এনিমে রিভিউ: Kaiji — Rezo D. Skylight

KaijiKaiji দেখা শুরু করার সময় আমার তেমন একটা এক্সপেক্টেশন ছিল। প্রথমতো আমি এনিমের আর্টস্টাইল দেখে খুব চিন্তিত ছিলাম। বিশেষ করে ক্যারেক্টারগুলার নাকগুলা ছিল লম্বা প্লাস্টিক এর মতো দেখতে। তারপরেও কি মনে করে দেখতে থাকলাম। কিন্তুু দেখে মোটেই হতাশ হয়নি। কিভাবে যে টানা দুইদিনে কাইজি দেখে ফেললাম নিজেই বুঝলাম না।

কাইজির ঘটনা শুরু হয় কাইজি ও তার বন্ধুর কো- সাইনের মাধ্যমে লোন নেয়া টাকা থেকে। সেই লোনের টাকা শোধ করতে না পেরে কাইজির সেই বন্ধু পালিয়ে যায়। শেষমেশ আর কি হবে। লোনার সব বোঝা কাইজির ঘাড়ে পড়লো। কিন্তুু, সেই লোন ছিল বিশাল টাকার অংক। যেই লোন পরিশোধ করা কাইজির পক্ষে সহজ ছিল না। খুব চেষ্টা করলে হয়তো সে টাকা শোধ করতে কাইজির ১১ বছর কেটে যাবে। তখন টাকা আদায়কারি কাইজিকে ২টা চয়েছ দেয়। হয় তার কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে এই লোনের টাকা পরিশোধ করতে হবে নয় তাকে জীবন বাজি রেখে এক জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ভাগ্য ভালো থাকলে সে এই জুয়া খেলার মাধ্যমে এক দিনের মধ্যেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে পারবে। আর এই খেলাতে হারলে তার জীবনে নেমে আসবে নরক। কাইজি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে। আর প্রবেশ করে জুয়া খেলার অন্ধকার দুনিয়াতে।

কাইজিতে মানুষের psychology খুব ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। মানুষের অর্থের প্রতি হিংস্র লোভ-লালশা, অর্থের জন্য মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারানো, ওয়াদা ভঙ্গ করা, এমনকি অর্থের লোভে যে মানুষ মানুষকে মেরে ফেলতে পারে এই বিষয়গুলো কাইজিতে খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করেছে। “লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু” – এই প্রবাদটির ভাবার্থ কাইজি দেখলেই ভালোভাবে বুঝা যায়। আর উচ্চশ্রেণীর পিচাশশ্রেণী মানুষদের পরিচয়ও কাইজিতে দেখানো হয়েছে। এরা নিজেদের আনন্দও উপভোগে সমজের হতদরিদ্র, ঋণগ্রস্ত মানুষদেরকে নিয়ে বিভিন্ন মৃত্যু খেলার আয়োজন করে। তাদের কাছে দরিদ্র মানুষের জিবিনের কোন মূল্য নেই। কিন্তুু তাই বলে কাইজি মটেই পিছপা হয়নি। সে এসব খেলায় নিজের জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহন করে যায়। আর এর জন্যই কাইজিকে আমার খুব ভালো লেগেছে। এছাড়া “কাইজি”-র প্রায় প্রতিটি খেলাতেই রয়েছে gambling। আর প্রতিটি খেলায় কাইজি যেভাবে বুদ্ধি খাটায় তা পুরই অচিন্তনীয়। তাই মাথা খুব ঠাণ্ডা রেখে কাইজি দেখতে হয়েছে। আর আমি এই gambling গুলা খুব উপভোগ করেছি।

এখন ক্যারেক্টারের কথা বলতে গেলে শুধু কাইজির কথাই বলতে হয়। কাইজির চিন্তা ভাবনা অনেকটা ডেথ নোটের লাইট বা এলের মতো। কাইজি প্রতিটি জুয়া খেলাতেই নিজেকে কন্ট্রোল করে গভীর চিন্তা ভাবনা করে তার প্রতিপক্ষকে হারায়। কাইজি আসলেই যেকাররি ভালো লাগার মতো একজন ক্যারেক্টার।

অনেক কথা বলে ফেললাম। এখন আসল কথায় আসি। কাইজি যারা এখনো দেখেননি তারা সময় পেলে দেখে ফেলুন। বিশেষ করে আপনারা যারা Psychological জেনারের এনিমে পছন্দ করেন তাদের জন্য ”কাইজি” মাস্ট ওয়াচ একটা এনিমে। কাইজির intensity, thrill , awesomness ডেথ নোট, কোড গিয়াস এবং অন্যান্য Psychological এনিমের থেকে কোনো অংশেই কম না। আর gambling এবং mind games নিয়ে কাইজির মতো এনিমে খুব কমই আছে। আর আর্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। কয়েক এপিসোড দেখলেই আর্টটা আপনার কাছে মানানসই হয়ে যাবে।

MAL rating – 1st season (8.36), 2nd season (8.31)
My rating – 9/10

এফ এ সি ২৯

রান্ডম টপিক

নিট[NEET]
নিট এর এলাবোরেশন হলো নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট, অর ট্রেনিং। জাপানে এদের সংখ্যা প্রচুর, বিশেষ করে হিকিকোমরীরা এই “পেশা” বেছে নেই, আর বাবা-মার ঘরে চড়ে খায়. নিটদের নিয়ে খুব বিখ্যাত কিছু আনিমে আছে, যেমন ওয়েলকাম টু দ্য এন এইচ কে এবং ইডেন অব দ্য ইস্ট।
আমাদের দেশে অনেকে নিজেদেরকে ওতাকু বলতে গর্ববোধ করে, জাপান সরকার পারলে এই ওতাকুদের নির্বাসিত করত, কারণ ওতাকুদের বেশিরভাগই নিট, তারা দেশ ও জাতির বোঝা।

 

 

আনিমে সাজেশন

কাইজি[Kaiji]
ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাইজি যখন দিশাহারা, তখন তার কাছে প্রস্তাব আসল, এক জাহাজে উঠে জুয়া খেলার। কাইজির মতই ভাগ্য আরও অনেকের, তারা এই জুয়া খেলায় কাইজির প্রতিদ্বন্দ্বী। ভাগ্য বিড়ম্বিত কাইজি কি পারবে ঋণের বোঝা ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে?
কেন দেখবেনঃটানটান উত্তেজনাপূর্ণ এক সেইনেন সিরিজ, মাইন্ড গেইম আছে এর প্রতি পদে। দেখতে খুব মজা, দম ফেলারও জো নেই। খুব উপভোগ্য।
কেন দেখবেন নাঃ অতিরিক্ত লম্বা নাকের সাইজ, “তুলনামূলক” বাজে ভিজুয়াল আর অতিনাটুকেপনা।

 

ম্যাল রেটিং ৮,৩৮+৮.৩২

আমার রেটিং ওভারঅল ৯

 

মাঙ্গা সাজেশন

গার্লস অব দ্য ওয়াইল্ড’স[Girls of the Wild’s] 


ওয়াইল্ডস হল একটা অল-গার্লস স্কুল, যেটা রিসেন্টলি কো-এডুকেশন হয়েছে। এর মেয়েদের মধ্যে নিয়মিত টুর্নামেন্ট হয়, কে কত শক্তিশালী, তা দেখার জন্য। টুর্নামেন্টের বিজয়ী পায় “কুইন” উপাধি। ঘটনাচক্রে এই টুর্নামেন্টের অংশ হয়ে গেলো এক ছেলে, সং জায়। তারপর?
কেন পড়বেনঃ সম্পূর্ণ রঙিন মানহুয়া, ঝকঝকে প্যানেল, মারামারিগুলো খুব উপভোগ্য, আর ডিটেইলড। এই ধরনের মেয়েদের মারামারির মাঙ্গা আরও অনেক আছে, সেগুলোর সাথে ওয়াইল্ড’স এর তফাত হল, নন-এচি, মেয়েরা মারামারি শুরু করার সাথে সাথেই তাদের সব কাপড় মেইল ওডিয়েন্সের জন্য ”কনভেনিয়েনটলি” ছিড়ে যায় না। সময় সময় কোয়ালিটি গ্যাগ এলিমেনট।
কেন পড়বেন নাঃ কিছু ক্ষেত্রে বোরিং বা ”ড্র্যাগড আউট” মনে হতে পারে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৪

আমার রেটিং নেই, কারণ মাঙ্গা অনগোয়িং।