মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse) — Rezo D. Skylight

Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse)
Chapter: 45
Status: Complete
Genres: Action, Mystery, Horror, Sci-Fi, Shounen, Psychological
Authors: Kuraishi, Yuu (Story), Inabe, Kazu (Art)
Serialization: Shounen Rival
MAL Score: 8.08
Personal Score: 8/10

ant 1

ধরুন আপনি প্রতিদিনের মতো স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছেন। তখন বাড়ি ফিরার পথেই দেখতে পেলেন একজন মানুষের লাশ আপনার ঘরের সিঁড়িতে পড়ে আছে। অথচ এই হত্যা কে করেছে, তাকে আপনি চিনেন না; অপরদিকে আপনি যে এই হত্যা করননি সেই কথাও কেউ বিশ্বাস করছে না। সেই মিথ্যা হত্যার দায় ঘাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক আপনাকে কারাগারে পাঠানো হল; আপনার উপর জারি করা হল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তখন আপনার মানুষিক পরিস্থিতি কেমন হবে একবার ভেবে দেখুন। ঠিক এইরকমই এক অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় মাঙ্গার মূল নায়ক “মায়েদা ইয়শিআকি”। এখান থকেই তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর মুহূর্ত শুরু হয়। তবে সে ধীরে ধীরে তার কারাগারের রুমমেটদের সাথে বন্ধুতপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। তার এই নতুন বন্ধুরা তার পরিস্থিতির কথা উপলব্ধি করতে পেরে তার সহায়তায় এগিয়ে আসে। ঠিক এমন সময় একধরনের মারাত্মক ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যা মানুষকে ইনফেক্টেড করলে পরিণত হয় মানুষখেকো জীব তথা যম্বিতে। এইরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কারাগারবাসিদের জন্য রয়েছে জেল থেকে পালানোর সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তুু কারাগার থেকে বের হয়ে, এইরূপ পরিস্থিতিতে তারা কি পারবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে?

ant 2

আরও জানতে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। এর কাহিনী ডার্ক থিম আর রহস্যে ভরপুর। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, ধোঁকা এককথায় মানুষের সাইকোলজি খুব ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। মাঙ্গাকা ক্যারেক্টারগুলো খুব যত্নসহকারে বানিয়েছে। প্রতিটি চরিত্রেরই দেখানো হয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট। আর হরর মাঙ্গা হিসেবে আর্টও যথেষ্ট ভালো। মাঙ্গার প্রতিটি প্যানেলই খুব স্পষ্ট এবং সহজেই কি হচ্ছে তা বুঝা যায়। শুধু একটাই সমস্যা মাঙ্গার এন্ডিংটা অনেক রাসড। এছাড়া পুরো মাঙ্গাটাই আমার ভালো লেগেছে।

ant 3

সুতরাং যারা কোন যম্বি মাঙ্গা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা এই মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে পারেন। বিশেষ করে যারা হরর-সাইকোলজিকাল জনরার ফ্যান তাদের এই মাঙ্গাটি খুব ভালো লাগবে বলে আশা করা যায়। তাই দেরি না করে পড়া শুরু করে দিন এবং হারিয়ে যান যম্বির দুনিয়ায়।

পড়ার লিঙ্ক – http://kissmanga.com/Manga/Apocalypse-no-Toride

ant 4

Mobile Suit Gundam 00 [রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Mobile Suit Gundam 00
সিজন: ০২ (+১ মুভি)
পর্ব সংখ্যা: ৫০
জনরা: অ্যাকশন, ড্রামা, মেকা, মিলিটারি, সাই-ফাই, স্পেস
স্টুডিও: সানরাইজ
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৭ (১ম সিজন); ৮.২৪ (২য় সিজন)
আমার রেটিং: ৯/১০

Gundam 00 1

প্রথমে বলে নেই, ‘গান্ডাম ০০’ গান্ডাম ফ্র্যাঞ্চাইজের ‘Anno Domini’ উনিভারসের একমাত্র সিরিজ। সুতরাং কেউ গান্ডাম ০০ দেখতে চাইলে তার বাকি গান্ডাম দেখার কোন প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ একে ‘Standalone series’ হিসেবেই যেকেউ দেখতে পারবে। এখন আসল কথায় আসি।

গান্ডাম ০০ এর প্লট ২৩ শতকের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে রচিত। এইসময় পৃথিবীতে খনিজ জ্বালানীর প্রচুর চাহিদা ছিল। সেজন্য বিগত শতাব্দী ধরে মানুষ পৃথিবীর চারদিকে বৃহৎ সৌরচাকতি নির্মাণ করেছে। আর সৌরচাকতি থেকে প্রাপ্ত সৌরশক্তি ব্যাবহারের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি ‘সোলার পাওয়ার জেনারেটর’। এই সোলার পাওয়ার জেনারেটরগুলো ব্যাবহারের লক্ষে তৎকালীন পৃথিবীকে তিনটি মেজর সেক্টরে ভাগ করা হয়। এরা হল – The Union (formerly United States of America), The Human Reformist Alliance (Russia, China and India) এবং The AEU (Europe)। কিন্তুু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই লেগে থাকতো যুদ্ধ-বিগ্রহ। তখন পৃথিবী থেকে এইসকল যুদ্ধ-বিগ্রহের অবসান ঘটাতে আবির্ভাব হয় ‘Celestial Being’ নামের একটি নন-প্রফিট মিলিটারি অর্গানাইজেশন । এই প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে গান্ডাম নামের চারটি অতি শক্তিশালী রোবট। “সকল যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ‘United World’ গঠন করা” – Celestial Being তাদের এই স্বপ্নটি পৃথিবীবাসির উদ্দেশ্যে ঘোষণা করে এবং যারা তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই গান্ডাম ০০ এর যাত্রা সূচনা হয় এক দুর্দান্ত কাহিনীর মধ্যে দিয়ে।

Gundam 00 2

গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারই ইউনিক টাইপের। প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা চরিত্র। মেইন ক্যারেক্টার সেতসুনা কিছুতা চুপচাপ টাইপের কিন্তুু সে বেশ ম্যাচুরিটি সম্পন্ন। অনন্যা ক্যারেক্টারের মধ্যে রয়েছে লকঅন, টিয়েরিয়া, আলেলুঝা। এর মধ্যে সিরিজে মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে লকঅন ক্যারেক্টারটটি। টিয়েরিয়া কিছুটা আনসোশাল টাইপের। কিন্তুু কাহিনী আগানোর সাথে সাথে তার চরিত্রেরও বেশ পরিবর্তন ঘটতে থাকে। আর আলেলুঝা বলতে গেলে সবচেয়ে ইউনিক ক্যারেক্টার। কারণ সে ডাবল পার্সোনালেটির অধিকারী। এছাড়া আরও কিছু চমৎকার চমৎকার ক্যারেক্টার রয়েছে। যেমন – এস পাইলট গ্রাহাম, যুদ্ধ প্রিয় আলি আল সাজেদ, সুপার সোলজার সউমা প্রেরিস, প্রিনসেস মারিনা ইসমাইল, রিব্বন্স ওলমার্ক, সাজি ক্রসরোড, লউসেসহ আরও অনেকে। এরা প্রতেকেই সিরিজে গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো অসাধরন। যা নিঃসন্দেহে এই সিরিজের অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।

Gundam 00 3

গান্ডাম ০০ স্টুডিও সানরাইজের কাজ। তাই ২০০৭ সালের এনিমে হওয়া সত্ত্বেও গান্ডাম ০০ তে বেশ হাই কোয়ালিটির ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়েছে। মেকা ডিজাইনগুলো বেশ সুন্দর ছিল। এতে কোন প্রকারের CGI ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়নি। তাই মেকা ফাইটগুলো বেশ উপভোগ করেছি। আর যুদ্ধের সিনগুলো খুব ডিটেইলিং করে দেখানো হয়েছে। আমি মহাকাশের ভিজুয়াল ইফেক্ট দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বলতে গেলে আমার দেখা অন্যান্য মেকা এনিমে থেকে গান্ডাম ০০ এর ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর লেগেছে।

Gundam 00 4

গান্ডাম ০০ এর সাউন্ডইফেক্ট ও OST আসলেই অনেক সুন্দর। প্রত্যেক ওপেনিং ও এন্ডিং সং বার বার শুনতে ইচ্ছা করে। ওপেনিং সং এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ফেভরাইট UVERworld এর গাওয়া “Hakanaku mo Towa no Kanashi” গানটি [ লিঙ্ক- https://www.youtube.com/watch?v=eztenJFXqBw ] এবং এন্ডিং সং এর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের Stephanie এর গাওয়া “Friends” গানটি [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=HnyM12Y5CnI ]। আর OST এর মধ্যে Tommy heavenly6 এর “Unlimited sky’’ খুব ভালো লেগেছে [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=10n1ZJGx7A0 ]। গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলও বেশ ভালো। Miki Shinichiro, Kamiya Hiroshi, Irino Miyu, Nakamura Yuuichi, Miyano Mamoru, Yoshino Hiroyuki, Park Romi, Kugimiya Rie সহ আরও ভালো ভালো ভয়েস এক্টর-এক্ট্রেস গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিল।

Gundam 00 5

ওভারওল, গান্ডাম ০০ আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। কাহিনী থেকে শুরু করে ক্যারেক্টার, আর্টওয়ার্ক, সাউন্ড সবকিছুই ছিল অসাধরন। গান্ডাম ০০ দেখার সময় অনেকটা কোড গিয়াসের ভাইব পেয়েছিলাম। সুতরাং, আপনারা যারা কোড গিয়াসের ভক্ত তারা এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। অনেকেই আছে মেকা হজম করতে পরেনা তাদের উদ্দেশে বলছি, গান্ডাম ০০ তে শুধু মোবাইল সুটের মধ্যে ফাইটিং এর পাশাপাশি বেশ সুন্দর স্টোরিলাইন আছে। তাই, আশা করি গান্ডাম ০০ দেখে কখনোই উদাস হবেন না। এখন সময় নিয়ে দেখে ফেলুন গান্ডাম ০০।

[ এখান থেকে ডাউনলোড করুন Mobile Suit Gundam 00 (Complete) ব্লুরে –http://www.animechiby.com/mobile-suit-gundam-00-cs-bd/ ]

Gundam 00 6

Tokyo Ghoul Anime vs Manga — Rezo D. Skylight

TG

টপিকটি শুরু করার পূর্বে আমি বলে নিতে চাই আমি Tokyo Ghoul এনিমের দুইটা সিজনই দেখেছি, সাথে মাঙ্গাও পড়েছি। তবে মাঙ্গাটা আমি আগে পড়েছি তারপর এনিমেটা দেখেছি।

টপিকঃ Tokyo Ghoul Anime vs Manga / Tokyo Ghoul Complete Review.

আলোচনা শুরু করি Tokyo Ghoul এর এনিমে দিয়েই। গতবছর যখন Tokyo Ghoul এর এনিমে বের হল তখন এটি প্রায় সব Anime Community তে তুমুল সাড়া জাগিয়েছিল। অনেকেরই ধারণা ছিল যে এটি বছরের সেরা এনিমে হতে যাচ্ছে। কিন্তুু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে “Studio pierrot” Tokyo Ghoul কে পুরুপুরি নষ্ট বানিয়ে ফেলেছে। সোজা কথায় বলতে গেলে যাকে “Trash adaption” বলা হয়ে থাকে। এখন যারা শুধু এনিমে দেখেছেন অনেকেই ভাবছেন যে, “কই কাহিনী তো ভালোই ছিল, Trash adaption হল কিভাবে?” আমি এখন সেটাই ব্যাখ্যা করবো।

Tokyo Ghoul (Anime 1st season):
শুরুর এপিসোডটা খারাপ ছিল না যদিও ৬ চ্যাপ্টার মিলে এপিসোডটি বানানো হয়েছিল। কিন্তু এর দুই তিন পর্বের পরেই পুরো “Dove Arc” টা বাদ দিয়ে পরের আর্কটা শুরু করেছিল। আবার সেই আর্ক শেষে আবার “Dove Arc”টা লাস্টের দিকে নিয়ে এসেছে। এরপর কয়েকটা আর্ক বাদ দিয়ে একেবারে “Aogiri Arc” এর লাস্টের দিকের কাহিনী দেখানো হয়েছে। বলতে গেলে পুরা কাহিনীকে জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। আর শেষ এপিসোডের কানেকির চুল সাদা হয়ে যাওয়া দেখে আমার বেশ হাস্যকর লেগেছিল। আমি শুধু বলেছিলাম, “এইটা কিছু হইলো? কি জিনিসকে কি বানায় ফেলছে এরা। এত দ্রুত চুল সাদা বানায়ে ফেলল।” যাই হোক এনিমের ১ম সিজনটা প্রচণ্ড বাজে ছিল। মাঙ্গার পুরো ৬৫ চ্যাপ্টার মিলে ১২ এপিসোডের একটা এনিমে বানাতে গেলে কেমন হবে এইবার বুঝে নিন। তবে “Unravel” গানটা আর OST গুলো ছিল প্রশংসা করার মতো, এতে আমার কোন অভিযোগ নেই।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 8.11
বেক্তিগত রেইটিং: 4/10

Tokyo Ghoul √A (Anime 2nd season):
Tokyo Ghoul √A এর কথা বলতে গেলে আমি বলব এইটা ছিল Tokyo Ghoul এর “Spin-off” সিরিজ ছাড়া কিছুই না। এর সাথে মাঙ্গার কাহিনীর কোন মিল নেই। সম্পূর্ণ আলাদা রুটে তৈরি কাহিনী। “√A” বলতে “Root Aogiri” বুঝানো হয়েছে। যদিও এর কিছু কিছু জায়গা মাঙ্গার কাহিনীর সাথে মিলে গিয়েছিল। তাও কাহিনীটা কেমনজানো খাপছাড়া টাইপের ছিল। ওভারঅল আমার কাছে তেমন ভালো লাগেনি। এর থেকে মাঙ্গার ষ্টোরি রুট হাজার গুনে ভালো ছিল।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 7.59
বেক্তিগত রেইটিং: 3/10

Tokyo Ghoul (Manga):
এখন মাঙ্গার কথা শুরু করি। বলতে গেলে মাঙ্গাটা আমার পড়া “মাস্টারপিছ” মাঙ্গাগুলার মধ্যে একটা। মাঙ্গার কাহিনীর সিকুয়েঞ্ছ ঠিক ছিল, সবকিছু ঠিকঠাক মতো এক্সপ্লেইন করা হয়েছিল। যেমন-

[এরপর থেকে পড়লে সতর্ক থাকুন। কিছু মাইনর স্পয়লার রয়েছে। স্পইলার এড়িয়ে পড়তে চাইলে একেবারে শেষের “>” পেরাটি পড়ুন।]

১. এনিমেতে কানেকির কোন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দেখানো হয় নাই। মাঙ্গাতে
Yomo আর Touka মিলে কানেকিকে ফাইটিং স্কিল শিখেয়েছিল। এনিমেতে তার সিংহভাগ অংশ স্কিপ করা হয়েছে। এছাড়া আরও বহুত ফাইটিং সিন এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। মাঙ্গাতে এগুলো ঠিকমতো দেখানো হয়েছে।

২. Dove আর্কের পর কতগুলো আর্ক ছিল। যা এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। আর্কগুল খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

৩. Amon, Nishiki, Akira, Suzuya সহ আরও অনেক ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো মাঙ্গায় খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।

৪. “Aogiri Arc” এর শতকরা ৫% কাহিনী এনিমেতে দেখানো হয়েছে। শুধু জেসন কানেকিকে ধরে নিয়ে টর্চার করে সেই সিনটুকু দেখিয়েছে। কিন্তু মাঙ্গাতে এর অনেক কাহিনী এক্সপ্লেইন করা হয়েছে। আর কানিকির চুল এনিমের মতো হটাত করে সাদা হয়ে যাইনি। মাঙ্গাতে ধীরে ধীরে ওর মাথার চুল সাদা হতে থাকে প্রতিনিয়ত মানুষিক ও শারীরিক টর্চারের কারনে। একসময় সে বাস্তবতা বুঝতে পেরে সে মানুষিক ভাবে পরিবর্তন হয়ে পরিণত হয় নতুন কানেকিতে।

৫. এরপর “√A”তে Ayatoর সাথে নামমাত্র ফাইটিং দেখিয়েছে। আর আপনারা মাঙ্গাতে সেই ফাইটিং সিন দেখলে মানব শরীরের ২০৬ টা হাড়ের নাম মুখস্ত হয়ে যাবে।

> এরপর আর কাহিনীর মিল নেই। আর মাঙ্গার কাহিনীও আর বলছি না। বাকিটুকু আপনারা মাঙ্গাটা পড়ে জেনে নিয়েন। আমি রিকোয়েস্ট করবো মাঙ্গাটা একেবারে ১ম চ্যাপ্টার থেকে পড়ার জন্যে। তাহলে ওরিজিনাল “Tokyo Ghoul” এর কাহিনী উপভোগ করতে পারবেন। এইটা সত্য মাঙ্গাটা ভালো হওয়া সত্তেও এনিমের কারণে ঢাকা পড়ে গিয়েছে এবং মানুষজন Tokyo Ghoul নিয়ে অনেক নেগেটিভ মন্তব্য করছে। আর এই উদ্দেশেই আমি এই টপিকটি লিখলাম Tokyo Ghoul নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্যে।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 8.79
বেক্তিগত রেইটিং: 9.5/10

*F.A.Q-

১. কানেকির চুল হটাত সাদা হয়ে যাওয়ার কারণ কি? এর কোন এক্সপ্লেনেশন আছে?
=> কানেকির আসলে “Marie Antoinette syndrome”-এ ভুগেছিল। এইজন্যই তার চুল হটাত সাদা হয়ে গিয়েছে। প্রচণ্ড মানুষিক চাপ, ভয়, দুঃখ ইত্যাদি কারণে চুলের সাদা রঙের জন্য দায়ী হরমোনগুলো অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। আর এই কারণেই হটাত চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। [ তথ্যসূত্র –https://en.wikipedia.org/wiki/Marie_Antoinette_syndrome ]

২. Tokyo Ghoul এর মাঙ্গাকা Ishida Sui এর আসল পরিচয় কি?
=> এখনো তা জানা সম্ভব হয়নি। কারণ সে এখনো মানুষের সামনে অফিসিয়াল ভাবে দেখা দেয়নি। এজন্য তার পরিচয় এখনো গোপন রেয়েছে।

৩. কানেকি যে বইগুলো পড়ে সেগুলো কি আসলেই আছে?
=> ‘The Black Goat’s Egg’ এর মতো আরও কিছু কিছু কাল্পনিক বই ছিল। কিন্তুু কিছু বই আসলেই আছে। যেমন- Franz Kafka’s ‘Crossbred’ এবং Brothers Grimm’s ‘Grimms Märchen’ বইদুটি আসলেই আছে।

ধন্যবাদ এত কষ্ট করে লিখাটা পড়ার জন্য। আশা করি আপনারা মাঙ্গাটা পড়ে দেখবেন।

এনিমে রিভিউ: Kaiji — Rezo D. Skylight

KaijiKaiji দেখা শুরু করার সময় আমার তেমন একটা এক্সপেক্টেশন ছিল। প্রথমতো আমি এনিমের আর্টস্টাইল দেখে খুব চিন্তিত ছিলাম। বিশেষ করে ক্যারেক্টারগুলার নাকগুলা ছিল লম্বা প্লাস্টিক এর মতো দেখতে। তারপরেও কি মনে করে দেখতে থাকলাম। কিন্তুু দেখে মোটেই হতাশ হয়নি। কিভাবে যে টানা দুইদিনে কাইজি দেখে ফেললাম নিজেই বুঝলাম না।

কাইজির ঘটনা শুরু হয় কাইজি ও তার বন্ধুর কো- সাইনের মাধ্যমে লোন নেয়া টাকা থেকে। সেই লোনের টাকা শোধ করতে না পেরে কাইজির সেই বন্ধু পালিয়ে যায়। শেষমেশ আর কি হবে। লোনার সব বোঝা কাইজির ঘাড়ে পড়লো। কিন্তুু, সেই লোন ছিল বিশাল টাকার অংক। যেই লোন পরিশোধ করা কাইজির পক্ষে সহজ ছিল না। খুব চেষ্টা করলে হয়তো সে টাকা শোধ করতে কাইজির ১১ বছর কেটে যাবে। তখন টাকা আদায়কারি কাইজিকে ২টা চয়েছ দেয়। হয় তার কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে এই লোনের টাকা পরিশোধ করতে হবে নয় তাকে জীবন বাজি রেখে এক জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ভাগ্য ভালো থাকলে সে এই জুয়া খেলার মাধ্যমে এক দিনের মধ্যেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে পারবে। আর এই খেলাতে হারলে তার জীবনে নেমে আসবে নরক। কাইজি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে। আর প্রবেশ করে জুয়া খেলার অন্ধকার দুনিয়াতে।

কাইজিতে মানুষের psychology খুব ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। মানুষের অর্থের প্রতি হিংস্র লোভ-লালশা, অর্থের জন্য মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারানো, ওয়াদা ভঙ্গ করা, এমনকি অর্থের লোভে যে মানুষ মানুষকে মেরে ফেলতে পারে এই বিষয়গুলো কাইজিতে খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করেছে। “লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু” – এই প্রবাদটির ভাবার্থ কাইজি দেখলেই ভালোভাবে বুঝা যায়। আর উচ্চশ্রেণীর পিচাশশ্রেণী মানুষদের পরিচয়ও কাইজিতে দেখানো হয়েছে। এরা নিজেদের আনন্দও উপভোগে সমজের হতদরিদ্র, ঋণগ্রস্ত মানুষদেরকে নিয়ে বিভিন্ন মৃত্যু খেলার আয়োজন করে। তাদের কাছে দরিদ্র মানুষের জিবিনের কোন মূল্য নেই। কিন্তুু তাই বলে কাইজি মটেই পিছপা হয়নি। সে এসব খেলায় নিজের জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহন করে যায়। আর এর জন্যই কাইজিকে আমার খুব ভালো লেগেছে। এছাড়া “কাইজি”-র প্রায় প্রতিটি খেলাতেই রয়েছে gambling। আর প্রতিটি খেলায় কাইজি যেভাবে বুদ্ধি খাটায় তা পুরই অচিন্তনীয়। তাই মাথা খুব ঠাণ্ডা রেখে কাইজি দেখতে হয়েছে। আর আমি এই gambling গুলা খুব উপভোগ করেছি।

এখন ক্যারেক্টারের কথা বলতে গেলে শুধু কাইজির কথাই বলতে হয়। কাইজির চিন্তা ভাবনা অনেকটা ডেথ নোটের লাইট বা এলের মতো। কাইজি প্রতিটি জুয়া খেলাতেই নিজেকে কন্ট্রোল করে গভীর চিন্তা ভাবনা করে তার প্রতিপক্ষকে হারায়। কাইজি আসলেই যেকাররি ভালো লাগার মতো একজন ক্যারেক্টার।

অনেক কথা বলে ফেললাম। এখন আসল কথায় আসি। কাইজি যারা এখনো দেখেননি তারা সময় পেলে দেখে ফেলুন। বিশেষ করে আপনারা যারা Psychological জেনারের এনিমে পছন্দ করেন তাদের জন্য ”কাইজি” মাস্ট ওয়াচ একটা এনিমে। কাইজির intensity, thrill , awesomness ডেথ নোট, কোড গিয়াস এবং অন্যান্য Psychological এনিমের থেকে কোনো অংশেই কম না। আর gambling এবং mind games নিয়ে কাইজির মতো এনিমে খুব কমই আছে। আর আর্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। কয়েক এপিসোড দেখলেই আর্টটা আপনার কাছে মানানসই হয়ে যাবে।

MAL rating – 1st season (8.36), 2nd season (8.31)
My rating – 9/10

Anime Recommendation: Xam’d: Lost Memories (Bounen no Xamdou) — Rezo D. Skylight

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>এনিমে Recommendation<<<<<<<<<<<<<<<<<<<

নামঃ Xam’d: Lost Memories (Bounen no Xamdou)
এপিসোডঃ ২৬
Genres: Action, Sci-Fi, Military
MAL score: 7.89
My score: 8.5/10

1

“Xam’d: Lost Memories” মাত্র ২৬ এপিসোডের এই ONA সিরিজটা কিছুদিন আগে দেখে ফেললাম। বিখ্যাত “Full Metal Alchemist” এনিমের অ্যাডাপশন কোম্পানি “Studio Bones” এর অরিজিনাল এনিমে এটি। আর্টস্টাইল “Eureka 7” এর সাথে যথেষ্ট মিল আছে। OP & ED song দুইটাও চমৎকার।

ঘটনার মূল চরিত্রের নাম Akiyuki Takehara। সে তার মার সাথে সেন্টান দ্বীপে বসবাস করে। প্রতিদিনের মতো সে একদিন বাসে করে স্কুলে আসে। কিন্তু সেইদিন হটাত করে বাসটি বিস্ফোরিত হয়। আর সেই বিস্ফোরণের স্বীকার হয় সে ও তার বন্ধু Haru ও Furuichi এবং স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। আর সেই বিস্ফোরণ থেকে রহস্যময় এক আলো Akiyukiর হাতে এসে প্রবেশ করে। তখনই সে পরিনত হয় Xam’d নামের এক রহস্যময় জন্তুতে। সবাই তাকে ভুল বুঝে বিস্ফোরণ এর জন্য দায়ী মনে করে। ঠিক সেই সময় Humanfrom/Mutant নামক দানবাকার জন্তু সেন্টান দ্বীপবাসীদের আক্রমন করে। এই ঘটনায় প্রান হারায় হাজার হাজার মানুষ। এভাবে ঘটনাক্রমে Akiyukiর দেখা হয় Nakiami নামের এক অদ্ভুত মেয়ের সাথে যেকিনা তাকে রক্ষা করতে পারবে Xam’d-এ পরিনত হবার হাত থেকে।

এনিমেটা আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে। Nakiamiকে দেখে অনেকেরি ঘিব্লির “Nausicaä of the Valley of the Wind” মুভির Nausicaä-র কথা মনে পড়বে। আর Akiyuki-র পরিস্থিতি হয় অনেকটা “Tokyo Ghoul” এর Kaneki অথবা “Parasyte” এর Shinji-র মতো। এনিমেটাতে war, politics, romance, adventure & mecha-রও সংমিশ্রণ রয়েছে।
সুতরাং, সময় পেলে ২৬ এপিসোডের এই এনিমটা দেখে ফেলতে পারেন। আশা করি এনিমেটা উপভোগ করবেন।

**এখানে দেখুন- http://kissanime.com/Anime/Xam-d-Lost-Memories

Anime Recommendation: Yowamushi Pedal — Rezo D. Skylight

>>>>>>>>>>>>>>>এনিমে Recommendation<<<<<<<<<<<<<<<
Anime: Yowamushi Pedal
Episodes: 1st season- 38ep (Complete) ; 2nd season- 24ep (Complete)
Genres: Comedy, Drama, Shounen, Sports.
MAL Score: 8.24 (1st season); 8.20 (2nd season)
My Score: 9/10

Yowamushi Pedal
আগে থেকেই বলে নেই এনিমেটা মূলত সাইকেলিং নিয়ে। অনেকের কাছে সাইকেলিং থিমটা লেম বলে মনে হতে পারে, কিন্তুু এনিমেটা মোটেই লেম না। Yowamushi Pedal-এ সাইকেলিংকে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে যে এনিমেটা দেখার সময় আপনার নিজেরও সাইকেল চালাতে ইচ্ছা করবে। 😀

এখন আসল কথায় আসি। এনিমেটার মূল নায়ক ওনদা সাকামিচি। সে এতটাই এনিমের ভক্ত যে তার mommy bike (নরমাল সাইকেল) নিয়ে প্রতি সপ্তহে তার বাড়ি থেকে ৯০কিমি. পথ পাড়ি দিয়ে আকিহাবারা যেত এনিমের accessories কিনার জন্য। তার ইচ্ছা ছিল সে হাইস্কুলে উঠে ওটাকু ক্লাবে যোগ দিবে। কিন্তুু দুর্ভাগ্যক্রমে মেম্বার না থাকার কারনে ওটাকু ক্লাবকে ব্যান করা হয়। পরবর্তীতে ওনদার পরিচয় হয় ইমাইজুমি শুন্সুকির সাথে। এরপরেই ঘটনাক্রমে ওনদা যোগ দেয় সাইকেলিং ক্লাবে যা তার জীবনে নিয়ে আসে এক নতুন পরিবর্তন। এভাবেই শুরু হয় এনিমেটার কাহিনী।

পুরা এনিমেতেই রয়েছে টানটান উত্তেজনা। এনিমের প্রতিটা চরিত্রই অসাধরন। OST এবং BGM-গুলাও চমৎকার। একবার দেখা শুরু করলে আর থামতে পারবেন না। আর আপনি নিজে যদি সাইকেলিস্ট হন তাহলেতো কথাই নেই। আপনি এনিমেটাকে বেশ উপভোগ করতে পারবেন। আর আশা করি যারা সাইকেলিং এর ভক্ত না তারাও Yowamushi Pedal দেখার পর সাইকেলিং এর প্রেমে পড়ে যাবেন।
সুতরাং, দেরি না করে এখনই দেখা শুরু করুন। 🙂

Eyeshield 21 মাঙ্গা রিভিউ — Rezo D. Skylight

Manga Review: Eyeshield 21

প্রথমেই বলে নেই মাঙ্গাটা মূলত “American football” নিয়ে যা খুবই অপ্রচলিত একটা স্পোর্টস। আমি নিজেও সিরিজটা শুরু করার পূর্বে বহুত দিধা-দন্দে ছিলাম। মনে হয়েছিল যে, জিবনেও ভালভাবে American football খেলা দেখি নাই তাহলে এই সিরিজ পড়ে লাভটা কি?! আমি ভাবতাম American football খেলাতে খালি গুতাগুতি করা ছাড়া কিছুই নাই। এতে আর মজার কি?! কিন্তুু সত্যি বলতে কি “Eyeshield 21” সিরিজটা আমার চিন্তা-ধারনাকে বদলে দিয়েছে। American football যে এত মজার হতে পারে Eyeshield 21 না দেখলে হয়তো বুঝতে পারতাম না। আমি প্রথমে Eyeshield 21 এর এনিমে সিরিজটা দেখেছি তারপর মাঙ্গাটা পড়া শুরু করেছি। সিরিজটা আমার কাছে এতই ভালো লেগেছে যে মাঙ্গাটাও আমি প্রথম থেকে একবার হাল্কা ভ্রমন দিয়ে এসেছি। 😀

মাঙ্গাটা সম্পর্কে প্রথমে কিছু তথ্য দিয়ে নেই-
Volumes: 37
Chapters: 333
Status: Finished
Published: Jul 23, 2002 to Jun 15, 2009
Genres: Action,Comedy,School Life,Shounen,Sports. (Src-mangaupdates)
Authors: Inagaki, Riichiro (Story), Murata, Yusuke (Art)
Serialization: Shounen Jump (Weekly)
MAL Score: 8.62
MAL Ranked: 76
MAL Popularity: 96

কাহিনী কি দিয়ে আর শুরু করবো?! অন্যান্য শউনেন এনিমেতে যা হয়। প্রথমে মেইন ক্যারেক্টার “Wimpy” টাইপের থাকে কিন্তুু পরে সে বেশ শক্তিশালি হয়ে উঠে। Eyeshield 21ও তার বেতিক্রম নয়। গল্পের মূল নায়ক থাকে “কোবায়াকাওয়া সেনা” নামের অতি সাধারন এক ছেলে। সারা জীবনে খালি বুলির স্বীকার হয়েছে এবং বুলি থেকে বাচতে খালি দোউড়িয়ে বেড়িইয়েছে। কিন্তুু হাইস্কুলে উঠার পর সে ঘটনাক্রমে যোগ দেয় American football ক্লাবের Secretary হিসেবে। Secretary হওয়া সত্তেও শেষমেশ তাকে মাঠে খেলতে হয় “Eyeshield 21” নামের ছদ্দবেশে। এখান থেকেই তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সে সারা জীবনে বুলির হাত থেকে বাচার জন্য যে দোউড়ানোর কৌশল ব্যাবহার করত তা সে খেলার মাঠে কাজে লাগায় এবং পরিনত হয় Eyeshield 21 নামের এক রহস্যময় প্লেয়ারে।

এখন ক্যারেক্টারের কথায় আসি। ক্যারেক্টারের কথায় আসতে গেলে প্রথমেই আমার মাথায় আসে “হিরুমা ইয়োচির” নাম। সেইরকম অস্থির একটা ক্যারেক্টার। তার কাজকর্ম, বুদ্ধি, স্ট্রাটেজি সবকিছুই আনপ্রেডিক্টেবল। সে থাকে মূলতো Deimon High স্কুলের American football টিমের ক্যাপটেন ও কোয়ার্টারব্যাক। সে পুরো সিরিজে খুবই গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরপর মেইন ক্যারেক্টার সেনার কথায় আসি। তার আচার আচারন আর ৫-১০টা অন্যান্য Wimpy ক্যারেক্টারের মতনই। কিন্তুু মাঝে মধ্যে সে খুবই ভাবসমৃদ্ধ কথা কথা বলে বসে এবং তার সবচেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্য হল “সহজেই হার না মানা”। এছাড়া আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ ক্যারেক্টার রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোজ্ঞ হল আনেজাকি মামোরি, রেইমন তাউরো, রোয়োকান কুরিতা, তাকেকুরা গেন, হা-হা ব্রাদারস সহ আরও ক্যারেক্টার। Eyeshield 21 এর সবচেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্য হল এটির কাহিনী শুধু মেইন ক্যারেক্টারের উপর ফোকাস করে তৈরি হয়নি। প্রতেক ক্যারেক্টারের এর উপর মাঙ্গাকারা গুরুত্ত প্রদান করেছে। মেইন ক্যারেক্টারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেক্টারেরও ডেভেলপমেন্ট দেখানো হয়েছে। এমনকি প্রতিপক্ষ টিমের ক্যারেক্টারেরও ডেভেলপমেন্ট দেখানো হয়েছে (ঊদাহরন- শিন, সাকুরাবা, রিকু ইত্যাদি), যা খুব কম স্পোর্টস মাঙ্গাতেই দেখানো হয়। সবমিলিইয়ে ক্যারেক্টারগুলা খুবই মেমোরেবল। তাই Eyeshield 21 এর অন্যতম কী পয়েন্ট হলো এর “ক্যারেক্টার”।

আর্ট নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। বেশিরভাগ মানুষই কোনো মাঙ্গা পড়ার আগে তার আর্ট কেমন তা জিজ্ঞাসা করে। তাদের প্রথমেই বলে দিতে চাই Eyeshield 21এর মতো এত সুন্দর ও ডিটেইল আর্টের স্পোর্টস মাঙ্গা খুব কমই আছে। আর্ট নিয়ে যখন কথাই বলতে হল তখন আর্টিস্ট এর কথায় আসি। Eyeshield 21এর আর্টিস্ট হল Murata Yusuke। তার নাম হয়তো অনেকেই জানেন। বিশেষ করে যারা One Punch-Man মাঙ্গা পড়েছেন তাদের তো তাকে আরও বেশি চিনার কথা। তিনি বর্তমানের সেরা আর্টিস্টদের মধ্যে একজন। তাই, সাভাবিক ভাবে Eyeshield 21 মাঙ্গার আর্ট তো ভালো হবেই। আর মাঙ্গার ষ্টোরি রাইটার হল Inagaki Riichiro। বলতে গেলে Eyeshield 21ই তার সবচেয়ে উল্লেখযজ্ঞ কাজ। এছাড়া কিছু ওয়ান-সট ও রচনা করেছেন। তবে সেগুলো তেমন সাড়া পায়নি। কিন্তুু ভবিষ্যতে হয়তোবা সে Eyeshield 21 মতো আরও ভালো ভালো কাজ বের করবে বলে আশা করা যায়।

অনেক কথা লিখে ফেললাম। এখন যদি এঞ্জয়মেন্ট কথা বলতে যাই এক কথায় বলব Eyeshield 21 আমি খুব উপভোগ করেছি। Eyeshield 21এর প্রটিতি ম্যাচেই আছে টানটান উত্তেজনা ও টুইস্ট। যেহেতু এইটা Shounen ও Sports জেনারের মাঙ্গা সেহেতু এতে কিছু রুপকিয় moves/technique থাকতেই পারে; এতে তেমন দোষের কিছুই নেই। বরং এই moves/technique গুলা মাঙ্গাকে আরও উপভজ্ঞ করে তুলেছে। সবমিলিয়ে, Eyeshield 21 আমার পড়া “1 of the best” স্পোর্টস মাঙ্গা। 😀

এতুকিছুর পর নিশ্চয়ই মাঙ্গাটা একটু হলেও পড়তে ইচ্ছা করবে। তাই, দেরি না করে একবার শুরু করেই দেখুন। একবার পড়া শুরু করলে আর থামতে পারবেন না। আপনার মন চলে যাবে “American football” খেলার দুনিয়ায়। ~YAA-HAA~

My Rating – 9/10

*F.A.Q.-
১. American football আর Rugby কি একই জিনিস?
=>মোটেই এক জিনিস না। যদিও Rugby কে American football এর ছোট ভাই বলা হয়। এই লিঙ্কটি দেখে আসুন – [http://visual.ly/what-difference-between-american-football-…] আশা করি ধারণা পরিস্কার হয়ে যাবে।
২. American football খেলার নিয়ম কানুন কি?
=> Eyeshield 21 মাঙ্গা পড়লেই খেলার নিয়ম কানুন জেনে যাবেন। নইলে [http://en.wikipedia.org/wiki/American_football] এখানে ঘুরে আসুন।
৩. Eyeshield 21 এনিমে কি দেখব?
=> এটা আপনার একান্ত নিজের ইচ্ছা। এনিমের BGM ও OST গুলা বেশ ভালো। এনিমের টোটাল এপিসোড সংখ্যা ১৪৫ (More info –http://myanimelist.net/anime/15/Eyeshield_21)। তবে এনিমেতে বেশ কিছু ফিলার আছে। তাই ফিলারের ঝামেলা এড়ানোর জন্য মাঙ্গা দিয়ে শুরু করতে পারেন।