Sword Art Online II [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

SAO 2 a

এনিমে: Sword Art Online II
জনরা : অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, সায়েন্স ফিকশন (দ্বিমত থাকতে পারে)
এপিসোড : ২৪
স্টুডিও : A-1 Pictures
উৎস : Sword Art Online লাইট নভেল বাই রেকি কাওয়াহারা

*

Sword Art Online একটি বহুল আলোচিত ও সমালোচিত এনিমে সিরিজ। ২০১২ সালে রিলিজ হওয়ার পরেও পাক্কা তিন বছর এর হাইপ ভালোভাবেই দৃশ্যমান ছিল। সেই হাইপের সুবাসে এক নবীন এনিমেভক্ত আমি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এনিমেটা দেখা শুরু করি। যত যাই হোক না কেন, এনিমেটা আমার স্মৃতিতে চিরঅম্লান হয়ে থাকবে কারণ SAO হচ্ছে আমার ডাউনলোড করে দেখা প্রথম এনিমে। যাই হোক, জীবনে কোন রোমান্সধর্মী এনিমে না দেখা এই তরুণ আমি চট করেই কিরিতো আর আসুনার অসম প্রেমে মজে যাই। আর ঘটনাক্রমে ঐ মাসেই আমি এনিমখোরে জয়েন করি। অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ পোস্টের ছড়াছড়ি দেখে আর নিজের মত প্রকাশ করতে সাহস পাই নি। আজ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর এই এনিমের সেকেন্ড সিজন দেখে শেষ করলাম। আমি যখন SAO দেখছিলাম তখন SAO 2 মাত্র ইংরেজিতে ডাব হওয়া শুরু হয়েছে। তখন আবার ইংরেজি ডাব ছাড়া এনিমে দেখতে চাইতাম না। তাই ফুল হাইপে থাকা অবস্থায় আর এনিমেটা দেখা হয় নি। ২০১৫ এর নভেম্বরে anicoders এ 720p ডুয়াল অডিও এর খোঁজ পাই, কিন্তু নানাবিধ কারণে এনিমেটা দেখা হয়ে উঠে নি। ততদিনে SAO এর লেইমনেস নিয়েও অবগত হয়ে গেছি। কিন্তু প্রথম ভালোবাসার (বিশেষ করে আসুনার) টান উপেক্ষা করা বড়ই কঠিন কাজ। তাই শেষমেশ দেখেই ফেললাম SAO 2. গৌরচন্দ্রিকাটা হয়তো বেশি দীর্ঘায়িত করে ফেলেছি।

*

প্লট: SAO 2 এর কাহিনী মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত। লাইট নভেলের মোট তিনটা আলাদা আলাদা আর্ক ২৪ পর্বে অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে। আর্ক তিনটার নাম, Phantom Bullet, Calibur ও Mother’s Rosario. Phantom Bullet এর কাহিনী ছিল ১-১৪ পর্ব পর্যন্ত, ক্যালিবারের কাহিনী ১৫-১৭ এপিসোড পর্যন্ত ও মাদারস রোজারিও এর কাহিনী ১৮-২৪ এপিসোড পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।

*

ফ্যান্টম বুলেট আর্ক: (স্পয়লার মিশ্রিত)
SAO ইনসিডিন্টের পর কিরিতো যখন একটু স্বাভাবিক জীবনের আভাস খুঁজে পাচ্ছিল তখনই মন্ত্রনালয়ের এক হোমরাচোমরা আমলার কাছে তাকে তলব করা হয়। গভর্নমেন্ট খুবই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপারের তদন্তে কিরিতোর সাহায্য প্রার্থনা করে। কেসটা হল Gun Gale Online ( যাকে সবাই সংক্ষেপে GGO বলে অভিহিত করে) নামের একটা নতুন VRMMORPG নিয়ে যেটি U.S.A হতে পরিচালিত। GGO হল একমাত্র MMORPG যেটা খেলে সরাসরি আয় করা যায়। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই এটি বহুল প্রচলিত। তো GGO এর অত্যন্ত মর্যাদাকর একটি টুর্নামেন্ট Bullet of Bullets শেষ হওয়ার কিছুদিন পরেই গেইমটিতে এক রহস্যময় ও ভৌতিক খেলোয়াড়ের আবির্ভাব ঘটে। Bullet of Bullets এর চ্যাম্পিয়ন টিভিতে সাক্ষাৎকার দেবার সময় গেইমার রেস্ট হাউজে কালো আলখেল্লা পড়া সেই রহস্যময় গেইমারের আগমন ঘটে। সত্যিকারের পাওয়ারের সংজ্ঞা দিতে দিতে টিভি স্ক্রিনের দিকে সে তার অদ্ভুতদর্শন পিস্তল তাক করে। অন্যরা যখন এই ঘটনা দেখে হাসাহাসিতে ব্যস্ত, সেই অদ্ভুতদর্শন পিস্তল হতে একটি বুলেট ছুটে গিয়ে টিভি পর্দাকে আঘাত করে। সবাই তখন আরো হাসিতে ফেটে পড়তে পড়তে আতংকের সাথে খেয়াল করে যে চ্যাম্পিয়ন অদ্ভুত রকমের যন্ত্রণাকর মুখভঙ্গি করছে এবং একসময় তার অ্যাভাটারটা ডিসকানেক্টেড হয়ে যায়। আলখেল্লাধারী সেই রহস্যময়ী নিজেকে Death Gun নামে পরিচিতি দেয় এবং বলে যে সে তার একই নামের পিস্তল দিয়ে গেইমের ভেতরেই বাস্তব জীবনে মানুষ খুন করতে সক্ষম। এই ভয়ংকর ঘটনা গেইমারদের মধ্যে আরো বড় আলোড়ন সৃষ্টি করে যখন তারা জানতে পারে যে পুলিশ চ্যাম্পিয়নের মৃতদেহ তার নিজ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে। ব্যাপারটা শীঘ্রই সরকারের নজরে আসে এবং তারা এই Death Gun রহস্যের সমাধানের জন্য কিরিতোর সাহায্য চায়। প্রথম দিকে নিমরাজি থাকলেও শেষপর্যন্ত কিরিতো এই কেসের তদন্তের দায়িত্ব নেয় এবং GGO তে প্রবেশ করে। ঘটনাক্রমে কিরিতোর সাথে দেখা হয়ে যায় ঠাণ্ডা মাথার তরুণী স্নাইপার সিননের যে কিনা এক অদ্ভুত ফোবিয়ার শিকার এবং এক নির্মম অতীত তাকে সর্বদাই তাড়া করে বেরায়। ক্রমে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে এবং কিরিতো টের পায় যে ডেথ গান তার পুরোনো এক শত্রুই এবং তার মতই একজন SAO সারভাইভার। কে এই ডেথ গান? কি করে সে গেইমের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে মানুষ খুন করে? কিরিতো কি পারবে এই নতুন ঘরানার সাইবারপাংক গেইমের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে?

SAO 2 b*

ক্যালিবার আর্ক: খুবই ছোট অর্থাৎ মাত্র চার পর্বের আর্ক এটি। এখানে বর্ণিত হয়েছে কিরিতো ও তার টিমের লেজেন্ডারি সোর্ড এক্সক্যালিবার পাওয়ার কাহিনী। ঘটনাক্রমে একদিন কিরিতো আর লিফা ওয়ার্ল্ড ট্রির একেবারে নিচে ঝুলন্ত উলটো আকৃতির এক পিরামিডের মধ্যে লেজেন্ডারি সোর্ড এক্সক্যালিবারকে দেখতে পায়। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ট্রির একেবারে নিচের অংশ হওয়ায় সেইখানে ফেয়ারিদের পাখা ঠিকমত কাজ করে না তাই আর কোন উপায় রইলো না এক্সক্যালিবারের কাছে পৌঁছানোর। কিন্তু এক অদ্ভুতদর্শন প্রাণীর সাহায্যে কিরিতো অ্যান্ড কোং পৌছে যায় সেই উল্টো পিরামিডের কাছে, কিন্তু সেইখানে তারা আরো অদ্ভুতুড়ে এক কোয়েস্টের খোঁজ পায় যা কিনা তাদেরকে মুখোমুখি করে দেয় ফ্রস্ট জায়ান্টদের রাজা Thymer বিপক্ষে। পথে তাদের সাহায্য করে এক অনিন্দ্যসুন্দরী নারী যার নাম ফ্রেয়া। এই লেজেন্ডারি সোর্ড এক্সক্যালিবারের সাথে মিশে আছে এক জাতির টিকে থাকার আশা ভরসা, কিরিতো অ্যান্ড কোং কি পারবে সেই আশাকে টিকিয়ে রাখতে?

*

মাদারস রোজারিও আর্ক: ব্যক্তিগতভাবে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এই আর্কটি। মাদারস রোজারিও আর্কের কাহিনী মূলত আবর্তিত হয়েছে Nights of the blood oath এর সাবেক ভাইস কমান্ডার, লাইটনিং ফ্ল্যাশ আসুনা ইউকিকে কেন্দ্র করে। নিজের কেবিনে রাত্রিযাপন করার সময় আসুনা তার বান্ধবীদের কাছ থেকে Zekken নামক এক অদ্ভুত খেলোয়াড়ের খোঁজ পায়। Zekken প্রতিদিন আইনকার্ডের চব্বিশতম ফ্লোরের একটি দ্বীপে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপেক্ষায় থাকে। মজার ব্যাপার হল এই পর্যন্ত কোন প্রতিপক্ষই ডুয়েলে জেক্কেনকে হারাতে পারে নি, এমনকি খোদ কিরিতো পর্যন্ত। তার উপর জেক্কেন আবার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে তার বিরুদ্ধে বিজয়লাভকারীকে সে তার অরিজিনাল সোর্ড স্কিলটি দিয়ে পুরস্কৃত করবে। এবং এই সোর্ড স্কিলটা হল একটি অতিমানবিক ১১ হিট কম্বো মুভ যা কিনা যেকোন গেইমারের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাই আসুনা এই রহস্যময়ী জেক্কেন সম্পর্কে আগ্রহী হয় এবং সিদ্ধান্ত নেয় জেক্কেনকে চ্যালেঞ্জ করার। আর বেশি কিছু বলবো না এই আর্ক নিয়ে কারণ স্পয়লার হয়ে যেতে পারে।

*

SAO 2 আমার কাছে অনেক দিক দিয়েই পূর্ববর্তী সিরিজের চেয়ে ভালো লেগেছে। বিশেষ করে আগের সিজনের Alfheim Online আর্ক থেকে তো অবশ্যই বেশি ভালো লেগেছে। ফ্যান্টম বুলেট আর্কটা যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাচিউর ছিল বলে মনে করি, তবে এনিমে অ্যাডাপ্টশন যে লাইট নভেলের ধারেকাছেও হয় নি তা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছি। আসলে SAO এর কিউট মার্কা ক্যারেকটার ডিজাইন সিরিজের গাম্ভীর্য নষ্ট করে দিতে যথেষ্ট। তারপরেও GGO তে ডার্ক ভাবটা একেবারেই ছিল না বলা যাবে না। অতীতের সাথে সিনন আর কিরিতোর নিরন্তর সংগ্রামের এবং অপরাধবোধকে দমিয়ে রাখার ব্যাপারগুলা ভালোই উপভোগ করেছি। আর ডেথ গান চরিত্রটা যে কারোরই পছন্দসই লিস্টে জায়গা করে নেবে তা ভালোভাবেই বলা যায়।

ক্যালিবার আর্কটা খুবই ছোট হওয়ায় সেইভাবে মনে দাগ কাটতে পারে নি। যথেষ্ট পরিমাণে কমেডি এলিমেন্ট ছিল আর্কটাতে যা ফ্যান্টম বুলেট আর্কের নিরানন্দ ভাবটাকে দূরে সরিয়ে দিতেও যথেষ্ট ছিল। আমার জন্য এই আর্কের একমাত্র ভালো দিক ছিল আসুনা ইউকিকে বহুদিন পরে সক্রিয় অবস্থায় দেখা। (যদিও কিরিতোই যা করার করেছে)

মাদারস রোজারিও আর্ক আমাকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল কিছু জায়গায়। মেইন লিডে আসুনাকে দেখা SAO এর গতানুগতিক কিরিতো কেন্দ্রিক পরিবেশে ভালো একটা সুবাতাসই আনতে পেরেছে। এই আর্ক নিয়ে কিছু বললেই স্পয়লার, তাই অনেক অনুভূতি ব্যক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে না। হয়তো অনেকের কাছে এই আর্কটা ততটা আহামরি নাও লাগতে পারে। এই আর্কটাতে বাস্তব জীবনের উপর ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব যে কত ভাবে হতে পারে তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিও যে যুগান্তকারী পরিবর্তন ও মানবজীবন উন্নয়নের একটা চাবিকাঠি হতে পারে তা দেখানো হয়েছে এই আর্কের শেষ পর্বগুলাতে। এবং নতুন এক রহস্যের আভাসও দেওয়া হয়েছে শেষের পর্বে।

SAO 2 c

ইংরেজি ডাব দেখেছি তাই ভয়েস অ্যাকটিং নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে ভালোমানের ছিল ইংরেজি ডাব তা বলতে পারি। ওপেনিং আর এন্ডিং সং আগের সিজনের মতই খুবই ভালো ছিল। Tomatsu Haruka এর গাওয়া দ্বিতীয় ওপেনিং ‘Courage’ সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। Luna Haruna এর গাওয়া প্রথম এন্ডিং সং ‘Startear’ টাও খুব আবেগী একটা গান ছিল।

SAO সিরিজের সবচেয়ে ভালো যে দুটো দিক সেগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই। এই সিরিজের গ্রাফিক্সের কাজও আগের মত ভালো ছিল। তবে গান গেইল অনলাইনের যান্ত্রিক পরিবেশটা অধিক CG ব্যবহারের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে তুলে ধরা যেত। পরের দুইটা আর্কে অবশ্য আগের মতই রূপকথাময় পটভূমি থাকায় A-1 Pictures তাদের মুন্সিয়ানা ঠিকমতনই দেখিয়েছে। বিশেষ করে ‘Courage’ গানটার মিউজিক ভিডিওর ভিজুয়ালের কাজগুলা অনন্য হয়েছে।

ফ্যানসার্ভিস আগের মতই নিম্নমানের ছিল। তবে পরিমাণে আগের সিজনের চেয়ে অনেক কম ছিল। সিলিকা আর লিসবেথের মত দুইটা বিরক্তিকর চরিত্রকে স্ক্রিনটাইম কম দেওয়াতে বহুত প্যাঁচাল থেকে বাঁচা গিয়েছে। সামনের কাহিনীতে এইগুলারে পুরাপুরি বাদ দিয়ে দিলে আরো ভালো হত। পুরুষ চরিত্রের সংখ্যা SAO তে অত্যন্ত কম। সামনে তা আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করি। ক্লায়েনকে অনেকটা ফোকাস করায় অবশ্য ভালো লেগেছে। তবে খেলনামার্কা সোর্ড আর ওয়েপনের ডিজাইন ঠিকই অপরিবর্তিত রয়েছে। আসুনার পারিবারিক সমস্যা ফেস করাটা অনেক বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

সাউন্ডট্র‍্যাক নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। Kajiura Yuki এর সব কাজই অসাধারণ হয়। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। রূপকথাময় সেটিং থাকায় SAO তে যে ধরণের মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মিউজিক ব্যবহৃত হয়েছে ফ্যান্টম বুলেট আর্কে। সাইবারপাংক পরিবেশে একেবারে খাপে খাপে বসে গেছে ট্র‍্যাকগুলো। Death Gun, Gunland, she has to overcome her fear, bullet of bullets ইত্যাদি ট্র‍্যাকগুলো অত্যন্ত শ্রুতিমধুর। মিউজিকে প্রচুর মেটাল ভাইব আনা হয়েছে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য। পরের দুই আর্কে অবশ্য আগের ঘরানার মিউজিকেই ফেরত যাওয়া হয়েছে। তারপরও ভালো ট্র‍্যাকের অভাব হয় নি যেমন: light your sword, desolate landscape, heartbreaking reality, you are not alone ইত্যাদি। শুধুমাত্র সাউন্ডট্র‍্যাকের জন্যই এই এনিমে দেখা যায় বলে মনে করি।

*

সর্বোপরি এই সিরিজটাকে আমি রিকমান্ড করবো না সবার কাছে। যাদের কাছে SAO 1 ভালো লেগেছিল তারাই এটির সঠিক বিচার করতে পারবেন। আসলে কোন এনিমে একবার আবেগের জায়গাটা দখল করে ফেললে তা মন থেকে সরানোটা খুব কঠিন। গত প্রায় দুই বছরে তো SAO এর কম সমালোচনা শুনলাম না। তারপরও কিন্তু সিরিজটা ঠিকই দেখেছি এবং একই কাজ অনেকেই করেছেন। যাইহোক কিছুদিন পরে Sword Art Online: Ordinal Scale মুভি আসছে। দেখি কেমন লাগে।

SAO 2 d

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ০৩

ইফ ইউ লাইকড ‘Sword Art Online’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Log Horizon’

আপনার কাছে ‘Sword Art Online’ ভালো লাগলে ‘Log Horizon’ ও ভালো লাগতে পারে

কারণ-

Sword Art Online’ ও ‘Log Horizon’ এর মধ্যে মিল-

* দুইটা অ্যানিমেই একই জনরার। একশন, এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, গেম, শৌনেন জনরার।
* কাহিনি অনেকটা একইভাবে শুরু হয়। প্লেয়ার গেম এ লগ ইন করে কিন্তু লগ অফ করতে পারে না।
* মেইন কাহিনি ভার্চুয়াল গেম ওয়ার্ল্ড এর ভিতরে।
* ওভারপাওয়ারড মেইন ক্যারেক্টার।
* সেইম আরপিজি এলিমেন্ট।
* কাহিনির সেটিংস অনেকটা এক। প্লেয়াররা একে অপরকে সাহায্য করে।
* মাল্টিপল ফিমেইল ক্যারেক্টার আছে যাদের মেইন ক্যারেক্টার এর প্রতি রোমান্টিক ফিলিংস আছে।

Sword Art Online’ ও ‘Log Horizon’ এর মধ্যে অমিল-

* Sword Art Online রোমান্স জনরার কিন্তু Log Horizon এর রোমান্স ম্যাটেরিয়াল কম।
* SAO এর এন্ডিং Log Horizon এর এন্ডিং এর চেয়ে বেশি ফুলফিলিং।
* SAO এ একশন Log Horizon এর চেয়ে বেশি।
* Log Horizon এ পলিটিকাল আর স্ট্র্যাটেজিকাল ম্যাটেরিয়াল বেশি।

Sword Art Online: review from Tahsin Faruque Aninda

Sword Art Online অবশেষে শেষ দিলাম। আর ভাগ্য ভাল অন্যদের কথা শুনে মাঝপথে দেখা থামাই নাই! আমার কাছে মারাত্মক ভাল লাগসে এইটা!!! 

বেশিরভাগ দর্শককেই বলতে শুনসি যে মাঝপথ থেকে হিন্দি সিনেমা বানায় দিসে। আমার কাছে একদমই লাগে নাই!
এই আনিমেটার মেইন থিম VRMMO এবং প্রেমকাহিনি, শুধু গেমিং নিয়ে আনিমে বললে ভুল হবে।

ALO আর্কটাতে নায়িকা পুরাটাই অন্য আরেকজন [স্পয়লারের জন্য বলছি না  ]
সবমিলিয়ে এই আর্কটাও ভালই করেছে 

যাই হোক, দুর্দান্ত কিছু OST আছে যা এখনই সব ডাউনলোড করতে দিতেসি 

ওভারঅল, I LOVED IT! 

যারা এখনও দেখে নি, তারা অন্যদের কথা না শুনে নিজে দেখে বিচার করুন। একদল বলে এটা বিরক্তিকর, আর আমার মত আরেকদলের কাছে খুবই সুন্দর লেগেছে 
MAL রেটিংটা আমার কাছে যুতসুই লেগেছে 

[এটার অন্য আরেকটা VRMMO নিয়ে কাহিনি আছে শুনেছি, সেইটা দেখার আশায় আছি! ]

 

 

Sword Art Online: কল্পনা যেখানে মিশেছে বাস্তবতায়…. — মো আসিফুল হক

পটভুমিঃ
সময়টা ২০২২ সাল। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমের জগত অনেক এগিয়ে গিয়েছে; বের হয়েছে sword art online. “নার্ভ গিয়ার” ব্যাবহার করে প্লেয়াররা তাদের চরিত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে; সেইসাথে ভার্চুয়াল জগত “আইনক্রাড”কে আসল জগতের মতই অনুভুত করতে পারে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন এই জগতটা একটু বেশিই আসল হয়ে যায় যখন গেমের ক্রিএটর সকল প্লেয়ারের নার্ভ গিয়ারের কন্ট্রোল হাইজ্যাক করে সবাইকে ভার্চুয়াল জগতে এই শর্তে আটকে রাখে যে কেউ যদি গেমের ভিতর মারা যায় তবে সে বাস্তব জগতেও মারা যাবে এবং গেম থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় গেমের ১০০টি লেভেল ক্লিয়ার করে আইনক্রাডের সবচেয়ে উচুতে পৌছাতে হবে কাউকে না কাউকে।

রিভিউঃ
খুব সংক্ষেপে যদি বলতে হয় তবে পুরো সিরিজটা আমাকে খানিকটা হতাশই করেছে। এই সিরিজের পক্ষে যেমন প্রচুর লোক কথা বলবে; তেমনি এর বিপক্ষে কথা বলার লোকও খুজে পাওয়াটা খুব একটা দুষ্কর নয় !!! পুরো রিভিউতে ঢুকে পড়ার আগে কিছু মন্তব্য শুনে আসা যাক –

# বিপক্ষেঃ SAO was probably the only anime this year that got bashed by most MAL users for a plot that doesn’t make any sense , a geek gamer who wins every fight (only inside a virtual world) ,clichéd harem concept , the incestuous plot hint, and the season 2 epic fail ending….. The only good thing about the anime was the action scenes, nothing else…

#পক্ষেঃ Sword Art Online, definitely one of the best anime of last year, action-packed (the double blades, damn!!), Alongside Kirito and Asuna’s romantic journey in the SAO realm, followed by Kirito fighting for her in the other world, and a beautiful ending…couldn’t ask more…

#মিশ্রঃ “মিশ্র অভিজ্ঞতা। সোর্ড আর্ট অনলাইনের গেম অংশটা ভাল; রোমান্স অংশটা খুবই কিউট; ফাইটগুলা খুবই জোস। কিন্তু সেকেন্ড গেমটাতে জেইরকম ভেজাল ঢুকানো শুরু করসে তাতে আমি মহা বিরক্ত; এই পার্টটা অনেকটা “আলিফ লায়লা” টাইপ লাগসে; “দুষ্ট রাজা নায়িকাকে আটকায় রাখসে আর নায়ক বাচাইতে যাবে” টাইপ; আর আমার কাছে “oniii chan; I love you” টাইপ জিনিসপত্র অসহ্য।

#মিশ্রঃ nobody told that SAO is a great anime. But it’s special in the view of a new anime genre. Yes, romanticism flowed in various strange ways and the anime ending was less expected…but after all people goes crazy over the internet because of the plot. Maybe my answer is confusing too, but my love for the anime is special, that’s what I have to say.

গল্পঃ 
শুরুটা যথেষ্ট পটেনশিয়াল নিয়ে শুরু হলেও সেটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হইসে। প্রথম কয়েকটা পর্ব খুব দ্রুত আগাইসে; মনে হইসে মাঙ্গার অনেকগুলো পর্ব একসাথে এনিমের কয়েকটা পর্বে আটকানোর চেষ্টা; এবং শেষের দিক গিয়ে আবার সেটা বেশ স্লো হয়ে গেছে। এক পর্বে দুই তিনটে ভাল ভাল ফাইট দেখাইসে আবার দেখা গেসে পরের পর্বতেই আবার একটা বিশাল অংশ রোমান্স বা এই ধরণের স্লো জিনিসে কেটে গেসে। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত রোমান্স অংশটা আরেকটু কমায় ফাইটগুলা আরেকটু ডিটেইলস বা আরেকটু স্লো দেখাইলে ভাল হইত। তবে এইটা স্বীকার করতেই হবে; আসুনা আর কিরিতো আমার দেখা অন্যতম সুইট কাপল; এদের দুইজনকে নিয়ে আলাদা করে রোমান্টিক জেনারের কোন এনিম বানাইলেও খারাপ হইত না।

এই এনিমে স্পষ্টতো দুইটা পার্ট; দুইটা গেম। প্রথমটার তুলনায় দ্বিতীয়টাতে বেশি পটেনশিয়াল ছিল; এবং সেইখানে হতাশাও বেশি। “রাজকন্যা উদ্ধার” ব্যাতিত আর কিছুই দেখায় নাই বলতে গেলে অই অংশে।

ভিজুয়াল আর্টঃ 
এক কথায় স্টানিং। আইনক্রাড জগতটা আমার এত্ত পছন্দ হইসে যে মনে হইসে কোনভাবে যদি অই জগতে চলে যেতে পারতাম !!! ফাইট সিন গুলা অসাম; তবে কেউ মারা যাওয়ার ইফেক্টটা আরেকটু রিএলিস্টিক হইলে ভাল হইত; যেহেতু কেউ গেইমে মারা জাওয়া মানে বাস্তব জগতেও মারা যাওয়া; সুতরাং আরেকটু ভয়াবহতা আনলে মনে হয় বেটার হইত।

সাউন্ডঃ 
ভিজুয়াল আর্টের মতই; বেশ ভাল। সিম্পল এবং স্পট অন।

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ 
কিরিতো আর আসুনা বাদে আমি বাকি সব ক্যারেকটারের নাম ভুলে গেসি; সিরিয়াস্লি; আর আমি দেখে শেষ করলাম আজকে বিকেলে !!! কোন ক্যারেকটারের সাথেই তেমন ইমোশনাল এটাচমেন্টের সুযোগ রাখে নাই রাইটার। আসুনা এবং কিরিতো যথেষ্ট লাইকেবল ক্যারেক্টার এবং তাদের জুটিটা অন্যতম কিউট একটা জুটি হবার পরেও তাদের সাথেও তেমন ইমোশনাল এটাচমেন্ট হয় না।

সব মিলিয়েঃ
“দুষ্টু প্রেমের মিষ্টি কাহিনী” জাতীয় হাল্কা ধাচের কাহিনী, বেশ আকর্ষণীয় ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আর বেশ ভাল গ্রাফিক্সের কারণে দুর্বল প্লটের এই এনিমটা বেশ খানিকটা অভাররেটেডই বটে !!! মোটামুটি ত্রিভুজ চতুর্ভুজ এবং বহুভুজ প্রেম আর আবেগ নিয়ে বেশ ভাল একটা টাইম পাস করসে মাত্র ২৫ পর্বের এই এনিমটা !!!! তবে খুব বেশি সমালোচকের দৃষ্টিতে না দেখলে “টাইম পাস এনিম” হিসেবে বেশ ভালই লাগসে sword art online.

রিকমেন্ডেশনঃ 
যারা অনলাইন গেমে আসক্ত; তাদের খুব ভাল লাগার কথা এই এনিমটা। স্টোরি যেমনই হোক; গেম পার্ট; গেমের মধ্যে ফাইটিং পার্ট; গেমের জগত – অসম্ভব ভাল এবং সুন্দর। এছাড়া যারা হাল্কা ধাচের কিছু দেখার জন্য খুজছেন এবং গল্প নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই তারাও দেখে ফেলতে পারেন। দিনশেষে বলা যায়;
“it’s a good anime, but not great”