Usagi Drop রিভিউ — Rokibul Islam

7

Usagi Drop- মাত্র ১১ পর্ব- এক বসাতেই হয়তো শেষ করা যাবে এনিমেটা।

বেশ ভালো লেগেছে। মেলা আগে মারজুক রাসেলের একটা নাটক হয়েছিল-“বাবা বাবা লাগে” শিরোনামে। অনেকের হয়তো এই সিরিজটা দেখতে গিয়ে একই অনুভূতি হতে পারে 😛

বারাকামোনের সাথেই অনেকে এটাকে তুলনা করতে পারেন। আমি বলবো তুলনা করাটা ঠিক হবে না। বারাকামোন ছিল আরেকটু সহজ ফিলোসফীর- তারচেয়েও বড় কথা কমিক্যাল রিলিফ ব্যাপারটাই ছিল পুরো সিরিজটার প্রাণ। সে তুলনায় উসাগি ড্রপ অনেকটা বেশি আবেগ নিয়ে নাড়াচাড়া করবে। নারুর থেকে রিনের মনস্তত্ব- চরিত্রের বিবর্তন প্রায় পুরোপুরিই ভিন্ন। একই কথা খাটে দাইকিচি আর সেইন্সেই এর ব্যাপারেও। দুটোর আমেজ দুরকমের।

বারাকামোন যেমন হুটহাট মনে খারাপ ভালো করে দেয়- উসাগি ড্রপ আবার মনকে ভিজিয়ে ফেলে- ভালো-লাগায়। যারা নতুন বাবা হচ্ছেন বা হয়েছেন- এদের দেখা উচিৎ 😛

যারা এখনো দেখেননি। দেখে ফেলুন। ভালো লাগাটুকু বাধ্যতামূলক।

বিদ্র- ১) এইটার একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমাও রিলিজ পেয়েছিল ২০১১ তে। ইউটিউবে বুকমার্ক করে রেখেছি। আজ সন্ধ্যায় দেখে ফেলবো।

বিদ্র- ২) এইটা কোন রিভিউ না, বরং পড়ার পর নিজের অনুভুতি শেয়ার বলতে পারেন। রিভিউ লেখা আমার কম্মো না।

5

6

The Garden of Words (Kotonoha no Niwa) রিভিউ — Rokibul Islam

“A faint clap of thunder
Clouded skies, perhaps rain comes
Will you stay here with me?”

বৃষ্টি- বোধহয় সবারই কম বেশী প্রিয়। যখন লিখতে বসেছি এই বরফের দেশেও হালকা বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে। আকাশ কালো করে ঝুমঝুমিয়ে নামা বৃষ্টি ঠিক না; তবে একেবারে গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টিও বললে ভুল বলা হবে। কথাগুলো একটু অসংলগ্ন হয়ে গেল; আবার নাও হতে পারে (!)।

রিভিউ না, এটা আসলে একটা জাপানী অ্যানিমেশন দেখে ওঠবার পর দর্শক প্রতিক্রিয়া বলা চলে। লেখালেখি ব্যাপারটা আসে না; আগে দুচার লাইন স্ট্যাটাস দেবার একটা চেষ্টা করতাম, ওটাও কেন জানি দুঃসাধ্য হয়ে গেছে আজকাল। যাই হোক। আসল কথায় পা বাড়াই বরং; গল্প খুবই সামান্য- যথাসাধ্য চেষ্টা করবো স্পয়লার না দেবার।


সিনেমাঃ The Garden of Words (Koto no ha no niwa) (২০১৩)
পরিচালক/চিত্রনাট্যঃ মাকোতো শিনকাই
ভাষাঃ জাপানী
MAL লিঙ্কঃ http://myanimelist.net/anime/16782/Kotonoha_no_Niwa
ট্রেলারঃ http://youtu.be/udDIkl6z8X0

এনিমখোর গ্রুপ থেকে খোঁজ পাই এটার। দুটো কারণে বেশ আগ্রহ জন্মেছিল দেখবার ব্যাপারে- একটা কারণ হলো, পোষ্টারের অসাধারণ সবুজ আর বৃষ্টির ছড়াছড়ি কেমন যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। দ্বিতীয়ত, পরিচালকের নাম। ‘5 Centimeters Per Second’ এর একই সাথে ভিজুয়ালি এবং খুব সাদামাটা কিন্তু ছুঁয়ে যাওয়া প্লটের জন্য মাকাতো শিনকাই নামটা খুব সহজে ভোলা যাবে না।

পুরো সিনেমাটা ঘুরেফিরে কেবল দু’জন মানুষের গল্প- স্কুল পড়ুয়া এক কিশোর (Takao) আর বৃষ্টি দিনে পার্কের বেঞ্চে বসে থাকা এক বিষণ্ণ তরুণী (Yukari)। শুরুর দিকে একটু দ্বন্দ্বে পড়ে যেতে হয়- অসমবয়সী প্রেমের গল্প; নাকী দু’পাশ থেকে দেখা দু’জনের জীবনোপখ্যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামবে। বাকিদের কথা জানি না- তবে অনেকটা সময় আমি টেনে টেনে বৃষ্টিই দেখেছি- এত চমৎকার ভাবে ডিজিটাল পর্দায় বৃষ্টি হয়তো কখনো দেখিনি। বাজি ধরে বলে দিতে পারি- এ’বৃষ্টিতে হয়তো শরীর ভিজবে না- কিন্তু মন ভিজবেই।

মাত্র ৪৫ মিনিটের সিনেমার খানিকটা দূর আগালেই হয়তো টের পেয়ে যাবেন- একটু অসমবয়সী প্রেমের গল্পই এটা- তবে কেবল প্রেমের গল্প বললে ছোট করা হবে। অদ্ভুতভাবে Takao আর Yukari এর দেখা হয় কেবল বৃষ্টির দিনগুলোতেই। একজন স্কুল পালিয়ে নিজের পছন্দের কিছু কাজ নিয়ে হাজির হয় পার্কের ছায়াঘেরে ছাউনিতে- আরেকজন কাজে অমনোযোগী। কারণগুলো শুরুতে একটু ঝাপসা থাকলেও সিনেমার চাকা গড়ানোর সাথে সাথে বেশ দৃশ্যমান হয়ে যাবে। সংলাপের স্বল্পতা থাকলেও তা পুষিয়ে যাবে চমৎকার কিছু কথার জাদুচ্ছটায় পুরো সিনেমাজুড়েই। বয়সে কিশোর হলেও মননে বেশ পরিণত তাকাও-এর আবেগটুকু খুঁজে পাওয়া যায় এই লাইনটুকুতে- “To me she represents nothing less than the very secrets of the world.”

খুব আহামরী কোন গল্প নেই- তবে যেটুকু আছে তা হয়তো কিছুটা সময়ের জন্য জড়িয়ে রাখবে। বেশ অনেকটা বিষণ্নতায় জড়িয়ে দিয়েও শেষটায় তাই একটু আশা, একটু আবেগের প্রশ্রয়- তাই খুব বেশি বিলাসীতা মনে হয় না।

অনেক কিছু হয়তো লেখা যায়; কিন্তু ইচ্ছেতে কুলোচ্ছে না। ক্ষমাপ্রার্থী। হাতে খানিকটা সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন। বৃষ্টিপ্রেমী হলে এই সিনেমাটা মন্দ লাগবে না।

একেবারে শুরুতে বলা লাইনগুলো আসলে কবিতাচ্ছলে একটা প্রশ্ন ছিল। উত্তরটাও খুঁজে পাবেন সিনেমার শেষটায়ঃ

“A faint clap of thunder
Even if the rain comes not,
I will stay here, together with you…”

I have seen rain in screen many times, but never that beautifully…

সবার জন্য বৃষ্টিমুখর ঘোরলাগা দিনের আশাবাদ রইলো।

Barakamon রিভিউ — Rokibul Islam

গতকাল রাতে একটানা দেখে শেষ করলাম বারাকামোন। দেখা শুরু করার আগে এইটা নিয়ে কোন রিভিউ পড়া হয়নি। গ্রুপে কিছু পোষ্ট দেখেছি, স্ক্রল করে নিচে নেমে গিয়েছি, পড়িনি। প্রচন্ড মন মেজাজ খারাপ নিয়ে ইউটুব ব্রাউজ করতে গিয়ে সাজেশনে এইটার একটা এপিসোড চোখে পড়লো FunAnimation এর আপলোডে- কী ভেবে প্রথম পর্বে গিয়ে চালু করে দিয়ে বসলাম।

মিথ্যে বলবো না, হুট করে মন ভালো করে দেয়ার টনিক এই এনিমেটা, অন্তত আমার জন্য সেভাবেই কাজ করেছে। ইন্ট্রোতে- নারু যখন কষ্টে সৃষ্টে দরজা খুলে সেনসেই’র ঘরে উঁকি দেয়- ঐ জায়গাটা দেখেই কেমন জানি মন ভালো হয়ে যায়।

খুব সাদামাটা গল্প, প্যাচগোছ নেই। কিন্তু, আছে উচ্ছাস, নিজেকে খুঁজে নেয়ার গল্প, দুরন্তপনা, একটু পর পর হেসে উঠবার বাহানা… পুরো সিরিজটার প্রাণ আমার কাছে হান্দা সেইসু আর নারু। নারুকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই; উপরি হিসেবে বলবো- এই দুরন্ত, হাসিখুশী পুচকে ছুঁড়িকে দেখলেই আমার পিচ্চি কাজিনটার কথা মনে পড়ে যায়- প্রায় কাছাকাছি বয়সী- কিন্তু একই রকম প্রাণশক্তি, পোকামাকড়ের ভক্ত, নানাবাড়ির এমাথা থেকে ওমাথা দৌড়ে বেড়াবে।

পুরো সিরিজটা ধরেই নিজেকে নতুন ভাবে চেনার কাজটুকু করে যাবে হানদা, সহজ সরল- পরোপকারী দ্বীপের মানুষগুলোর কাছে থেকে একটু একটু করে জীবনকে নতুন ভাবে শিখতে শুরু করবে। প্রথম পর্বে উঁচু দেয়ালের উপরে উঠতে গিয়ে হানদার উদ্দেশ্যে নারুর বলা শিশুমনের সরলোক্তিগুলো কিছুটা হলেও নিজেকে নাড়া দিয়ে গেছে; পুরোটা সিরিজেই এমন অনেক বার্তা রেখে গেছে দর্শকদের জন্য। একেবারে শেষ পর্বে হানদার মা’র কথাটুকু শেষটায় খুব সত্য মনে হয়- “হানদার ক্যালিগ্রাফি কেবল পরিণত হয়নি, মানুষ হিসেবে সেও পরিণত হয়েছে ঐ দ্বীপে গিয়ে…”

মাত্র ১২ টা পর্ব দেখে শেষটায় নিজেরই মন খারাপ হয়ে গেছে। ধুচ্ছাই, শেষ হয়ে গেল।