রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি- পর্ব ২ঃ টোকিও ঘোউল- কানেকির অভিনয়, স্মৃতিগুলো সত্যি নয়

টোকিও ঘোউল নিয়ে কিছু এলোমেলো কথা। স্পয়লার এলারট!

আমরা কানেকির সম্পর্কে টোকিও ঘোউল সিরিজ এ যা কিছু জেনে এসেছি তার অনেকটাই ছিল বলতে গেলে কানেকির অভিনয় । অথবা এক স্বপ্ন। কানেকি কখনোই কানেকি হয়ে বাঁচতে চায়নি। শান্ত শিষ্ট , ভীরু কানেকি , যাকে আমরা মানুষ থেকে ঘোউল হতে দেখেছিলাম, সেই কানেকি আসলে ছিল ট্রাজেডি নভেল এর এক চরিত্র মাত্র। সেই ট্রাজেডির নায়ক হয়ে কানেকি নিজের অতীত কে চাপা দিয়েছিল, মরতে চেয়েছিল কানেকি। ইয়ামরি (জেসন) এর কাছে মরতে চেয়েছিল কানেকি। কিন্তু তার মাথার ভেতরকার রিজে সান তাঁকে মরতে দিল না। মাকে সে কত্ত ভালবাসত, সেই মায়ের কথা মনে করিয়ে দিল, যখন কানেকি চোখের সামনে মা ঘোউল আর ছেলে ঘোউল কে ইয়ামরির হাতে খুন হতে দেখল। অতীতের কথা মনে পরে গেল কানেকির। বাস্তবতায় যেই স্বপ্নের জগত গড়ে তুলেছিল কানেকি , তা ভেঙ্গে গেল। ইয়ামরি কে কানেকি শেষ করল নিজের হাতে।

এন্টার, সাদা চুলের কানেকি। এই কানেকি নতুন এর গল্পের নায়ক এর অভিনয়ে করতে লাগল। যেই নায়ক ভীরু নয়, যেই নায়ক সবাইকে বাঁচাবে। নতুন এক স্বপ্ন। এবার সুকিয়ামা, বা তোউকা, কেউই তাঁকে থামাতে পারবে না। কিন্তু এ স্বপ্নে বাঁধ হয়ে দাঁড়াল সিসিজি আর আওগিরি। হিদে ছিল কানেকির বন্ধু, তার অতীতের সাক্ষী। একেও পথ থেকে সরিয়ে যখন কানেকি ছুটে চলল তার স্বপ্ন পূরণের পথে ( সবাইকে রক্ষা করার উদ্দ্যেশ্যে) ঠিক তখন সিসিজির রিপার আরিমা এসে বাধা হয়ে দাঁড়াল। কানেকির স্বপ্নের জগত আবার ধ্বংস হয়ে গেল। মাথার ভিতর চেকারবোর্ড আকাশের নিচে দাড়িয়ে কানেকি অতীতের সব কথা আবার মনে করল। মায়ের কথা মনে পড়ল আবার। মাকে সে কত্ত ভালোবাসত। কানেকি যা চেয়েছিল তা পেল। কানেকি আরিমার হাতে মারা গেল।

এন্টার, সাদা- কালো চুলের হাইসে সাসাকি । এই কানেকি আরেক নতুন গল্পের নায়ক। আরিমা সেই গল্পের রচয়িতা। গল্পে, সাসাকি হয়ে বাঁচতে হবে কানেকি কে, অতীতের কথা সব মুছে গেছে তার চেতনা থেকে। কিন্তু হায়! অবচেতন মনে যেই কানেকি বসত গড়েছে, তাকে মুছে ফেলা আরিমারও সাধ্য নেই। অবচেতন মনের সেই কানেকি সাসাকিকে অতীতের প্রতি কৌতূহলী করে তুললো। সাসাকি এবার জানতে চায় তার অজানা অতীত। সুকিয়ামার কাছ থেকে অতীত সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল কানেকি, কিন্তু এবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল কানায়ে। হিস্টোরি রিপিটস ইটসেলফ। এখন সাসাকি আবার তার ভুলে যাওয়া অতীত মনে করতে পারল। তার মায়ের কথা মনে পড়ল। সে কত্ত ভালোবাসত তার মাকে… আসলেই কি তাই? কানেকি কখনোই তার মাকে ভালোবাসে নি। ওটা ছিল কানেকির অভিনয়। ( থুতনি তে হাত দিয়ে কানেকি মিথ্যে কথা বলত।) কানেকি এখন আবার মরে যেতে চায়। আর নয় কোনো অভিনয়। স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে রক্তে মাখা লাল চুলের কানেকির। এই কানেকি নয় কোনো নায়ক। বরং এক হিংস্র পিশাচ/ ঘোউল। যে কিনা মরে যেতে চেয়েছিল।

12301491_114278538940750_723212829509296951_n

রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি- পর্ব ১ঃ টোকিও ঘোউল – কানেকির উপর জেসনের আসল অত্যাচার

( কন্টেইন্স এ ভেরি কন্ট্রোভারশাল টপিক )

আচ্ছা, যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে চাই, সেটি হল, টোকিও ঘোউল মাঙ্গায় আওগিরি ইনভেশন আর্ক এ কানেকি কে ইয়ামরি/জেসন ধরে টরচার করে, কিভাবে টরচার করে সেটা অনেকেরই জানা। হাত আর পায়ের আঙ্গুল কেটে ফেলা, কানের ভেতর চাইনিজ সেন্টিপিড ঢুকিয়ে দেয়া। শারীরিক টর্চার এর পাশাপাশি মানসিক অত্যাচার ও করা হয়েছিল। মা ঘোউল আর ছেলে ঘোউল এর মাঝে কানেকি কে বেছে নিতে বলা হয়েছিল, কাকে সে রক্ষ্যা করবে, কাকে হত্যা হতে দেবে। যাই হোক, আমি সেদিকে যেতে চাচ্ছি না, শারীরিক অত্যাচার এর দিকটাই বিশ্লেষণ করতে চাই।

এমন কি হতে পারে, যে ইয়ামরি আসলে একজন সমকামী!?!?

এমন কি হতে পারে, যে ইয়ামরি কানেকি কে সেক্সুয়ালি টরচার করেছিল?

বিষয়টি বোঝাবার জন্য নিম্নোক্ত যুক্তি পেশ করা হলঃ

১। ইয়ামরি এর পার্টনার নিকো একজন হোমোসেক্সুয়াল পুরুষ।

tg 1

২। ইয়ামরি আওগিরি এর আস্তানায় কানেকি কে দেখে কেমন এক ধরনের লোভ দেখিয়েছিল। একি শুধু শারীরিক অত্যাচার করার ইচ্ছা?

tg 2

৩। কানেকি কে ইয়ামরি যখন তার টর্চার রুমে নিয়ে আসে, আমরা চেয়ারের সাথে বাঁধা একজনকে দেখতে পাই। যে কিনা ইয়ামরির আগের অত্যাচারের খেলনা ছিল। সেও একজন পুরুষ। তার গায়ে পোশাক নেই। কিন্তু সেক্সুয়ালি টর্চারের চিহ্ন পাওয়া যাবে।

tg 3

৪। কানেকি কে টর্চারের মাঝে কেউ কি লক্ষ্য করেছেন যে তার গায়ের শার্টটি বদলে দেয়া হয়েছে! কানেকির সাদা শার্টের বদলে সেখানে ইয়ামরির টিশারটটি পরানো হয়েছে।

tg 4

৫। টর্চারের পর কানেকির প্যান্টের বোতাম খোলা ছিল। শার্ট ছেড়া ছিল।

tg 5

৬। কানেকির পায়ের রগ কাটা ছিল, তাকে চেয়ার থেকে সরালে যেন পালাতে না পারে, তাই। চেয়ার থেকে কানেকি কে কেন সরানো হয়েছিল?

tg 6

 

tg 7

 

৭। কানেকির হ্যালোসিনেশানে কানেকি কে অসহায়, উলঙ্গ দেখানো হয়েছে।

tg 8

৮। কদিন আগে টোকিও ঘোউলঃরে মাঙ্গায় কানেকির এক্স রে ছবি তে দেখানো হয়েছিল অতীতে শরীরের কোথায় কোথায় কানেকি আঘাত পেয়েছিল । সেই ছবিটিও সেক্সুয়াল টর্চারের প্রমান।

tg 9

৯। মাঙ্গাকা ইশিদা সুই সেক্সুয়াল এসল্ট এর বিষয়ে চুপ থাকেন নি। জুঝোউ, টরসো, নাটক্র্যাকার তার উদাহরণ।

আমি বলছিনা কানেকি কে রেইপ করা হয়েছে। আমি বলছি কানেকি কে হয়ত সেক্সুয়ালি মিউটিলেট করা হয়েছিল। কানেকি নিজে কখনো এটা বলেনি। যেহেতু কানেকির সিলেক্টিভ মেমরি, হয়তো বা তাই।

কি জানি…

Tokyo Ghoul Anime vs Manga — Rezo D. Skylight

TG

টপিকটি শুরু করার পূর্বে আমি বলে নিতে চাই আমি Tokyo Ghoul এনিমের দুইটা সিজনই দেখেছি, সাথে মাঙ্গাও পড়েছি। তবে মাঙ্গাটা আমি আগে পড়েছি তারপর এনিমেটা দেখেছি।

টপিকঃ Tokyo Ghoul Anime vs Manga / Tokyo Ghoul Complete Review.

আলোচনা শুরু করি Tokyo Ghoul এর এনিমে দিয়েই। গতবছর যখন Tokyo Ghoul এর এনিমে বের হল তখন এটি প্রায় সব Anime Community তে তুমুল সাড়া জাগিয়েছিল। অনেকেরই ধারণা ছিল যে এটি বছরের সেরা এনিমে হতে যাচ্ছে। কিন্তুু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে “Studio pierrot” Tokyo Ghoul কে পুরুপুরি নষ্ট বানিয়ে ফেলেছে। সোজা কথায় বলতে গেলে যাকে “Trash adaption” বলা হয়ে থাকে। এখন যারা শুধু এনিমে দেখেছেন অনেকেই ভাবছেন যে, “কই কাহিনী তো ভালোই ছিল, Trash adaption হল কিভাবে?” আমি এখন সেটাই ব্যাখ্যা করবো।

Tokyo Ghoul (Anime 1st season):
শুরুর এপিসোডটা খারাপ ছিল না যদিও ৬ চ্যাপ্টার মিলে এপিসোডটি বানানো হয়েছিল। কিন্তু এর দুই তিন পর্বের পরেই পুরো “Dove Arc” টা বাদ দিয়ে পরের আর্কটা শুরু করেছিল। আবার সেই আর্ক শেষে আবার “Dove Arc”টা লাস্টের দিকে নিয়ে এসেছে। এরপর কয়েকটা আর্ক বাদ দিয়ে একেবারে “Aogiri Arc” এর লাস্টের দিকের কাহিনী দেখানো হয়েছে। বলতে গেলে পুরা কাহিনীকে জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। আর শেষ এপিসোডের কানেকির চুল সাদা হয়ে যাওয়া দেখে আমার বেশ হাস্যকর লেগেছিল। আমি শুধু বলেছিলাম, “এইটা কিছু হইলো? কি জিনিসকে কি বানায় ফেলছে এরা। এত দ্রুত চুল সাদা বানায়ে ফেলল।” যাই হোক এনিমের ১ম সিজনটা প্রচণ্ড বাজে ছিল। মাঙ্গার পুরো ৬৫ চ্যাপ্টার মিলে ১২ এপিসোডের একটা এনিমে বানাতে গেলে কেমন হবে এইবার বুঝে নিন। তবে “Unravel” গানটা আর OST গুলো ছিল প্রশংসা করার মতো, এতে আমার কোন অভিযোগ নেই।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 8.11
বেক্তিগত রেইটিং: 4/10

Tokyo Ghoul √A (Anime 2nd season):
Tokyo Ghoul √A এর কথা বলতে গেলে আমি বলব এইটা ছিল Tokyo Ghoul এর “Spin-off” সিরিজ ছাড়া কিছুই না। এর সাথে মাঙ্গার কাহিনীর কোন মিল নেই। সম্পূর্ণ আলাদা রুটে তৈরি কাহিনী। “√A” বলতে “Root Aogiri” বুঝানো হয়েছে। যদিও এর কিছু কিছু জায়গা মাঙ্গার কাহিনীর সাথে মিলে গিয়েছিল। তাও কাহিনীটা কেমনজানো খাপছাড়া টাইপের ছিল। ওভারঅল আমার কাছে তেমন ভালো লাগেনি। এর থেকে মাঙ্গার ষ্টোরি রুট হাজার গুনে ভালো ছিল।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 7.59
বেক্তিগত রেইটিং: 3/10

Tokyo Ghoul (Manga):
এখন মাঙ্গার কথা শুরু করি। বলতে গেলে মাঙ্গাটা আমার পড়া “মাস্টারপিছ” মাঙ্গাগুলার মধ্যে একটা। মাঙ্গার কাহিনীর সিকুয়েঞ্ছ ঠিক ছিল, সবকিছু ঠিকঠাক মতো এক্সপ্লেইন করা হয়েছিল। যেমন-

[এরপর থেকে পড়লে সতর্ক থাকুন। কিছু মাইনর স্পয়লার রয়েছে। স্পইলার এড়িয়ে পড়তে চাইলে একেবারে শেষের “>” পেরাটি পড়ুন।]

১. এনিমেতে কানেকির কোন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দেখানো হয় নাই। মাঙ্গাতে
Yomo আর Touka মিলে কানেকিকে ফাইটিং স্কিল শিখেয়েছিল। এনিমেতে তার সিংহভাগ অংশ স্কিপ করা হয়েছে। এছাড়া আরও বহুত ফাইটিং সিন এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। মাঙ্গাতে এগুলো ঠিকমতো দেখানো হয়েছে।

২. Dove আর্কের পর কতগুলো আর্ক ছিল। যা এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। আর্কগুল খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

৩. Amon, Nishiki, Akira, Suzuya সহ আরও অনেক ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি এনিমেতে স্কিপ করা হয়েছে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো মাঙ্গায় খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।

৪. “Aogiri Arc” এর শতকরা ৫% কাহিনী এনিমেতে দেখানো হয়েছে। শুধু জেসন কানেকিকে ধরে নিয়ে টর্চার করে সেই সিনটুকু দেখিয়েছে। কিন্তু মাঙ্গাতে এর অনেক কাহিনী এক্সপ্লেইন করা হয়েছে। আর কানিকির চুল এনিমের মতো হটাত করে সাদা হয়ে যাইনি। মাঙ্গাতে ধীরে ধীরে ওর মাথার চুল সাদা হতে থাকে প্রতিনিয়ত মানুষিক ও শারীরিক টর্চারের কারনে। একসময় সে বাস্তবতা বুঝতে পেরে সে মানুষিক ভাবে পরিবর্তন হয়ে পরিণত হয় নতুন কানেকিতে।

৫. এরপর “√A”তে Ayatoর সাথে নামমাত্র ফাইটিং দেখিয়েছে। আর আপনারা মাঙ্গাতে সেই ফাইটিং সিন দেখলে মানব শরীরের ২০৬ টা হাড়ের নাম মুখস্ত হয়ে যাবে।

> এরপর আর কাহিনীর মিল নেই। আর মাঙ্গার কাহিনীও আর বলছি না। বাকিটুকু আপনারা মাঙ্গাটা পড়ে জেনে নিয়েন। আমি রিকোয়েস্ট করবো মাঙ্গাটা একেবারে ১ম চ্যাপ্টার থেকে পড়ার জন্যে। তাহলে ওরিজিনাল “Tokyo Ghoul” এর কাহিনী উপভোগ করতে পারবেন। এইটা সত্য মাঙ্গাটা ভালো হওয়া সত্তেও এনিমের কারণে ঢাকা পড়ে গিয়েছে এবং মানুষজন Tokyo Ghoul নিয়ে অনেক নেগেটিভ মন্তব্য করছে। আর এই উদ্দেশেই আমি এই টপিকটি লিখলাম Tokyo Ghoul নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্যে।

মাইএনিমেলিস্ট রেইটিং: 8.79
বেক্তিগত রেইটিং: 9.5/10

*F.A.Q-

১. কানেকির চুল হটাত সাদা হয়ে যাওয়ার কারণ কি? এর কোন এক্সপ্লেনেশন আছে?
=> কানেকির আসলে “Marie Antoinette syndrome”-এ ভুগেছিল। এইজন্যই তার চুল হটাত সাদা হয়ে গিয়েছে। প্রচণ্ড মানুষিক চাপ, ভয়, দুঃখ ইত্যাদি কারণে চুলের সাদা রঙের জন্য দায়ী হরমোনগুলো অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। আর এই কারণেই হটাত চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। [ তথ্যসূত্র –https://en.wikipedia.org/wiki/Marie_Antoinette_syndrome ]

২. Tokyo Ghoul এর মাঙ্গাকা Ishida Sui এর আসল পরিচয় কি?
=> এখনো তা জানা সম্ভব হয়নি। কারণ সে এখনো মানুষের সামনে অফিসিয়াল ভাবে দেখা দেয়নি। এজন্য তার পরিচয় এখনো গোপন রেয়েছে।

৩. কানেকি যে বইগুলো পড়ে সেগুলো কি আসলেই আছে?
=> ‘The Black Goat’s Egg’ এর মতো আরও কিছু কিছু কাল্পনিক বই ছিল। কিন্তুু কিছু বই আসলেই আছে। যেমন- Franz Kafka’s ‘Crossbred’ এবং Brothers Grimm’s ‘Grimms Märchen’ বইদুটি আসলেই আছে।

ধন্যবাদ এত কষ্ট করে লিখাটা পড়ার জন্য। আশা করি আপনারা মাঙ্গাটা পড়ে দেখবেন।

Tokyo Ghoul রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

4

১) মাঙ্গা পড়ি নাই (পড়বও না); সুতরাং “মাঙ্গাটা এনিমটা থেকে হাজার গুণ ভাল” জাতীয় কথা শুনতে আগ্রহী না; ওই ইতিহাস বহু আগেই জানা আছে।
২) এইখানে সেইখানে গুড়াগাড়ি স্পয়লার থাকতে পারে; বেশি ডরাইলে পইরেন না। পরে আবার কইয়েন না আমি সাবধান করি নাই।
৩) আন্সেন্সর্ড ভার্শন দেখসি। আলোচনা সেইটা নিয়েই।

রিভিউঃ টোকিও ঘুল

কানেকি কেন শান্ত শিষ্ট সারাক্ষণ বইয়ে ডুবে থাকা একটা ছেলে। যে কোন ভাবেই হোক, সে একবার রিজে কামিশিরো নামক ভয়াবহ এক সুন্দরীর সাথে ডেট জুটিয়ে ফেলে; যে কিনা তার মতনই বইপড়ুয়া। রিজের আরেকটা বড় পরিচয় সে একজন ঘুল। ঘুল হচ্ছে এক ধরণের মানুষের মতন জীব; যাদের জীবন ধারণের একমাত্র উপায় নরমাংস ভক্ষণ। স্বাভাবিক খাবার খেলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডেটের শেষটা অবশ্য খুব সুখকর হয় না। এক কন্সট্রাকশন বিল্ডিং এর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কিছু বীম মাটিতে পড়ে গেলে তার আঘাতে রিজে মারা যায়। গুরুতর আহত কানেকি নিজেকে আবিস্কার করে হাসপাতালের বিছানায়, রিজের শরীরের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ট্রান্সপ্লান্ট অবস্থায়; যা কিনা তাকে আধামানুষ আধাঘুল বানিয়ে দেয়। এই অবস্থায় কানেকি মনুষ্য সমাজেও ফিরে যেতে পারে না; ঘুল সমাজও তাকে গ্রহণ করে না। এই অবস্থায় কানেকির আভ্যন্তরীণ লড়াই; বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প নিয়েই টোকিও ঘুল।

2

সিরিজটার প্রথমেই যে জিনিসটা দৃষ্টি আকর্ষণ করবে সেটা হল ওপেনিং সং। ওয়ান অফ দা বেস্ট এনিম ওপেনিং। চমৎকার কাজ। 🙂

এনিমেশন বেশ চমৎকার, বিশেষ করে ফাইটগুলোতে। কাগুনে, কুইঙ্কিগুলোর ডিজাইন বেশ ভাল ছিল। আক্ষরিক অর্থেই রক্তাক্ত লড়াই ছিল; গ্যালন গ্যালন রক্ত বয়ে গেসে একেক্টা ফাইটে। 😀

গল্প বেশ ভাল; বিশেষ করে মানুষ এবং ঘুল দুই দিকের সাইকোলোজিই পাশাপাশি শো করার চেষ্টাটা বেশ আকর্ষণীয় ছিল। ঘুল রা যে শুধুই মানুষখেকো জন্তু না; তাদেরও ইমোশন আছে; পরিবার আছে; আন্তেকুর মতন কিছু কিছু ঘুলরা যে মৃত মানুষ খেয়ে মানুষের সাথে মিলে মিশে বাস করছে; করতে চেষ্টা করছে – এই ব্যাপারগুলার চিত্রায়নের ব্যাপারটা ভাল ছিল।

আরেকটা চমৎকার দিক বোধহয় ভয়েস এক্টিং। বেশ গোছানো এবং চিত্তাকর্ষক কাজ।

১২ এপির সিরিজ; তাই “খুব বেশি ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট হয় নি” বলাটাও বোধহয় আন্ডারস্টেটমেন্ট হয়ে যায়। মোটামুটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা রাশড এন্ডিং দিয়ে সিরিজটা শেষ হয়ে গেসে। মাঝে হিনামি সহ কিছু কিছু চরিত্র “ঘুলরাও মানুষ” ধরণের আইডিয়া দেওয়া ছাড়া গল্পে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে নাই।

3

সো সব মিলিয়েঃ
পজেটিভঃ ওপেনিং সং, কিছু ফাইট সিন, কুইঙ্কি ডিজাইন, স্টোরি প্রেমিজ, ভয়েস এক্টিং।
নেগেটিভঃ রাশড এন্ডিং, আন্ডার ডেভেলপড ক্যারেক্টার, কিছু কিছু চরিত্রের অতি নাটুকেপনা।

মনে রাখার মতন কিছু না হোক, মাঙ্গার জন্য অপমানজনক এডাপশন হোক, ওভারহাইপড হোক; শুধু এঞ্জয় করার জন্য কোন একটা সিরিজ দেখতে তো সমস্যা থাকার কথা না। মাঙ্গা না পড়া যে কেউই সিরিজটা এঞ্জয় করবেন বলেই আমার বিশ্বাস ! 🙂

5

Best Opening Song (2014) – “unravel” by Ling Tosite Sigure

টোকিয়ো গুল আনিমের বাকি সব দিক নিয়ে যেমনই মতামতথাকুক মানুষের, ইন্ডি রক ব্যান্ড TK from Ling Tosite Sigure এর Unravel ছিল বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওপেনিংগুলোরএকটি। গানটির অরিজিনাল ভিডিও দেখে ফেলুন এখানে।
http://www.jpopsuki.tv/video/TK-from-Ling-tosite-sigure-–unravel/9b5ddf0d3556c44d5053d8bb1eaa39c6

অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বছরের শেষে এসে সম্প্রচার শুরু করেইসেনসেশনে পরিণত হওয়া Shigatsu Wa Kimi no Uso এর জন্য করা Goose House এর অত্যন্ত সুন্দর গান Hikaru Nara. গানটার খুব ভালো একটি লাইভ পারফরম্যান্স:

https://www.youtube.com/watch?v=SnXkhkEvNIM

13-best-op

 

Best Psychological/Mystery Anime (2014) – Zankyou no Terror

২০১৪ সালের সবথেকে বেশি আশা-ভরসার এনিমে ছিল সম্ভবত জাঙ্কিউ নো টেরর (টেরর ইন রেজোন্যান্স), এর পিছনে ছিল কাউবয় বিবপ-সাকামিচি নো আপালোন খ্যাত ওতানাবে শিনিচিরো আর ইউক্কো কান্নোর মত বিখ্যাত নাম… চমকপ্রদ কাহিনী আর বেশ প্রমিজিং স্টার্টিং দিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিল এই এনিমেটি… আর এর সবথেকে বড় এস্পেক্ট সম্ভবত রোম খাড়া করে দেবার মত দূর্দান্ত সাউন্ডট্র্যাক। ক্যারেক্টার, ইন্টারেস্টিং প্লট, ক্যাপটিভেটিং ডেভেলপম্যান্ট সবদিক দিয়েই এ+ এই এনিমেটিই বিপুল ভোটের ব্যবধানে দখল করে নেয় বছরের সেরা সাইকোলজিক্যাল/মিস্ট্রি ক্যাটেগরিতে প্রথম স্থানটি… অতিরিক্ত এক্সপেক্টেশন আর কিছু প্লটহোল/ফ্ল এর এক্সপেক্টেড কোয়ালিটিকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করলেও এটি যে বছরের অন্যতম সেরা এনিমে এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। সাইকোলজিক্যাল জনরায় বছরের অন্যতম সেরা সংযোজন ছিল টোকিও ঘুল, বেশ জনপ্রিয় মাঙ্গার এই এডাপটেশনের প্রতি অনেক বেশি এক্সপেক্টেশন ছিল প্রথম থেকেই, হয়ত পুরোপুরি মেটাতে পারে নি, কিন্তু খুব কম দেয় নি দর্শকদের এনিমখোর টপচার্টে দ্বিতীয় হওয়া এই এনিমেটি… এছাড়াও সাইকোলজিক্যাল/মিস্ট্রি দুনিয়ায় তুমুল সাড়া ফেলে দেওয়া সাইকো পাসের দ্বিতীয় সিজন আর হানামনোগাতারি-মনোগাতারি সেকেন্ড সিজনও ছিল দর্শক আগ্রহের শীর্ষের দিকে।

5-best-psychological-mystery