অ্যানিমে: NANA
জনরা: জোসেই, রোম্যান্স, কমেডি, মিউজিক, স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ৪৭
MyAnimeList র্যাংক: #৬৪
MyAnimeList রেটিং: ৮.৬/১০
ব্যাক্তিগত রেটিং: ৯/১০
আমরা যতো বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকি ততোই আমাদের হৃদয়ের বোঝা বেড়ে চলে। এই এক বাক্যেই NANA’র কাহিনীর সামান্য আঁচ পাওয়া যায়।
স্টোরি/প্লট:
“Hey, Nana! Remember the first time we met?”
NANA’র শুরুটা হয় এভাবেই, সুদূর ভবিষ্যতের কোনো একজনের স্মৃতিচারণার মাধ্যমে।
কাহিনীর প্রেক্ষাপট এক আধুনিক ও জমকালো টোকিয়ো শহরে। অ্যানিমের শুরুতেই দেখানো হয় ২০ বছর বয়সী এক প্রফুল্ল তরুণীকে, নাম নানা কোমাতসু, যে কিনা তার স্বপ্নের জীবন যাপন করার জন্য তার শহর ছেড়ে টোকিয়োর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
ট্রেন এ উঠার পর তার পরিচয় হয় গিটারবাহী এক মেয়ের সাথে। মেয়েটি গোথিক, নানা কোমাতসুর ব্যাক্তিত্ত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। তার নাম নানা ওসাকি। নিজের শহরের ”ব্ল্যাস্ট” নামক এক আন্ডারগ্রাউন্ড পাঙ্ক ব্যান্ড এর ভোকালিস্ট ছিলো সে। কোনো এক কারণে ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়, আর সেও টোকিয়োর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে প্রোফেশনাল মিউজিসিয়ান হওয়ার স্বপ্নটাকে ছোঁয়ার আশায়। ভাগ্যের পরিহাসে তাদের জীবন একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় এবং নতুন সব মোড় নেয়।
অ্যানিমেটি কাহিনী উপস্থাপনার দিক দিয়ে অত্যন্ত আকর্ষনীয়, এই উপস্থাপনা পুরো সিরিজের আবহাওয়াই বদলিয়ে দেয়! সিরিজটি জীবনের কিছু কাহিনী নিয়ে, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এবং দুইটি ব্যান্ড এর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বীতা নিয়ে। বিভিন্ন মানুষ ও তাদের মধ্যকার প্রেম-ভালবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে, যা ঠিক আমাদের জীবনের মতোই। হয়তো ভাবছেন, এ আর এমন কী, অসাধারন কিছু তো নয়! তাহলে এই অ্যানিমেটির এতো কদর কেন করছি? তার কারণ হলো অ্যানিমেটি বাস্তববাদি। চরিত্রগুলোর মতো একদম একই কাহিনী আপনার জীবনে না ঘটলেও আপনি টের পাবেন কিছু কিছু অনুভূতি আপনিও বাস্তব জীবনে অনুভব করেছেন কোনো না কোনো সময়, তা না হলেও, কমপক্ষে নিজেই অনুভব করতে পারবেন চরিত্রগুলো কীসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর দশটা রোম্যান্স অ্যানিমের মতো শুভ সমাপ্তি নয়, বরং এতে কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ দুই পিঠ-ই দেখানো হয়েছে।
আমার দেখা আর কোনো অ্যানিমেতেই এতো সুন্দর ও রিয়েলিস্টিক ভাবে এ ব্যাপারগুলো তুলে ধরা হয়নি যা এই অ্যানিমেতে করা হয়েছে।
ক্যারেক্টার ও আর্টঃ
NANA’র প্রত্যেকটি চরিত্রই গল্পের সাথে সম্পূর্ন মানানসই ভাবে তৈরি করা হয়েছে, প্রত্যেকটি চরিত্রই বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শান্তশিষ্ট,ম্যাচুয়র চরিত্র থেকে শুরু করে ঘৃণীত প্রায় সব রকমের চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে এতে। NANA’র আর্টস্টাইল খুব বেশি সুন্দর নয়, তবে তা গল্পের সিরিয়াস সেটিং ও চরিত্রগুলোর সাথে ভালোভাবে মিশে গিয়েছে।
মিউজিক:
যেহেতু NANA’র কাহিনী মিউজিক নিয়েই তাই মিউজিক সিরিজটির একটি বড় অংশ। ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডট্র্যাক গুলো গল্পের সাথে বেশ ভালোভাবে মিলে গিয়েছে। ওপেনিং ও এন্ডিং সং গুলোও খুব সুন্দর। ২ ব্যান্ড এর ভোকালিস্ট হিসেবে Anna Tsuchiya নানা’র এবং Olivia Lufkin আরেক ভোকালিস্ট রেইরা’র গানগুলো গেয়েছেন। এছাড়া পুরো অ্যানিমে জুড়েই বিভিন্ন পার্ফর্মেন্স তো রয়েছেই।
ওভারঅল:
সবমিলিয়ে NANA এমন একটি অ্যানিমে যাতে কমেডি, রোম্যান্স, ট্র্যাজেডি সবকিছুর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ঘটেছে। জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিদ্ধান্ত সামগ্রিক জীবনে কিভাবে প্রভাব ফেলে, কীভাবে জীবনের কাঁটা ঘুরে যায়, এসবই সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে চমৎকার এ সিরিজে। সিরিজটিতে কিছু ম্যাচিউর কন্টেন্ট আছে যা সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বলে রাখা ভালো,যারা নাটকীয়তা পছন্দ করেননা তাদের কাছে সিরিজটি এতো ভালো না-ও লাগতে পারে। কিন্তু তারপরও নিজে একবার চেখে দেখতে তো ক্ষতি নেই। কে জানে, হয়তো আপনার-ও এতোটাই ভালো লেগে যেতে পারে, যতোটা না আমার লেগেছে!


