্রায় প্রতি পার্টেই ডিওকে বারবার টেনে না আনলেই বেশি ভাল লাগত। এদের সাথে আরও কয়েকটা সাইড ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টও খুবই ভাল।
 
এই পার্টের ‘ভিলেনদের’ মধ্যে একটা ব্যাপার প্রচুর আলাদা আগের পার্টগুলোর চেয়ে- সেটা হচ্ছে এখানে কিছু ভিলেন যদিও মেইন ভিলেনের নির্দেশেই কাজ করেছে কিন্তু বেশিরভাগ ভিলেনদেরই নিজেদের উদ্দেশ্য আছে এবং এদের ভিলেন মনে হয় শুধুমাত্র জোজোর বিপরীতে আছে বলে। সত্যি বলছি, এই পার্ট অন্য ক্যারেক্টারদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হলে জায়রো আর জনিকেই ভিলেন মনে হত। এই ব্যাপারটাই সবচেয়ে বেশি ভাল এই পার্টের। এই পার্টে হিউম্যানয়েড স্ট্যান্ড কম, এবং স্ট্যান্ড ফাইটগুলোর বেশির ভাগই ঘুষাঘুষির না, সাইকোলজিক্যাল ব্যাটল এবং এই কারণে স্ট্যান্ড ফাইটগুলো অনেক ইন্টেন্স।
 
এই পার্টের মেইন ভিলেন অনেকের মতে পুরো সিরিজের সেরা। আমার মতে ওর ক্যারেক্টারটা একটু নষ্ট করে ফেলেছে শেষের দিকে তবে এছাড়া ও সাংঘাতিক এক ক্যারেক্টার। সিভিল ওয়ার ভেটেরান, অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট। প্রচন্ড আদর্শবাদী, এবং দেশপ্রেমিক। দেশের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। দেশপ্রেম এত বেশি যে তার পিঠ পুরোটা অ্যামেরিকার জাতীয় পতাকার আদলে ট্যাটু করা! এর স্ট্যান্ডও অবশ্যই সুপার পাওয়ারফুল।
 
অনেক ট্র্যাজিক ব্যাকস্টোরি আছে তবে তার মানে সব চ্যাপ্টারই সিরিয়াস টোনে লেখা এমন না। বেশ কিছু কমেডিক এলেমেন্ট আছে। আছে উপকথার উপর নির্ভর করে সাজানো একটা আর্ক, আর আছে পাল্প ফিকশনের দারুণ একটা রেফারেন্স! এই দুটো গল্প পড়তে বেশ মজা লাগছিল।
 
আমি এই পার্টকে “পারফেক্ট” বলতে পারছিনা মাঙ্গার শেষেরদিকের নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে, তবে এটা বলব যে এটা আমার পড়া যেকোনো কিছুর মধ্যেই স্টিল বল রান সেরাদের একটা।
 

Now, some spoiler-y discussions.
[So, Spoiler Alert]

 
স্টোন ওশান পর্যন্ত More Dio = More Fun মনে হত; এই পার্টে এসে আর এই নামটা দেখতে ভাল লাগছে না। মনে হচ্ছে সব পার্টেই আরাকি জোর করে ডিওকে কোন না কোনভাবে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। তাও মোটামুটি চলছিল কারণ এই ডিয়েগোর সাথে আগের ডিওর বেশ পার্থক্য আছে, কিন্তু শেষে “The World” নিয়ে এসে একেবারে সব ভেস্তে দিল। “The World” দেখে এত বাজে লেগেছিল যে ফাইনাল ফাইটের মজাই নষ্ট করে দিয়েছিল একদম। যেখানে ফানি ভ্যালেন্টাইনের মত ভিলেন আছে আর আছে D4C এর মত স্ট্যান্ড, সেখানে ডিওকে দিয়ে ফাইনাল ফাইট না করালেও হত আর করালেও “The World”-কে না আনলেও হত।
স্পিকিং অফ ফানি ভ্যালেন্টাইন, এত ভাল ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পর এক ধাক্কায় ওর ক্যারেক্টারে কালিমা লেপে দেয়াতে হতাশ হয়েছিলাম বেশ। তবে পরে ভেবে দেখি ওর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার মাধ্যমে আরাকি হয়ত বোঝাতে চেয়েছেন যে উপরে উপরে এত আদর্শবাদী দেশপ্রেমিক হওয়ার পরও দিনশেষে ভ্যালেন্টাইন একটা ইগোম্যানিয়াকই, যে সবার উপর নিজের স্বার্থই বুঝে। এতে কি আদর্শবাদী ভ্যালেন্টাইনের ক্যারেক্টারে দাগ লেগেছে? অবশ্যই। কিন্তু ঐটা হয়তোবা ভ্যালেন্টাইনের আসল ক্যারেক্টার ছিল না। তবে ও শেষ পর্যন্ত আদর্শবাদী থাকলেই বেশি ভাল লাগত।
 
শেষের আগের কয়েকটা চ্যাপ্টার প্রচন্ড ইমোশনালি ড্রেইনিং ছিল। বিশেষ করে ব্রেক মাই হার্ট, ব্রেক ইউর হার্ট পার্ট ১,২। জনির জন্য এত খারাপ লাগছিল! ওকে অনেকসময়ই বেশ স্বার্থপরের মত আচরণ করতে দেখেছি, যেখানে জায়রো তার মহৎ উদ্দেশ্য থাকার পরও জনির জন্যই ওর সাথে ঐ পার্টগুলো খুঁজতে গেছে যেটা ও না করলেও পারত। কিন্তু জনির আসলে স্বার্থপর না হয়ে উপায়ও ছিল না, একটা এক্সিডেন্টের জন্য কি থেকে কি হয়ে গেল ওর, সেখানে আবার হাঁটার সুযোগ পেলে সেটা নেয়াটাই স্বাভাবিক। ওর সামনে জায়রোকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ আসার পর ওর অসহায়তা- জায়রোকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা সামনেই কিন্তু পেলেও আগের জায়রো হবেনা, কিন্তু আবার এদিকে ভ্যালেন্টাইনকে বিশ্বাসও করা যায়না! এই চ্যাপ্টারটা বেশিই ভাল ছিল।

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৯: Fate/Zero — Debashish Paul

এনিমে- ফেইট/জিরো
এপিসোড- ২৫ (দুই সিজন মিলিয়ে)
জনরা- একশন, ফ্যান্টাসি, সুপারন্যাচারাল
স্টুডিও- Ufotable
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং- ৮.৬৯/১০ (দুই সিজন মিলিয়ে)

 

প্লট- ফেইট/জিরোর কাহিনী হচ্ছে ফেইট/স্টে নাইট সিরিজের ১০ বছর আগের ফুয়ুকি সিটিতে হওয়া ‘৪র্থ হোলি গ্রেইল ওয়ার’ নিয়ে। ‘হোলি গ্রেইল’ হচ্ছে একটি খ্রিষ্টান রেলিক, এটি যে পাবে তার যেকোনো একটি ইচ্ছা  গ্রেইলটি পূরণ করবে। ‘হোলি গ্রেইল ওয়ারে’ ৭জন মানুষ, ৭জন হিরোয়িক স্পিরিটকে আহ্বান করে। হিরোয়িক স্পিরিটরা হচ্ছে প্রাচীনকালের বিভিন্ন বড় বড় যোদ্ধা, যারা জীবিতাবস্থায় এমনসব কাজ করেছে যাতে তাদেরকে তাদের মৃত্যুর পর ‘হিরো’ উপাধি দেয়া হয় এবং তাদের কিছু ইচ্ছা তাদের জীবিতাবস্থায় পূরণ করা হয়নি। তারা আমাদের সময়ের হিসাবের বাইরে, তার মানে তাদেরকে যেকোনো সময় থেকে এই যুদ্ধে আহ্বান করা যাবে। এই যুদ্ধে ঐ ৭জন মানুষ অংশগ্রহণ করে ‘মাস্টার’ হিসেবে আর ৭জন হিরোয়িক স্পিরিট ‘সার্ভেন্ট’ হিসেবে। ‘হোলি গ্রেইল ওয়ার’ হচ্ছে এই ৭জন মাস্টার এবং ৭জন সার্ভেন্টের যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে যে জিতবে, সেই পাবে ‘হোলি গ্রেইল।’

 

রিভিউ- ফেইট/জিরো সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে এটির কাহিনীবিন্যাসের কথা। ফেইট/জিরোর কাহিনীবিন্যাস অসাধারণ। আমার দেখা সবচেয়ে সেরাদের একটি। কাহিনী খুবই সুন্দরভাবে গুছিয়ে দেখানো হয়েছে। কোন তাড়াহুড়ো নেই, আবার খুব ধীরগতিরও নয়। মারাত্মক সব  টানটান উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে ভরা। একটি এপিসোড দেখলে অন্যটি দেখার ইচ্ছা জাগবেই।

‘হিরো অফ জাস্টিস’ নিয়ে কিরিতসুগুর সংলাপগুলো যথেষ্ট ভাল। আবার ইস্কান্দার, আর্তুরিয়াদের রাজার দায়িত্ব নিয়ে সংলাপগুলো শুনলে মনে হবে সত্যিকারের রাজাদের কথোপকথন শুনছেন।

ফেইট/জিরোর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অনবদ্য। প্রত্যেক মাস্টার এবং সার্ভেন্টই মানানসই। মাস্টারদের মধ্যে বিশেষ করে কিরিতসুগু, কিরেই, তোকিয়মি। সার্ভেন্টরাও অনবদ্য। গিলগামেশ, আর্তুরিয়া, ইস্কান্দার এবং বাকি সবাই একদমই মানানসই। কিছু কিছু চরিত্র একদম আজীবন মনে গেঁথে থাকার মত।

ওপেনিং, এন্ডিং সং, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলোর মান খুবই ভাল। সার্ভেন্টদের যুদ্ধের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজা মিউজিকগুলো খুবই মানানসই; যুদ্ধের আবহ সৃষ্টি করে।

এনিমেশন কোয়ালিটির জন্য ফেইট/জিরো নামকরা। মারাত্মক সব চোখধাঁধানো এনিমেশন। দেখলে অনেকসময় মনে হবে আপনি ঐ দৃশ্যে আছেন এবং আপনার সামনেই সবকিছু ঘটছে। Ufotable এক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করেছে।

যেহেতু এই এনিমের মূল কাহিনীই যুদ্ধ নিয়ে, সেহেতু যুদ্ধগুলোর মান নিয়ে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সার্ভেন্টদের যুদ্ধ করার ধরন একেকজনের একেকরকম। সার্ভেন্টরা সাধারণত অন্য সার্ভেন্টদের সাথেই যুদ্ধ করে, তাদের মাস্টারদের নির্দেশে। সার্ভেন্টদের একেকজনের থাকে ভিন্ন ভিন্ন ‘নোবেল ফ্যান্টাজম’, যেটি তাদের স্পেশাল পাওয়ার। মাস্টারদের নিজেদের মধ্যেও যুদ্ধ হয়। মাস্টারদের যুদ্ধ মূলত ‘মাইন্ড গেম’। একেক মাস্টার অন্য মাস্টারদের মাইন্ড গেমে পরাজিত করার চেষ্টা করেন। কিরিতসুগু এবং কিরেই এর মাইন্ড গেম অ-সা-ধা-র-ণ!

সবকিছু মিলিয়ে ফেইট/জিরো একটি অসাধারণ এনিমে। কাহিনীবিন্যাস, এনিমেশন, মিউজিক সব ক্ষেত্রেই খুবই ভাল। সব ভাল তার, শেষ ভাল যার। ফেইট/জিরোর শেষটাও যথারীতি খুবই ভাল হয়েছে। যতটুকু এখানে বলা হয়েছে, তার চেয়েও ভাল দেখার আশা করলেও নিরাশ হবেন না।

19 FZ

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৬: Great Teacher Onizuka (GTO) — Debashish Paul

এনিমে- Great Teacher Onizuka(GTO)
এপিসোড- ৪৩
জনরা- কমেডি, ড্রামা, স্কুল, শৌনেন, স্লাইস অফ লাইফ
MAL রেটিং-  ৮.৭৯

প্লট এবং রিভিউঃ ‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ এনিমের মূল চরিত্র, এইকিচি অনিজুকা। তাকে কেন্দ্র করেই এনিমের কাহিনী।  তিনি একজন ২২ বছর বয়সী জাপানিজ বাইক গ্যাং লিডার। ব্যাচেলর এবং ভার্জিন। তিনি কারাতের ব্ল্যাকবেল্টধারী। তার ইচ্ছে তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হবেন, যাতে করে তিনি হাই স্কুলের মেয়েদের সাথে প্রেম করতে পারেন। তিনি খুবই ‘Perverted’ এবং এটি প্রকাশ্যে বলতে তার কোন লজ্জা নেই। আপাতত কোন কাজ ছাড়াই আছেন। একদিন তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজ পেয়ে যান এবং ওখানের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যাক্তিগত ও পারস্পরিক সমস্যা দূর করতে থাকেন।

‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ হাস্যরসের উপাদানে ভরপুর। প্রত্যেকটি এপিসোডই খুব মজার। ছাত্র ছাত্রীদের সাথে অনিজুকা খুব সহজেই মিশতে পারেন। এতে করে তাদের সমস্যা সমাধান করা তার জন্য সহজ হয়। অনিজুকা যেমন সবাইকে হাসাতে পারেন, আবার কেউ যদি তার সাথে ঝামেলার চেষ্টা করে, তাকে শায়েস্তা করতেও তিনি একাই যথেষ্ট। ফুয়ুতসুকি সেন্সেইয়ের সাথে তার গোপন প্রেম চলে। দুজনেই জানেন, কিন্তু কেউই মুখ ফুটে বলেন না। উচিয়ামাদা সেন্সেই অনিজুকাকে দেখতে পারেন না। তার দুই চোখের বিষ হচ্ছেন অনিজুকা, কিন্তু তাকেও অনিজুকা শায়েস্তা করেন। ছাত্র ছাত্রীরা অনেক সময়ই অনিজুকার মনে খুব আঘাত করে, কিন্তু অনিজুকা তাদের আঘাতে বিব্রত না হয়ে মজা করে তাদের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে নেন। শুরুতে ছাত্র ছাত্রীরা অনিজুকাকে দেখতে পারে না কিন্তু একসময় তাদের প্রিয় শিক্ষক হয়ে উঠেন তিনি।

অনিজুকা চরিত্রটির সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, তিনি কোন ব্যাপারেই সিরিয়াস না! অতি জটিল সমস্যাও তিনি খুব হাসিখুশিভাবে সমাধান করেন। এমন অনেক ঘটনা ঘটে অনিজুকার সাথে যখন মনে হয় তিনি রাগের মাথায় কিছু করে বসবেন(তার শিক্ষক জীবনের আগের স্বভাব থাকলে তেমন করাই স্বাভাবিক) কিন্তু দেখা যায় তিনি তেমন কিছুই করেন না। খুব ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার মোকাবিলা করেন।

এনিমেটি মূলত কমেডি হলেও এই এনিমে থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। যেমন, বিশেষ পরিস্থিতিতে কিভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। এনিমে দেখার সময় হাসতে হাসতে বেশ কিছু ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার শিখে ফেলবেন। একটুও বোরিং লাগবে না, বরং শেষ করার পর মনে হবে আরও কিছু এপিসোড যদি অনিজুকা এন্ড কোং এর কাণ্ডকারখানা দেখতে পারতেন!

এনিমের ওপেনিং এবং এন্ডিং OST গুলো বেশ ভাল। বিশেষ করে ‘লাস্ট পিস’ নামের OST টি।

এনিমেশন কোয়ালিটি সেই সময়ের হিসাবে বেশ ভাল। তবে মেয়ে চরিত্রগুলোর গালগুলো একটু ফোলা!

একশন দৃশ্যগুলো বেশ মজার। কমেডি দৃশ্যগুলো আরও বেশী মজার। অনেক সময় হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার মত অবস্থাও হতে পারে। এককথায় ‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ মানেই হচ্ছে ‘খাটি বিনোদন’। সোনালি চুলওয়ালা, হাতে/মুখে সিগারেটধারী অনিজুকার কাণ্ডকারখানা ভাল লাগতে বাধ্য।

6 GTO