Violet Evergarden [রিভিউ] — Loknath Dhar

I want to know what ‘I love you’ means.
– Violet Evergarden.
 
মানুষ – অদ্ভুত, জটিল একটা প্রাণী। সহজ, সরল আবেগগুলোকে কি জটিল করেই না উপস্থাপন করে! মাঝে মাঝে মনে হয়, সকল অসুন্দর আর সুন্দর -এর জন্ম এই সহজ আর জটিলতার মাঝে। আমার মনে পড়লো, একদিন ছোটভাইয়ের সাথে আমার রেগে যাওয়ার কথা, কোন একটা কারণে রেগে গিয়ে ফোনে বললাম, আবারও ফোন করলে তোর খবর আছে। রাতে আবিষ্কার করলাম, গাধাটায় সত্যি সত্যিই আর ফোন দেয় নি – ভয়ে হোক অথবা আমার কথা মেনে নিয়ে। অথচ আমি মানুষ, হয়তো ফোন দিয়ে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বললেই কপট রাগে আমি বলতাম, হইছে, পড়তে যা। ফোনটা রেখে হয়তো একটু হেসে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম নিজের পৃথিবীতে। মানুষের শব্দই সবকিছু না। শব্দের বাইরেও বলার মত বিশাল পৃথিবী থাকে। মানুষ সবকিছু বুঝে উঠতে পারেও না। যেমন আমি, আমি বুঝি না পৃথিবীর অনেককিছুই। এই বিশাল, না বোঝার পৃথিবীতে আমার একলা একলা লাগে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, গল্পগুলো দেখি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে, মাঝে মাঝে অসহ্য রোদ। ক্লান্ত বিকেলের পরে যে সন্ধ্যেগুলো বাতাস বয়ে নিয়ে আসে একটা ফিসফিসানি, একটু চোখ মেলে তাকানোর; তাতে সজোরে শ্বাস নিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করি, সমগ্র অস্তিত্বটাকে হাচড়ে পাঁচড়ে আঁকড়ে ধরে, বেঁচে থাকাটা আসলে কি? ঠিক যেমন, ভায়োলেটের যাত্রার মত, আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি?
 
 
অজস্র প্রশ্নে জর্জরিত পৃথিবীতে মানুষ সেই আদিকাল থেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের স্বত্তাকে অনুভব করার, বুঝে ওঠার; আমাদের অস্তিত্বের সাথেই, একেবারে পাশেই বসে থাকা প্রেম, এই ভালোবাসার অনুসন্ধান করে নি, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর হতেও পারে। হয়তো বুঝে, হয়তো না বুঝে তবু সন্ধান করেছে সবাইই। তবুও, শব্দ সবকিছু বলে না, কথার বাইরেই কথা থাকে, থাকে আস্ত একটা পৃথিবী, ভালোবাসি তো মোটে ভাষার একটা শব্দ, একটা অনুভূতিকে নির্দেশ করে কিন্তু এই অনুভূতিটা কি? এই ছোট্ট শব্দটার বিস্তৃতি কতটুকু? এই শব্দটার সত্যিকারের অর্থ কি? প্রিয় ভায়োলেটের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বিষণ্ণ, পরিচিত পৃথিবীতে ফিরে গিয়েছি অসাধারণ, অন্য পৃথিবী থেকে উঠে আসা সুরগুলোর সাথে, প্রিয় ভায়োলেট, তোমার উত্তর কি? একটা বিষণ্ণ কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর একটা হাসি!
 
হয়ত‌ো ওটাই ভালোবাসা?
ছোট্ট, বিষণ্ণ হাসি কত গল্প ধারণ করতে পারে, ভাবা আছে?
 
গল্পঃ বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি থেকে উঠে আসা গল্পের চরিত্র ভায়োলেট আবিষ্কার করে নতুন, একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবী যেখানে সে আক্ষরিক অর্থেই একা। যুদ্ধে ভায়োলেট ছিলো খুনে একটা অস্ত্রের প্রতীক, যে শুধু খুন করতেই জানে, অন্য কোন অনুভূতির সাথে সে পরিচিত নয়। সে যুদ্ধের পৃথিবীতে তার একটাই মানুষ ছিলো, মেজর গিলবার্ট, যার অর্ডারে সে করতে পারতো না এমনকিছু নেই। যুদ্ধে মেজর গিলবার্ট মারা যাবার ঠিক আগে ভায়োলেটকে অর্ডার দিয়ে যায় বাঁচতে এবং, এবং, অনুভূতির এই জটিল, অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেটকে উপহার দিয়ে যায় তিনটি শব্দ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি, ভায়োলেট?
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ খুঁজতেই শুরু হয় ভায়োলেটের গল্প, যুদ্ধের পর যুদ্ধাবশেষের উপর গড়ে ওঠা নতুন একটা পৃথিবীতে। শুরু হয় এক ভ্রমণ, ভালোবাসার অর্থ খোঁজা যার মূল লক্ষ্য। অটো মেমোরি ডল হিসেবে জীবন শুুরু করে সে, যার কাজ হলো প্রিয়জনকে চিঠি লেখা। চিঠি লেখার মাধ্যমে মানুষের এই অসহ্যকর, অসহনীয় জটিল অথচ সহজ আর সুন্দর অনুভূতিকে তুলে আনা। সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেট তিনটি শব্দের অর্থ কি খুঁজে পাবে?
 
অনুভূতিকে বুঝতে হলে ছুঁতে হয় অন্যকে, আঙুলের, হাতের স্পর্শে নয় – খেয়াল করতে হয় মানুষটাকে; শব্দের সাথে সাথে খেয়াল করতে হয় চোখ, গলার কম্পন, হেঁটে চলে যাবার ভঙ্গি। শুনতে হয় তার গল্প, নিজেকে খুলে দিতে হয় তার কাছে, তার চোখ দিয়ে দেখা পৃথিবীটাকে গড়ে নিতে হয় নিজের ভেতর, তার জীবনের চরিত্রগুলোকে বুঝতে হয় তার চোখ দিয়ে, নিজের অনুভূতির অনেকটা অংশ বরাদ্দ দিতে হয় সেই পৃথিবীটার কাছে। মানুষ এমনই জটিল, এমনই সুন্দর!
 
ভালোবাসা কি শুধুই একটা শব্দ? বেঁচে থাকার কারণ, এগিয়ে যাবার কারণ, সুখ, দুঃখ, ব্যথা, হাসি, কান্নার কারণ – কত রহস্য ধারণ করে একট শব্দ? শব্দটা আসলে কি?
 
ভায়োলেটের উত্তর খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে উত্তর খুঁজে পাক সেই সকল মানুষ, যারা এই সুন্দর শব্দটার কাছে এসে বসেছে, বুঝতে চেয়েছে তার গতিপ্রকৃতি। উত্তর হোক যার যার নিজের মত, যতটা সুন্দর মানুষ হয়।
 
অসাধারণ এনিমেশন, চমৎকার গল্প (একটু ধীরগতির), চমৎকার সাউন্ডট্র্যাক আর অজস্র ব্যথা আর কান্নায় মোড়ানো এবং প্রবল বৃষ্টির পর দিনশেষে মেঘের আড়াল হতে বেরিয়ে আসা মিষ্টি রোদের মতন ছোট্ট একটু হাসি – এটা হচ্ছে আনিমে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন।
 
সাজেশনঃ ভায়োলেট এভারগার্ডেনে অবর্ণনীয় একটা সৌন্দর্য আঁকা হইছে পুরোটা গল্প জুড়ে, যা বুঝতে হলে দেখতে হবে, বুঝিয়ে বলার কোন ভাষা নাই। আমার কাছে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন একটা ক্লাস। এস্থেটিক কিছু একটা।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : Violet Evergarden
  • Type : Series
  • Genre : Slice of life, Drama, Fantasy
  • Studio : Kyoto animation
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০
 
(বিঃদ্রঃ -০১: আনিমের ভেতর প্রিয় অনেক কথা আছে, অনেক দৃশ্যের ব্যক্তিগত গল্প আছে। বলতে গেলেই স্পয়লার হয়ে যাবে। সামলে রাখা পুরোটাই। দেখতে দেখতে উপলব্ধি হোক। উপলব্ধিতে ছুঁইতে পারলে পৃথিবী আরও সুন্দর হোক। এই আনিমের স্পয়লার দেয়া মারাত্মক অপরাধ। কারণ, অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড়ানো হোক নিজ থেকেই। চোখ জুড়ে কান্না আসুক, ঠোঁটে আসুক মিষ্টি একটু হাসি।
 
বিঃদ্রঃ -০২: কথাটা ইউটিউবের কমেন্ট থেকে পাওয়া; যারা আনিমেটা দেখেছেন, তারা কি উপলব্ধি করেছেন, শুরুর গানটা ভায়োলেটের, মেজর গিলবার্টের প্রতি?)

I Want to Eat Your Pancreas [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনি আর দুই কি তিনমাস বেঁচে থাকবেন এই পৃথিবীতে, আপনি তখন কী করবেন? ঘরে বসে থেকে অজস্র চিন্তায় সময় নষ্ট করবেন নাকি আরও চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন, ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বেন ক্ষুদ্র জীবনের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার কিছু ইচ্ছে পূরণ করতে? ওয়েল, আমার মত অনেকেই দ্বিতীয় অপশনটা খপ করে ধরে নিবে। কিন্তু ধরেবেঁধে নিয়ম দিলেই আপনার কেন সেই ইচ্ছেটা পূরণ করতে হবে? আপনি তো আগামীকালও মারা যেতে পারেন ঘর বসে থেকেই, কিছু জেনে বুঝে ওঠার আগেই। তাহলে প্রতিদিন যে চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন না, নিজের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার প্রতিটি অপশনে টিক দিচ্ছেন না, this was a life worth living কথাটা ভাবার আগেই যদি হারিয়ে ফেলেন সমস্ত অস্তিত্ব, তখন কেমন হবে? এখন, যদি উত্তর হয়, কারণ সাধারণ জীবনে আমাদের কিছু দায়িত্ব থাকে, সময় ও সুযোগ হয়ে উঠবে না অনেক ক্ষেত্রেই, দুইয়ে দুইয়ে চার হয় না, তাহলে বলুন, দুটি মৃত্যুর ভেতরে আসলে পার্থক্য কি খুব বেশি? জন্মিলে মরিতে হয় – এর চেয়ে সত্য যেমন নাই, তাহলে মৃত্যুটা নিশ্চয়তার জালে আটকা পড়ে গেছে অনেক আগেই; বেঁচে থাকার লিমিটটা জানা যদি হয়েও যায়, তবুও কেন তাকে আলাদা চোখে দেখতে হবে? আগামীকাল আপনি মারা যাবেন সম্ভাবনার সাথে এটা সত্য এই যে, একদিন না একদিন আপনি মারা যাবেনই; তাহলে দুই কি তিনমাস পরে যে মৃত্যুটাকে বরণ করতে যাচ্ছে, তার সাথে আপনার তো তেমন পার্থক্য নেই। তার জন্য মন খারাপ না করে, তাকে করুণার চোখে না দেখে বরং তার সাথে জীবনটাকে, নিজের সময়টাকে একটু মিলিয়ে নিজের স্বাভাবিক জীবনের মত তার জীবনকে স্বাভাবিক উপহার দিলে যে সৌন্দর্যের রচনা হয়, সে সৌন্দর্যের মতন সৌন্দর্য কমই আছে পৃথিবীতে, অনুভব করতে পারেন?
 
এমন অদ্ভুত নামের মুভিটাতে এই চিন্তার দেখা মিলেছে এবং মুভিটা সত্যিকার অর্থেই জানতে চেয়েছে, তার গল্পের মাঝে, আপনার কাছে, প্রিয় দর্শক, বেঁচে থাকাটা আপনার কাছে কি?
 
এবং মুভির উত্তরটা পেতে হলে আপনাকে নিজেরই দেখতে হবে।
 
 
প্যানক্রিয়াস নামের সাথে যদি পরিচয় না থাকে, অদ্ভুত নামটা দেখে ভাববেন না, হাতে তৈরি মিষ্টি, লোভনীয় কোনো খাবার, সাধারণ অর্থে প্যানক্রিয়া হইলো মানুষের দেহের পাচকতন্ত্রের একটা অঙ্গ, যা খাবার হজমে সহায়তা করে এবং মানুষকে তার দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে চালু রাখার জন্য শক্তি প্রদান করে (ডাক্তারদের হাই!)। ওয়েট ওয়েট, এইটা ক্যানিবালিজম নিয়ে কোনো মুভিও না, মুভিতে শুধু একটুখানি প্যানক্রিয়া খাওয়ার ইচ্ছেই প্রকাশ করছে কারণ জাপানিজ এক প্রবাদ বা বিশ্বাস অনুযায়ী, আপনার কোনো দেহের কোনো অংশে যদি কোনো সমস্যা থাকে এবং প্রিয়জনের সেই অংশটা যদি আপনি খান, তাহলে আপনার সেই বডি পার্টটা সুস্থ হয়ে যাবে।
 
সাকুরা, গল্পের মূল চরিত্র প্যানক্রিয়াটিক ডিজিজে ভুগছে এবং শ্রীঘ্রই সে মারা যাবে। তারই ক্লাসের নামহীন এক ক্লাসমেইট হাসপাতালে একদিন তার ডায়রি আবিষ্কার করে এবং ডায়রিতে চোখ বুলিয়ে সে জানতে পারে, কিছুদিন পরেই সাকুরা মারা যাচ্ছে। সাকুরার কাছে জানতে পারে, ক্লাসের একমাত্র সেই জানলো এই তথ্যটা এবং ক্লাসমেইট বি লাইক, হু কেয়ারস। চললাম।
 
জীবন তাদের কাছে কি, বেঁচে থাকাটা কি সেটাই গল্পে উঠে এসেছে একদম শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত।
আই মিন, মার্ভেল ইউনিভার্সের মত ক্রেডিটের শেষেও গল্প রাখা আছে। দেখিয়েন।
 
মুভিটা প্রেডিক্টেবল। মুভির ডিরেক্টরও জানতেন, তাই শুরুতেই তিনি স্পয়লার খাইয়ে দিয়েছেন, লেখা পড়ে সেটাও আপনি বুঝতে পারছেন সহজেই। এই ধরনের মুভিতে উঠে আসার কথা যে যে বিষয়গুলো – কমবেশি সবই উঠে এসেছে এবং আপনি যদি ভাবেন, প্রেডিক্টেবল মুভিটা দেখে লাভ কি – ওয়েল, প্রেডিক্টেবল, তবুও সুন্দর। অনেক সুন্দর! এক্সট্রোভার্ট আর ইন্ট্রোভার্ট দুই প্রোটাগনিস্ট জীবনকে কিভাবে নিচ্ছে, নিতে যাচ্ছে – দেখতে দেখতে মন খারাপ হয়তো হবে আবার ভালোও লাগবে ভীষণ। মানুষ হিসেবে আমরা অন্য মানুষের কাছে কি চাই? সুন্দর কিছু স্মৃতি? হ্যাঁ, আর বুকের গভীরে কোথাও লুকিয়ে থাকা ছোট্ট একটা ইচ্ছে, আমাকে একটু মনে রাখুক।
 
আপনি কেন বাঁচবেন জানেন? কারণ, আপনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি আপনার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে। আর এই স্মৃতিগুলো ইউনিক কারণ মানুষ হিসেবে আপনি নিজেই ইউনিক, আপনার মতন মানুষ পৃথিবীতে আর একটাও নাই, আপনার চোখ দিয়ে দেখা সেই মানুষগুলোর ছবি আর কারো চোখে দেখা নাই। তাই হয়তো মানুষ বাঁচে, তাই হয়তো বাঁচতে হয়। আনিমের কিছু শক্ত ভিত্তির ভেতর এই অনুভূতিটা অন্যতম একটা উপাদান এবং এই মুভিতেও এই ভাইভটা উঠে এসেছে শক্তভাবেই।
 
চমৎকার এনিমেশনের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে, নরম, আরামদায়ক অথচ ব্যথাতুর উপস্থাপনার প্রেডিক্টেবল এই মুভিটা দেখা শেষ করে একটু ব্যথাই লেগেছে – প্রিয় মানুষগুলো চলে গেলেও ব্যথা বুকে নিয়ে মুখে হাসি রেখে বেঁচে থাকা জীবনটা এত সুন্দর, এত সুন্দর! সেই সৌন্দর্যটা অনুভব করে নিতে হয় কিন্তু চোখে দেখা যায় না কেন? এত অদ্ভুত সৌন্দর্যের কোনো মানে হয়?
 
সাজেশনঃ আবারও বলছি, প্রেডিক্টেবল মুভি। কিন্তু দেখে আশা করি মনে হবে না, সময় নষ্ট করেছি।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : I want to eat your pancreas.
  • Type : Movie
  • Genre : Drama
  • Director : Shin’ichirō Ushijima
  • Studio : Studio VLON
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

আনিমের এই জগতে আমার পা রাখাই মাকাতো শিনকাই -এর হাত ধরে এবং অবশ্যই সেই আনিমের নাম ছিলোঃ Your name. এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো হয় নি, একের পর এক আনিমে দেখছি, মাকাতো শিনকাই-এর কাজগুলোকে আনিমে ইউনিভার্সের অভিজাত এলাকার সদস্য বলে দাবি করতে করতে তার মুভিগুলো দেখেছি। এবং তিনি আবারো ফিরে এলেন তার মুভি Weathering with You দিয়ে; এই রিভিউটি মাকাতো শিনকাই, মুভির ভালো এবং খারাপ এবং আমার কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা মিলিয়েই।
 
 
গল্পঃ হোদাকা ঘর পালানো ষোল বছরের একজন কিশোর যে টোকিওতে এসেছে অন্য এক জীবনের আশায়। জাপানের ব্যস্ততম শহর টোকিও তার কাছে বিভীষিকাময় লাগে কেননা টোকিও এবং এর বাইরের অঞ্চল যেন দুটো দুই পৃথিবী (উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা নতুন কোন মানুষের প্রথম ঢাকা দর্শনের অনুভূতির মতন); তবু টোকিওর পথে দিন পার করতে করতে তার পরিচয় হয় আঠারো বছরের হিনা নামের এক মেয়ের সাথে এবং সে আবিষ্কার করে, হিনা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঠিক একই সময়ে টোকিওতে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, টোকিওর ব্যবসায়িক অবস্থা পরিবেশের এই খারাপ অবস্থার জন্য নিম্নগামী। হোদাকা হিনাকে “সানশাইন গার্ল” হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে বলে যে টাকার বিনিময়ে মানুষের প্রয়োজন অনুসারে আবহাওয়া পরিবর্তন করে মানুষকে সাহায্য করবে।
 

স্পয়লার এলার্ট

(ইওর নেম দেখেছেন, ভালো লেগেছে এবং এটা দেখেন নি – এমন হলে স্পয়লার না পড়াই শ্রেয়)
 
মাকাতো শিনকাই ইজ ব্যাক উইথ হিজ সিগনেচার স্টাইল – স্টোরি টেলিং এবং আর্ট।
 
একটা বড় প্রবলেম বলি, ইওর নেইম খুব বড় একটা ঝড় তুলে দিয়েছিলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড; ওয়েদারিং উইথ ইউ স্ট্যান্ড এলোন আনিমে হিসেবে চমৎকার কিন্তু একই ডিরেক্টরের দুটো মুভির উপস্থাপনের এনভায়রনমেন্ট স্টাইলটা একই হওয়ায় রিভিউগুলোতে খুব ভুগতে পারে। কেননা, আমি মুভি দেখার সময় বারবারই ফিরে ফিরে ইওর নেইমের কথা মনে পড়ছিলো। এবং (গভীর স্পয়লার এলার্ট), ইওর নেইমকে মনে পড়তে বাধ্য করে ছাড়লোও।
 
ওয়েদারিং উইথ ইউ এর পৃথিবী আলাদা। অন্যরকম। ব্যস্ত টোকিও শহরের অলিগলি উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ -এর সাথে। শহরের সৌন্দর্যের পরিবর্তে শহরের স্বাভাবিক জীবনের ছুটে চলা সময়টা উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে যেটা ইওর নেইম থেকে একেবারেই আলাদা। মাঙ্গা ক্যাফে, শহরের কুৎসিত জায়গা, অসহ্যকর আবহাওয়া, অসম্ভব মনে হতে থাকা শহরের জীবনধারণ প্রক্রিয়া, মাফিয়া, ড্যাম কেয়ার মানুষজন – যেগুলো সাধারণ সৌন্দর্যের কথা বলে না, সেগুলোই উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে। তার অন্যান্য মুভির মত চকচকে, ঝকঝকে টোকিও শহরটা নেই, সাদামাটা একটা শহরে রঙিন দুটো প্রজাপতির মত কিশোর কিশোরীর একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠার গল্পটা হয়তো ইওর নেইমের অসাধারণ উপস্থাপনার কাছে মিইয়ে এসেছে বলে মনে হবে প্রচুর দর্শকের কাছেই। কিন্তু আমার কাছে এর আবেদন একেবারেই অন্যরকম, একেবারেই আলাদা! টোকিওর আনাচে কানাচে সারভাইভ করতে করতে যে প্রেম গড়ে ওঠে, রূপ নেয় পরিবারে অথবা যায় ঝরে; মাকাতো শিনকাই এবারে সেই পৃথিবীর প্রেমটাকেই তুলে এনেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ এর গল্পে, আরও বিশুদ্ধ রকম করে। যে প্রেমের ভেতর হয়তো অন্য কোন কিছুর স্থান নেই।
 
শিনকাই -এর মুভিগুলো দেখে আমার ভেতর একপ্রকার বিষণ্ণতা কাজ করে। আমার ভেতর একপ্রকার ব্যথাও করে। কারণ, শিনকাই তার প্রতিটি মুভিতে কেবল দূরত্ব তুলে ধরে। দুটো মানুষ যেন দুই পৃথিবীর, যারা একটু কাছে আসতে চায়, বসতে চায় মুখোমুখি, হয়তো বলতে চায় অগোছালো দু তিনটে কথা কিন্তু তাদের মাঝে কি বিশাল দূরত্ব! এই দূরত্ব কি করে পাড়ি দিয়ে কাছে এসে একবার বসা যাবে? আমার এ ভাবলে অদ্ভুত এক ব্যথা হয় যেন শিনকাই যে জীবনের কথা বলতে চায় তার দৃষ্টিকোণ থেকে, সে জীবনের অদৃশ্য দূরত্ব যেন ব্যক্তিগত জীবনে আমিও অনুভব করতে পারি, কোথাও কিছু একটা থাকার দরকার ছিলো। দ্য প্রমিজ ইন আওয়ার আরলি ডেইজ, ফাইভ সেন্টিমিটার পার সেকেন্ড, দ্যা গার্ডেন অব ওয়ার্ডস, ইওর নেইম এমনকি ওয়েদারিং উইথ ইউতেও এই দূরত্বের অনুভূতি টের পাওয়া যায়, দুটো মানুষের ভেতর কিন্তু ওয়েদারিং উইথ ইউতে এর গন্ধটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম।
 
তার অন্যান্য কাজের থেকে একটু আলাদা এই মুভিকে অনুভব করতে হলে হয়তো ভাবতে হতে পারে টোকিওর ছুটে চলা দিনগুলোর কথা, হয়তো ভাবতে হতে পারে আমাদেরই ঢাকা, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং আমারই মত সারভাইভ করতে থাকা এই শহরের অচেনা কোনো প্রেমিকা। একদিন দেখা হলে বলে দেওয়া যেতে পারে, the world has always been crazy, it’s no one’s fault that it’s like this. I’m sure that I’ll be alright, we’ll be alright here, in this world.
 
যে প্রেমের কথা শিনকাই বলে গেলো ওয়েদারিং উইথ ইউতে সেটা কান্নার রংয়ে আঁকা, ব্যথার মতন সুন্দর। যে প্রেম শুধু মানুষটাকে চায় এই ব্যস্ততম শহরে, ব্যান্ড রডউইম্পসের সাথে বরাবরের মতই জীবন্ত হয়ে ফিরে এসেছে, বলতে চেয়েছে অনুভূতিটার কথা, দর্শক হয়তো খুব গোপন করে একসময় লালন করেছিলো সেই অনুভূতি।
 
অবশ্যই মুভিতে প্লটহোল আছে, ফ্যান্টাসি জনরার উপাদান আছে, স্টোরি এডভান্স হওয়ার কিছু জায়গা দুর্বল মনে হয়েছে বেশ কিন্তু যে গল্প আমি শুনতে চেয়েছি, বুঝতে চেয়েছি সে গল্পটা আমাকে টান দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে সেসব জায়গা হতে। আমাকে বলতে চেয়েছে শিনকাই ইউনিভার্সের কথা, পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তার পৃথিবীর সাথে। আর মেজর স্পয়লারটা এখানেই, ইওর নেইমের তাকি আর মিতসুহার দেখা পাওয়া (মিতসুহার মত রূপবতী আর কেউ নাই।
 
মুভিটা শেষ করে আমি ভাবছি, অবশ্যই আরও দশজন দর্শকের মত করে ভাবছি, দুটো গল্পের পৃথিবী একই। দুটো গল্প না শুধু, যেমন দ্য গার্ডেন অব ওয়ার্ডসের ইউকিনোকেও দেখা গিয়েছিলো ইওর নেইমে, বলা যায় তিনটে গল্পের পৃথিবী একটাই। শিনকাই পৃথিবী, যে পৃথিবীতে শিনকাই বাস করেন, শিনকাই বেঁচে আছেন এবং শিনকাই এর সমাপ্তির সাথে সাথেই পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে। শিনকাই যেন বলতে চাইছেন, একই পৃথিবীতে সুখ দুঃখ হাসি কান্নার কথা, আমাদের ব্যক্তিগত পৃথিবী আলাদা এবং সবাই ঘুরেফিরে একে অন্যের সাথে কানেক্টেড। আমার মনে হলো, শিনকাই নিজেও চাচ্ছেন, তার চরিত্রগুলোর পৃথিবীতে, তার পৃথিবীতে তার নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। অবশ্য এসবই আমার ব্যক্তিগত ভাবনা কিন্তু আমার মনে হলো, একই পৃথিবীকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখ দিয়ে উপস্থাপন করতে চাইছেন তিনি, কারণ রিয়ালিটিতে আমাদের দেখার দৃষ্টিকোণ আলাদা। আপনি যে চোখে ঢাকাকে দেখেন, যে ভাবনায় ভাবেন, সেভাবে আমি অবশ্যই দেখি এবং ভাবি না এবং শিনকাই তার পৃথিবীকে চেনার জন্য তুলে ধরছেন ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখে। আমার মনে হয়, সামনেও তিনি একই কাজ করবেন এবং অন্য কারো চোখে তুলে ধরবেন শিনকাই-পৃথিবীকে কিন্তু তখনো মিতসুহা সবচেয়ে রূপবতী তরুণীই থাকবে আমার কাছে। আই লাভ মিতসুহা। মুভিতে ওকে দেখার পর পজ করে অনেকক্ষন দেখে নিয়েছিলাম মিতসুহাকে।
 
সাজেশনঃ ইওর নেইম থেকে ভালো হবে না খারাপ হবে ভাবা ছেড়ে দিয়ে উপভোগ করুন অন্যরকম টোকিওকে যদিও, ইয়ে মানে মিতসুহাই তখনো সেরা রূপবতী থাকবে, এটা না মানলে চলবে না।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime: Weathering with You
  • Type: Movie
  • Genre: Slice of life, romance, fantasy
  • Director: Makoto Shinkai
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Yahari Ore no Seishun Love Comedy wa Machigatteiru [রিভিউ] — Loknath Dhar

এত বড় নাম পড়তে পড়তে কাহিল; যদিও পরে ছোট করে আরেকটা নাম জানতে পারলাম, Oregairu. এমনিতে অত বড় জাপানিজ নামের অর্থ হচ্ছে My Youth Romantic Comedy Is Wrong, As I Expected. নাম শুনে যদিও রোমান্টিক জনরার টিপিক্যাল আরেকটা আনিমে হতে পারে বলে মনে হচ্ছে, হচ্ছিল; ওরেগাইরু তার এক্সপেক্টেশন ছাড়িয়ে গিয়েছে।
 
গল্পঃ হাচিম্যান হিকিগায়া একজন টুইস্টেড কিশোর যার কাছে অন্যান্য সাধারণ কিশোরের এই বয়সটার চিত্র, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। হাচিম্যানের কাছে তার আশেপাশের সমস্ত সম্পর্কই হাস্যকর, বলা চলে মিথ্যে প্রহসনের মত লাগে। স্কুলে তার কাউন্সেলর তার চিন্তা-ভাবনার সাথে পরিচিত হয় এবং তাকে জোর করে একটা ক্লাবে যোগ দেওয়ায় – সার্ভিস ক্লাব। সার্ভিস ক্লাবের কার্যক্রম হলো একটাই – অন্য শিক্ষার্থী অথবা ক্লাবকে সাহায্য প্রদান করা। সে যোগ দেবার পর সার্ভিস ক্লাবের মেম্বার একজন থেকে দুইজন হয়। প্রথম মেম্বার ছিলো ইউকিনো – মেধাবী, সুন্দরী ছাত্রী যার পার্সোনালিটি বরফ ঠান্ডা। সার্ভিস ক্লাবে যোগ দেবার পর থেকে তাদের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করতে করতে পুরো সিরিজটির গল্প এগিয়ে যায়।
 
ওয়েল, গল্পটা আসলে ঠিক এরকমই।
 
 
আনিমেটা মোটামুটি হিকিগায়ার দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা। আশেপাশের সম্পর্ক, সমাজ এবং এসবের প্রতি তার চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গির কথাই মোটামুটি মূল ছিলো পুরো সিরিজটিতে। সার্ভিস ক্লাবের প্রথম মেম্বার ইউকিনোও তার আশেপাশের সমাজ, সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা রাখে এবং সার্ভিস ক্লাবের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে তাদের ভাবনা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ক্যারেক্টার হিসেবে দুজনই বন্ধুহীন টাইপ কিন্তু হিকিগায়া নেগেটিভ দৃষ্টিকোণ লালন করে এবং তার সমাধান প্রায় সময়েই সেলফ ডেস্ট্রাক্ট টাইপের। এইরকম আচরণ বহু সময়েই ভুল উদাহরণের সৃষ্টি করে এবং তেমনটাই হয়েছে হিকিগায়ার জীবনে, স্কুলে মোটামুটি কেউই তাকে পছন্দ করে না। অন্যদিকে ইউকিনোর ঠান্ডা স্বভাবের সরাসরি কথা বলার অভ্যাসেও আঘাত পায় অনেকেই, সাথে যোগ হয়েছে পারফেক্ট স্টুডেন্ট হবার তকমা গায়ে লাগার দরুণ অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া হিংসা। এবং ক্লাবের তৃতীয় মেম্বার হিসেবে ইউই যোগ দেয় পরেই, স্বভাব ও পরিবেশের বিচারে এ দুজনের একেবারেই বিপরীত।
 
Oregairu এর সবচেয়ে দুর্দান্ত ফিচার হলো, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। শুধু লিড ক্যারেক্টারই নয়, গল্প এগোনোর সাথে সাথে সাপোর্টিং ক্যারেক্টারগুলোর ডেভেলপমেন্ট প্রচন্ড উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! আনিমের গল্প এগোনোর সাথে সাথে কোনো চরিত্রই পিছিয়ে পড়ে নি, বরং সমানতালে ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে ভারসাম্য বজায় রেখেছে প্রতিটা ক্যারেক্টারই – আমার কাছে প্রচন্ড উপভোগ্য ছিলো ওরেগাইরু!
 
টিপিক্যাল আনিমের মতন না, পুরোটা সিরিজ জুড়েই আলাদা একটা ভাইভ দিয়েছে ওরেগাইরু। মেইন ক্যারেক্টার হিকিগায়ার পার্সোনালিটি, চিন্তা ভাবনা প্রকাশের ভঙ্গি এবং আশেপাশের সম্পর্কগুলোর দিকে তার এপ্রোচ – উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! কমেডি হিসেবেও আনিমেটা চমৎকার, জোর করে সিচুয়েশন তৈরি করে হাসানো নয় বরং সাধারণ জীবন মেইন্টেইন করতে করতে গল্পের প্রয়োজনেই মোমেন্টগুলো তৈরি হয় এবং সেই মোমেন্টে তুলে ধরা ইমোশনাল অথবা কমেডি অথবা ভাবনার উপস্থাপনা – আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে!
 
ওরেগাইরুর একটা উল্লেখ্য বিষয় হলো, বেশিরভাগ আনিমেতে নিজের ভাবনা, এক্সপ্রেশন গোপন রেখে তার গল্প এগিয়ে যায়, ভেতরকার মনোলগগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিরক্ত লাগে, অনেক ক্ষেত্রে খাপছাড়া আর অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। ওরেগাইরু ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের অগ্রগতির কারণেই নাকি এর প্রতি আমার দৃষ্টিকোণ শুরু থেকেই আলাদা হবার কারণে নাকি সত্যিকার অর্থেই – ইনার মনোলগগুলো বিরক্তিকর মনে হয় নি একটুও এবং কিছুক্ষেত্রে নিজের চিন্তাভাবনাকে লুকিয়ে রাখা বেড়ে ওঠা একজন কিশোরের স্বাভাবিক কাজ বলেই মনে হয়েছে যার জন্য আনিমের আবেদনটা আমার কাছে বেড়ে গিয়েছে আরও!
 
আনিমের আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন ভালো এবং উপভোগ্য। একইসাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।
 
মোটামুটি বলা চলে, আনিমের নাম অনুযায়ী এটা টিপিক্যাল রমকম আনিমে তো নয়ই বরং কাহিনী এগোবার ভঙ্গি অনুযায়ী রোমান্স আনিমের ছোট্ট একটা পার্ট বলে মনে হয়েছে শুরুর দিকে, যদিও পরে সেদিকেই এগিয়ে গিয়েছে গল্পটা। এবং অবশ্যই, গল্পটা সেদিকে এগিয়ে গেলেও প্রচন্ড উপভোগ্য এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ক্রমাগত হয়ে যাবার জন্য।
 
সাজেশনঃ মাস্ট ওয়াচ।
দুই সিজন+দুই OVA+তৃতীয় সিজন আসছে এই ২০২০ -এই।
(খুব সম্ভত তৃতীয় সিজনই ফাইনাল সিজন)
 
সংক্ষেপেঃ
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

The Garden of Words [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

বৃষ্টির দিনে মরে যাই যাই অনুভূতি হয় একটা। হরমোনগুলোর নিঃসরণ হয়তো একটু বেশিই হয়। মনে হয় কারো গন্ধ চাই আবার মনে হয়, না, এভাবেই তো ঠিক আছে। বারান্দায় জল জমে বৃষ্টির, ভেজা গ্রিলে হাত রাখলে শিরশির করে গোটা দেহ, মনে হয়, এভাবেই বেঁচে থাকাটাও খুব সুন্দর। একা একা। ভেতর থেকে বহুকিছু ধীরে ধীরে চলে গেছে, একলা সুন্দর একটা স্বপ্নের ইচ্ছেয় দিনগুলো পার করতে থাকার অনুভূতিটাও সুন্দর। খুব সুন্দর।
 
আমি প্রায় সকল কিছুর ভেতরেই সৌন্দর্য খুঁজতে থাকি। সৌন্দর্যের তৃষ্ণা চোখে, বুকে, ঠোঁটে, মুখে।
 
আমার একটা ব্যক্তিগত ব্লগ আছে। নাম Garden of words; একটা প্রিয়, খুব প্রিয় আনিমের নামে নাম। আনিমের নামটাই, The Garden of Words. শব্দদের বাগান। এছাড়া আর কি! যে বাগান শব্দ দিয়ে তৈরি। আসলেই তাই। কিন্তু এই কথাটাই ভাবতে বসলে বুকের ভেতর আমার ভীষণ আলোড়ন তোলে। ভীষণ! শব্দদের বাগান! ব্লগটা আমার নিজস্ব একটা বাগান, যার ফুলগুলো শব্দ//অক্ষর দিয়ে ঘেরা, এরা মাঝে মাঝে ফোটে। যত দিন যায়, এদের রূপগুলো কমতে থাকে বলে মনে হয়, বারান্দায় ফিরে যাই, সিগারেট ধরিয়ে বৃষ্টির জলকে আহবান করতে থাকি আরও, আরও, আরও অনেকক্ষণ পড়ার। মন খারাপ না, তবু মন খারাপ করতে ইচ্ছে করছে। ভীষণ মন খারাপ ডুবিয়ে দেয়া যেত গোটা শহর!
 
 
গল্পঃ আনিমের গল্প নিয়ে কথা বলি বরং। বৃষ্টি ভালোবাসেন আমার মতো?
 
অবশ্য আমি বৃষ্টি ভালোবাসি একটু একটু।
এই মুভির পুরোটা জুড়ে কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি।

১৫ বছর বয়সী একজন ছেলে, Takao (বাংলায় অদ্ভুত দেখতে লাগে নাম), একজন স্কুলছাত্র, যার ধ্যান-জ্ঞান হাতে জুতো ডিজাইন করা ও বানানো। বৃষ্টির দিন হলেই তার নিজের সাথে নিজের কথা দেওয়া আছে, স্কুল মিস সেদিন। এমনিতে সরগরম থাকা সিনজুকু ন্যাশনাল গার্ডেন সেদিন থাকে চুপচাপ, সে নিজের মত নিজের কাজে মনোযোগ দিতে পারে। তার এই কাজ তার ভালো লাগে।

এবং ২৭ বছর বয়সী একজন নারী, ইউকিনো, তাকে একদিন আবিষ্কার করে ন্যাশনাল গার্ডেনে; কেউ কাউকে চেনে না, শুধু যাবার আগে একটু ধাঁধা হয়ঃ

 
A faint clap of thunder
Clouded skies,
Perhaps rain comes,
If so, will you stay.. with me
 
এ এক খেয়ালী প্রশ্ন যেন। এক প্রাচীন জাপানিজ কবিতা।
চাই এর খেয়ালী সঠিক উত্তর।
এর উত্তর কি দেওয়া হবে?

সেখান হতে গল্পের পথ চলা আপন ভঙ্গিতে..

 
***Spoiler Alert***
 
এটা হয়তো রিভিউ, আবার রিভিউ না। আমার মত করে বলা একটা গল্প।
 
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি; আবার ভারী ভারী। এমন সময়ে মনে হয়, বোধহয় অন্য কোন পৃথিবীতে বেঁচে আছি। সময়টা থমকে আছে, থমকে আছে – বৃষ্টিরা আছড়ে পড়ছে ধীর থেকে ধীরে – ইউকিনো কোনো স্টেশন থেকে নেমে এগোচ্ছে কি না পার্কের দিকে, দেখার জন্য বাইরের জমে থাকা জলে পা বাড়াতে ইচ্ছে করে।
 
আমি বের হলাম। সেকেন্ডের কাটাটাও আছড়ে পড়ছে ধীরে, যেমনটা ধীরে আছড়ে পড়ছে প্রতিটা জল। আমার মনে পড়লো, এই মুভিটার একটা বিশেষত্ব আছে। এতে মাকাতো শিনকাই ক্যারেক্টারগুলোর ভাবনা বোঝার কোন উপায় রাখেন নি। ক্যারেক্টারগুলোর থটস বোঝার জন্য অনেকসময় ভেতরকার মনোলগ ব্যবহার করে ভাবনার দৃষ্টিকোণটা বুঝতে সাহায্য করে। মুভিতে এরকমটা নেই, যার রিপ্রেজেন্টশনটা হয় অনেকটা রিয়ালিটির মতন। আমরা শুধু আমাদেরটাই ভাবতে পারি, আমরা ভাবতে পারি না আমাদের সামনের মানুষটার ভাবনা। পুরো মুভিতে একটা রহস্য রহস্য ভাবনা, পা বাড়াতেই বিচলিত হয়ে উঠলো আমার মন, ইউকিনো কি ভেবেছিলো? কি ভেবেছিলো তাকাও? আজ বৃষ্টিতে তাকাও আর ইউকিনো পার্কে আসবে?
 
মন খারাপ হয়ে গেলো। অসম্পূর্ণ গল্পের সম্পূর্ণটা জানতে আমার ভীষণ পোড়ায়। চিরাচরিত, সাধারণ অনুভূতির চেয়ে আলাদা একটা প্রেম, সে কি করে এগোবে, আদৌ আগাবে কি না, জানতে ইচ্ছে করে। কেউ এক টানে নিয়ে বসিয়ে দিলো তাকাও এর সিটে – টের পেলাম, আমার বুক ছিঁড়ে আসে কারো মুখ দেখার। হয়তো বাস্তবের আমির মত।
 
আমি প্রতিটা দৃশ্য ধরে ধরে এগোতে থাকি।
 
আমার মনে পড়লো, মুভিতে কথোপকথন অনেক কম। মৃদু হাসলাম। যেখানে প্রতিটা ফ্রেম নিজেই এক একটা গল্প, সেখানে আলাদা করে কথোপকথনের কি দরকার আছে? দুজন পাশাপাশি চুপচাপ বসে থাকায় যে দুই পৃথিবীর দূরত্ব তুলে ধরে, কোন কথোপকথনটা সেখানে ঠিক মানাবে?
 
বৃষ্টি কি ভেতরের কান্নার কথা বলে? নাকি, বৃষ্টির পর প্রকৃতির নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতন, আবারও বেঁচে ওঠার মতন, তাদের আবারও নতুন করে হাঁটতে থাকার কথা বলে? আমি ভাবি, জীবনটা তো এইটুকু, স্বাদ শেষ হবার আগেই মনে হয়, জীবন শেষ হয়ে গেলো মনে হয় আমার এখনই, এই যে না বলা রহস্যটুকু, নিংড়ে পুরো পরিবেশটাকে দুচোখের ভেতরটাকে আটকে রেখেও তৃপ্তি না পাওয়া গল্পটা এরকমই থেকে যাবে?

Penguin Highway (মুভি রিভিউ) — Loknath Dhar

পেঙ্গুইন হাইওয়ের গল্পটা সাদামাটা রঙের সুন্দর। আইওমা ফোর্থ গ্রেডের একজন ছাত্র যার প্রিয় কাজ হচ্ছে – শেখা, জানা এবং রিসার্চ করা। অসংখ্য ভাবনায় ডুবে থেকে একটা একটা করে আমাদের পৃথিবীটাকে চিনতে শেখা। আর দশটা বাচ্চা থেকে সে আলাদা কারণ সে জানে, সে স্মার্ট এবং সে আরও স্মার্ট হতে চায়। মানুষকে স্মার্ট করে তার জ্ঞান এবং তার জানার আগ্রহ। আইওয়ামার ক্রাশ তার ডেন্টিস্ট লেডি যে তাকে দাবা খেলা শিখায়, তার দাবা খেলার পার্টনার। এবং অনেক মেয়ে তাকে বিয়ে করতে চাইবে কিন্তু এটা একটা স্যাড সিচুয়েশন যে সে তাদের কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারণ তার মনে একজনই, ডেন্টিস্ট লেডি। একদিন আইওয়ামা স্কুলে যাবার পথে রাস্তার পাশের একটা মাঠে একদল পেঙ্গুইন দেখতে পায়। পেঙ্গুইনরা সাধারণত থাকে এন্টার্কটিকায় এবং এছাড়া এদের একমাত্র দেখা যায় চিড়িয়াখানায় – এটাই সে জানতো। তাহলে, এই পেঙ্গুইনরা কোথা থেকে এলো?
 
এই রহস্য উদঘাটনে সে নামে এবং তার সাথে যোগ দেয় তার বন্ধু উচিদা এবং অবশ্যই ডেন্টিস্ট লেডি।
 
মুভিটা নিয়ে আমি খুব বেশি নাড়াচাড়া দেখি নি। আন্ডাররেটেড? জানি না। তবে মুভিটা সত্যিই চমৎকার লেগেছে, অন্তত আমার কাছে। মুভির গল্পের ফ্লো সমান্তরালে গেছে। মেইন ক্যারেক্টারের শান্ত স্বভাব আমি বেশ উপভোগ করি বলে আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। ম্যাচিউর হলেও দশ থেকে বারো বছরের বাচ্চা যতটুকু ম্যাচিউর হতে পারে, এর বেশি আমার কাছে মনে হয় নি। চমৎকার!
 
আনিমের একটা বড় ব্যাপার হলো, গল্প এবং তথ্য। এগুলো আনিমেকে আরও উপভোগ্য এবং ম্যাচিউর করে তোলে। ব্যতিক্রম নেই এটাতেও। সাই-ফাই গল্প হিসেবে মোটেও খারাপ না এবং যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ফ্লো চলে যাওয়া (উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পেঙ্গুইনের স্বভাব) – উপভোগ্য।
 
এনিমেশন, ভিজুয়াল, আর্ট স্টাইল চমৎকার ছিলো! সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ধুমধাম (যেগুলোকে ফ্লাশি ইফেক্ট বলে আরকি) ইফেক্টের বদলে এনিমেশনটা ডিটেইলে যত্ন করে বানানো হয়েছে, যেটা খুবই খুবই উপভোগ্য এবং এটা মুভিটাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে!
 
সাজেশন ক্যাটাগরিঃ আরামদায়ক দুটো ঘন্টা চলে যাবে আশা করি।
 
সংক্ষেপেঃ
 
  • Anime : Penguin Highway
  • Type : Movie
  • Genre : Fantasy, Sci Fi
  • Script : Makoto Ueda
  • Novel : Tomiko Morimi
  • Director : Hiroyasu Ishida
  • Studio : Studio Colorido
 
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Steins;Gate (Series) [রিভিউ] — Loknath Dhar

 
 
TuTuru!
 
একবসায় পুরোটা শেষ করা শেষ আনিমে ছিলো The promised Neverland; প্রায় দুই মাস আগে। এরপর এক বসায় পুরো একদিন উড়িয়ে দিয়ে গতকাল শেষ করলাম, Stein’s Gate. এতদিন না রেখে ফেলে রাখছিলাম কারণ অনেক রিভিউ আর রিকমেন্ডশন পড়ে বুঝেছিলাম, ভালো একটা আনিমে। আর ভালো কিছু দেখে ফেললেই শেষ। সব ভালো শেষ হয়ে গেলে পরে সমস্যা বাধে, নিজেকে উপহার দেয়ার মত কিছু আর থাকে না।
 
কাহিনীসংক্ষেপঃ রিনতারো ওকাবে একজন বিজ্ঞানী এবং তিনি যেমন তেমন বিজ্ঞানী নন। তিনি হইলেন একজন পাগলা বিজ্ঞানী, ম্যাড সায়েন্টিস্ট যে নিজেরে পরিচয় দেয় হোইয়িন কিয়োমা হিসেবে। এই পাগলা বিজ্ঞানী তার ‘ফিউচার গ্যাজেটস ল্যাব’ নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করে গ্যাজেট নিয়ে। একদিন আকিয়াবারা রেডিও সেন্টারে এক লেকচারে যোগ দিতে গিয়ে এক প্রমিজিং সায়েন্টিস্ট এর মুখোমুখি হয় এবং কিছুক্ষণ পরেই চিৎকার শুনে গিয়ে তার খুনকৃত লাশ আবিষ্কার করে। সন্ত্রস্ত পাগলা বিজ্ঞানী নিচে নেমে এসে তার গ্যাজেটে নোট ডাউন করতে গিয়ে দেখে সে আবার কিছুসময় পেছনে ফিরে গিয়েছে এবং গল্প শুুরু। টাইম ট্রাভেল, আরও সুন্দর করে বলতে গেলে টাইম লিপ নিয়ে দুই সিজন+OVA+এক মুভি নিয়ে চমৎকার এক আনিমে সিরিজ স্টাইনস গেইট।
 
বলতে গেলে, আমার পছন্দের আনিমের ভেতরে অন্যতম বেঞ্চে সিট নিয়ে বসে গেছে।
 
আনিমেটা মূলত ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরির উপর ভিত্তি করে দাঁড়ানো। ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সবাই টাইম ট্রাভেল নিয়ে জানি। ওয়েল, টাইম ট্রাভেলের গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্সের সলুশন হিসেবে ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি কাজ করে। গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স মোটামুটি এইরকম, ধরেন, আপনি টাইম মেশিন আবিষ্কার করলেন। টাইম মেশিন দিয়ে অতীতে গিয়ে আপনার দাদারে খুন করলেন। আপনার দাদা খুন হলে আপনার বাবা থাকলো না, বাবা না থাকলে আপনি আসতেন না। তাইলে আপনি না থাকলে আপনার দাদারে খুন করলেন কেমনে শুরুতে? দাদাও তো খুন হইলো না। এইটারে বলে গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স। এইটার সলুশন বা বলতে পারেন এইটার আরেকটা চিন্তা হইতেছে ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি। মানে আপনি আপনার দাদারে খুন করলেন এবং আপনিও এক্সিস্ট করতে থাকলেন। আপনি আপনার দাদারে যে খুন করছেন তিনি একচুয়ালি আপনার দাদা না, অন্য ওয়ার্ল্ড লাইনের একজন মানুষ তিনি। যেহেতু আপনি আপনার দাদারে খুন করেন নাই, আপনিও এক্সিস্ট করতেছেন। এই চিন্তায় অনেকগুলো ওয়ার্ল্ড লাইন একসাথে এক্সিস্ট করে এবং সেখানে নানান ধরনের পসিবিলিটি থাকে। সাধারণ চিন্তায় এতটুকু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি (এবং আনিমে দেখতে গিয়ে এই নিয়ে শাখা প্রশাখা পড়তে গিয়ে মাথা ব্যথা করে ফেলছি। প্লিজ, আমারে জ্ঞানী ভাবেন, যদিও বুঝি নাই কিছুই  ) । এবং এই থিওরির উপর বেইজ করে স্টাইনস গেইটের গল্প এগিয়ে গেছে
 
“No one knows what the future holds. That’s why its potential is infinite.”
Okabe Rintarou.
 
যেহেতু স্টাইন্স-গেট সাইফাই জনরার টাইমের উপর ভিত্তি করে বেড়ে ওঠা একটা আনিমে, এই ধরনের পৃথিবী বানানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কিছু বেসিক রুলস ঠিক করে নেয়া, কি করা যাবে এবং কি করা যাবে না -এর উপর কারণ স্টোরি যেহেতু কখনোই পিওর সায়েন্স না, স্টোরির তুলে ধরা প্রশ্নগুলো যেন সেই রুলসের ভেতর থেকেই উত্তরগুলো ফিরে পাওয়া যায়। আর স্টাইন্স গেইট এইখানেই অসাধারণত্বের পরিচয় দিয়েছে। হালকা স্পয়লার হচ্ছে যেমন, ঠিক কতটুকু সময় পর্যন্ত সে যেতে পারবে, ফুয়েল, লিপ করার বেসিক কিছু রুলস ইত্যাদি। বড় স্পয়লারটা আনিমে দেখার সময় দেখবেন বা বুঝে নেবেন, ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়ের মুখরোচক একটা স্বাদ আছে, যার উদাহরণ হিসেবে একটা মুভির কথা বলতে পারি, Predestination.
 
স্টাইন্স গেইট দেখার সময় প্রথমেই, একদম প্রথম পর্ব থেকেই বিরক্তি অথবা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না, এমন অনুভূতি অনেক দর্শকের ক্ষেত্রেই আসতে পারে। কারণ ওই পাগলা বিজ্ঞানী। কিন্তু ধৈর্য্যের ফল সবসময়েই (পড়ুন কিছুসময়েই) অত্যন্ত মিষ্টি হয়, এটাকে মন্ত্র করে নিয়ে সাত আট পর্ব পর্যন্ত আটকে থাকতে পারলে আপনি একের পর এক টুইস্ট, চিন্তা ভাবনার মত মুখরোচক উপাদান যে পাবেন, ঘুমাতে ঘুমাতে আপনি মাথায় অঙ্ক কষতে থাকবে দুই দুই চার – এটা বলার মত কনফিডেন্স আমি রাখি।
 
এবং স্টাইন্স গেট জিরোতে (দ্বিতীয় সিজন বলা চলে?) একদম শেষ পর্বের একদম শেষ মূহুর্তের মোমেন্টটা আনিমের দুর্দান্ত মোমেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম একটা মোমেন্ট বলে আমি দাবি করি।
 
এখন আসি দেখার ক্ষেত্রে। কিভাবে দেখবেন?
 
ওয়াচ ওর্ডার হিসেবে আপনি দেখতে পারেন অরিজিনাল স্টাইন্স গেট, তারপর মুভি। মুভির পর অল্টারনেটিভ এন্ডিং হিসেবে 23B দেখে স্টাইন্স গেট জিরো দেখতে পারেন। কিন্তু আমার দেখার অর্ডার ছিলো এরকমঃ
১. Steins;Gate (original) – 01 to 22 episode
২. Steins;Gate 23B (Missing Link/divide by zero)
৩. Steins;Gate 0 (Full season)
৪. Steins; Gate (original) – 23 to 25 episode
৫. Steins;Gate Movie
 
এবং স্টাইন্স গেটের ডাব ভার্সন আছে। আমি সাব রেকমেন্ড করি। তবে ডাব কম নয় কোন অংশেই।
 
সংক্ষেপেঃ
Anime: Steins;Gate
Type: Series
Genre:  Thriller, Sci Fi
Director: Tatsuya Matsubara
Studio: White Fox.
 
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০
 
হ্যাপি ওয়াচিং।

El Psy Congro.