অ্যানিমে রিঅ্যাকশন- শার্লট; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

charlotte

অবশেষে শার্লট দেখে শেষ করলাম। কালকেই শেষ হত আসলে, একেবারে শেষ এপিসোডের সাবটাইটেলে গন্ডগোল থাকায় সম্ভব হয়নি।

শুরুতে তেমন আহামরি লাগেনি, হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের চূনিবিও সিন্ড্রোমের মত কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে, সেগুলো ব্যবহার করে একদল শয়তানি করে বেড়ায়, আর আরেকদল সেটা থামিয়ে তাদের পথে আনে। মনে হচ্ছিল, “ওকে, দেখা চলে, দেখা যাক এই চূনিবিওর দৌড় কতদূর।”

এরপর আগাতে থাকলাম, জিনিসটা ইন্টারেস্টিং হওয়া শুরু করল। নতুন নতুন পাওয়ার আসে, তাদের সাথে এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্যদের নিজেদের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি দেখে বেশ ভাল লাগছিল।

তারপর, এলো এপিসোড ৬!! হঠাৎ করে একটা হাসিখুশি অ্যানিমে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেল। ব্যাপারটা এতটা আচমকা ঘটে যে আমারই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর ইউ এর অবস্থা, রিকভারী, ঘটনাগুলো কষ্টদায়ক ছিল, আবার সুইট ছিল (ইউ নো হোয়াই)। ভাবলাম যে হ্যা, এখন বোধহয় লাভ ষ্টোরি ঢুকায়ে দিবে।

কিন্তু আবার চমক, কিসের লাভ স্টোরি, কিসের নরমাল লাইফ!! কাহিনী তো কেবল শুরু!! একের পর এক টার্ন অফ ইভেন্ট, মানসিক চাপ আর দুঃখজনক ঘটনা। এপিসোড ১২ তে পৌছে অনেক ভাল লাগল, এটা ভেবে অবাক লাগল যে এই অল্প কয়টা এপিসোডের মাঝে এতকিছু কিভাবে দেখাল!!

তবে একেবারে লাস্ট এপিসোডটার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি খুঁজে পেলাম না। সারা দুনিয়া ঘোরাটা যেন ডাল মাখায়ে ভাত খাওয়ার মত সহজ, তাই এত ডেঞ্জারাস একটা কাজে জনাব নায়ক একাই বের হয়ে পড়লেন, জাস্ট লাইক দ্যাট!!

যাহোক, ভালই লেগেছে সবমিলিয়ে, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি অনেক ভাল, আর স্টোরিটাও ঘোটপাকানো হলেও ভাল।

 

628927

মৃত্যু পরবর্তী জীবনের টুকরো – Angel Beats! by ইশমাম আনিকা

angel-beats-angel-beats-17469079-1920-1200

জনরা- অ্যাকশন, কমেডি, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, ট্র্যাজেডি।
ম্যাল রেটিং- ৮.৫৬

প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু অপূর্ণতা থাকে। কেউ কেউ সেগুলো পূরণ করতে পারে, কেউ কেউ এত সৌভাগ্যবান হয় না, অপূর্ণতা পূর্ণ করার আগেই জীবনের পাঠ শেষ করে পরপারে চলে যেতে হয়।

কিন্তু তারপর? কি হয় তারপর? অতৃপ্ত আত্নাগুলোর কি হয়? তারা কি শান্তি লাভ করতে পারে অপূর্ণতা নিয়ে? নাকি সেগুলো পূর্ণ করার চেষ্টা করতে থাকে মৃত্যুর পরেও??

ওতোনাশি একদিন হঠাত নিজেকে আবিষ্কার করে একটা স্কুলের সামনে। তার নিজের পরিচয় বা কোথায় থাকে এ ব্যাপারে তার কিছুই মনে পড়ে না। সেখানে তার পরিচয় হয় ইউরির সাথে, যে মেশিনগান নিয়ে কারও ওপর নজর রাখছিল। সে ওতোনাশিকে জানায় যে এই জায়গাটা হল জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি একটা জায়গা বা আফটার লাইফ। যেসব মানুষ তাদের জীবনে কোন অপূর্ণতা নিয়ে মারা গিয়েছে, তারা এখানে এসে পৌছায়। এখানে তারা সবাই আফটারলাইফ স্কুলের স্টুডেন্ট। এখানে কেউ যদি শান্তি লাভ করতে পারে, তাহলে তার আত্মা Pass on করে যায়। তাই এখানে টিকে থাকতে হলে প্রতি মূহুর্তে স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট এঞ্জেলের বিরূদ্ধে লড়াই করতে হয়।

ইউরি আরও জানায়, ওরা, আফটারলাইফ ব্যাটলফ্রন্টের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে এঞ্জেলকে ফাইট করে এবং ওতোনাশিকে আমন্ত্রণ জানায় ওদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য। স্মৃতিভ্রষ্ট ওতোনাশি কি করবে কোথায় যাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে ওদের সাথে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অ্যানিমেটি এগিয়েছে একেকটা ক্যারেক্টারের জীবনের অপূর্ণতা, আকাংখা, স্বপ্নের পরিণতি এবং ওতোনাশির জীবনের এবং আফটার লাইফের কর্মকান্ড নিয়ে। সেইসাথে কিছু অসম্ভব সুন্দর ইমোশনাল অংশ, মজার মূহুর্ত এবং ফাইটিং অ্যানিমেটাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক অসম্ভব সুন্দর, ফাইট সিনগুলোর অ্যানিমেশন খুব ডিটেইলড, সেইসাথে এতে ইংরেজি ও জাপানী, দুই ভাষাতেই সেইয়্যুরা চমৎকার কাজ করেছেন। ওএসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ওপেনিংটা কানে ধরেছে।

তাই, সময় পেলে জলদি দেখে ফেলুন এই ছোট্ট অ্যানিমেটি। ১৩ পর্বের অ্যানিমে এবং ১টি ওভা দেখে ফেলতে আশা করি খুব বেশি সময় লাগবে না।

1920x1080

Movie Time With Yami – 04

Grave-of-the-Fireflies_background_wallpaper

 

Name- Grave of the Fireflies/Hotaru no Haka 
Duration- 1 hour 28 minutes 
MAL Score- 8.60 
Ranked- 65 

আমরা সবাই সাধারণত আনিমে দেখি মজা পাওয়ার জন্যে, মন ভালো করার জন্যে অথবা রুঢ় বাস্তবতাকে ভোলার জন্যে। কিন্তু আনিমেও মাঝে মাঝে আমাদের আরও কঠিন বাস্তবতার সামনে দাড়া করিয়ে দিতে পারে। রিয়ালিটি চেক যাকে বলে আরকি। এমনই একটা মুভি এটি। 

কাহিনীর পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপানে, মানবতার অবক্ষয় ঘটেছে যেখানে। যখন তখন বম্বার প্লেন এসে বোমা ফেলে যাচ্ছে এখানে সেখানে, আর প্রাণহানি ঘটছে অসংখ্য মানুষের, স্বজনহারা হচ্ছে মানুষ। তেমনি এক বালক সেইটা। সে তার মা ও ছোট বোন সেতসুকোকে নিয়ে থাকত। তার বাবা একজন সৈনিক এবং তিনি তার কাজের জন্যে দূরে থাকেন। বোমার আঘাত থেকে বাঁচতে ছোট বোনকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সেইটা। শারীরিক অসুবিধার কারণে তাদের মা বের হতে পারেনা এবং বোমার আঘাতে খুব বাজেভাবে আহত হয়ে তিনি মারা যান। এরপর আশ্রয়হীন সেইটা ও তার ছোট বোনের ঠাই হয় একজন আত্মীয়ের বাড়িতে। এরপর অভাব, অবহেলা এবং অসহায়তার মাঝে দিন কেটে যেতে থাকে তাদের। বেঁচে থাকার এবং নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষার কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয় দুই ভাইবোন। 

আমার কাছে মুভিটার যা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, মানুষের জীবনে হঠাত করে কখন কি বিপর্যয় আসতে পারে এবং বাস্তবতা মাঝে মাঝে কতটা কঠিন হতে পারে, এটা খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। কিছুক্ষণের জন্যে থমকে দাড়িয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। 

১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত এ মুভিটি জাপানে বেশ কয়েকটি পুরষ্কার জিতেছে। স্টুডিও জীবলির অন্যতম সেরা মুভিগুলোর একটি এটি। 

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এই মুভিটি। 

Movie Download Link – 
http://kissanime.com/Anime/Grave-of-the-Fireflies 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!