Nodame Cantabile রিভিউ — Sumaiya Kabir

nodame-cantabile

অ্যানিমে রিভিউ:
নাম: নোদামে কান্তাবিলে
জনরা: জীবনের টুকরা, রম-কম, ড্রামা এবং সবসময়… মিউজিক (Et puis toujours la musique)

অ্যানিমে সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য আগে দিয়ে দেই। নোদামে একজন সত্যিকারের মিউজিসিয়ানের উপর বেস করা ক্যারেক্টার! মাঙ্গাকা কাহিনীর ইন্সপিরেশন পান যখন এই সত্যিকারের নোদামে তার রুমের ছবি মাঙ্গাকার আন্ডারে থাকা এক ওয়েবসাইটে পোস্ট করে (রুমটা কেমন ছিল, তা অ্যানিমে দেখলেই বুঝতে পারবেন)। এই অ্যানিমেতে ব্যবহৃত সকল ক্লাসিক্যাল মিউজিক প্লে করার জন্য বিশেষ এক “নোদামে অর্কেস্ট্রা” তৈরি করা হয়েছিল। অ্যানিমের নামের “কান্তাবিলে” অংশটি একটি মিউসিকাল Jargon, যার অর্থ হচ্ছে অর্কেস্ট্রার এমন ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক, যা শুনতে গাওয়া গানের মত শোনায় (Citation Needed).

মোমোগাওকা মিউজিক ইউনিভার্সিটির পিছিয়ে পরা কিন্তু ট্যালেন্টেড নোদা মেগুমি ওরফে নোদামে আর আনওয়িলিং আইডল চিয়াকি শিনিচিকে নিয়ে কাহিনীর শুরুটা জাপান থেকে। অসম্ভব মেধাবী হবার পরেও নিজের আকাশ এবং নৌপথের যানবাহনের ভয় মেটাতে না পেরে জাপান ছেড়ে বিদেশে যেতে অপারগ চিয়াকি তার ছোটবেলার টিচার ভিয়েরা সেন্সের দেশে ফিরে যেতে পারছে না। একদিন “হারিসেন” টিচারের কাছে মার ও বকা খেতে খেতে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে, টিচারকে যা তা শুনিয়ে চিয়াকি ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়। ঘটনা পরিক্রমায় সেদিনই তার প্রেমিকা তাকে “ফেলিয়ার” বলে ছেড়ে চলে যায়। ড্রাঙ্ক হয়ে শেষমেষ চিয়াকি নিজের বাসার সামনে বেহুঁশ না হয়ে, পাশের বাসার অজানা অচেনা সেই নোদা মেগুমির বাসার সামনে এসে বেহুঁশ হয়ে পড়লো। পরদিন সকালে অপূর্ব মিউজিকে তার ঘুম ভাঙল। এমন করে কে বাজাচ্ছে পিয়ানো? চোখ বুজেও সে দেখতে পেল পিয়ানোর রঙ্গিন তরঙ্গ। এমন তো সে আগে শোনেনি! চোখ খুলে যে রুমটা চিয়াকি দেখল তা দেখে তার মিউজিকাল ওয়ান্ডার উড়ে গেল। ময়লায় জর্জরিত, পোকামাকড়ে ভর্তি রুমের মাঝে বসে পিয়ানো বাজাচ্ছে তারই পাশের বাসার মেয়েটি। সেই মেয়ের আজব ব্যবহার, একই টিচারের কাছে পিয়ানো শেখা, একসাথে পিয়ানো বাজানো, প্রতিদিন সেই মেয়েকে রেধে খাওয়ানো, তার ভালবাসার তোড় সামলানো, তাকে শাসন করা, কোন কারণ ছাড়াই তার খেয়াল রাখা, পিয়ানো শেখায় হেল্প করা যেন চিয়াকির জীবনের অংশ হয়ে গেল। এরই মাঝে নিত্যনতুন বন্ধু বানানো, পিছিয়ে পরা অন্যান্য স্টুডেন্টদের মধ্যেও নোদামের মত প্রতিভার আভা দেখতে পাওয়া, মেজর চেঞ্জ করে পিয়ানো থেকে কন্ডাক্টিং এ যাওয়া, স্ট্রেসম্যানের মত মায়েস্ট্রর শিষ্য হতে পারা, এবং আস্তে আস্তে কন্ডাক্টিং এ হাত পাকানো। এরই মাঝে নব্য কন্ডাক্টরের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। স্ট্রেসম্যানের তৈরি বিশেষ “এস অর্কেস্ট্রা” পরিচালনা করে চিয়াকি কি পারবে “এ অর্কেস্ট্রা” কে হারাতে?

এরপর আসি নোদামের কথায়। পুরো ইউনিভার্সিটি যখন ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের পথ গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত, নোদামে তখন তার সেন্সের সাথে মোজা মোজা মোজামির সুইট তৈরি করছে। ঘটনাক্রমে সেনপাই এর সাথে পিয়ানো বাজিয়ে জীবনে প্রথম প্রেমে পড়লো নোদামে। কিন্তু পারফেকশনিস্ট চিয়াকিকে সেন্সের মত ভুজুং ভাজং দিয়ে সন্তুষ্ট করা সম্ভব না। নোদামের “গিয়াবো”, “মুক্যা” চিৎকার, অগোছালো লাইফস্টাইলের মাঝেই দুজনের চমৎকার মিউজিকের অনুশীলন। জীবনীশক্তি ও উদ্দিপনায় ভরপুর নোদামের পিয়ানো চিয়াকির ছোঁয়ায় আরও চমৎকার করে বেজে উঠল। এতদিনে এই Raw diamond ক্যাম্পাসে পরিচিত হয়ে উঠল তার প্রতিভার জন্য। চিয়াকির সেই “হারিসেন” টিচারও এবার নোদামের প্রতিভায় বিমহিত। কিন্তু তার বাজে ব্যবহার ও মার নোদামের বুকের গভীরে চেপে রাখা ছোটবেলার কোন Trauma এর স্মৃতির কথা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে?

চিয়াকির প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সে জাপান ছেড়ে যেতে পারছে না। নানা ভাবে চেষ্টা করেও তার উড়োজাহাজ ও জাহাজের ভয় দূর করা যাচ্ছে না। নোদামে Raw Diamond হওয়া সত্ত্বেও পারছে না নিজের প্রতিভাকে আরও ঘষামাজা করে তার দীপ্তি চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে। কিছু স্মৃতি আমাদের পিছনে টানে, মনকে ভারাক্রান্ত, ভীরু করে। নোদামে আর চিয়াকি কি পারবে একে অপরের ভয়কে দূর করতে? মনকে মুক্ত করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে? একসাথে কত পথ তারা পাড়ি দিতে পারবে? এতদিন সুনদেরে-গিরি করে চিয়াকি যখন শেষ পর্যন্ত নোদামের দিকে এক কদম এগিয়ে গেল … তখন নোদামে কেন দুই কদম পিছালো?

এই তো গেল ১ম সিজনের কথা। ২য় সিজনে নোদামে আর চিয়াকি শেষ পর্যন্ত সুদূর প্যারিসে পাড়ি জমালো। তাদের বিল্ডিং এ এবং স্কুলে অনেক বিদেশি মিউজিসিয়ানদের সাথে দেখা হল, বন্ধুত্ব হল। ফ্র্যাঙ্ক, তানিয়া, ইয়ুং লং, রুই এবং কুরকিদের সাথে নতুন ভাবে মিউজিককে আবিষ্কার করার যাত্রা শুরু হল।
এতদিনে চিয়াকি তার প্রিয় ভিয়েরা সেন্সের দেশে ফিরে এল। কিন্তু সেন্সের সামনে যাবার আগে তার নিজের পরিচয় তৈরি করে নিতে হবে। মাত্র দুই বছর কন্ডাক্টিং করে কম্পিটিশনে নেমে পড়া চিয়াকির এখন পারিসিয়ান পিয়ারসদের মুগ্ধ করার পালা। পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী রু মার্লে অর্কেস্ট্রার দায়িত্ব পাবার পর মুষড়ে পড়া এই অর্কেস্ট্রাকে চিয়াকি আবার নিজের পায়ে খাড়া করতে পারবে কি?

এতদিন চিয়াকির আগে পিছে ঘোরা নোদামে এখন নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিজের থেকে কম বয়সী স্টুডেন্টের অনেক বেশি ভালো করতে দেখে নোদামে মিউজিকালি ফ্রাস্ট্রেটেড। এদিকে চিয়াকি নোদামের অবহেলা সহ্য করতে পারছে না। এই নিয়ে দুইজনের ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি এবং শেষ পর্যন্ত সংগীতের তৈরি করা দূরত্ব সংগীত দিয়েই দূর করা। চিয়াকি ভাবে, নোদামে কাছেই, আবার দূরেও বটে। কিন্তু যতদিন সে তার নজরের মধ্যে আছে, ততদিন সব ঠিক থাকবে। পাশাপাশি ওদের বন্ধুদের, বিশেষ করে তানিয়া, কুরকি এবং ইয়ুং লং এর মিউসিকাল জার্নি সামনে এগিয়ে চলছে। প্রথম নজরেই অপছন্দ হওয়া তানিয়া আর কুরকির মধ্যেও কি রোমান্সের বীজ দানা বাঁধছে? এদিকে শুধুমাত্র চিয়াকির সাথে পিয়ানোর কনসেরতো পারফর্ম করার স্বপ্নের চারিদিকে নিজের মিউজিককে আরও সাবলীল করে তুলতে ব্যস্ত নোদামের পরিণতি কি হবে?

৩য় সিজনে দেখা গেল তানিয়ার কম্পিটিশনে শোনা রাভেলের জি মেজরের পিয়ানো কনসেরতোটি চিয়াকির অর্কেস্ট্রার সাথে পারফর্ম করতে নোদামে এক পায়ে খাড়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে একই মিউজিক পিস চিয়াকিকে পারফর্ম করতে হল সিদ্ধহস্ত পিয়ানিস্ট রুই এর সাথে। নোদামেরও এতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু পারফর্মেন্স শোনার পর মনঃক্ষুণ্ণ নোদামে ডেভিলের সাথে ডিল করে চিয়াকিকে ফেলে পালিয়ে গেল। এতদিন যে নোদামে নজরের সীমার মধ্যে ছিল তাকে হারিয়ে চিয়াকিও দিশেহারা। একশ দুইশ বছর পুরানো মিউজিককে যখন একই ভাবে অনুভব করার কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুজন মানুষ কাছে আসতে পারে, তখন সেই মিউজিককে আশ্রয় করে চিয়াকি কি নোদামকে ফিরিয়ে আনতে পারবে? নোদামের ইনপালসিভ কিন্তু তাদের দুইজনের জীবনের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট প্রশ্নের জবাব হ্যাঁ হলেও, চিয়াকির সেই জবাব একসেপ্ট করার মানসিকতা নোদামের থাকবে কি? বাতাসে যে অপূর্ব তরঙ্গ ধ্বনি ছড়িয়ে পরছে, তা কি বিদায়ের সংকেত, নাকি চিয়াকি আর নোদামের নতুন জীবনের Prelude (Kurikaesu atarashi prelude)?
জানতে হলে দেখে ফেলুন নোদামে কান্তাবিলে।
শুধুমাত্র মিউজিক্যাল experience টার জন্যে হলেও অ্যানিমেটা দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। অন্য কারো কেমন লাগবে জানিনা, কিন্তু আমার জন্য আনিমেটা ছিল কান্তাবিলে (গানের মতন)।

Clannad লিখেছেন Sumaiya Kabir

আমার প্রথম রিভিও:
“Clannad” – নামটা একটু অদ্ভুত। ইন্টারনেটে সার্চ দিলে দুটো জিনিস পাবেন, একটা গেম, আরেকটা আইরিশ ব্যান্ড। মেইন সিনারিও রাইটার ধারণা করেছিলেন যে আইরিশ ভাষায় “Clan” বা বংশ কিংবা পরিবার থেকে “Clannad”। কিন্তু আসলে সেটা ভুল ধারণা ছিল। অ্যানিমের Genre মূলত রোম্যান্টিক কমেডি, ট্র্যাজেডি, স্লাইস অফ লাইফ, গ্রয়িং উপ, ফ্যান্টাসি এবং হাল্কা সাই-ফাই।
নামের আদিকথা থেকেই বুঝতে পারছেন, অ্যানিমেটা আসলে পরিবারকে নিয়ে। সব ধরনের পরিবারকেই এখানে হাইলাইট করা হয়েছে। নাগিসা’র দুটি পারফেক্ট পরিবার, তোমোয়া’র দুটি সিঙল প্যারেন্ট পরিবার, ফুকো ও তার বড় বোনের ছোট্ট পরিবার, কোতোমি’র শূন্য পরিবার, তোমোয়ো সাকাগামি’র সবাই থেকেও নেই পরিবার, ক্যো এবং রিও এই দুই জমজ বোনের সম্পর্ক এবং সোনোহারা ও তার বোন মেই এর সম্পর্ক। এমন হতেই পারে না যে এ অ্যানিমেতে দেখানো পরিবার, ও পারিবারিক নানা সম্পর্কের একটির সাথেও আপনি রিলেট করতে পারবেন না। এখানে নাগিসা ও তোমোয়া’র দুটো করে পরিবার কেন বলা হল, অ্যানিমেটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া দাঙ্গো দাইকাযোকু তো আছেই! এই সীমিংলী চাইল্ডিশ থিমটার তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। অ্যানিমেতে দাঙ্গো দাইকাযোকু’র গান শুনে একবার হলেও আপনার কান্না আসবে।

10552550_516192525180488_4591367537532376086_nপ্রথমে যখন অ্যানিমেটা শুরু হল, নায়কের ভইস-অভার শুনে একটু ভ্রু কুচকে তাকালাম। “কোনো মাচি গা কিরাইদা। ” অর্থাৎ , “এ শহরকে আমি ঘৃণা করি। কারণ, এ শহর ভর্তি সেসব স্মৃতিতে যা আমি ভুলে যেতে চাই। ” সিনগুলি প্রায় সাদাকালো, দেখেই মনে হচ্ছে কত না জানি মেলাংকলি কাহিনী। আমি বিরক্ত। এসব কি তাহলে প্রথম থেকেই অ্যানিমেটাকে কাক্কোই বানানোর ব্যর্থ প্রয়াস? হাটতে হাটতে নায়ক এক সাকামিচি (স্লোপ) এর নিচে এসে দাঁড়ালো। কাছেই আবার পটেনশিয়াল নায়িকা। নায়িকার উদ্ভট ভঙ্গিতে নিজের সাথে কথা বলা দেখে নায়ক থমকে গেল। এরপর নায়িকার সে কথাগুলো শোনা, এবং নায়িকার কথার চকিত উত্তর। নায়িকা নাগিসা ফুরুকায়া যখন ফিরে তাকালো, স্ক্রিন ফ্লিকার করে উঠল। যখন প্রথম কথা বলল, তখনই প্রথম রঙ্গিন হল আমার মনিটর, এবং নায়ক, অকাযাকি তোমোয়া’র জীবন। কানে ভেসে এলো অপূর্ব বাকগ্রাউন্ড মিউসিক। প্রথমবারের মত, অ্যানিমেটা নিয়ে আশাবাদী হলাম। শুরু হল নাগাই, নাগাই ( দীর্ঘ, অতি দীর্ঘ ) ঊর্ধ্ববর্তী যাত্রা।
অ্যানিমের এই প্রথম কয়েকটি সিনের এত বিশদ বিশ্লেষণ এর কারণ দুটো।
১। সিনগুলো অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানিমেতে বারবার ফিরে আসবে এ সিনগুলো।
২। সিনগুলো দেখে প্রথমে আমার মত অনেকেই ইম্প্রেসড হননি। হয়ত প্রথমেই অ্যানিমেটার উপর গিভ উপ করে দারুণ ভুল করেছেন।

এরপর তোমোয়া আর নাগিসা দুজনের স্কুললাইফে বন্ধুত্ব, আরো অনেক বন্ধু পাবার কাহিনী, তাদের জীবনের সবচেয়ে প্রেসিং প্রব্লেমগুলো একে একে সল্ভ করার মিলিত প্রয়াস।
এসবের মাঝে আবার অন্য আরেক জগতের ঝলক। শেষ হয়ে যাওয়া এক পৃথিবীতে, একা একটি মেয়ের একাকি অস্তিত্ব। সে জগতে ভেসে বেরায় কোটি কোটি রহস্যময় আলো, যা নাকি অন্য কোনো অলটারনেট পৃথিবীর ছায়া। সেসব আলোর মধ্যে একটি আলো মেয়েটিকে লক্ষ্য করে, মেয়েটির ঘরে এসে ঢুকে। মেয়েটি সে আলোকে একটি রোবট-সদৃশ দেহ তৈরি করে দেয়। শুরু হয় তাদের একে অপরকে সঙ্গ দেওয়া অদ্ভুত এক জীবন। এরপর পাশাপাশি চলতে থাকে এ দুটি সীমিংলী উনরিলেটেড কাহিনী।
ফুকো, কোতোমি, ক্যো, রিও , তোমোয়ো এবং সব শেষে নাগিসা। একে একে সবার আলাদা আলাদা গল্প আমাদের সামনে আসে। Clannad – এর শেষে মনে হয় আমরা যেন জেনে গেলাম সব রহস্যের সমাধান। কিন্তু না! অ্যানিমের প্রধান চরিত্র, তোমোয়া’র কাহিনী যে বাকি!
Clannad অনেকের কাছেই বোরিং মনে হয়েছে। অনেকেই গিভ উপ করেছেন।
কিন্তু আমার কাছে লাগেনি। ফুকো আর কোতোমি’র গল্প ব্যথিত করেছে, তোমোয়া আর তার বেস্ট ফ্রেন্ড য়্যোহেই এর কমেডি দেখে হোহো করে হেসে উঠেছি। মাঝে মাঝে প্রেসিং কোনো স্টোরি লাইন এর অভাব হয়ত আমিও অনুভব করেছি, কিন্তু দমে যায়নি। দমে না যাওয়ার রিওয়ার্ড আমি পেয়েছি। নাগিসা’র পারফেক্ট পরিবারের পিছনের সাক্রিফাইস, অ্যাক্টিং ক্লাবের পরিণতি সিজন ফিনালে হিসেবে অসাধারণ ছিল।

এরপর আসি “Clannad After Story” তে। এর প্রথম দিকে সাগারা’র কাহিনী, য়্যোশিনো য়্যুস্কে’র কাহিনী অসম্ভব ভাল লেগেছে। এরপর শুরু হয় সিজন ২ এর প্রধান কাহিনী। নাগিসা’র সাথে তোমোয়া’র এক নতুন জীবনের আরম্ভ। ছোট্ট এক এপার্টমেন্টে থেকে, দুজনেরই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ। নানা প্রতিকুলতা পার হয়ে নাগিসা আর তোমোয়া পারফেক্ট একটি ফ্যামিলি তৈরিতে মশগুল। এরপর পরিবারে নতুন একটি সদস্যের আবির্ভাব ঘটে। এতে তো তোমোয়া আর নাগিসা’র পরিবারিক জীবন পূর্ণতা লাভ করারই কথা, কিন্তু তাই হয় কি? তোমোয়া’র ঘৃণিত এ শহর কি তার জীবন, তার পরিবার নিয়ে কখনই খেলা বন্ধ করবে না?
তারই ফাঁকে ফাঁকে আবার সেই রহস্যময় পৃথিবী থেকে একসাথে পালিয়ে যাবার চেষ্টা মেয়েটি এবং রোবটটির। পুরো পৃথিবী বরফে ঢেকে গেলে মুক্তির আর কোনো আশা থাকবে না। তারা কি পারবে, জন-মানব পূর্ণ পৃথিবীতে কোনোভাবে ফিরে যেতে? নাকি দুটি সীমিংলী উনরিলেটেড জগতের মধ্যে কোন সম্পর্ক স্থাপিত হবে?
জানতে হলে দেখে ফেলুন Clannad.

মনোযোগী দর্শক হয়ত স্টাইনস;গেট এর সাথে অ্যানিমেটির কাঠামোগত মিল ধরতে পারবেন। দুটোই রোল প্লেয়িং গেম বা ভিসুয়াল নভেল এর উপর বেসড। এ ধরণের গেম এ অনেক গুলো এন্ডিং থাকে তাই Clannad বা Clannad After Story এর শেষ এপিসোড দেখে ভড়কে যাবেন না।

Clannad After Story দেখে কাঁদেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। অডস আর, শেষ করতে পারলে আপনিও কাঁদবেন। তাই এই অ্যানিমেটাকে আরেকটা সুযোগ দিন, আপনাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবার।