Now and Then, Here and There [রিভিউ] — Barkat Hridoy
‘Don’t judge a book by it’s cover’
স্কুল জীবনের ‘English For Today’ এর কল্যাণেই হোক কিংবা বর্তমানের রিন পাওয়ার হোয়াইটের অ্যাডের কারণেই হোক প্রবাদটা আমাদের সবারই জানা। এ প্রবাদের উদাহরণও আছে অনেক এবং সেগুলো বাস্তব জীবন থেকে শুরু করে মুভি, বই, এনিমে সব স্থানেই দেখা যায়। সেই উদাহরনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ‘Now and Then, Here and There’.
এনিমে: Now and Then, Here and There (Ima, Soko ni Iru Boku)
জনরা: ড্রামা,মিলিটারি, ফ্যান্টাসি, সাই-ফাই, এ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড: ১৩
স্টুডিও/প্রযোজক: AIC
সোর্স: অরিজিনাল
সিনোপসিস: ‘শু’ মাতসুতানি একজন সাধারন হাইস্কুল পড়ুয়া বালক। সে অতি উৎসাহী,অতি আশাবাদী ও সর্বজয়ী মনোভাবের অধিকারী। স্কুলের কেন্ডো ক্লাবে তার রাইভালকে হারিয়েই নিজের পছন্দের মেয়েকে প্রপোজ করার প্রত্যয় নিয়ে স্কুলে গেলেও জয় তার হাতে ধরা দিলো না।’মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ পড়লো যখন ‘শু’ জানলো যে তার পছন্দের মেয়ের পছন্দ আবার সেই রাইভালই। ভাঙা মন নিয়ে হয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে শহরের পরিত্যক্ত চিমনির উপর’লালা-রু’ নামক এক রহস্যময়ী মেয়েকে বসে থাকতে দেখলো ‘শু’। অতি উৎসাহী ‘শু’ চিমনির উপর উঠে তার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করার সময় হঠাৎই ভোজবাজির মত হাওয়া থেকে উদয় হয় কিছু অদ্ভুত অস্ত্রসজ্জার মানুষের। যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তারা লালা-রুকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর লালা-রুকে বাঁচানোর চেষ্টায় তাদের সাথে শু-ও এসে হাজির হয় অন্য এক জগতে।
শু নিজেকে আবিষ্কার করলো “হেলিউড” নামক এক বিশাল মানবযানে যার পুরোটাই কংক্রিট আর লোহার বিশাল এক গোলকধাঁধাঁর মত। যার রাজত্বে এক নৃশংস স্বৈরশাসক, কিং হামদো। আর পুরো যানে ছড়ানো ছিটানো আছে তার অধীন সৈন্যদল। যাতে আছে বৃদ্ধ, মধ্যবয়স্ক,কিশোর এমনকি শিশু সৈন্যও! শু আটকা পরল কিং হামদোর হাতে। আর তারপর সে উপলব্ধি করল যে হেলিউডের চারপাশে যতদুর চোখ যায় ততদূর শুধু ধু-ধু মরুভূমি। নদী-সাগর দূরে থাক সেখানে এক ফোঁটা পানি পাওয়াও অনেক দুঃসাধ্য ব্যাপার! এ কঠিন পরিস্থিতিতে শু কি পারবে কিং হামদোর হাত থেকে বাঁচতে? সে কি বাঁচাতে পারবে লালা-রুকে?
স্টোরি ডেভেলপমেন্ট: প্রথমত:
“First Episode is a BIG Fat Lie ”
প্রথম এপিসোড দেখে যদি ভাবেন ‘ আরে এটা তো আরেকটা টিপিকাল শৌনেন এনিমে” তাহলে বিশাল ভুল করছেন। কেননা সেই এপিসোডের পর আপনি এত এত শক খাবেন যে কল্পনাও করতে পারবেন না।
NTHT একটি ফ্যান্টাসি ডিস্টোপিয়ার চাদরে ঢাকা বাস্তব ওয়ার ড্রামা। এখানে যুদ্ধসময়কালীন পরিস্থিতিকে দেখানো হয়েছে শিশুদের চোখে। যুদ্ধের নৃশংসতা, তার ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। টর্চার রক্তপাত, ভায়োলেন্স,শিশু নির্যাতন,রেপ এর মত ভারী ভারী জিনিস তুলে ধরা হয়েছে। তবে NTHT শুধু ডিপ্রেসিং জিনিসই নয় সাথে আরও তুলে ধরেছে কঠিন পরিবেশে ইচ্ছাশক্তির বলে বেঁচে থাকার গল্প, ক্ষীন আশাকে পুঁজি করে বেঁচে থাকার গল্প, হার না মানার গল্প, পরিবার আর ভালোবাসার গল্প।
আর এগুলো একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরাই গল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বলে আমি মনে করি। আর লেখক এসবকিছুই খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে আলাদা কোনো আদিখ্যেতা ছাড়াই তুলে ধরেছেন। টেকনিক্যাল দিকগুলো উল্লেখ করলে প্রথমেই বলতে হবে এনিমের ডিরেক্টিং চমৎকার।ব্রিলিয়ান্ট স্টোরিটেলিং।
গল্পের পেসিং একটু ধীর মনে হতে পারে কিন্তু গল্পের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য করা হয়েছে ধারনা করা যায়। ভয়েস এক্টিং ছিল দূর্দান্ত!
ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
NTHT এর প্রতিটি ক্যারেক্টার গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্রময়। প্রতিটি ক্যারেক্টারই যেন নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রতীক। শু যেখানে আশার প্রতীক সেখানে লালা-রু শোষিত মানুষের প্রতীক। কিং হামদো তুলে ধরে পৃথিবীর স্বৈরশাসকদের আর ‘আবেলিয়া’ চির আনুগত্যের প্রতীক। ‘নাবুকা’ মিথ্যে আশায় বেঁচে থাকা মানুষদের তুলে ধরে আর ‘সারা’ নির্মম বাস্তবতাকে। এছাড়া ‘সিস’,’তাবুল’,’বু’,’সুন’ সকলেই গুরুত্বপূর্ণ আর চিরকাল মনে রাখার মত ক্যারেক্টার।
ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে ‘সারা’ হচ্ছে সিরিজের সবচেয়ে ডেভেলপড ক্যারেক্টার। কিং হামদো আর আবেলিয়ার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়নি বললেই চলে। এছাড়া প্রায় সকলেরই কম বেশি ডেভেলপমেন্ট হয়েছে।
আর্ট ও অ্যানিমেশন:
আর্ট ও অ্যানিমেশন কোনোটিই আহামরি নয়। ৯০এর দশকের এনিমে হওয়াতে(+ বাজেট স্বল্পতা) তা না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অ্যানিমেশনের ঘাটতি পুষিয়ে দেয় এর চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি। কিছু কিছু সিন একইসাথে খুব অসাধারন ও অর্থবহ ছিল।
সাউন্ড ও মিউজিক:
পুরো এনিমেজুড়ে ছিল Taku Iwasaki এর অসাধারন মিউজিকের কাজ। মেইন থিম হিসেবে থাকা Standing in the Sunset Glow অসম্ভবরকমের সুন্দর একটি সাউন্ডট্র্যাক। Tears আমার শোনা সবচেয়ে ইমোশনাল সাউন্ডট্র্যাকের একটি। ওপেনিং সং এতটা আহামরি নয় হলেও রেইকো ইয়াসুহারার গাওয়া এন্ডিং সং “Lullaby ” অনেক সুন্দর ছিল।
এন্জয়মেন্ট: খুব কম এনিমেই পারে দর্শকের সকল ইমোশন বের করে আনতে আর Now & Then, Here & There নিঃসন্দেহে সে লিস্টে থাকবে। এখানে কিং হামদোর কাজকর্ম যেমন আপনার মাঝে চরম ঘৃনার জন্ম দিবে তেমনিভাবে সিসের সরল উক্তি, ” Wars don’t raise children” আপনার মনকে আঘাত করবে। প্রতি এপিসোডের শুরুতে লালা-রু এর উক্তি, “Because 10 billion year’s time is so fragile, so ephemeral… it arouses such a bittersweet, almost heartbreaking fondness” আপনাকে যেমন ভালো খারাপের ধন্দে ফেলবে তেমনিভাবে বারবার শু এর বলা “Things may look bad now, but good things are bound to happen if you survive long enough.” আপনার মনে আশা যোগাবে। হ্যাঁ আশা যা সে নিরাশার রাজ্যে বেঁচে থাকার ও সামনে এগিয়ে যাবার নূন্যতম ইচ্ছাটাকে সজাগ রাখে। For sometimes hope is all there is to hold onto.
And sometimes, hope is enough.
এজন্যই Now & Then, Here & There অনন্য,অসাধারন এবং চিরকাল মনে রাখার মত এনিমে। তাই দেখে ফেলুন মাত্র ১৩ এপিসোডের চমৎকার এই এনিমেটি। আশা করি পস্তাবেন না।
MyAnimelist Rating: 7.79
Personal Rating: 9
P.S: ১. এনিমেটিতে নুডিটি, গোর নেই তবুও রোজা রেখে না দেখাটাই উত্তম
২. বয়সের পাশাপাশি মানসিক ভাবে ম্যাচিউর না হলে না দেখাই উচিত।
A V’s Suggestion: Ima, Soko ni Iru Boku (This is not Random)
পরিবেশন করছি “Ima, Soko ni Iru Boku” a.k.a. “Now and Then, Here and There” a.k.a. “এখন এবং তখন, এখানে এবং সেখানে”
[প্রথমতঃ এই এনিমেটা কোন Happy-Happy Going এনিমে নয়।
এবং দ্বিতীয়তঃ এনিমেটা কম বাজেটে করা সত্বেও এনিমেটার পেছনে প্রস্তুতকারকদের গভীর আন্তরিকতা অনুভব করা যায়।]
সাধারন শব্দ দ্বারা কখনো এই এনিমেটাকে বিবৃত করা সম্ভব নয় । কারন, শব্দ বহন করতে পারেনা কন্ঠশিল্পীদের গভীর বেদনার স্বর , আর্ট এবং সুরের কারুকাজ ।
“Ima, Soko ni Iru Boku” ফ্যন্টাসি এবং সায়েন্স-ফিকশানের এক অনন্য মিশ্রন । এখানে মানুষের নিষ্ঠুরতা, হিংসা, পাষবিকতা যেমন দেখানো হয়েছে ; তেমনি এর বিপরীত চিএও দেখিয়েছে । এনিমেটা দেখতে দেখতে হয়ত কখনো আপনি নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন অথবা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন উপরের দেয়ালের দিকে । যেন আপনার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে একটি অনুভূতির পেয়ালা , আর আপনি চুমুকে চুমুকে পাণ করছেন তার বিভিন্ন রকম স্বাদ ।
গল্পের নায়ক “সূ” (আসলে একজন victim) ঘটনাচক্রে চলে যায় এক ভিন্ন জগতে । যেখানে ভূমি, দিগন্তজোড়া বিস্তৃন পাথুরে আর আকাশ রক্তলাল । যেখানে এক ফোঁটা পানির জন্য মানুষ মানুষকে খূন করতে দ্বিধা বোধ করেনা ।এই রকম অচেনা অসহায় পরিবেশে ও প্রচন্ড অত্যচারের মধ্যও “সূ”কে টিকিয়ে রাখে দুটো জিনিস, বাঁচার প্রবল ইচ্ছা আর একটি প্রতিজ্ঞা ।
অপর দিকে গল্পের নায়িকা “লালা-রু” বহন করে এমন এক ক্ষমতা যা কিনা বাঁচাতে পারে ধ্বংশের পথে চলা এই জগতটাকে । ঘটনাচক্রে “লালা-রু”কে অপহরন করে এক পাগলা ডিকটেটর “লর্ড হামডো” যে কিনা “লালা-রু”র ক্ষমতাকে নিজের স্বার্থসিদ্ধীর জন্য ব্যবহার করতে চায় ।
আর একটি চরিত্রের কথা না বললেই নয়, সে হল “সারা” । মূল দুই চরিত্রের চেয়েও আমাকে বেশী স্পর্স করেছে “সারা” চরিত্রটি । ওর দুর্ভাগ্যের ঘটনা আজ নাহয় নাই বললাম ।
This is one of those anime you really can’t judge from the cover!! প্রত্যেক পরিনীত এনিমে দর্শকের ওয়াচলিস্টে এই এনিমেটা থাকা উচিত ।
ভেটরনস্ রেটিং: ৮
Ima, Soko ni Iru Boku রিভিউ — Fahim Bin Selim

Now and Then, Here and There (今、そこにいる僕 Ima, Soko ni Iru Boku)
প্রচারকাল: ১৯৯৯-২০০০
জনরা : সাইফাই, মিলিটারি, ডিস্টোপিয়া, ওয়ার ড্রামা
পরিচালক : আকিতারো দাইচি
লেখক(অ্যানিমে অরিজিনাল) : হিদেইয়ুকি কুরাতা
প্রযোজক : এ.আই.সি.
পর্ব : ১৩
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং : ৭.৮
শুজুও “শু” মাতসুতানি সাধারন এক হাইস্কুল পড়ুয়া বালক। সে থাকে জাপানের ছোট এক শহরে, যার এক কোনায় আছে অনেকগুলো পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরির চিমনী, মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সুন্দর একটা নদী, যা এক পাশে গিয়ে মিশেছে সাগরে, যেখানে বিকেলে সূর্যাস্তের গাঢ় লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে। শু বেসবল খেলে, বল মেরে প্রতিবেশীর জানলার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। স্কুলে কেন্দো ক্লাবের সদস্য সে;আবার যে মেয়েটাকে সে পছন্দ করে, সেই মেয়েটা পছন্দ করে তার রাইভালকে। শু ছিল সাধারন এক বালক।
তারপর একদিন স্কুল ছুটির পর সে লালা-রু নামের অদ্ভুত একটা মেয়েকে দেখতে পায় পরিত্যক্ত সেই চিমনীর উপর বসে থাকতে। শু সেখানে উঠে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। আর তখনই যেন ভোজবাজির মত হাওয়া থেকে উদয় হয় কিছু অদ্ভুতদৃশ্য অস্ত্রসজ্জার মানুষ। যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তারা লালা-রুকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর ঘটনাক্রমে তাদের সাথে শু-ও এসে হাজির হয় অন্য এক জগতে।
বিশাল এক দূর্গস্বরুপ জায়গায়, যার পুরোটাই কংক্রিট আর লোহার বিশাল এক গোলকধাঁধাঁ। যার রাজত্বে রক্তপিপাসু এক স্বৈরশাসক, কিং হামদো। আর দূর্গজুড়ে ছড়ানো ছিটানো তার অধীন সৈন্যদল। যাতে আছে প্রাপ্তবয়স্ক, যুবক, কিশোর এমনিক শিশু সৈন্যরাও! শু আটকা পরল কিং হামদোর হাতে। আটকা পরল এই অপার্থিব জগতে, দূর্ভেদ্য এক দূর্গে, যার চারপাশে যতদুর চোখ যায় শুধু ধু-ধু মরুভূমি। নদী আর সাগর তো দুরের কথা, এক ফোঁটা পানি পাওয়াও যেখানে দুঃসাধ্য ব্যাপার!
এই অ্যানিমের ব্যাপারে কথা বলার আগে প্রথম পর্বটার কথা বলা বেশ জরুরী। প্রথম পর্ব দেখে দুটো জিনিস হওয়া স্বাভাবিকঃ (১) নরমাল ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব, শৌনেন হিরো দেখে যদি আশাহত হোন, তবে ফিরে আসুন, হাল ছাড়বেন না। আর (২) যদি নরমাল ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব দেখে অ্যাকশন প্যাকড, “হিরো সেভস দ্য ওয়ার্ল্ড” অ্যানিমে আশা করেন, তাহলে দেখা বাদ দিন, এটা আপনার জন্য না।
শু আসলেই এক সাধারন শৌনেন হিরো। সে লড়াইয়ে বুদ্ধি ব্যবহার করে না, বরং বেপরোয়া ভাবে আক্রমনই তার সম্বল। কিন্তু পার্থক্য হল আর সব শৌনেন হিরোর মত তার উল্লেখযোগ্য কোন শক্তি নেই;সে অত্যাচারিত হয়, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়, কিন্তু তার কোন “নায়কোচিত” জবাব দিতে পারেনা। সে চরম দুর্দশার মূহুর্তেও আশার বাণী শোনায়, “বন্ধুত্ব”-এর ফাঁকা বুলি আওড়াও। কিন্তু পার্থক্য হল কেউ তার কথায় খুব একটা কান দেয় না, তার কথায় শত্রু বন্ধুতে পরিণত হয় না, বরং অনেকাংশে তার ছেলেমানুষিই অন্যের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শু বিশ্বজয়ী কোন নায়ক না, কিন্তু শু সাধারন এক বালক। এই অ্যানিমের আর সব চরিত্রের মতই। কাউকেই ভালো-খারাপের মানদ্বন্দে বিচার করা সম্ভব হবে না, কিন্তু এমনকি পার্শ্বচরিত্রগুলোও মনে রাখার মত। শুধু হাতে আঁকা কোন ছবি নয়, তারা সবাই-ই যেন নিজস্ব গল্প থাকা, নিজস্ব জীবনঅভিপ্রায় থাকা, বাস্তব এক একজন মানুষ। Now and Then, Here and There যতটা শু এর এই অভিযানের গল্প, ততটাই তার বন্দীসংগী সারা ‘র নিষ্পাপ কৈশোর থেকে নির্মম বাস্তবতার সাথে পরিচয়ের গল্প, বাস্তুহারা কিশোর সৈন্য নাবুকার অসম্ভব স্বপ্ন বুকে নিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার গল্প। এমনকি যেই অ্যান্টাগনিস্টকে দেখে প্রতি মূহুর্তে তাকে গলা টিপে খুন করার কথা মাথায় আসবে, সেই অবিশ্বাস্য নিষ্ঠুর কিং হামদোর অসাধারন চরিত্রায়নও অভিভুত হওয়ার মত। আর ভয়েস অ্যাক্টরদের অভিনয় বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।
গত শতাব্দীর অ্যানিমে হওয়ায় স্বভাবতই আর্ট বেশ গুমোট, সাদামাটা; অ্যানিমেশন বিশেষ কিছু না। কিন্তু এর গল্পের সাথে মানিয়ে যাওয়ার মত। আর Now and Then, Here and There-এর গল্প হচ্ছে এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। অসাধারন অর্কেস্ট্রাল আবহসঙ্গিতের মূর্ছনায় এর সুনিপুণ-নির্মিত দুনিয়ায় একবার হারিয়ে গেলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না। ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব দেখে হাল ছাড়বেন না; কিন্তু দেখার আগে সতর্ক থাকুন।
Now and Then, Here and There ডার্ক, খুবই ডার্ক অ্যানিমে। হাসির দৃশ্য তো দুরের কথা, সাধারন খুশি করে দেওয়ার মত দৃশ্যও হাতেগোনা। উল্লেখযোগ্য কোন গোর কিংবা ন্যুডিটি নেই, কিন্তু এর ভায়োলেন্স সীমাহীন। তা অত্যাচার আর রক্তপাত থেকে শুরু করে শিশু নির্যাতন, দাসত্ব, হত্যা, গনহত্যা, আত্নহত্যা, এমনকি ধর্ষন পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু এর ভায়োলেন্স কখনোই কুরুচিপূর্ন না, শক-ভ্যালুর জন্য না; তা ভয়ংকর কিন্তু বাস্তব।
যুদ্ধের ভয়াবহতা, নির্মমতা নিয়ে এরকম বাস্তব আর হৃদয়বিদারী ভিজুয়াল ফিকশন হয়তো আর খুব বেশি নেই। Legend of the Galactic Heroes যদি শাসক আর নেতাদের দৃষ্টি থেকে যুদ্ধ-রাজনীতির গল্প হয়, তবে Now and Then, Here and There হল সাধারন মানুষের চোখে দেখা যুদ্ধের গল্প। নির্দিষ্ট করে বললে The Boy In The Stripped Pajamas-এর মত শিশুদের চোখে দেখানো যুদ্ধের গল্প, কিন্তু পার্থক্য হল এর বর্বরতা ব্যাকগ্রাউন্ডে না;বরং Schindler’s List আর The Pianist-এর সাথে তুলনীয় – বারবার চোখ ভিজিয়ে দেওয়া, গলা বাষ্পরুদ্ধ করা আর রাগে হতবিহবল করে দেওয়া।
কিন্তু এই অচেনা জগতের আড়ালেই সবচেয়ে ভয়াবহ আর দুঃখজনক বিষয় হল, Now and Then, Here and There-এর মূলগল্প অতিরঞ্জিত কিছু না। এটা যুদ্ধ বিগ্রহের গল্প, আমাদের চারপাশে হওয়া যুদ্ধ-বিগ্রহের গল্প; যা হাজার হাজার বছর আগেও হয়েছে, এবং এখনোও হচ্ছে। এখন আর তখন, এখানে আর সেখানে। সবসময়, সবজায়গায়। কিন্তু তারপরও Now and Then, Here and There শুধু নিরাশার গল্প না, মানবতার সৌন্দর্যের গল্পও, ভালোবাসার গল্প, পরিবারের গল্প। সকল হতাশার পরও হাল না ছাড়ার, নতুন শুরুর গল্প।
Now and Then, Here and There সম্ভবত একবার দেখা শেষ করলে আর দ্বিতীয়বার দেখতে চাইবেন না, কিন্তু একবার দেখা শেষ করলে আর কোনদিন ভুলতে পারবেন না।
সাজেস্টেড অডিয়েন্স : প্রাপ্তবয়স্ক (এবং শুধু বয়সের দিক দিয়ে না); ট্র্যাজেডি, হিউম্যান ড্রামা প্রেমীদের।
সামগ্রিক : চুম্বকাকর্ষী গল্প, ধীর কিন্তু ঘটনাবহুল, চিরদিন মনে রাখার মত চরিত্র, ‘৯০ এর আর্ট অ্যানিমেশন, চমৎকার আবহ সংগীত।
আমার রেটিং : A+






