বর্ষাস্নাত আইরিশ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10882306_419249071572938_7703574320598321572_n

সেই সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই মানব প্রজাতির শখ, ভবিষ্যত পৃথিবী কেমন হতে পারে তা কল্পনা করা। সেখান থেকেই উৎপত্তি ঘটেছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা সায়েন্স ফিকশনের। কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের পৃথিবী? কল্পকাহিনী লেখকেরা তাদের কল্পনার মাধ্যমে বারবার এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করেছেন। এই কল্পনাগুলোতে যে ব্যাপারটা মোটামুটি কমন পাওয়া যায়, তা হল রোবটের আধিপত্য। বর্ষাস্নাত দিনের আইরিশের গল্পেও লেখক তার কল্পনাতে রোবটের সুখ দুঃখ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

নভেলটির আদ্যোপান্তের কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Slice of Life, Psychological
Authors: Matsuyama, Takeshi (Story), Hirasato (Art)
Volumes: 1
Chapters: 5
Score: 8.40
Ranked: 243 (MyAnimeList)

গল্পটি শুরু হয় এক অজানা আশঙ্কার আভাস দিয়ে। একটি রোবটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। তার মেন্টাল সার্কিট রিড করতে থাকেন রালফ সিয়েল নামের এক ব্যক্তি। কাহিনী শুরু হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটির ডিসম্যান্টলিং এর ৭ দিন আগে থেকে।

গল্পটি ওভাল নামের এক আধুনিক শহরের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির শীর্ষে পৌছেছে যে শহর। সাজানো গোছানো এ শহরটি পৃথিবীতে পরিচিত এর রোবট রিসার্চ সেন্টারের কারণে। শুধু রোবট নিয়ে গবেষণা চলে না এখানে, বরং বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য নিখুঁতভাবে রোবট তৈরিও করা হয়।

এই রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রফেসর মিস ওয়েন্ডি ভন আমব্রেলা। অত্যন্ত সুন্দরী, মেধাবী এবং বিচক্ষণ এই প্রফেসর রোবটদের সাহায্য করার জন্য সবসময় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। আর তার দেখভাল করার জন্য যে সবসময় ব্যস্ত থাকে, তার নাম আইরিশ রেইন আমব্রেলা।

আইরিশ হাসিখুশি এক কিশোরীর আদলে তৈরি রোবট। তাকে হঠাৎ দেখলে বোঝার কোন উপায় নেই যে সে আসলে এক হিউম্যানয়েড রোবট। সে প্রফেসর ওয়েনডির বাড়ি আমব্রেলা রেসিডেন্সে থাকে এবং তার দেখাশোনা করে। প্রফেসর ওয়েনডিও তাকে অত্যন্ত ভালবাসেন।

সবকিছুই তো ঠিকঠাক মতনই চলছিল। তাহলে কি এমন ঘটতে পারে আমব্রেলা রেসিডেন্সে? ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটি কে? তার এই অবস্থা হল কিভাবে? গল্প যত এগিয়ে যায়, একের পর এক রহস্যের পরত খুলে যেতে থাকে।

গল্পটি আইরিশের।
গল্পটি অনুভূতির।
গল্পটি বেঁচে থাকার।
গল্পটি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার।
গল্পটি উপলব্ধির।

রোবটের যদি অনুভূতি থেকে থাকে, তাহলেও কি তাকে ঘরের আর দশটা যন্ত্রের মত করেই ব্যবহার করে ফেলে দেয়া যাবে? পরিবারের এক অপরিহার্য সদস্য হয়ে যে এতদিন ছিল, কাজ শেষ হলে তাকে ফেলে দিতে কি একটুও কষ্ট হবেনা?

মানুষ এবং রোবট। অনুভূতির প্রশ্ন এলে তাদের আলাদা করাটা মাঝে মধ্যে কঠিন হয়ে দাড়ায়। নভেলটি পড়তে পড়তে সবকিছু কখন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, টের পাইনি। চমৎকার বর্ণনাশৈলী, পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন চোখের সামনে দৃশ্যগুলো ভেসে উঠছে। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত গল্পে ডুবিয়ে রাখার সব উপাদানই আছে এতে, সেই সাথে চমৎকার এন্ডিং!

তাই, আশা করব, যারা নভেলটি পড়বেন, তাদেরও আমার মতই ভাল লাগবে এবং পছন্দের নভেলের তালিকায় যুক্ত হবে।

লাইট নভেল রিভিউ; গেক্কোউ/চন্দ্রালোক – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

800px-Gekkou-006

“Gekkou” শব্দটার অর্থ করলে দাড়ায় চাঁদের আলো। যে আলোর তেজ নেই, তারপরেও সবার নজর কেড়ে নেয় তার মোহনীয় তীব্রতা দিয়ে। চাঁদ শুধু তার আলোকিত ঝলমলে চেহারাটা সবাইকে দেখায়। তার ঔজ্জ্বল্য দেখে বাকি সবাই সবকিছু ভুলে যায়। কিন্তু চাঁদেরও একটা অন্ধকার দিক আছে। সেই দিকটা সযত্নে গোপন রাখে সে। এমন চাঁদের মত একটি মেয়ে এবং আপাতদৃষ্টিতে নির্বিকার মনে হওয়া একটি ছেলের জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এই নভেলটির কাহিনী।

কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Comedy, Mystery, Romance, School, Shounen
Authors: Mamiya, Natsuki (Story), Shiromiso (Art)
Volumes: 1
Chapters: 11
Score: 8.33
Ranked: 326 (MyAnimeList)

শুরুটা খুব সাদামাটা। মোটামুটি যেকোন হাইস্কুল অ্যানিমেতে খুঁজে পাওয়া যায়, এমন একটি ক্লাসরুম, দৈনন্দিন একঘেয়ে জীবনের ওপর বিতৃষ্ণ গল্পের নায়ক নোনোমিয়া এবং ক্লাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবদিক থেকে প্রায় নিখুঁত নায়িকা ইয়োকো সুকিমোরি। নোনোমিয়ার দিন কাটে তার ক্লাসের প্রতিবেশী এবং বান্ধবী উসামির সাথে ঠাট্টা করে এবং সহপাঠীদের সাথে গল্প করে, যাদের গল্পের বিষয়বস্তু বেশিরভাগ সময়ই ইয়োকো সুকিমোরি এবং তাকে নিয়ে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন গুজব।

আপাতদৃষ্টিতে ইয়োকো এবং নোনোমিয়ার মাঝে কোন ধরনের যোগসূত্র নেই এবং হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নেই। ইয়োকো ক্লাসের সবচেয়ে নিখুঁত মেয়েটি, ঘরে বাইরে সবখানেই সে এলিগেন্ট। অপরদিকে নোনোমিয়া আপাতদৃষ্টিতে অতি সাধারণ। কিন্তু একটি ছোট্ট ঘটনা তাদেরকে একদিন গেঁথে দেয় একসূত্রে।

একদিন ক্লাস শেষে বইখাতা গুছানোর সময় নোনোমিয়া হঠাৎ দেখতে পায় মেঝেতে একটি নোটবুক পড়ে আছে। কৌতুহলবশত নোটবুকটি হাতে তুলে নেয় সে।

35488

আপনারা যা ভাবছেন তা নয়, ওটা ডেথনোট ছিল না!! ওটা ছিল ইয়োকো সুকিমোরির নোটবুক! এবং ঐ নোটবুকের ভেতর একটা কাগজ খুঁজে পায় নোনোমিয়া, যাতে হাতে লেখা বেশ কিছু পয়েন্ট গুছানো আছে। কাগজের ওপর শিরোনাম লেখা” “মার্ডার রেসিপি”.

এর মানে কি? ইয়োকোর কাছে মার্ডার রেসিপি কেন? সে কি কাউকে খুন করতে চায়? হেসেই উড়িয়ে দিল সেই সম্ভাবনাটা নোনোমিয়া। হয়ত এ ধরণের জিনিস নিয়ে গবেষণা করা ইয়োকোর শখ। কিন্তু এরপরেই একদিন সকালে ঘটল এমন একটা ঘটনা, যাতে মার্ডার রেসিপিটার দিকে নতুন নজরে তাকাতে বাধ্য হল নোনোমিয়া।

নভেলটি যখন প্রথম পড়া শুরু করি, প্রথম দুএক পৃষ্ঠা পড়ে আমি মনে করেছিলাম, হয়ত হাইস্কুলের প্লটে টিনেজ ছেলেমেয়েদের জীবনের ঘটনাগুলো নিয়ে গড়ে ওঠা নভেল হবে, এবং হ্যা, গল্পটা আসলেও তাই। কিন্তু শুধু সেটা নয়, বরং আরও কিছু। সামান্য একটা মার্ডার রেসিপি থেকে রহস্য শুরু হয়, যার কোনো ভিত্তিও হয়ত নেই, কিন্তু এখানেই লেখকের সার্থকতা। পুরোটা সময় পাঠককে উত্তেজনার মধ্যে রাখার সব উপকরণ এই নভেলে আছে, সেইসাথে রোমান্স এবং হাইস্কুল জীবনের জটিলতাগুলোও আছে।

প্রতিটা ক্যারেক্টারের এবং দৃশ্যের বর্ণনা চমৎকার, তাদের কল্পনা করে নিতে কোনই অসুবিধা হয়না। আমি নভেলটি পড়ার সময় একমূহুর্তের জন্যও বোর হইনি এবং চমৎকৃত হয়েছি বারবার!

যারা এই নভেলটি পড়েননি, আমি বলব তাড়াতাড়ি শুরু করে দিন, এবং জানুন এটি কত সুন্দর একটা রত্ন। এর কোন খুঁত আমার চোখে পড়েনি এবং আমি নিশ্চিত আর যারা পড়েছেন বা পড়বেন, তারাও খুব বেশি পছন্দ করবেন এটাকে।

Gekkou_ss1

Hyouka / Koten-bu Series রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

অ্যাডভেঞ্চার অথবা মিস্ট্রি জনরা চোখে পড়লে সাধারণত আমাদের মনে একধরণের ধারণা আসে, এই নভেলটির কাহিনী সেই ধারণার সাথে একেবারেই খাপ খায়না। কিন্তু তারপরেও, এই নভেলটি একটি নয়, বরং অনেকগুলো চমৎকার রহস্যের কাহিনী উপহার দিয়েছে পাঠকদেরকে।

প্রথমে কিছু তথ্য উপাত্ত দেয়া যাক-
Genres: Adventure, Mystery, School
Authors: Yonezawa, Honobu
Status: Publishing
Published: Oct 31, 2001
Score: 8.44
Ranked: 205 (MyAnimeList)

সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, হাইস্কুল জীবন হল একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুবান্ধব অথবা নতুন কোন অভিজ্ঞতা অর্জন- সবকিছু মিলিয়ে এই জীবনটার জন্য প্রচলিত কথাটি হল “Rose-coloured life”. এবং, ধরে নেয়া হয় যে, এই গোলাপ রঙা জীবনই যেকোন মানুষের সবচেয়ে আরাধ্য বস্তু।

কিন্তু কারও যদি এই রোজ কালারড লাইফ ভাল না লাগে? কারও যদি এই সবকিছুকে শুধু শক্তির অপচয় বলে মনে হয়, তাহলে তার জীবনকে কি বলা যায়? “Grey coloured”?

ওরেকি হোতারু নিজেকে তেমনই মনে করে। সে এই রোজ কালারড লাইফের প্রতি কোন আকর্ষণ অনুভব করেনা। এমন নয় যে সে যারা এভাবে জীবনযাপন করে তাদের অপছন্দ করে। তবে সে নিজে এসব থেকে দূরে থেকে নিজের শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে চায়, কারণ, নিজের সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হল, সে একজন “Energy Saver”.

Hyouka-hyouka-33509469-1024-768

হোতারুর জীবনের motto হল, “If I don’t have to do it, I won’t do it, If I have to do it, make it quick”. যদিও এই ব্যাপারটা নিয়ে তার একমাত্র কাছের বন্ধু সাতোশি ঠাট্টা করার সুযোগ পেলে কখনো ছাড়েনা। সাতোশি নিজে হল ডেটাবেইস। পৃথিবীর যতধরণের তথ্য, সবই সাতোশির ঝুলিতে সযত্নে সংরক্ষিত থাকে। আর যেকোন কিছুতে বিশ্বাসযোগ্য ঠাট্টা করতে তার জুড়ি নেই। হোতারুর সম্পর্কে তার ধারণা, হোতারু নিজের ক্ষমতাকে ঠিকমত ব্যবহার করে না। করলে সে অনেক কিছু খুব সহজেই অর্জন করতে পারত।

এই নির্বিবাদ, শক্তি সঞ্চয়কারী হোতারুর জীবন পাল্টে দিল, বেনারস থেকে আসা একটি চিঠি।

হোতারুর বড়বোন তোমোয়ে হোতারুকে চিঠি পাঠায় একটি অদ্ভুত অনুরোধ (অথবা আদেশ) করে। হোতারুর বড়বোন হাইস্কুলের যে ক্লাবের সদস্য ছিল, সেই ক্লাবটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। হোতারুর মত এনার্জি সেভারের জন্য এটা খুবই অপ্রয়োজনীয় একটি অনুরোধ, তাও বড়বোনের কথায় রাজি হয়ে হোতারু পা বাড়ায় ক্লাসিকস ক্লাবকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু ক্লাবরুমে পা দেয়ার সাথে সাথে হোতারুর জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। কে জানত, স্পেশাল ব্লকের চারতলার শেষমাথার ঐ গোধূলীর স্নিগ্ধ আলোয় স্নান করা আলোকিত ঘরের কোনায় দাড়িয়ে থাকা এলিগেন্ট দেখতে বড় বড় কৌতুহলী চোখের শান্তশিষ্ট মেয়েটি এভাবে ঝড় তুলে দেবে ওরেকি হোতারুর জীবনে! কে জানত, এনার্জী কনসার্ভিং হোতারু একের পর এক কাজ করে যাবে চিতান্দা এরুর ইচ্ছায়, যা তার স্বভাবের পুরো বিপরীত! কি এমন আছে সেই মিষ্টি স্বরের “কিনিনারিমাস” এ?!

আমার মতে, নভেলটির একইসাথে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দুর্বল দিক হল এর ট্যাগ। আমি নিজে যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, আমার এক্সপেকটেশন ছিল মিস্ট্রি জনরার অন্যান্য কাহিনীর মতই মাথা ঘুরিয়ে দেয়া এবং প্লট টুইস্ট যুক্ত কোন কাহিনী হবে এবং পড়তে গেলে প্রতিটা লাইন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে ক্লু বোঝার জন্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা আসলে একেবারে উল্টো। একদম চিন্তাভাবনা ছাড়া হালকা মেজাজে যেকোন অবস্থায় পড়ার উপযোগী একটি নভেল এটি। প্রতিটা ক্যারেক্টারের নিজস্ব চার্ম আছে এবং আলাদাভাবে মনে ছাপ ফেলে দেবে। তাদের কথাবার্তা, কাজকর্ম নিজের অজান্তেই মনে একটা প্রশান্তির ভাব এনে দেবে। কিন্তু একইসাথে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হওয়া সমস্যাগুলো যখন খুব সহজে সমাধান হতে দেখা যায়, চমৎকৃত না হয়ে পারা যায়না।

এর একটা দুর্বল দিক হল, ট্যাগ দেখে এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়তে শুরু করার পরে প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার একটু ধীরগতির এবং বোরিং মনে হতে পারে, যদি আপনি ধীরগতির কাহিনীতে অভ্যস্ত না হন। কিন্তু যত কাহিনী যত এগিয়ে যাবে, পাঠককে এর ভেতরে তত বেশি টেনে নেবে, তা নিশ্চিত।
নভেলটির এ পর্যন্ত তিনটি ভলিউম ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে, তবে আশার কথা হল, এর অনুবাদ এখনো চলছে, তাই আশা করছি এটা সম্পূর্ণ অনূদিত হবে কোন একদিন।আরেকটা কথা না বললেই নয়, এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন প্রায় নিখুঁত। স্টোরিতে দুএকটা ছোটখাট পার্থক্য আছে, তবে দুটো থেকেই একইরকম আবহ পাওয়া যায়।

কাজেই, আমার মতে, সকলের জন্য, বিশেষ করে যারা কখনো লাইট নভেল পড়েননি, তাদের শুরু করার জন্য এ নভেলটি আদর্শ। যদি পড়ে না থাকেন তাহলে আজই পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

বি. দ্র. – “হিওকা” এই নামটিই একটি বড় রহস্য।

All Fiction 1- Durarara review

লাইট নভেল রিভিউ –

ডুরারারা / Durarara!!

লেখক : নারিটা রিয়োগো / Ryohgo Narita

জানরা : অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, মিস্টেরি, রোমান্স

ভলিউম : ১৩

সময়কাল : এপ্রিল ১০, ২০০৪ – জানুয়ারি ১১, ২০১৪

স্ট্যাটাস : কমপ্লিটেড

কাহিনীসূত্র :

ডুরারারার পটভূমি টোকিওর ইকেবুকুরো শহরে । ইকেবুকুরো, যেখানে জীবন কোন বিরাম জানেনা, ঘরে-বাহিরে, সড়কে-দপ্তরে, সবখানেই প্রানের জোয়ার বয়ে যায়।

ব্যস্ত এই শহরে রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্থান… বাতাসে নানারকম গুজবের ছড়াছড়ি, মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বিপদের গন্ধ। রয়েছে বিভিন্ন গুন্ডাবাহিনী, তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব… কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় এক শহুরে কিংবদন্তি। এই কিংবদন্তি এক মুণ্ডুবিহীন মোটরবাইকচালকের, যার আপাদমস্তক কুচকুচে কালো রাইডার স্যুটে ঢাকা, এমনকি তার হেডলাইটবিহীন বাইকটিও কালো। এতটাই কালো যে তাতে কোন আলো প্রতিফলিত হয়না।

কাহিনীর শুরু রিউগামিনে মিকাদোকে দিয়ে, যে তার বাল্যবন্ধু কিদা মাসাওমির আমন্ত্রণে ইকেবুকুরোতে আসে, হাইস্কুলে পড়ার জন্য। এবং ধীরে ধীরে সে মিশে যায় ইকেবুকুরোর ব্যস্ত নগরজীবনে, এর অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন ঘটনাক্রমে সে পরিচিত হয় ডুরারারার ক্যারেক্টারদের সাথে।

প্রথমদিকে স্কুললাইফ বেসড মনে হলেও দ্রুতই নভেলটি অ্যাকশন-সাইকোলজিক্যাল-সুপারন্যাচারাল-রোমান্স জানরায় পদার্পণ করে এবং অসাধারণ একটি নভেলে রুপ নেয়।

ক্যারেক্টার :

প্রধান ক্যারেক্টারদের মধ্যে রিউগামিনে মিকাদো, সোনোহারা আনরি, কিদা মাসাওমি, ওরিহারা ইযায়া, হেইওয়াজিমা শিজুও, সেলটি স্টারলুসন, শিনরা কিশিতানি, কাদোতা কিয়োহেই অন্যতম।

ডুরারারার ক্যারেক্টারদের প্রত্যেকেরই রয়েছে মৌলিক কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তাদের বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রাণবন্ত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই জমে উঠেছে ডুরারারার কাহিনী । ইকেবুকুরোর ব্যস্ত জীবনে তাদের কর্মচাঞ্চল্য, ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ডগুলো শেষ পর্যন্ত একসুত্রে গেঁথে যায়, যা নভেলের কাহিনীকে নিয়ে যায় এক অনন্য মাত্রায়।

ডুরারারার প্রথম ৩ ভলিউম মূলত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই । ভলিউম ৪ থেকে আরও বৈচিত্র্যময় নতুন ক্যারেক্টারদের আবির্ভাব ঘটে, আগের ক্যারেক্টারদেরও দারুণ ডেভেলপমেন্ট হয়।

নিজস্ব মতামত :

আর্ট ভালো নয়, ক্যারেক্টার ডিজাইন মোটামোটি। তবে নভেলে আর্টের তেমন একটা প্রভাব নেই। নারিটা সেন্সেইর কাহিনী বর্ণনায় অসাধারণ দক্ষতার কারনে প্রতিটি ভলিউমই একেবারে শেষ পর্যন্ত না পড়ে পারা যায়না। তবে যাদের বই পড়ে অভ্যাস নেই, তারা বিরক্ত বোধ করতে পারেন। কারণ কাহিনীর প্রতিটি অংশ কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত নেই, এক অংশের কাহিনী একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার পর অন্য একটি অংশের কাহিনী শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত না পড়লে প্রতিটি কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, ঘটনাগুলোর সমাপ্তি জানতে পারবেন না। পড়তে শুরু করলে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলবেন, না শেষ করে উঠতে পারবেননা,

এমনটাই মনোমুগ্ধকর ডুরারারার কাহিনীবিন্যাস।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, সুপারন্যাচারাল ক্যারেক্টারদের সাধারণ জীবনযাপন, নিখাদ অ্যাকশন, সাধারণ ক্যারেক্টারদের অসাধারণ কর্মকাণ্ড, কোন অংশেই কম নয় এমন একটি নভেল ডুরারারা।

তাই আমি বলব, দ্রুতই পড়া শুরু করুন। পড়লে পস্তাবেন না, অন্তত এটুকু আশ্বাস দিতে পারি।

কাহিনিসুত্র : ১০

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট : ৯.৭

আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন : ৭.৫

সর্বমোট : ৯.৫/১০

মাইএনিমেলিস্ট রেটিং : ৮.৬৭