পর্বঃ ১৩+১ ওভিএ
প্রচারকালঃ ২০০৮
জনড়াঃ সেইনেন, রহস্য, রোমাঞ্চ, অতিপ্রাকৃত
প্রোজযকঃ ম্যাডহাউস
এমএএল রেটিংঃ ৭.৪৭(#১৪৮০)
কানাকো ইউজুকি, হাইস্কুল কিশোরী, ট্রেনের সামনে ঝাপ দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করল। বাক্সাকৃতির এক রহস্যময় হাসপাতালে ড. মিমাসাকা কৌশিরোর চিকিৎসায় কোনমতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল সে।
ইয়োরিকো কুশুমোতো, কানাকোর বান্ধবী, এই ঘটনার একমাত্র সাক্ষী। তার মা জড়িয়ে আছে এক রহস্যময় ধর্মীয় দলের সাথে।
একে একে জাপানের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট বাক্সে পাওয়া যেতে শুরু করল কিশোরী মেয়েদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ…হাত-পা!
এদিকে আবার হাসপাতালের ঘরভর্তি মানুষের সামনে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল কানাকোর দেহ!
এই সবকিছুর যোগ সুত্র কোথায়, আদৌ কি আছে? জট পাকাতে শুরু করল কাহিনী…
আর এই মাথা ঘুড়ানো রহস্য সমাধানে একজোট হল এক এন্টিক-বইসংগ্রাহক, একজন ঔপন্যাসিক, একজন পুলিশ, একজন সাংবাদিক আর একজন গোয়েন্দা।
//কেন পছন্দ হবে –
মৌরিঔ নো হাকোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র কী? অবশ্যই এর কাহিনী। আমি নিজে “অ্যামেচার” ডিটেক্টিভ ফিকশনের বড়সড় ভক্ত। কিন্তু জটিলতম রহস্যগুলোর সমাধান যে যেকোনো রাম-সাম-যদুর দ্বারা সম্ভব না, অনেক বিষয়ে ঞান থাকা প্রয়োজন, তা এই অ্যানিমে বেশ ভালো ভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নাতসুহিকো কিয়োগোকুর ১৯৯৫ সালের উপন্যাস অবলম্বনে কাহিনী। আর তাই এর গভীরতা আর ধারাবাহিকতা দুটোই বলার মত।
তারপর আসছে পেসিং এর ব্যাপার। স্লো, কিন্তু কখনোই বোরিং না। প্রথম পাঁচ পর্বে বেশ ভালোভাবে পকেটে রাখা ইয়ারফোনের তারের মত কাহিনী প্যাঁচ লাগানো। তারপর খুবই ধীরে কিন্তু সাটলী একে একে তা খোলা।
মৌরিঔ নো হাকো হল সংলাপ নির্ভর অ্যানিমে। বিশেষ করে, কাহিনীর মাঝখানে দূটো পর্ব আছে, দুটো সম্পূর্ণ পর্ব, যেখানে শুধু তিনজন মানুষ একটা ঘরের মধ্যে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলে! এবং এর সংলাপ, প্রতিটি লাইন, আপনার চোখ নিচের সাবটাইটলের দিকে আটকে রাখার মত।
প্রতিটি চরিত্র মাত্র ১৩ পর্বে যে ভাবে ডেভেলপড হয়েছে তা খুব কম অ্যানিমেই দেখাতে পেরেছে। আর প্রতিটি চরিত্রই কাহিনীর সাথে কোন না কোনভাবে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। অ্যানিমের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। রহস্য অ্যানিমের ইনটেন্স পরিস্থিতি বজায় রাখায় যা ভালো অবদান রেখেছে।
মৌরিঔ নো হাকোর আরেকটি বলার মত দিক হল এর ভিসুয়ালাইজেশন, ডিটেইলিং। প্রতিটি চরিত্রের ফেস এক্সপ্রেশন বাস্তবধর্মী করার জন্য, অ্যানিমের আর্টওয়ার্ক, কিছু কিছু থ্রিডি দৃশ্যায়ন আর ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র জিনিসের ডিটেইলিং-এ যে বেশ ভালো সময় দেওয়া হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
//কেন নাও পছন্দ হতে পারে –
সংলাপ। অতি সংলাপ নির্ভরতা। যেটা আগেই বললাম, কাহিনীর মাঝখানে দূটো পর্ব আছে, দুটো সম্পূর্ণ পর্ব, যেখানে শুধু তিনজন মানুষ নিজেদের মধ্যে কথা বলে – এইটা অধিকাংশ মানুষেরই ভালো না লাগার কথা।
পেসিং। অল গান ব্লেজিং, স্টেরোয়েড দেওয়া শৌনেন অ্যানিমের একনিষ্ট ভক্ত হলে পছন্দ নাই হওয়ার কথা। এইটা এলএসডির মত, ধীর এবং স্বর্গীয়!
রেফারেন্স। সিম্বোলিজম। জাপানিজ ও চাইনিজ স্পিরিচুয়ালিটি আর বই সম্পর্কে বেশ বড়সড় কিছু লেকচার আছে। অধিকাংশ জিনিস প্রথমবার না বোঝাটাই স্বাভাবিক। তাই খুবই মনোযোগের দরকার হয় সংলাপ শোনার(পড়ার) সময়। আমার মাঝে মাঝে এক জিনিস দুইবার-তিনবার করে দেখতে হয়েছে। বেশ ভালোভাবেই মাথা খাটাতে হয়।
১৯৫৪ সালের কাহিনী, তাই মেইনস্ট্রিম মোয়ী জাপানিজ কালচারের কিছু পাবেন না।
গোর আর রক্তারক্তি সেভাবে দেখানো না হলেও, কাটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গর দৃশ্যগুলো সবার জন্য না। সাথে শেষের দিকে কাহিনীর কিছু ট্যাবু জিনিস পত্র দেখানো হয়েছে।
//আমার রেটিংঃ ৮.৮
কাহিনী-৯
মিউজিক-৮
আর্ট/প্রোডাকশন/অ্যানিমেশন-৯
এন্ডিং-৮
ইন্ট্রিগ-১০
//শেষ কথাঃ আমার মতে অন্যতম আন্ডাররেটেড অ্যানিমে । এর রেটিং থেকে বেশ ভালোভাবেই একটা জিনিস বোঝা যায় যে, অ্যানিমের দর্শকদের অধিকাংশই টিনেজার।
মৌরিঔ নো হাকো শুধু কিভাবে, কেন আর কে-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। ক্রিমিনাল সাইকোলজির সাথে জাপান-চাইনিজ স্পিরিচুয়ালিটি আর সবশেষে সাই-ফাই এর কিছুটা স্বাদ! রহস্য, খাঁটি রহস্য গল্পপ্রেমী হলে এ অ্যানিমে অবশ্যই দেখা প্রয়োজন। আর সাথে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের মাস্টার ম্যাডহাউসের কথাও মাথায় রাখতে পারেন।
একবার কাহিনীর মধ্যে ঢুকে গেলে আর শেষ না দেখে উঠতে পারবেন না, তাই দেখার আগে অবশ্যই সময় নিয়ে বসবেন!
*ওভিএ টাও বেশ ভালো। কাহিনীর অনেক কিছু ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

