Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion
পর্ব সংখ্যা- ২৬ পর্ব + ১ ছবি
জনরা-সাই-ফাই,মেকা, সাইকোলোজিকাল ড্রামা
M.A.L. রেটিং-৮.৩২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং-১০/১০
১৯৯৫ সালের গাইনেক্স প্রযোজিত হিদেয়াকি আনো পরিচালিত নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী এনিমে হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তির পর এনিমেটি প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা লাভ করে এবং জাপান সহ পৃথিবীর বহু দেশে অনেক খ্যাতি পায়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন আমার সবচেয়ে প্রিয় ৩ টি এনিমের মধ্যে একটি এবং আমার মতে সবচেয়ে সেরা ৫ এনিমের মধ্যে একটি (বাকি ৪ টি হলো কাউবয় বিবপ, মন্সটার, লেজেণ্ড অফ দা গেলাকটিক হিরোস, দা তাতামি গেলাক্সি)। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী সাহসের সাথে বিভিন্ন রকমের ধার্মিক, মনস্তাত্বিক এবং কঠিন বিষয় মোকাবেলা করে। কেবল এনিমের জন্য নয়, টিভি শো কিংবা চলচিত্রতেও এসব বিষয় দুর্লভ।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মূলত অ্যাঞ্জেল নামক দৈত্যরা পৃথিবীতে হামলা করেছে।তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মানব জাতি ইভানগেলিওন নামক রোবট বানায়। ১৪ বছর বয়সী শিনজি ইকারিকে এই ইভানগেলিওনের সাহায্যে পৃথিবী বাচাতে হবে। আপনি মনে করছেন এখানে জটিল কিংবা কঠিন কাহিনী কোথায়? এটা তো খুবই সাধারণ কাহিনী তাই না? বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ”বহিরাবরণ দেখে কাউকে বিচার করতে নেই”। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনীটাও ঠিক সেরকম। প্রথম দেখায় খুব সহজ মনে হলেও পুরোটাই জিলাপির প্যাঁচে ভর্তি।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মানুষের বিভিন্ন মনস্তাত্বিক বিষয় যেমন সমব্যথী, আত্মঘাতী, বিষাদগ্রস্ততা, অন্যান্য মানুষের কাছে নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া নিয়ে উদ্দিগ্নতা, জীবনের পরিচয় এবং অর্থ উপলব্ধি করা ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত। প্রতিটি অসাধারন কাহিনীর পেছনে অসাধারন চরিত্র সমূহের ভূমিকা থাকে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন এনিমেও এই রীতি থেকে ভিন্ন নয়। অনুষ্ঠানটির কাহিনীর মতো এর চরিত্রসমূহও প্রথম দেখাতে সাধারণের বাইরে কিছু মনে হয় না। অনুষ্ঠানটি না দেখেই খুব সহজেই বলে দেয়া যায় যে শিনজি একজন ভীত ছেলে যে নিজের জন্য কিছু করতে পারে না কিংবা আসুকা একজন নিদারুণ প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু তা সত্যি নয়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কঠিন অতীত জীবন। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নিষ্ঠুর নৈতিক প্রেষণা। এখনকার দিনে খুব সহজেই এনিমে বানানো যায় যে ১৫-১৬ বছরের কিশোরেরা বড় বড় দেয়ালের পেছন থেকে আক্রমণ করে বিশাল দৈত্যদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ের সাথে যুদ্ধ করছে। কিন্তু বাস্তবতা কি এতই সহজ? এরকম অবস্থায় একজন ১৪-১৫ বছরের কিশোরের মানসিক অবস্থা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে ফুটিয়ে তুলেছে নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন। এটি কোন পৃথিবী রক্ষার সাহসিকতার কোন রুপকথা নয় বরং এটি জীবনের নিষ্ঠুর প্রকৃতির পথ চলা নিয়ে, এরকম কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলায় ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে নিজের জীবনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে। শিনজি এবং আসুকা আমার মতে এনিমের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা দুটি কিশোর চরিত্র। লাইট ইয়াগামি এবং লেলুস যুদ্ধের ক্ষেত্রে খুবই প্রতিভাবান হলেও তাদের চরিত্র লেখার সময় প্রতিটি বিষয় এত যত্নের সাথে সবিস্তরে লেখা হয় নি যেভাবে শিনজি এবং আসুকার চরিত্রে লেখা হয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের এনিম্যাশন সেই সময়ের জন্য বৈপ্লবিক ছিল। এমনকি মুক্তি পাবার ২১ বছর পরেও ইভানগেলিওন ও অ্যাঞ্জেলদের মধ্যকার যুদ্ধ গুলো চোখ ধাদানো মনে হয়। অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত প্রযোজনা করেছে শিরো সাগিসু, এবং সে তার ভূমিকা দুর্দান্ত ভাবে পালন করেছে। এনিমেটির সূচনা গান ‘’A Cruel Angel’s Thesis” আমার খুবই পছন্দের।
আপনি যদি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিনের নাম শুনে থাকেন বা দেখে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এর শেষ দুই পর্ব নিয়ে জানেন। এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কবাদী দুটি পর্ব। প্রথম দিকে বুঝতে কিছু সমস্যা হলেও আশা হারাবেন না এই পর্ব দুটি নিয়ে। অনেকেই এই পর্ব দুটি দেখে বুঝার চেষ্টা করে না কিন্তু কিছুটা সময় নিয়ে চিন্তা করলেই আপনি পর্ব দুটির মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন
End Of Evangelion:
অনেকেই মনে করে যে এই ছবিটি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের সঠিক সমাপ্তি। কথাটিতে যেমন সত্যতা রয়েছে তেমনি ভুল রয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের শেষ পর্ব দুটি মূলত এন্ড অফ ইভানগেলিওনের কাহিনীর সময় শিনজি ইকারির মনে এবং মস্তিস্কে কি হচ্ছিল তার উপর। কাহিনীটি পুরোপুরি বুঝতে দুটিরই প্রয়োজন রয়েছে। এই দুটি ভিন্ন সমাপ্তি একত্রে মিলে আপনাকে এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে সন্তুষ্টিকর সমাপ্তি গুলোর মধ্যে একটি দিবে।
এরপর আপনার ইচ্ছা হলে আপনি রিবিল্ড ছবি গুলো দেখতে পারেন। ছবিগুলো খারাপ নয় এবং অনেক বিনোদনকারী, কিন্তু মুল অনুষ্ঠানটির মতো অসাধারণ নয়। এর মূল কারণ আমার কাছে শিনজি, আসুকা এবং রেয়ের চরিত্রের পরিবর্তনের বিষয়টি ভালো লাগে নি।



