জুনজি ইতো হরর [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

junji ito

ঈদ স্পেশাল সাজেশন

জুনজি ইতো হরর
বর্তমানে ভূতের গল্প বা মাঙ্গা পড়ে এখন অনেকেই আর ভয় পায় না :'( ! পাবে ক্যামনে !? দুপুর বেলাতে বা লাইট ফ্যান শহরে বইসা ভয়ের ঠিক আমেজ আসে না ! এবার ঈদে গ্রামে যারা গেছেন বা যাচ্ছেন তাদের বলি ! মোবাইলে করে জুনজি ইতো সমগ্র নিয়ে যাবেন । দুপুরে ঘোরাঘুরি , রাতে ফিরলেন । কুপির আলো জ্বলছে , বাইরে ঝিঝি পোঁকা , শেয়াল বা খাটাশ ডাকছে !অসাধারণ পরিবেশ । তখন মোবাইল খুলে শুরু করবেন ইতো পড়া । এই ইতো আবার কে অনেকেই ভাবছেন । ইতো হল হরর কমিকসের রাজাপুত্র । কত যে ফোবিয়া মানুষের আছে ! গর্তভীতি, পানিভীতি , পোকাভীতি , চুলের ভীতি আরও অনেক ।সেই ফোবিয়া নিয়ে ইউনিক আর্টের সাহায্যে ইউনিক সব হরর গল্প ফেদে বসেন । যার নমুনা দেখলে রক্ত ডিপফ্রিজের পানি মার্কা ঠান্ডা হতে বাধ্য ! স্পাইরাল নিয়ে উযুমাকি , জীবন্ত গ্রহ নিয়ে হেলস্টার রেমিনা , মাকড়সার মত পা বিশিষ্ট জম্বি মাছের আক্রমণ নিয়ে গিয়ো , ছলনাময়ী , লাস্যময়ী কামিনী ডাইনী মত তোমিয়ে এবং আরো অনেক ছোট ছোট চমকপ্রদ গল্প । তার কাহিনী হঠাত্‍ শুরু এবং হঠাত্‍ শেষ ! এবং আপনার দুঃস্বপ্নে কিছু একস্ট্রা এলিমেন্ট যোগ করবে ! তার মাঙ্গা পড়ার তার কাহিনী এবং হরর আর্টের এক ভয়ঙ্কর মোহ আপনাকে ঘিরে ধরবে 😀 পুকুড়ে সাতার কাটতে গিয়ে দেখবেন কিলবিলে পাযুক্ত মাছ সাতার কেঁটে চলে গেল , জানালার পাশে তোমিয়ের রিনরিনে হাঁসি , গাছের গুড়িতে স্পাইরাল গর্ত যা আপনাকে টেনে আধারে মিলিয়ে দেবে 😀 এক কথায় আপনার গ্রামে ভ্রমণকে থ্রিলিং ও আনন্দময় করে তুলবে 😀 !
বোনাস সাজেশন : সাথে বিভূতিভূষণের গল্পসমগ্র এবং হূমায়ুন আহমেদের সংকলিত ভৌতিক গল্পসমগ্রও পড়তে পারেন 😀
আপনার ঈদ আনন্দময় হোক ।

মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল
মাঙ্গাকা: জুনজি ইতোও

ফ্যাশন মডেলদের সাথে আমরা সবাই খুব পরিচিত । তারা হচ্ছে একদল সুন্দরী যাদের মাধ্যমে ফ্যাশন ডিজাইনরা তাদের সুন্দর বা উদ্ভট কাপড় উপস্থনার দায়িত্ব প্রদান করে ! অনেকসময় ৪০কেজি ওজনের মডেলকে ২০কেজি সমপরিমাণ পোশাকের টর্চারও সইতে হয় ! তো জুনজি হয়তো ভাবলেন যে সবজায়গায় যেহেতু হররের সোনার কাঁঠি ছুইয়েছি তো ফ্যাশনমডেলরাও বাদ যাবে কেন ! তার ফল হল এই হরর এবং হাল্কা গোর মাঙ্গা ফ্যাশন মডেল ।
কাহিনী: এর কাহিনী শুরু হয় এক ফ্লিম এবং বিঙ্গাপনের স্টুডেন্ট ইওয়াসাকিকে দিয়ে । এই ইওয়াসাকি বেশ স্ট্রং ইনট্যুইশনের অধিকারী । তো হ্ঠাত্‍ একদিন সকাল থেকে তার মাথায় এক প্রবল বিপদের সতর্কসংকেত বেজে উঠলো , তার মনে হচ্ছে তার দিন আজকে বেশ খারাপ যাবে , পথে ছোটখাট দুটো বাড়ি খেয়ে তার ধারণা আরো বদ্ধমূল হলো । তো একটা কফিশপে ঢুকে মাথা ঠান্ডা করার জন্য কফির অর্ডার দিয়ে একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাতো লাগলো । কিন্তু তার চোখে হঠাত্‍ করে পড়লো ম্যাগাজিনে এক ভয়াব্হ নারী মূর্তির ছবি , তার দৃষ্টি এমনই ভয়ানক যা আপনার আত্নাকে কাঁপিয়ে দেবে । এবং সে নারী কিনা একজন মডেল ! কয়েকসপ্তাহ পর্যন্ত ওই ভয়ঙ্কর নারী মূর্তি তাকে দুঃস্বপ্নতে হানা দিতে থাকে , কিন্তু যখনই সে ওই চেহারা ভুলে যেতে শুরু করে তখনি সে সরাসরি ওই বিকটিনীর সামনে পড়ে যায় ! কি হয় তার পড়ে ?! জানতে চাইলে মাঙ্গা পড়ে ফেলুন না !!
যারা জুনজি ইতোর ভক্ত তারা তো অবশ্যই এটা পড়েছে বা পড়বেন । কিন্তু যদি হররের জগতে প্রবেশ করতে চান তাহলে এই মাঙ্গা দিয়েই শুরু করে দিন না !? ভয় পাওয়ায় একধরনের মজা ! তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ফ্যাশন মডেল !
আমার রেটিং: ৭/১০

Fashion Model

মাঙ্গা রিভিউ: Intersection’s Pretty Boy — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

জুনজি ইতোর মাঙ্গা কালেকশনে এত অসাধারন গল্প রয়েছে তার মধ্যে আমার অন্যতম পছন্দ হলো ইন্টারসেকশন প্রিটি বয় । নরমাল ভাগ্যগণণাকে জুনজি যথারীতি নারকীয় রুপ দিয়েছেন !
কাহিনী : জাপানের এক কানাঘুপচি শহরে এক আজব খেলা চালু আছে । এই খেলার নাম হল ইন্টারসেকশন ফরচুন টেলিং বা গলির চৌমাথার ভাগ্যগননা । এই খেলার নিয়ম হল আপনি কোন গলির মাথায় দাড়িয়ে মুখ ঢেকে পথচারীর জন্য অপেক্ষা করবেন । পথে যে প্রথম পথচারীকে পাবেন , তাকে অনুরোধ করবেন আপনার ভাগ্য সম্পর্কে কিছু বলতে , সে যা বলবে আপনার ভাগ্য সে রকমেরই হবে । সবই ঠিকঠাক চলছিল যতদিন না পর্যন্ত এক গর্ভবতী নারীর লাশ পাওয়া গেলো শহরের এক রাস্তার মোড়ে । আসল ঘটনা শুরু হয় যখন রিয়ুসকে নামক এক সুদর্শন তরুন তার ছোটবেলার শহরে ফিরে আসে । নতুন স্কুলে ভর্তি হবার পর সে খুজে পায় তার ছোটবেলার বান্দ্ধবী মিডোরিকে এবং সুদর্শন এবং সদালাপী হওয়ায় সে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে , বিশেষ করে মেয়ে ম্হলে । কিন্তু হঠাত্‍ করেই তার এক মেয়ে সহপাঠীর ভয়াব্হ মৃত্যু হয় চৌরাস্তার মোড়ে এবং জানা যায় যে সে ইন্টারসেকশন ভাগ্য গণণা করতে গিয়ে সে এক কালোপোশাকধারী সুদর্শন যুবকের দেখা পায় যে তাকে বলে তার জীবনে কখোনো ভালবাসা আসবে না । এরপরই মেয়েটি আত্নহত্যা করে । এরপরই শুরু হয় রিয়ুসকের জীবনের এক নারকীয় অধ্যায় । এই কালোসুদর্শন যুবকের সাথে রিয়ুসকের সম্পর্ক কি তা জানতে হলে শুরু করে দিন মাঙ্গা পড়া !
এটার আর্টওয়ার্ক এবং কাহিনী দুটোই অস্থির । পড়তে গিয়ে আপনার একধরনের ভয় ও রহস্যের উত্তেজনা মিশানো অনুভূতি কাজ করবে । তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন Intersection pretty boy !
আমার রেটিং: 9/10

pretty boy

হরর মাঙ্গার রাজা – ইতৌ জুন্জি

 

19230_468959826590403_8634242293780997866_n

সত্যজিৎ রায়ের অসাধারণ ছোট গল্পগুলো পড়েছেন? খগম, মঙ্গলই স্বর্গ, এমন রহস্য আর ভয়ের মিশেলে গড়ে ওঠা গল্পগুলো, যাদের কোন সুখকর সমাপ্তি নেই, বরং গায়ে কাঁটা দেয়া পরিস্থিতি। মজার ব্যাপার হল, এসব গল্পে প্রচলিত অর্থে ভূতপ্রেত নেই, সেই জায়গায় আছে অতিপ্রাকৃত বিষয়াবলী। এই সব গল্প চিত্রায়িত করা গেলে কেমন হত?

জাপানী মাঙ্গাকা ইতো জুঞ্জি মাঙ্গা আঁকছেন বিশ বছরের বেশি সময় ধরে। এরই মধ্যে তিনি হরর মাঙ্গার রাজা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। তাঁকে বেশিরভাগ ফ্যানই চেনে মূলত উজুমাকির মাধ্যমে, কিন্তু উনি লিখেছেন দারুণ সব ওয়ানশটও, যেগুলো তাদের নিজস্বতায় ভাস্বর। এখানেই আসে রায় সাহেবের প্রসঙ্গ তোলার কারণ। জুঞ্জি এত প্রতিভাবান, উনি সরাসরি ভূতপ্রেত নিয়ে কাজ না করে রায়ের মতই ভয়ের প্রকারভেদকে উম্মোচিত করেছেন। কত ধরনের ভয়? কিটোফোবিয়া[চুলের ভয়], মেলিসোফোবিয়া[মৌমাছির ভয়], এক্রফোবিয়া[উচ্চতার ভয়], পুপাফোবিয়া[পুতুলের ভয়], হিমোফোবিয়া[রক্তের ভয়], ট্রাইপোফোবিয়া[ছিদ্রের ভয়] আরো কত কি! উদ্ভট সব কাহিনী ফেঁদে সেই সাথে ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

তাঁর মাঙ্গা যেগুলো স্ক্যানলেট হয়েছে, পড়তে পারবেন মাঙ্গাফক্সে। আর ডাউনলোড করার জন্য বাকাবিটি তো আছেই। http://bakabt.me/torrent/180715/the-junji-ito-horror-comic-collection-museum-of-terror-ito-junji-kyoufu-manga-collection

আমার নিজের পছন্দের কিছু টাইটেল হচ্ছে – The Bee Hive, The Bully, Falling, My Dear Ancestors, The Groaning Drain, Frankenstein [হ্যাঁ, মেরি শেলির সেই বিখ্যাত কাহিনীর মাঙ্গারূপ]

তবে জুঞ্জির মুনশিয়ানা কিন্তু কেবল হরর মাঙ্গাতেই সীমাবদ্ধ না, উনি গ্যাগ মাঙ্গায়ও পারদর্শী। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুই ধরনের মাঙ্গা আঁকতে পারা, সব্যসাচী ছাড়া আর কি বলা যায়? জুঞ্জি কিন্তু নিজেকে আর তাঁর স্ত্রীকে চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেও একটা মাঙ্গা এঁকেছেন। বিড়ালপ্রেমী মাঙ্গাকা তাঁর স্ত্রীর সাথে লড়াই করছেন। তাঁদের পোষা বিড়াল দম্পতির কাকে বেশি ভালবাসে, জায়াকে, নাকি পতিকে, এই বিষয় নিয়ে। এমন মাঙ্গাকাকে পছন্দ না করে পারা যায়?