রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৪: Death Parade — Rafid Azad

ডেথ প্যারেড

এপিসোডঃ ১২
বেক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০
জনরাঃ সুপার নেচরাল

মৃত্যু!! মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ভই যে মৃত্যু সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। অধিকাংশ ধর্ম মতেই মৃত্যুর পর মানুষের গন্তব্বস্থল হল স্বর্গ নাহলে নরক । কিন্তু কিছু ভিন্নতা দেখানোর জন্নই, ডেথ প্যারেড আ্যনিমেটিতে দেখানো হই যে স্বর্গ অথবা নরক বলে আসলে কিছু নেই,আছে কেবল পুনরজন্ম অথবা ধ্বংস । আর মানুষের উপর পরীক্ষা চালিয়ে তাদের পরিনতি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্নই সৃষ্টি করা হয়েছে ‘ডামির’ অথবা পুতুলের, যাদের আকৃতি মানুষের মতো হলেও তাদের মদ্ধে কোন মানুষিক অনুভূতি নেই । তারা তাদের পরীক্ষাটি নেই দুইজন মানুষকে একি সাথে কোনো একটি খেলা খেলিয়ে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, মানুশগুলিকে তাদের মৃত্যু সম্পর্কিত সকল সৃতি ভুলিয়ে দেয়া হই ।আর বিশয়টির  ফাইদা নিয়েই তাদের উপর সত্তিকার পরীক্ষাটি নেয়া হই। তাদেরকে ইঙ্গিত দেয়া হই যে তারা যদি খেলাটিতে অপর মানুষটির সাথে হেরে যাই তাহলে তারা মারা যাবে। আর স্বাভাবিক ভাবেই কেও মারা যেতে চাই না। তাই তারা খেলাটি গুরুত্ত সহকারে খেলে। বিষয়টিকে আর জটিল বানার জন্য খেলার মাঝখানে হঠাৎ হঠাৎ করে তাদের জীবনের কিছু সৃতি তাদেরকে জোড় করে মনে করিয়ে দেয়া হই, যার ফলে তাদের ভেতরে যে অন্ধকারটি আছে তা বের হয়ে আসতে থাকে। আর মানুষের ভেতরে অবস্থিত এই অন্ধকার এর উপর ভিত্তি করেই আরবিটার (ডামি)রা তাদের সিদ্ধান্তটি নেই। কিন্তু আ্যনিমেটির মুল চরিত্র ডেকিম অন্যান্য আরবিটার দের চেয়ে কিছুটা আলাদা। তার মদ্ধে মানুষিক অনুভূতি আছে এবং সেজন্যই তার চিন্তা ভাবনাই এবং পরিক্ষার সিদ্ধান্তে অন্নান্য আরবিটারদের চেয়ে কিছু ভিন্নতা দেখা যাই। সবকিছু এই ধারা বাধা নিয়মেই চলছিল যতক্ষন না পর্যন্ত কিছু ত্রুটির জন্য এমন একজন মেয়ে(চিয়ুকি) ডেকিম এর কাছে আসে, যার তার যে মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে মনে আছে কিন্তু তার মুল জীবনের কোন তথ্য বা সৃতি মনে নেই । তাকে নিয়ে বড় সমস্যাই পরে যাই ডেকিম। কিছুদিন তার সাথে রাখার পরামর্শ দেয় আরবিটারদের দায়িত্তে থাকা ‘নোনা’(যে নিজেও একজন আরবিটার) । কিন্তু একজন মানুষের সাথে থাকতে থাকতে নতুন অনেক বিষয় উপল্বধি করতে পারে ডেকিম। মুলত এই প্লট নিয়েই গড়ে উঠে আ্যনিমেটির কাহিনী।

আ্যানিমেশনঃ ৯/১০ । কোন অভিযোগ নেই। স্টুডিও ম্যাডহাউস থেকে যেরকম প্রত্যাশা ছিল ঠিক সেরকমই চমৎকার আর্ট স্টাইল এবং দৃশে্যর এর দেখা মিলেছে ।

সাউন্ড ট্র্যাকঃ ৮/১০ । শুরুর গানটি ছাড়া উল্লেখ করার মতো আর বেশি কোন গান আ্যনিমেটিতে নেই। কিন্তু শুরুর গানটি যে একাই একশ। কখনও গানটিকে স্কিপ করে এগিয়ে যাওয়ার কথা মাথাই আসে না ।

কাহিনীঃ ৭/১০ । বলে রাখা ভালো, মুল কাহিনীর প্লট ভালো হলেও প্লট এর গতি আমার মতে একটু ধীর। আরেকটি বিষয়, প্রথম কিছু এপিসোডে অপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিস দেখানো হই যা শেষে গিয়ে কোন অবদান রাখে না।

সমাপ্তিঃ একটি প্রবাদ আছে ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ । এই আনিমে এর খেতরেও এই কথাটি খাটে। আনিমেতির এন্ডিং এক কথাই চমৎকার ছিল।

ডেথ প্যারেড এই বছর এ বের হওয়া সেরা আ্যনিমেগুলির একটি। মাত্র ১২ এপসোড এর এই আ্যনিমেটির আমার সবচেয়ে ভালো লাগা বিষয়গুলি হল এর আর্ট স্টাইল এবং এনিমেশন এর কাজ। এই আ্যনিমেটি সম্পর্কে আমার একমাত্র অভিযোগ হল এটিকে একটি এপিসোডিক আ্যনিমে বানানর সিদ্ধান্ত । শুরু থেকেই প্লট বিষয়ক বিষয়বস্তু নিয়ে বেশি মনোযোগ দিলে আ্যনিমেটি আরও বেশি ভালো হতে পারত ।কিন্তু তারপরও আ্যনিমেটি দেখে যে সবার ভালো লাগবে এই বিষয়ে আমি আশাবাদী।

34 Death Parade

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১: Anohana — Rafid Azad

আনোহানা (anohana)

জনরা : সুপার ন্যাচরাল , রোম্যানস্,   ড্রামা
এপিসোড  : ১১
পারসোনাল রেটিং : ৮.৮/১০

আমার মতো এমন কেউ কি আছোযে ছোটবেলায় বন্ধুদের নিয়ে গোয়েন্দা বা অন্য কোন বিষয়ের উপর  খুবই অদ্ভুত একটি নাম দিয়ে ক্লাব খুলেছিলেসত্যি কথা বলতে আনোহানা আ্যনিমেটি আমার এত ভাল লাগার একটি মুল কারন, প্রোটগো্নিস্ট জিন্টান এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আমার অস্বাভাবিক রকমের মিল । তবে সাধারন গ্রুপ এর সাথে এই পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপ এর কিছু অমিলও রয়েছে । মুল তফাৎটি বোধহয়পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মেনমার একি্সডেন্টে হঠাৎ মৃত্যু । তার মৃত্যুর পর পিস বাস্টার্ডগ্রুপটি ভাঙতে সময় নেয় নি বেশি। বাইরে না দেখালেও গ্রুপ এর বাকি ৫ জন সদস্যের প্রত্যেকেই মেনমার মৃত্যু এর জন্য মনে মনে নিজেকে দায়ী করতো। তাই মুলত অতীতকে পিছনে ফেলার জন্যই জিন্টান পোপ্পো ,ইয়ুকিআটসু সুরুক নারুক আলাদা হয়ে যায় একে অপর থেকে এবং শুরু করে দেয় তাদের নতুন জীবন ।

আ্যনিমের প্লটটি চলে তারও ১০ বছর পরে যখন হঠাৎই মেনমার ১০ বছর পরের ভার্সন ভুত উপস্থিত হয় জিন্টান এর বাড়িতে । প্রথমে প্রথমে এটিকে হ্যালুসিনেশন হিসেবে ভেবে ছেড়ে দিতে চাইলেও পরবর্তীতে জিন্টান বুঝতে পারে মেনমা আসলেই ফিরে এসেছে ( যদিও এটি কেবল একটি ভুত ) ।মেনমা জিন্টান কে জানায় যে তার ইচ্ছে পুরণ হইনি বলেই সে পরকালে যেতে পারছে না । কিন্তু কি ইচ্ছা তা যে মেনমা নিজেও জানে না । তাই রীতিমত বিপদেই পরে যায় জিন্টান । একে তো মেনমা কে অন্য কেও দেখতে না পারায় সবাই জিন্টান এর কথা বিশ্বাস না করে সবাই উলটো গাজাখুরি’ হিসেবে নেয় । আবার অপর দিকে মেনমার সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তাকে আবারও তার অতীতের (তার পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বন্ধুদের ) মুখোমুখি হতে হয় যার থেকে সে এত বছর দূরে ভাগছিল । কিছু দিন যেতে না যেতেই জিন্টান বুঝতে পারে মেনমার ইচ্ছা পুরনের জন্য পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বাকি সদস্যদের সাহায্য তার লাগবেই। কিন্তু মেন্মার জন্য এতটুকু করা যেন জিন্টান এর কাছে কিছুই না কেননা সে যে অনেক ভালবাসে মেন্মা কে । কিন্তু অতীত বন্ধুদের মধ্যে কেও কেও তাকে বিশ্বাস করলেও অনেকেই করে না । কিন্তু এতো সব সমস্যার পরও জিন্টান হার মানে না এবং তার চেষ্টা চালিয়ে যায় । এবং সে প্রতিজ্ঞা করে নেয় যেমেনমা কে সে সাহায্য করেই ছাড়বে ।

আ্যানিমেটিতে ভাল দিকের পাশাপাশি খারাপ দিকও যে নেই তা কিন্তু নয়। প্রথমে ভাল দিয়েই শুরু করি । ক্যারেক্টার গুলির আর্টস্টাইল এবং তাদের সভাব চরিত্র এতইসুন্দর ভাবে ফুটে উঠে যে এই আ্যানিমের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কোন ব্যাপারই হয়ে উঠে না। এর পাশাপাশি রয়েছে আ্যানিমেটির চমৎকার একটি অপেনিং (শুরুর) আর এন্ডিং(সমাপ্তি) গান।পারলে এখনি শুনে দেখ আমি ভুল বলছি কিনা ।

এবার যে বিষয় গুলি তোমাদের অতো বেশি ভাল না লাগতে পারে তা সম্পর্কে বলি । প্রথমে যেই বিষয়টি সম্পর্কে তোমাদের কে বলতে চাই তা হল তোমরা যদি কেবল ডেথ নোট অথবা কোড গিয়াস এর মতো সাসপেনসিভ আ্যনিমে পছন্দ করো এবং সাসপেন্স ছাড়া আ্যনিমে একেবারেই না দেখ তাহলে আগেই বলে রাখি আনোহানা টুইস্ট এর চেয়ে ইমোসোন এর দিকে বেশি মনোযোগ দেয় । পুরা কাহিনীতে একেবারে মোড় ঘুড়ানোর মত টুইস্ট না থাকলেও একেবারেই যে টুইস্ট নেই তা কিন্তু বলা যাবে না ।

শেষ পর্যন্ত কি হয় তা জানার জন্য এক্ষুনি শুরু করে দিতে পার মাত্র ১১ এপিসোডের এই চমৎকার আ্যনিমেটি । তোমাদের যে ভালো লাগবে তার ১০০% গ্যারানি্ট  দিতে পারি ।

1 Anohana