বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ; সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

77590

আমার সবসময় যেটা মনে হয়, জাপানী আনিমে আসলে একটা “Double Edged Sword”. আপনার কখন কোনটা ভাল লাগবে, কিছুই বলা যায় না। দেখা যাবে যে একটা আনিমে আপনার আজ ভাল লাগল না, কিন্তু কয়েক বছর পর সেটা আবার ট্রাই করার সাথে সাথে প্রচণ্ড ভালোলাগা শুরু হয়ে গেল। আমার ক্ষেত্রে জিনিসটা হয় যখন আমি কমেডি বা ডেইলি লাইফ টাইপ কোন আনিমে দেখি।

আজ দেখে শেষ করলাম “বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ”। স্লাইস অফ লাইফ – আমার প্রিয় জনরা। অথচ বছর তিনেক আগে এই আনিমের প্রথম এপিসোড দেখে খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম। গত পরশু স্লাইস অফ লাইফ খুঁজতে খুঁজতে নামটা আবার চোখে পড়ল, ভাবলাম এটাই শেষ করে ফেলি। এবং শেষ করার জন্য দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম, আনিমেটা আমার খুবই ভাল লাগছে; almost as if I was searching for this exact anime!!

তো এই নিজের সাথে কন্ট্রাডিকশন দেখে আমার মাথায় ব্যাপারটা ঘুরপাক খেতে থাকল তিনদিন ধরে। ভাবতে ভাবতে মনে হল ঠিকই আছে। কারণ আনিমের প্রভাবটা বাদ দিয়ে দিলে “ফান” সম্পর্কে আমার নিজের যে আইডিয়া, বা আমি যেগুলোতে মজা পাই বা পেতাম, জাপানী আনিমের সাথে তা অনেকাংশেই মেলে না। জাপানী আনিমেতে এটা একটা কমন সিনারিও যে একটা ছেলে থাকবে, তাকে দুনিয়াশুদ্ধ মেয়ে যেভাবে ইচ্ছা অ্যাসাল্ট করবে, আর সে মেয়েগুলোকে কিছুই বলবে না, উলটো তাদের এসব অত্যাচার সিম্পলি শ্রাগ অফ করে তাদের সব ডিমান্ড পূরণ করবে, সেটাও তাদের প্যানপ্যান শুনতে শুনতে। এই সিনারিও যে আসলে ফানি, এটা মেনে নেওয়ার জন্য আসলেই কিছুটা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, আর সেটার ভুক্তভোগী হয় এই টাইপের প্রথম যে আনিমেটা দেখা হয়, সেটা; আমার ক্ষেত্রে সেটা প্রোবাবলি ছিল বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ (যদিও কোনোসুবাতে এই টাইপ কমেডি দেখে হাসতে পারিনি)।

77596

যাহোক, আজাইরা বক্তৃতা শেষ, আসল কথা খুব কম। ভাল করেছিলাম যে তখন এক এপিসোড দেখে এই আনিমে হোল্ডে রেখেছিলাম, কারণ বাকি এপিসোড দেখলে আমি নিশ্চিত তখন এতটা মজা পেতাম না। ছোট করে বললে আনিমের কাহিনী “কাওয়াই কমপ্লেক্স” নামের বোর্ডিং হাউস এর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে, এবং এই বোর্ডিং এর সব বাসিন্দার মাথায় প্রব্লেম আছে। তাও দিনশেষে তারা একজন আরেকজনের বিপদে ঠিকই একজোট হয়ে এগিয়ে আসে সাহায্য করতে, কাজেই মেদেতাশি মেদেতাশি।

আনিমের আর্ট বেশ সুন্দর, ব্রেইন্স বেইজকে আমি চিনি তাদের কম কালার দেয়া শান্তিময় সতেজ আর্টের জন্য, কিন্তু এই আনিমেতে তারা রঙ ঢালতে কোন কার্পণ্য করেনি। ওএসটি খারাপ না, আবার উল্লেখযোগ্য কিছুও না। স্লাইস অফ লাইফ ভাল লাগলে এই আনিমে ভাল লাগার কথা।

কেউ দেখতে চাইলে দেখতে পারেন, তবে নতুন নতুন আনিমে দেখছে, এমন কাউকে এটা সাজেস্ট না করাই ভাল, অন্তত আমার মনে হয়।

77597

অ্যানিমে রিঅ্যাকশন- শার্লট; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

charlotte

অবশেষে শার্লট দেখে শেষ করলাম। কালকেই শেষ হত আসলে, একেবারে শেষ এপিসোডের সাবটাইটেলে গন্ডগোল থাকায় সম্ভব হয়নি।

শুরুতে তেমন আহামরি লাগেনি, হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের চূনিবিও সিন্ড্রোমের মত কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে, সেগুলো ব্যবহার করে একদল শয়তানি করে বেড়ায়, আর আরেকদল সেটা থামিয়ে তাদের পথে আনে। মনে হচ্ছিল, “ওকে, দেখা চলে, দেখা যাক এই চূনিবিওর দৌড় কতদূর।”

এরপর আগাতে থাকলাম, জিনিসটা ইন্টারেস্টিং হওয়া শুরু করল। নতুন নতুন পাওয়ার আসে, তাদের সাথে এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্যদের নিজেদের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি দেখে বেশ ভাল লাগছিল।

তারপর, এলো এপিসোড ৬!! হঠাৎ করে একটা হাসিখুশি অ্যানিমে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেল। ব্যাপারটা এতটা আচমকা ঘটে যে আমারই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর ইউ এর অবস্থা, রিকভারী, ঘটনাগুলো কষ্টদায়ক ছিল, আবার সুইট ছিল (ইউ নো হোয়াই)। ভাবলাম যে হ্যা, এখন বোধহয় লাভ ষ্টোরি ঢুকায়ে দিবে।

কিন্তু আবার চমক, কিসের লাভ স্টোরি, কিসের নরমাল লাইফ!! কাহিনী তো কেবল শুরু!! একের পর এক টার্ন অফ ইভেন্ট, মানসিক চাপ আর দুঃখজনক ঘটনা। এপিসোড ১২ তে পৌছে অনেক ভাল লাগল, এটা ভেবে অবাক লাগল যে এই অল্প কয়টা এপিসোডের মাঝে এতকিছু কিভাবে দেখাল!!

তবে একেবারে লাস্ট এপিসোডটার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি খুঁজে পেলাম না। সারা দুনিয়া ঘোরাটা যেন ডাল মাখায়ে ভাত খাওয়ার মত সহজ, তাই এত ডেঞ্জারাস একটা কাজে জনাব নায়ক একাই বের হয়ে পড়লেন, জাস্ট লাইক দ্যাট!!

যাহোক, ভালই লেগেছে সবমিলিয়ে, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি অনেক ভাল, আর স্টোরিটাও ঘোটপাকানো হলেও ভাল।

 

628927

গিনবান কেলাইডোস্কোপঃ A Bitter-sweet venture of searching Dream

অসাধারণ একটা প্লট, চমৎকার হাস্যরস-যা ঠিক সুড়সুড়ি দিয়ে হাসাবে না, এমনিতেই মজা পাওয়া যাবে, স্লাইস অব লাইফ আর ব্যতিক্রমী-চিত্তাকর্ষক ফিগার স্কেটিং ফিচার করা একটা স্পোর্টস এনিমে, খুব স্মার্ট রোমান্টিকতা আর হতাশা-পরাজয়ের গ্লানিকে ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবার এক অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প, মাত্র ১২ টি পর্বে…! অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? প্রথম দেখার পর আমারও তাই মনে হয়েছিল, যারা দেখেন নি আজকেই দেখে নেওয়ার প্ল্যান করুন-
‘গিনবান কেলাইডোস্কোপ’।

এনিমেটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ব্যতিক্রমী স্টোরিলাইন। মূল চরিত্র সাকুরানো তাজুসা অলিম্পিকে জাপানের ফিগার স্কেটিং প্রতিনিধি হবার অন্যতম কনটেন্ডার, কিন্তু তার কিছুটা বদমেজাজ আর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হোঁচড় খাওয়ার প্রবণতার কারণে মিডিয়া এবং সাধারণের কাছে তীব্র বিতর্কিত। সমস্ত বিতর্ক আর সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে অলিম্পিকে জাপানকে সফলতার সাথে রিপ্রেজেন্ট করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতে তাজুসা যখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তখনই তার জীবনে আগমন ঘটে এক অনাহুত আগন্তুকের, চেহারা, চালচলন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সবদিক থেকেই তাজুসার থেকে বেশ ভিন্ন কানাডিয়ান বিমানচালক পিট। সম্পূর্ণ দুই ভুবনের বাসিন্দা পিট আর তাজুসার এই একত্রে পথচলা কতদিনের জন্য? সাকুরানো তাজুসার ফিগার স্কেটিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এটা কি ধরণের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠবে? [স্পয়লার এড়ানোর জন্য কাহিনীর চমকপ্রদ অংশ বাদ দিতে হলো, কিন্তু প্রথম এপিসোডেই বুঝবেন দেয়ারস মোর টু ইট]
এই ধরণের স্টোরিগুলোর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে যেটা হয় যে খুব ফানি টাইপ হয়ে পড়ে, কিংবা ১২ পর্বে শেষ হতে গিয়ে তাড়াহুড়া করে একটা যা-তা এন্ডিং দিয়ে দেয়, কিন্তু আলোচ্য এনিমের হাস্যরসটা খুব স্ট্যান্ডার্ড এবং অতিরঞ্জিত নয়, ডায়লগ খুব ভালো, মজার, কখনো কখনো ইঙ্গিতপূর্ণ আর উপভোগ্য। আর এন্ডিং টাও বেশ ভালো, বাস্তবতাবিবর্জিত নয়, যেটা আবার এর আন্ডাররেটেড হবার পেছনে একটা কারণ হতে পারে। মিউজিক-এনিমেশন কোয়ালিটিও পর্যাপ্ত। স্পোর্টস এনিমে হিসাবে চিন্তা করলে এনিমেটি কিছুটা সাধারণ মানের, স্পোর্টস এনিমের টানটান উত্তেজনা, আকর্ষণ, টিমওয়ার্ক আর বাদবাকিসব টিপিক্যাল বৈশিষ্ট্য এতে বেশ অনুপস্থিত, তবে ব্যতিক্রমী স্পোর্টস ফিগার স্কেটিংকে ফিচার করায় একে কিছু মার্ক্স দেওয়া যেতে পারে।

এনিমেটি মূলতঃ তাজুসা আর পিটের চরিত্র দুটিকেই ফিচার করেছে, বাকি ক্যারেকটারগুলা তেমন গুরুত্ব পায় নি বললেই চলে, কিন্তু মূল চরিত্রদুটিকে খুব সুন্দরকরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পিট কিছুটা তাজুসার গাইডিং এঞ্জেল টাইপের, তবে তাজুসার প্রভাববিস্তারের পরও তার নিজস্বতা হারিয়ে যায় নি এতটুকুও। তাজুসা সাকুরানো হয়ত এনিমে জগতের অন্যতম চমৎকার ফিমেইল ক্যারেক্টার/হিরোইন, ভালো ডেভলাপমেন্ট, স্বাধীনচেতা ভাব, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর তাড়না, ডিটারমিনেশন বেশ প্রশংসনীয়। তার চরিত্র পূর্ণতা পায় যখন সাফল্য অর্জনের অম্ল-মধুর রাস্তা পেরিয়ে বিজয়ের দুয়ারে পৌঁছে সে বুঝতে পারে বিজয়ই সবকিছু নয়।

না দেখার কোন কারণ নেই, আজকেই দেখে ফেলুন। মাইএনিমেলিস্টে একাউন্ট খুলতে গিয়ে বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করলাম এই এনিমের রেটিং দেওয়া আছে মাত্র সাড়ে ৭…
আমার রেটিং- ৯ (বায়াসড অল্প একটু)…