রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৯: Fate/Zero — Debashish Paul
এনিমে- ফেইট/জিরো
এপিসোড- ২৫ (দুই সিজন মিলিয়ে)
জনরা- একশন, ফ্যান্টাসি, সুপারন্যাচারাল
স্টুডিও- Ufotable
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং- ৮.৬৯/১০ (দুই সিজন মিলিয়ে)
প্লট- ফেইট/জিরোর কাহিনী হচ্ছে ফেইট/স্টে নাইট সিরিজের ১০ বছর আগের ফুয়ুকি সিটিতে হওয়া ‘৪র্থ হোলি গ্রেইল ওয়ার’ নিয়ে। ‘হোলি গ্রেইল’ হচ্ছে একটি খ্রিষ্টান রেলিক, এটি যে পাবে তার যেকোনো একটি ইচ্ছা গ্রেইলটি পূরণ করবে। ‘হোলি গ্রেইল ওয়ারে’ ৭জন মানুষ, ৭জন হিরোয়িক স্পিরিটকে আহ্বান করে। হিরোয়িক স্পিরিটরা হচ্ছে প্রাচীনকালের বিভিন্ন বড় বড় যোদ্ধা, যারা জীবিতাবস্থায় এমনসব কাজ করেছে যাতে তাদেরকে তাদের মৃত্যুর পর ‘হিরো’ উপাধি দেয়া হয় এবং তাদের কিছু ইচ্ছা তাদের জীবিতাবস্থায় পূরণ করা হয়নি। তারা আমাদের সময়ের হিসাবের বাইরে, তার মানে তাদেরকে যেকোনো সময় থেকে এই যুদ্ধে আহ্বান করা যাবে। এই যুদ্ধে ঐ ৭জন মানুষ অংশগ্রহণ করে ‘মাস্টার’ হিসেবে আর ৭জন হিরোয়িক স্পিরিট ‘সার্ভেন্ট’ হিসেবে। ‘হোলি গ্রেইল ওয়ার’ হচ্ছে এই ৭জন মাস্টার এবং ৭জন সার্ভেন্টের যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে যে জিতবে, সেই পাবে ‘হোলি গ্রেইল।’
রিভিউ- ফেইট/জিরো সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে এটির কাহিনীবিন্যাসের কথা। ফেইট/জিরোর কাহিনীবিন্যাস অসাধারণ। আমার দেখা সবচেয়ে সেরাদের একটি। কাহিনী খুবই সুন্দরভাবে গুছিয়ে দেখানো হয়েছে। কোন তাড়াহুড়ো নেই, আবার খুব ধীরগতিরও নয়। মারাত্মক সব টানটান উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে ভরা। একটি এপিসোড দেখলে অন্যটি দেখার ইচ্ছা জাগবেই।
‘হিরো অফ জাস্টিস’ নিয়ে কিরিতসুগুর সংলাপগুলো যথেষ্ট ভাল। আবার ইস্কান্দার, আর্তুরিয়াদের রাজার দায়িত্ব নিয়ে সংলাপগুলো শুনলে মনে হবে সত্যিকারের রাজাদের কথোপকথন শুনছেন।
ফেইট/জিরোর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অনবদ্য। প্রত্যেক মাস্টার এবং সার্ভেন্টই মানানসই। মাস্টারদের মধ্যে বিশেষ করে কিরিতসুগু, কিরেই, তোকিয়মি। সার্ভেন্টরাও অনবদ্য। গিলগামেশ, আর্তুরিয়া, ইস্কান্দার এবং বাকি সবাই একদমই মানানসই। কিছু কিছু চরিত্র একদম আজীবন মনে গেঁথে থাকার মত।
ওপেনিং, এন্ডিং সং, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলোর মান খুবই ভাল। সার্ভেন্টদের যুদ্ধের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজা মিউজিকগুলো খুবই মানানসই; যুদ্ধের আবহ সৃষ্টি করে।
এনিমেশন কোয়ালিটির জন্য ফেইট/জিরো নামকরা। মারাত্মক সব চোখধাঁধানো এনিমেশন। দেখলে অনেকসময় মনে হবে আপনি ঐ দৃশ্যে আছেন এবং আপনার সামনেই সবকিছু ঘটছে। Ufotable এক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করেছে।
যেহেতু এই এনিমের মূল কাহিনীই যুদ্ধ নিয়ে, সেহেতু যুদ্ধগুলোর মান নিয়ে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সার্ভেন্টদের যুদ্ধ করার ধরন একেকজনের একেকরকম। সার্ভেন্টরা সাধারণত অন্য সার্ভেন্টদের সাথেই যুদ্ধ করে, তাদের মাস্টারদের নির্দেশে। সার্ভেন্টদের একেকজনের থাকে ভিন্ন ভিন্ন ‘নোবেল ফ্যান্টাজম’, যেটি তাদের স্পেশাল পাওয়ার। মাস্টারদের নিজেদের মধ্যেও যুদ্ধ হয়। মাস্টারদের যুদ্ধ মূলত ‘মাইন্ড গেম’। একেক মাস্টার অন্য মাস্টারদের মাইন্ড গেমে পরাজিত করার চেষ্টা করেন। কিরিতসুগু এবং কিরেই এর মাইন্ড গেম অ-সা-ধা-র-ণ!
সবকিছু মিলিয়ে ফেইট/জিরো একটি অসাধারণ এনিমে। কাহিনীবিন্যাস, এনিমেশন, মিউজিক সব ক্ষেত্রেই খুবই ভাল। সব ভাল তার, শেষ ভাল যার। ফেইট/জিরোর শেষটাও যথারীতি খুবই ভাল হয়েছে। যতটুকু এখানে বলা হয়েছে, তার চেয়েও ভাল দেখার আশা করলেও নিরাশ হবেন না।
রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৬: Great Teacher Onizuka (GTO) — Debashish Paul
এনিমে- Great Teacher Onizuka(GTO)
এপিসোড- ৪৩
জনরা- কমেডি, ড্রামা, স্কুল, শৌনেন, স্লাইস অফ লাইফ
MAL রেটিং- ৮.৭৯
প্লট এবং রিভিউঃ ‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ এনিমের মূল চরিত্র, এইকিচি অনিজুকা। তাকে কেন্দ্র করেই এনিমের কাহিনী। তিনি একজন ২২ বছর বয়সী জাপানিজ বাইক গ্যাং লিডার। ব্যাচেলর এবং ভার্জিন। তিনি কারাতের ব্ল্যাকবেল্টধারী। তার ইচ্ছে তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হবেন, যাতে করে তিনি হাই স্কুলের মেয়েদের সাথে প্রেম করতে পারেন। তিনি খুবই ‘Perverted’ এবং এটি প্রকাশ্যে বলতে তার কোন লজ্জা নেই। আপাতত কোন কাজ ছাড়াই আছেন। একদিন তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজ পেয়ে যান এবং ওখানের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যাক্তিগত ও পারস্পরিক সমস্যা দূর করতে থাকেন।
‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ হাস্যরসের উপাদানে ভরপুর। প্রত্যেকটি এপিসোডই খুব মজার। ছাত্র ছাত্রীদের সাথে অনিজুকা খুব সহজেই মিশতে পারেন। এতে করে তাদের সমস্যা সমাধান করা তার জন্য সহজ হয়। অনিজুকা যেমন সবাইকে হাসাতে পারেন, আবার কেউ যদি তার সাথে ঝামেলার চেষ্টা করে, তাকে শায়েস্তা করতেও তিনি একাই যথেষ্ট। ফুয়ুতসুকি সেন্সেইয়ের সাথে তার গোপন প্রেম চলে। দুজনেই জানেন, কিন্তু কেউই মুখ ফুটে বলেন না। উচিয়ামাদা সেন্সেই অনিজুকাকে দেখতে পারেন না। তার দুই চোখের বিষ হচ্ছেন অনিজুকা, কিন্তু তাকেও অনিজুকা শায়েস্তা করেন। ছাত্র ছাত্রীরা অনেক সময়ই অনিজুকার মনে খুব আঘাত করে, কিন্তু অনিজুকা তাদের আঘাতে বিব্রত না হয়ে মজা করে তাদের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে নেন। শুরুতে ছাত্র ছাত্রীরা অনিজুকাকে দেখতে পারে না কিন্তু একসময় তাদের প্রিয় শিক্ষক হয়ে উঠেন তিনি।
অনিজুকা চরিত্রটির সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, তিনি কোন ব্যাপারেই সিরিয়াস না! অতি জটিল সমস্যাও তিনি খুব হাসিখুশিভাবে সমাধান করেন। এমন অনেক ঘটনা ঘটে অনিজুকার সাথে যখন মনে হয় তিনি রাগের মাথায় কিছু করে বসবেন(তার শিক্ষক জীবনের আগের স্বভাব থাকলে তেমন করাই স্বাভাবিক) কিন্তু দেখা যায় তিনি তেমন কিছুই করেন না। খুব ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার মোকাবিলা করেন।
এনিমেটি মূলত কমেডি হলেও এই এনিমে থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। যেমন, বিশেষ পরিস্থিতিতে কিভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। এনিমে দেখার সময় হাসতে হাসতে বেশ কিছু ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার শিখে ফেলবেন। একটুও বোরিং লাগবে না, বরং শেষ করার পর মনে হবে আরও কিছু এপিসোড যদি অনিজুকা এন্ড কোং এর কাণ্ডকারখানা দেখতে পারতেন!
এনিমের ওপেনিং এবং এন্ডিং OST গুলো বেশ ভাল। বিশেষ করে ‘লাস্ট পিস’ নামের OST টি।
এনিমেশন কোয়ালিটি সেই সময়ের হিসাবে বেশ ভাল। তবে মেয়ে চরিত্রগুলোর গালগুলো একটু ফোলা!
একশন দৃশ্যগুলো বেশ মজার। কমেডি দৃশ্যগুলো আরও বেশী মজার। অনেক সময় হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার মত অবস্থাও হতে পারে। এককথায় ‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ মানেই হচ্ছে ‘খাটি বিনোদন’। সোনালি চুলওয়ালা, হাতে/মুখে সিগারেটধারী অনিজুকার কাণ্ডকারখানা ভাল লাগতে বাধ্য।



