The Big O [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

The Big O 1

মনে করুন আপনি কোন এক ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীতে বাস করছেন। রোজকার অভ্যেস মত ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশাল জানালার সামনে আর পেছনে জ্যাজের হালকা সুর ভেসে আসছে। সুউচ্চ দালান থেকে পিপীলিকার মত ছোট ছোট গাড়ি আর এ্যান্ড্রয়েডের ছোটাছুটি দেখে হয়ত নস্টালজিক হয়ে যাবেন স্মৃতিকাতরতায় যে স্মৃতির অস্তিত্ব নিয়ে নিজেই সন্দিহান। এমন এক পৃথিবীতেই রচিত হয়েছে Big O’র প্লট।
ফিল্ম নয়ের, সাইফাই, মেকা ও সাইকোলজিক্যাল জন্রার অদ্ভুত সুন্দর মিশেলে ২৬ টি এপিসোডের এনিমেটি আপনাকে একাধারে ব্যাটম্যানের স্বভাবসুলভ এলেগ্যান্স, কাউবয় বিবপের হালকা চালের ভারী দর্শন বা নিওন জেনেসিসে শিঞ্জির প্রলাপের কথা মনে করিয়ে দিবে।

Paradigm City, a city of amnesia. চল্লিশ বছর আগে কোন এক ঘটনায় সবার স্মৃতি হারিয়ে যায়। মুছে যায় শহরের ও সব স্মৃতি। তবে কিছু ফ্র‍্যাগমেন্ট আজও মানুষের মনে রয়ে গেছে। তাছাড়া স্মৃতি হারানোর পরও মানুষ দিব্যি জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনকার স্বভাবমতো কাজে যাচ্ছে, কিন্তু কেন ও কীভাবে তারা আজ এখানে সেটি পুরোই অজানা। শহরের প্রতিটি লোকালয় একেকটি ডোমে আবদ্ধ। ডোমের ভেতর নানা ধরণের মানুষের বাস।
এই শহরের জনপ্রিয় নেগোশিয়েটর রজার স্মিথ। কিডন্যাপিং থেকে শুরু করে বিজনেস বা পলিটিকাল ডিল সব ক্ষেত্রেই রজার স্মিথ এক জনপ্রিয় নাম। ব্যাটম্যানের মত মাল্টিবিলিয়নিয়ার হয়ত না, তবে পারিশ্রমিক হিসেবে যে চেক পায় তাতে শূন্যের অংক নেহাত কম নয়। আছে স্মিথ ম্যানশন আর নরমান নামের বাটলার। আরও আছে বিশালাকায় মেগাডিউস এবং প্রতিদিনের সঙ্গী গ্রিফিন। মেগাডিউসকে এক ধরণের উইপন বলা যায়। সোজা ভাষায় নিওন জেনেসিসের এভা। প্রথম দুটো এপিসোডের পর তাদের সাথে যোগ দেয় ডরোথি নামের এক এন্ড্রয়েড। প্রথম সিজন এপিসোডিক। রজার বিভিন্ন কেস হাতে নেয়। বেশিরভাগ সময় নেগোশিয়েশন শেষ হয় মেগাডিউসদের মধ্যকার যুদ্ধে। তবে দ্বিতীয় সিজনে কাহানী অন্যদিকে মোড় নেয়। মেকার চেয়ে বরং ফিলোসফিকাল এনিমেতে রূপ নেয় আর তার সাথে আছে ধর্মীয় রেফারেন্স।
এনিমের প্রতিটা রিকারিং চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ।
প্যারাডাইম সিটির মিলিটারি পুলিশের চিফ ডাস্টিন। পুলিশের বিভিন্ন কেসে রজার তাকে সাহায্য করে। রজার নিজেও একসময় মিলিটারিতে ছিল। তাই তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক বিরাজ করে।
প্যারাডাইম সিটির কর্ণধার এ্যালেক্স রোজওয়াটার। ক্ষমতার লোভে মানুষ যে কী করতে পারে তার উদাহরণ এ্যালেক্স। নিজেকে ‘গড’ প্রমাণের জন্য নিজের শহর ধ্বংস করতেও দ্বিধা হয়না তার।
গর্ডন রোজওয়াটার হলেন এ্যালেক্সের বাবা। তার বিশাল ক্ষেত আছে টমেটোর। তবে তার মানসিক ভারসাম্য দ্রুতই লোপ পেতে থাকে। এই প্যারাডাইম সিটি তার হাতে গড়া। অন্তত লোকে যা বলে আর কি। অনেক বছর আগে কিছু বাচ্চাদের উপর একটা এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। রজার, এ্যালেক্স ও এঞ্জেল ঐ এক্সপেরিমেন্টেরই ফসল। কিন্তু তাদের মন থেকে এই স্মৃতি একদম মুছে ফেলা হয়েছে। এনিমে জুড়ে টমেটো উৎপাদন নিয়ে নানান কথা আছে। খুব ভাল করে খেয়াল করলে বোঝা যায় এগুলো আসলে মেটাফোর ঐ ভয়ংকর স্মৃতির। মূলত চল্লিশ বছর আগে গর্ডন রোজওয়াটার ই মানুষের স্মৃতিগুলো মুছে ফেলে। তার ভাষ্যমতে স্বপ্নে পাওয়া আদেশক্রমে এই কাজটি করেছেন। কিন্তু কার আদেশ?
এঞ্জেল একজন স্পাই। তার উদ্দেশ্য হল ৪০ বছর আগের স্মৃতি সংগ্রহ করা। বিভিন্ন সময় রজারের বিভিন্ন কেসের সাথে সে কেমন করে যেন জড়িয়ে যায়। এনিমে জুড়ে রজার আর এঞ্জেলের কেমিস্ট্রি উপভোগ করার মত।

The Big O 2
এনিমের আরেক চরিত্র বেক একজন রিকারিং ক্রিমিনাল। রজারের সাথে সে প্রায়ই ঝামেলা করতে আসে। আর আছে ম্যানিয়াক এলান গ্যাব্রিয়েল। অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক এন্ড্রয়েড।
তবে এনিমের অন্যতম এক চরিত্র মাইকেল সিবাক/শোয়ার্জওয়াল্ড। একজন জার্নালিস্ট যে সারাজীবন সত্যের খোঁজ করে গেছে। সে নামমাত্র কয়েকটি এপিসোডে ছিল। কিন্তু তার ইমপ্যাক্ট ছিল ভয়াবহ! বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তার ন্যারেটিভ এনিমেতে এক নতুন মাত্রা দেয়। মানুষ, ধর্ম আর প্যারাডাইম সিটির প্রকৃত রূপ সে সবাইকে জানিয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করেনি কেউই। শেষ এপিসোড দেখার পরেই আসলে বুঝতে পারি তার স্পিচ ও ন্যারেটিভ কতটা মূল্যবান ছিল। আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ছিল তার লিফলেট বিতরণ। উইলিয়াম ব্লেকের এর Illustrations of the Book of Job এ Behemoth ও Leviathan কে নিয়ে যে আর্টওয়ার্ক ছিল, তার ছবিই থাকে ঐ লিফলেটে।
এতো গেল চরিত্রের ছোটখাটো পরিচয়। এবার আসি কাহিনীতে। আগেই বলেছি এটি এপিসোডিক এনিমে। কিন্তু চল্লিশ বছর আগের ঐ ঘটনা নিয়ে একটু একটু রহস্য জমতে থাকে সিজন ১ এ। দ্বিতীয় সিজন ফোকাস করে রজারের উপর। “A megadeus chooses its dominus.” রজারের সাথে তার মেগাডিউস Big 0’র সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারি। তাদের পরস্পর বোঝাপড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি এলিমেন্ট। এই মেগাডিউসদের সাথে ডরোথির সম্পর্ক পরে বুঝতে পারি। এঞ্জেলের প্রকৃত পরিচয় জানা যায় শেষের আগের এপিসোডে। শেষ এপিসোডে এসে কাহিনী অন্য উচ্চতায় চলে যায়। এঞ্জেল আর রজারের আবেগঘন নেগোশিয়েশনের পরিসমাপ্তি কোথায়, তা নিয়েই সব ধরণের বিতর্ক। শেষের আগের দৃশ্যে রজারের কিছু মেমোরি ফ্র‍্যাগমেন্টস দেখি যা আমার নিজের জন্যও চপেটাঘাত। আর শেষ দৃশ্যে নতুন আরেক রিয়েলিটির সৃষ্টি হয় যেখানে রজার স্মিথ পুনরায় একজন নেগোশিয়েটরের রোল প্লে করে। অনেকের মতে পুরো এনিমেটি হল শেষ দৃশ্যের লুপে চলতে থাকা এক কোনানড্রাম। আর সবচেতে মজার ব্যাপার হল শেষের আগের এপিসোডে গর্ডন রোজওয়াটার একটা ছবি দেখায় রজারকে। রজারের সাথে তার চল্লিশ বছর আগের ছবি। কিন্তু রজারের তখন জন্মই হয়নি। চল্লিশ বছর আগে রজার গর্ডনকে প্রমিজ করে প্যারাডাইম সিটির ডিরেক্টরের সাথে নেগোশিয়েট করার, যাতে একটা সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ পৃথিবীবাসীকে উপহার দিতে পারে। প্রশ্ন হল প্যারাডাইম সিটির ডিরেক্টর কে? গর্ডন রোজওয়াটার একটি বই লিখে যেখানে তার স্মৃতি লিপিবদ্ধ করে। আর এই বই সে পায় অন্য আরেকজনের কাছ থেকে। অর্থাৎ বইটির প্রকৃত লেখক সে নয়। এই বই অনেকের হাত ঘুরে এসেছে । প্রশ্ন হল গর্ডন যদি তার লেগ্যাসি অন্য কাউকে হস্তান্তর করে, তবে ঐ লেগ্যাসি সর্বপ্রথম কার ছিল? আরও কিছু বলে ফেলি, চল্লিশ বছর পর পর মেমোরি রিসেট করা হয়। অর্থাৎ এনিমের টাইমলাইনের চল্লিশ বছর আগে মেমোরি মুছে ফেলা হয়। যার কারণে মানুষের কোন আইডিয়াই থাকেনা নিজের অস্তিত্বের ব্যাপারে। আর প্রতিবার রিসেটে মানুষদের চরিত্র এবং রোল ভিন্ন হতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কার?
এনিমের শেষ দুটো এপিসোড নিয়ে অনেক কন্ট্রোভার্সি আছে। অনেকখানি রাশড অবশ্যই। কিন্তু আমার একটুও খারাপ লাগে নি। অনেক ধরণের থিওরি আছে এন্ডিং নিয়ে। তবে ভাল লেগেছে এই ওপেন এন্ডেড এন্ডিং। দর্শক তার ইচ্ছেমত কল্পনা করবে। সিমুলেটেড রিয়েলিটি না
চোখে দেখা সত্য, বাছাই করার দায়িত্ব দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দেয়া হয়।
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে এই পৃথিবী একটি মঞ্চ আর আমরা কিছু ক্ষুদ্র অভিনেতা যারা প্রতিদিনই বিভিন্ন চরিত্রে, বিভিন্ন রূপে হাজির হচ্ছি, প্রশ্ন হল কোন সময়ে, কোন কালে? সত্যি বলতে এটিই পুরো এনিমের সারাংশ।
**কেন দেখবেন না?
– অনেকের কাছে এটাকে ব্যাটম্যানের কপি মনে হতে পারে, যদিও আকাশপাতাল তফাৎ। আর্ট নিয়েও অনেকের কমপ্লেইন থাকতে পারে। কিন্তু নয়ের এনিমেতে এই আর্ট খুব ভালই মানিয়ে গেছে। তাছাড়া একই স্টুডিও এর আগেই ওয়ার্নার ব্রসের ব্যাটম্যান এনিমেটেড সিরিজে কাজ করেছিল। খুব স্বাভাবিক আর্টে তার ইনফ্লুয়েন্স থাকবে। তবে কারও কাছে ক্লিশে মনে হলে না দেখাই ভাল। আর যেহেতু এটি মেকা এনিমে, অনেকেই আকর্ষণীয় ফাইটের আশা করবেন। তবে ফাইটগুলো এতটা আহামরি কিছু না।
**কেন দেখবেন?
– কারণ এটি পটেনশিয়াল কাল্ট ক্লাসিক। কাউবয় বিবপ ভাল লাগলে এই এনিমেও ভাল লাগার কথা। আর সাথে আছে অসাধারণ সব মিউজিকাল স্কোর। যদি সাইকোলজিক্যাল মারপ্যাঁচে ডুবতে চান, বিব্লিওকাল রেফারেন্স আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয় কিংবা ডিভাইন জাস্টিস নিয়ে আপনার কৌতূহল থাকে, তবে এ এনিমে আপনার জন্য।
আর আছে ভয়েস এ্যাক্টরদের কারিশমা। এই এনিমের ডাব হাইলি রিকমেন্ডেড। আমি প্রথম ৪/৫ টা এপিসোড জাপানিজে দেখেছিলাম। পরে ভাবলাম ডাব ট্রাই করি। শুনেই দেখি এ যে স্পাইক আর ফে’! স্টিভ ব্লাম ও ওয়েন্ডি লি এর ভয়েস একদম পারফেক্ট ছিল। শোয়ার্জওয়াল্ডের ডাব ভয়েস অনেক বেশি ভাল এবং তা আবেগটাকে খুব ভালভাবে ক্যাপচার করতে পেরেছে। তবে অন্যতম আকর্ষণ হল এলান গ্যাব্রিয়েলের ভয়েস। এরপর ক্রিস্পিন ফ্রিম্যানের ফ্যান হয়ে গেলাম। পরে তার বায়ো তে গিয়ে দেখলাম কোতোমিনে কিরেই বা শিজুও’র মত ভারী কিছু চরিত্রের নাম।
এতকিছু চিন্তা না করে শুধু মজার জন্যেই নাহয় দেখে ফেলুন Big O.

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

অনেকদিন ধরে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। কোন এনিমের দুটো এপিসোড দেখে আর কন্টিনিউ করতে পারছিলাম না। ধৈর্য হচ্ছিল না মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখার। এরকম এক অবস্থায় যখন এটা সেটা খুঁজছিলাম তখন World Masterpiece Theater এর সন্ধান পাই। এবং randomly একটা বাছাই করে দেখতে বসি।

My Daddy Long Legs

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) এনিমে টি Jean Webster এর Daddy Long Legs এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। এক অনাথ মেয়ের জীবন ও তার স্বপ্ন-আকাঙ্খা নিয়ে এই এনিমে।
খুব ছোটবেলায় Judy Abott এর বাবা-মা তাকে এক চার্চের সামনে রেখে যায়। তার পাশেই John Grier নামের অনাথাশ্রমে তার জায়গা হয়। এই অনাথাশ্রমের ডিরেক্টর Mrs Lippet. ছোটবেলা থেকেই জুডি অনেক বেশি চঞ্চল ও ক্লামসি ছিল। যেকোন কাজেই কোন না কোন অঘটন ঘটাত। এর জন্য মিসেস লিপেটের বকাবকি তো আছেই। তবে ছোট বাচ্চাদের কাছে সে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রতিটা দিনই আনন্দে কাটত। কিন্তু তারপরও একটা সুপ্ত বাসনা ছিল। সে এই অনাথাশ্রম থেকে বের হতে চায়, নিজের মত করে বাঁচতে চায়। একসময় একটা সুযোগ ও আসে। অনাথাশ্রম এবং রেপুটেড কিছু স্কুলের ট্রাস্টি মেম্বারদের জন্য লাঞ্চের আয়োজন করা হয়। তারা একজনকে বাছাই করবে এবং তার পড়াশোনা ও মাসিক এ্যালাউয়েন্সের ভার বহন করবে। কিন্তু জুডি খেয়ালের বশে অনেক ভুল করে ফেলে। তার হাত থেকে এই সুযোগ চলেই যেত কিন্তু ঐদিন রাতে তার ত্রানকর্তা হয়ে আসে John Smith যে কিনা ট্রাস্টি মেম্বারদের একজন। যেহেতু এ্যানোনিমাসলি পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল তাই খুবই কমন এই নাম দিয়েই জুডির কাছে পরিচয় দেয়া হয়েছিল। যদিও জুডির সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। এবং পরবর্তী সময়ে সব ধরণের যোগাযোগ পালন করা হত তার সেক্রেটারি Walter Griggs এর মাধ্যমে। যাহোক, এর পর Lincoln Memorials High School এ শুরু হয় নতুন জীবন।
নতুন শহরে এসে নতুন এক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল জুডি কে। তার রুমমেট Julia Pendleton ও Sallie Mcbride দুজনই এলিট সমাজের বাসিন্দা। জুলিয়া খুব ইগোয়িস্ট আর নিজের বংশ নিয়ে খুব বড়াই করে। সে তুলনায় স্যালি চুপচাপ কিন্তু মিশুক। তার পরিবারও খুব অমায়িক। জুলিয়া সবসময় জুডিকে অপদস্থ করতে চায় আর স্যালি দুজনকে শান্ত করতে চায়। একসময় দেখা যায় তারা খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায়। তবে জুডি কিন্তু কখনোই তার ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা জানায়না। তারা শুধুই জানে জুডির একজন গার্ডিয়ান যাকে সে ‘Watashi no Ashinaga Ojisan’ বলে ডাকে। জুডি প্রায়ই তাকে চিঠি লিখে। তার জীবন কেমন যাচ্ছে বা যেকোন কিছুর জন্য পরামর্শ সবকিছু জানায়।
জুডির এই ধনী এলিট সমাজের মানুষের প্রতি সবসময় এক বিতৃষ্ণা কাজ করত। অনাথাশ্রমে থাকার সময় সে দেখেছে তাদের প্রতি কেমন করুণা করা হত। কিন্তু এই ধারণা বদলে দেয় Jervis Pendleton. জুলিয়ার চাচা। পেন্ডেল্টন বংশের অন্য সবার মত নাকউঁচু নয় সে। কোন অহংবোধ নেই। খুব সৎ, অমায়িক আর খামখেয়ালি মানুষ। জার্ভিসকে ভাল লেগে যায় সাথে সাথে। ভাল লাগার মতই এক চরিত্র। তার ব্যাক্তিত্বের এই সরলতা দেখে জুডির ধারণা বদলে যায়। একসময় সে জার্ভিসকে পছন্দ করাও শুরু করে। কিন্তু যখনই সে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখনই তার সবকিছু ঘোলাটে হয়ে আসে। জার্ভিস যদি জুডির ফ্যামিলি হিস্ট্রি জানে হয়ত সে তাকে আর মেনে নিবেনা। এর মধ্যে জুডি তার প্যাশন ঠিক করে। জুডি যতই চঞ্চল হোক না কেন তার লেখার হাত বেশ ভাল ছিল। তার লেখা essay ই তাকে এই স্কুলে পড়ার সুযোগ দেয়। একজন এ্যাস্পায়ারিং রাইটার হিসেবে স্কুলেও সে পরিচিতি পায়। এরপর সে ম্যাগাজিনে তার ছোট গল্প পাঠানো শুরু করে। প্রথমবার ছাপালেও পরে তার লেখা রিজেক্ট হয়। নিজের প্রতি হতাশা ঘিরে ফেলে তাকে। আবার অন্যদিকে দেখা যায় সে নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশন শুরু করে। সে স্বাধীন হতে চায়। অন্যের উপর নির্ভর করে থাকা – এই ব্যাপারটা সে মানতে পারেনা। কিন্তু জন স্মিথ তাকে নিষেধ করে দেয়। এর কারণে সে তার ‘বাবা’র প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে চিঠিও দেয়। এরকম মানসিক টানাপোড়ন আর চড়াই উৎরাই পার হয়ে তার গ্র্যাজুয়েটের দিন ঘনিয়ে আসে। যেহেতু কামিং অফ এজ স্টোরি, তাই পুরো গল্প জুড়ে জুডির মানসিক অবস্থা, চিন্তা ভাবনা এবং তার মানসিক পরিপক্কতা সবকিছুর চিত্র পাওয়া যায়। অনেক কিছুই রিলেটেবল মনে হয়। অনেককিছু মনে হয় আমি নিজেই ফেস করছি।
এই এনিমের যে বিষয়টা সবচেতে ভাল লেগেছে তা হল জুডির চিঠিগুলো। খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়েছি। মানে জুডি পড়ে শোনায় আর কি। আর শুধু জুডি নয়, জুলিয়া ও স্যালির মানসিক পরিবর্তন ও অবাক করে দেয়। আর টিনেজ বয়সের প্রেম যখন সিরিয়াস হয়ে যায়, সেই ট্রানজিশনটাও ভাল লেগেছে। অনেক মোমেন্ট ছিল যখন জুডির ব্লাশিং দেখে নিজেই ব্লাশড হয়েছি। জুডির সাথে সাথে যেন নিজেও আরেকটু বড় হয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা এই গল্পের হ্যাপি এন্ডিং। যদিও বেশকিছু জায়গা ক্রিঞ্জওয়ার্দি ছিল কিন্তু এমন সুখের সমাপ্তির কাছে তা কিছুই না।
এই এনিমে দেখার দুটো ওয়ে আছে। ১৪/১৫ এপিসোডের পরে স্পয়লার জেনে ফেলা আর নাহয় শেষ এপিসোড পর্যন্ত অপেক্ষা করা। আমি এ্যাক্সিডেন্টলি স্পয়লার জেনে গেছিলাম। প্রথমে ব্যাপারটা নিয়ে খুব বিরক্ত হলেও পরে মজাই পেয়েছিলাম। এবং মনে হল শুধুমাত্র স্পয়লার জানার কারণেই আরও বেশি উপভোগ করতে পেরেছি। মন ভালো করে দেয়ার মতই এনিমে।

The King of Pigs [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

মাঝে মাঝে MAL এ হাবিজাবি ঘাঁটতে গিয়ে এমনকিছু চোখে পড়ে যেগুলো হয়ত নিজে কখনও খুঁজব না। দুইদিন আগে The King of Pigs এর কথা জানলাম এভাবে। MAL rating এ ৭ যেখানে তা ৮ এর উপরে হওয়া উচিৎ এবং হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আর একেকজনের রেটিং এও আকাশপাতাল ফারাক। মুভিটা শুরু থেকেই ডিপ্রেসিং ছিল। হয়ত অনেকে সহজভাবে নিতে পারেনি।

the-king-of-pigs
Yeon Sang-ho’র নাম হয়ত অনেকের কাছেই এখন পরিচিত এই বছরের Train to Busan নামের চলচ্চিত্রটির কারণে। তবে তিনি বিখ্যাত তাঁর কোরিয়ান এনিমেটেড মুভিগুলোর জন্যে। মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধাঁচের এই মুভিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল চরম বাস্তবতা। মানুষের জীবনের স্ট্রাগলকে কোন রকম অতিরঞ্জিত করা হয়নি। মানুষের ইম্পালসিভ ন্যাচার সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে তার মুভিগুলোতে। Satoshi Kon এর কাজগুলো দ্বারা তিনি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। তাঁর The King of Pigs মুভিটি Busan International Film Festival এ ৩টি এওয়ার্ড জিতেছে। তাছাড়া এটি Cannes Film Festival এ প্রদর্শিত প্রথম কোরিয়ান এনিমেটেড ফিল্ম। কোরিয়ান থ্রিলার মুভিগুলোর সাথে যারা মোটামুটি পরিচিত তারা নিশ্চয়ই ভায়োলেন্সের পরিমাণ অনুমান করতে পারছেন। ফিজিকাল এ্যাবিউজ থেকে শুরু করে এনিম্যাল এ্যাবিউজ কিছুই বাদ যায়নি এখানে।
নিজের স্ত্রীকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় Kyung Min এর কাহিনী। ব্যবসায় ব্যর্থতার দরুণ সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে রাতে সে কল দেয় তার একসময়ের বেস্ট ফ্রেন্ড Jung Jong-suk কে। Jung একজন জার্নালিস্ট। তবে তার লেখক হবার স্বপ্ন। কিন্তু তার বই পাব্লিশ করতে কোন প্রকাশকই রাজি হচ্ছেনা। ঐদিন রাতে বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বেরিয়ে পড়ে। এই সময়ে Kyung min এর কল পায়। দুজন একটা রেস্টুরেন্টে বসে। ১৫ বছর পর তাদের দেখা। এরপর ফ্ল্যাশব্যাকে কাহিনী আগাতে থাকে।
১৫ বছর আগে হাইস্কুলে থাকার সময় এই দুই বন্ধু বুলির শিকার হত প্রতিদিন। তখনকার সময়ে গরীব বা অসহায়দের Pigs আর ধনী বা শোষণকারীদের Dogs বলে অভিহিত করা হত। তাদের ক্লাসের ২ জন ছিল এলিট সোসাইটির। তাদের কারণে সবাই আতংকে থাকত। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না। ভুল করে যদি একবার তর্ক করে ফেলে তখন সিনিয়রদের নিয়ে এসে একসাথে পেটায় তাকে। প্রতিদিনের মত Kyung min কে হেনস্তা করছিল তারা। হঠাৎ একটা ছেলে পেছন থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং এসে ঐ ছেলেগুলোকে পেটায়। ছেলেটার নাম Chul Kim। হিংস্র হলেও এক পর্যায়ে Kyung min আর Jung এর ভাল ফ্রেন্ড হয়ে যায় সে। সবার কাছে সে হয়ে ওঠে King of pigs. একদিন ঐ ছেলেগুলোকে মারার সময় টিচার দেখে ফেলে। তাই কিছুদিনের জন্য তাকে সাস্পেন্ড করা হয়। দুই বন্ধু একটা পরিত্যক্ত গোডাউনে আসত Chul এর সাথে দেখা করার জন্য। সেখানেই তারা তাদের প্রথম ক্রাইমটি করে। আর এই ঘটনা আজও Jung কে কুড়ে কুড়ে খায়। যাই হোক ঘটনার এক পর্যায়ে স্পাইনলেস Kyung min বিট্রে করে। কিন্তু Chul তাকে কিছু বলেনা। বরং ফন্দি করে ঐ বুলিগুলোকে শিক্ষা দেয়ার। সে ঠিক করে একদিন এসেম্বলির সময় স্কুল ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সে আত্মহত্যা করবে। আর এই সিদ্ধান্ত সে নিয়েছিল এই ভেবে যে এই ঘটনা সবার মনে দাগ কাটবে। যারা আজ তাদেরকে টর্চার করছে, পরবর্তীতে এই দিনের কথা মনে করে তাদের মুখের হাসি যাতে চলে যায়। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু ঘটনার একটু আগে Chul তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলে। কেন? কারণ একদিন তার মাকে সে কাঁদতে দেখে, নির্যাতিত হতে দেখে। সে ঠিক করেছিল নিজেকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিবে। নতুন করে সব শুরু করবে। তার মায়ের পাশে থাকবে। কিন্তু তারপরও সে ছাদ থেকে লাফ দেয়। কেন? এটা কি শুধুই সুইসাইড ছিল? আর কেউ যদি তাকে হত্যাও করে কারণ টা কী?
মুভির লাস্ট ১৫ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ টুইস্ট টা থাকে এই মুহূর্তে। মুভির শেষটাও খুব ডিপ্রেসিং।
এই তিনজনের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখানো হয় কাহিনীর বিভিন্ন সময়ে যাতে করে দর্শকেরা তাদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে চিন্তা করতে পারে। এবং তাদের ভাগ্যটাও যে পরস্পর সাথে সম্পর্কিত তা অনুধাবন করতে পারে। তাদের প্রত্যেকের স্ট্রাগল দেখানো হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হবে সে এটা না করলেও পারত। কিন্তু একজন হাইস্কুলের ছাত্র হিসেবে তার মানসিক পরিপক্কতা আর কতটুকুই বা থাকবে? এছাড়া তাদের ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত। একসময়ের স্পাইনলেস ছাত্রের খুনী হয়ে ওঠা বা Jung এর মত একটা ছেলের হিংস্রতার কাছে হার মানা সবকিছু আপনাকে অভিভূত করবে, আপনাকে ভাবাবে।
এই মুভি নাকি Yeon San-ho’র জীবন থেকেই নেয়া। হয়ত এ কারণেই প্রতিটি চরিত্রের আবেগ-অনুভূতি আলাদা এবং সুচারুভাবে ফুটে উঠেছে।
গ্রুপে এটা নিয়ে অনেক আগে একজন পোস্ট দিয়েছিল যদিও। A must watch.

Lion Book series [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

হাল আমলের ফ্ল্যাশি এনিমে থেকে একটু ব্রেক নিতে চাইলে দেখে আসতে পারেন Lion Book series টি। Astro Boy, Kimba the Lion, Black Jack এর স্রষ্টা Osamu Tezuka’র কিছু মাংগার কালেকশন নিয়ে এই সিরিজ। এ ব্যাপারে অবশ্য একটু কনফিউজন আছে। যদিও বলা হয় এই সিরিজ মূলত ১৯৫৬ এবং পরবর্তীতে ‘৭০ এর কিছু মাংগার কালেকশন, তবে এর মধ্য থেকে শুধুমাত্র ৬টির এনিমে এডাপটেশন হয়েছিল যেগুলো Osama Tezuka’র রচনা এবং ডিরেক্ট করা। ৬টি ইউনিক গল্প দিয়ে সাজানো এই এনিমে কালেকশন খুব একটা মন্দ না। কিছু পরিচিতি দেই-

*1.The Green Cat:
গল্পের মূল চরিত্র বলতে গেলে ৪টে, বিড়ালটা সহ। একটি দূর্ঘটনার কারণে সাংগো ছোটবেলাতেই একা হয়ে পড়ে। ঐসময় ত্রাণকর্তা হিসেবে তার কাছে আসে এক সবুজ বিড়াল। তার জীবন পাল্টে দেয় এই বিড়াল। একসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় নাম হয়ে যায় সাংগোর। অন্যদিকে দেখা যায় শুনসাকু-বান নামের একজন ডিটেক্টিভ তার বন্ধুর খুনের রহস্য ভেদ করায় জান-প্রাণ দিয়ে খাটছে। ঘটনাক্রমে সাংগো এবং তার বিড়াল ও শুনসাকু-বানের মধ্যে কাকতালীয় সম্পর্ক বিরাজ করে। প্রকাশ পায় সবুজ বিড়ালের রহস্য।

lion-book-1

*2.Rain Boy:
পুরো কালেকশনে এই গল্পটিই সবচাইতে সুন্দর। বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্বের মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে এই গল্পে। ছোট্ট মোউতা’র কোন বন্ধু নেই। এই ছোট্ট জীবনে তার হতাশার শেষ নেই। হঠাৎ একদিন সে দেখে তারই সমান একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ঘিরে আছে একটি পুরান ছাতা এবং মাথার উপরে এক টুকরো মেঘ। এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব হয় তাদের। ছাতাবন্ধু মোউতার নতুন জুতা দেখে খুব করে বলে তাকে ঐ জুতোজোড়া দিয়ে দিতে বিনিময়ে তার ৩টা ইচ্ছা পূরণ করবে। মোউতার ৩টা ইচ্ছা পূরণ ও হয়ে যায়। কিন্তু সে ছাতাবন্ধুর কথা ভুলে যায়, ভুলে যায় তাদের প্রতিজ্ঞার কথা। ৪০ বছর পর হঠাৎ মোউতার মনে পড়ে। তখন সে শহরের এক ব্যবসায়ী। তাড়াতাড়ি সে গ্রামে ছুটে যায়। এবং ব্রিজের নীচে গিয়ে দেখে তার সেই ছাতাবন্ধু দাঁড়িয়ে আছে একা।

lion-book-3

*3. Lunn Flies into the Wind:
হাইস্কুলের স্টুডেন্ট আকিরা প্রতিদিন তার ক্লাসমেট এবং টিচারদের দ্বারা বুলিড হয়। একদিন বাসায় ফেরার পথে একটি কফির বিজ্ঞাপনের পোস্টার দেখে থমকে যায় সে। এক দেখাতেই ভালবেসে ফেলে পোস্টারের মেয়েটাকে। সে পোস্টারটা খুলে তার পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখে। মেয়েটাকে নাম দেয় লুন। সারাদিনের কাহিনী এবং জীবনধর্মী আলোচনা ছিল প্রতিদিনের বিষয়। একসময় সে খুঁজে বের করে পোস্টারের মেয়েটিকে। কিন্তু সে জানতে পারে এই কফির বিজ্ঞাপন অনেক পুরোনো। পোস্টারের মেয়েটির বিয়ে হয়ে এখন সে বুড়িয়েও গেছে। একটা মেয়েও আছে তার। যখন সে হাল ছাড়তে যাবে তখন সে ঐ মেয়েটিকে দেখল। আর পোস্টার টা? সেটা নাহয় দেখেই জানুন।

lion-book-4

*4. Yamataro Comes Back:
ভাল্লুকছানা ইয়ামাতারো ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারায়। বন্ধুত্ব পাতায় এক স্টিম ইঞ্জিনের সাথে নাম যার C64। এভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল। সময়ের সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। টাউনের মানুষেরা ইয়ামাতারো কে মারতে আসে। কিন্তু C64 তার হুইসেল দিয়ে তাকে সতর্ক করে দেয়। এভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ইয়ামাতারো। একসময় সভ্যতার ছোঁয়ায় স্টিম ইঞ্জিনকে রিপ্লেস করে হাইস্পীড রেইল। তো টাউনের মানুষরা ফন্দি আঁটে সেই স্টিম ইঞ্জিনের হুইসেল দিয়ে ইয়ামাতারো কে ফাঁদে ফেলবে। কিন্তু C64 যখন এ কথা জানে তখন সে নিজে ক্র্যাশ করে, নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে বন্ধুত্বের টানে। এভাবে শেষবারের মত সতর্ক করে ইয়ামাতারো কে।

lion-book-5

*5. Adachi-ga Hara:
যদিও এটাকে সাই-ফাই তকমা দেয়া হয়েছে কিন্তু এটাকে সাই-ফাই বললে অপমান হবে। কাহিনী শুরু হয় একজন বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে যাকে ডাইনী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। জেস একজন তরুণ এস্ট্রোনাট। পৃথাবীতে থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন স্বৈর সরকার কে উৎখাত করতে বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেয় জেস এবং তার স্ত্রী। ঘটনাক্রমে তারা আলাদা হয়ে যায়। বছরের পর বছর কেটে যায়। জেস কে মিশনে পাঠানো হয় এই গ্রহে যেখানে গুজব রয়েছে এক ডাইনী এবং তার কুকীর্তির। একসময় ডাইনীর রহস্য ফাঁস হয়। কিন্তু ততক্ষনে দেরী হয়ে যায় অনেক।

lion-book-2

*6.Akuemon:
হিদারি তাইশো গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। একদিন এক জোতিষী তাকে বলে, যদি সে ১০০০ টা শেয়াল শিকার করতে পারে তবে সে দেশের শাসক হতে পারবে। এদিকে আকুয়েমন ছিল রগচটা ও হিংস্র একজন শিকারি। কেউ তাকে পছন্দ করত না। স্ত্রী এবং এক ছেলেকে নিয়ে থাকত। হিদারি তাকে বাছাই করে, নির্দেশ দেয় ১০০০ শেয়াল হত্যা করার। বিনিময়ে এটা-সেটা দিয়ে তার পরিবারকে সচ্ছল রাখত। ওদিকে শেয়ালবাহিনীর তরফ থেকে এক নারী শেয়ালকে পাঠাল আকুয়েমন কে শায়েস্তা করার জন্য। তো সেই নারী-শেয়াল আকুয়েমনের স্ত্রীর রূপ নেয়। এবং তার সাথে থাকতে শুরু করে। যখন আকুয়েমন শিকার করতে যায় তখন সে বাকিদের সতর্ক করে দেয়। একসময় আকুয়েমনকে ভালবেসে ফেলে সে। আর তাদের বাচ্চার সাথে অন্যরকম বন্ধন তৈরি হয়। একসময় ধরা পড়ে যায় সে। একদিকে তার শেয়ালবাহিনী আরেকদিকে আকুয়েমন ও তার বাচ্চাকে ছেড়ে যাবার শোক তার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয়।

lion-book-6

এই গল্পগুলো হয়ত অনেকেরই চেনা-জানা। কিন্তু এগুলোর এনিমে এডাপটেশনে অনেক কিছুই আপনি উপলদ্ধি করতে পারবেন যেটা হয়ত এমনি গল্পটি পড়ে আপনার মনে হয়নি। আবার অনেক কিছু আপনার কাছে ক্লিশে মনে হতে পারে। তবে ৬টা না দেখলেও Rain Boy, Lunn flies into the wind এবং Yamataro comes back, Akuemon -এই ৪টি পার্সোনালি রিকমেন্ড করব। যেহেতু এটা ‘৮০র এনিমে তাই এক্সপেকটেশন কম রাখাই ভাল। এখনকার ঝলমলে গ্রাফিক্সের সাথে তুলনা না করে দেখলেই মজা পাবেন। No one would watch this anyway.

Maris the Chojo [OVA রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

maris-the-chojo

Name: Maris the chojo
Genere: Sci-fi, Comedy
Running time: 46 মিনিট

Rumiko Takahashi’র ১৯৮০ সালের ওয়ানশট মাংগা থেকে ১৯৮৬ সালের এডাপটেশন এই OVA টি। এটাকে “Loosely based Sci-fi” ও বলা যায়। চিরাচরিত সাই-ফাই থেকে এখানে পার্সোনাল এজেন্ডা বেশি মুখ্য ছিল।

Maris হল Inter galactic space patrol এর অধীনে কর্মরত একজন তরুণী। যে কিনা Thanatos নামক গ্রহে বাস করত। এই গ্রহে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে একটি স্পেশালিটি আছে। সাধারণ মানুষের চেয়ে ৬ গুণ বেশি শক্তিশালী এরা। কোন এক কারণে একসময় এই গ্রহ ধ্বংস হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তার আগেই ঐ গ্রহের মানুষদের সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তাদের সেই স্পেশালিটির কারণে তাদেরকে শেকল পড়ে থাকতে হত যাতে সেই পাওয়ার আনলিশ না হয়।
-যাই হোক একদিন এজেন্সি থেকে নির্দেশ আসে একটি কিডন্যাপিং কেস হ্যান্ডল করার। বিখ্যাত ধনকুবেরের ছেলে Maru Kogane কে কিডন্যাপ করেছে কে বা কারা। তাকে উদ্ধার করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে বেশ ভাল এ্যামাউন্টের টাকা পাবে। Maris এই দায়িত্ব পেয়ে খুশি হয়। কারণ তার মদ্যপ বাবার হিংস্র চালচলন আর মায়ের দেখভালের জন্য তাকে টাকা পাঠাতে হয় কিছুদিন পর পর। আর তার অসামান্য স্ট্রেংথের কারণে অলরেডি ৪টা স্পেসশিপ ধ্বংস হয়ে গেছে। যার দরুণ এজেন্সির পক্ষ থেকে বড় ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। এছাড়া তার নিজেরও এই জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসছে। তাই সে তার এ্যাসিস্টেন্ট নাইন-টেইল ফক্স Murphy’র সাথে রওয়ানা দেয়।
এক সময় কিডন্যাপারের কাছ থেকে কল আসে। সে আর কেউ না, তার একসময়কার প্রতিদ্বন্দ্বী Sue। যাকে সে রেসলিং এ হারায়। বাট থিংস গেট প্রিটি সিরিয়াস যখন জানা যায় তার এই কিডন্যাপে জড়ানোর কাহিনী। তো নানান ঝামেলা শেষে Maris পৌঁছে যায় Sue’ র বেইজমেন্টে। সেখানে আবার তাদের মধ্যে ছোটখাটো ম্যাচ হয়ে যায়। এরপরই ঘটে আন-এক্সপেক্টেড ঘটনা। Maris কি পারে ঐ ছেলেকে বাঁচাতে? শেষের দিকের টুইস্ট টার জন্যে হলেও পুরোটা দেখা উচিৎ বলে মনে করি। দেখার পর বারবার এটাই মাথায় আসবে Life is not a fairy tale.
-পুরোটা সময় নানা ধরণের কমেডিক এলিমেন্টে ভর্তি। এর মধ্যে ২-১ টা হয়ত ফোর্সড মনে হবে। কিন্তু বাকিগুলো ন্যাচারাল। কিছু হয়ত স্টুপিড মনে হতে পারে। কিন্তু ৮০’র এনিমে হিসেবে একটি OVA তে এর বেশি কিছু আশা করা যায়না। তবে যতটুক দরকার ততটুকুই আছে। আর আরেকটা মজার ব্যাপার হল গল্পের এক পর্যায়ে যখন তারা একটা গ্রহে ক্র্যাশ করে সেখানের কোন একটা বারের সামনে ডার্থ ভেডারকে (স্টার ওয়ার্স) জুস খেতে দেখা যায়। এছাড়াও অন্য এলিমেন্ট গুলো একদমই বোর হতে দিবেনা। এটা দেখে যে সময় নষ্ট হবেনা তা বলে দিতে পারি।
আর সাউন্ডট্র্যাকের ব্যাপারে বলব সেই পরিচিত ইউজুয়াল ৮০’র গান। শুনতে মজাই লাগবে। ওভারঅল হালকা ধাঁচের একটি এনিমে। দেখে খারাপ লাগবেনা।

Warau Hyouteki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Warau Hyouteki 2

প্রকৃতি সবকিছুর সীমানা ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু যদি কেউ এই সীমানার বাইরে যেতে চায়? আর তা যদি ভালবাসার ক্ষেত্রে হয় তবে কেমন হবে?

Warau Hyouteki বা Laughing Target হল ত্রিভুজ প্রেমের এক জাপানিজ ক্লাসিকাল হরর মুভি। আমাদের প্রত্যেকের প্রিয় মানুষের প্রতি ভালবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই মুভিটি।

Warau Hyouteki 1

Yuzuru Shiga এবং Satomi গল্পের নায়ক-নায়িকা যারা একে অপরকে খুবই ভালবাসে। তারা দুজনই স্কুলের আর্চারি ক্লাবের সদস্য যার ক্যাপ্টেন আবার এই Yuzuru। এই দুজনের মধ্যে প্রতিদিনই খুনসুটি লেগে থাকে। চিরাচরিত কাপল দের মত আর কি। সব ভালই চলছিল। কিন্তু একদিন হঠাৎ Yuzuru জানতে পারে তারই কাজিন Azusa তাদের সাথে থাকতে আসছে। Yuzuru’র তখন মনে পড়ল ছোটবেলার কথা। Shiga ক্ল্যানের লেগেসি রক্ষার্থে Azusa’র মা এবং Yuzuru’র বাবার মধ্যে একটি চুক্তি হয় যে তারা বড় হলে তাদের বিয়ে দেয়া হবে। Yuzuru ও একসময় Azusa কে প্রমিজ করেছিল যে তাকেই বিয়ে করবে। কিন্তু অনেক বছর পার হয়ে যায়। Yuzuru ও তার জীবনে Satomi কে খুঁজে পায়। ছোটবেলার সেই প্রমিজকে সে গুরুত্ব সহকারে নেয়নি। কিন্তু Azusa সেই ছোটবেলা থেকেই Yuzuru কে পছন্দ করত এবং সে পুরোপুরি লয়াল থাকে। সে কোন ছেলের সাথেও কথা বলেনি। অনেক বছর পর Azusa কে দেখে Yuzuru অবাক হয়ে যায়। Azusa’র সৌন্দর্য তাকে খানিকটা হতবিহ্বল করে দেয়। যদিও সে ব্যাপারটা কাটিয়ে উঠে। তো Azusa জানতে পারে Yuzuru আরেকজনকে ভালবাসে। তার মধ্যে হিংসার জন্ম হয়। প্রথম দিকে Satomi কে শুধুমাত্র ওয়ার্নিং দিলেও যখন দেখে Yuzuru তার দিকে ভ্রুক্ষেপ ও করেনা তখন সে Satomi’র ক্ষতি করতে চায়। সিচুয়েশন ক্রমাগত খারাপের দিকে এগিয়ে যায়। এরই মধ্যে আমরা জানতে পারব Azusa’র অতীতের এক ভয়ংকর ঘটনা যা তাকে demon এ পরিণত করে। Yuzuru কি পারবে তার জীবনের ভালবাসাকে রক্ষা করতে? নাকি Azusa’র হিংসার বলি হবে এই দুজন? উত্তর জানতে হলে দেখে ফেলুন ৫১মিনিটের এ মুভিটি।

Warau Hyouteki 3

এই গল্পের মূল বিষয় হল আপনি কাউকে যতই ভালবাসেন না কেন সেই ভালবাসার একটি সীমা থাকে। ‘সীমাহীন ভালবাসা’ নিয়ে অনেক কবিতা আছে কিন্তু সব বুলশিট। আপনি একবার সীমানা অতিক্রম করলেন তো মানুষটিকে হারালেন। তাই আপনি যদি খুবই ডেস্পারেট হন তবে এমনভাবে আগান যাতে মানুষটিও আপনাকে খুব ভালবাসবে। এবং অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে কোন পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।

Warau Hyouteki 4

সত্যি বলতে এটি খুবই টিপিকাল ত্রিভুজ প্রেমের গল্প। তাহলে কেন দেখবেন? যদি আপনার মনে এই মুহূর্তে ভালবাসার উঁকি দিয়ে থাকে তবে তা থেকে বের হয়ে আসার জন্যই এ মুভি দেখতে হবে। অবশ্য তার উল্টোটাও হতে পারে।

Warau Hyouteki 5

 

Dojoji Temple [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Dojiji 1

Dojoji Temple নামের ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া ১৯ মিনিটের মুভিটি দেখলাম। যদিও এটাকে পুরোপুরি এনিমে বলা যাবেনা। ট্রেডিশনাল আর্টের সাথে পাপেট শো এর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ নিয়ে Kihachiro Kawamoto’র তৈরি এ শিল্পকর্ম দেখে মন জুড়িয়ে যায়। জাপানিজ লোকগাথা উঠে এসেছে এই মুভিতে। এই লোকগাথা নিয়ে অনেক কাবুকিও মঞ্চস্থ করা হয়।

গ্রামের মোড়ল শোজি এবং তার মেয়ে কিয়োহিমের বসবাস হিদাকা নদীর তীড়ে। খুবই অবস্থাপন্ন জীবন তাদের। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আশ্রয় এবং আপ্যায়নে কোন কমতি রাখতেন না শোজি। একদিন তরুণ ধর্মযাজক আনচিন উপস্থিত হয় শোজির বাড়িতে। কিয়োহিমে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যায় সেই তরুণটির উপর। রাত গভীর হলে কিয়োহিমে ঘুমন্ত আনচিনের কাছে আসে। আনচিন জেগে যায়। কিয়োহিমে তার ভালোবাসার কথা জানায় এবং আনচিনকে না যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু আনচিনের মনে রাজ্যের সংশয়। প্রথমে অপারগতা জানালেও পরে সে কিয়োহিমের হাত ধরে কাছে টেনে নেয়।
কিন্তু পরদিন আনচিন না বলে চলে যায় শ্রাইনের উদ্দেশ্যে। কিয়োহিমে তা দেখে ফেলে। সে রেগে তার কাছে যায়। তখন কিয়োহিমের অন্য রূপ দেখা যায়। ভেতরের ক্রোধ ফুটে ওঠে তার চেহারায়। আনচিন দ্রুত নৌকোয় করে নদী পার হয় এবং মাঝিকে বলে দেয় কিয়োহিমেকে যাতে সে না উঠায়। তো কিয়োহিমে নদীর পাড়ে আসল এবং মাঝিকে অনুরোধ করল পার করে দেয়ার জন্য। কিন্তু মাঝি সাড়া দেয়না। কিয়োহিমে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তখন কিয়োহিমের আরেক বিধ্বংসী রূপ দেখতে পাব। সে ক্রোধে এতটাই বশভর্তী হয়ে পড়ে যে সে একটি বিশাল ড্রাগনে পরিণত হয়।
ওদিকে আবার আনচিন ডোজোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানের পন্ডিতদের সব কথা খুলে বলে এবং সাহায্য চায়। তারা একটি বিশাল ঘন্টার ভেতর আনচিনকে লুকিয়ে থাকতে বলে। যাইহোক কিয়োহিমে আসে। আনচিনকে খুঁজে। কোথাও পায়না। পরে ঘন্টার কাছে আনচিনের ঘ্রাণ পায়। তখন সে পুরো ঘন্টাটিকে পেঁচিয়ে ফেলে। মুখ থেকে আগুন বের করে জ্বালিয়ে দেয়। একসময় দেখি তার চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। হয়ত কেউ যখন ক্রোধ সংবরণ করতে পারেনা তার কান্না রক্ত হয়েই ঝরে। যাই হোক সে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর পন্ডিতরা এসে ঘন্টা উঠায়। একটি কঙ্কাল ছাড়া কিছু দেখতে পায়না। ওদিকে কিয়োহিমেও দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে নদীতে ডুব দেয়। আর ওঠে না সে। এমন করুণ পরিণতির মধ্য দিয়েই শেষ হয় ছবিটি।

Dojiji 2

কোনকিছু পাবার ইচ্ছায় মানুষ এমন কিছু ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় যা তাকে এবং তার আশেপাশের সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবং না পাওয়ার ক্রোধ তার মনুষ্যত্বকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। যা এই মুভি আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে। তারপরও যখন কিয়োহিমের মনের করুণ অবস্থা ফুটে ওঠে তার জন্য আসলেই কষ্ট হয়।

সম্পুর্ণ ডায়ালগ বিহীন এ মুভি খুব কম মানুষেরই ভাল লাগবে। কিন্তু যারা একটু নতুন কিছু চান তারা সময় নিয়ে দেখে ফেলতে পারেন। আগেই বলে রাখলাম ইট ইজ নট এভ্রিওয়ানস কাপ অফ টি।

Dojiji 3 Dojiji 4

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chika Gentou

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki – ১৯৯২ সালে নির্মিত ৫০ মিনিটের ট্রেডিশনাল জাপানিজ হরর মুভি। এই ‘disgustingly beautiful piece of art’ তৈরির নেপথ্যে মূলত একজন- Hiroshi Harada। দীর্ঘ ৫ বছরের এই প্রজেক্টের কাজে তিনি তার সারাজীবনের কামাই ঢেলে দিয়েছেন। তার এই অসামান্য ডেডিকেশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রিভিউ লেখা।

আমরা কম-বেশি সবাই নিষ্ঠুর। অন্যজনের কাছে এই নিষ্ঠুরতা কতখানি প্রকাশ করব তার উপর ভিত্তি করেই আমরা মানুষ বিচার করি। কিন্তু এমনকিছু ঘটনা থাকে যার কাছে সব ধরণের নিষ্ঠুরতা হার মানে। Shoujo tsubaki এমন একটি মুভি যার মাঝে নিষ্ঠুরতার বিভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাব।

মিদোরির মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু দিয়ে কাহিনীর শুরু হয়। তার বাবা আগেই মারা গেছে। একদিন এক ভদ্রলোক মিদোরির দুর্দশা দেখে তার খরচাপাতি বহন করার প্রস্তাব দেয়। স্কুলে যেতে পারবে- এই মিথ্যা আশায় মিদোরির নিষ্পাপ মন আনন্দে নেচে উঠে। কিন্তু হায়! তার ভাগ্যে কি এ-ই অপেক্ষা করছিল?? তার ঠাঁই হয়েছে এক ‘ফ্রিক শো’ তে, যেখানে মানুষরূপী কিছু পশুর অত্যাচার ও লাঞ্চনা ছিল প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু তার তো আর কোথাও যাওয়ার নেই। বের হলেই সে ট্রেনের দিকে হাত নাড়ত। মনে শুধু একটাই আশা ছিল কোন এক রাজপুত্র তাকে উদ্ধার করবে এই নরক থেকে। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে চরমভাবে বিপর্যস্ত হবার পর যখন মিদোরি আশা ছেড়ে দেবার কথা চিন্তা করে তখনই আবির্ভাব হয় ‘আরাশি’ নামের এক জাদুকরের। যে কিনা মিদোরির ত্রাণকর্তা।
জাদুকর আরাশি ও মিদোরির মাঝে এক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মত এমন রোমান্টিক জুটি এই জগতে মেলা ভার। তাদের একসাথে থাকার স্বপ্ন মনকে নাড়া দেয়।

কিন্তু এই নির্ভেজাল ভালবাসার মধ্যে যখন ঈর্ষা কাজ করে তখন সবকিছু একটু কঠিন হয়ে যায়। বামন জাদুকর আরাশি যখন দেখে তাদের দলের একজন মিদোরিকে পছন্দ করে, তখন তাকে অদ্ভুতভাবে মেরে ফেলে। একদিন কোন এক কারণে আরাশির মেজাজ খারাপ থাকে। তখন সে তার দর্শকদের উপর চড়াও হয়। যার ফল হয় মারাত্মক। কত ব্রুটালি মানুষকে মারা যায় তা দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মিদোরিও ক্রমশ আরাশিকে ভয় পাওয়া শুরু করে। মিদোরি কি পারবে এই নরক থেকে ফিরে আসতে? সে কি তার স্বপ্নের পথে আগাবে? নাকি জাদুকরের ধূম্রজালে আটকা পড়বে?

কোন একটি সৃষ্টির সার্থকতা তখনই যখন তা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। যখন আপনার সাথে কেউ নিষ্ঠুর আচরণ করবে তখন চুপচাপ বসে না থেকে ট্যাক্টফুলি কীভাবে তার মোকাবেলা করা যায় তা আপনাকেই ভাবতে হবে। যদি এমন কোন অবস্থায় পড়েন যেখানে চারপাশে আপনার শত্রু তখন চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নাইলে মিদোরির মতই আপনার কোন প্রিয় মানুষকে রেঁধে খাওয়ালেও আপনি হয়ত জানবেন না। এছাড়া মানুষকে সবসময় তার এ্যাপিয়ারেন্স দিয়ে বিচার করতে নেই এই সত্যিটাও আমরা শিখতে পারি এ মুভি থেকে। ট্রান্সভেস্টাইটদের অধিকার সম্পর্কেও ভাবায় এই মুভি। আর সবচেতে বড় শিক্ষা হল জীবনযুদ্ধে কখনই হার মানা যাবেনা। মিদোরি এত নিপীড়ন সহ্য করার পরও যখন সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখন মনে হয় এই পৃথাবীতে কিছুই অসম্ভব না।

সাস্পেন্স, থ্রিলার, হরর, রোমান্স এ সবকিছুর মিশেল এই মুভি। আপনার হার্ট যদি ভুল জায়গায় হয় এবং আপনি যদি স্যাডিস্ট হন, তাহলে এটা আপনার জন্য পারফেক্ট মুভি। আর এম্নিই যদি দেখতে ইচ্ছা করে তবে caution নিতে ভুলবেন না।

Chirin no Suzu (Ringing Bell) [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chirin no Suzu

Chirin no Suzu (Ringing Bell)- ১৯৭৪ সালে স্টুডিও Sanrio থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি কন্ট্রোভার্শাল মুভি। এই মুভি ছোটদের জন্য টার্গেট করা হলেও এর কন্টেন্ট অনেক পাওয়ারফুল যার কারণে অনেক দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কড়া বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এই মুভিতে যা হয়ত ছোট বাচ্চাদের মনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

এর প্রধান চরিত্র হল চিরিন নামের ছোট্ট ও দুষ্টু এক ভেড়ার ছানা, ঘুরে-বেড়ানো ছিল যার অন্যতম শখ। সে তার চঞ্চলতায় আশেপাশের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এ কারণে তার মা’র তাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। একদিন কিছু সময়ের জন্য চিরিনকে খুঁজে না পাওয়ায় তার মা’র উৎকন্ঠা আমাদেরকে মা ও সন্তানের মধ্যে যে নাড়ির টান ও পবিত্র আত্মার বাঁধন রয়েছে তা নতুনভাবে জানিয়ে দেয়। ভেড়াগুলির চারণক্ষেত্র একটি বেড়ায় বেষ্টিত। বেড়ার অপরদিকে দূরের এক পাহাড়ের দিকে ইংগিত করে মা চিরিনকে একদিন বলেন ওখানে এক ভয়ংকর নেকড়ে বাস করে। ভুলেও এই বেড়ার বাইরে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করায় চিরিনকে। চিরিনও তার মা’র কথা অবজ্ঞা করেনা। এক গভীর রাতে ঐ দূর পাহাড়ের নেকড়েরাজা ‘Woe’ ভেড়ার খামারে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে চিরিনকে রক্ষা করার জন্য তার মা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আগলে ধরে রাখে। এরই মধ্যে মা-ভেড়া জখম হয় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চিরিন যখন বুঝতে পারে তার মা আর এ পৃথাবীতে নেই তখন তার হৃদয়বিদারক কান্না সত্যিই বুকে বিঁধে। এরপর চিরিনের মধ্যে পরিবর্তন আসে। সে তার মনে ঠিক করে ফেলে সে শক্তিশালী হবে। নিজের জীবন এমন সহজে বিলিয়ে দেবেনা আর। তার জন্য সে ঐ নেকড়ের কাছে যায়। নেকড়েকে শিক্ষা দিতে বলে, তাকে শিক্ষানবিশ বানানোর অনুরোধ করে। প্রথমে নেকড়ে ‘Woe’ তাকে একটুও পরোয়া না করলেও যখন সে চিরিনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সাহসী মনোভাব দেখে, তখন রাজি হয়ে যায়। তাদের মধ্যে একটি প্যাক্ট হয়। চিরিন একদিন নেকড়ের চেয়েও শক্তিশালী হবে এবং তখন সে তার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবে। নেকড়ে Woe চিরিনকে নিয়মিত ট্রেইনিং দিতে থাকে। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য ভয়ংকর সব সত্যের মুখোমুখি হয় চিরিন। এই সত্যি উপলদ্ধি করে চিরিনের মানসিকতার পরিবর্তন এবং তার জন্য অনুশোচনা আমাদেরকে ভাবায় আমাদের জীবন কী তুচ্ছ।

‘Someone has to die so that someone else can live.’ এই চরম সত্যটি আমরা কখনই হয়ত মেনে নিতে পারব না। কিন্তু আমাদের সার্ভাইভালের জন্য এটা মেনে নিতে আমরা বাধ্য। আমাদের অস্তিত্ব প্রতিদিনই সংকটের মুখে। জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়। তাই আমরা কতটুকু স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তুত তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ যেখানে আফসোসের কোন অবকাশ থাকবেনা। থাকবেনা কোন পিছুটান।। প্রকৃতির এসব নিষ্ঠুর নিয়ম মেনে নিয়ে বেঁচে থাকার সার্থকতার কথাই জানান দেয় এই মুভি।

এই মুভির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কারণ এই মুভির মেসেজগুলি এত বেশি পাওয়ারফুল যা আপনাকে বারবার রিপিট করে দেখতে বাধ্য করবে। চারপাশের কিছু সুন্দর দৃশ্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। তার সাথে সুন্দর কিন্তু করুণ ওপেনিং সং এবং ভয়েস এ্যাকটরদের নৈপুণ্যতায় আপনি মিশে যাবেন এর কাহিনীতে। এটা অবশ্যই ‘Must Watch’ লিস্টে রাখার যোগ্যতা রাখে।

Atama Yama [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Atama Yama

Atama Yama (Mount Head)- ৭৫তম এ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এ শর্ট ফিল্ম এনিমেশন ক্যাটাগরি তে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ মিনিটের মুভি। গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা এই মুভি। গ্রাম-গঞ্জে যেমন সুর করে পুঁথিপাঠ করা হয়, অনেকটা তেমনই করেই রাকুগো-টেলার তাকেহারু কুনিমোতো তার দরাজ কন্ঠে গল্পের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে পুরো মুভি জুড়ে শামিশেনের সুর অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। মুভিটায় আমরা মানবমনের গভীর ভয়,উৎকন্ঠা কিংবা আত্মগ্লানির এক মিশেল দেখতে পাই।
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই বড়দের বলতে শুনেছি ফলের বিচি খেলে নাকি মাথায় গাছ উঠবে। যার কারণে কোনসময় ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়ে সারারাত ঘুম হতো না। এই মুভির প্রধান চরিত্র এক মধ্যবয়সী কৃপণ লোক যিনি কিনা কাউকে ধার দেন না এবং কোন জিনিস যতই ফেলনা হোক না কেন তা ব্যবহার করতে চান। যার কারণে তার বাড়িভর্তি আবর্জনার স্তূপ। যাই হোক একদিন তিনি কিছু চেরীফল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সেগুলো ঝুড়ি করে বাসায় নিয়ে আসেন। তো একটি চেরী খাওয়ার পর তিনি চিন্তা করেন, বিচিটা শুধু শুধু নষ্ট হবার চেয়ে বরং খেয়েই ফেলি। তো কিছুক্ষণ পর দেখলেন তার মাথায় চেরীফলের গাছ উঠছে। তিনি একবার কাটেন। কিন্তু লাভ হয়না বরং গাছটি বেড়ে উঠতে থাকে। তো একসময় তিনি ব্যাপারটা মেনে নেন। গাছটি চেরীফুলে ভর্তি হয়ে যায় এবং এর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকটির মাথা হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। সব ভালই চলছিল। একদিন ভীড় বেড়ে যায়। লোকটির মন-মেজাজও খারাপ হতে থাকে। একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি গাছটিকে উপড়িয়ে ফেলেন। এরপরের কাহিনী নিজেকেই জানতে হবে। এটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।

এবার গূঢ় অর্থটি ব্যাখ্যা করি। লোকটির মাথা যখন প্রথম পিকনিক স্পটে পরিণত হয় তখন কিন্তু লোকটির লাভ ই হয়। কারণ দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ জায়গাটি দেখতে আসে। যার ফলে লোকটি ফায়দা নিতে পারে। একসময় দেখা যায় মানুষ ঐ জায়গাটি যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, ফলস্বরূপ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এবং একসময় লোকটি গাছটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। এখন চেরীব্লসমের জায়গায় নিজেদের মেধা ও মননের কথা একটু চিন্তা করি। আমাদের প্রত্যেকের মেধা আলাদা। এই মেধা যদি মানবজাতির কল্যাণে কাজে আসে তবেই সার্থক। অনেকসময় দেখা যায় এই কল্যাণের পথ পাড়ি দেবার সময় আমাদের অন্য কোন মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। অর্থাৎ আমাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন মাধ্যম মানব কল্যাণকর কাজে তৎপর হয়। একসময় এই মেধা তাদের স্বেচ্ছাসারীতার কাছে বলি হয়। অনেকটা আমাদের মেধাস্বত্ব কিনে নেবার মত। কিন্তু এর ফলাফল হয় মারাত্মক। যার কারণে আমরা এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই যা কখনই কাম্য নয়। একসময় নিজের মেধা নিজের কাছেই অচেনা মনে হয়। ফলে আমরা ক্রমাগত অন্ধকারে ডুবতে থাকি। মানবমনের এই অন্তর্কলহ ফুটে উঠেছে এই মুভিতে।
ওয়েল, আমি এই মুভির সব রিভিউ দেখেছি। কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে এর অন্যান্য রিভিউগুলোর কোন সাদৃৃশ্যই নেই। তাই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন আমি কি আসলেই এর তাৎপর্যটা ধরতে পেরেছি?

এই মুভি একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে। তাই আপনার জীবনে যদি সময়ের মূল্য না থাকে এবং গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট এই মুভি।