প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত ফুজিসাওয়া শহরের অন্তর্ভুক্ত ছোট্ট একটি দ্বীপ এনোশিমা। মেইনল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনোমুগ্ধকর এ দ্বীপটি ৬০০মিটার লম্বা একটি ব্রিজ দিয়ে ফুজিসাওয়া-র সাথে যুক্ত। অপূর্ব সামুদ্রিক সৌন্দর্য দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়; ইচ্ছে করে স্ক্রিনের ভেতর ঢুকে যাই। দাদির চাকুরির সুবাদে এখানকার স্থানীয় স্কুলে ট্রান্সফারড হয়ে আসে ইউকি। কোন বন্ধুবান্ধব নেই ওর। মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে জানে না। কারো সাথে কথা বলতে গেলেই মনে হয় ডুবে যাচ্ছে, সে সাথে নার্ভাস হয়ে চেহারা এমন হয়ে যায় যে দেখে মনে হয় সাক্ষাত দানব, রাগে এখুনি খেয়ে ফেলবে। প্রথমদিনেই তার সাথে দেখা হয় হাতে রহস্যময় ওয়াটার-গান নিয়ে ঘুরে বেড়ানো অদ্ভুত এক ছেলের। হারু নামের সরল সিধে এ ছেলেটি নিজেকে এলিয়েন বলে দাবি করে। মানুষকে কাছে টানার আশ্চর্য এক গুণ আছে ওর। শুরুতে অসহ্য লাগলেও ক্রমেই হারু ইউকি-র সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়। ওদের সাথে একই ক্লাসে পড়া আরেকটি ছেলে নাতসুকি। গোমড়ামুখো নাতসুকি মাছ ধরায় তুখোড় দক্ষতার সুবাদে স্কুলের বাইরে প্রিন্স নামে পরিচিত। আর এদেরকেই সবসময় দূর থেকে লক্ষ্য রাখে কোলে হাঁস নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদা নামের এক ভারতীয়। সিরিজের প্রধান চারটি চরিত্রের সবারই নিজস্ব একটা গল্প আছে। আছে বৈপরিত্য। তারপরও কিভাবে তারা এক বিন্দুতে মিলিত হয়? কিভাবে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে একেকজন? উত্তর মিলবে শুরুতেই। হারুর চাপে মাছ ধরতে রাজি হয় ইউকি। এখানেই এসে পড়ে নাতসুকি, যে এ দুজনকে মাছ ধরা শেখায়।
আপাতদৃষ্টিতে সিরিজটি হাসি, রাগ আর মাছধরার মধ্য দিয়ে চার স্ট্রেঞ্জারের বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প। সমুদ্রে মাছ ধরা আর হারু-র অদ্ভুত কিন্তু নির্দোষ কর্মকান্ড দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই মন ভাল হয়ে যাবে। ঈর্ষা হবে। একেবারে আদর্শ কমেডি – স্লাইস অফ লাইফ মিক্স। তাহলে এর মাঝে সায়েন্স ফিকশনটা কোথায়? মনে কি আছে কি হারু-র ইউকি-কে মাছ ধরতে চাপাচাপির কথা? এর কারণ কি? হারু-ই বা কোত্থেকে এসেছে? ইয়ামাদা-র উদ্দেশ্য কি? সামান্য মাছ ধরার সাথে দুনিয়া বাঁচানোর যোগসূত্র কোথায়?
সিরিজটি শুরু হয়েছে দারুণভাবে। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে আর্টওয়ার্কে। ব্যক্তিগতভাবে ইউকি-র ফেইসটা আমার পছন্দ হয়েছে। উঠতি বয়সের সব বৈশিষ্ট্যের সাথে লাল চুল যোগ করাটা ভাল লেগেছে কেন জানি বেশ। আর মিউজিক নিয়ে অভিযোগ করার কোন উপায় নেই। ওপেনিং-এন্ডিং এত্ত চিয়ারফুল যে একটাও স্কিপ করার মত না। খুব সম্ভাবনাময় এ অ্যানিমেটি কিছুটা ট্র্যাক হারিয়ে ফেলে শেষের দিকে এসে, সায়েন্স ফিকশন রিলেটেড ব্যাপারগুলো বোঝা দায়। যেগুলা কোন সেন্স তৈরি করে না উল্টো কেমন যেন একটা ভজকট পাকিয়ে দেয়। সিরিজটি এ জনরার প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। এন্ডিংটা বেশ অদ্ভুত। অ্যানিমের কাহিনী নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও আমি বলবো কমেডি-র ক্ষেত্রে সুবিচার করেছে, সে সাথে কিছুটা থ্রিলিংও বটে! বিশেষ করে ইউকির প্রথম মাছ ধরার সময়টায় আমি নিজেও উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। শেষের দিকের অংশটুকু ঠিক বুঝে কুলিয়ে উঠতে না পারলেও ওভারঅল দেখার মত একটা অ্যানিমে।
Episodes: 12
Genres: Comedy, Sci-Fi, Slice of Life, Sports
MAL Score: 7.88
Personal Rating: 7.5





