MADE IN ABYSS [রিভিউ] — Zunaid Mashrafee

MADE IN ABYSS
লেখক: আকিহিতো সুকুশি
 
•> মাঙ্গা
প্রকাশকাল: ২০১২-চলমান।
ভলিউম:- ১১টি
প্রকাশিত: তাকেশোবো ম্যাগাজিন
 
•> এনিমে
প্রথম সিজন:
প্রচারকাল: ৭ জুলাই-১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
এপিসোড: ১৩ টি
স্টুডিও: কিনেমা সাইট্রাস
ডাইরেক্টর: মাসায়ুকি কজিমা
 
২০১৯ সালে মোট ২টি মুভি বের হয়। “Journey’s dawn” আর “Wandering twilight”. মুলত এই দুইটা মুভিতে প্রথম সিজনে যা দেখানো হয়েছে তা একসাথে কভার করা
হয়েছে। ২০২০ সালে আরেকটি মুভি বের হয়, “Dawn of the deep soul”.
•>সিজন ২: The golden city of the scorching sun
পর্বসংখ্যা:- ১২
সম্প্রচার: জুলাই ৬-সেপ্টেম্বর ২৮,২০২২।
****
এক বিশাল খাদের আবিষ্কার হয় হঠাৎ, যে খাদের শেষ গিয়ে ঠেকেছে পৃথিবীর তলায়। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একে চেনে, Abyss নামে। খাদটি কেবল বিশাল খালি গহ্বর না। এর ভেতরে রয়েছে আমাদের চেনা জগতের থেকে আলাদা আরেকটা জগৎ। রয়েছে জীববৈচিত্র্য, বিভিন্নরকম ভৌগোলিক পরিবেশ, আর বিচিত্র রকমের artifacts. এমন সব পদার্থ যার সন্ধান abyss এর বাইরের পৃথিবীতে কখনো পাওয়া যায় না ‌। কিন্তু সেখানে যাওয়াটা মোটেও সহজ না। পুরো abyss একটি অজানা শক্তির চাদরে আবৃত, যেটি curse of abyss নামেই পরিচিত। যে কেউই খাদে নামুক, উপরের দিকে আসতে গেলেই শারিরীক ভাবে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে, হতে পারে মৃত্যুও। যতো গভীরতা, ততোই অভিশপ্ত শক্তির প্রভাব বিদ্যমান সেই “abyss” এ।
 
পৃথিবীর বুকে রহস্যময় জায়গার শেষ নেই। এই জায়গাগুলো চিরকাল মানবজাতির জন্য কৌতুহলের খোরাক জুগিয়েছে‌। মানবসভ্যতার সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে দুর্গম অঞ্চলগুলো‌। মৃত্যুর হাতছানি যতোই থাকুক, বিচিত্র জগৎকে ছুঁতে পারার তাড়না কখনোই থামে নি। Abyss ও ব্যাতিক্রম না, abyss কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে “ওর্থ” শহর। গড়ে উঠেছে একদল অভিযাত্রী, যাদের কাজ abyss এর তলা থেকে বিভিন্ন ধরণের artifact সংগ্রহ।অভিশপ্ত শক্তির সাথে খাপ খাইয়ে গভীরে যেতে পারার সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে এই অভিযাত্রীদের দলকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়েছে‌। একেক দলের কাছে একেক রঙের বাশি দেয়া হয়, পদবীর প্রতীক হিসেবে। একেবারে নবীন যারা খাদের মুখে কাজ করে, তারা লাল বাশি, আর যারা একেবারে ভিতরে, ভয়াবহ প্রতিকুল পরিবেশে সংগ্রামে সক্ষম তারা পায় সাদা বাঁশি।
মাটির হাজারখানেক ফিট নিচে কাজ করা সহজ না অবশ্য‌ই, তাই abyss আবিষ্কারের পর খুউব কম white whistles এসেছে। এর‌ই মধ্যে একজন কিংবদন্তী white whistles লাইজা। যার মেয়ে রিকো ওর্থ শহরের‌ই বেলচেরো এতিমখানায় বড় হয়, এবং তাকেও abyss এর artifact সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করা হয়। “Red whistle” প্রাপ্ত রিকো যে কিনা একজন ব‌ইপড়ুয়া ও “Nerd”, হঠাৎ করেই একদিন বিদ্যুৎচালিত cyborg সদৃশ একটি artifact খুঁজে পায়। রিকো এর নাম দেয়, রেগ‌‌। এবং সেদিন থেকে তার বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তব হবার সম্ভাবনা দেখতে পায়। খাদের শেষ প্রান্তে যেখানে white whistles দের বসবাস, সেখানে সে যাবে, দেখা করবে, তার মা লাইজার সঙ্গে।qqখনির নিচের প্রতিকুল আবহাওয়া, ভয়ংকর প্রাণী জগৎ আর অভিশপ্ত শক্তির প্রভাব- সব উপেক্ষা করেই ছোট্ট রিকো সিদ্ধান্ত নেয়, তার অভিযান চলবেই! অদ্ভুতরকম সক্ষম রেই, তাকে প্রেরণা যোগায় এই অসম্ভব প্রতিকুল পরিবেশ জয় করার।
Made in abyss এনিমের সবচেয়ে বড় শক্তি এর অসম্ভব সুন্দর এবং detailed World building. আমার কাছে abyss এর সাথে রাশিয়ার kola super deep borehole এর সাযুজ্যটা চোখে পড়েছে ভীষণ। খাদের প্রতিটা স্তরে লেখক বিভিন্নরকম পরিবেশ আর জীবজগতের বিস্তারিত ক্ষেত্র তৈরি করেছেন।
পুরো এনিমেটাই খাদের প্রতিটা স্তরে রিকোর অভিযান, তার সম্মুখে থাকা পরিবেশগত challenge এবং সেগুলোকে উতরে আসার ছোটবড় গল্পে সাজানো। তবে এর‌ই সাথে বেলচেরোর এতিমখানায় রিকোর আপাত করুণ জীবন, abyss কে ঘিরে artifact ব্যবসা, অভিজাত white whistles দের জটিল মনোজগৎটা মাঙ্গাকা সুন্দরভাবে চিত্রায়ণ করেছেন। রিকোর প্রখর মেধা ও ইচ্ছাশক্তি আপনাকে যেমন নাড়া দিয়ে যাবে। রেগ একটি cyborg ধরণের কিছু। কিন্তু এর আচার আচরণ আর প্রকৃতি বেশ আশ্চর্যজনক। একটি ভালো গল্পে নায়কের পাশাপাশি খলচরিত্রের প্রয়োজন আছে। গল্পের antagonist বন্ড্রিউডকে সময়ের অন্যতম সেরা antagonist বললে ভুল হবে না হয়তো।
সব মিলিয়ে, আমি বলবো, এই এনিমে মিস করার মতো না। এই শীতকালে কম্বলের তলায় শুয়ে দেখে ফেলুন, “Made in abyss”.

Made in Abyss Movie 3: Dawn of the Deep Soul [শর্ট রিয়েকশন] — Shifat Mohiuddin

মেইড ইন অ্যাবিস বের হয়েছিল সেই তিন বছর আগে, ২০১৭ সালে। দেখেছিলাম সেই বছরেই, তিন বছর পরে যখন এই সিকুয়েল মুভিটা দেখতে বসলাম তখন দেখা গেল এনিমের ভেতরকার অনেক তথ্যই ভুলে বসে আছি।
তবে এতদিন পরে সিরিজটার সংস্পর্শে যাওয়ার পরেও বুঝতে সমস্যা হয় নি তেমন। মুভিটাতে ফিফথ লেয়ারে পৌছানোর পর রিকো আর তার গ্যাংয়ের ফিফথ লেয়ারের sovereign ব্নড্রেডের সাথে কাহিনী দেখানো হয়েছে, যে জিনিসটাকে সিরিজের শেষ পর্বগুলাতে দারুণভাবে বিল্ডআপ করা হয়েছিল।
তো তিন বছর অপেক্ষার পর এই বিল্ডআপ বৃথা যায় নি। মুভিটা সিরিজের নান্দনিকতাকে ধরে রাখতে পেরেছে পুরোপুরি। অ্যানিমেশন খুবই ভাল ছিল, সিরিজে প্রথম দিকের লেয়ারগুলায় তাদের অ্যাডভেঞ্চার দেখানোতে সবুজের অনেক অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু এই ফিফথ লেয়ার মারাত্মক কর্কশ একটা জায়গা, প্রাণের ছিটেফোঁটা সেখানে অল্পই আছে। তো পরিবেশ এভাবে বদলে যাওয়ার পরেও Kinema Citrus তাদের মুন্সিয়ানা ঠিকই দেখিয়েছে।
সাউন্ডট্র্যাক আগের মতই সেরা ছিল। কেভিন পেনকিনের জাদু আবার টের পাওয়া গেছে, শিল্ড হিরোতে জিনিসটা পাই নি তেমনভাবে। সিরিজের আগের ওএসটি Hanezeve কে আরো এপিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। আর যে মুহূর্তে ট্র্যাকটা বাজানো হয়েছে সেটার আর কথা আর নাই বললাম।
সবশেষে আসি কাহিনীতে। এখানে কিছু বললেই স্পয়লার হয়ে যাবে। তবে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি দর্শকরা সিরিজ দেখে যে অনুভূতিগুলার ছোঁয়া পেয়েছিলেন সেই অনুভূতিগুলো মুভিটাও আপনাদের সরবরাহ করবে। MIA এর ট্রেডমার্ক কাহিনীর হুট করে ডার্ক টার্ন নেয়াটা এখানে একেবারেই শুরু থেকে আছে। রিকো-রেগু-নানাচিদের সাথে আপনিও হাসবেন আর কাঁদবেন মুভি দেখার সময়।
১০ এ সলিড ৮.৫ দিলাম মুভিটাকে ব্যক্তিগত জায়গা থেকে। ৯ দিতাম যদি কাহিনীটা আরেকটু কম প্রেডিক্টেবল হতো।
দারুণ ব্যাপার হলো ১০৪ মিনিটের এত দারুণ একটা সিকুয়েলের পরেও সিরিজটার সাসপেন্স একটুও কমে নি। অ্যাবিসের রহস্য যেন শেষ হওয়ার নয়, মুভি শেষ হওয়ার পর আপনার মনে প্রশ্নের সংখ্যা না কমে বরং বাড়বে। এত এত রহস্য রেখে যায় বলেই সিরিজটার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করা স্বার্থক।