এনিমে সাজেশন: Psycho-Pass — Fahmida Ahmed Mou

সাইকো পাস (Psychopass)
জনরাঃ সাইফাই সাইবারপাংক
সিজন ২টা।
#১ম‬ সিজনে ২২টা এপিসোড আর #‎২য় সিজনে ১১টা।
#‎স্টোরি_সংক্ষেপঃ‬
জাপান এখন বহুত উন্নত, হাইলি ডিজিটালাইজড।
[ছোট্ট মেকাপ বক্সের মত একটা জিনিসে ইচ্ছামত পোশাক চুজ করে রাস্তাঘাটেও ইজিলি পোশাক চেঞ্জ করা যায় 😀 (এইটা কিউট লাগছে) ]
একমাত্র অপরাধী হচ্ছে সাইকো-পাস যারা।
সিভিল-সিস্টেম কঠোর হাতে দমন করে আসছে অপরাধীদের।

PP 1

পুলিশের পিস্তলগুলা দিয়ে আর ঠাইঠাই গুলি করতে হয়না এবং একজনের পিস্তল আরেকজন ব্যাবহার করতে পারেনা!
পিস্তল আগে ব্যাবহারকারীর আইডেন্টিটি কমফার্ম করে, কারো দিকে তাক করলে তার সাইকো-পাস পার্সেন্টেজ দেখে যদি পজিটিভ আসে তবেই লক খোলে এবং গুলি করা যায়!
ঠু ফার!
সব এতবেশি যান্ত্রিক না দেখলে ভাবা যায়না!
কিন্তু
সবসময় ল সবার ক্ষেত্রে খাটেনা। কিছু মানুষ হঠাৎ জন্মে যারা যেকোনো সমাজের সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।
এ ঘটনা সৃষ্টির আদি থেকেই ঘটছে।
তবে মানবিকতা বা নীতিবোধ না থাকলে সচারচর সেসব ধোপে টেকেনা যদি আইন প্রয়োগ সংস্থায় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত কেউ থাকে।
তেমনি এই অ্যানিমেতে….
মাকাশিমা সমাজের লেইম সিস্টেম চেঞ্জ করতে প্ল্যান করে এবং সেটা যেইসেই প্ল্যান না! আমার দেখা ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট ভিলেন 😀
আমি অবশ্য মাকাশিমার সাথে একমত ছিলাম কেবল কাজের ধরণটা নেগেটিভ!
মাকাশিমার দিকে পিস্তল তাক করলে সবসময় পিস্তল লক থাকে কারণ তার সাইকো-পাস কখনোই পজিটিভ আসেনা 😛 হাউ হাইলি সেল্ফ পারসোনালাইজড হি ইজ! 😀
ডিটেকটিভ
*গিনোজা এবং *আকানে সিনোমোরি!
আরো থাকে ★ইনফোর্সার
[ইনফোর্সার হলো
যারা একসময় অপরাধী হিসাবে জেলে আসে এবং পরে তাদের অপরাধী ধরতে ইউজ করা হয় অপরাধী মাইন্ডের জন্য। অনেকটা আর্মিতে ব্যাবহৃত কুকুরদের মতো ]
এদের মাঝে থাকে
কোগামি, কাসাওকা, কুনোজাকি, কারানোমোরি, কাগারি।
সিজন ১ এবং ২ এর থিম একই মোটামুটি স্টোরি আর চরিত্র ভিন্ন হয়।
২তে একটা হালকা টুইস্ট আছে।

PP 2

★আপনি সাইকো-পাস কেনো দেখবেন?
এটা ওটাকুদের কাছে স্টোরি বেজলাইনে, প্লটে বা থিমে খুব আহামরি লাগবেনা কারণ এর থেকে বহু হাইরেটেড অ্যানিমে আপনি দেখেছেন
কিন্তু একটা কথা সিউর…
আপনি সবসময় ভাববেন “আরে জানি এরপর এই হবে” কিন্তু হবেনা 😛 এখানে খুব স্পেশাল যেকেউই মারা যাবে দুম করে আপনি বুঝে ওঠার আগেই, চেঞ্জ হবে অন্য চরিত্রে মানে টোটালি আন প্রেডিকটেবল ঘটনা আর স্ট্রং ভিলেন মিলিয়ে আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখেই যেতে হবে 😀 এবং টুইস্ট দেখে চমকে যাবেন দূর্বল হার্ট হলে বমিও করতে পারেন 😛
তাছাড়া ডায়লগ গুলোও বেশ স্ট্রং। মনযোগ দিয়ে শুনলে ভালো লাগবে।

PP 3
★আমার অভিমতঃ
ভালো লেগেছে। বলা যায় এক বসাতেই শেষ করেছি পরপর দুটো সিজনই :v
প্রথম কথা হলো আই এডোর কোগামি ভেরি মাচ।
আকানের উইক আর হাস্যকর ক্যারেক্টারটা দেখে প্রথমে প্রচন্ড বিরক্ত আসছিলো।
[ ব্লাড+দ্যা লাস্ট ভ্যাম্পায়ার এর নায়িকা “ছায়া”কে দেখে যেমনটা আসছিলো ]
বাট পরে যাইহোক ভালো লেগেছে। আলটিমেটলি যে যারযার চরিত্রে পারফেক্ট ছিলো দোষ-ত্রুটি মিলিয়ে।
আর
সিজন-২ তেঃ
আই হ্যাভ ব্যাডলি মিসড কোগামি! প্রত্যেক পর্বের, প্রতি মোমেন্টে চাইছিলাম কোগামি আসুক
ও আরেকটা ব্যাপার
পিস্তলগুলার সিস্টেমটা জঘন্য কেনো বলছি দেখলেই বুঝবেন।

ভালো থাকুন সবাই
ধন্যবাদ 😀

Best Sci-Fi Anime (2014) – Aldnoah.Zero

যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, কোড গিয়াসের এসেন্স অন্য কোন আনিমেতে আছে? ডেথ নোট? কিছুটা। লেজেন্ড অব দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস? হয়তো। কিন্তু এই বছরে রিলিজ পাওয়া আলডনোয়াহ/জিরো চরিত্রায়ন, কাহিনী, এমনকি জনরার দিক থেকেও কোড গিয়াসের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। দারুন সাউন্ডট্র্যাক সম্বলিত এবং শেষ পর্ব প্রচার হবার পরে ইন্টারনেট ফেটে পড়া , এই ইফেক্ট সম্ভবত এক আলডনোয়াহ/জিরোই ২০১৪ সালে দিতে পেরেছে। কাজেই বহু বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও আলডনোয়াহ/জিরোই সাই-ফাই জনরার বিজয়ী। ওদিকে সাইকো পাস টুতে পুরনো সিজনের কোগামী বা মাকিশিমা সেই জনপ্রিয় জুটি নেই, তাতে অবশ্য সেকেন্ড সিজনের কোয়ালিটি খুব একটা হ্রাস পায়নি। আগের সিজনের মত এবারো সিবিল সিস্টেমের ত্রুটি, আর এই বিষয়ক নিজস্ব দর্শনের এক এন্টাগনিস্ট নিয়েই এই সিজন সাজানো। অ্যাকশন প্যাকড, সেই সাথে চমত্কার সাউন্ডট্র্যাক, প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও সাইকো-পাসই হয়েছে এই পোলে দ্বিতীয়।

6-best-sci-fi

 

সাইকো পাস সিজন ২ আলোচনা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

psy

একটা অ্যানিমে যখন আমাদের ভাল লাগে, তখন আমরা সবাই আশা করি যে ঐ অ্যানিমেটার আরেকটা সিজন আসুক, এবং একই রকম চমক উপহার দিক আমাদের। আর অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রি চলেই আমাদের এই এক্সপেকটেশনের ওপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে সাইকো পাসের সফলতার পরে যখন সিজন ২ আসার খবর পাওয়া যায়, আমরা আগ্রহ নিয়ে দেখব এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে এটা আমাদের আশা পূর্ণ না করে যদি শুধু নাম ভাঙিয়ে খাওয়ার একটা প্রচেষ্টা হয়, তাহলে বিরক্ত লাগাটাও স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন হল, সাইকো পাস সিজন ২ আগের সিজনের সেই চমৎকার এক্সপেরিয়েন্সটা দেয়ার ক্ষমতা রাখে কিনা।

প্রথমে দেখা যাক, কি কি কারণে সিজন ২ অনেকের দেখতে ইচ্ছা না হতে পারে।

# প্রথম সিজনটা ছিল গেন উড়োবুচির সৃষ্টি। কিন্তু পরেরটায় তিনি কোন কাজই করেননি। এটা খুব সহজেই ধরে নেয়া যায় যে অন্য কেউ তার লেখা গল্প তার মত করে এক্সিকিউট করতে পারবে না, কাজেই সবচেয়ে বড় রিস্কটা ওখানেই। তবে শেষমেশ অবস্থা কি হল, তা জানতে হলে তো দেখতেই হবে।

# Studio পাল্টে গেছে। এটা যদিও আমার কাছে তেমন বড় ফ্যাক্ট না, তবে বাজেট, গ্রাফিক্স আরও যা যা একটা অ্যানিমে বানাতে প্রয়োজন, সেটা তো এরই সাথে পাল্টাবে। তবে এইক্ষেত্রে আমার চোখে গ্রাফিক্সে খুব পার্থক্য ধরা পড়েনি, হয়ত এপিসোড সংখ্যা কমিয়ে সেটা ম্যানেজ করা গেছে।

# শিনিয়া কৌগামি। সবচাইতে বড় পার্থক্যটা সে একা গড়ে দিয়েছে। এই সিজনে একমাত্র আকান সুনেমোরির কল্পনাতে ছাড়া কোথাও তার দেখা নেই। একটা প্রধান চরিত্রের অনুপস্থিতিটা অনাগ্রহ জাগিয়ে তোলার জন্যে যথেষ্ট।

# Storyline এ আগের সিজনের সাথে ধরতে গেলে কোন সম্পর্কই নেই। আবার সেই সিবিল সিষ্টেমকে চ্যালেঞ্জ, এটাকে জাজ করার প্লট, আকানে সুনেমোরির ওপর প্রেশার। ক্রাইম সিনে মারামারি কাটাকাটি যা হয় তা এই সিজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ। সম্ভবত গেন উড়োবুচি নিজের সৃষ্ট চরিত্রগুলোকে নিজহাতে খুন করতে চান।

# আগের সিজনের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্রুটাল করার চেষ্টা করেছে। এবং তাতে কিছুটা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

# ক্যারেক্টার ডিজাইন কিছুটা বিরক্তিকর। প্রায় সব ফিমেল ক্যারেক্টার দেখতে একই রকম। আমি শেষ এপিসোড পর্যন্ত তাদের চিনতে ভুল করেছি বারবার।

# শুরুর দিকে কাহিনীটা একটু জট পাকিয়ে গিয়েছিল। পরে যেটা শুধরে নেয়।

# সবশেষে আবার স্টোরিটাকে মোটামুটি ঐ সিজন ১ যেখানে শেষ হয়েছে ঐরকমই একটা পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যদিও এটা কেবল একটা অনুমান মাত্র, ঠিক নাও হতে পারে।

এবার বলি কেন আমার কাছে সাইকো পাস সিজন ২ কে ভাল লেগেছে।

# কৌগামি নেই, মাকিশিমা নেই, তো কে আছে? কিরিতো কামুই। মাকিশিমা যদি ক্রিমিনালি অ্যাসিম্পটোম্যাটিক হয়, তো কামুই আরেক আশ্চর্য বস্তু। কামুই এর কাজকর্ম দেখার জন্য হলেও এটা দেখা উচিৎ।

# স্টোরিলাইন। সিবিল সিস্টেমকে বেশ ভালভাবে সংশয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে কিরিতো। টানটান উত্তেজনাটা ধরে রাখতে পেরেছে।

# আকানে সুনেমোরি। সে যেভাবে ল’ কে প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমত্তার সাথে রক্ষা করে যাচ্ছে, তার প্রমাণ আরও একবার পেতে ভালই লাগবে।

# আমি নিশ্চিত সুনেমোরির কালার নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন আছে। ওর কালার কি আসলেই কখনো পাল্টাবে না? Well, there is a surprize for you regarding that fact!

# নতুন ইনস্পেক্টর এবং এনফোর্সার আছে বেশ কয়েকজন, তারা যদি হঠাৎ করে মুভিতে এসে পড়ে, চিনতে কষ্ট হবে। তারওপর একরকম দেখতে, ঐ ব্যাপারটা তো আছেই।

# সিবিলকে কামুই এর শেষমূহুর্তে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটা। এটা মুভির সাথে সিজন ২ কে জুড়ে দিতে পারে।

# সিবিল নিজেকে কিভাবে পাল্টাবে কামুইকে জাজ করতে। এটা জানাটা বোধহয় সবারই উচিৎ।

# মাত্র ১১টা এপিসোডের মাঝে অনেক কিছুই দেখিয়ে ফেলেছে, যে সময়টা দেখতে ব্যয় হবে, তা মোটেই নষ্ট হবেনা।

সবমিলিয়ে সাইকো পাস সিজন ২ কে আমার কাছে অনেকটা ফিলার সিজনের মত মনে হয়েছে। কিন্তু এঞ্জয়েবল, ভাল স্টোরিলাইনের এবং চমৎকার ওএসটি যুক্ত একটি ফিলার এবং আমি বেশ উপভোগ করে দেখেছি। আবার বলাও যায়না, কোন না কোনভাবে মুভির কাহিনী যদি এর সাথে জুড়ে যায়, তাহলে এটা মাস্ট ওয়াচে পরিণত হবে। কাজেই, আমার মতে, মুভি আসতে আসতে একটু কষ্ট করে এটা দেখে নেয়াটাই উচিৎ।