Sket Dance – মাস্ট ওয়াচ এনিম রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

SKET Dance.

নাম থেকেই আসলে সিরিজের মেইন স্টোরির একটা আইডিয়া করে নেওয়া যায়। SKET এর পুরো রুপ হচ্ছে – Support, Kindness, Encouragement, Troubleshoot. হাইস্কুলের ক্লাব স্কেট ডান্সের গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য ছিল স্টুডেন্টদের ছোট বড় নানা সমস্যায় সাহায্য করা। যদিও বেশিরভাগ সময়েই তারা ক্লাব রুমে বসে ঝিমায় এবং গল্প করে; যে কোন সমস্যা তাদের কাছে এলে সেটা সমাধানে তারা তাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে। সিরিজের মুল চরিত্র তিনটা – বসসুন, হিমেকো আর সুইচ।

প্রথমেই ছোট একটা জিনিস ক্লিয়ার করে নেয়া যাক। এই সিরিজটাকে অনেকেই গিন্তামার রিপ-অফ বলে দাবি করেন। যদিও সিরিজের মাঙ্গাকা এককালে গিন্তামার মাঙ্গাকার এসিস্ট্যান্ট ছিলেন এবং সেখান থেকে কিছুটা ইনফ্লুয়েন্সড হওয়াটাই স্বাভাবিক (এর ওর পোস্ট মারফত জানসি 😀 ) এবং সিরিজের সেটিং এও হয়ত কিছু মিল আছে; কিন্তু সেটা ও পর্যন্তই। দু’টো জিনিসের স্টাইল, টোন, টার্গেটে অনেক ভিন্নতা। গিন্তামা যেমন সবকিছুকে এক্সট্রীমে নিয়ে গিয়েছে; হোক সেটা কমেডি বা সিরিয়াসনেস; স্কেট ডান্স চেষ্টা করেছে পুরো সিরিজজুড়েই হাল্কা একটা ভাব ধরে রাখতে; যে কারণে কিছু ব্যাকস্টোরি ছাড়া পুরো সিরিজে তেমন সিরিয়াস কোন আর্ক বা স্টোরি নেই আসলে; এবং এই জায়গাটাই আমার কাছে মনে হয়েছে এই সিরিজের স্ট্রেংথ।

সিরিজের কোর স্টোরিলাইন খুব সিম্পল এবং এপিসোডিক। কিছু মাল্টিএপিসোড স্টোরি আছে; তবে সেগুলোর লেংথও খুব বেশি না। কমেডির পাশাপাশি ড্রামা এবং অন্যান্য এলিমেন্টগুলোও যত্ন নিয়েই ইঙ্কলুড করা হয়েছে।

সিরিজের প্রথম হাফে এপিসোডগুলো ছিল একদমই “ষ্টুপিড”; মানে যার যা খুশি করতেসে; আউটরেজিয়াস জিনিস আসতেসে একের পর এক (লাভ-লাভেন-লাভ জেনারেশন- মাই জেনারেশন – জেনারেশন গ্যাপ – জেনারেল জেনারেটর জেনারেশন- জেনেভা – এই সিকুয়েন্স আমি বহু দিন ভুলবো না; পৈশাচিক একটা এপি ছিল); ওইটাই বেশি ভাল ছিল। শেষঅর্ধে এরা ক্যারেক্টারগুলার মধ্যে কিছু রিলেশনশীপ ক্রিয়েট করতে গিয়েছে; এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেইটা অনেকটা ফোর্সড ছিল (পারসোনালিটি চেইঞ্জের এপিটা – রেয়ার এপিগুলার একটা যেইটা বিরক্ত লাগসে রীতিমতন :/ ); তবে সিরিজের খাতিরে সেটারও দরকার ছিল হয়তবা।

পুরো সিরিজে লক্ষ কোটি ক্যারেক্টার আসছে; থেকেও গেসে; আবার কিছু কিছু হারায়েও গেসে। সবারই কিছু না কিছু ইউনিক ট্রেইট ছিল; ইন্টারেস্টিং ছিল। কিছু কিছু এপিতেতো মেইন ক্যারেক্টারদের উপস্থিতি ছিল সাইডশো হিসেবে। মোমোকা, জো কুসারাগি ( :v ) , আগাতা, রোমান – সবগুলো ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং ছিল।

একটা সার্টেইন এপিসোডে সবাই মিলে উনিয়ুর বাসায় যায়। ওই এপিটা সম্ভবত সবচেয়ে উরাধুরা এপি ছিল আমার কাছে। লজিক মজিকরে গাট্টি বোঁচকায় বাইন্ধা তাকের উপর তুইল্লা রাইখা এপিটা বানাইসে। তাছাড়া জেনেসিস এর এপি, অনিহিমের মায়ের দাবড়ানি – পুরো সিরিজটাই জোস জোস এপিসোডে ভর্তি ছিল।

তবে পুরো সিরিজে সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র ছিল সুইচ ( অনেকেরই তাই হবার কথা 😀 )। ইউকির সাথে তার হেড-টু-হেড এঙ্কাউন্টারগুলা এবং তাদের আনউইজুয়াল রিলেশনশীপ খুবই এঞ্জয়েবল ছিল। প্লাস সুইচের উইটি কমেন্টগুলা অলওয়েজই এঞ্জয়েবল ছিল।

মিউজিক, আর্ট – এইগুলা মোটামুটি ভালই ছিল। ভয়েস এক্টিং আমার বেশ ভাল্লাগসে (সেইয়ু চিনি না; কেয়ারও করি না; সো এর বেশি কিছু আসলে বলার নাই)।

সিরিজের একটা সমস্যা হচ্ছে অনেক পান এবং প্যারোডি আসলে ধরা সম্ভব না; কারণ রেফারেন্স গুলা সমন্ধে আইডিয়ায় সবারই কম বেশি ঘাটতি থাকার কথা। প্লাস আমার মতন ম্যারাথন দিলে কিছু কিছু জোকস হয়ত ক্লিশে লাগতে পারে; আহামরি তেমন কিছু না।

ওভারঅল; চমৎকার একটা সিরিজ, যারা দেখেন নাই সবার জন্যই রিকমেন্ডেড।

এফ এ সি ২৩

রান্ডম টপিক

 আনিমিম ১- চিকোকু চিকোকু!

 

শউজো আনিমে বা মাঙ্গার খুব কমন সিন, মেইন ফিমেইল ক্যারেক্টার দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছে, তারপর প্যানিকড অবস্থায় দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে আর নাস্তা খাওয়ার সময় পায়নি। তাই এরা যা করে, ঝটপট একটা ব্রেড স্লাইস মুখে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করে, আর বলে “চিকোকু চিকোকু![I am going to be late!]” সাধারণত এর পরেই এরা মেইন মেইল ক্যারেক্টার এর সাথে ধাক্কা খায়, বাংলা সিনেমায় সাধারণত যা দেখায় আর কি। এই স্টেরিওটাইপিং এখন প্রচুর আনিমেতে ব্যবহার হচ্ছে, কিছু এগজাম্পল কমেন্টে।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

স্কেট ডান্স[Sket Dance]

 

আপনাকে কি কেউ নিয়মিত টিজ করছে? প্রেমঘটিত কোন সমস্যা? পড়াশুনা নিয়ে কোন ঝামেলা? কোন টিচারের ক্লাস ফলো করতে সমস্যা হচ্ছে? ক্লাবের সাথে মানিয়ে চলতে পারছেন না? বিড়াল হারানো গিয়েছে? সমস্যা যতই ট্রিভিয়াল হোক, বা যতই ঝামেলাযুক্ত হোক, চিন্তা নেই, বসসুন, হিমেকো, আর সুইচ স্কেট ডান্স ক্লাব গড়ে তুলেছে শুধুই আপনাকে সহায়তা করার জন্য।

 

 

কেন দেখবেন/দেখবেন না:স্কেট ডান্সকে বলা হয় গরিবের গিনতামা, কিছু ক্ষেত্রে গিন্তামার চিপ ইমিটেশন খুব ভালভাবে স্পষ্ট। চরিত্রের চিত্রায়নে গিন্তামার প্রভাব খুব বেশি। যদিও আনিমেটা পরবর্তীতে গিন্তামার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। যদি আপনি গিন্তামা না দেখে থাকেন, তাহলে স্কেট ডান্স বেশ প্রান খুলে হাসার মত একটা আনিমে। ভাল সাউন্ডট্র্যাক, চমৎকার সব সুক্কমি, সব মিলিয়ে বেশ ভাল কমেডি প্যারোডি আনিমে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩৯

আমার রেটিং ৮

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

আইশিলড ২১[Eyeshield 21]

 

কবায়াকাওয়া সেনা ভারী শান্তশিষ্ট এক ছেলে। আর এদের ক্ষেত্রে যা হয়, নিয়মিয় বুলিং এর শিকার। তো একদিন বুলিদের খপ্পর থেকে বাঁচতে গিয়ে সে দেখিয়ে দিল তাঁর দৌড়ের কারিশমা, আর সেই সাথে নজরে পড়ে গেল তাঁর স্কুলের আমেরিকান ফুটবল ক্লাবের ক্যাপ্টেন হিরুমার। সেই থেকে শুরু হল তাদের সংগ্রাম। লক্ষ্য? রাইস বৌল!

 

 

কেন পড়বেনঃদারুন শউনেন স্পোর্টস আনিমে, বেশির ভাগ শউনেন স্পোর্টস এর ক্ষেত্রে যা হয় [হ্যাঁ, আমি কুরোকো নো বাসকে বা প্রিন্স অব টেনিসের কথা বলছি], খুব বেশি অতিরঞ্জিত করে ফেলা হয় পুরো ব্যাপারটাকে। আইশিলডে তা নেই, কিছু ক্ষেত্রে পুরো জিনিসটাকে সিম্বলাইজ করার জন্য রূপক কিছু দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তবে তা ক্ষমা করে দেয়া যায়। মোটের উপর, দারুন উপভোগ্য এক মাঙ্গা। আইশিলডের আনিমেও যথেষ্ট ভাল, তবে তাতে গল্প পুরো শেষ হয়নি।

 

কেন পড়বেন না:তেমন কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৪

আমার রেটিং ৯