এত বড় নাম পড়তে পড়তে কাহিল; যদিও পরে ছোট করে আরেকটা নাম জানতে পারলাম, Oregairu. এমনিতে অত বড় জাপানিজ নামের অর্থ হচ্ছে My Youth Romantic Comedy Is Wrong, As I Expected. নাম শুনে যদিও রোমান্টিক জনরার টিপিক্যাল আরেকটা আনিমে হতে পারে বলে মনে হচ্ছে, হচ্ছিল; ওরেগাইরু তার এক্সপেক্টেশন ছাড়িয়ে গিয়েছে।
গল্পঃ হাচিম্যান হিকিগায়া একজন টুইস্টেড কিশোর যার কাছে অন্যান্য সাধারণ কিশোরের এই বয়সটার চিত্র, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। হাচিম্যানের কাছে তার আশেপাশের সমস্ত সম্পর্কই হাস্যকর, বলা চলে মিথ্যে প্রহসনের মত লাগে। স্কুলে তার কাউন্সেলর তার চিন্তা-ভাবনার সাথে পরিচিত হয় এবং তাকে জোর করে একটা ক্লাবে যোগ দেওয়ায় – সার্ভিস ক্লাব। সার্ভিস ক্লাবের কার্যক্রম হলো একটাই – অন্য শিক্ষার্থী অথবা ক্লাবকে সাহায্য প্রদান করা। সে যোগ দেবার পর সার্ভিস ক্লাবের মেম্বার একজন থেকে দুইজন হয়। প্রথম মেম্বার ছিলো ইউকিনো – মেধাবী, সুন্দরী ছাত্রী যার পার্সোনালিটি বরফ ঠান্ডা। সার্ভিস ক্লাবে যোগ দেবার পর থেকে তাদের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করতে করতে পুরো সিরিজটির গল্প এগিয়ে যায়।
ওয়েল, গল্পটা আসলে ঠিক এরকমই।
আনিমেটা মোটামুটি হিকিগায়ার দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা। আশেপাশের সম্পর্ক, সমাজ এবং এসবের প্রতি তার চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গির কথাই মোটামুটি মূল ছিলো পুরো সিরিজটিতে। সার্ভিস ক্লাবের প্রথম মেম্বার ইউকিনোও তার আশেপাশের সমাজ, সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা রাখে এবং সার্ভিস ক্লাবের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে তাদের ভাবনা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ক্যারেক্টার হিসেবে দুজনই বন্ধুহীন টাইপ কিন্তু হিকিগায়া নেগেটিভ দৃষ্টিকোণ লালন করে এবং তার সমাধান প্রায় সময়েই সেলফ ডেস্ট্রাক্ট টাইপের। এইরকম আচরণ বহু সময়েই ভুল উদাহরণের সৃষ্টি করে এবং তেমনটাই হয়েছে হিকিগায়ার জীবনে, স্কুলে মোটামুটি কেউই তাকে পছন্দ করে না। অন্যদিকে ইউকিনোর ঠান্ডা স্বভাবের সরাসরি কথা বলার অভ্যাসেও আঘাত পায় অনেকেই, সাথে যোগ হয়েছে পারফেক্ট স্টুডেন্ট হবার তকমা গায়ে লাগার দরুণ অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া হিংসা। এবং ক্লাবের তৃতীয় মেম্বার হিসেবে ইউই যোগ দেয় পরেই, স্বভাব ও পরিবেশের বিচারে এ দুজনের একেবারেই বিপরীত।
Oregairu এর সবচেয়ে দুর্দান্ত ফিচার হলো, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। শুধু লিড ক্যারেক্টারই নয়, গল্প এগোনোর সাথে সাথে সাপোর্টিং ক্যারেক্টারগুলোর ডেভেলপমেন্ট প্রচন্ড উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! আনিমের গল্প এগোনোর সাথে সাথে কোনো চরিত্রই পিছিয়ে পড়ে নি, বরং সমানতালে ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে ভারসাম্য বজায় রেখেছে প্রতিটা ক্যারেক্টারই – আমার কাছে প্রচন্ড উপভোগ্য ছিলো ওরেগাইরু!
টিপিক্যাল আনিমের মতন না, পুরোটা সিরিজ জুড়েই আলাদা একটা ভাইভ দিয়েছে ওরেগাইরু। মেইন ক্যারেক্টার হিকিগায়ার পার্সোনালিটি, চিন্তা ভাবনা প্রকাশের ভঙ্গি এবং আশেপাশের সম্পর্কগুলোর দিকে তার এপ্রোচ – উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! কমেডি হিসেবেও আনিমেটা চমৎকার, জোর করে সিচুয়েশন তৈরি করে হাসানো নয় বরং সাধারণ জীবন মেইন্টেইন করতে করতে গল্পের প্রয়োজনেই মোমেন্টগুলো তৈরি হয় এবং সেই মোমেন্টে তুলে ধরা ইমোশনাল অথবা কমেডি অথবা ভাবনার উপস্থাপনা – আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে!
ওরেগাইরুর একটা উল্লেখ্য বিষয় হলো, বেশিরভাগ আনিমেতে নিজের ভাবনা, এক্সপ্রেশন গোপন রেখে তার গল্প এগিয়ে যায়, ভেতরকার মনোলগগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিরক্ত লাগে, অনেক ক্ষেত্রে খাপছাড়া আর অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। ওরেগাইরু ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের অগ্রগতির কারণেই নাকি এর প্রতি আমার দৃষ্টিকোণ শুরু থেকেই আলাদা হবার কারণে নাকি সত্যিকার অর্থেই – ইনার মনোলগগুলো বিরক্তিকর মনে হয় নি একটুও এবং কিছুক্ষেত্রে নিজের চিন্তাভাবনাকে লুকিয়ে রাখা বেড়ে ওঠা একজন কিশোরের স্বাভাবিক কাজ বলেই মনে হয়েছে যার জন্য আনিমের আবেদনটা আমার কাছে বেড়ে গিয়েছে আরও!
আনিমের আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন ভালো এবং উপভোগ্য। একইসাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।
মোটামুটি বলা চলে, আনিমের নাম অনুযায়ী এটা টিপিক্যাল রমকম আনিমে তো নয়ই বরং কাহিনী এগোবার ভঙ্গি অনুযায়ী রোমান্স আনিমের ছোট্ট একটা পার্ট বলে মনে হয়েছে শুরুর দিকে, যদিও পরে সেদিকেই এগিয়ে গিয়েছে গল্পটা। এবং অবশ্যই, গল্পটা সেদিকে এগিয়ে গেলেও প্রচন্ড উপভোগ্য এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ক্রমাগত হয়ে যাবার জন্য।
সাজেশনঃ মাস্ট ওয়াচ।
দুই সিজন+দুই OVA+তৃতীয় সিজন আসছে এই ২০২০ -এই।
(খুব সম্ভত তৃতীয় সিজনই ফাইনাল সিজন)
সংক্ষেপেঃ
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০