I want to know what ‘I love you’ means.– Violet Evergarden.
- Anime : Violet Evergarden
- Type : Series
- Genre : Slice of life, Drama, Fantasy
- Studio : Kyoto animation

বাংলায় এনিমে নিয়ে আড্ডার কমিউনিটি
I want to know what ‘I love you’ means.– Violet Evergarden.
খুব সুন্দর একটি এনিমে। মূলত দেখতে বসেছিলাম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো শোনার জন্য। কিন্তু এখান থেকে কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় শিক্ষা করা গেলও বটে।
মানুষের চরিত্রগুলো রহস্যময় হয়ে ওঠে তার ভাবের কারণে। যৌক্তিকভাবে সব সোজাসাপটা কথা বলে দিলে মানুষে মানুষে সম্পর্কটা কেমন পানসে হয়ে ওঠে। আমরা যখন একে অপরের সাথে কথা বলি তখন এর শব্দের মাঝের অর্থ বুঝতে হয়। অথচ এটা যদি বলে দেওয়া হয় তখন সে ম্যাজিক আর কাজ করেনা।
এরজন্য যে দক্ষতাটার প্রয়োজন হয় তা হল ইনটুইশনাল দক্ষতা। তোমাকে আমি যা বলছি তা হুবুহু বলছি না বরং এর মাঝের আমার ভাবটা তোমায় দেখতে হবে এবং তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখতে হবে তবেই না তুমি একটি সুন্দর চিঠি, সুন্দর বার্তালাপ করতে পারবে। অতিরিক্ত বুদ্ধিপ্রবনতা তথা মেকানিকাল প্রবণতা দিয়ে হৃদয়গত ইনটিউশন ধরা যায় না; যেমনটা এই এনিমের শুরুতে ধরতে পারেনি ভায়োলেট এভারগার্ডেন। কিন্তু ধীরে ধীরে “I Love You” বাক্যটির অর্থ খুঁজতে গিয়ে সে যে বিষয়গুলো অতিক্রম করে অবশেষে খুঁজে পায় তার উত্তর তা সত্যিই চমৎকার।
যন্ত্রগত ধাঁচে গড়ে ওঠে মানুষ তার হৃদয়টাকেই খুইয়ে বসে। এখানে সেই খুইয়ে বসা হৃদয়কেই পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে ভায়োলেট তার মেজর গিলবার্টের ভালোবাসার অর্থ অনুসন্ধান করতে যেয়ে।
এই এনিমেতে যে চিঠি লেখার যে প্রফেশন দেখানো হয়েছে তা সত্যিই বেশ সৃষ্টিশীল। একজন মানুষের বাক্যের মাঝের ভাবগুলোকে বুঝে তার হয়ে চিঠি লেখা সত্যিই দারুণ।
এরজন্য প্রচুর এমপ্যাথিক্যাল(সহমর্মিতাসম্পন্ন) হৃদয় লাগে। একটা আনন্দও আছে। অন্যের ঘটনাগুলোকে নিজের মাঝে প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিয়ে সেই ঘটনাগুলির, ভাবগুলির আনন্দ, সুখ, বেদনা, দুঃখ ইত্যাদি দেখা, অনুভব করা ও তাতে সমৃদ্ধ হওয়া; এই শত মানুষের জানালা দিয়ে দেখা পৃথিবী আমাদের ভেতর যখন আমরা দেখতে পাই আমরা সহমর্মী হয়ে উঠি, অন্যের মাঝে আমাকে খুঁজে নিই। তখন যাকে হারিয়েছে তাকেও মনে হয় সে কখনো চলে যায়নি আমার কাছ থেকে আমার পাশেই সে দাড়িয়ে আছে; যেমনটা ভায়োলেট উপলব্ধি করেছিল এই এনিমেটির শেষে।
এজন্যই হয়তো মাঝে মাঝে ভাব প্রকাশের জন্য বড় বড় লেখা, কঠিন শব্দ কিংবা বাক্য এসব নয় খুব ছোট্ট করে, এক লাইন কিংবা এক শব্দেও গভীর অনুভূতি বলে দেওয়া যায়। যা হয়তো লক্ষ, কোটি মানুষ পেরিয়ে দুজন মানুষকে কাছে এনে দেয়, নিঃশব্দতায় ফেলে দেয়।
২০১৮ সাল শেষ হয়ে এল। বছরটিতে যেমন ছিল অনেক বড় বড় নামের আনিমের সিকুয়েল, তেমনই ছিল অনেক চমক জাগানিয়া নতুন সিরিজ। এত এত সিরিজের মধ্য থেকে একেকজনের একেক ধরণের সিরিজ পছন্দ হয়ে উঠে, আর তাই বিভিন্নজনের পছন্দের বছর সেরা আনিমের নামের মাঝেও অনেক তারতম্য খুঁজে পাওয়া যায়। এনিমখোরের এডমিনদের জন্যে ২০১৮ সালের সেরা বিভিন্ন আনিমে নিয়ে থাকছে আজকের লেখাটি।
Zahura Chowdhury Abonti
Runner-Up: Yuru Camp△
২০১৮ আমার জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত একটা বছর গিয়েছে। অ্যানিমে দেখার সময়ও খুব একটা করতে পারিনি। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক এপিসোড করে দেখার চেষ্টা করতাম। আর অনেক ব্যস্ততার মাঝে এজন্য রিলাক্সিং কিছু খুঁজছিলাম। ফুয়াদ আমাকে ইয়ুরু ক্যাম্প দেখতে সাজেস্ট করে। দেখা শুরুর সময়ে আমি ভাবিনি আমার কাছে অ্যানিমেটা এত ভাল লাগবে। অনেকটা নন নন বিয়োরির কথা মনে পড়েছে। ইয়ুরু ক্যাম্পে দেখানো জায়গা গুলার অনেক গুলার সাথেই আমি পরিচিত বলে কেমন যেন একটা নস্টালজিক ফিলিং কাজ করেছে দেখার সময়ে। আর অ্যানিমেটা আসলেই অনেক রিলাক্সিং ছিল। সাদামাটা স্লাইস অফ লাইফ আমার খুবই পছন্দ। তাই ২০১৮তে দেখা অ্যানিমের মাঝে এটা আমার মনে অনেক দাগ কেটেছে। আমার ব্যস্ত জীবনে সত্যি বলতে স্ট্রেস রিলিফের একটা পথ হয়ে গিয়েছিল এই অ্যানিমেটা দেখা। আর অ্যানিমেটার ক্যারেক্টার আর ওএসটিও অনেক ভাল লেগেছে। কোন অ্যানিমের ওএসটি ভাল হলে দেখা যায় ঐ অ্যানিমেটা আমার ভাল লাগার চান্স বেশি হয়। এই ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অনেকের কাছে হয়ত এই অ্যানিমেটা আহামরি কিছু ছিল না। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে পারসোনালি আমার জন্য এটা বিশেষই ছিল বলতে হবে।
Anime of the Year: 3-gatsu no Lion 2nd Season
২০১৮ তে খুব বেশি অ্যানিমে দেখার সময় বা সুযোগ কোনটাই হয়নি। কিন্তু তারপরেও যেকোনভাবে হলেও ৩-গাতসু নো লায়নের দ্বিতীয় সিজনের প্রতিটি এপিসোড রিলিজের সাথে সাথেই দেখেছি যেভাবেই হোক। ৩-গাতসু আমার কাছে শুধু এই বছরের না, রিসেন্ট কয়েক বছরে আমার দেখা সেরা অ্যানিমে। প্রতিটা চরিত্র কিভাবে করে যেন আপন করে নেয়। কাহিনীটাও কেমন যেন মনে হয় খুব পরিচিত। এই অ্যানিমেটা আমার কাছে গল্প, ক্যারেক্টার ডেভেলাপমেন্ট, হিউমার, ওএসটি–সব দিক থেকে অসাধারণ লেগেছে। তাই আমার জন্য AOTY চুজ করা আসলে খুব সহজ। চিকা উমিনোর অসাধারণ এই কাহিনীকে শ্যাফট যেভাবে প্রাণ দিয়েছে, এর থেকে ভাল মনে হয় এটা হতে পারত না। আজ পর্যন্ত অনেক অ্যানিমে দেখেছি। তার মধ্যে কিছু কিছু সারা জীবনের জন্য মনে দাগ কেটে গিয়েছে। ৩-গাতসু তাদেরই একটা।
Farsim Ahmed
আমার কাছে “ভালো” আনিমের সংজ্ঞা হচ্ছে যেটার নতুন পর্ব বের হবার সাথে সাথেই দেখে ফেলতে মন চায়. কাজেই এই লিস্টে “শিল্পোত্তীর্ণ” গোছের কিছু নাও থাকতে পারে।
প্রথমেই অনারেবল মেনশন: Baki ONA, Chio’s School Road, Grand Blue, Lupin III [Part 5], Shingeki no Kyojin 3, Violet Evergarden.
Runner-Up: Banana Fish
প্রথমে এই আনিমেটা দেখার ইচ্ছাই ছিল না অদ্ভুত নামের কারণে। ৫-৬ পর্ব প্রচার হবার পরে দেখেছিলাম। তখন থেকেই হুকড। ব্যানানা ফিশ হলো এক ধরণের মাদক, যেটা ব্যবহার করে ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আর এই মাদকের দখল নেয়ার জন্য কয়েক পক্ষের দ্বন্দ্ব নিয়েই আনিমের কাহিনী। সিরিজের মূল চরিত্র ক্যারিশমাটিক অ্যাশ লিঙ্কসের সাথে একেবারেই সরল সোজা এইজি এর সম্পর্ক, অ্যাশের সাথে তার পালক পিতার সম্পর্ক, অ্যাশের সাথে তার প্রিয় বন্ধু শর্টার এর সম্পর্ক, অ্যাশের সাথে তার শিক্ষক সের্গেইয়ের সম্পর্ক, যে তাকে হাতে কলমে শিখিয়েছে কিভাবে কয়েকশো গজ দূর থেকে স্নাইপিং করে ফেলে দেয়া যায় হেলিকপ্টার – এই সব কিছুকে পুঁজি করেই এই ক্রাইম ড্রামা। শেষের দিকে মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। আর যে জিনিসটার কথা না বললেই না, বেশ কয়েকটা পর্বের সমাপ্তির এন্ডিং গানে কিভাবে ট্রানজিশন হয়, বিশেষ করে ২২তম পর্ব।
Anime of the Year: Sora yori mo Tooi Basho
কয়েকটা টিনেজ মেয়ে এন্টার্কটিকায় যাবে। এইই। তাহলে হোকাগো টি টাইমের ইংল্যান্ড ট্যুরের সাথে এর তফাৎ কোথায়?
দেখার সময় সারাক্ষণই মনে হয়েছে মূল চরিত্ররা যেন আমার উদ্দেশ্যেই কথা বলছে। সব সময়ই কি নিজের আরামদায়ক একটা পরিবেশে থাকবো? কি করলাম জীবনে? কেন একটা ঝুঁকি নিচ্ছি না? কেন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি না? অবশ্যই এটা ঠিক যে পাসপোর্ট এতো শক্তিশালী না বা যথেষ্ট টাকাপয়সা নেই, কিন্তু দিন শেষে এগুলোও তো অজুহাত। নতুনকে দেখার যে এক অসাধারণ অনুভূতি, সেটা থেকে তো আমি নিজেকে বঞ্চিত করছি।
শেষমেশ আনিমের একটা দৃশ্য এখনো দাগ কেটে আছে, “সবাই অরোরা বোরিয়ালিস দেখতে পারে না।”
Md Asiful Haque
Runner up: Baki (2018)
দুনিয়ার ৫ দেশে থাকা মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ৫ আসামী একদিন হঠাৎ করেই জেল ভেঙ্গে পালায়; লক্ষ্য টোকিও। তাদের জীবনের শেষ ইচ্ছা এক্টাই — পরাজিত হতে চায় তারা। তারা খুঁজে বেড়ায় আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইটিং হিরো এবং চ্যাম্পিয়ন Baki-কে। কিন্তু কেন? Baki-কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আন্ডারগ্রাউন্ড একদল ফাইটার। Baki এবং তার বন্ধুদের সাথে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ কয়েদীর এপিক শো-ডাউন শুরু হয়, যে লড়াইয়ে এক্টাই রুল — যে কোনভাবে যে কোন উপায়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল কর। কেউ কি বেঁচে ফিরবে এই লড়াই থেকে?
Anime of the Year: Megalo Box
-It’s your name. You pick it.
— Me? Joe.
– Joe. Has a nice ring to it.
I guess that’s your new ring name.
দূর ভবিষ্যতের কোন একটা সময় যখন বদলে গিয়েছে অনেক কিছুই। বদলে গিয়েছে বক্সিং খেলার ধরণধারনও, খালি হাতের কসরতের বদলে নানান রকম মেকানিক্যাল গিয়ার খেলোয়াড়দের কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে; নাম বদলে হয়ে গিয়েছে মেগালো বক্সিং।
বনেদী ঘরের সন্তান শিরাতো মিকিও। মেগালোমেনিয়ার ৪র্থ জায়গার দাবিদার; ৩টে জায়গা আগেই স্থির হয়ে আছে। সুগার হিলকে হারিয়ে সেই জায়গা নিশ্চিত করে ফেলার পরেও কোথায় যেন কি একটা কিন্তু রয়ে গেছে। কারণ দৃশ্যপটে জনতার ফেভারিট – ‘গিয়ারলেস জো’।
মিকিও নিজ থেকেই জো’কে চ্যালেঞ্জ জানায় ৪র্থ পজিশনের জন্য। কিন্তু পর্দার আড়ালে মিকিও কী চাল চালছে? মিকিও; যার গিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের চাল আগেই বুঝে ফেলতে পারে; সে কি নাম-না-জানা গিয়ারলেস জো’কে ভয় পাচ্ছে? কেন?
মেগালোমেনিয়ার কর্ণধার শিরাতোর সাথেই বা তার ঝামেলা কি নিয়ে? মেগালোমেনিয়ার ফলাফলই বা কি হয়?
ভিন্টেজ কিন্তু ব্রিলিয়ান্ট আর্টস্টাইল; শিরদাঁড়া সিউরে উঠা মিউজিক ট্র্যাক আর ফিয়ারলেস ফাইট – এই বছর সেরা সিরিজের যোগ্য দাবিদারই Megalo Box.
Gourab Roy
Runner-Up: Saiki Kusuo no Ψ-nan 2 / 3-gatsu no Lion 2nd Season
রানার আপ হিসেবে সাইকির ডিজাস্ট্রাস লাইফ আর 3-gatsu no Lion দুটো অবশ্য দু ঘরানার।কমেডি হিসেবে সাইকির তুলনা নেই। হয়ত আমার দেখা সেরা কমেডি এনিমে এটাই, আর সাম্প্রতিক্কালের স্লাইস অফ লাইফ ও স্পোর্টস এর মিশেলে একদম অনুভূতি নিয়ে খেলে করে যাওয়া এনিমে হল 3-gatsu no Lion. আর বোনাস হিসাবে ছিল আসোবি আসোবাসে, Sword Art Online Alternative: Gun Gale Online, Shingeki no Kyojin 3rd season ইত্যাদি ইত্যাদি (একান্ত ব্যাক্তিগত মতামত,ভুলেও কেউ ট্রিগার্ড হবেন্না)।
Anime of the Year: Boku no Hero Academia 3rd Season
Boku no Hero Academia যতক্ষত অপশনে থাকবে, এটাই আমার কাছে AOTY. মিউজিক, এনিমেশন, ভয়েস এক্টিং সব টু দি পয়েন্টে পার্ফেক্ট। নারুতো, ব্লিচ এগুলোর পরে সম্ভাবনাময় শৌনেন শুধু এটাকেই দেখি।
Pasha Yap
Runner-Up: Grand Blue
এই পজিশন টা নিয়ে আসলে চিন্তায় পরেছিলাম। Megalo Box এর সাথে টাই ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটাকেই বেছে নিয়েছি।বিভিন্ন মানুষের টেস্ট বিভিন্ন রকম, কমেডি জনরাটা তার অন্যতম উদাহরণ আমার কাছে। এবছর আরও কিছু ভালো কমেডি থাকলেও আমার এবছর দেখা সেরা কমেডি আনিমে এটি। এই আনিমে এর হিউমার আমার কাছে এই বছর সেরা লেগেছে। দারুণ সব চরিত্র আর তাদের কাজকর্ম দেখে প্রচুর হেসেছি আর অনেক মজা পেয়েছি। এদের টেনিস ম্যাচ,গউকন এর অংশগুলা দারুণ ছিল। ন্যুডিটি আর ড্রিংকিং নিয়ে অনেক প্রচুর কমেডিক সিন আছে তবে সেগুলাও আমার কাছে মজাই লাগছে। ডাইভিং সেই তুলনায় কম ফোকাস পেলেও যা দেখিয়েছে ভালই। মাঙ্গা দেখে মনে হয়েছে আরও ভালো হতে পারত তবে তারপরেও অনেক ভালো লেগেছে।
Anime of the Year: 3-gatsu no Lion 2nd Season
সান গাতসু আমার দেখা সেরা আনিমে গুলোর একটা। রেই, হিনা, নিকাইদো, মোমো এর মতো মন জয় করে ফেলা অনেক চরিত্র, স্পোর্টস আর স্লাইস অফ লাইফ মিলিয়ে ভীষণভাবে টেনে নেয়া গল্প, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক অবস্থা, তাদের অনুভূতি যেভাবে দেখান হয়েছে আর সাথে শাফট এর দারুন ভিজুয়াল। এবার সাথে অন্যান্য চরিত্র এর উপরেও অনেক ফোকাস করা হয়েছে সেগুলোও ভালো লেগেছে বিশেষ করে হিনা এর টা। আগের মতই এখনও শোগি এর কিছু বুঝি না তারপরেও এই আনিমে যেভাবে দেখায় তাতে আকর্ষিত না হয়ে উপায় থাকে না। সব মিলিয়ে সান গাতসু এর মত হৃদয় স্পর্শ করতে খুব আনিমেই পারে।
Fahim Bin Selim
Anime of the Year: Karakai Jouzu no Takagi-san
ইউটিউবে কোবাসোলোর “চিইসানা কোই নো উতা” গানটার কভার শুনেই এই অ্যানিমে দেখতে বসা। সিনোপসিস দেখে ভেবেছিলাম এটার কাহিনী কয়েকবছর আগে বের হওয়া Tonari no Seki-kun এর মত হবে। পাঁচ-ছয় মিনিটের ছোট ছোট কমেডি স্কেচ থাকবে। আলাদা করে ওভার আর্চিং কোন প্লট থাকবে না। কিন্তু প্রথম পর্ব…পর্বাংশ “ইরেজার” দেখেই ধারণা বদলে গেলো। ছোট ছোট কমেডি স্কেচ ঠিকই কিন্তু খুবই সূক্ষ্মভাবে একটা গল্পও দেখি বলা হচ্ছে!
সাইড-স্টোরি বাদ দিলে পুরো অ্যানিমেটাই মূলত দুইজন চরিত্র নিয়ে – তাকাগি আর নিশিকাতা। আচ্ছা, এই অ্যানিমের কথা বলতে গেলে দুই মূল চরিত্রের ভয়েস এক্ট্রেস, এক্টর রিয়ে তানাহাশি আর ইউকি কাজি-‘র কথাও আলাদা করে বলা উচিৎ, মনে হয়। হিউমার বাদ দিলেও – যা আমার দেখা গত কয়েকবছরের মধ্যে অন্যতম সেরা – নিশিকাতা আর তাকাগির সখ্য ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে দেখা; পরীক্ষা আর বৃষ্টির দিন, আর গ্রীষ্মের ছুটি আর সাইকেল চালানো শেখা, আর নতুন মোবাইল পার হয়ে শেষের চিঠিতে আসা, সেটাও তো আর অন্য সব রম-কমের সাথে পাল্লা দেওয়ার মত। এ দুজনের সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তই তো উপভোগ্য!
তাই Karaki Jouzu no Takagi-san আমার এবছরের সবচেয়ে প্রিয় অ্যানিমে।
Nudrat Mehraj Sadab
Runner-Up: Sora yori mo Tooi Basho
রানার আপের জন্য অনেক চিন্তা করতে হয়েছে। এবার যেহেতু বেশি এনিমে দেখা হয়নি তাই Violet Evergarden এবং A place Further Than The Universe এ দুটোর মধ্য থেকেই বাছাই করতে হয়েছে। Violet Evergarden এর প্রতিটা পর্বই টিয়ার জার্কার। প্রতিটা পর্ব দেখে চোখে পানি এসেছে। কিন্তু দিনশেষে আসলে একটা ব্যাপারই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। Was it able to move my heart? এর উত্তর দিয়েছে A place Further Than The Universe. এই এনিমে দেখেছি দুদিন আগে। প্রথমে ভেবেছিলাম cute girls doing cute things on their journey. কিন্তু চারটা মেয়ের চরিত্র চার রকম আর এই জার্নিতে যাবার কারণও ভিন্ন। মনে হবে এদের চারজনের সাথেই কিছু মিল আছে নিজের। আমি সবসময় ভাবতাম প্রতিদিনের পরিচিত রাস্তার বদলে বরং নতুন কোন রাস্তা দিয়ে আসি। এছাড়া নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে যাবার একটা থ্রিল থাকে সবসময়। কিন্তু তার সাথে একটা আতংকও কাজ করে। যার কারণে Kimari’র সাথে নিজেকে খুব বেশিই রিলেট করতে পারি। বন্ধুত্ব আর ভালবাসা একজনের আউটলুক পরিবর্তন করে দিতে পারে, তা-ই এই এনিমে দেখিয়েছে। আর সবচেয়ে পছন্দের মুহূর্ত ছিল শেষে চারজন যখন খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আকাশ দেখতে থাকে। এক ধরণের গুজবাম্পস কাজ করছিল তখন। এই শীতের রাত ৩টায় যখন এই অরোরা অস্ট্রালিস দেখি হোক না সেটা মোবাইল স্ক্রিনে, তার চেয়ে তৃপ্তির কিছু আর নেই।
Anime of the Year: Banana Fish
আমার কাছে একটা এনিমে তখনই সেরা যখন এটি আমার অনুভূতি নিয়ে খেলা করবে, হয়ত এটি দেখে ইউফোরিয়া হবে নয়ত একদম ধরাশায়ী করে দিবে। অর্থাৎ এর ইম্প্যাক্ট টা হবে ভয়াবহ। Banana Fish আমার কাছে এমনই লেগেছে। নিজেকে খুব শক্ত ভাবতাম কিন্তু এই এনিমের এমন কিছু ট্রিগার পয়েন্ট আছে যেগুলো আমাকে বাধ্য করেছে চুপচাপ বসে চোখের পানি ঝরাতে। মাফিয়া সম্রাট Golzine’র ছায়ায় থাকা Ash Lynx আন্ডারগ্রাউন্ডের অন্ধকার জীবনে কীভাবে জড়িয়ে পড়েছিল এবং এই জীবন টা যে কত ঝুঁকিপূর্ণ তা যেন প্রতি পর্বেই একবার করে মনে করিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে জাপানিজ জার্নালিস্ট Eiji Okumura একটা কেসের জন্য আমেরিকায় এসে পরিচিত হয় Ash এর সঙ্গে। কীভাবে যেন সেও জড়িয়ে পড়ে Ash এর এই ভয়ংকর জীবনের সাথে। আর সবকিছুর মূলে থাকে Banana Fish নামের এক ড্রাগ, অবশ্য ড্রাগ না বলে বায়োলজিক্যাল উইপন বলাই ঠিক হবে। বিশ্বনেতারা ক্ষমতার জন্যে কী যে করতে পারে এবং কর্তৃপক্ষের প্রতিটা ইউনিটে যে কী পরিমাণ দুর্নীতি আর বিশ্বাসঘাতকতা কাজ করে তার ভয়াবহ চিত্র এই এনিমেতে ফুটে উঠেছে। আমি বানানা ফিশ দেখা শুরু করেছি যখন সেকেন্ড কোর শুরু হয়। বানানা ফিশের আরেকটি আকর্ষন হল প্রতিটি পর্বের ক্লিফ হ্যাঙ্গারগুলি আর তার সাথের এন্ডিং। অনগোয়িং এনিমে খুব একটা দেখা হয়না কিন্তু এর প্রতিটা পর্বের জন্য বসে থাকতাম। তবে এই এনিমে নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা আছে যে এটা শৌনেন আই। কিন্তু এটার প্লট যে কত গভীর আর বিস্তৃত তা না দেখলে আসলে বোঝা যাবে না। এই এনিমে পুরো ফ্যানবেজকে ঠিকই কাঁদিয়ে ছেড়েছে।
Mehedi Hasan Himel
Anime of the Year: 3-gatsu no Lion 2nd Season
প্রথম সিজনের রেশ কাটতে না কাটতেই ৬ মাস পর শ্যাফট নিয়ে আসে সানগাতসু এর ২য় সিজন। প্রথম সিজনের মত এই সিজনেও অসাধারণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন উমিনো চিকা সেন্সেই। তবে সিজন ১ যেখানে ছিলো রেই এর নিজের সমস্যা কাটিয়ে উঠার গল্প নিয়ে, সিজন ২ ঠিক তারই বিপরীত থিম। এইখানে সে কিভাবে মানসিকভাবে শক্ত হয়েছে তার ই ফলাফল দেখা যায়। খুব বড় সময় ধরে রেই, হিনাটার বুলিং কে যেভাবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সামাল দিয়েছে এতেই রেই এর দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। এছাড়াও অন্যান্য শোগি প্লেয়ারদের উপর ও ভালো আলোকপাত করা হয়েছে। সাথে অসাধারণ ভিজুয়াল আর সাউন্ডট্র্যাক তো আছেই। মোট কথা, অসাধারণ প্রথম সিজনের উপর ভিত্তি করে আসা 3-gatsu no Lion 2nd Season-ই আমার AotY. ধন্যবাদ চিকা সেন্সেই, ধন্যবাদ শ্যাফট।
এখন ৩য় সিজনের জন্য অপেক্ষা।
Fuad Hassan
আমার জন্য AOTY হচ্ছে সেইসব আনিমে যেইগুলা কোয়ালিটি এর দিক থেকেও ভাল এবং মনে বেশ ভালভাবে দাগ কেটে যায় যেন অনেকদিন পরেও আনিমেটার দেখা কন্টেন্ট মনে পড়লেও আনিমেটা দেখার সময় কেমন ফিল হয়েছিল তা মনে করতে পারি।
Honorable Mention: Violet Evergarden (great animation and OST), Koi wa Ameagari no You ni, Steins;Gate 0, Seishun Buta Yarou wa Bunny Girl Senpai no Yume wo Minai, Hataraku Saibou.
3rd place: Sora yori mo Tooi Basho
Shirase Antarctica তে হারিয়ে যাওয়া তার মা কে খুঁজার জন্য যেকোনভাবেই এন্টার্কটিকা তে যেতে চায় এবং তার সাথে এন্টার্কটিকা যাওয়ার জার্নি যে যুক্ত হয় আরও ৩ জন। এই আনিমেটা অনেক বেশি ইমোশনাল ছিল শেষের দিকে। সবার নতুন নতুন জিনিস দেখতে দেখতে জার্নি করে যাওয়া, ৩০-৬০ ফিট ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে, বরফ ভেঙ্গে অবশেষে Antarctica তে যেতে পারা আর সেখানে থকে Aurora, রাতের তারা আর সূর্যাস্ত দেখা সব মিলিয়ে পুরাটা মনে রাখার মত এক অভিজ্ঞতা। শেষের দিকে যখন Shirase তার মা যেখানে হারিয়ে গেছে সেখানে যায় তখনকার মুহূর্তটা বেশ ইমোশনাল ছিল। OST, story সব মিলিয়ে ইমোশনাল করে দেয়ার মত একটা আনিমে। এইটা দেখে নিজের ই এইরকম কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা হয়েছে, মনে হয়েছে এইটা ঘরে বসে দেখার মত আনিমে না বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে যেতে এইটা দেখলে আরও ভাল হত।
Runner-Up: 3-gatsu no Lion 2nd Season
আমার কাছে এই আনিমের মূল আকর্ষণ হচ্ছে মানুষের সাইকোলজিক্যাল এসপেক্ট টা ফুটিয়ে তুলা বিভিন্ন কাহিনির মধ্যে দিয়ে আর এই আনিমের ক্যারেক্টারদের ইন্টাররিলেশনশিপ। এই আনিমেটা আমার কাছে অনেক বেশি রিয়ালিস্টিক লেগেছে আর SHAFT যেইভাবে অ্যানিমেশন, এফেক্ট আর ওএসটি দিয়ে পারফেক্টলি সবকিছু তুলে ধরেছে তা বলে বুঝানো যাবে না। এখানে শুধু main character Rei এর ই না অন্য সব ক্যারেক্টারদেরকেও এত ইন ডেপথ এ দেখানো হয়েছে যে তাদেরকেও মেইন ক্যারেক্টার এর চাইতে কোন অংশে কম মনে হয়নি। প্রত্যেকটা এপিসোড বারবার চিন্তা করিয়েছে এপিসোডটার ব্যাপারে। বুলিং এর মত সামাজিক ইস্যু, সেইটা কে কিভাবে নিচ্ছে শুধু ভিক্টিম এর না যে পারপেট্রেটর তার পয়েন্ট আভ ভিউ কি তাও দেখানো হয়েছে আর এইরকম প্রত্যেকটা জিনিস এ এতটাই স্মুথভাবে করা হয়েছে যে এই আনিমে ভাল না লেগে উপায় নাই।
Anime of the Year: Yuru Camp△
এইটা AOTY বলার কারণ হচ্ছে এইটা অনেক বেশি হিলিং একটা আনিমে আর আমার দেখা অন্যতম সেরা স্লাইস আভ লাইফ আনিমে। কয়েকটা মেয়ে বিভিন্ন যায়গায় যেয়ে ক্যাম্পিং করে, এই একটা সিম্পল কন্সেপ্ট ই এত সুন্দর ভাবে আনিমে আর ওএসটির ব্যবহার দিয়ে রিপ্রেসেন্ট করেছে যে এই আনিমেটা বেশ ভালভাবেই মনে দাগ কেটে গেছে, এইটা দেখার সময় সময় কেমন ফিল হয়েছিল কি করছিলাম এখনও সবকিছু মনে আছে। Rin এর মনোলোগ, Nadeshiko এর করা মজার সব কাজ, রিন এর নাদেশিকো কে বলা “Munya Munya”, মানিয়ে যাওয়া Ending song টা সবকিছুই বেশ ভালভাবে উপভোগ করেছিলাম। এই আনিমের নাম বলার সময় একই সিসনে এয়ার হওয়া আরেকটা আনিমের নাম না বললেই না যেটার নাম হচ্ছে Sora yori mo Tooi Basho. Yuru Camp△ আর Sora yori mo Tooi Basho এই দুইটা আনিমে যেন একটা আরেকটাকে কমপ্লিমেন্ট করছিল, দুইটা আনিমেই কম্ফি লেভেল বাড়িয়ে দিচ্ছিল একসাথে। Yuru Camp△ is the perfect slice of life anime for Winter season. এইটা দেখে এতটাই ভাল লেগেছিল যে ওদের যাওয়া যায়গায় তখনই যেয়ে ক্যাম্পিং করতে ইচ্ছা করছিল এবং এখনও ইচ্ছা আছে।
Abir Mohammad
Honorable Mention: Rascal Does not Dream of Bunny Girl Senpai, Attack on Titan Season 3, Grand Blue, Boku no Hero Academia Season 3, Wotakoi, Hinamatsuri, Karakai Jouzu no Takagi-san
Runners-Up: Asobi Asobase
All girl middle school এ পড়া তিন মেয়ে Hanako, Kasumi আর Olivia এর করা প্রতিদিনের হাসির সব কাজ নিয়েই এই আনিমে। এই আনিমেতে সবচাইতে বেশি মজা লেগেছে Hanako এর করা চিৎকারগুলা, এমন জোরে চিৎকার করেছে কয়েক জায়গায় দেখে মনে হয়েছে যে হানাকো এর সেইয়ু এর ভোকাল কর্ডই ছিড়ে যাবে। হানাকো এর ভয়েস এক্ট্রেস নতুন হলেও তার এই ভয়েস এক্টিং আমার মতে এই বছরের সেরা সেইয়ু পারফরমেন্স। আনিমেটার শুরুর অংশ অত হাসির না হলেও পরবর্তীতে প্রায় পুরো এপিসোড দেখেই হাসতে হয়েছে। বিশেষ করে “Sugoroku Game”, “Trial of Shame”, “Daniel”, “Paper Game”, “Face of Mass Destruction”, “Heart go boing boing” এরকম বেশ কয়েকটা পার্ট যে কয়বার রিভিশান দিয়েছি তা গুনে শেষ করা যাবে না।”My ass got destroyed!” এই লাইনটা এখনো কানে ভাসে। সাথে বোনাস হিসেবে আছে মাইদা সানের বাট-বিম আর অসাধারণ একটি এন্ডিং সং।
Anime of the Year: Violet Evergarden
মূল নভেল পুরো পড়া না হলেও ২০১৪ সালে Fifth Kyoto Animation Award এর novel category বিজয়ি এই লাইট নভেলের এডাপ্টেড আনিমে নিয়ে আমার নিজের মাঝে হাইপ কম ছিল না।
কাহিনির প্রধান চরিত্রের নাম Violet Evergarden। সে যুদ্ধের সময় তার কমান্ডার এর বলা শেষ কথা “Aishiteru” (I love you) এর “Ai” (love) এর অর্থ বুঝতে চায়। আর এই উদ্দেশ্যে সে চিঠি লেখার আর ডেলিভারি করার কাজের সাথে যোগ দেয়। এখানে এসে সে মানুষের অনুভূতি বুঝার চেষ্টা করে আর তাতেই বের হয়ে আসে বিভিন্ন মানুষের ইমোশনাল সব কাহিনি। একই সাথে তার সেলফ রিয়ালাইজেশন বাড়তে থাকে, তার মাঝে সাধারণ মানুষের মত ইমোশান জন্ম নেয়। এই আনিমে studio Kyoani এর বানানো আরেকটা মাস্টারপিস। প্রতিটা এপিসোড এর অ্যানিমেশন যেন একেকটা হাই বাজেট মুভি এর অ্যানিমেশন, এতটাই নিখুঁত। আর ভায়োলেট এর মত সুন্দরী কোন আনিমে চরিত্র আমি দেখেছি বলে মনে হয় না। তার ছবি আমার ফোনের ওয়ালপেপার ছিল কয়েক মাস। Violet এর করা প্রতিটা ছোটখাট ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন ই অনেক বেশি প্রেশাস লেগেছে। এই আনিমের আরেকটা মনে রাখার মত দিক হচ্ছে এর ওএসটিগুলো, বেশিরভাগ ওএসটিই বেশ সুন্দর। এই বছরে বের হওয়া আনিমে খুব দেখা হয়নি, আর যা দেখেছি তার অনেকগুলো শেষ করা হয়নি। যা দেখেছি তার মাঝে থেকে আমার জন্য AOTY হচ্ছে এই Violet Evergarden.
Rokeya Sharmin Orin
Anime of the Year: Shingeki no Kyojin 3rd Season
আমি এবছর অল্প কয়টা এনিমে দেখছি তার মধ্যে সবই প্রায় আগের সিজনের কন্টিনিউয়েশন। শিনগেকি নো কিওজিন ৩, বোকু নো হিরো একাডেমিয়া ৩, সাইকি কুসুও নো সাই নান ২, সান গাতসু নো লায়ন ২, নানাতসু নো তাইজাই: ইমাশিমে নো ফুক্কাতসু। এইগুলা সবই অনেক ভাল্লাগছে।তবে সবথেকে বেশি ভাল ছিল SnK.
শিনগেকি নো কিওজিন এর এই সিজন অনেক বেশি ভাল লাগার কারণ হল একশন তো আমার সবসময় ভালই লাগে আর এই সিজনে কাহিনীও অনেক ডেভেলপ করছে। আর প্রতিটা ক্যারেক্টারই আগের থেকে ম্যাচিউর হইছে।
তবে একদম নতুন যেগুলা দেখছি সেগুলা হল সোরা ইয়োরি মো তোওই বাশো, ইউরু ক্যাম্প, হিনামাতসুরি। এগুলার মধ্যে ১ম দুইটা অনেক বেশি ভাল্লাগছে। লাস্টের টা মোটামুটি।
সোরা ইয়োরি মো তোওই বাশো দেখতে বসে এক্সপেকটেশন থেকে অনেক বেশি ভাল্লাগছে। চারটা মেয়ে নানকিওকু যাওয়ার গল্প টা যেভাবে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করছে আসলেই মুগ্ধ হওয়ার মত এনিমে আর জাপান আসার পর ইউরু ক্যাম্প দেখতে বসে ইউরু ক্যাম্পে দেখানো জায়গা গুলা বাস্তব জীবনে দেখা জায়গার সাথে মিলাতে পেরে আমার অন্যরকম ফিল হইছে। এনিমেটাও অনেক মনোমুগ্ধকর ছিল।
Tariqul Islam Ponir
Runner-Up: Full Metal Panic! Invisible Victory
আমি ফুলমেটাল প্যানিক দেখি ২০১০ এর দিকে। শ্বাস বন্ধকরা এক ক্লিফহ্যাঙ্গার দিয়ে শেষ হয়েছিল সেকেন্ড রেইড। পরের সিজন পাবো ইটা আশা করি নাই! ২০১৮ এর শুরুতে শুনি নতুন সিজন আসছে; শুধু এটার না, ফুলীকুলি এরও! কক্ষ ছানাবড়া হবার যোগাড়। নতুন সিজন হতাশ করলো না. আগের চাইতে অনেক সিরিয়াস মোড শুরু হলো. মাত্র ১২ পর্বে বেশ বড়সড়ো একটা গল্প দেখালো। তাই অনেক রাস্ড আর মিনিমাল ক্যারেক্টার ইন্টার্যাকশন। এরপরও, ওয়ারর্থ ইট!
Anime of the Year: Hinamatsuri
আনিমে পছন্দ হওয়ার একটা কারণ হলো অদ্ভুত সব গল্প। অনেক ক্লিশের মাঝেও মাঝে মাঝে এরকম কিছু প্লট এসে পরে যে অবাক হয়ে জিতে হয় যে লেখক কিভাবে এসব চিন্তা করতে পারে। আমার কাছে হিনমতসুরি এরকমই অদ্ভুতূড়ে এক গল্প হয়ে হাজির হয়েছিল। এক ইয়াকুজার উপর যদি হঠাৎ এক অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা সম্পন্ন বচ্চা ভর করে তাহলে কেমন হবে? এরকম সামান্য এক চিন্তা থেকেই হয়তো গল্পের শুরু। ব্যাট গল্পটির চার্ম হলো, কুশীলব সবার গড়পরতা(!) সমস্যা নিয়েই গল্পটি এগিয়ে যেতে থাকে। দেখতে দেখতে একসময় আনজু আর হিনার দুইজনের জন্যই চিয়ার করতে শুরু করেছিলাম। আর হিতোমীর বারের ঘটনাগুলো কমেডিক ভ্যালুর কথা আর নাই বললাম।
Kazi Rafi
Runner Up: Chio’s School Road
Anime of the Year: Asobi Asobase
২০১৮ ছিল কমেডি এনিমের বছর। প্রত্যেক সিজনেই এক বা একাধিক স্ট্যান্ডআউট কমেডি এনিমে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু এতো সব দারুন কমেডি এনিমের ভিড়েও আসোবি আসোবাছে আমার কাছে এই বছরের সেরা এনিমে, এর কারন একটাই- আসোবি আসোবাছে আমাকে সম্পুর্ণরূপে চমকে দিয়েছে। আসোবি আসোবাছে দেখার আগ্রহ জাগে প্রথম যখন এর ট্রেলার দেখি। অবাক লাগে সিনোপসিস আর প্রোমো ইমেজ এর সাথে ট্রেলারের ভিন্নতা দেখে।
ইউকিপিডিয়া আর ম্যালের কাহিনী সংক্ষেপ আর প্রোমো ইমেজ দেখে মনে হবে এ তো আর অন্য দশটা ‘কিউট হাই স্কুল বান্ধবীদের কিউট কাহিনী’ নিয়ে এনিমে। এরপরে আসল প্রথম পর্ব। ট্রেলারের কৌতূহল নিয়ে দেখতে বসলাম; এবং দশ মিনিটের মাথায় উপলব্ধি করলাম, এই এনিমে আমাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে ভবিষ্যতে, ২০১৮’র প্রিয় সব এনিমেকে বাদ দিয়ে এটিই হতে যাচ্ছে আমার বছরের সেরা এনিমে। এই ১০ মিনিটের মধ্যে সিরিজের মূল ৩ চরিত্র বুঝিয়ে দিয়েছে, একেকজন দেখতে কিউট হলে কি হবে, একেকজন পুরাই একেকটা পাগল। হানাকো, কাসুমি, অলিভিয়া, ৩ বান্ধবী; সময় কাটানোর জন্য নিজেরা নিজেরাই স্কুলে একটা ক্লাব খুলে বসে, যেখানে তারা তাদের যা খুশি মনে চায় করবে। এবং এইখানেই তারা সম্পুর্ণ সাধারন একটা ঘটনা কে তারা যতটা উদ্ভট ভাবে সম্ভব জগাখিচুরি পাকিয়ে কিম্ভুতকিমাকার বানিয়ে এক অসামান্য কাহিনীতে রুপ দেয়। আসতে থাকে এক্টার পর একটা মেটা জোকস, রেফারেন্স, ট্রলিং, অসাধারণ কমিক টাইমিং এ দম বন্ধ করা হাস্যকর জোক ডেলিভারি। আর একেকজনের ফেস রিয়েকশন তো দেখার মতন, শুধু মাত্র ফেস রিয়েকশন দিয়েও যে হেসে কুটিকুটি করে ফেলা যায় সেটা আসোবি আসোবাছেতে এসে আবারো প্রমাণিত। তবে…এই সিরিজের সবচেয়ে সেরা সম্পদ কি জানেন? এর ভয়েস এক্ট্রেসরা, বিশেষ করে হানাকোর ভয়েস এক্ট্রেস হিনা কিনোর কথা নাহ বললেই নয়। এক হিনা কিনোর পারফর্মেন্সেই মুগ্ধ নাহ হয়ে আপনি পারবেন নাহ। মুখ হা করে দেখার মতন দুর্দান্ত সাহসী পারফরমেন্সের মাধ্যমে পুরা ভয়েস অ্যাক্টিং ইন্ডাস্ট্রির জন্যই এক নতুন উচ্চতা তৈরি করে দিয়েছে সিরিজের ভিএরা।
সিরিজটি নির্মানের দায়িত্বে ছিল স্টুডিও লার্চে, ডিরেক্টরের দায়িত্বে আর কেও নন, লার্চের একমাত্র ঝানু ডিরেক্টর সেইজী কিশি।
প্রতি সপ্তাহে আসোবি আসোবাছের ‘Over the top, bizzare’ কমেডী গ্যাগ আর মনোমুগ্ধকর ভয়েস এক্টিং পারফর্মেন্স দেখার সময় মনে হত এই এনিমে আমার বছরের সেরাতে পরিনত হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার মাত্র।
Tahsin Faruque
Runner-Up: 3-gatsu no Lion 2nd Season
3-gatsu no Lion আসলে শুধুই একটি আনিমে নয়, এটি একটি আর্ট। শুধুই ভিজুয়াল আর্টই নয়, এটিকে আমি বলবো সাইকোলজিকাল আর্ট। সিরিজটি সাইকোলজিকাল নয় বটে, তবে দর্শকের মনের উপর একটি অস্বাভাবিক গভীর ছাপ ফেলে যাবার ক্ষমতা রয়েছে এটির। যেমন সুন্দর অ্যানিমেশন, তেমন মুগ্ধ করা মিউজিক। শুধুই আরেকটি স্লাইস অভ লাইফ সিরিজ নয় এটি, শুধু আরেকটি খেলা নিয়ে আনিমে নয় এটি; গল্পের একেকজন ক্যারেক্টারের জীবনকে স্ক্রিনের ভিতর থেকে বের করে এনে দর্শকের মনের মধ্যে গেঁথে দিতে পারার মত সিরিজ এটি।
এরকম একটি সিরিজকে রানার-আপে রাখলাম, কারণ এটিকে পিছনে ফেলে আমার জন্যে বছরের সেরা আনিমে হতে পেরেছে যেটি তা হল-
Anime of the Year: Devilman: Crybaby
গো নাগাইয়ের ক্লাসিক এই মাঙ্গাটি এতদিন বিভিন্ন কারণে পুরাপুরিভাবে আনিমের অ্যাডাপ্টেশন পায় নি। প্রচন্ড রকমের সমালোচনা তৈরি করা গল্পের এই সিরিজ আসলে টিভিতে নিয়ে আসার মত সাহস পায় নাই অনেকেই। অবশেষে নেটফ্লিক্সের উপস্থিতি একটি সুন্দর সংকেত দিল যেন। যেকোনরকমের সেন্সরিং করা ছাড়াই গল্পটি পুরাপুরিভাবে, এবং চাইলে আরও নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগটি এক লাফে লুফে নিয়েছে মাসাকি ইয়ুসারার মত ব্রিলিয়ান্ট একজন আনিমে ডিরেক্টর ও অ্যানিমেটর। আনিমের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আনিমের পিছনে প্রেরণা হিসাবে কাজ করা ডেভিলম্যান মাঙ্গার একটি সফল অ্যাডাপ্টেশন হয়েছে এই আনিমেতে। সেই সাথে সিন্থওয়েভ মিউজিকের অসাধারণ ব্যবহার আনিমেটিকে একটি ইন্সট্যান্ট ক্লাসিক বানিয়ে ফেলতে পেরেছে।