Rare Anime Recommendation: Chinmoku no Kantai — Rafid Rahim

Chinmoku no Kantai
জনরাঃ Military, Seinin, Drama, OVA
Link: https://www.youtube.com/watch?v=euV4ki99yvk

(এই আনিমেটি কেউ সাব করেনি সুতরাং ইউটিউবে শুধু এর ইংরেজি পাওয়া যায়,অন্য কোন সাইটে পাওয়া যায় না)

ব্যক্তিগত রেটিং: ৭.০/১০
পটভূমিঃ সময়টা ৭০ দশকের দিকেই স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন,আমেরিকা একটি অত্যাধুনিক পরমানবিক সাবমারিন তৈরি করে। সাবমারিনটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কিছু জাপানিজ ক্রুদের।কিন্তু তারা সাবমারিনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।সাবমারিনটির মধ্যে পরমানবিক অস্ত্র আছে বলে সবাই তাদের ভয় করতে শুরু করে।
আমেরিকান নৌবাহিনী তাদের সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে সাবমারিনটি ধাওয়া করলেও প্রতিবারি বিভিন্ন চৌকশ কৌশল অবলম্বন করে তারা বার বার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।কিন্তু জাপানিজ ক্রুরা সাবমারিনটি নিয়ে পালালো কেন?তাদের লক্ষ কি?তারা কি Defect করার চেষ্টা করেছে নাকি বিশ্বযুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছে? রহস্যটি জানতে হলে অবশ্যই আনিমেটি দেখতে হবে।

মুভিটিতে দেখার মত যা যা আছে-
# কমব্যাট দৃশ্য গুলো খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। সাবমারিন নিয়ে যে কত ধরনের চতুর কৌশল ব্যবহার করা যায় তা এই মুভি না দেখলে কল্পনাও করা যাবে না।
# পুরো মুভি জুড়ে প্রচুর অ্যাকশান, ড্রামা, সাসপেন্সে এবং থ্রিলার দৃশ্য রয়েছে।
#৭০ দশক এর বিভিন্ন হিস্তরিকাল ফিগারদের এই মুভিতে দেখানো হয়েছে।

বিদ্রি-
# এই আনিমেটি হলিউড মুভি “The Hunt for Red October” এর সাথে কিছু মিল পাওয়া যায়। তবে আনিমেটির মাঙ্গা হলিউড মুভিটি বের হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল।
# এই আনিমেটি “The Silent Service” মাঙ্গা থেকে ৩টি OVA হিসেবে বের হয়েছিল। ৩টি OVA একসাথে করেই মুভিটি পাওয়া যায়।
# আনিমেটা কিছুটা জাপানিজ পক্ষপাতপূর্ণ যা অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে।

Chinmoku no Kantai

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২৭: Hadashi no Gen (Bearfoot Gen) — Rafid Rahim

নামঃ Hadashi no Gen(Bearfoot Gen) [Movie]
জনরাঃTragedy,Drama,Historical
MAL  rating:  7.96

লিঙ্কঃ http://kissanime.com/Anime/Hadashi-no-Gen

৬ অগাস্ট,১৯৪৫ মানব জাতির ইতিহাসের সব চেয়ে ভয়াল দিন। এইদিনে জাপানের হিরশিমা শহরের বুকে নরক নামিয়ে আনা হয়েছিল। সেই ভয়াবহ দিনের কিছু মর্মান্তিক ঘটনা এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।

স্টোরিঃ

গল্পটি প্রধান ক্যারেক্টার একজন দুরন্ত বালক গেন(Gen) কে ঘিরেই। গেন তার পরিবার এর সাথে হিরোশিমা শহরে বাস করে।তার পরিবারে রয়েছে তার বাবা-যিনি পরিবার এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে খাদ্য যোগায়,তার ছোট ভাই সিনজি-যে সারাদিন গেন এর সাথে খেলা-ধুলায় মেতে থাকে,তার বড় বোন-যে শান্তশিষ্ট ও দায়িত্বশীল  এবং তার মা- যিনি জন্ম দিতে যাচ্ছে তাদের ৪র্থ সহোদর।অত্যন্ত অভাব-অনটন এর মধ্যে থাকলেও তারা সুখেই দিন কাটাত।

৬ই আগস্ট,নিত্য দিনের মত সে দিন সকালবেলাও তারা ঘুম থেকে উঠে তাদের নিত্য কাজকর্ম করতে শুরু করে,গেন তার স্কুল এর উদ্দেশে রউন হয়।

সকাল ৮টা বেজে ১৫মিনিট, “ইনলা গে” নামক বি২৯ বোমারু বিমান থেকে “লিটল বয়” হিরশিমা শহরের কেন্দ্রে নিক্ষেপ করা হোল। প্রকাণ্ড বিস্ফোরণে পুরো শহর তছনছ হয়ে গেল,মুহূর্তেই নিভে গেল হাজারো প্রাণ, শহরের একটিও দালানকোঠা অবশিষ্ট থাকল না।

হাল্কা কিছু ধ্বংসস্তূপ এর নিচে চাপা পরে গেন তার জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফেরার পর সে নারকীয় দৃশের সাক্ষি হয়। চারিদিকে শুধুই ধ্বংসস্তূপ এবং আহাত মানুষের হাহাকার। ক্ষতিকর তেজক্রিয়া এর আঘাতে মানুষের চামড়া পুড়ে এমন অবস্থা হয়েছে যে তাদের মানুষ বলে আর চেনা যাচ্ছে না।স্তূপ এর নিচে চাপা পরে আছে অনেকে,তাদের সাহায্য করার কেউ নেই।

গেন তার পরিবার এর কথা চিন্তা করে দৌড়ে তার বাসার দিকে রউনা হয়।তার পরিবার এর সবাই বেঁচে আছে কি? তারা কি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে?……স্পইলার না দিয়ে এখানেই বর্ণনা সমাপ্ত করলাম।

অ্যানিমেশন: মুভিটি ১৯৮৩ সালে বানানো হয়েছে তাই অ্যানিমেশনটাও সে সময় এর সাথে মানানসই । তবে এতে কিছু graphic দৃশ্য  রয়েছে। বিস্ফোরণ এর প্রতিক্রিয়া,তেজক্রিয়া এর সংস্পর্শে মানুষ এর চাপড়া বিকৃত হয়ে যাওয়া,আহাত মানুষের হাহাকার ও গোঙানি ইত্যাদি দৃশ্য ভয়ানক ভাবেই ফুটিয়ে তলা হয়েছে।

কেন আপনি এই আনিমে দেখবেন?

“Grave of fireflies” এর সাথে এই মুভি এর অনেক মিল আছে।সুতরাং যারা “Grave of fireflies দেখে অশ্রু ঝেড়ে ছিলেন,তারা এই মুভিটি দেখার আগে অবশই একটি টিস্যু বক্স নিয়ে বসবেন অশ্রু মুছার জন্য। এই মুভিটি শুধু পরমানবিক অস্ত্রের ভয়াবহতাই দেখানো হয়নি,সেই সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সতর্ক বার্তাও পাঠানো হয়েছে ।তাছাড়া দুর্ঘটনা পরবর্তী মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং অতীত কে পিছে ফেলে নতুন জীবন গড়ার অপ্রাণ চেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে।

মুভিটি অনেক ভাল হলেও তা “Grave of Fireflies” এর ছায়ায় পোরে আন্ডার রেটেড হয়ে আছে। অনেকের মতে, কিছু দিক দিয়ে এই মুভিটি GoF কেও ছাড়িয়ে যায় ।

সব মিলিয়ে বলা যায়,এই মুভিটি একটি আন্ডার রেটেড মাস্টারপিস বটে।

27 Hadashi no Gen

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৮: The Cockpit [OVA] — Rafid Rahim

The Cockpit OVA(1994) review

নামঃ The Cockpit OVA
এপিসোডে সংখ্যা : ৩
জনরা : Historical,OVA,Military,Tragedy
MAL  রেটিং : 7.37

সাধারণ আনিমে দেখতে দেখতে একঘেয়েমি লাগছে?একটু ভিন্নধাচের আনিমে দেখতে চান?তাহলে মাত্র ৩ এপিসোড এর এই ব্যতিক্রমীধর্মী আনিমেটি দেখে ফেলতে পারেন।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সম্পর্কে সাধারণত যত মুভি কিংবা documentary  আছে,প্রায় সবগুলি তেই দেখা যায় মিত্র শক্তির জয়জয়কার।তবে কখনো অক্ষ(Axis)  দৃশ্যানুযায়ী চিন্তা করে দেখছেন ? এই আনিমেটি তে অক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকেই কিছু গল্প তুলে ধরা হয়েছে এবং সেই সাথে যুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

পটভূমিঃ

এানিমেটি  ৩টি এপিসোডে এর মধ্যে ৩টি ভিন্ন গল্প বর্ণনা করা হয়েছে।তিনটি গল্পেই তিনটি নতুন প্রধান চরিত্র আনা হয়েছে এবং তাদের মর্মান্তিক কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।

এপিসোড ১: Slipstream( ৮.৫/১০)

প্রথম গল্পটি তথকালিন নাৎসি জার্মানি এর বৈমানিক Erhardt Von Rheindars কে  কেন্দ্র করে। তাকে তার কর্তব্য এবং মনুষ্যত্ব,এ দুটির মধ্যে কোন একটি  বাছাই করতে হবে। তার কর্তব্য হচ্ছে একটি বোমারু বিমান কে শত্রু আক্রমণ থেকে রক্ষা করা,বিমানটির মধ্যে রয়েছে জার্মান বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরি বিশ্বের প্রথম পরমানবিক বোমা যা পরীক্ষা করার জন্য টেস্ট সাইট এ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।বিমানটি রক্ষা করলে সে তার জাতির প্রতি কর্তব্য পূরণ করতে পারবে কিন্তু মনুষ্যত্ব পরবে হুমকির মুখে।

অবশ্য ব্যাপারটি অত সহজ নয়।কারন সেই বিমানটির মধ্যে রয়েছে তার প্রেমিকা এবং তার বাবা। Rheindars কি বিমানটি রক্ষা করে নিজের আত্মা শয়তান এর কাছে বেচে দিবে নাকি নিয়ে পরমানবিক বোমাটি ধ্বংস হয়ে যেতে দিয়ে মনুষ্যত্ব এর পক্ষ নিবে?……জানার জন্য অবশই আনিমেটি দেখতে  হবে।

এপিসোড ২: Sonic Boom Squadron(৭.৫/১০)

এবার এর প্রধান চরিত্র একজন জাপানিজ কামিকাজে পাইলট Ensign Nogami।তার স্বপ্ন ছিল রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার এবং সেই ভাবেই সে পড়ালেখা করেছে।কিন্তু যুদ্ধের কারণে তাকে বাধ্য হয়েই কামিকাজে পাইলট এর দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।এখন সে নিজ জীবন দেশের  রক্ষার্থে উৎসর্গ করতে ইচ্ছুক।তবে শক্তিশালী আমেরিকান বাহিনীর এর প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেদ করে তাদের গায়ে আঘাত হানা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়।সে কি পারবে তার মাতৃভূমি এর জন্য জীবন উৎসর্গ করতে?নাকি অসংখ্য কামিকাজে পাইলটের মত তার জীবনবলিটিও বৃথা যাবে?…

এই এপিসোডটি আমেরিকান এবং জাপানিজ দুই দৃষ্টিকোন থেকেই গল্পটি দেখানো হয়েছে।

এপিসোড ৩:  Knight  of the Iron Dragon(৫.৯/১০)

এইখনে প্রধান চরিত্র দুইজন জাপানিজ সৈনিক ।তারা তাদের বন্ধুদের কাছে করা প্রতিশ্রুতি  রক্ষা করার জন্য একটি বিমান ঘাটি এর দিকে রউনা হয় যদিও তাদের জানা আছে যে ঘাটিটি শত্রু আক্রমণ দ্বারা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের বন্ধুদের বেচে থাকার আশা খুবই কম। তবে তাদের কোন ধারনা নেই যে সামনে তাদের জন্য কি রকম মর্মান্তিক দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে।…

 

আর্টঃ (৬.৭/১০)

যেহেতু এানিমেটি ৯০ দশকে বানানো সুতরাং আর্ট স্টাইলটি ৯০ দশকের এানিমে গুলার মতই। যারা ক্লাসিক আনিমে এর ফ্যান তাদের এই আর্ট স্টাইল অবশই ভাল লাগবে।পুরো আনিমেতে ক্যারেক্টার ডিজাইন ভাল থাকলেও কিছু কিছু জাপানিজ ক্যারেক্টারদের  হাস্যকর বানানো হয়েছে।১৯৯৪ সালের এর বানানো আনিমে হিসেবে সেই সময় এর জন্য এনিমেশন বেশ ভালই। Dogfight এর দৃশ্য গুলো খুব ভাল ভাবে এানিমেট করা হয়েছে।

 

ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্টঃ

প্রতিটি এপিসোডে মাত্র ২৪ মিনিটের হলেও এই অল্প সময় এর মধ্যেই প্রধান চরিত্র দের চমৎকার ভাবে ক্যারেক্টার  ডেভলপ করা হয়েছে। যদিও সহযোগী ক্যারেক্টার দের খুব বেশি ডেভলপ করা সম্ভব হয়নি।তাও কাহিনী এর সাথে ক্যারেক্টার গুলো ভাল ভাবেই মানানসই হয়েছে।প্রথম দুই এপিসোডের এর প্রধান ক্যারেক্টার গুলো মনে রাখার মত।

 

মিউজিকঃ

Background মিউজিকগুলা চমৎকার ভাবে আনিমেটির থিম এর সাথে মিলেছে।Ending গান টি অসাধারণ যা আপনার Feels জাগ্রত করতে পারবে। চাইলে গানটি শুনতে পারেন এইখানে https://www.youtube.com/watch?v=DKn10wt96kk( ভিডিওটিতে  স্পইলার আছে তাই ২য় এপিসোডটি দেখার পর এটা দেখলেই ভাল, তবে চাইলে প্রথম দেড় মিনিট দেখতে পারেন)

 

কেন এই এনিমেটি আপনি দেখবেনঃ

যারা ইতিহাস এর ব্যাপারে আগ্রহী তারা এই এানিমেটি অবশই দেখবেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সম্পর্কে এই রকম ভাল controversial খুব অল্পই পাওয়া যায়।যারা ইতিহাস   সম্পর্কে আগ্রহী নয় তারাও দেখতে পারেন। কারণ এপিসোড সংখ্যা মাত্র ৩ টা,এর মদ্ধের রয়েছে ৩টি অসাধারণ কাহিনী। অনেকে মনে করে থাকতে পারে যে এানিমেটি শুধু যুদ্ধ নিয়েই কিন্তু আসলে তা নয়।যুদ্ধের দৃশ্য খুব অল্পই আছে,এখানে স্রেফ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর দিক গুলো তুলে ধরা হয়েছে।তাছাড়া প্রতিটি এপিসোড এই রয়েছে যথেষ্ট feels এবং বেদনাদায়ক মুহূর্ত।

তবে দেরি না করে এখনি এানিমেটি ডাউনলোড করে ফেলুন। রেভিউটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ 🙂

18 The Cockpit OVA