Ping Pong The Animation [রিভিউ] — Safin Zaman

Ping Pong

Ping Pong The Animation
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ সাইকোলজিকাল, সেইনেন, স্পোর্টস

“৯ ফিট বাই ৫ ফিট একটা টেবিল। টেবিলের দুই পাশে ঘর্মাক্ত দুই বালক। হাতে তাদের টেবিল টেনিস র‍্যাকেট। অনবরত বলটাকে এক পাশ থেকে আরেক পাশে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করছে তারা। ঠাস, ঠাস, ঠাস, ঠাস। অদ্ভুত এক ছন্দ তৈরী হয়েছে খেলার মধ্যে। দর্শকদের চাহনী একবার এই পাশে, তো আরেকবার অপর পাশে। বলার উপায় নেই দুইজনের মধ্যে কে জিতবে। একি! একজন বালকের চোখে পানি কেন? চোখে পানি নিয়েও এত নিখুঁতভাবে খেলছে যেন সে জানেই বল কোথায় এসে পড়বে। ঠোঁটের কোনে খানিকটা হাসিও যেন দেখা যাচ্ছে তার!”
..
..
..

সুকিমতো মাকোতো। ভাঙ্গা পরিবার থেকে আসা এক ইন্ট্রোভার্টেড বালক। চুপচাপ,কখনো না হাসা, কোন কিছুতেই অভিব্যক্তি না দেখানোর কারণে রোবট,স্মাইল বিভিন্ন ধরণের ডাকনাম পেয়েও নির্বিক সে। জগতের কোন কিছুতেই যেন তার কোনরকম আগ্রহ নেই।
অপরদিকে ইয়োতাকা হোশিনো ওরফে পেকো এক হাসিখুসি উচ্ছল বালক। টেবিল টেনিসে দারুণ ট্যালেন্টেড। ছোট বয়সেই বড় বড় পিংপং টুর্নামেন্টে খেলে পুরষ্কারের ঝুলি ভারী করা এই বালক তার সহপাঠিদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।
দুইজন সম্পুর্ণ ভিন্ন পার্সোনালিটির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব হতো না যদি টেবিল টেনিসের প্রতি দুইজনের ভালবাসা না থাকত। সেই ছোটবেলায় পেকোর সুকিমতোকে টেবিল টেনিসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার পর থেকে তাদের বন্ধুত্ব হাইস্কুল পর্যন্ত চলে আসছে। হাইস্কুল এ উঠার পর পুরো টিমের কাছে তারা দুজন এক অপরাজেয় ট্যালেন্টেড ডুয়ো হিসেবেই পরিচিত।
কিন্তু আসলেই কি তাই? এই জগতের এক অলিখিত নিয়মই হলো একজন যত ট্যালেন্টেডই হোক না কেন, তার চেয়ে ট্যালেন্টেড আরেকজন অবশ্যই আছে। আর এই নিয়ম প্রমাণ করার জন্য আছে কং ওয়েং, কাজামা রিয়ুইচি, সাকুমা মানাবোর মতো খেলোয়াড় যাদের খেলা এই ডুয়োকে বহুগুণে ছাপিয়ে যায়। এতসব ‘মন্সটার’ দের ভীড়ে সামান্য পেকো আর স্মাইল কিই বা করতে পারবে?

পিংপং দি এনিমেশন হলো এক বন্ধুত্বের গল্প, গুটিকয়েক মানুষের জীবনের টানাপোড়েনের গল্প, স্মাইল আর পেকো কিভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে সামনে আগানোর পথ বাতলে দেয় তার গল্প। মাত্র ১১ পর্বের এই গল্পে যেই পরিমাণ চরিত্রের গাঁথুনি আর তাদের গভীরতা দেখানো হয়েছে তা অবিশ্বাস্য রকমের ভাল। এনিমের প্রত্যেকটা চরিত্র আর পিংপং নিয়ে তাদের মনোভাব দর্শকদের কাছে সুন্দরভাবে পৌছাতে পেরেছে যার জন্য ‘তাতামি গ্যালাক্সি’খ্যাত ডিরেক্টর ইউয়াসা মাসাকি একটা বড় ধরণের ধন্যবাদ প্রাপ্ত ।

এনিমের আর্টস্টাইল বেশখানিকটাই ‘অন্যরকম’। এতটাই যে আর্টস্টাইল দেখেও ড্রপ দেবার কথা মনে আসতে পারে। কিন্তু ড্রপ দিলে কি মাস্টারপিস মিস করবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই আর্টস্টাইলের চিন্তা বাদ দিয়ে দেখা শুরু করে দিন । কয়েক মিনিটের মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন আর্টস্টাইলের সাথে।
তাই যদি এমন কোন এনিমে চান যা একই সাথে স্পোর্টস আর সাইকোলজিকাল অ্যাস্পেক্ট গুলোর উপর গুরুত্ব দেয় তাহলে পিংপং দি এনিমেশন হাইলি রেকমেন্ডেড। এই এনিম শেষে আমি হা-হুতাশ করেছি যে মাত্র ১১ পর্বে শেষ হয়ে গেল। ১০০ পর্ব হলেও দেখতে বিনা ক্লান্তিতে দেখতে পারতাম এই মাস্টারপিস।

ম্যাল রেটিংঃ ৮.৬৬/১০
আমার রেটিংঃ ৯.৭/১০

Ping Pong the Animation ও এর ইন্টারপ্রিটেশন — Abdullah Ar Rayhan

Ping Pong

|| Ping Pong the Animation নিয়ে আমার নিজের ইন্টারপ্রিটেশন ||

এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে চার জন হাই স্কুল ছাত্রকে নিয়ে আবর্তিত একটি কামিং-অফ-এজ স্টোরি বলা যায় যেখানে আমরা দেখি কিভাবে পিংপং তাদের লাইফকে শেইপ করে। কিন্তু কিছুদূর দেখলেই যে কেউ বুঝবে যে এ অ্যানিমে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

শুরুটা হয় দুজন হাই স্কুল ফ্রেশার দিয়ে– ‘পেকো’ আর ‘স্মাইল’। পেকো-কে আপনি এক ধরণের ওয়ান্ডারবয় বলতে পারেন; আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি এফোর্ট দেয়া ছাড়াই যে গ্রেড স্কুল থেকেই প্রতিপক্ষদের নিয়মিত হারিয়ে আসছে, তার চরিত্র বেশ ইগো-সেন্ট্রিক। অন্যদিকে স্মাইল যদিও ভালো খেলে, সে পেকো-র ছায়ায়ই থেকেছে সবসময়। অথচ তাদের প্রথম ইন্টারস্কুল প্রিলিমিনারি টুর্নামেন্টে নজরটা স্মাইল-এর ওপরই বেশি পড়ে। চরিত্রগত দিক দিয়ে পেকো-র বিপরীত মেরুতে এর অবস্থান। সবসময় শান্ত, অনুত্তেজিত, রোবটিক। বাকি প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাজামা এবং চীন থেকে নির্বাসিত হওয়া কং।

এটুকু থেকে এটা স্পষ্ট যে অ্যানিমের সেটিং হাইস্কুল পিংপং but don’t let me fool you, it’s much more than that. You see, এটা কোন টিপিক্যাল স্পোর্টস অ্যানিমে না। পিংপংকে এখানে কেবল অনুঘটক বলা যেতে পারে। আপনি নরমাল স্পোর্টস অ্যানিমের মত এখানে কোন বিশেষ ট্রিক পাবেন না, কোন আগুনে rivalry পাবেন না (যদিও একেবারে যে নেই তা-ও নয় কিন্তু মূল গল্পের তুলনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়)। এটি যতটা না খেলা নিয়ে, তার চেয়েও বেশি জীবন নিয়ে, নিজেকে খুঁজে পাওয়া নিয়ে। তবে এর মানে এই না যে এটায় স্পোর্টস এলিমেন্ট নেই। যথেষ্ট এক্সাইটিং মোমেন্টস আছে। স্পোর্টস এলিমেন্টগুলো ফিলোসফিক্যাল আর সাইকোলজিক্যাল অ্যাস্পেক্টগুলোর সাথে এত সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করা হয়েছে যে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না।

যে তিনটা বৈশিষ্ট্য সিরিজটিকে ইউনিক করে তা হলো আর্ট স্টাইল, চরিত্রায়ন আর গল্পের গভীরতা। প্রথমেই মনে হবে যেন জীবন্ত একটা স্কেচবুক দেখছি। সাথে ওয়াটারকালার ব্যাকগ্রাউন্ড একটা পেইন্টিং ভাব এনে দেয়। যে আর্টিস্টিক অ্যাপ্রোচে অ্যানিমেশন করা হয়েছে তা থেকেই বোঝা যায় কত এফোর্ট দেয়া হয়েছে এর পেছনে। অনেকেই এমন আর্টস্টাইলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারে কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল একটা ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এমন একটা অ্যানিমের জন্য এরকম আর্ট পারফেক্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। চরিত্রগুলোর মুভমেন্ট বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে উঠেছে; আর এ প্রথম কোন অ্যানিমে দেখে আমার কারেক্টারগুলোকে জাপানীজ মনে হলো। 😛 আর্ট ভালো না লাগলেও একবার স্টোরিতে ঢুকে গেলে আর bother করবে না এটা গ্যারান্টিড।

এত অল্প সময়ে এত পরিপূর্ণ চরিত্রায়ন সত্যিই ইম্প্রেস করার মত। আপনি এদের ওপর ক্রাশ খাবেন না, দিবাস্বপ্নও দেখবেন না; কিন্তু প্রতিটা চরিত্রের সাথেই আমরা কেউ না কেউ রিলেট করতে পারবো। এ চরিত্রগুলো বাস্তব থেকে তুলে আনা, আপনার আমার মতই মানুষ এরা, এবং এখানে তাদের দেখানোও হয়েছে মানুষ হিসেবেই। স্টোরি এগুনোর সাথে সাথে আমরা চরিত্রগুলোকে চিনতে শিখি, তাদের মনস্তত্ব ধরতে পারি, আর পিংপং খেলার মধ্য দিয়ে তাদের ডেভেলপমেন্ট দেখি। যেটা উল্লেখযোগ্য তা হলো, ছোটখাটো চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালোভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে, তাদের জীবন নিয়েও আমরা জানার সুযোগ পাই। অন্যান্য অ্যানিমের মত, এখানে দর্শককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় নি। ভালো-মন্দের কোন রেখা দেখানো হয়নি। কোন চরিত্রকে অপছন্দ করা যায় না, বরং যত ছোটই হোক, সবাই নিজ আলোয় উজ্জ্বল এবং আপনি তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করবেন।

মূলত character driven হলেও সিরিজের প্লট শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখে। গল্প নির্দিষ্ট কোন সরলরেখায় না এগিয়ে চরিত্রগুলোর ওপর ফোকাস করে। তাদের সমস্যা, তাদের মোটিভেশন, প্যাশন, সাইকোলজি এগুলোই বেশি গুরুত্ব পায় কাহিনীতে।

What drives us to be what/where we are? প্যাশন? উচ্চাকাংক্ষা? নিজেকে সবার ওপরে দেখতে চাওয়ার মনোবাসনা? নাকি যা করি তার প্রতি ভালোবাসা? অনেকটুকু সময় ধরেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

আমরা দেখি পেকো-র নিজেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রূপে দেখার বাসনা, কং-এর জাপানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাংক্ষা, কাজামা-র নিজের এবং স্কুলের সম্মান ধরে রাখার দায়িত্ব, নিখাদ কঠোর পরিশ্রম আর চর্চা দিয়ে সাকুমা-র মেধাহীনতাকে ওভারকাম করার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি। কিন্তু এগুলোই কি সব? তবে স্মাইল কিসের দ্বারা তাড়িত হয়? এখানে এক্সপ্লোর করা কে হয় চরিত্রগুলো আসলে কারা, তারা কি করতে পারে, কি তাদের পরিচালনা করে। একেকটা এপিসোড যাওয়ার সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি। আমরা অনুধাবন করি যে পেকো, কাজামা, কং, সাকুমা- এরা আসলে আমরা নিজেরাই। প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্য দিয়েও চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে ইন্টার-অ্যাকশন করার মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত রকমের বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে দেখি আমরা। শুনতে ক্লিশে মনে হলেও, এর ডায়নামিক্স অন্যরকম।

এত অল্প সময়ের মধ্যে এত কিছু কভার করা আসলেই দুঃসাধ্যের মত এবং অ্যানিমেটি এতে বিস্ময়কর রকমের সফল। ১১ এপিসোডেই কভার করা হয়েছে প্রায় দু বছরের স্টোরি, প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি, জীবনের প্রতি তাদের ফিলোসফিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল টেইক।

সাউন্ড আর মিউজিকের দিক দিয়েও কিন্তু বেশ ভালোভাবে উতরে যায় পিং পং দ্য অ্যানিমেশন। বিশেষ করে এন্ডিং সংটা স্কিপ করা এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে উঠে পড়েছিল। আর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাউন্ড মিক্সিং নজর কেড়েছে বিশেষভাবে। মেঝেতে প্লেয়ারদের জুতো ঘষার শব্দ, বলের আওয়াজ, খেলার সময় মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া শব্দ, ভয়েস অ্যাক্টিং- সব কিছুই পারফেক্টলি সিঙ্কড মনে হয়েছে।

মনোযোগ কেড়েছে এপিসোডের নামগুলোও। এগুলোর কোন আলাদা অর্থ আছে কিনা তা আমার স্বল্পজ্ঞানের কারণে বুঝে উঠতে পারিনি কিন্তু টাইটেলগুলো আসলেই বেশ আকর্ষণীয়, একটা লিটারারি ভাব আছে। দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করে।

খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে এটি একটি deeply personal, philosophically surreal এবং visually metaphorical একটা কাহিনী যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে টেবল টেনিসের মত বোরিং একটা স্পোর্টস দিয়ে ‘আন-বোরিং’ উপায়ে। এ অ্যানিমের অন্যতম প্লাস-পয়েন্ট হলো একে পরিপূর্ণ্রূপে উপভোগ করার জন্য পিংপং এর ‘পি’ ও জানতে হবে না দর্শককে।

অস্বাভাবিক আর্ট দেখে হয়তো অনেকেই অ্যানিমেটি দেখে না, which is a great shame, because it is one of the anime I truly enjoyed watching, and thinking and writing about. It has 8.68/10 on MAL but I somehow still think that it is underrated. আরো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু মাথায় আসলেও আঙ্গুলের ডগায় আসছে না। গুছিয়ে লেখা আমার কম্ম নয়। অনেক ল্যাকিংস আছে আমার লেখায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে, কিন্তু এত ভালো লেগেছে যে না লিখেও পারিনি। এনিমখোরদের প্রতি আমার রিকমেন্ডেশন হচ্ছে, আপনি যে জনরা-ই পছন্দ করুন না কেন এটি দেখুন।

[স্পয়লার সতর্কতা]
শুরুতে উদ্ধত দেখালেও শেষের দিকে গিয়ে পেকো-কে যেভাবে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে -যে কিনা জীবনের বাঁকেবাঁকে একটু একটু করে কয়েকজনের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে- তা সত্যিই ভালো লেগেছে আমার। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যেভাবে আত্নোন্নয়ন করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। I liked that they didn’t make a big deal out of Peco and Smile’s final. ভালো লেগেছে লাস্ট এপিসোডে কাজামা আর স্মাইল এর রিইউনিয়ন। সত্যিই, নির্দিষ্ট একটি চরিত্রকে বিশেষভাবে পছন্দ বা অপছন্দ করা আসলেই কঠিন ছিল। কাজামা, সাকুমা, পেকো, স্মাইল- প্রত্যেক চরিত্রের সাথে রিলেট করতে পারাটা নিঃসন্দেহে এ অ্যানিমে ভালো লাগার অন্যতম কারণ।

Ping Pong The Animation রিভিউ — Zahin Mobashshir

Ping Pong

কোন এনিমেকে পার্ফেক্ট কখন বলবেন?

যদি এনিমেটি দেখে আপনার খায়েশ মিটে?

যদি এনিমেটি দেখে তৃপ্তি পান?

যদি এনিমেটি দেখার সময় অন্যসব কিছু ভুলে যান এবং এরপরের এপিসোড না দেখে উঠতে পারেন না?

সবার উত্তর কখনওই এক হবে না, হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক।

Ping Pong The Animation

এপিসোড সংখ্যা: ১১

Genre: Psychological, Seinen, Sports.

এনিমেটির কাহিনী একদমই সাধারণ। দুই বন্ধু পিং পং তথা টেবিল টেনিস খেলতে ভালবাসে। তাই দুইজনেই স্কুলের টেবিল ট টেনিস ক্লাবে অংশ নেয়। একজন অনেকদিন হইল টেবিল টেনিস খেলে যার নাম Yukata Hoshino। তার প্রতিভা নিয়ে ক্লাবের কারও কোন সন্দেহ নেই কিন্তু প্রতিভা থাকলে যা হয়, অহংকারে পরিপূর্ণ Hoshino এর মন। তার মতে তার থেকে ভাল কোন প্লেয়ার থাকতেই পারে না। অহংকারবশত তাই সে নিয়মিত প্রাক্টিসে যায় না এবং খবরদারি করে ঘুরে বেড়ায়। অন্যদিকে তারই বন্ধু Makoto Tsukimoto। এই ব্যক্তি টেবিল টেনিস খেলা নতুন শুরু করলেও সে কখনওই প্রাক্টিস ফাকি দেয়া না এবং নিয়মিত খেলেই যায়।

দুই বন্ধুর পিং পং খেলার কাহিনী নিয়েই এনিমেটি এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইন্টার হাই টেবিল টেনিসে গিয়েই তাদের জীবনের ঘুড়ি পালটায় যায়।

এবার আগের কথায় ফিরে আসি।
এনিমেটি দেখার পরে অনেককেই রিকমেন্ড করেছিলাম। কেউই এখন পর্যন্ত বলল না যে এনিমেটি অসাধারণ ছিল।
সবার মতামত মিলবে তা হওয়া সম্ভবপরও নয়।

এনিমেটি যে কারনে আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে তার প্রধান কারন ছিল এর জনরা। একটা স্পোর্টস এনিমেতে কি করে সাইকোলজিক্যাল জনরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?!!!

এই প্রশ্নের উত্তর যারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের কাছেই কেবল এনিমেটির স্বার্থকতা ধরা পড়েছে।

এনিমেটির জনরায় সাইকোলজিক্যাল অন্তর্ভুক্ত করার কারন খুঁজে পাওয়ার কারনেই এটা আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে।

এবার আপনারাও এই ১১ পর্বের এনিমেটি দেখে যাচাই করে দেখতে পারেন।

পিংপং দ্য অ্যানিমেশন – ব্যর্থতা, সংগ্রাম আর জীবনের শৈল্পিকতা — Fahim Bin Selim

[Ping Pong the Animation স্পয়লার সতর্কতাঃ নিজ দায়িত্বে পড়ুন]

পিংপং দ্য অ্যানিমেশন গতবছর দেখা অংগোয়িং অবস্থায়, সপ্তাহে এক পর্ব করে , এপ্রিল থেকে জুন অবধি। আর এটা ছিলো আমার গতবছরের সবচেয়ে প্রিয় অ্যানিমে। গত মাসে এর ডাব বের হওয়ায় কিছুদিন আগে পুনরায় দেখা শুরু করেছিলাম। আমি কি এখনোও মনে করি, পিংপং দ্য অ্যানিমেশন ২০১৪-এর সেরা অ্যানিমে? Does it hold up?

 

“There are no heroes.”

-Kazama

                      vlcsnap-2015-07-14-17h09m11s124
হোশিনো ইউতাকা – পেকো। পিংপং খেলায় অসাধারন প্রতিভাবান, আঞ্চলিক বয়সভিত্তিক প্রতিযোগীতায় দুর্জেয়, চারিদিক সমাদৃত। অত্যুৎসাহী, খামখেয়ালী। আর উদ্ধত। ছোট পুকুরের বড় মাছ।
কিন্তু একেবারেই প্রথম পর্বে কং-এর কাছে পরাজয়ে পেকো প্রথম এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পায় – সম্ভবত সবার জীবনেরই কোন না কোন এক মুহূর্তে যার সমুক্ষীন হতে হয় – “You are not the center of the Universe.” এতদিন পেকোর কাছে পিংপং ছিলো শুধু সাফল্যগাঁথা। কিন্তু এই প্রথম পেকো মুদ্রার অপর পিঠটাও দেখে। এতদিন যে শুধু বিজয়কেই অবশ্যম্ভাবী বলে ধরে নিয়েছিল, যার সন্তরণ জল ছিল স্থির আর অগভীর – সে অনাকাঙ্খিত এক ব্যর্থতার স্বাদ পায়, সমুদ্রের প্রথম স্পর্শেই খেই হারায়। প্রথম বুঝতে পারে তার আপাত উজ্জ্বল, ঈর্ষনীয়, গুরুত্বপূর্ণ অস্তিত্ব মহাকালের প্রবাহে খুবই ম্রীয়মান, তুচ্ছ, আর গুরুত্বহীন। তার পরিচিত জগৎ তাসের ঘরের মত দুমড়ে পরে। ১১-০ তে হারা এক ম্যাচ, শুধুমাত্র একটি ম্যাচের ব্যর্থতা পেকোর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, তার জীবন সম্পর্কে ধারণা আমূল বদলে দেয়।

                   vlcsnap-2015-07-14-17h19m14s26
আর এই ব্যর্থতা হল পিংপং দ্য অ্যানিমেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বারবার ফিরে আসা প্রসঙ্গ। ব্যর্থতা, সংগ্রাম, বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নেওয়া। কোন অত্যুক্তি  না, কোন লুকাছাপা না। আর এখানেই মনে হয় এই গল্প আর বেশিরভাগ  স্পোর্টস অ্যানিমে থেকে আলাদা। পিংপং দ্য অ্যানিমেশনের গল্প জীবনের সামগ্রিকতা নিয়ে, সকল ক্ষেত্রে সংগতিপূর্ণ। এর কাহিনী প্রত্যেক চরিত্রের কাছে খেলাটার আলাদা আলাদা অর্থ নিয়ে, তাদের জীবনাভিপ্রায়ের বৈপরিত্য নিয়ে। অবশ্যই পিংপং দ্য অ্যানিমেশন, পিংপং খেলা নিয়ে অ্যানিমে। কিন্ত এখানে খেলাটা সবসময়ই নেপথ্য বিষয়, কেবলই অন্তর্নিহিত বক্তব্যের বাহক মাত্র। পিংপং দ্য অ্যানিমেশন কখনই তার চরিত্রদের ভুলে যায় না, তাদের খেলার বাইরের জীবনটাকে ভুলে যায় না – তাদের পরিবার, তাদের পারিপার্শ্বিকতা, তাদের বেড়ে ওঠা।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ অ্যানিমের দুই পার্শ্বচরিত্র – ক্যাপ্টেন ওতা আর সাকুমা। ওতা, ছোটবেলার থেকেই সে পিংপং খেলার প্রতি প্রবল ভালো লাগা নিয়ে বড় হয়েছে। কিন্তু হাইস্কুলের পিংপং ক্লাবে যোগ দিয়ে পেকো আর স্মাইলের দেখা পাবার পর, বাস্তবতা বুঝতে তার খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। তাদের সাথে তার পার্থক্যটা যে আকাচচুম্বী! কং এর কাছে পেকোর হারে যা আরো সুসংহত হয়। বড় মাছেরাই যেখানে হাবুডুবু খায়, ছোট পুকুরের ছোট মাছদের অসম্ভবত স্বপ্ন দেখাটা তো রীতিমত অপরাধের পর্যায়ে পরে। আর একারণেই তার কাছে পিংপং খেলাটা কেবলই উপভোগের জন্য, হাইস্কুলের শেষ সময়টায় কিছু স্মৃতি রেখে যাওয়ার জন্য। সে আর নামকরা পিংপং খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে না, পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরাই জীবনের একমাত্র নিয়তি হিসেবে মেনে নেয়।

                 vlcsnap-2015-07-14-17h10m18s213
সাকুমার জন্য অবশ্য ব্যাপারটা এতটা সহজ না। সাকুমা, খেলার প্রতি যার আবেগ আর কারো চেয়ে কম না; যে বড় হয়েছে পেকো আর স্মাইলের মত প্রতিভাদের সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতায়; যে দুর্দম, দৃঢ়কল্প। কিন্তু পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর আবেগ কতটা দূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে যদি প্রতিভাটাই না থাকে? যদি পরাস্ত হতে হয় অপরিবর্তনীয় কোন নিয়তির কাছে? ওতা যেটা আগে থেকেই জানতো, আকুমার তা উপলব্ধি করতে লাগে ছয় পর্ব; যখন তাৎপর্যবহুল, ষ্মরনীয় এক ম্যাচে সে স্মাইলের কাছে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয় – অতঃপর তার পিংপং ক্লাব থেকে বহিষ্কৃত হয়। সাকুমা আগে অনেকবারই ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু কখনোই এভাবে না। পারতপক্ষে তার ছোটবেলা কেটেছে পেকোর কাছে বারবার হার মেনে নেওয়ার পরিচিত অনুভূতি নিয়ে। পেকো ছিল অস্পৃশ্য। যাকে হারানোই ছিল তার কাছে অভিষ্ট লক্ষ্য, পরম সাফল্যের প্রতিরূপ। সাকুমা, যে এতদিন শুধু পেকোকেই সাফল্যের দুর্দমীয় চূড়া হিসেবে ভেবে এসেছে, এবং তা অবশেষে জয় করেছে, কিন্তু তাতে এতোটাই বিভোর ছিলো যে বাকি কোন কিছুর প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি, বুঝতে পারে স্মাইল তাদের দুজনকে বেশ আগেই অতিক্রম করে গেছে, এবং বেশ ভালোভাবেই। বাস্তবতা আকুমাকে অবশেষে অপ্রীতিকর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। সে বুঝতে পারে নিজের অনেক পছন্দের এই খেলায় সে কখনোই সাফল্য পাবেনা, অনেক আরাধ্য এক স্বপ্ন তার কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।

               vlcsnap-2015-07-14-17h12m00s28
কিন্তু তবুও সাকুমার গল্পটাই এই অ্যানিমের সবচেয়ে করুণ হতাশার গল্প নয়। কং ওয়েঙ্গার গল্পটা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে পতনের। তার জন্ম পিংপং-এর দেশে। খেলোয়াড় জীবন কতটা কঠিন আর নিষ্ঠুর হতে পারে, তা নিয়ে কং এর কখনোই কোন বিভ্রম ছিলো না।  প্রতিভা কোন অভাব তার ছিলো না, দৃঢ়তারও – বরং তার একমাত্র শত্রু ছিলো ভালো করার চাপ, ব্যর্থ হবার আতঙ্ক। শুধুমাত্র একটি হারের কারণেই তাকে কিনা আসতে হল জাপানের মত ছোট এক দ্বীপরাষ্ট্রে, প্রতিভার প্রমাণ দেওয়ার জন্য! পিংপং হয়ে উঠলো তার বাড়ি ফেরার টিকেট।  কিন্তু সেই সাধারন জাপানী-দের কাছেই যখন তাকে হার মানতে হল – প্রথমে স্মাইলের সাথে না হেরেও হেরে, আর তারপর ষোলকলাপূর্ণ করতে কাজামার কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে – তখন তার সামনে নতুন এক বাস্তবতার আগমন ঘটল। কিন্তু সেটা ছিলো তার শিক্ষার অর্ধেক মাত্র।

                  vlcsnap-2015-07-14-17h12m58s91

অনবদ্য ঘটনাপ্রবাহে, প্রচারকালের মাত্র ১৩০ মিনিটের মাথায়, এক নাকউচুঁ অভিজাত থেকে সে পরিণত হল সবচেয়ে ভালো লাগার চরিত্রে। কং নতুন উদ্দ্যমে শুরু করে, নতুন আদর্শ আর দর্শনে দীক্ষিত হয়ে। কিন্তু পরপর দ্বিতীয়বারও কং-কে পরাজয়ের গ্লানি বইতে হয় – এবার পেকোর কাছে। প্রতিযোগীতা নিষ্ঠুর – অনেক সময় কেবল ভালো আর খারাপের পার্থক্যকারী না, ভালো আর অধিকতর ভালোর নিরূপণেরও মঞ্চ।

                 vlcsnap-2015-07-14-17h13m48s118
কাজামা যতই “হিরো”-তে অবিশ্বাসী হোক, তার একজন ত্রানকর্তার প্রয়োজন ছিলো আর যে কারোর চেয়ে বেশি। সে বড় হয়েছে পিংপং-কেন্দ্রিক এক পরিবারে। পারিবারিক চাপ তাকে বাধ্য করেছে পিংপং খেলতে, সে খেলায় ভালো হতে। কারণ তাতে মিশে আছে পরিবারের সম্মান, তাদের কম্পানীর বানিজ্যিক ভবিষ্যৎ। নিজস্ব  ইচ্ছা যেখানে পারিবারিক দাবির কাছে বন্দী। পিংপং কং-এর কাছে আর বাকিদের মত ভালোবাসার কোন স্থান না, স্বপ্নপুরনের মঞ্চ না, বরং বেঁচে থাকা, পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য আবশ্যকীয় বিষয়। চিরচেনা গল্প?

স্মাইলেরও বড় হওয়া ভাঙন ধরা পরিবারে, কিন্তু তার অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত।  তার জীবনে এমনিতেই হতাশার অনেক কারণই উপস্থিত, সেখানে নতুন করে পিংপং যোগ করার কোন ইচ্ছা তার কখনোই ছিলো না। প্রতিভা যতটাই থাকুক। পিংপং তার কাছে আর সবার মত প্রতিযোগীতা না, বরং মুখে “হাসি” ফুটানোর নিয়ামক। এবং ততোটুকুই। পিংপং-ই তাকে মানুষের সান্নিধ্যে এনেছে, তাকে যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি দিয়েছে, তাকে শিখিয়েছে লোহার মত স্বাদ হলেও তার ধমনী-শিরা দিয়ে বয়ে যাওয়া তরলপ্রবাহ, রক্তই, আর সবার মত লাল। স্মাইলের নতুন কোন হিরো-র প্রয়োজন ছিলো না, তার যে ইতিমধ্যেই একজন আছে। পুরো অ্যানিমে জুড়ে তার খোলসের মধ্যে চলে যাওয়া, সেই নায়কে পুনরাবির্ভাবের জন্য সংকেত হিসেবে পাঠানো – ব্যাটসিগনাল। কারণ সেই নায়কই  তখন বিধ্বস্ত, পথহারা।

                 vlcsnap-2015-07-14-18h00m01s170

সাকুমা পিংপং খেলা ছেড়ে দেয় কিন্তু যাওয়ার আগে সে তার আগে সে তার আগে “মুক্ত” করে দিয়ে যায় পেকোকে। পেকোর সহজাত প্রতিভা, তার নিজের যেটা কখনোই ছিলো না, ধ্বংস না করার পরামর্শ দেয়। আর পেকো, সে যখন তার অধপতনের চূড়ান্তে পৌছেছে, তখনই তার অতীত দিনে কথা মনে পড়ায়, খেলার প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার কথা মনে পড়ায়, নতুন শুরুর মন্ত্রণা পায়। মাঝে মাঝে নায়কদেরও রক্ষাকর্তা দরকার হয়!

বারবার ব্যর্থতার কথা বললেও পিংপং দ্য অ্যানিমেশন শুধু নিরাশার গল্প না। বরং সম্পুর্ণ বিপরীত। বাস্তব ঘেঁষা, পতনের অনিবার্যতার কথা বলা; কিন্তু তা মেনে নিয়ে উত্তরনের, হার না মানার, এর সবটুকু উপভোগ করার বার্তাবাহী। পেকো ফিরে আসে, ভষ্ম থেকে, দুর্নিবার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিয়ে; সে নিজে কং-কে মুক্তি দেয়, কাজামাকে মুক্তি দেয়। উড়তে শেখায়। কং জাপানকে আপন করে নেয়, কাজামা  নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় প্রত্যাশা আর পারিবারিক চাপের দাসত্ব শিকল থেকে। সেই সাথে পিংপং দ্য অ্যানিমেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বার্তাটা দিয়ে যায়।

জীবন কোন অঙ্কের সমীকরণ না, যে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ অনুসারে চললে আকাংক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে। জীবন আরো বেশি কিছু, আরো জটিল কিছু। হয়তো তা পিংপং খেলার মতই। জীবনে “জয়ী” হওয়া কখনোই সম্ভব না। এখানে সাফল্য কখনোই চিরস্থায়ী না। এখানে ব্যর্থতাও কখনোই চিরস্থায়ী না। কারণ জীবনের মহাত্ব্য কখনোই না পরাতে নয়, তা অবশ্যম্ভাবী, বরং পুনরোড্ডয়নের দৃঢ়কল্পতায়; তা থেকে শিক্ষালাভটাই আসল। জীবন সবকিছু নিয়েই, চিরবহমান, ধুসর।

                    

                 vlcsnap-2015-07-14-17h21m52s80        


vlcsnap-2015-07-14-17h21m19s1

আসলেই বাস্তব জীবনে নেই কোন কোন সুপারম্যান, ব্যাটম্যান; নেই কোন সুপার সেন্তাই, কামেন রাইডার। নেই কোন অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাসম্পন্ন, অজেয় অতিমানব – যে বিপদের সময় রক্ষা করবে অবিশ্বাস্য দক্ষতায়; যার নাম ঘুরবে মানুষের মুখে মুখে, আর ত্রাস ছড়াবে দুর্বৃত্তদের হৃদয়ে। কিন্তু একজন “হিরো”, ত্রানকর্তা, অনুপ্রেরণার উৎস হওয়ার জন্য সেগুলোই একমাত্র গুণ? বাস্তব জীবনের নায়কেরা সম্ভবত কমিক বই আর চলচ্চিত্রের মত সার্বজনীন না; অনেকটা ব্যক্তিগত। হয়তো একজন বন্ধু, একজন শিক্ষক, হয়তো বাবা-মা বা কোন এক সহচর। বাস্তব জীবনের নায়করা আর যে কারোর মতই সাধারন, মানবিক আর অনেকাংশে ত্রুটিপূর্ণ।

                   vlcsnap-2015-07-14-17h19m03s163

মাত্র ১১ পর্বে – ২২০ মিনিটের প্রচারকালে পিংপং দ্য অ্যানিমেশন বলেছে কিছু উদীয়মান পিংপং খেলোয়াড়, অবিস্মরনীয় চরিত্রদের তারুন্য, তাদের বিশ্বাস, তাদের স্বপ্ন, তাদের সংগ্রাম, তাদের বেড়ে ওঠা,  “কামিং-অফ-এজ”-এর গল্প। এক বছর আগে পিংপং দ্য অ্যানিমেশন দেখা আমার কাছে যে অভিজ্ঞতা ছিল, ভালো লাগার জায়গাটা এক থাকলেও, এখন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।  সহজে বোধগম্য, আপাত দৃষ্টিতে সাধারন এক গল্প, কিন্তু অনেক বেশি ঘনিষ্ট, অনেক বেশি পরিচিত। অনেক বেশি অনুপ্রেরণার – এক “হিরো”।

আমি কি এখনো মনে করি পিংপং দ্য অ্যানিমেশন ২০১৪ সালের সবচেয়ে সেরা অ্যানিমে?
পিংপং দ্য অ্যানিমেশন আমার দেখা সবসময়ের সবচেয়ে প্রিয় অ্যানিমেরগুলোর তালিকায় একেবারে উপরের সারিতে থাকবে।

Best Ending Song (2014) – “believe” by Kalafina

Fate/Zero তে তিন সুন্দরী ও ট্যালেন্টেড ভদ্রমহিলার ব্যান্ড Kalafina এর করা ওপেনিং ট্র্যাক to the beginning মনে আছে? সেই Kalafina ই এবার করছে Fate/StayNight: Ultimate Blade Works এর এন্ডিং believe. আবার মুগ্ধ করেই ছেড়েছে তারা এ গানটি দিয়ে। পুরোগানটা শুনে ফেলুন এখানে:
http://www.jpopsuki.tv/video/Kalafina—believe/4b1a0fc506c04ee03c1a3b1a2a8ac7db

দ্বিতীয় স্থানে আছে বছরের অন্যতম বিস্ময়ের পরিচয় দেওয়া ক্লাসিক আনিমে PingPong the Animation এর এন্ডিং ট্র্যাক Ano Hero to Bokura no Tsuite। Merengue এর গানটি শুনুন এখানে:
https://www.youtube.com/watch?v=iqxzXesDHu0

14-best-ed

 

Best Sports Anime (2014) – Kuroko no Basket 2nd Season

একটা স্পোর্টস এনিম সিরিজ ভাল লাগার জন্য কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি দরকার? আমার মনে হয় বেশিরভাগ মানুষই যে উত্তরটার সাথে একমত হবেন সেটা হচ্ছে “entertainment factor”. Cause let’s face it, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, চমৎকার স্টোরি, বাস্তবতার সাথে পরিচয় করায় দেওয়া, একটা থিম – এইসব ভারী ভারী জিনিসের জন্য স্লাইস অফ লাইফ বা সাইকোলোজিকাল – অনেক জন্রার সিরিজই রয়েছে। দিনশেষে পিওর এন্টারটেইনমেন্টের জন্যও কিছু জিনিস আলাদা করে রাখতে হয়; এবং তার জন্য এনিমের ক্ষেত্রে স্পোর্টস জন্রার চেয়ে ভাল কিছু হতে পারে না। আর এই মানদন্ডে বিবেচনা করলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই বছরে মেম্বারদের ভোটে সেরা সিরিজ নির্বাচিত হয়েছে kuroko no Basuke – season 2.
অসংখ্য জ ড্রপিং মোমেন্ট, প্রায় প্রত্যেকটা স্কুলের এক বা একাধিক চরিত্রের ভাল রকম স্ক্রিনটাইম, হাই ক্যালিবার প্লে, ডিফেন্স, অফেন্স,‌ স্পিড, থ্রি পয়েন্টার, ডাঙ্ক, ফেইক, পাস – প্রত্যেকটা টিমের আলাদা শক্তিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা, অবিশ্বাস্য মুভগুলোর যথাসম্ভব বিশ্বাস্য ব্যাখ্যার চেষ্টা, চরিত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক লড়াই – সব মিলিয়ে স্পোর্টস এনিম লাভাররা অন্তত এই সিরিজটিকে ভুলতে পারবেন না অনেকদিন। ৪৫% ভোট পাওয়া এই সিরিজের পাশে ২৭% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে এসে রীতিমত চমক দিয়েছে পিং পং। ক্লাসিক, শো কেইসে তুলে রাখার মতন এই সিরিজ মানুষ কতদিন মনে রাখবে তা হয়ত সময়ই বলে দেবে; তবে পিং পং তার থিম, সার্বজনীন বার্তা আর স্পোর্টস এর চেয়ে এর পেছনের মানুষগুলোর দক্ষ রুপায়নে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়ে এনিমখোরদের হৃদয় কিছুটা হলেও জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছে – এ কথা নির্দ্বিধায়ই বলা যায়।
এছাড়া স্পোর্টস এনিম লাভারদের জন্য দুর্দান্ত এই বছরের পোলে অন্যান্য প্রমিনেন্ট সিরিজগুলোর মধ্যে হাইকিউ, হাজিমে নো ইপ্পো, বেবি স্টেপ্স এর মতন সিরিজগুলোও ভাল লড়াই করেছে।

8-best-sports