রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৫: Fairy Tail — Imamul Kabir Rivu

অ্যানিমে: ফেইরি টেইল
পর্বসংখ্যা: ২৪২(চলমান)
জনরা: অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, ম্যাজিক, কমেডি, শৌনেন, এচি।

মানব ইতিহাসের অন্যতম ওভার-রেটেড অ্যানিমে এটি। একটি শৌনেন অ্যানিমে যার কোন সুনির্দিষ্ট কাহিনী নেই। এটির কাহিনী মূলত আর্ক-নির্ভর, মানে প্রতিটি আর্কে নতুন একটি কাহিনী শুরু হয়। অ্যানিমেটায় অ্যাকশনের পরিমান বেশ ভালো; যেখানে শত্রু যতই শক্তিশালী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত নায়ক অবশ্যই জিতবে। এমনকি, প্রথমে সবাই মিলে শত্রুকে না হারাতে পারলেও শেষে দেখা যাবে নায়ক একাই তাকে উড়িয়ে দেবে। এছাড়া এই অ্যানিমেতে রয়েছে ফ্যানসার্ভিস। অ্যানিমেটা দেখার সময় আমার বারবার মনে হয়েছে, নায়িকাদের কাপড় স্পর্শ করলেই যদি তা এভাবে ছিড়ে যায়, তাহলে এই কাপড় পরার মানেটা কি?! এই অ্যানিমেতে সবচেয়ে বেশি যেটা দেখানো হয়েছে, সেটা হল তাদের “নাকামা পাওয়ার” (বন্ধুত্বের শক্তি)। এ অ্যানিমেটাতে নাকামা পাওয়ার দিয়ে শত্রুকে হারানো থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি এবং আরও নানা রকম সমস্যা সমাধান করে ফেলে আমাদের নায়ক ও তার বন্ধুরা। অ্যানিমেটিতে কোন ফিলার নেই, কিন্তু পুরো কাহিনীটাকেই আপনার কাছে একটি ফিলার বলে মনে হবে। ওহ, আর এখানে আবার প্রেমকাহিনীও আছে, যা আসলে খুব দুর্বলভাবে লেখা এক প্রেমকাহিনী (আমি নিশ্চিত এখন নালুর পাগল ভক্তরা আমাকে বকাঝকা করছে)।

এবার আসি আর্টের কথায়। তেমন কোন আহামরি আর্ট নেই এই অ্যানিমেটির। আমরা সাধারণ কোন অ্যানিমেতে যেমন রঙিন ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে পাই, এখানে তাও নেই। সত্যি কথা বলতে কি, চারপাশের ডিটেইলিং দেখে মনে হবে যেন কোন এক বাচ্চার হাতে রং করা এক ছবি। ক্যারেক্টার ডিজাইন তেমন ভালো ছিল না। সবমিলিয়ে বলব, অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক সাধারণের তুলনায় একটু খারাপ।

এই অ্যানিমেটার অনেক নেতিবাচক দিকের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, তার মধ্যে একটি হল এর মিউজিক। অ্যানিমেটা যেমনই লাগুক না কেন, এতে ব্যবহৃত মিউজিকগুলো যে অসাধারণ তা বলতে যে কেউ বাধ্য হবে। অ্যানিমের ওএসটিতে ব্যবহৃত সেলটিক ফোক মিউজিকগুলো বেশ দারুণ ছিল। কাকিহারা তেতসুয়া, আয়া হিরানো, নাকামুরা ইউইচি, ওহারা সায়াকা, কিতামুরা এরি, নামিকায়া দাইসকে, কুগিমিয়া রিয়ে, সাতোমি সাতো,সাওয়াশিরো মিয়ুকি,হোরিয়ে ইউই- এদের মত অভিজ্ঞ সেইউরা কণ্ঠ দিয়েছেন অ্যানিমেটিতে, তাই ভয়েস-অ্যাক্টিং খারাপ ছিল না। তবে আমার মতে, কাকিহারা তেতসুয়া নাতসুর চেয়ে ইওয়ামুশি পেডালে তোউদো জিনপাচির রোল বেশি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং আয়া হিরানোরও হারুহি সুজুমিয়ার রোলটি লুসির রোলের চেয়ে অনেক বেশি ভালো ছিল। কিন্তু নাকামুরা ইউইচি এবং ওহারা সায়াকা সুন্দর করে গ্রে এবং এর্যার চরিত্রটি উপস্থাপন করতে পেরেছেন।

অ্যানিমেটাতে কিছু কিছু চরিত্রকে বেশ ভালো লেগেছে আমার। তবে প্রধান চরিত্র হিসেবে নাতসুর ব্যক্তিত্ব অনেক দুর্বল ছিল। অনেকে হয়ত বলবে নাতসু বেশ মজাদার একটি চরিত্র, তবে তার কাজকর্ম মজাদারের চেয়ে বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে রীতিমত বিরক্তিকর লেগেছে আমার কাছে। আরেক ওভার-রেটেড চরিত্র হল এর্যা। অনেক ওভার-পাওয়ার্ড একজন ওয়েপন মাস্টার সে। এই চরিত্রটিকে কম-বেশি আপনারা সবাই হয়ত চেনেন, কারণ অ্যানিমে কমিউনিটিতে একে নিয়ে বেশ হাইপ রয়েছে; সর্বজনীন “ওয়াইফু তালিকা”য় এর্যার স্থান বেশ ওপরে। এছাড়া লুসি এবং গ্রে- এই দুজনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অ্যানিমেটির। আরও চরিত্র পাবেন অ্যানিমেটিতে যেমন মিরাজেইন, কানা, ম্যাকারভ, ল্যাক্সাস, এল্ফমান, জেলাল, উলটিয়ার, যেরেফ ইত্যাদি।

অ্যানিমেটা শুরু হয় একেবারে বাচ্চাদের অ্যানিমের মত, যদি ম্যাজিক নিয়ে অন্য কোন অ্যানিমে আপনি না দেখে থাকেন, অন্তত হ্যারি পটার মুভিগুলা তো দেখেছেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন এই অ্যানিমেটা ম্যাজিকের নামে আসলে কি করেছে। তবে এই বাচ্চাদের অ্যানিমেতে ঢেলে দেওয়া হয়েছে এক গাদা ফ্যানসার্ভিস। তাহলে কথা হল, এখানে নির্ধারিত দর্শকরা আসলে কারা? এর উত্তর যাই হোক না কেন, এ ক্ষেত্রে আমি বলব হিরো মাশিমা যাদের টার্গেট করি কাহিনীটি বানিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগেরই মনমত একটি কাহিনী বানাতে তিনি ব্যর্থ। প্রতিটি আর্ক শুরু হয় অনেক ধীরগতিতে, যেটা একটি শৌনেন অ্যানিমের ক্ষেত্রে অনুপযোগী। অ্যানিমেটাকে অনেকেই মাস্টারপিস বলে ঘোষণা দেয়, তাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই দেখবেন মাত্র ১০-১২ টা অ্যানিমে দেখে এটিকে নিয়ে পাগলামো শুরু করে দেয়। আমার মতে, এমন পাগল ভক্তদের পরামর্শ শুনলে পরে নিজেকেই পস্তাতে হবে।

যাই হোক, সব মিলিয়ে বলব, অ্যানিমেটি দেখা মানে সময় নষ্ট। সময় অনেক মূল্যবান একটি জিনিস, সেটি এই অ্যানিমের এতগুলো পর্বের পেছনে খরচ না করে আপনি বরং অন্য অনেক ভালো কাজের পেছনে ব্যয় করতে পারবেন। হয়ত আমি একটু বেশি বলে ফেলেছি, এখন হয়ত অনেক ফেইরি টেইল ভক্তরা আমাকে মনে মনে অভিশাপ দিচ্ছেন। আবার এই অ্যানিমের অনেক হেটারও আছেন, তারা আমাকে “বাহ বাহ” বলছেন। আমি অ্যানিমেটি নির্ভানার কাহিনী পর্যন্ত দেখে বাদ দিয়েছি এবং আমার মতামতের ওপর আমি এই লেখাগুলো লিখেছি। আমার মতামত শোনার পর অ্যানিমেটি আসলেই এতটা খারাপ কিনা, এটা পরীক্ষা করার জন্য যদি ফেইরি টেইল দেখতে চান, নিজ দায়িত্বে দেখতে পারেন।

35 Fairy Tail

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২০: Fairy Tail — Mehedi Zaman

ফেইরি টেইল (Fairy Tail)
এপিসোডঃ ২৪২+(চলমান)
জনরাঃ অ্যাকশান,এডভেনচার,ম্যাজিক,কমেডি,শাউনেন।
Myanimelist Score: ৮.৩৭

শুনে মনে হতে পারে এটি কোন রুপকথার এনিমে। আপনি যেমন সঠিক তেমনি ভুলও বটে। কারণ, বাক্যটি আসলে ‘ফেইরি টেল’ নয় ‘ফেইরি টেইল’।এইরকম অদ্ভুত নাম নিয়ে স্থাপিত হয়েছে একটি গি্লড। এই গিলডে যোগ দিতে আসা একজন তরুণীকে নিয়ে এনিমের গল্প শুরু। গিলডের এই নামের পেছনেও রয়েছে এক মজার গল্প আর এইসব জানতে এবং ম্যাজিকাল জগতে হারিয়ে যেতে দেখতে হবে ফেইরি টেইল।

 

কাহিনী/প্লটঃ ৮.৫/১০

লুসি হার্টফিলিয়া, ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী, সে ফিওরে কিংডম এর মাগ্নলিয়া শহরের এক নামকরা গিলডে যোগ দেওয়ার জন্য আসে। আসার সময়ই তার সাথে দেখা হয় নাটসু দ্রাগ্নীলের, যে ফেইরি টেইল  এর একজন সদস্য। এভাবেই শুরু হয় ফেইরি টেইল এনিমেটির কাহিনী। এনিমেটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল  টিমওয়ার্ক ও বন্ধুত্ব। এনিমেটিতে রয়েছে ম্যাজিকের মাধ্যমে ফাইট করার এক দারুণ অভিজ্ঞতা।এর স্টোরির  রয়েছে বিভিন্ন আর্ক যার ফলে মেইন প্লটের আগে জানতে পারবেন কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি। প্রথমদিকে মনে হতে পারে এনিমেটির নির্দিষ্ট কোনও কাহিনী নেই, কিন্তু আসলে এনিমেটির রয়েছে একটি চমকপ্রদ প্লট যা আপনাকে একটির পর একটি এপিসোড দেখতে আগ্রহী করে তুলবে।

 

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ ৯/১০

ফেইরি টেইল এমন একটি এনিমে যেখানে রয়েছে প্রচুর ক্যারেক্টার। তবে মেইন ক্যারেক্টার এর মধ্যে নাটসু, লুসি, গ্রে, এরজা, হ্যাপি এরা হল উল্লেখযোগ্য। ফেইরি টেইল এর একটি শক্তিশালী বিষয় হল এর ক্যারেক্টার দের তারা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রত্যেক ক্যারেক্টার এর পিছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড যা এনিমেটির ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টে রেখেছে এক অনন্য অবদান।

 

অ্যানিমেশনঃ ৮.৫/১০

ফেইরি টেইল এর অ্যানিমেশন কোয়ালিটি একটা বড় শো হিসেবে প্রশংসনীয়। এনিমেটির এনভাইরনমেনট অনেক কালারফুল যা ফেইরি টেইল এর স্টোরিলাইন এর সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। ক্যারেক্টার দের ফেসিয়াল এক্সপ্রেসন ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবং এর ফলে ফেইরি টেইল এর এত এত ক্যারেক্টার দেরকে খুব সহজেই মনে রাখা যায়।

 

সাউনডট্র্যাক/মিউজিকঃ ৯.৫/১০

ফেইরি টেইল এনিমেটির একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় দিক হল এর সাউনডট্র্যাক। ফেইরি টেইল এর সাউনডট্র্যাকগুলো আমার কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আমেযিং সাউনডট্র্যাক। তাদের প্রোডাকশন কোম্পানি A-1 Pictures এবং Yasuharu Takanashi (একজন মিউজিক ডিরেক্টর)এক্ষেত্রে গুরুদায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে Masayume Chasing & Strike Out ওপেনিং দুটো আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। আপনি ফেইরি টেইল এনিমেটি না দেখে থাকলে খুবই ভাল মিউজিক মিস করছেন।

 

এঞ্জয়মেনটঃ ৮.৫/১০

ফেইরি টেইল এনিমেটি দেখে আপনি খুবই মজা পাবেন। কারণ এই এনিমেটির বেশ কিছু সিরিয়াস পার্টেও রয়েছে মেইন ক্যারেক্টারদের বিভিন্ন হাস্যকর কার্যকলাপ। আপনি যদি কমেডি জনরার ভক্ত হন তবে অবশ্যই আপনার কাছে ফেইরি টেইল ভাল লাগবে।

 

ওভারঅলঃ ৮.৫/১০

এই রেটিংটি আমার ব্যক্তিগত রেটিং। সবমিলিয়ে আমার কাছে ফেইরি টেইল এনিমেটি অনেক ভাল লেগেছে। এটুকু বলতে পারি যে, এনিমেটি আপনাকে হতাশ করবে না। তবে যারা খুব সাস্পেন্সের ভক্ত তাদের কাছে ফেইরি টেইল মাঝে মাঝে কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। অনেকে বলে থাকেন যে, ফেইরি টেইল এর ফাইটগুলো শুধু নাকামা পাওয়ার আপ দিয়ে জেতা হয়। কিন্তু Erza vs Midnight, Natsu vs Jackal এই ফাইটগুলো সহ আরও অনেক ফাইটই Strategy বেসড।

 

ফেইরি টেইল হয়তবা সেরাদের সেরা নয় তবে এর বেশ কিছু নিজস্ব গুণ রয়েছে যা নিঃসন্দেহে এনিমেটিকে করে তুলে চমকপ্রদ এবং ইন্টারেস্টিং। সবশেষে একটা কথাই বলতে পারি যে, ‘I will fight for my friend  than watching them get hurt, I will fight for those I love.’- এরজা স্কারলেট, এরকমই কিছু অসাধারণ মুহূর্তের জন্য শুরু করে দিন ফেইরি টেইল।

20 Fairy Tail

ফেইরি টেইল এনিমে আবার ফেরত আসতেছে by Kazi Rafi

ফেইরি টেইল এনিমে আবার ফেরত আসতেছে !!!! চিয়ার্স !!!! যদিও আমি আরও বেশি খুশি হইতাম যদি A-1 Pictures আরেকটু বাজেট বাড়াইত ফেইরি টেইল এর জন্নে আর যদি সেন্সরশিপ টা উঠিয়ে দিত !!! আর এদিকে যথারীতি আজকেও মাঙ্গার ৩টা চ্যাপ্টার বাইর হইছে এবং আজকে ৪ ইশগালান গডস এর একজনকে দেখাইছে !!!!

A relaunch of the Fairy Tail television anime project has been green-lit. Original manga creator Hiro Mashima hadindicated that there would be good news for fans on Thursday.