প্রতিটি অ্যানিমে ভক্তের জন্য যে দুটো অ্যানিমে দেখা বাধ্যতামূলক; অ্যানিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_08-14-04.21.40

অ্যানিমে গ্রুপে যারা নিয়মিত ঘোরাঘুরি করেন, এই দৃশ্যগুলোর সাথে তারা সবাই মোটামুটি পরিচিত –

“নারুতো না দেখলে জীবন বৃথা”
“ওয়ান পিস দেখনি মানে তুমি কিছুই দেখনি”
“ড্রাগন বল ভাল লাগেনা? তুমি অ্যানিমে বুঝই না”

এছাড়াও জনরাভিত্তিক, পার্সোনাল চয়েস ভিত্তিক, এমন আরও অনেকভাবে সর্ট আউট করে অনেক মানুষ বিভিন্ন অ্যানিমেকে অবশ্য দেখনীয় (জানিনা শব্দটা ঠিক হল কিনা) বলে দাবি করে থাকেন।

আমি মোটামুটি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ (হেহে, বিশ্বাস করার দরকার নেই, তবে কথাটা সত্যি), কোনদিন নিজের পছন্দের অ্যানিমেকে বিশ্বসেরা বলে দাবি করার দুঃসাহস দেখাইনি। তবে আমার নজরেও এমন দুটো অ্যানিমে এসেছে, যে দুটো হয়ত আমি টপ ১০, ২০ লিস্ট বানালে সেখানে স্থান পাবে না, তারপরেও বলব, কেউ যদি অ্যানিমে ভক্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ বিনোদনের এই মাধ্যমের সাথে তার মোটামুটি পরিচয় থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই তার এই অ্যানিমে দুটো দেখা উচিৎ। অ্যানিমে দুটো হল বাকুমান এবং শিরোবাকো।

কেন এ দুটো অ্যানিমেকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি? কারণ আছে। আপনাদের সকলেরই তো জানা আছে, অ্যানিমের সিংহভাগ তৈরি হয় কোন একটা মাঙ্গার গল্পকে কেন্দ্র করে। আগে মাঙ্গা বা জাপানী কমিক বের হয়, সেটা মোটামুটি জনপ্রিয়তা পেলে সেখান থেকে অ্যানিমে বানানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মাঙ্গার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেও অ্যানিমে বানানো হয়। তো এই যে মাঙ্গাকে ঘিরে এত কাহিনী, সেই কাহিনীটার বাস্তব চিত্রটা আসলে কেমন, আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করে! যে ব্যক্তি মাঙ্গা লিখছে, তার জীবনটা আসলে কেমন, বা মাঙ্গা যে প্রকাশনী থেকে বের করা হয়, তারা কিভাবে কাজ করে, কিভাবে একটা মাঙ্গা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বা কিভাবে একটা মাঙ্গার অজনপ্রিয়তা দুর্ভাগ্য ডেকে আনে, এসব কিছুর চিত্র অসম্ভব নৈপুণ্য এবং যত্নের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যে অ্যানিমেতে, তার নাম বাকুমান। “বাকুমান” শব্দটি দুটো শব্দের সমষ্টি; বাকুচি+মাঙ্গা। বাকুচি অর্থ গ্যাম্বল বা জুয়াখেলা; মাঙ্গা লিখে জীবিকা অর্জন করা জুয়াখেলার মত বিপদজনক একটা পেশা, এখানে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।

আবার একইভাবে এটাও চিন্তা করুন, এই যে এত স্টুডিও পিয়েরট বা তোয়েই অ্যানিমেশন এর ওপর আপনারা মহা বিরক্ত, কিংবা শ্যাফট, পিএ ওয়ার্কস, কিয়োটো অ্যানিমেশন বা সিলভার লিঙ্কের আর্টের মহাভক্ত আমি; বা ব্যতিক্রমধর্মী অ্যানিমে বানানোর জন্য পরিচিত স্টুডিও ম্যানগ্লোবের যে করুণ দশা- এদের পেছনের কাহিনীটা কী? কারা এই স্টুডিওগুলোতে রাতদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছে প্রোপার ফিডব্যাক ছাড়া, কেন এখনকার অ্যানিমেগুলোতে অযথা ফ্যানসার্ভিস দিয়ে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে, বা কি উপায়ে এক টুকরো কাগজে আঁকা একটা সাদাকালো চরিত্র আমাদের চোখের সামনে হেটে বেড়াচ্ছে; কিভাবে প্রাণ পাচ্ছে সেই জড়পদার্থগুলো, যারা এই আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের জীবনটা কেমন – সেটা নিশ্চয়ই কখনো না কখনো জানতে ইচ্ছে করে! এই প্রতিটি কৌতুহল নিবারণ করবে যে অ্যানিমে, তার নাম শিরোবাকো।

অসম্ভব সুন্দর আর্ট আর ওএসটি রয়েছে দুটি অ্যানিমেতেই, আর মূল যে ব্যাপারটা রয়েছে, অ্যানিমেদুটি দেখার পর নিশ্চিতভাবে আপনি একটা অ্যানিমে/মাঙ্গাকে ট্র্যাশ বলার আগে দুবার ভেবে নেবেন। আপনি যদি এই ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে চান, এ দুটি অ্যানিমে দেখা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক!

মুশিশি রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

2_mushishi

আচ্ছা, আপনাদের কি সেই বজ্রাহত অভিমানী ছেলেটার সাথে পরিচয় আছে? সেই ছেলেটা, যে অভিমান করে বজ্রপাতের আওয়াজ পেলেই ছুটে গিয়ে বাড়ির সামনের লম্বা গাছটাতে উঠে বসে থাকে? অথবা সেই হতভাগ্য সন্তানের সাথে, নিতান্তই কৌতুহলের বশে রাতের বেলা শিস বাজিয়ে পাখি ডাকতে গিয়ে যে দুর্ভাগ্য টেনে আনে নিজ পরিবারের ওপর। অথবা সেই পরিশ্রমী লোকটির কথা কি জানেন, যে শীত-গ্রীস্ম কোন কিছুর পরোয়া না করে পাহাড়ের ঢালে কাজ করে যেত দিনরাত, যে কারণে তুষার ঝড়ের মাঝেও সেই পাহাড়ে দেখা যেত সোনালি ফসলের হাসি। কিংবা সেই অদ্ভুত পাহাড়ের কথাই ধরুন। বসন্তের ছোঁয়া লাগতে মাসখানেক দেরি হয়ে যায় যে পাহাড়ে, শীতকাল চলে যেতে যেতেও বারবার ফিরে আসে সেখানে, এখনও কাজ শেষ হয়নি যে তার এখানে!!

মুশিশি অ্যানিমেটির ব্যাপারে কেউ আমাকে প্রশ্ন করলে বিপদে পড়ে যাই। ছোট ছোট এমন অসংখ্য কাহিনী একসাথে মনের আয়নাতে যেন ভেসে ওঠে। আর উঠবেই বা না কেন, মুশিশির কাহিনীটাই যে অমন! কোন ধারাবাহিকতা নেই এই অ্যানিমেটির, আপনি যেকোন পর্ব থেকে অ্যানিমেটি দেখা শুরু করতে পারেন, কাহিনীর তাতে কোনই ক্ষতি হবে না। একেকটি পর্ব একেকটি পরিপূর্ণ ছোট গল্প। এই অসংখ্য ছোটগল্পগুলোর মাঝে যোগসূত্র একটিই, আর তা হল এক আত্মিক ফেরিওয়ালা, যার নাম গিনকো।

21368_mushishi

গিনকোর ব্যাপারে সবচেয়ে সুন্দর বর্ণনাটা বোধহয় মুশিশির প্রথম ওপেনিং এই বলা হয়েছে। “I walk a thousand miles to see you.” না, প্রেয়সীকে দেখার জন্য সহস্র মাইল দূরত্ব পাড়ি দেয়না গিনকো। গিনকো এক যাযাবর, যে দেশ-বিদেশে ঘুরে ঘুরে মুশি দেখে, মুশির ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে, তার নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাহায্য করে পীড়িত মানুষদেরকে।

কিন্তু এই মুশি জিনিসটা কি? সোজা বাংলায় বলতে গেলে, মুশির শাব্দিক অর্থ পোকা। কিন্তু অ্যানিমেতে মুশি জিনিসটা সাধারণ পোকার চেয়ে একটু আলাদা। সবাই তাদের দেখতে পায় না, কিন্তু তারা বাস করে মানুষের আশেপাশেই। কিছু মুশি মানুষের উপকার করে। কিছু আবার ডেকে আনে ভয়ানক দুর্ভাগ্য। গিনকো এই সমস্ত মুশি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করে বেড়ায় ঘুরে ঘুরে।

মুশিশি অ্যানিমেটা আমি দেখা শুরু করি ৩৬০ পি ফাইলে, বন-জঙ্গল আর মানুষ মিলেমিশে বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হয়েছিল, কিছুই আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না। তার ওপর প্রথম পর্বে বেশ গা শিরশির করা একটা মুশির কাহিনী বর্ণনা করা হয়, যেটা দেখে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলাম। তাই ১০ পর্ব দেখে অনেকদিন ফেলে রেখেছিলাম। কিন্তু মাথায় সবসময় এর ওএসটিগুলো ঘুরত। তাই একদিন আবার মুশিশি দেখা শুরু করি, এবার ভাল কোয়ালিটির ফাইলে। এবং একটা পর্ব দেখেই আমি চমকে যাই! সম্ভবত আমার দেখা সেরা বন-জঙ্গলের আর্ট আছে মুশিশিতে- এবং কথাটা মোটেই বাড়িয়ে বলা নয়।

517747

এতকিছু বলার কারণ হল, প্রথম কথা, মুশিশি দেখতে গেলে অবশ্যই ভাল কোয়ালিটির ফাইল জোগাড় করবেন। তা না হলে এর সৌন্দর্য আপনি ধরতেই পারবেন না। দ্বিতীয়ত, মুশিগুলোকে দেখে প্রথম প্রথম ক্রিপি লাগতে পারে অনেকের। কিন্তু কয়েক পর্ব দেখে ফেলুন, এরপর আবিষ্কার করবেন, কেমন যেন একটা নেশার মত ধরে গেছে, একের পর এক এপিসোড দেখেই যাচ্ছেন অন্যকিছু চিন্তা না করে। মনে হবে যেন গিনকোর সাথে সাথে আপনিও হেটে চলেছেন পাহাড়ি রাস্তা ধরে, মাথায় খড়ের হ্যাট আর পিঠে জীর্ণ বোঝাটা নিয়ে!

মুশিশি আপনাকে মানব জীবনের মূল্য নতুন করে বুঝতে শেখাবে, আশেপাশের পরিচিত জগৎটাকে নতুন করে চিনতে শেখাবে। সেই সাথে আপনার সারাদিনের ক্লান্তিকে দূর করে দেবে এক নিমিষেই। তাই মনকে প্রশান্তি দেয়া কোন অ্যানিমে দেখতে চাইলে দেখা শুরু করুন মুশিশি। পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজ দেখার সিক্যুয়াল হল-

Mushishi
Mushishi Special: Hihamukage
Mushishi Zoku Shou
Mushishi Zoku Shou: Odoro no Michi
Mushishi Zoku Shou: 2nd Season
Mushishi Zoku Shou: Suzu no Shizuku

1184100-2016-mushishi-hdq-wallpaper

অ্যানিমে সাজেশনঃ ReLIFE; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771996921

ReLIFE অ্যানিমেটা দেখে শেষ করলাম। আমি এমনিতেই হাইস্কুল স্লাইস অফ লাইফের ভক্ত, কিছু ছেলেমেয়ের দৈনন্দিন জীবনের খুনসুটি দেখতে আমার সবসময়ই ভাল লাগে; কিন্তু এরপরেও বলব, রিলাইফ এক্সেপশনালি ভাল ছিল। কাহিনীটার বিল্ড আপ অনেক ভাল ছিল, অবাস্তব একটা প্লট থেকে বেশ বাস্তব কিছু দৃশ্যপট খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর কাহিনী যত সামনে এগিয়েছে, নতুন নতুন রহস্যের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে, এটা বেশ ভাল ছিল, কাহিনী একটা নির্দিষ্ট গন্ডিতে থেমে না থেকে সামনে এগিয়েছে। হাসিমুখে জীবনকে ফেস করতে থাকা মানুষগুলোর ব্যাকস্টোরি, আপাতদৃষ্টিতে অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের হঠাৎ দেয়া সারপ্রাইজ বেশ লেগেছে। চমৎকার আর্ট, এক্সিকিউশন অসাধারণ, ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই ভাল লাগল, স্পেশালি চিবি ফর্মগুলো অনেক উপভোগ করেছি। ওএসটি খুবই সুন্দর, পরে সবগুলো ডাউনলোড করে বারবার শুনব।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং ও অনুপ্রেরণাদায়ক অ্যানিমে ছিল। অবশ্যই সেকেন্ড সিজন চাই।

FB_IMG_1469771988673

অ্যানিমে সাজেশনঃ কামিসামা নো মেমোচৌ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771063124

দেখে শেষ করলাম “কামিসামা নো মেমোচৌ”। অ্যানিমেটার নাম দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা রোমান্টিক কোন অ্যানিমে হবে (কামিসামা হাজিমেমাশিতা এফেক্ট), কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম যে এটা আসলে একটা মিস্ট্রি অ্যানিমে!

অ্যানিমের গল্প অ্যালিসকে ঘিরে, যে একজন নীট (NEET) ডিটেক্টিভ। আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হিকিকোমোরি এই মেয়েটি আরও কয়েকজন নীটের সমন্বয়ে চালায় তার “নীট ডিটেক্টিভ এজেন্সি”। পুরোনো একটি রামেন শপের ওপরে অবস্থিত এই এজেন্সির সাথে ঘটনাক্রমে যুক্ত হয়ে যায় নারুমি ফুজিমুরা, আর মুখোমুখি হতে থাকে একের পর এক কেসের। তাদের সাথে আরও রয়েছে ইয়াকুজা গ্যাং, রামেন শপের মালিক মিন-সান এবং শপের কর্মচারী ও নারুমির বন্ধু আয়াকা।

অ্যানিমেটা বেশ কয়েকটি ছোট ছোট স্টোরিতে বিভক্ত, ১২ টি এপিসোডের মাঝে বেশ কয়েকটি কেস সলভ করা হয়। কোন কোন কেস এক এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়, আবার কোনটা তিন-চার এপিসোড ধরে চলে। বলতে গেলে প্রতিটা কেসই লাইট হার্টেড ভাবে শুরু হয়ে পরে বেশ সিরিয়াস একটা টার্ন নেয়, সেজন্য অ্যানিমেটা বেশি ভাল লেগেছে। সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে প্রথম এপিসোডে ৪৭ মিনিট ধরে চলা কেসটা আর শেষ কেসটা। আর্ট ওএসটি ডিসেন্ট, আলাদা করে উল্লেখ করার মত লাগেনি।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে বেশ ভাল লাগল, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

FB_IMG_1469771054971

শর্ট অ্যানিমে সাজেশন; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_06-09-10.45.22

যত দিন যাচ্ছে, পৃথিবীটা সংকুচিত হয়ে আসছে। আগে যেখানে একটা অ্যানিমের ৫২ টা পর্ব থাকাটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা ছিল, সেখানে এখন ২৬ টার বেশি পর্ব হলেই অনেকে সংশয়ে পড়ে যায় দেখবে কিনা তা নিয়ে। এবং এই সংকুচন যে শুধু অ্যানিমের পর্বসংখ্যাতেই ঘটেছে তা কিন্তু নয়, অ্যানিমের দৈর্ঘ্যেও এর প্রভাব পড়েছে। বলছি না যে আগে স্বল্প দৈর্ঘ্যের অ্যানিমে ছিল না, কিন্তু ইদানীং যেন একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে এই “শর্ট অ্যানিমে”।

শর্ট অ্যানিমে বলতে সাধারণত সেগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলোর একেকটি পর্বের দৈর্ঘ্য ১৩ মিনিটের কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অ্যানিমেগুলো কমেডি নির্ভর হয়, তবে কিছু কিছু অ্যানিমের স্টোরি বেশ মজার ও উপভোগ্য হয়।

আমার দেখা শর্ট অ্যানিমেগুলোর মাঝে সেরা ৯ টির নাম আজকে বলছি, যারা দেখেননি, ট্রাই করে দেখুন; ভাল লাগবে আশা করি।

1. Yama no Susume

আমার দেখা সেরা শর্ট অ্যানিমে এটি। সিজন ১ এর প্রতি পর্ব মাত্র ৩ মিনিট করে, সিজন ২ এর পর্বগুলো ১২ মিনিট করে। মূলত হাইস্কুল পড়ুয়া চারজন বালিকার মাউন্টেনিয়ারিং এর শখ ও তাদের পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোর কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যানিমেটি। সিজন ১ লাইটহার্টেড, কিন্তু সিজন ২ তে মাউন্টেনিয়ারিং সম্পর্কে প্রচুর তথ্য ও এর ভাল খারাপ দিকগুলো চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আর কোন অ্যানিমে না দেখলেও ইয়ামা নো সুজুমে একটি মাস্ট ওয়াচ অ্যানিমে।

2. Miss Monochrome

এটি নিয়ে আগে বিস্তারিত রিভিউ লিখেছি, এখানে অল্প কথায় বলি, আইডল হওয়ার স্বপ্ন দেখা সাদাকালো রোবট মিস মোনোক্রোমের আইডল হয়ে ওঠার জার্নি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত ভয়েস অ্যাক্ট্রেস হোরিয়ে ইউইর অরিজিনাল ক্যারেক্টারের এই অ্যানিমেটি।

3. Wakaba Girl

বিশাল বড়লোকের মেয়ে ওয়াকাবা, বাবার বদলি চাকরির কারণে কখনো এক শহরে বেশিদিন থাকেনি মিডল স্কুল পর্যন্ত। তাই নতুন শহরে নতুন হাইস্কুলে ভর্তি হওয়া ওয়াকাবার স্বপ্ন, সে আর দশটা নরমাল হাইস্কুল বালিকার মত জীবনটাকে উপভোগ করবে। মূলত ওয়াকাবার হাস্যকর কাজকর্ম এবং তার বন্ধুদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে এই মজার অ্যানিমেটি।

4. She and Her Cat

এটিরও রিভিউ লিখেছিলাম আগে, মূলত একটা মেয়ের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টাকে তার নিজের ও তার পোষা বেড়ালের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখানো হয়েছে। কিছুটা নষ্টালজিক ফিল দেওয়া এই অ্যানিমেটি ডিরেক্টর মাকোতো শিনকাই এর ভাল কাজগুলোর একটা।

5. Ojisan to Marshmallow

মার্শম্যালো পাগল ওজিসান ও তার প্রেমে পড়া অফিস কলিগের মজার খুনসুটি নিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যানিমেটি। আর্ট খুবই সুন্দর, আর এন্ডিং সং এর পরে মার্শম্যালো বানানোর রেসিপিগুলোও মজার।

6. Super Seisyun Brothers

একই স্বভাবের দুই জোড়া ভাইবোন। প্রাপ্তবয়স্ক বোন দুটো বান্ধবী, আবার হাইস্কুল পড়ুয়া ভাইদুটো বন্ধু। এদের জীবনযাপন, দৈনন্দিন খুনসুটি নিয়ে কাহিনী এই অ্যানিমেটির। ওতাকু বোনের কাজকর্ম আর ভাইকে এই পয়জন থেকে দূরে রাখার জন্য তার আপ্রাণ চেষ্টা যেমন মজার, তেমনি শান্তশিষ্ট বোনের ভাইয়ের প্রতি মাত্রাছাড়া ভালবাসা দেখেও মজা লাগে।

7. Aiura

কিউট গার্লস ডুইং কিউট থিংস। আর কিছু বলার নেই এটির ব্যাপারে। নিখাদ বিনোদনের জন্য দেখুন।

8. Orenchi no Furo Jijou

মনে করুন আপনি নদীর ধারে হঠাৎ একটি মৎস্যপুত্র দেখলেন। তাকে দেখে আপনার মায়া হল, তাই জায়গা দিলেন নিজের বাথটাবে। তারপর? কি ঘটবে তারপর? জানতে চাইলে দেখে ফেলুন এই অ্যানিমেটি।

9. I Can’t Understand What My Husband is Saying

ওতাকু জামাই আর রিয়াজু বউয়ের সংসার কেমন হতে পারে? হাসব্যান্ডের ওয়াইফু কালেকশন দেখে ওয়াইফের রিএকশন কেমন হতে পারে, বা আরও উদ্ভট কাজকর্মের ফল কি হতে পারে, জানতে দেখে ফেলুন এই অ্যানিমেটি।

PicsArt_06-09-10.42.00

Tamayura – Let’s Photo!! রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, ফটোগ্রাফি জিনিসটা আপনাদের কেমন লাগে? কয়েক হাজার মেগাপিক্সেলের মোবাইল ক্যামেরা বা কয়েক কোটি টাকা দামের ডিএসএলআর এর যুগে ছবি তোলা ব্যাপারটা অনেক মামুলি হয়ে গেছে এখন, কিন্তু সেই সময়টার কথা একবার মনে করুন, যখন ফিল্ম ক্যামেরা প্রচলিত ছিল। একটা ফিল্মের লিমিট মাত্র ৩৬ টা ছবি, তাও ছবিগুলো দেখতে হলে আপনাকে টাকা খরচ করে প্রিন্ট করাতে হবে! তখন ছবি তোলার একটা চার্ম ছিল, কারণ মানুষ তখন শুধুমাত্র তাদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোই বন্দী করত ক্যামেরায়। একেকটা ছবি হয়ে থাকত একেকটা গল্পের সাক্ষী।

যে অ্যানিমেটার কথা বলছি, সেটার মূল থিমও তাই, ছবির মাধ্যমে সকলের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়া।

Screenshot_2016-04-12-07-58-42

তামাইউরা- অ্যানিমেটির নামটি বেশ অদ্ভুত। কিন্তু এই নামের পেছনে রয়েছে সুন্দর একটা অর্থ। বলা হয়ে থাকে, যখন কোন ছবিতে মানুষের মনের উষ্ণতা, তাদের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে, তখন ছবিতে অনেকগুলো সাদা স্ফটিক দেখা যায়। একেই বলে তামাইউরা। আমাদের গল্পের মূল চরিত্র ফু-চান চায়, তার তোলা ছবিগুলোতে যেন এই তামাইউরা ধরা পড়ে।

Screenshot_2016-04-22-13-29-45

ফু-চান একজন হাইস্কুল ফ্রেশম্যান। বাবাকে হারিয়ে অনেকদিন পর্যন্ত সে শকের মধ্যে ছিল, যে কারণে সে তার বাবার কথা মনে করায় এমন সব জিনিস নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, এমনকি তার বাবার পছন্দের ক্যামেরাটাও।

কিন্তু একদিন বাবার তোলা ছবিগুলো দেখে ফু উপলব্ধি করে, শোক করে নয়, বরং বাবার সাথে কাটানো সুন্দর সময়গুলোকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলাটাই হল বাবার প্রতি সন্মান দেখানোর সঠিক উপায়। তাই ফু-চান ঝেড়ে ফেলে সব দুঃখ, আর বাবার প্রিয় ফিল্ম ক্যামেরাটাকে সঙ্গী করে চলে আসে তাকেহারাতে; যেখানে তার বাবার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

Screenshot_2016-04-22-13-32-04

তামাইউরা অ্যানিমেটিকে বলা যায় আরেকটি টিপিকাল কিউট গার্লস ডুয়িং কিউট থিংস অ্যানিমে, যেখানে মূল থিম হল ফটোগ্রাফি। কিন্তু এখানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির দিকে তেমন একটা ফোকাস করা হয়নি, বরং ছবির সাথে আবেগের সম্পর্কটাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেকারণে ডিজিটাল ক্যামেরার যুগেও ফু-চান ব্যবহার করে ফিল্মের ক্যামেরা, কারণ এটাই তার বাবার সবচেয়ে সুন্দর মেমেন্টো। হাইস্কুল বালিকাদের মজার জীবন, একেকজনের জীবনের লক্ষ্য, হাসিকান্নার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে এগিয়ে চলে ফু-চানের ফটোগ্রাফি, যে ছবিগুলোতে প্রায়ই সন্ধান পাওয়া যায় তামাইউরার।

অ্যানিমেটির থিম যেহেতু ফটোগ্রাফি, সেই অনুযায়ী সেটিং তৈরি করা হয়েছে খুব সুন্দর দৃশ্য আর উৎসবমুখর পরিবেশ দিয়ে। পর্বের পর পর্ব ওরা শুধু মজা করে যাবে, সেগুলো দেখে আপনারও ইচ্ছে হবে ওদের দলে ভীড়ে যেতে। ফু-চানের তোলা ছবিগুলো দেখানোর সময়টার অ্যানিমেশন অনেক সুন্দর। আর এই অ্যানিমের প্রতিটা ওপেনিং এন্ডিং এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার খুবই ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার একগাদা পার্ট আছে, তাই সকলের সুবিধার্থে আমি সিকোয়েন্সটা লিখে দিচ্ছি-

Tamayura OVA- ৪ টি পর্ব
Tamayura Hitotose- ১২ টি পর্ব
Tamayura Hitotose OVA- ১ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive- ১২ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive OVA- ১ টি পর্ব

এছাড়া এই অ্যানিমের ৪ টি মুভি আছে।

যদি মনকে শান্তি দেয়া কোন হাসিখুশি দৈনন্দিন জীবন ফোকাস করা অ্যানিমে দেখতে চান, তামাইউরাকে সুযোগ দিতে পারেন।

Screenshot_2016-04-22-18-23-29

গ্লাসলিপ রিএকশন; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12961176_197382797313440_1846287170956684497_o

কাল রাতে (তর্কসাপেক্ষে) এই দশকের সবচেয়ে বিতর্কিত অ্যানিমে গ্লাসলিপ দেখে শেষ করলাম। অ্যানিমেটার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনদিন কোন পজেটিভ কথা শুনিনি, অনেকটা ঝোঁকের মাথায় দেখা শুরু করেছিলাম এই ভেবে যে, ভাল না লাগলে দেখা বাদ দিয়ে দেব।

কিন্তু দেখা শুরু করার পর আবিষ্কার করলাম, আমি মোটেই বোর হচ্ছিনা। শুরুর এপিসোডে কাকেরু এসে তৌকোকে যখন বলল, “তুমি যা দেখ, আমিও তাই দেখি”, তখন একটু লেইম লেগেছিল ব্যাপারটা, পরে বুঝলাম সেটার কারণ ছিল। রোমান্স পার্টটা অতটা খারাপ ছিল না, তবে সুপারন্যাচারাল ব্যাপারটা ঢুকানোর প্রয়োজন ছিল না। ওটা ছাড়া কাহিনীটা জমত ভাল।

Screenshot_2016-04-11-22-12-11

অ্যানিমেটা খারাপ লাগার কারণ খুঁজে বের করতে আমার সত্যিই কষ্ট হয়েছে, নিজে বের করতে পারিও নি খুব বেশি, অন্যদের রিভিউ ঘাটাঘাটি করে বের করতে হয়েছে। আমি তারচেয়ে পয়েন্ট আকারে কিছু কথা বলি, বুঝতে সুবিধা হবে।

– প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে আর্টওয়ার্ক। পিএ ওয়ার্কস এর অ্যানিমেশন, কিও অ্যানির পরে এই স্টুডিওর আর্ট আমার সবচেয়ে পছন্দ। প্রতিটা ছোট ছোট ডিটেইলের দিকে নজর রাখে তারা, উজ্জ্বল চোখজুড়ানো ল্যান্ডস্কেপ থাকে, শহরের দৃশ্য হোক বা গ্রাম, সমুদ্র হোক বা পাহাড়, সব কিছু অসম্ভব যত্ন নিয়ে আঁকে। ক্যারেক্টার ডিজাইনও সুন্দর হয়, পিএ ওয়ার্কস এর কাজ যে, সেই ছাপ থাকে। এই স্টুডিওর যত অ্যানিমে আমি দেখেছি, তার মাঝে গ্লাসলিপের আর্ট সেরা।

Screenshot_2016-04-11-20-59-27

– স্টোরি খারাপ ছিল না। আমি জানি অনেকে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, তাও বলছি, স্টোরি ভালই ছিল। সুপারন্যাচারাল পার্টটা যদি বাদ দেই, বাকিটা কিন্তু বাস্তব জীবনের সাথে বেশ মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। ক্যারেক্টারগুলো বিরক্তিকর – এই কথাটার প্রেক্ষিতে আমি বলব, এই ধরণের বিরক্তিকর ক্যারেক্টার আমাদের আশেপাশে খুঁজলেই পাওয়া যায়। এই কারণেই বরং গ্লাসলিপ স্লাইফ অফ লাইফ হিসেবে সফল। সুনদেরে ইয়ানদেরে না দেখিয়ে তারা অন্তত কিছু রিলেটেবল ক্যারেক্টার দেখাতে পেরেছে, যারা ভুল করে, জেলাসও হয়, কিন্তু সেটাকে ওভারকামও করতে পারে।

– সুপারন্যাচারাল পার্টটার কথা এবার বলি, কোন দরকার ছিল না এটার। শুরুর দিকে ভালই লাগছিল, কিন্তু এপিসোড ১২-১৩ তে শুধুশুধু টুইস্টের মত কিছু একটা দেখাতে গিয়ে এন্ডিংয়ে খামাখা কাকেরুকে ভ্যানিশ করে দিল। পিএর কাজ অবশ্য এমনই, পারফেক্ট হ্যাপি এন্ডিং বোধহয় ওদের সহ্য হয়না। তবে ওইটুকু অতৃপ্তির জন্য পুরো অ্যানিমেটাকে খারাপ বলাটা খুবই অন্যায় হবে, কারণ আমি এর চেয়ে অনেক খারাপ অ্যানিমে দেখেছি। গ্লাসলিপের দোষ হল এটা স্লাইস অফ লাইফ রোমান্স, কাজেই খুব এক্সাইটিং কিছু ঘটেনা।

সবমিলিয়ে আমার মনে হয়েছে এটা দেখার যোগ্য অ্যানিমে, বাকিটা আপনারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিন। কাউকে দেখতে সাজেস্ট করব না, যেহেতু এটা এত এত মানুষের ভাল লাগেনি, যার দেখার ইচ্ছা নিজ দায়িত্বে দেখবেন, তবে খুব এক্সাইটমেন্ট পাবেন না এমনটা জেনে দেখতে বসলে ভাল লাগবে, এটা বলতে পারি।

I didn’t survive Glasslip, I enjoyed it.

12973375_197382847313435_8237480134203561675_o

অ্যানিমে সাজেশন- কামিসামা হাজিমেমাশিতা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

দেখে শেষ করলাম কামিসামা হাজিমেমাশিতা সিজন ১। বাবার খামখেয়ালিপনার কারণে গৃহহারা হওয়া নানামি হঠাৎ করে পেয়ে বসে আস্ত একটা শ্রাইন আর সেইসাথে আর্থ গড হবার সম্মান। সেই শ্রাইনের হেরাল্ড তোমোয়ের সাথে নানামির সম্পর্কের ধীরে ধীরে উন্নতি, তাদের দৈনন্দিন জীবন ও অন্যান্য হেরাল্ড এবং ইয়োকাইদের সাথে তাদের ইন্টের‍্যাকশন নিয়ে এগিয়ে চলে অ্যানিমের কাহিনী, এবং অবশ্যই সাথে রোমান্সের খুনসুটি।

Screenshot_2016-04-07-17-55-50

প্রথমেই যে কথাটা মাথায় এল শেষ করার পর, শৌজো অ্যানিমের ক্লিশে- কোন একটা ছুতা বাইর করাই লাগবে সবকয়টা বিশৌনেনের সাথে রোমান্টিক মোমেন্ট দেখানোর। -_- এই কন্ট্র‍্যাক্ট সিল করার ছুতায় যে কত কাহিনী করল :v :v যাহোক, সেটা বড় কোন সমস্যা না, কারণ ওভার অল অ্যানিমেটা অনেক ভাল লেগেছে আমার। আর্ট ডিসেন্ট, কমেডি অনেক ভাল, হেসেছি অনেক; সবচেয়ে বড় কথা একেবারেই ফোর্সড কমেডি লাগেনি।

Screenshot_2016-04-07-13-34-31

এবার বলি যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে – ওএসটি। আমি সাধারণত ওপেনিং এন্ডিং স্কিপ করে যাই, এই অ্যানিমেটার ক্ষেত্রে একটাও স্কিপ করতে পারিনি। গান দুটো যতবার শুনেছি, আমার নাচতে ইচ্ছা করেছে!! আর অ্যানিমের ভেতরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও সুন্দর; বিশেষ করে একেবারে শেষ এপিসোডের কাগুরা ডান্সটা অসম্ভব ভাল লেগেছে, রিপিট করে করে দেখেছি। কাহিনীটা কোথাও থমকে যায়নি, একটা নির্দিষ্ট পেসিং ধরে রেখেছে। আর তোমোয়ে যেভাবে নিজের জেদ বিসর্জন দিয়ে নানামিকে মন থেকে আসা কথাটা বলে দিল, এটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে।

Screenshot_2016-04-07-19-39-01

সবমিলিয়ে বেশ ভাল একটা শৌজো অ্যানিমে ছিল এটি, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

Screenshot_2016-04-07-19-42-27

 

One Week Friends রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Screenshot_2016-03-26-17-36-00-1

আজ দেখে শেষ করলাম ব্রেইনস বেইজের অ্যানিমে- Isshuukan Friends / One Week Friends.

কাওরি ফুজিমিয়াকে বলা যায় ক্লাসের সবচেয়ে ইউনিক মেয়ে। কারও সাথে কথা বলে না, যন্ত্রের মত স্কুলে আসে যায় আর পড়াশোনা করে। তার শীতল নির্বিকার চাহনি দেখে ক্লাসের অন্য স্টুডেন্টরা তার সাথে কথা বলতে ভরসা পায় না। এই কাওরিকে হঠাৎ একদিন বলে বসল হাসে ইউকি নামের ছেলেটি, “I’d like for us to be friends!!”

চমকে গেল কাওরি। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বিনীতভাবে হাসেকে প্রত্যাখ্যান করে দৌড়ে চলে গেল সে।

Screenshot_2016-03-26-17-35-18

এইটুকু বর্ণনা শুনলে যে কারও মনে হতে পারে, Yet another typical romance story. কিন্তু না, এরপরের কাহিনীতে আছে একটা রহস্য।

নাছোড়বান্দা হাসে তারপরেও কাওরির সাথে কথা চালিয়ে যেতে লাগল। এবং কাওরি নিজেও খেয়াল করল না যে কখন সে না চাইতেও নিয়মিত হাসের সাথে বন্ধুর মতই সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু এদিকে সোমবার যে এগিয়ে আসছে! সোমবার এলেই তো কাওরির পৃথিবী রিসেট হয়ে যাবে! কিভাবে হাসের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করবে তখন সে?

অ্যানিমেটার কাহিনী নরমাল রমকম অ্যানিমের মতই, কিন্তু এই রহস্যটার কারণে কাহিনীটা আমার কাছে বেশ ইউনিক লেগেছে। যদিও এই প্লট নতুন দেখছি না, বহু আগে দেখা একটি ইংরেজি মুভিতে প্রায় এরকম একটা কাহিনী দেখেছিলাম, তাও এই অ্যানিমেতে রহস্যটা যেভাবে ব্যবহার করেছে, তা আমার ভাল লেগেছে। রোমান্সের দিকে নজর না দিয়ে কাওরি ও হাসের অন্যান্য ক্লাসমেটদের সাথে সম্পর্ক ও তাদের নিজেদের ডেভেলপমেন্ট এর দিকে বেশি ফোকাস করা হয়েছে – এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক যেটা অ্যানিমেটাকে বোরিং হতে দেয়নি। স্লাইস অফ লাইফের মত কিছুটা ধীরগতির হলেও তা কাহিনীটাকে উপভোগ্য করে তুলেছে বলে আমি মনে করি।

Screenshot_2016-03-26-20-37-02-1

শুরুতেই ব্রেইনস বেইজের কথা উল্লেখ করেছিলাম, কারণ এই স্টুডিওটি আমার অত্যন্ত পছন্দের অ্যানিমে নাতসুমে ইউজিনচৌ এবং মুভি হৌতারুবি নো মোরি ই তৈরি করেছে, আর এ দুটোর আর্টের সাথে ইশশুকেন ফ্রেন্ডস এর আর্টে অনেক মিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, ব্রেইনস বেইজের কাজ মনে হয়েছিল দেখার সময়ই। ওএসটি অ্যানিমের থিমের সাথে মানানসই, ওপেনিং টা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মাত্র ১২ পর্বের বেশ সুন্দর একটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে এটি, চাইলে দেখে ফেলতে পারেন।

Screenshot_2016-03-26-17-35-36-1

হানাসাকু ইরোহা রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_mb3x3lVTdH1qzd219o1_500

হানাসাকু ইরোহা দেখে শেষ করলাম। শুরু থেকেই আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে আমার তারি তারি অ্যানিমেটার কথা মনে পড়ছিল, ম্যাল ঘেটে দেখলাম যা ভেবেছি তাই; দুটো অ্যানিমে একই স্টুডিওর বানানো। পিএ ওয়ার্কস স্টুডিওটির জন্য মোট ৩৪ টি টাইটেলের এন্ট্রি পেলাম (সেকেন্ড সিজন, ওভিএ, মুভির হিসাব সহ) এর মাঝে এঞ্জেল বিটস, এনাদার, শার্লট, শিরোবাকো নামগুলো চোখে পড়ল। হানাসাকু ও তারি তারির আর্ট খুব সুন্দর লেগেছে আমার, কিন্তু শার্লট আর এঞ্জেল বিটস সে তুলনায় অনেক বেশি সুন্দর আর ঝকঝকে ছিল।

ohana

স্টুডিও বন্দনা শেষ, এখন আসি হানাসাকু ইরোহা অ্যানিমেটির কথায়।

Hanasaku_Iroha

ওহানা একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট, মায়ের সাথে টোকিওতে থাকে। ওহানার মা একজন সুন্দরী ও খুবই খামখেয়ালি ধরণের মানুষ, ওহানার ওপর ঘর সামলানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এভাবেই চলছিল মা-মেয়ের সংসার, কিন্তু একদিন হঠাৎ বাধল বিপত্তি। ওহানার মা ও তার ছেলেবন্ধু একদিন ঠিক করলেন, চাঁদের আলোয় বাড়ি ছেড়ে পালাবেন তারা একজন আরেকজনের হাত ধরে। কারণ তাদের পেছনে লেগে আছে পাওনাদারেরা! ওহানাকে নিয়ে পালানো সম্ভব না, তাই ওহানার মা তাকে ধরিয়ে দেয় একটি “অনসেন ইন” এর ঠিকানা, যেটির মালিক ওহানার নানী। নিরূপায় ওহানা তার টোকিওর বন্ধুবান্ধব ও জীবনযাত্রা ছেড়ে রওনা দেয় ছোট শহরের সেই অনসেনের উদ্দেশ্যে।

অনসেনে যেতে যেতে ওহানা যা ভাবছিল, সেখানে গিয়ে তার কিছুই হল না। ওহানার নানী একজন কর্মপাগল মহিলা, কাজের বাইরে কোন কিছুই চোখে পড়েনা তার। ওহানার নতুন জীবন শুরু হল একজন অনসেন ওয়েইট্রেস হিসেবে, আর আস্তে আস্তে সে পৃথিবীটাকে নতুন রূপে দেখতে শিখল।

iroha

স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের গতানুগতিক প্যাটার্নের চেয়ে এই অ্যানিমেটি অন্যরকম, এখানে শান্তিময় জীবনের ওপর ফোকাস করা হয়নি, বরং ওহানার জীবনের সংগ্রামগুলোর ওপর ফোকাস করা হয়েছে। শুরুটা বেশ সিরিয়াসভাবে হয় এই অ্যানিমের, কিন্তু পরে ওহানা কাজের মাঝে যেভাবে আনন্দ খুঁজে নেয় ও সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করে, তা দেখে খুব ভাল লাগে। হাসার মত অনেক ভাল ভাল মোমেন্ট আছে অ্যানিমেটিতে। ক্যারেক্টারগুলো খুব সহজেই আপন হয়ে যায়, কখন যে ওদের সাথে আপনিও কিসসুইসোর অংশ হয়ে গেছেন, টের পাবেন না।

আর্টের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওএসটি মানানসই, অ্যানিমের বিভিন্ন মুডকে ফুটিয়ে তুলেছে। ভয়েস অ্যাক্টিং টা আমার অনেক ভাল লেগেছে, প্রতিটি ক্যারেক্টারের সাথে কণ্ঠ খুব সুন্দর মানিয়েছে।

অ্যানিমেটির এন্ডিং টা একটু আশাহত করতে পারে অনেককে, তবে রিয়েলিস্টিক এন্ডিং হিসেবে আমার ভাল লেগেছে। এছাড়া পুরো ২৬ পর্বে এত এত ছোট ছোট কিন্তু সুন্দর সব ঘটনা ঘটে, সেগুলো সবই অ্যানিমেটিকে মনে রাখার মত একটি সিরিজে পরিণত করেছে। তাই সবাইকে সাজেস্ট করব এই সুন্দর অ্যানিমেটি দেখতে।

Hanasaku.Iroha.full.837892